Sermons

[8-6] < রোমীয় ৮:১৬-২৭ > ঈশ্বরের রাজ্যের অধিকারীগণ


< রোমীয় ৮:১৬-২৭ >

 “আত্মা আপনিও আমাদের আত্মার সহিত সাক্ষ্য দিতেছেন যে, আমরা ঈশ্বরের সন্তান। আর যখন সন্তান, তখন দায়াদ, ঈশ্বরের দায়াদ ও খ্রীষ্টের সহদায়াদ—যদি বাস্তবিক আমরা তাঁহার সহিত দুঃখভোগ করি, যেন তাঁহার সহিত প্রতাপান্বিতও হই। কারণ আমার মীমাংসা এই, আমাদের প্রতি যে প্রতাপ প্রকাশিত হইবে, তাহার সঙ্গে এই বর্তমান কালের দুঃখভোগ তুলনার যোগ্য নয়। কেননা সৃষ্টির ঐকান্তিকী প্রতীক্ষা ঈশ্বরের পুত্রগণের প্রকাশপ্রাপ্তির অপেক্ষা করিতেছে। কারণ সৃষ্টি অসারতার বশীকৃত হইল, স্বইচ্ছায় যে হইল, তাহা নয়, কিন্তু বশীকর্ত্তার নিমিত্ত; এই প্রত্যাশায় হইল যে, সৃষ্টি নিজেও ক্ষয়ের দাসত্ব হইতে মুক্ত হইয়া ঈশ্বরের সন্তানগণের প্রতাপের স্বাধীনতা পাইবে। কারণ আমরা জানি, সমস্ত সৃষ্টি এখন পর্য্যন্ত একসঙ্গে আর্ত্তস্বর করিতেছে, ও একসঙ্গে ব্যথা খাইতেছে। কেবল তাহা নয়; কিন্তু আত্মারূপ অগ্রিমাংশ পাইয়াছি যে আমরা, আমরা আপনারাও দত্তকপুত্রতার—আপন আপন দেহের মুক্তির—অপেক্ষা করিতে করিতে অন্তরে আর্ত্তস্বর করিতেছি। কেননা প্রত্যাশায় আমরা পরিত্রাণ প্রাপ্ত হইয়াছি; কিন্তু দৃষ্টিগোচর যে প্রত্যাশা, তাহা প্রত্যাশাই নয়। কেননা যে যাহা দেখে, সে তাহার প্রত্যাশা কেন করিবে? কিন্তু আমরা যাহা দেখিতে না পাই, তাহার প্রত্যাশা যদি করি, তবে ধৈর্য্য সহকারে তাহার অপেক্ষায় থাকি। আর সেইরূপে আত্মাও আমাদের দুর্ব্বলতায় সাহায্য করেন; কেননা উচিত মতে কি প্রার্থনা করিতে হয়, তাহা আমরা জানি না, কিন্তু আত্মা আপনি অবক্তব্য আর্ত্তস্বর দ্বারা আমাদের পক্ষে অনুরোধ করেন। আর যিনি হৃদয় সকলের অনুসন্ধান করেন, তিনি জানেন, আত্মার ভাব কি, কারণ ইনি পবিত্রগণের পক্ষে ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারেই অনুরোধ করেন।”


 জল ও আত্মার সুসমাচার বিশ্বাস করার মাধ্যমে যারা পাপের ক্ষমা পেয়েছে, তাদের সকলের হৃদয়ে পবিত্র আত্মা বাস করে। প্রথম যোহন (৫:১০) পদে বলা হয়েছে, “ঈশ্বরের পুত্রে যে বিশ্বাস করে, এ সাক্ষ্য তাহার অন্তরে থাকে।” যার হৃদয়ে ঈশ্বরের ধার্মিকতা রয়েছে পবিত্র আত্মা তার অন্তরে বাস করে। জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের মাধ্যমেই মানুষের অন্তরে অনন্ত কালের জন্য পবিত্র আত্মা বাস করতে পারেন।

 জল ও আত্মার বিশ্বাস করার মাধ্যমে আমরা পাপের ক্ষমা পেয়ে ঈশ্বরের আত্মা আমাদের অন্তরে বাস করেছেন, তিনি আমাদের সাক্ষী, বলছেন, “তুমি ঈশ্বরের সন্তান এবং তাঁর প্রজা।” যাদের হৃদয়ে পবিত্র আত্মা নাই, ব্যবস্তা তাদের পক্ষে এই স্বাক্ষ্য দেয়, “তুমি পাপী নও, পাপী।” 

 জলও আত্মার সুসমাচারে যারা বিশ্বাস করে, পবিত্র আত্মা তাদের পক্ষে এই স্বাক্ষ্য বহন করেন, “তুমি ঈশ্বরের সন্তান, “তুমি ঈশ্বরের প্রজা যাহার মধ্যে কোন পাপ নেই।” ঈশ্বর এই বিষয়টি সম্পূর্ন রূপে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যেন আমরা বুঝতে পারি যে, ঈশ্বরের সন্তান হতে গেলে অবশ্যই আমাদের জলও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করতে হবে।

 আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, “আমার তেমন কোন অনুভুতি নেই, তার অর্থ কি আমি ঈশ্বরের সন্তান নই?” কিন্তু কিছু লোক এতটাই অপরিপক্ক যে, তারা বুঝতেই পারেনা যে পবিত্র আত্মা তাদের মধ্যে বাস করে। কিন্তু আমাদের এই সন্দেহ প্রবন মানসিকতা সত্বেও পবিত্র আত্মা এই বলে আনন্দ প্রকাশ করে, “ওহে, তুমি ঈশ্বরের সন্তান! তুমি কি জল এবং আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস কর? যেহেতু তুমি বিশ্বাস কর, তাই তুমি ঈশ্বরের সন্তান হয়েছ।” পবিত্র আত্ম সাক্ষ্য দেয় যে, আমরা ঈশ্বরের সন্তান। আমাদের অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মা এমন কিছু নয়, যাকে অনুভূতি বা আবেগ দ্বারা অনুভব করা যায়। যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে, তাদের হৃদয়ে পাপ থাকে না এবং পাপ থাকে না বলেই পবিত্র আত্মা সেই হৃদয়ে বাস করেন। অবশ্যই তারা ঈশ্বরের সন্তান।

 পবিত্র আমাদের হৃদয়ে বলেন, “তুমি যীশুর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশে বিশ্বাস কর, এজন্য পাপের ক্ষমা পেয়েছ; তাই তোমার কোন পাপ নেই এবং তুমি ঈশ্বরের সন্তান।” 

 কিন্তু মানুষের কণ্ঠস্বরের মত তাঁর কথা শোনা যায় না। সুতরাং গুরুগম্ভীর কণ্ঠস্বর প্রত্যাশা করবেন না। যদি কোন কণ্ঠস্বর শুনতে চান তাহলে শয়তান মানুষের বেশে আপনাকে প্রতারণা করতে পারে। চিন্তার মধ্যে সন্দেহ ঢুকনো শয়তানের কাজ, কিন্তু পবিত্র আত্মা ঈশ্বরের বাক্যানুযায়ী কাজ করে।



ঈশ্বরের ধার্মিকতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ ঈশ্বরের সন্তান এবং দায়াদ 


 আসুন ১৭ পদটি এক সঙ্গে পড়ি, “আর যখন সন্তান, তখন দায়াদ, ঈশ্বরের দায়াদ ও খ্রীষ্টের সহদায়াদ-যদি বাস্তবিক আমরা তাঁহার সহিত দুঃখ-ভোগ করি, যেন তাঁহার সহিত প্রতাপান্বিতও হই”

 আপনি যদি ঈশ্বরের সন্তান হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি তাঁর উত্তরাধিকারীও উত্তরাধিকারীরা পূর্ব পুরুষদের সব কিছুর অধিকার পায়। অন্য কথায়, পিতা ঈশ্বরের সবকিছু ব্যবহার ও ভোগ করার অধিকার আমাদের রয়েছে। যদি প্রশ্ন করা হয়, “পিতা ঈশ্বরের উত্তরাধিকারী কারা?” আমর উত্তর দিতে পারি, “যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করার মাধ্যমে পাপের ক্ষমা পেয়েছে, তারাই তাঁর উত্তরাধিকারী।” 

 এই বিশ্বাসে বিশ্বাসীগণ ধন্য এবং খ্রীষ্টের সাথে ঈশ্বরের রাজ্যে তারা তাঁর গৌরবের অধিকারী হবে। যেহেতু এখানে আমাদেরকে খ্রীষ্টের সহদায়াদ বলা হয়েছে, যেন এক সঙ্গে ঈশ্বরের গৌরব করতে পারি, তাই একই সঙ্গে তাঁর সাথে আমরা দুঃখভোগ ও স্বীকার করতে পারি। খ্রীষ্টের সহদায়াদ মানে অনন্তকালের জন্য পিতা ঈশ্বরের রাজ্যে বসবাসের অধিকার।জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করলে আমরা খ্রীষ্টের সহদায়াদ হতে পারি। যেহেতু আমরা উত্তরাধিকারী,তাই পিতা ঈশ্বরের সমস্ত কিছুতেই আমাদের অধিকার রয়েছে। 

 যত সময় যাচ্ছে আমরা বুঝতে পারছি যে, ঈশ্বরের রাজ্য সন্নিকট হয়ে আসছে। সবকিছুই যথাসময়ে সংঘটিত হয়ে আসছে। বাইবেলে বর্ণিত ঈশ্বরের সব প্রতিজ্ঞা একে একে পূর্ণ হয়ে আসছে।যেটা বাকী রয়েছে তা হল অনুতাপ সহকারে ইস্রায়েলীয়দের যীশুর কাছে ফিরে আসা, তাঁকে ত্রাণকর্তা হিসাবে গ্রহণ করা, পাপের ক্ষমা লাভ করা। এবং আরো কিছু বিষয় পূর্ণ হতে চলেছে। মহাক্লেশের সাত বছরের সময় ইস্রায়েলীয়রা যীশুকে ত্রাণকর্তা হিসাবে গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। 

 পৃথিবীতে এবং স্বর্গে ঈশ্বরের রাজ্য প্রতিষ্ঠা হওয়ার বিষয়টি ইস্রায়েলীয়দের মন পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আমি বিশ্বাস করি যে শেষ বিচারের দিনসমাগত। আমি বিশ্বাস করি-জল ও আত্মার বিশ্বাসীগণ খুব শীঘ্রই অন্তত কালের জন্য ঈশ্বরের সাথে বাস করতে পারবেন। সমগ্র পৃথিবী ২০০০সালের জন্য অপেক্ষায় ছিল, চিন্তা ছিল এটাই সেই দিন হবে, কিন্তু ২০০০সাল ও আমরা পার হয়ে এসেছি। মিলেনিয়াম বাগ সম্পর্কিত মহা ত্রাসও অতিক্রান্ত হয়েছে, এবং আমরা ২০০০সালের অর্ধেকের বেশী পার হয়ে এসেছি। প্রকৃত পক্ষে পৃথিবীর অনেকেই ভেবেছিল যে ২০০০সালেই পৃথিবীতে মহা পরিবর্তন সাধিত হবে। 

 তথাপি, আমাদের বহু প্রত্যাশিত খ্রীষ্টের রাজ্য এখনও একটু একটু করে আমাদের কাছে এগিয়ে আসছে। যারা পাপের ক্ষমা পেয়েছে এবং পিবত্র আত্মা প্রাপ্ত তারা ঈশ্বরের রাজ্যের ক্রমান্বয়ের-সন্নিকটবর্তী তা বুঝতে পারছে। এখন পূর্বের মতই-ঈশ্বরের সমস্ত বাক্য পূর্ণ হবে। আসুন বিশ্বাসে আমরা সেই দিনের অপেক্ষা করি। 

 ভবিষ্যতে ইস্রায়েল শান্তি প্রশ্নে পৃথিবীর অনেক জাতির জন্য বিঘ্নজনক হবে এবং অনেক জাতির শত্রুতে পরিণত হবে, বাইবেল আমাদের এটাই বলে যে, ইস্রায়েল অনেক হাতির শত্রুতে পরিণত হবে, এবং তখন অনেক ইস্রায়েলীয়রা যীশুকে তাদের বহু প্রত্যাশিত মশীহ হিসাবে গ্রহণ করবে। জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করার মাধ্যমে তাদের অনেকেই পাপের ক্ষমা পাবে। ঈশ্বরের সংকল্প পূর্ণ হতে চলছে। যাহোক, উপযুক্ত সময়ে সমস্ত ঘটনাই ঘটবে, তাই নির্দিষ্ট কোন তারিখ বা সময়ের জন্য প্রতিক্ষা করা আমাদের উচি হবে না, তাতে অনেক বিগ্ন পাবে। যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসী, ঈশ্বরের ভবিষ্যত বাণীর পূর্ণতা তারা দেখতে পাবে। বিশ্বাসীদের প্রত্যাশা রয়েছে যে ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাত স্বর্গরাজ্য একেবারেই সন্নিকট। আমি বিশ্বাস করি সেই দিনটি আমাদের খুবই কাছে এসে পড়েছে। 

 সেই সময় আমাদের খুবই কাছে যখন ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাগুলো একে একে পূর্ণ হবে। আমি এ বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাসী যে, ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাত সহস্রাব্দের রাজত্ব এবং ঈশ্বরের রাজ্য আমাদের খুবই নিকটবর্তী হয়ে পড়েছে। পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হয়ে আপনি ও কি আমার মত তা বুঝতে পারেন? আপনিও কি বিশ্বাস করেন যে পবিত্র আত্মান মাধ্যমে ভবিষ্যত বাণীগুলো খুব শীঘ্রই পূরণ হতে যাচ্ছে? পবিত্র আত্মার মাধ্যমে আমাদের হৃদয়ে আমরা নিশ্চিত যে, ঈশ্বরের পতিজ্ঞাত শেষদিন সত্যিই খুব সন্নিকট। আমরা পবিত্র আত্মার মাধ্যমে বিশ্বাস করি যে, আমরা সামনে ভাবি এবং আশা করি তাই ঈশ্বরের ভবিষ্যত বাণীর সাথেই সত্য হবে। এটাই সত্য বিশ্বাস। 

 আপনি এবং আমি ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাত আর্শীবাদের অধীকারী, অতএব আমাদের পবিত্র আত্মার মধ্য দিয়ে অপেক্ষা করা প্রয়োজন। ঈশ্বরের রাজ্য আমাদের নিকটে শীঘ্রই আসবে। ইস্রায়েলীরা খুব শীঘ্রই যীশু খ্রীষ্টকে তাদের মশীয় বলে গ্রহণ করবে।

 অনেক লোক এখনই তাঁর জন্য নির্বাসিত হয়েছেন, বলেছেন, “যীশু খ্রীষ্ট আইস”। পৌল বলেন যে, যখন তিনি ঈশ্বরের উত্তরাধীকারী তখন সে কষ্ট তিনি ভোগ করেছেন তা তাঁর গ্রহণকৃত গৌরবের সাথে তুলনা করা যায়। এর অর্থ হল খ্রীষ্টের সঙ্গে গৌরবাণীত হতে হলে আমাদেরকে তাঁর সাথে দুঃখ ভোগকরতে হবে। এই কারণে আমরা ঈশ্বরের রাজ্যের আগমনের বিশ্বাস এবং অপেক্ষা করছি। খ্রীষ্টের সঙ্গে গৌরবাণীত হতে হলে, আমাদেরকেও তাঁর সাথে দুঃখ ভোগ করতে হবে। 

 পৌলের আশা ছিল, সমস্ত সৃষ্টি, জীবজন্ত এবং বৃক্ষরাজি মৃত্যু থেকে মুক্ত হবে। এই কারণেই সমস্ত সৃষ্টি ঈশ্বরের পুত্রের আগমনের জন্য অধিরভাবে আগ্রহ করছি। ঈশ্বরের পুত্রের জন্য আশা করা হচ্ছে, সেই দিন আসবে যেদিন সমস্ত সৃষ্টি অনন্ত কালের জন্য জীবিত হবে। 

 অতএব, আমরা বিশ্বাসীরা অনুধাবন করি যে, আমরা অনন্ত জীবন- যাপনের নিশ্চিত আর্শীবাদ যুক্ত হয়েছি। যখন আমরা আমাদের জীবদ্ধ্যশায় প্রভুর দিনে প্রভুকে আসতে দেখব, অথবা প্রভু আমাদেরকে ঘুম থেকে জাগিয়ে আমাদেরকে নিয়ে যেতে আসবেন, আমাদেরকে তাঁর জন্য অপেক্ষা করতে হবে।



 ঈশ্বরের গৌরব যা প্রকাশিত হবে তা কি সত্যিই মহৎ?


যে গৌরব শীঘ্রই ধার্মিকদের নিকটে প্রকাশিত হবে, তাহল চিরস্থায়ী গৌরব-অনন্ত রাজ্যের উত্তরাধীকারী এবং অনন্তকাল ঈশ্বরের গৌরবের মধ্যে বসবাস করা। যেখানে কোন মৃত্যু থাকবে না, কোন দুঃখ থাকবে না, কোন ক্রন্দন থাকবে না। স্বর্গ রাজ্যে আর কোন ব্যাথা তাকবে না, এবং তাতে কিরণ দেওয়ার জন্য সূৰ্য্য এবং চন্দ্রের প্রয়োজন হবে না, ইহা ঈশ্বরের গৌরবের আলোতে আলোকিত হবে। মেষ-শাবকই ইহা আলো। এটা এমন একটি জায়গা যেখানে শুধু যীশু এবং নূতন জন্মপ্রাপ্ত পাপহীন বিশ্বাসীদের পাওয়া যায় এবং ইহা ঈশ্বরের গৌরবে পরিপূর্ণ। স্বর্গরাজ্য স্বর্ণালী আলোয় পরিপূর্ণ। ঈশ্বরের রাজ্যের গৌরব যেখানে আমরা অনন্ত জীবন-যাপন করব। যা এত মহৎ যা ভাষায় বর্ণণা করা যায় না। কারণ এই গৌরব যা আমরা আশা করছি যা এত মহৎ যে, পৌল আমাদের কাছে বলেছিলেন, আমাদের বর্তমান দুঃখ ভোগ আমাদের কাজে প্রকাশিত গৌরবের সাথে কোন কিছুরই তুলনা যায় না।

 কোন কোন সময় এই পৃথিবীতে ঈশ্বরের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে আমরা প্রকৃতিতে ঈশ্বরের গৌরব দেখতে পাই। যখন আমরা দেখি বিভিন্ন রং এর ফুল, শিশির সিক্ত ঘাস, সতেজ পাতার প্রকৃতি উষ্ণ বসন্তের জলবায়ু, বনের সতেজতা, পরিষ্কার বাতাস, তারারা যারা ঠান্ডারাতে উজ্জ্বল আলো দেয়; যখন আমরা চার ঋতুর কথা ভাবি, আমরা স্বর্গের কথা ভেবে পারি না। যখন আমরা ঈশ্বরের এই অদ্ভুত সৃষ্টি গুলো দেখি আমরা আশা করি যে ঈশ্বরের রাজ্যে শীঘ্র আসছে। 

 যখন ঈশ্বরের রাজ্য আসবে সেখানে কোন মৃত্যু থাকবে না, এবং আমরা গৌরবময় জীবন-যাপন করব। সেখানে কোন অভাব হবে না সুতরাং আমরা প্রাচুর্য্য এবং সৌভাগ্যের মধ্যে জীবন-যাপন করব। যেমন চিন্তা করি আমি এক স্থানে গৌরবে জীবন-যাপন করব যে স্থান সবকিছু যথার্থ এবং ঈশ্বরের গৌরব দ্বারা আমার হৃদয় পরিপূর্ণ করবে। ঘটনা হল ঐ সমস্ত জিনিস গুলো আমাদের, বিশ্বাসীদের স্বপ্নের মত হয়ে যাবে, এবং আমাদেরকে কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ থাকবে যেন আমরা আর একবার নূতন জন্ম লাভ করি। আমি প্রভুর ধন্যবাদ করি যিনি পরিপূর্ণ ভাবে এই আশায় আমার হৃদয় পরিপূর্ণ করেছেন।

 এই মূহুর্তে আমাদের কল্পনার মধ্য দিয়ে স্বর্গরাজ্য আশা করতে পারি, কিন্তু আমরা জানি ভবিষ্যতে ঈশ্বরের সমস্ত পরিকল্পনা সত্য হবে। তাহলে আমাদের আশা আরোও তীব্র এবং দিনের পর দিন আমাদের অনুভূতি ঈশ্বরের গৌরবের নিকটে শক্তিশালী হবে। 

 এই জন্য বিশ্বাসী ভবিষ্যতের জন্য প্রতিক্ষা করেন। ঈশ্বরে বিশ্বাস এবং ভবিষ্যতের জন্য যারা গৌরব এবং বিশ্বাসে প্রতিজ্ঞা করেন তারা ঈশ্বর ও স্বর্গরাজ্যের অধিকারী। এটা কি গৌরব যুক্ত বিশ্বাস, তাহলে যারা জলও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে শুধু তাদেরকে আশীর্বাদ করা হবে? উত্তরটি জোড়াল ভাবে “হ্যাঁ”।ধার্মিকদের যারা জলও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে, ঈশ্বরের গৌরবের সম্মুখে আসতে তাদের সময়ের প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময়ে ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাত সমস্ত গৌরব সত্যি হয়ে আমাদের কাছে আসবে। এই সমস্ত গৌরবের বিষয়গুলি বিশ্বাসীদের মধ্যে ঘটবে। যে গৌরব আমাদের জন্য প্রতিজ্ঞা করছে তা উজ্জ্বলতায় আচ্ছন্ন এবং সুন্দর। 

 আপিন এবং আমি, যাদের জলও আত্মার সুসমাচারে একই বিশ্বাস আছে, আমরা সেই লোক যারা ঈশ্বরের গৌরব রাজ্যে প্রবেশ করব। সময়তে পৃথিবীর সন্ধেহ এবং দুষ্টতা আমাদের হৃদয়ে ঢেকে ফেলে, এবং আমরা হতাশ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাই। কিন্তু যারা নূতন জন্ম প্রাপ্ত তারা এই কঠিনতা জয় করতে পারে, এটা বিশ্বাস করে যে, তারাই ঈশ্বরের অধিকৃত। এমন কি পাপহীন বিশ্বাসীদের মনে যদি ক্ষুদ্র সমস্যা দেখা দেয়, তখন তারা নিজেরাই ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞার কথা স্মরণ করে শক্তি খুজে পেতে এবং জীবন-যাপন করতে সক্ষম হয়। আমি ধন্যবাদে পূর্ন যে, পবিত্র আত্মা আমাদের হৃদয়ে আছেন। আমাদেরকে শান্তি দিচ্ছেন এবং সাক্ষ্য দিচ্ছে যে আমরা ঈশ্বরের সন্তান। 

 যারা সাম্প্রতিক তাদের পাপ থেকে মুক্তি পেয়েছেন স্বর্গের গৌরবের দিকে তাকিয়ে প্রতিজ্ঞায় জীবন-যাপন করা উচিত। আমরা এক সমান ভাবে ঈশ্বরের লোক হয়েছি। যদি আপনি আপনার মন্ডলীতে দীর্ঘ সময় বিশ্বাসে জীবন-যাপন করেন, আপনি দেখতে পারেন পবিত্র আত্মা আপনার আত্মার মধ্যে গৌরবের প্রশংসা করছে। 



এমন কি ধার্মিকের আত্মা এই পৃথিবীর উপরে আর্তনাদ করে।


 আসুন ২৩পদটি এক সঙ্গে পড়ি। “কেবল তাহা নয়, কিন্তু আত্মারূপ অগ্রিমাংস পাইয়াছি যে, আমরা, আমরা আপনারাও দত্তক পুত্রতার-আপন আপন দেহের মুক্তির অপেক্ষা করিতে করিতে অন্তরের আর্ত্তস্বর করিতেছি”। আসুন নিজেদেরকে জিজ্ঞাসা করি, “আমরা কি আশায় জীবন- যাপন করি?” আমরা, বিশ্বাসীরা, আমাদের দেহের মুক্তির জন্য জীবন- যাপন করি। আমরা যখন বলি যে, আমরা ঈশ্বরের সন্তান, এর অর্থ হল আমাদের আত্মাগুলো সব তাঁর সন্তান। আমাদের দেহগুলো গৌরবান্বিত হয় না, সুতরাং সমস্ত বিশ্বাসীরা আশা করে যে, তাদের দেহও পরিবর্তিত হবে। 

 যখন বিশ্বাসীদের দেহ ঈশ্বরের গৌরব ধারন করে, তারা অগ্নি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়, এবং তারা পুড়ে যায় না, এবং তারা যে কোন বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। আমাদের পরিবর্তিত দেহ। সময় এবং স্থান ভেদে মুক্ত হয়ে যাবে।

 কিন্তু আমাদের দেহ এখনো পরিবর্তিত হয়নি, এইরূপে আমরা যারা পবিত্র আত্মার প্রথম ফল, তারা আর্তস্বর করছি। সুতরাং ধার্মিক লোকেরা যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে, তারা দেহের মুক্তির অপেক্ষা করে।

 আর্ত্তস্বর করতে! ইহা লেখা আছে যে, আমরা যারা পবিত্র আত্মার প্রথম ফল লাভ করেছি, আমরা আর্ত্তস্বর করছি। আপনি কি আপনার ভেতরের পবিত্র আত্মার আর্তনাদ অনুভব করেন? কখন তিনি আর্ত্তনাদ করেন? যখন আমরা মাংসের অভিলাষের পিছনে ধাবিত হই-তখন তিনি আর্ত্তনাদ করেন।

 যখন আমরা জগতের দিকে তাকাই এবং যা দেখি তাই ভালবাসি, পবিত্র আত্মা আমাদের ভিতরে আর্ত্তনাদ করেন। আমাদের দেহগুলোর পরিবর্তন হয় না। তাই তারা পার্থিব জিনিস উপভোগ করে এবং ক্রমাগত ক্ষতি করে, কিন্তু ইতিমধ্যে আমাদের আত্মার পরিবর্তনে পবিত্র আত্মা আমাদের ভেতরে আর্ত্তনাদ করেন। আমাদের হৃদয়কে অবশ্যই ঘুরাতে হবে, যা পার্থিব আনন্দ পরিহার করে, ঈশ্বরের আত্মার পরিচালনা লাভ করেন। পবিত্র আত্মা আমাদের মধ্যে আর্ত্তনাদ করেন, আমরা যারা ঈশ্বরের উত্তোরাধিকারী, কারণ পবিত্র আত্মা আমাদের অন্তরে আছেন। এই পৃথিবীতে জীবন-যাপন করতে গিয়ে আমরা দেখি ভবিষ্যৎ কত অন্ধকার এবং আমাদের দেহগুলো কত দুর্বল; এই কালের মত, আমাদেরকে উচিত ঈশ্বরের আশীর্বাদের দিকে তাকান। কারণ তারা জানে যে, তাদের দেহগুলোও মুক্ত হবে। যেদিন সম্পূর্ণরূপে দেহ পাপমুক্ত হিসাবে রূপান্তরিত হবে, বিশ্বাসীরা সেই দিনের অপেক্ষায় রয়েছে।



গৌরবময় প্রত্যাশায় জীবন-যাপন 


 আসুন ২৪ ও ২৫ পদ এক সাথে পড়ি, “কেননা প্রত্যাশায় আমরা পরিত্রাণ প্রাপ্ত হইয়াছি; কিন্তু দৃষ্টিগোচর যে প্রত্যাশা, তারা প্রত্যাশাই নয়। কেননা যে যাহা দেখে, সে তাহার প্রত্যাশা কেন-করিবে? কিন্তু আমরা যাহা দেখিতে না পাই, তাহার প্রত্যাশা যদি করি, তবে ধৈৰ্য্য সহকারে তাহার অপেক্ষায় থাকি।”

 “ঈশ্বরের রাজ্যের প্রত্যাশায় আমরা কি আমাদের সমস্ত পাপের ক্ষমা পেয়েছি?” আসুন নিজেদেরকে এই প্রশ্নটি করি। আমরা বলেছি যে, জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করার মাধ্যমে আমাদের পাপ থেকে আমরা উদ্ধার পেয়েছি। “কিন্তু আমরা যাহা দেখিতে না পাই, তাহার প্রত্যাশা যদি করি, তবে ধৈৰ্য্য সহকারে তাহার অপেক্ষায় থাকি।”-ঈশ্বর এমন বলেন। পাপ থেকে মুক্ত হয়ে স্বর্গে যেতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই জলও আত্মার সুসমাচারের বাক্যে বিশ্বাসের মাধ্যমে পরিত্রাণ পেতে হবে। পাপ থেকে মুক্ত হওয়ার পরে আমরা যদি জগতের দিকে দৃষ্টি ফিরাই এবং দৃশ্যমান বস্তুর প্রতি লালসা করি, তাতে প্রমাণিত হয় যে, আমরা ঈশ্বরের মহিমা সম্পর্কে জানি না, বা তাঁর প্রত্যাশাও করি না। আমরা যা দেখতে পাই তার প্রত্যাশা যদি আমরা করি, তাকে আসলেই আমরা প্রত্যাশা বলতে পারি না। তাই পৌলের প্রশ্ন, “যে যাহা দেখে, সে তাহার প্রত্যাশা কেন করিবে?” আমরা যারা ধার্মিকত হয়েছি, জগতস্থিত বিষয়ের প্রতি তাদের কোন প্রত্যাশা থাকা উচিত, ধার্মিকের বসবাসের জন্য নির্ধারিত নূতন আকাশ মন্ডল ও নূতন পৃথিবীর অপেক্ষায় থাকা উচিত (২ পিতর ৩:১৩)।

 ধার্মিকের প্রত্যাশাই এই ধরণের বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। ধার্মিকেরা নূতন আকাশ ও নূতন পৃথিবীর প্রত্যাশায় জীবন করে। মাংসিক চোখে যা দেখতে পাওয়া যায়, তার প্রত্যাশা আমরা করি না। আমরা আমাদের মানবীয় দৃষ্টিতে দেখতে পাই না, কিন্তু আত্মিক দৃষ্টিতে ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাত গৌরবের রাজ্যের প্রতিক্ষা করি। সুতরাং যারা সত্যিকার অর্থে ধার্মিক তাদের প্রকৃত প্রত্যাশা স্বর্গরাজ্যের জন্য । ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা যেন বাস্তবায়িত হয় সেটা বিশ্বাস করাই আমাদের প্রত্যাশা।

 ঈশ্বর বলেন, “আর এখন বিশ্বাস, প্রত্যাশা, প্রেম এই তিনটি আছে” (১করিন্থীয় ১৩:১৩)। স্বর্গরাজ্যের প্রত্যাশা ও বিশ্বাসে আমাদের পাপের ক্ষমা পেয়েছি। পৃথিবীতে তাঁর রাজ্য আসবে, স্বর্গরাজ্য উপস্থিত হবে এবং আমরা প্রত্যাশা করি যে, অনন্তকাল আমরা তাঁর রাজ্যে বসবাস করব। এই কারণে আমরা ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাত বাক্যে বিশ্বাস করি এবং জীবনের সমস্ত যাতনা কষ্ট ধৈৰ্য্যসহ সহ্য করি। 

 লেখা আছে যে, কিন্তু আমরা যাহা দেখিতে না পাই, তাহার প্রত্যাশা যদি করি, তবে ধৈৰ্য্যসহকারে তাহার অপেক্ষায় থাকি। আমরা এমন কিছুর জন্য ধৈৰ্য্যসহকারে অপেক্ষায় থাকি, যা আমরা এই চোখে দেখতে পাই না। মাংসিক চোখে দেখা যায় না ঈশ্বরের এমন প্রতিজ্ঞার বিষয়ের আমরা প্রত্যাশায় থাকি। আমাদের বিশ্বাসীদের জন্য ঈশ্বরের এমন প্রতিজ্ঞা পূর্ণ হবে, কারণ আমরা জানি তাঁর মহিমা শীঘ্রই প্রকাশিত হবে এবং তাঁর প্রতিজ্ঞায় আমরা বিশ্বাস করি। আমরা জানি যে, খুব শীঘ্রই প্রভু আবার এই পৃথিবীতে ফিরে আসছেন, সেই প্রত্যাশায় আমরা বর্তমানে সমস্ত দুঃখ কষ্ট সহ্য করতে পারি। 

 এতে বিন্দু মাত্র সন্দেহ নেই যে, ঈশ্বরের রাজ্য খুব শীঘ্রই আসছে। সমস্ত জাতির কাছে সুসমাচার প্রচারিত হওয়ার পরে অবশ্যই ঈশ্বরের রাজ্য আসছে। ধার্মিকেরা ধৈৰ্য্যসহকারে সেই দিনের অপেক্ষায় আছে। আমাদের প্রতিক্ষারত অবস্থায় প্রভু আসবেন। আপনারা এবং যারা বর্তমান যুগে বাস করছি, এই সত্য আমাদের সকলের জন্য।

 ইউক্রেনে আমাদের একজন মহিলা সহকর্মী আছেন, যিনি ইউক্রেনীয় ভাষায় এই বইগুলো অনুবাদ করেন। সন্ত্রাসী হামলায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধংস হয়ে যাওয়া তিনি দেখেছিলেন এবং তিনি ভয়ানক ভীত ও উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন। এটা প্রকাশিত বাক্যের পান্ডুর বর্ণের অশ্বের যুক কি না, অথবা এই সম্পর্কিত শাস্ত্রে আর কোন অংশ আছে কি না তিনি তা জানতে চাইলেন।

 আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না যে, এটা সেই পান্ডুর বর্ণের অশ্বের যুগের অশুভ লক্ষন, কিন্তু এই ঘটনা যে তার সাথে সম্পর্কিত নয় তাও আমরা বলতে পারি না। এই ধরনের ঘটনা যদি বার বার ঘটতে থাকে, তবে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে, রাষ্ট্রের বিপক্ষে রাষ্ট্র যুদ্ধ ঘোষনা করবে। যখনই যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে পৃথিবীতে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে যাবে এবং হঠাৎ করেই পান্ডুর বর্ণের অশ্বের যুগ উপস্থিত হবে।

 সুতরাং এই যে সমস্ত ঘটনা দ্বারা পৃথিবীর ধংসের পূর্বাভাস বোঝা যাচ্ছে, তাতে আমি আমার মনকে নূতনভাবে তৈরী করেছি, যেন পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত এই সুসমাচার প্রচার করতে পারি। এটা সত্য যে, পার্থিব আশা আমরা হারিয়ে ফেলছি এবং দুঃখ দুর্দশায় আমাদের হৃদয় থেকে আর্ত্তনাদ বেরিয়ে আসে। তবুও যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন আমরা ঈশ্বরের রাজ্যের প্রত্যাশায় বেঁচে থাকব, যা চর্মচোখে দেখা যাবে না কিন্তু আত্মিক চোখেই কেবল দেখা যায়। 

 কারণ আমরা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করি, স্বর্গরাজ্যের প্রত্যাশা করি এবং ধৈর্য্য পূর্বক তার প্রতিক্ষা করছি। কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে, ঈশ্বরের রাজ্য ক্রমেই নিকটবর্তী হচ্ছে, সেই প্রত্যাশায় আমরা সমস্ত কষ্ট সহ্য করতে পারি। পবিত্র আত্মা আমাদের হৃদয়ে বাস করেন বলেই তা সম্ভব হয়।

 আপনি কি দুঃখভোগ করছেন? যত্নপূর্বক সহ্য করুন এবং ধৈৰ্য্য ধরুন। শুধু আপনিই কষ্টভোগ করছেন তাই নয়, আমরাও সকলে দুঃখভোগ করছি। আমাদের প্রত্যাশা রয়েছে যে, এই সমস্ত অতীত হলে সবকিছুই সুন্দর হয়ে যাবে। আপনি কি জানেন না যে, দৈহিক কষ্টভোগ না করলে আপনার আত্মিক প্রত্যাশা বৃদ্ধি পাবে না ? আমরা যখন খুব বেশী আরাম আয়েশে থাকি তখন ঈশ্বরকে ভুলে যাই, ঈশ্বরের আশীর্বাদ যাচ্ঞাও করি না। এই ভাবে আমরা ঈশ্বরের কাছ থেকে দূরে সরে যাই। আমরা নূতন জন্ম প্রাপ্ত, আমাদের উচিত বর্তমানের সমস্ত দুঃখ কষ্ট সহ্য করে আসন্ন মহিমা প্রত্যাশা করা। 

 ঈশ্বর বলেন যে, প্রভুর জন্য যারা কষ্ট সহ্য করে তারা ধন্য। যেদিন ঈশ্বরের রাজ্য এই পৃথিবীতে আসবে, আমরা তাঁর রাজ্যে প্রবেশ করব। আমাদেরকে সহ্য করতে হবে। ধৈৰ্য্য ধরতে হবে এবং সেই দিনের প্রত্যাশা হারালে চলবে না। সেই দিনের জন্য আমাদের অবশ্যই ধৈর্য্য ধরতে হবে এবং প্রত্যাশা করতে হবে। বর্তমান সময়ে এটা যতই কষ্টদায়ক এবং কঠিন হোক না কেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ঈশ্বরের রাজ্য নূতন আকাশ ও নূতন পৃথিবী হয়ে না আসে, ততক্ষণ আমাদের প্রত্যাশা থাকতে হবে। 



ঈশ্বরের ধার্মিকতা যাদের রয়েছে, পবিত্র আত্মা তাদের সাহায্য করেন


 আসুন ২৬ পদ পড়ি, “আর সেই রূপে আত্মা আমাদের দূর্বলতায় সাহায্য করেন; কেননা উচিত মতে কি প্রার্থনা করিতে হয়, তাহা আমরা জানি না, কিন্তু আত্মা আপনি অবক্তব্য আর্ত্তস্বর দ্বারা আমাদের পক্ষে অনুরোধ করেন”। 

 পবিত্র আত্মা কি আমাদের জন্য প্রার্থনা করেন? হ্যাঁ, তিনি করেন। পবিত্র আত্মা আমাদের দূর্বলতা জানেন এবং আমাদের জন্য প্রার্থনা করেন। 

 পবিত্র আত্মার আর্ত্তস্বর সম্পর্কে আমি অল্পই আলোচনা করেছি। যদি আবার বলতে হয়, পবিত্র আত্মা তখনই আর্ত্তস্বর করেন, যখন আমরা ঈশ্বরের নির্ধারিত পথ থেকে সরে গিয়ে অন্য পথে ধাবিত হই। পৃথিবীর নানারকম পরিস্থিতি দেখে যখন আমরা আত্তস্বর করি, ঈশ্বর যে পথে চান না, যখন আমরা সেই পথে যাই, অথবা যখন আমরা ঈশ্বরের ইচ্ছাকে অশ্রদ্ধা করি, অর্থাৎ ঈশ্বরের সংকল্পের বাইরে জীবন-যাপন করি, এই সমস্ত পরিস্থিতিতে পবিত্র আত্মা আর্ত্তস্বর করেন।

 নূতন জন্ম প্রাপ্ত ব্যক্তির অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মা যখন আর্ত্তস্বর করেন তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, হৃদয়ের শক্তি আমরা হারিয়ে ফেলি এবং আমরা দূর্বল হয়ে পড়ি এবং তখনই পবিত্র আমাদের হয়ে প্রার্থনা করেন। কখনও কখনও আমাদের প্রার্থনার বিষয়গুলো স্মরণ করিয়ে দেন।

 পবিত্র আত্মা আমাদের অন্তরে আর্ত্তস্বর করেন এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারে ঈশ্বরের সাক্ষাতে প্রার্থনা করতে সহায়তা করেন। “হে ঈশ্বর প্রভু তুমি তোমার বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশীয় রক্ত দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ মুছে দিয়েছ, এবং আমাদেরকে তোমার সন্তান করেছ। আমরা বিশ্বাস খুব শীঘ্রই তোমার দ্বিতীয় আগমন হবে। আমরা প্রার্থনা করি যেন, তোমার ইচ্ছা সিদ্ধ হয়।” আমরা এভাবেই প্রার্থনা করি। 

 আমরা আত্মিক বিশ্বাসের জন্য প্রার্থনা করি। “হে ঈশ্বর, তোমার দৃষ্টিতে আমরা নিঃস, তুচ্ছ, এমন বিশ্বাস আমাদের দেও যেন তোমার ইচ্ছা সিদ্ধ হয়।” তখন ঈশ্বর আমাদের সাহায্য করেন, কারণ তিনি আমাদের জানেন। পবিত্র আত্মা আমাদের একা ফেলে যান না বরং ঈশ্বরের ইচ্ছানুযায়ী আমাদিগকে প্রার্থনা করতে সাহায্য করেন, আমাদের জন্য প্রার্থনা করেন এবং আমাদের হৃদয়কে সবল করেন। 

 ঈশ্বরের ইচ্ছানুযায়ী আমরা যেন প্রার্থনা করতে পারি, পবিত্র আত্মা আমাদের সেই উদ্দেশে সাহায্য করেন, আমাদের জন্য ঈশ্বরের ইচ্ছা কি তা তিনি আমাদের জানান এবং নূতন শক্তিতে আমাদের শক্তিমান করেন।

 “কেননা উচিত মতে কি প্রার্থনা করিতে হয়, তাহা আমরা জানি না, কিন্তু আত্মা আপনি অবক্তব্য আৰ্ত্তস্বর দ্বার আমাদের পক্ষে অনুরোধ করেন।”

 আপনি কি এসব অনুভব করেন? যখনই আপনি ঈশ্বরের ইচ্ছার বাইরে কোন কিছু করতে যান, তখন কি আপনার এই অনুভূতি হয় যে, পবিত্র আত্মা আপনাকে বলছেন যে, আপনি ভুল করছেন? পবিত্র আত্মা বলেন, “ওহে তুমি ভুল করছ” এবং আমাদের হৃদয় আর্ত্তস্বর করতে শুরু করে। আপনি কি জানেন এটা পবিত্র আত্মার আর্ত্তস্বর? এই অভিজ্ঞতা হয়তো আপনার হয়েছে, যখন ধার্মিকের হৃদয় আনন্দিত হয়, তার কারণ হল যে, তার অন্তরে পবিত্র আত্মা আনন্দ করছেন। তাহলে এখন আপনি নিশ্চয় বুঝতে পারছেন যে, আপনার হৃদয় যখন দুঃখার্ত হয় তখন আসলে পবিত্র আত্মা আপনার ভিতরে আর্ত্তস্বর করেন।

 যখন আমরা দূর্বল হয়ে পড়ি, ভুল করি, কখন পবিত্র আত্মা আর্ত্তস্বর করেন এবং আমাদের জন্য প্রার্থনা করেন; আমরা পিতা ঈশ্বরের কাছ থেকে শক্তি পাই। সব বিষয়ের জন্য প্রার্থনা করতে পবিত্র আত্মা আমাদেরকে শিক্ষা দেয় এবং আমাদের আত্মিক শক্তি যোগান। এই জন্যই যাদের হৃদয়ে পবিত্র আত্মা বাস করেন তাদের হৃদয়ে আনন্দে পরিপূর্ণ থাকে। ঈশ্বরের বাক্যের মাধ্যমে পবিত্র আত্মা আমাদের শক্তি যোগান। অন্য কথায়, আমাদের আত্মিক শক্তি যোগানোর জন্য ঈশ্বরের বাক্যের মাধ্যমে পবিত্র আত্মা আমাদের ভিতরে কাজ করেন।

 অন্য কোন উপায়ে পবিত্র আত্মা কথা বলতে চান না। ঈশ্বরের বাক্যের মাধ্যমে মন্ডলীর মাধমে এবং মন্ডলীর ভাইবোনদের মাধমে তিনি আমাদের শক্তি যোগান। এই জন্য ঈশ্বরের মন্ডলী খুবই গুরুত্বপূর্ণ, পবিত্র আত্মার কাজে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করা মন্ডলীর উদ্দেশ্য।

 বিশ্বাসীগণ বিশ্বাসীদের সহভাগীতা এবং তাদের প্রশংসা ও অনুপ্রেরণামূলক কথাবার্তা মন্ডলীতে পাওয়া যায়। প্রচারক যেই হোক না কেন, পবিত্র আত্মা তাদের ভিতর দিয়ে উপযুক্ত সময় উপযুক্ত বাক্য পরিবেশন করান। প্রচার যারা করে এবং যারা শোনে পবিত্র আত্মা তাদের উভয়ের মধ্যেই কাজ করেন, তাদের হৃদয়কে জাগ্রত করেন এবং প্রয়োজনীয় আশীর্বাদ দান করেন। ঈশ্বরের মন্ডলীতে যেখানে ধার্মিকেরা সমবেত হয়, পবিত্র আত্মা সেখানে কাজ করেন। এই জন্য বিশ্বাসীদের জন্য মন্ডলীর ভুমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যখন কোন বিশ্বাসী জীবনের কঠিন সময় পার করেন, অর্থাৎ পরীক্ষার মধ্যে হাবুডুবু খান, তখন পবিত্র আত্মার সাহায্যে অন্যান্য। সহবিশ্বাসীগণ ব্যথা বূঝতে পারেন এবং তার সাথে সহভাগীতা করেন। বিশ্বাসীগণ ঈশ্বরের মন্ডলীতে উপস্থিত হলে পবিত্র আত্মা তাদের স্পর্শ করেন এবং তাদের হৃদয়ে শান্তি দান করেন। পবিত্র আআ তাদের সাহায্য করেন, যেন তারা বাক্যের উপরে দৃঢ় থাকতে পারেন এবং দূর্বলতায় যেন শক্তি পান।

 বিশ্বাসে জীবন-যাপন করার মধ্য দিয়ে আমরা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করি, পাপের ক্ষমা পাই, ঈশ্বরের সন্তান হই এবং প্রমাণ হিসাবে পবিত্র আত্মারূপ অনুগ্রহ দান লাভ করি। অতঃপর ঈশ্বর আমাদের তাঁর মন্ডলী দান করেন। মন্ডলী দান করার পরে ঈশ্বর তাঁর দাসগণের মধ্য দিয়ে তাঁর বাক্য পরিবেশন করেন। বাক্যের দ্বারা তিনি আমাদের ক্ষত সকল আরোগ্য করেন, দূর্বলদের সবল করেন, আত্মায় যারা দরিদ্র তাদের আশীর্বাদ করেন এবং ঈশ্বরের বাক্য পালন করার মত ক্ষমতা দান করেন। আমাদের মাধ্যমে তিনি তাঁর সংকল্প সাধন করেন। কাজেই বিশ্বাসীদের কখনই মন্ডলী থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা উচিত নয়। অন্যান্য সহবিশ্বাসী বা ধার্মিকদের সাথে অথবা ঈশ্বরের বাক্যের কাছ থেকে কখনই বিচ্ছিন্ন থাকা উচিত নয়। যেমন বাক্যে বলা হয়েছে এবং মন্ডলীর প্রচারেও আমরা জানতে পারি যে, যখন আমরা ঈশ্বরের মন্ডলীতে একত্রিত হই, পবিত্র আত্মা তখন আমাদের সাহায্য করেন। সত্যের প্রতি আমাদের দৃষ্টি খুলে দেন এবং আমাদের আশীর্বাদ করেন। কাজেই এই বিশ্বাস নিয়ে মন্ডলীতে সমাগত হউন, তাহলে পবিত্র আত্মা আনন্দিত হবেন।

 পবিত্র আত্মার সাহায্যেই আমরা এই মূহুর্ত পর্যন্ত সুরক্ষিত হয়ে এসেছি, ভবিষ্যতেও আমরা তাঁর সাক্ষাতে সুরক্ষিত থাকব। এই জন্য পবিত্র আত্মা আমাদের জন্য এতটা গুরুত্বপূর্ণ, অর্থাৎ যারা আমরা আমাদের সমস্ত পাপের ক্ষমা পেয়েছি তাদের জন্য। আমাদের জানতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে যে, পবিত্র আত্মা আছেন।অবশ্যই আমাদের এ কথা জানতে হবে যে, পবিত্র আত্মার সাহায্যেই আমরা বেঁচে থাকি এবং আত্মিকভাবে আমার তাঁর চালনায় চলতে পারি। যাদে হৃদয়ে পবিত্র আত্মা বাস করেন, তারা তাঁর ইচ্ছানুসারে জীবন-যাপন করে। আপনি যদি একজন ধার্মিক ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই পবিত্র আত্মা আপনার মধ্যে বাস করেন এবং জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে পবিত্র আত্মার নিয়ন্ত্রনে আপনাকে অবশ্যই চলতে হবে।

 আসুন ২৭ পদ পাঠ করি, “আর যিনি হৃদয় সকলের অনুসন্ধান কেরন, তিনি জানেন, আত্মার ভাব কি, কারণ ইনি পবিত্র গণের পক্ষে ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারেই অনুরোধ করেন।” আমাদের অন্তরে বাসকারী আত্মার ভাব পিতা ঈশ্বর জানেন। পবিত্র আত্মা আমাদের মনের ভাব জানেন, তাই পিতা ঈশ্বর আমাদের মনের সমস্ত চিন্তা জ্ঞাত আছেন। যেমন,“পবিত্র আত্মা ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারেই পবিত্রগণের পক্ষে অনুরোধ করেন”।

 এর অর্থ হল যে, পিতা ঈশ্বর পবিত্র আত্মার ভাব জানেন এবং পিতা ঈশ্বরের ইচ্ছানুসারেই পবিত্র আত্মা আমাদের পক্ষে প্রার্থনা করেন। এভাবেই বিশ্বাসীগণ ঈশ্বরের ইচ্ছানুযায়ী জীবন-যাপন করতে পারেন। এই জন্য যারা পাপের ক্ষমা পেয়েছে, পবিত্র আত্মার আবেশে জীবন-যাপন করার আশীর্বাদ তারা পায়। পবিত্র আত্মার চেতনার মাধ্যমেই ধার্মিকদের হৃদয় পরিচালিত হয়। 

 ঈশ্বরের মন্ডলীতে যখন এমন লোক থাকে যাদের অন্তরে পবিত্র আত্মা নাই, তখন মন্ডলীতে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়। যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করেন না, তাদের হৃদয়ে পবিত্র আত্মা বাস করেন না; তাই তারা পবিত্র আত্মা প্রাপ্ত বিশ্বাসীদের সঙ্গে যথাযথ সম্পর্ক রক্ষা করতে পারে না। তাদের কারনেই মন্ডলীতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। অন্যদিকে, যাদের অন্তরে পবিত্র আত্মা বাস করেন, তারা যখন পবিত্র আত্মা প্রাপ্ত প্রচারকদের প্রচার শোনেন, তখন তাদের হৃদয় শান্তিতে ভরে যায়, কারণ তারা শুনতে পারেন ঈশ্বর তাঁর ভক্তদের মাধ্যমে তাদের কি বলতে চাচ্ছেন।

 যাদের পাপ ক্ষমা হয়েছে, পবিত্র আত্মা অবশ্যই তাদের হৃদয়ে বাস করেন। পবিত্র আত্মা আমাদের মধ্যে রয়েছেন এবং পবিত্র আত্মার চালনায় আমরা ঈশ্বরের ইচ্ছানুযায়ী জীবন-যাপন করি। 

 এই ভাবে পবিত্র আত্মা আমাদের চালনা দেন; কখনও কখনও মন্ডলীর মাধ্যমে কখনও কখনও সহবিশ্বাসীদের সহভাগীতার মাধ্যমে এবং অন্য সময়ে তাঁর বাক্যের মাধ্যমে তিনি আমাদের ঈশ্বরের ইচ্ছা বুঝতে দেন এবং তাঁর ধর্মময় পথে চালনা দেন। ঈশ্বরের রাজ্যে পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা যেন তাঁর পক্ষে জীবন-যাপন করতে পারি, এই জন্য পবিত্র আত্মা, আমাদের নূতন শক্তি দেন।

 সুতরাং আমাদের বিশ্বাসের জীবনে, আপনাকে এবং আমাকে পবিত্র আত্মার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা অবশ্যই বুঝতে হবে। আমরা যখন জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করি, তখন পবিত্র আত্মারূপ অনুগ্রহন দান পাই। শাস্ত্রে যেমন লেখা আছে, পবিত্র আত্মা অনুগ্রহের দান, “মন ফিরাও, এবং তোমরা প্রত্যেকজন তোমাদের পাপ মোচনের নিমিত্ত যীশু খ্রীষ্টের নামে বাপ্তাইজিত হও; তাহা হইলে পবিত্র আত্মারূপ দান প্রাপ্ত হইবে” (প্রেরিত ২ : ৩৮ )। 

 আমরা যেন ঈশ্বরের ইচ্ছানুসারে জীবন-যাপন করতে পারি, সেই উদ্দেশে ঈশ্বর পবিত্র আত্মারূপ দান আমাদের দিয়েছেন। এটাই আমাদের পিতা ঈশ্বরের সংকল্প। তিনি বলেন যে, তাঁর রাজ্যে প্রবেশ করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই তাঁর ইচ্ছানুযায়ী জীবন-যাপন করতে হবে। ঈশ্বরের ইচ্ছায় জীবন-যাপন করতে হলে আমাদের অবশ্যই পবিত্র আত্মা পেতে হবে, এবং যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে তারাই কেবল পবিত্র আত্মা পায়। তাই আমরা যেন পবিত্ররূপ দান পেতে পারি, সেই উদ্দেশে অবশ্যই জল ও আত্মার সুসমাচারে আমাদের বিশ্বাস করতে হবে, তাহলে আমরা অবশ্যই তাঁর ইচ্ছানুসারে জীবন-যাপন করতে পারব এবং তাঁর রাজ্যে প্রবেশ করতে পারব।

 পবিত্র আত্মা এবং পাপের ক্ষমা আমরা আলাদাভাবে পাই না। বর্তমান সময়ে মানুষের ধারনা হল, এই দুইটি আশীর্বাদ দুইটি ভিন্ন বিষয়। মানুষের ধারনা হল, যদি তারা পর্বতের গুহায় গিয়ে অবিরত প্রার্থনা করতে থাকে, অদ্ভুদ ভাষায় প্রার্থনা করতে তাকে, তখন পবিত্র আত্মা তাদের উপর অবতীর্ণ হন। তাদের ধারনা হল তখনই পবিত্র আত্মা সরাসরি তাদের উপরে নেমে এসে তাদের সাথে কথা বলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে, এটা সত্য নয়। 

 পবিত্র আত্মা এবং শাস্ত্র আলাদা করা যায় না, পবিত্র আত্মা এবং বিশ্বাসীকেও আলাদা করা যায় না। এই কারণেই বিশ্বাসীগণের সাথে পবিত্র আত্মার সম্পর্ক, মন্ডলীর সম্পর্ক, ত্রিত্ব ঈশ্বর-পিতা ঈশ্বর, পুত্র। ঈশ্বর এবং পবিত্র আত্মা ঈশ্বর-এর সাথে সম্পর্ক পরস্পর খুবই নিবিড়। 

 আমরা যারা এই শেষকালে বেঁচে আছি, আমরা পবিত্র আত্মার দ্বারা বেঁচে আছি। আমরা পবিত্র আত্মার মাধ্যমে ঈশ্বরের ইচ্ছানুসারেই জীবন-যাপন করছি। পবিত্র আত্মা পিতা ঈশ্বরের সমস্ত ইচ্ছা জ্ঞাত আছেন। পবিত্র আত্মার ভাব পিতা ঈশ্বর জানেন। পবিত্র আমাদের চিন্তা ভাবনা নিয়ন্ত্রন করেন এবং ঈশ্বরের সাথে সম্পর্কযুক্ত করেন। এই ভাবে পবিত্র আত্মা ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী প্রার্থনা করেন এবং ঈশ্বরের ইচ্ছানুযায়ী প্রার্থনার উত্তর ঈশ্বর আমাদের দেন। 

 এইজন্য রোমীয় ৮:১৬-১৭ পদে প্রেরিত পৌল পবিত্র আত্মার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

 পবিত্র আত্মার মাধ্যমেই আমরা ঈশ্বরের রাজ্যের অপেক্ষায় আছি। বর্তমান জীবনের দুঃখ কষ্ট ভোগ করে ঈশ্বরের ইচ্ছানুযায়ী জীবন-যাপন করছি, এই প্রত্যাশায় যেন আমাদের অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মার শক্তিতে আমরা তার রাজ্যে প্রবেশ করতে পারি। পবিত্র আত্মার মাধ্যমেই আমরা দুঃখভোগের শক্তি পাই, পবিত্র আত্মার মাধ্যমেই আমরা প্রভুর ইচ্ছা পালন করি এবং পবিত্র আত্মার মাধ্যমেই আমরা প্রভুর কাজ করার শক্তি পাই। পবিত্র আত্মার মাধ্যমেই আমাদের এই সবকিছু দান করা হয়েছে। এই সত্য আমাদের অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে যে, আমরা সেই লোকসমাজ যারা পবিত্র আত্মার চালনায় চলি, ঈশ্বরের বাক্য অধ্যায়ন করি, বাক্যের সাথে নিজেদের হৃদয় এক করি এবং বাক্য শুনি ও তা পালন করি। আমরা এমন ভাবে জীবন-যাপন করব যাতে আমাদের পিতা এবং পবিত্র আত্মন আমাদের মাঝে আনন্দ করেন, মাংসকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশে পার্থিব জীবন-যাপন আমরা করব না। এই অংশে প্রেরিত পৌল আমাদের সেই কথাই বলেছেন।

 আমাদের জীবনে ঈশ্বর সব সময় আমাদের সাথে আছেন। তিনি আমাদের হৃদয় রক্ষা করেন এবং আমাদের সাহায্য করতে চান। প্রভু আমাদের অবিরত আশীর্বাদ করুন। প্রভু যখন আবার আসবেন, সমস্ত কিছু গৌরবে রূপান্তরিত হবে। আমরা যারা ঈশ্বরের ধার্মিকতা জানি, আমরা ঈশ্বরের রাজ্যে এবং তাঁর গৌরবের অধিকারী। যে কেউ ঈশ্বরের রাজ্যের অধিকারী হতে চায়, তাকে যত্নপূর্বক জল ও আত্মার সুসমাচারে মনোযোগ করতে হবে এবং তাতে বিশ্বাস করতে হবে। 

 হাল্লিলূয়া! আমি প্রার্থনা করি ঈশ্বরের আশীর্বাদ আপনার সহবৰ্ত্তী হোক এবং আপনি আরো প্রচুর আশীর্বাদ লাভ করুন।