Sermons

[8-10] < রোমীয় ৮:২৯-৩০ > ভ্রান্ত মতবাদসমুহ


< রোমীয় ৮:২৯-৩০ >

“কারণ তিনি যাহাদিগকে পূৰ্ব্বে জানিলেন, তাহাদিগকে আপন পুত্রে প্রতিমূর্ত্তির অনুরূপ হইবার জন্য পূর্ব্বে নিরূপণও করিলেন; যেন ইনি অনেক ভ্রাতার মধ্যে প্রথম জাত হন। আর তিনি যাহাদিগকে পূর্ব্বে নিরূপণ করিলেন, তাহাদিগকে আহবানও করিলেন; আর যাহাদিগকে আহবান করিলেন, তাহাদিগকে ধার্ম্মিক গণিতও করিলেন; আর যাহাদিগকে ধার্ম্মিক গণিত করিলেন, তাহাদিগকে প্রতাপান্বিতও করিলেন।”


এই অংশে বলা হয়েছে যে, যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে ঈশ্বর মানুষকে উদ্ধার করার জন্য আহবান করেছেন। ঈশ্বর তাদেরকে খ্রীষ্টে আহবান করলেন, যাদের আহবান করলেন তাদের ধার্মিক গণিত করলে এবং যাদের ধার্মিক গণিত করলেন, তাদেরকে প্রতাপান্বিত করলেন। শাস্ত্রে ঈশ্বরের মূল সংকল্প এবং নিগূঢ় তত্ত্ব যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমেই সাধিত হয়েছে। রোমীয় পুস্তকের মাধ্যমে তা আমরা জানতে পারি, যদিও অনেক ধর্মতত্ত্ববিদ এবং প্রচারকরা এই স্পষ্ট এবং সাধারণ সত্যকে সাধারণ মতবাদে পরিণত করেছে, নিজেদের চিন্তা এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট করে আন্তরিকভাবে তা প্রচারও করছে। কতজন এই সত্যকে ভুল বুঝছে, আমরা এখন তা পরীক্ষা করব।

 অনেক ধর্মতত্ত্ববিদরা এই অংশ থেকে পাঁচটি প্রধান মতবাদের সৃষ্টি করেছেন:- ১। পূর্ব ধারণা, ২। পূর্ব মনোনয়ন, ৩। ফলপ্রসূ আহবান, ৪। ন্যায়পরায়নতা এবং ৫। গৌরবান্বিত করণ। এই পাঁচটি মতবাদ, “পরিত্রাণের স্বর্ণ শৃংখল” নামে পরিচিতি এবং বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসীগণের মধ্যে সত্য হিসাবে তা প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু তাদের এই দাবী সম্পূর্ণরূপে ত্রুটিপূর্ণ।

ঈশ্বর যা সাধন করেছেন, এই পাঁচটি মতবাদে সেই কথাই বলা হয়েছে - অর্থাৎ, “ঈশ্বর আগে থেকেই জানতেন, আগে থেকেই মনোনীত করে রেখেছিলেন, আগে থেকেই আহবান করেছেন, ধার্মিক করেছেন এবং প্রতাপান্বিত করেছেন।” কিন্তু পূর্ব মনোনয়নের মতবাদ হল সেই মতবাদ, যাতে বলা হয়েছে যে, জন্মের পূর্ব থেকেই যাদের উদ্ধার করেছেন, ঈশ্বর তাদেরকেই নিঃস্বৰ্তভাবে মনোনীত করেছেন। অথচ পূর্ব মনোনয়ন সম্পর্কে বাইবেলের সত্য হল, ঈশ্বর তাঁর প্রেম দিয়ে পাপীদেরকে তাঁর সন্তান করেছেন। এইভাবে তাদেরকে মনোনীত করার পরে, ঈশ্বর তাদের আহবান করেছেন, ধার্মিক করেছেন এবং প্রতাপান্বিত করেছেন।



ধর্মতত্ত্বীয় পূর্ব নিরূপণ ও মনোনয়নের মতবাদের ভূল


খ্রীষ্টিয় ধর্মতত্ত্ব বিদ্যায় জন ক্যালভিন কর্ত্তৃক প্রচারিত, “পাঁচটি মহা মতবাদ” দেখতে পাওয়া যায়। এই গুলোর মধ্যে দুটি হল, পূর্ব নিরূপণের মতবাদ ও পূর্ব মনোনয়নের মতবাদ। এখনকার আলোচনায় আমরা সেই মতবাদগুলোর বাইবেল ভিত্তিক ভুলগুলো আলোচনা করব এবং জল ও আত্মার সুসমাচারে সাক্ষ্য প্রচার করব।

একজন ধর্মতত্ত্ববিদ জন ক্যালভিন পূর্ব মনোনয়নের মতবাদ প্রবর্তন করেছেন। অবশ্যই ক্যালভিনের বহু পূর্ব থেকেই ঈশ্বর যীশু খ্রীষ্টে মনোনয়নের কথা বলেছিলেন, তার এই মনোনয়নের মতবাদ অনেককেই দ্বিধান্বিত করেছে। এই ভ্রান্ত মতবাদের মাধ্যমে ঈশ্বরের প্রেমকে সীমাবব্ধ করে ফেলেছে এবং বৈসাদৃশ্যমূলক ও অন্যায্য করে ফেলেছে। দৃঢ়ভাবে বলছি যে, ঈশ্বরের প্রেমের কোন সীমা পরিসীমা নেই, এবং তাই পূর্ব নিরূপণের মতবাদ ঈশ্বরের প্রেমকে এমন গন্ডিবব্দ করে ফেলেছে যে, তাকে ভুল হিসাবে প্রতীয়মান করেছে। তবুও বাস্তব বিষয় হল এই যে, বর্তমানে যীশুতে বিশ্বাসী অনেকেই এই মতবাদকে স্বাভাবিক এবং অদৃষ্ট হিসাবে মেনে নিয়েছেন।

পূর্ব নিরূপণের মতবাদ বর্তমানে অনেকের মনে প্রভাব বিস্তার করেছে, বিশ্বাস করে যারা দার্শনিক ভাবাপন্ন, এবং মনকে নিয়ন্ত্রন করে এরা এটাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। এই মতবাদে দাবী করা হয় যে, জগত পত্তনের আগে ঈশ্বর কাউকে কাউকে নিরূপণ ও মনোনীত করেছেন, বাকীদেরকে মনোনয়নের বাইরে রেখেছেন। যদি এই মতবাদ সত্য হত, তাহলে অমনোনীতরা ঈশ্বরের কাছে প্রতিবাদ জানাতে পারত; এতে করে ঈশ্বর অন্যায্য ও সংস্কারাবদ্ধ হয়ে পড়তেন।

এই সমস্ত মতবাদের কারণে বর্তমানে খ্রীষ্টিয় জগতে অনেক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অনেক খ্রীষ্টিয়ান এই ভেবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে, “আমি কি মনোনীত, জগত পত্তনের পূর্বেই যদি ঈশ্বর আমাকে প্রত্যাখ্যান করে থাকেন, তাহলে যীশুকে বিশ্বাস করে আর লাভ কি?” ঈশ্বর কর্ত্তৃক কি তারা মনোনীত, না পরিত্যাক্ত, এই দুশ্চিন্তাতেই এক সময় তাদের জীবন শেষ হয়ে যায়। এই কারণেই পূর্ব নিরূপনের এই মতবাদ যীশুতে বিশ্বাসীগণের মধ্যে অনেক দ্বিধার সৃষ্টি করছে, যেহেতু তারা এই প্রশ্নের উপরে খুব বেশী গুরুত্ব দিচ্ছে যে, তারা পূর্বে মনোনীত কি না, অন্যদিকে জল ও আত্মার সুসমাচারের প্রতি গুরুত্ব কমে যাচ্ছে।

এই মতবাদের দ্বারা খ্রীষ্ট ধর্ম জগতের অন্যান্য ধর্ম বিশ্বাসের ন্যায় হয়ে পড়ছে। কিন্তু এখনই আমাদের জন্য প্রকৃত সময়, যেন আমরা খ্রীষ্টিয় জগতের ভ্রান্ত মতবাদ ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তার স্থলে ঈশ্বরের ধার্মিকতায় জাত সাক্ষী হই। তাই প্রথমত আপনাকেই অবশ্যই বিচার করতে হবে যে, পূর্ব মনোনয়নের এই মতবাদ সঠিক কিনা এবং জল ও আত্মার সুসমচার জেনে এবং তাতে বিশ্বাস করে পাপ থেকে মুক্ত হতে হবে। যারা তার ধার্মিকতা জানে এবং তা বিশ্বাস করে, তারাই কেবল সত্যিকার ভাবে ঈশ্বর কর্তৃক মনোনীত।



সত্য কর্তৃক বর্নিত পূর্ব নিরুপন ও মনোনয়ন


 ইফিষীয় ১:৩-৫ পদে বলা হয়েছে, “ধন্য আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের ঈশ্বর ও পিতা, যিনি আমাদিগকে সমস্ত আত্মিক আশীৰ্বাদে স্বগীয় স্থানে খ্রীষ্টে আশীৰ্বাদ করিয়াছেন; কারন তিনি জগৎপওনের পূৰ্ব্বে খ্রীষ্টে আমাদিগকে মনোনীত করিয়াছিলেন, যেন আমরা তাঁহার সাক্ষাতে প্রেমে পবিত্র ও নিষ্কলঙ্ক হই; তিনি আমাদিগকে খ্রীষ্ট যীশু দ্বারা আপনার জন্য দত্তকপুত্রতার নিমিত্ত পূৰ্ব্ব হইতেন নিরূপণও করিয়াছিলেন; ইহা তিনি নিজ ইচ্ছার হিতসঙ্কল্প অনুসারে, নিজ অনুগ্রহের প্রতাপের প্রশংসার্থে করিয়াছিলেন।” এখানে এও বলা হচ্ছে যে, পাপ মুক্তির পরিত্রান থেকে যীশু খ্রীষ্ট এক জনকেও বাদ দেন নাই।

এই অংশ থেকে আমরা অবশ্যই নিশ্চিত হতে পারব যে, পূর্ব মনোনয়নের মতবাদের আসল ভুল কোথায়? এই মতবাদের মুল ভ্রান্তি হল এই যে, এর দ্বারা ঈশ্বরের মনোনয়নের মাপকাঠিকে পক্ষপাতদুষ্ট করা হয়েছে, অর্থাৎ- কেউ পরিত্রান পাবে কিনা তা ঈশ্বরের কাজের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং তাঁর নিজের ইচ্ছার এবং নিঃশর্ত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল।

এই প্রকার নিঃশর্ত পূর্ব নিরূপণও মনোনয়নের যুক্তিতে যদি আমাদের বিশ্বাসের ভিত তৈরী হত তাহলে কিভাবে আমরা এই সনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তা নিয়ে যীশুতে বিশ্বাস করতে পারতাম? ক্যালভিনীর এই ভ্রান্ত মতবাদের ন্যায়বান ঈশ্বরকে অন্যান্য ও অবিচার সিদ্ধ ঈশ্বরে পরিণত করেছে। ক্যালভীন এরূপ ভুল করেছিলেন কারন, তিনি ঈশ্বরের নিরূপিত “যীশুতে’’ শর্তটি তুলে ফেলেছিলেন এবং এই সন্দেহে আরও গভীর ভুল এবং বিপথে চালিত করে। কিন্তু শাস্ত্র আমাদেরকে পরিষ্কার ভাবে বলে, “কারণ তিনি জগৎপত্তনের পূর্ব্বে আমাদিগকে মনোনীত করিয়াছিলেন, যেন আমরা তাঁহার সাক্ষাতে প্রেমে পবিত্র ও নিষ্কলঙ্ক হই” (ইফিষীয় ১:৪)।

 যদি, ক্যালভেনীয় দাবী অনুসারে, কোন কারণ ব্যতিত অন্যদের বাদ দিয়ে ঈশ্বর কিছু সংখ্যককে পছন্দ করেন শর্তহীন ভাবে তাদের ঈশ্বর হওয়ার জন্য, এর থেকে আর হাস্যকর কি হতে পারে? ক্যালভীন অনেক মানুষের মনে ঈশ্বরকে অন্যায্য তার ঈশ্বর বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। কিন্তু বাইবেল আমাদেরকে বলে, (রোমীয় ৩:২৯) “ঈশ্বর কি কেবল যিহূদীদের ঈশ্বর, পরজাতীয়দের কি নহে? হ্যাঁ, পরজাতীয়দেরও ঈশ্বর” ঈশ্বর প্রত্যেকের ঈশ্বর এবং সবার ত্রাণকর্তা।

যীশু সকলের ত্রাণকর্তা। তিনি যোহন কর্তৃক বাপ্তিস্ম এবং তাঁর ক্রুশীয় রক্তের দ্বারা তাঁর উপরে মানব জাতির সমস্ত পাপ তুলে নেওয়ার দ্বারা তিনি প্রত্যেকের পাপ মোচন করেছেন (মথি ৩:১৫)। শাস্ত্র আমাদেরকে কি বলে যে, খ্রীষ্ট তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা পৃথিবীর সমস্ত পাপীদের পাপভার বহন করেছেন এবং এই সমস্ত পাপ তিনি ক্রুশে বহন করেছেন (যোহন ১:২৯), এই পাপের জন্য আমাদের স্থলে বিচারিত হলেন (যোহন ১৯)। যোহন ৩:১৬ পদে আমাদিগকে আরও বলা হয়েছে যে, “কারণ ঈশ্বর জগতকে এমন প্রেম করিলেন যে, আপনার একজাত পুত্রকে দান করিলেন, যেন, যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে, সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অনন্ত জীবন পায়।” যীশু সমস্ত মানুষকে ধার্মিক করতেন এবং প্রত্যেকের পাপ তুলে নিতে বাপ্তাইজিত হলেন, ক্রুশে মরলেন এবং মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হলেন।

ঈশ্বর বলতে আমরা যা বুঝি, তা অবশ্যই তাঁর বাক্যের উপর ভিত্তি করে। এরূপ করতে আসুন আমরা একটা অনুচ্ছেদ দেখি (রোমীয় ৯:১০-১১), “কেবল তাহা নয়, কিন্তু আবার রিবিকা এক ব্যক্তি হইতে, আমাদের পিতৃপুরুষ ইসহাক হইতে, গর্ভবতী হইলে পর, যখন সন্তানেরা ভুমিষ্ট হয় নাই, তখন ভালমন্দ কিছুই করে নাই, তখন-ঈশ্বরের নির্বাচনানুরূপ সঙ্কল্প যেন স্থির থাকে, কৰ্ম্ম হেতু নয়, কিন্তু আহবানকারী ইচ্ছা হেতু-।”

এখানে যা বলা হয়েছে তা হল, ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে স্থির থাকা “আহবানকারীর হেতু”। তাহলে যীশু খ্রীষ্টেতে ঈশ্বর কাদের আহবান করেছেন? ঈশ্বর যাদের আহবান করেছেন তারা খাঁটি পাপী। যাকোব এবং এষৌর মধ্যে ঈশ্বর কাকে ভালবাসতেন? তিনি যাকোব কে ভালবাসতেন। ঈশ্বর এষৌর মত লোকদের ভালবাসতের না, যারা নিজস্ব ধার্মিকতায় পরিপূর্ণ, কিন্তু তিনি যাকোবের মত পাপীদের আহবান করেন। এবং তাদেরকে জল এবং আত্মার মাধ্যমে নূতন জন্ম গ্রহণ করতে অনুমতি দেন। ইহা ছিল ঈশ্বরের এক ধরণের ধার্মিকতার ইচ্ছা, যা যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে যাকোবের মতা পাপীদের নির্বাচন করে।

 কারণ আদম ছিলেন প্রত্যেকের আদি পিতা, প্রত্যেকেই পাপীর সন্তানরূপে জন্ম গ্রহণ করিয়াছে। গীতসংহিতা ৫১ অধ্যায় দায়ূদ বলেছেন যে, তিনি মাতার গর্ভেই পাপী ছিলেন। কারণ মানুষ পাপী হয়ে জন্ম গ্রহণ করে, এবং সীমাহীন পাপ করে। তাদের জীবন কালে তারা এই পাপের ফল বহন করতে থাকে যতক্ষণ না তা শেষ হয়। মার্ক ৭:২১-২৭ পদে আমাদের বলা হয়েছে যে, ঠিক যেমন আপেল গাছে আপেল ধরে এবং নাশপতি গাছে নাশপতি ধরে, তদ্রুপ মানুষ তাদের সারা জীবন পাপ করতে বাধ্য, কারণ তারা পাপ নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে।

আপনার অবশ্যই ইচ্ছার বিরুদ্ধে পাপ করার অভিজ্ঞতা আছে, এর কারণ একেবারে শুরুতেই আপনি পাপী হয়ে জন্ম গ্রহন করেছেন। মানুষ- বেশ্যাগমন, চৌর্য্য, নরহত্যা, ব্যবিচার, লোভ, দুষ্টতা, ছল, লম্পটতা, কু-দৃষ্টি, নিন্দা, অভিমান, মূর্খত এবং আর ও অনেক কিছু মন্দতা নিয়ে জন্ম গ্রহন করে। এই জন্যই প্রত্যেকে (পু/স্ত্রী) পাপে তার জীবন ধারন করে। পাপ উত্তরাধিকার সূত্রে পাপ্ত। আমরা পাপ নিয়ে জন্ম গ্রহন করেছিলাম যা আমাদের পূর্ব পুরুষেরা আমাদের উপরে অর্পন করে গেছেন, আমরা মৌলিকভাবেই পাপ জীবন-যাপন করতে সংকল্পবদ্ধ। এটাই কারণ যে, কেন আমাদের যীশুকে ত্রানকর্তা রূপে বিশ্বাস এবং ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করার প্রয়োজন।

 ইহার অর্থ কি, এই যে ঈশ্বরের প্রথম কাজ আদম, শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিলেন? না হয় নি। ঈশ্বর মানুষকে তাঁর সন্তান করার সংকলাপ করেছিলেন, তাই তিনি প্রথম মানুষকে পাপে পতিত হওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। ঈশ্বর আমাদেরকে মৌলিক ভাবে পাপী হতে অনুমতি দিয়েছিলেন যেন ঈশ্বর আমাদেরকে রক্ষা করেন এবং যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিস্ম এবং তাঁর রক্তের দ্বারা আমাদেরকে তাঁর সন্তান করতে পারেন। আমাদের অবশ্যই জানতে হবে যে, আমরা পাপী হয়ে জন্মেছি যার কোন ব্যতিক্রম নেই।

 যা হউক, ঈশ্বর সৃষ্টির পূর্বে জানতেন যে মানুষ পাপী হবে, তাই তিনি যীশুকে এই পৃথিবীতে পাঠানোর সংকল্প করেছিলেন। তিনি তখন যোহন কর্তৃক বাপ্তিস্মের মাধ্যমে যীশুকে উপস্থাপন করলেন এবং পৃথিবীর সমস্ত পাপ নিয়ে তাঁকে ক্ৰুশে মরতে হল। অন্যকথায়, তিনি সংকল্প করলেন, যে পাপ মোচনের অনুগ্রহদানে বিশ্বাস করবে সে ঈশ্বরের সন্তান হবে। ইহা মানবজাতী সৃষ্টির করার ঈশ্বরের সংকল্প এবং উদ্দেশ্য।

অবশ্য কিছু লোক তাদের ভ্রান্ত ধারনা থেকে বলে, “যাকোব এবং এষৌর দিকে তাকান। একজন কি নির্বাচিত এবং অন্য জন কি অগ্রাহ্য হয়েছিল না?” কিন্তু যারা যীশু খ্রীষ্টের পরিত্রাণের বাইরে, ঈশ্বর তাদেরক শর্তহীন ভাবে নির্বাচিত করেন না। তিনি পরিষ্কার ভাবে যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে প্রত্যেকেক তাঁর সন্তান করেন। কিন্তু যখন শুধু পুরাতন নিয়মের দিকে মনোযোগ দেই আমরা সেখানে স্পষ্ট দেখি যে ঈশ্বর একটা দিক নির্বাচন করেছেন, কিন্তু নূতন নিয়মে আমরা নির্ভূলতার সাথে আমরা দেখি যে, তিনি যাকোবের মত লোকদের নির্বাচন করেছিলেন, যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে তাদেরকে সমস্ত পাপ থেকে পরিত্রাণ করত। ঈশ্বর আমাদের যাদেরকে তাঁর বাক্য দ্বারা আহবান করেছেন, আমাদের অবশ্যই তাতে পরিষ্কার বুঝতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে।

এষৌ এবং যাকোবের মধ্যে ঈশ্বর কাকে আহবান করেছিলেন এবং ভালবেসেছিলেন? তিনি অন্য কাউকে নয় কিন্তু যাকোবকে, যিনি একজন প্রবঞ্জক, অক্ষম এবং অধার্মিক ব্যক্তি ছিলেন, তাকে ভালবাসতেন এবং ঈশ্বরের ধার্মিকতায় তাকে রক্ষা করতে আহবান করলেন। আপনাকেও অবশ্যই এই সত্য বিশ্বাস করতে হবে যে, পিতা ঈশ্বর তাঁর ধার্মিকতায় যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে আপনাকে আহবান করেছেন। আপনাকে অবশ্যই এই ঘটনায় বিশ্বাস করতে হবে যে, যীশুতে ঈশ্বরের ধার্মিকতা জল ও আত্মার সুসমাচারে নিহীত।

কেন ঈশ্বর যাকোবের মত এমন একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন করেছেন? ঈশ্বর যাকোবকে নির্বাচন করলেন কারণ তিনি ছিলেন সমস্ত অধার্মিক মানব জাতির প্রতিনিধি। ঈশ্বরের দ্বারা যাকোবকে আহবান ছিল তাঁর ইচ্ছা সম্মত; এ আহবান ঈশ্বরের আহবান সম্মত হচ্ছে “আমরা যীশু খ্রীষ্টেতে মনোনীত।” এই আহবানের সাথে সত্য বাক্যের সাথে সামঞ্জস্যতা রয়েছে, তা হল “ঈশ্বরের নির্বাচনারূপ সংকল্প যেন স্থায়ী থাকে, কর্ম হেতু নয়, কিন্তু ঈশ্বরের বাধ্যহেতু।”

 যীশু খ্রীষ্ট দ্বারা পাপীদের রক্ষা করার পথটিছিল, ঈশ্বরের ভালবাসা দ্বারা তাঁর ধার্মিকতার পূর্ণতা সাধন করা। এটা ছিল পাপীদের জন্য ঈশ্বরের ধার্মিকতায় প্রস্তুতকৃতপরিত্রাণের ব্যবস্থা। তাঁর ধার্মিকতার আবৃত করতে ঈশ্বর যাকোবের মত লোকদের আহবান করতেন, যাদের মোটেও নিজস্ব ধার্মিকতা নাই, এবং তাদের আহবান করতেন, যারা যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে তাঁর ডাকে সাড়া দিত।

ঈশ্বর কি তাদের আহবান করেছেন, যাদের নিজস্ব ধার্মিকতা আছে এবং যাদেরকে ভাল মনে হয়? অথবা তিনি কি তাদের আহবান করেছেন যাদের কোন নিজস্ব ধার্মিকতা নাই এবং যারা সম্পূর্ণ অক্ষম? যারা যাকোবের মত ঈশ্বর তাদেরকে আহবান করেছেন। যাদের জন্য নরক নির্ধারিত ছিল ঈশ্বর সেই সমস্ত পাপীদের রক্ষা করার জন্য আহবান করেছেন। আপনাকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, আপনিও জন্মের প্রথম থেকেই পাপী ছিলেন এবং ঈশ্বরের গৌরব করতে অক্ষম ছিলেন, এবং এভাবে নরকে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিলেন। অন্যকথায়, আপনার নিজস্ব সত্য আপনার জানা প্রয়োজন। ঈশ্বর যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে সমস্ত পাপীদের আহবান করেছেন এবং তাঁর ধার্মিকতায় রক্ষা করেছেন।

ঈশ্বরের লোক তারাই যারা তাঁর ধার্মিকতায় বিশ্বাসের মাধ্যমে ধার্মিক হয়েছে। ঈশ্বর যীশুতে সমস্ত পাপীদের আহবান করতে এবং পাপ মোচন করতে পূর্বেই স্থীর করেছিলেন এবং তিনি যা স্থীর করিয়াছেন তা সাধন করেছেন। ঈশ্বরের কথায় এটাই নির্দিষ্ট করণ এবং যীশুতে সত্য নির্বাচন। ঈশ্বরের সত্য নির্বাচন বুঝতে আমাদের অবশ্যই পূর্বের এই “একজন নির্বাচন” সত্যকে বুঝতে হবে, যা পুরাতন নিয়মে বর্ণিত আছে।



পুরাতন নিয়ম অনুযায়ী ঈশ্বরের মনোনয়নের পটভূমি


যাকোব এবং এষৌ তাদের মা রিবিকার গর্ভে থাকা কালিন যে ঘটনা ঘটেছিল, আদিপুস্তক ২৫:২১-২৬ পদে তা বর্ণনা করা হয়েছে। এই অংশের ভিত্তিতে ক্যালভীন মনোনয়নের মতবাদ তৈরী করেছেন, কিন্তু আমরা শীঘ্রই বুঝতে পারবো যে ঈশ্বরের ইচ্ছা থেকে কতটা ভিন্ন। ঈশ্বর কেন যাকোবকে মনোনয়ন করলেন এবং এষৌকে পরিত্যাগ করেছিলেন, তারও কারণ রয়েছে। কারণটা হল, ঈশ্বরের উপর নির্ভর বা বিশ্বাস না করে মানুষ এষৌকে পছন্দ করে, অর্থাৎ তারা নিজেদের শক্তির উপরে নির্ভর করে জীবন-যাপন করতে চায়, অন্যদিকে যে সব মানুষ যাকোবকে পছন্দ অর্থাৎ তারা ঈশ্বরের ধার্মিকতায় নির্ভর ও বিশ্বাস করে। ঈশ্বর এষৌর চেয়ে যাকোবকে বেশী প্রেম করেছেন- কথাটি দ্বারা বুঝোনো হয়েছে যে, ঈশ্বর যাকোবের মত মানুষদের প্রেম করেন। এই কারণেই আমরা “খ্রীষ্টে মনোনীত’’ (ইফিষীয় ১:৪)।

যীশুকে বা ঈশ্বরের ধার্মিকতাকে বাদ দিয়ে “নিঃশর্ত মনোনয়ন” একটি ভ্রান্ত খ্রীষ্টিয় মতবাদ মাত্র। এই মতবাদ দ্বারা খ্রীষ্টিয় ধর্মমতকে একটি ভাগ্য-বিশ্বাসী মতবাদে পরিণত করা হয়। কিন্তু সত্যের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, ঈশ্বর যীশুতে সমস্ত পাপীদের মনোনীত করেছেন। কারণ ঈশ্বর “যীশু খ্রীষ্ট্রে,” সমস্ত পাপীদেরকে উদ্ধার করতে চেয়েছেন, তার মনোনয়ন ন্যায্য মনোনয়ন। ঈশ্বর যদি নিঃশর্তভাবে যাকোবকে মনোনীত করতেন এবং অযৌক্তিকভাবে এষৌকে পরিত্যাগ করতেন, তাহলে তিনি একজন অন্যায্য বিচারক হতেন, কিন্তু যীশু খ্রীষ্ট, তিনি আমাদের আহবান করেছেন। যাদেরকে আহবান করেছেন, তাদের উদ্ধার উদ্ধার কারার জন্য ঈশ্বর যীশুকেই জীবিত পাঠালেন, যেন তিনি বাপ্তিস্মের মাধ্যমে জগতের সমস্ত পাপ তুলে নেন, অর্থাৎ ঈশ্বরের ধার্মিকতা সাধন করেন এবং ক্রুশে রক্ত সেচনের মাধ্যমে সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেন। এই ভাবেই ঈশ্বর আমাদের যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে মনোনীত এবং প্রেম করেছেন।

মানবীয় চিন্তাভাবনা ত্যাগ করে আমাদের শাস্ত্রের বাক্যে বিশ্বাস করা উচিত, আক্ষরিক বিশ্বাস নয় কিন্তু আত্মায় বিশ্বাস করা উচিত। অন্য কথায়, পিতা ঈশ্বর আমাদের সকলকে যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে মনোনীত করেছেন। কিন্তু ঈশ্বরের মনোনয়নকে ক্যালভিন কিভাবে দেখেন? ঈশ্বরের ধার্মিকতা জানতে পারলে এবং তাতে বিশ্বাস করলে প্রকৃত সত্য বুঝতে পারা যায়। মানুষের ধারণায় বিশ্বাস করার অর্থ হল, মূর্ত্তি পূজা করা, ঈশ্বরের আরাধনা নয়।

যীশুর মাধ্যমে ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করা এবং ভ্রান্ত মনোনয়নে বিশ্বাস করার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। যদি আমরা ঈশ্বরের বাক্য অনুযায়ী যীশুকে না জানতাম বা বিশ্বাস না করতাম, তাহলে যুক্তিহীন অসমর্থ প্রাণীতে পরিণত হতাম। “যীশু খ্রীষ্টে” ঈশ্বরের সন্তানরূপে মুদ্রাঙ্কিত হয়ে আমরা মনোনীত হয়েছি। ঈশ্বরের বাক্যের ভিত্তিতে আমাদের বিশ্বাসকে পরীক্ষা করতে হবে।

 ক্যালভেনীয় পাঁচটি মতবাদের একটিতে “সীমিত প্রায়শ্চিত্ত” এর কথা বলা হয়েছে। এই মতবাদে বলা হয়েছে যে, পৃথিবীর অনেক লোকের ভিতর থেকে কিছু লোককে ঈশ্বরের পরিত্রাণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঈশ্বরের প্রেম এবং ধার্মিকতা অন্যায্য হতে পারে না। বাইবেল বলে যে, “তাঁহার ইচ্ছা এই, যেন সমুদয় মনুষ্য পরিত্রাণ পায় ও সত্যের তত্ত্বজ্ঞান পর্যন্ত পঁহুছিতে পারে” (১ তীমথিয় ২:৪)। ঈশ্বরের পরিত্রাণের আশীর্বাদ যদি সীমাবদ্ধ হত, অর্থাৎ কেউ পেত এবং কেউ পেত না, তাহলে এমন অনেক লোক পাওয়া যেত যারা যীশুর উপরে বিশ্বাস পরিত্যাগ করত। যারা এই ভ্রান্ত মতবাদে বিশ্বাস করে, জল ও আত্মার সুসমাচারের প্রতি তাদের ফিরে আসা উচিত এবং যীশুকে একমাত্র ত্রাণকর্ত্তা হিসাবে জেনে এবং বিশ্বাস করে, পাপের ক্ষমা পেয়ে অনন্ত জীবন লাভ কর উচিত। ঈশ্বর তাঁর ধার্মিকতা দ্বারা যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে সকলকে উদ্ধার করেছেন।

ঈশ্বর যদি বাস্তবিকই কাউকে কাউকে প্রেম করতেন এবং কাউকে ঘৃনা করতেন, তবে মানুষ ঈশ্বরের পথ থেকে ফিরে যেত। মনে করুন, এখন এই মুহূর্তে ঈশ্বর এখানে দাঁড়িয়ে আছেন। তাহলে ঈশ্বর পরিত্রাণ দেবার জন্য কি তাঁর ডান পার্শ্বের লোকদের আহবান করতেন এবং বাম পার্শ্বের লোকদের কোন কারণ ছাড়াই নরকে পাঠিয়ে দিতেন, তা কি ন্যায্য হত? তাহলে বাম পার্শ্বের লোকদের ঈশ্বরের বিপক্ষে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় ছিল না। ঈশ্বর যদি এমন হতেন, তাহলে পৃথিবীর কোন ব্যক্তিটি তাকে ন্যায়পরায়ন এবং সত্যের ঈশ্বর হিসাবে আরাধনা করত? যারা নিঃশর্তভাবে গৃহীত হত, তারা প্রতিবাদ করত এবং তারাও ঈশ্বরকে ঘৃনা করত। এমনকি এই পৃথিবীর দুস্কৃতিকারীদেরও নিজস্ব নৈতিকতা ও ন্যায়-অন্যায় বোধ রয়েছে। তাহলে আমাদের সৃষ্টিকৰ্ত্তা কি করে এতটা অন্যায্য হতে পারতেন, এবং এইরকম অন্যায্য ঈশ্বরের বিশ্বাস করত?

নিজ পুত্র যীশু খ্রীষ্ট দ্বারা প্রকাশিত ঈশ্বরের ধার্মিকতার মাধ্যমে পিতা ঈশ্বর সমস্ত পাপীদের উদ্ধার করতে চেয়েছেন। এই কারণে ক্যালভেনীয় সীমিত পাঁচটি মতবাদে ঈশ্বরীয় ধার্মিকতার ব্যাপারে কিছুই করার নেই। তবুও দুর্ভাগ্য বশতঃ অনেকে এই ভ্রান্ত মতবাদে বিশ্বাস করছে, ভ্রান্তভাবে ঈশ্বরকে বিশ্বাস করছে বা তাঁর কাছ থেকে ফিরে যাচ্ছে, এই সমস্ত কিছু মানুষের ভুল ধারনা থেকে হচ্ছে।



একটি অসত্য মুভি


কয়েক বছর আগে ষ্টীফেন কিংস-এর “দি ষ্ট্যান্ড,” নামক নভেলটি দ্বারা একটি টিভি মিনি সিরিজ তৈরী হয়েছিল, এবং সমস্ত পৃথিবী জুড়ে প্রশংসা অর্জন করেছিল। নভেলটির কাহিনী ছিল এরূপ বিস্তৃত: ১৯৯১ সালে আমেরিকাতে একটি মহামারী হয়েছিল এবং সেই মহামারী থেকে যারা রেহাই পেয়েছিল, তারা মাত্র কিছু সংখ্যক লোক জীবিত ছিল। মহামারীতে বেঁচে যাওয়া যেসমস্ত ঈশ্বরে বিশ্বাস বলডার এবং কলোরাডোতে বাস করত, তাদের সাথে সাক্ষাত হয়েছিল নাভাডা এবং লাসভেগাসে ডুবে যাওয়া “ডার্কম্যান”-এর পূজাকারী একটি দলের সাথে। এই দুই দল পৃথক ভাবে সমাজ গঠন করতে লাগল যতক্ষন না পর্যন্ত তারা একে অপরকে ধংস করতে পারে।

 মহামারীতে বেঁচে যাওয়া ষ্টুয়ার্ট নামক একজন যুবক বার বার পৃথিবী ধংসের স্বপ্ন দেখতে লাগল এবং অবিগাল নামের একজন মধ্য বয়সী মহিলা তাকে নির্জন স্থানে যেতে বলেছেন, এবং স্মরণ করিয়ে দিলেন যে, ঈশ্বর তাকে ইতিমধ্যে মনোনীত করেছেন। এই মুভিতে ঈশ্বর এই যুবকটিকে রক্ষা করলেন, কারণ ঈশ্বর তাকে সৃষ্টির পূর্বেই মনোনীত করেছিলেন, এমনটি যখন সে যীশুকে বা ঈশ্বরকে বিশ্বাস করেছে অথবা করেনি।

তাহলে যারা যীশুতে বিশ্বাস করে না, ঈশ্বর কি তাদের শর্তহীনভাবে রক্ষা করেন? অবশ্যই না। যারা তাদের পাপ থেকে ফিরে ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে, তাদের প্রত্যেককেই ঈশ্বর যীশু খ্রীষ্টেতে পূর্বে নিরূপণ করেছেন।

 এই মুভির গল্পটি ক্যালভিনের পূর্বে নিরূপণ এবং মনোনীত মতবাদের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। এই মুভিটি একটি খাঁটি গল্প যা শুধু ধর্মতত্ত্ববিদদের আংশিক মতবাদ প্রকাশ করে। ঈশ্বর কিভাবে কিছু লোককে নরকে এবং অন্যদের রক্ষা করার জন্য মনোনীত করার সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নিলেন? কারণ ঈশ্বর ধার্মিক, কারণ তিনি প্রত্যেককে যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে পূর্বেই মনোনীত করেছেন, এবং কেউই তাঁর ধার্মিকতা এবং পরিত্রাণের গন্ডির বাইরে নয়। যীশু খ্রীষ্ট ব্যতিরেকে ঈশ্বরের নরূপণ এবং নির্বাচন অর্থহীন এবং বাইবেল বিরোধী। এটা দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, বহু ধর্মতত্ত্ববিদরা দাবী করে যাচ্ছেন যে, ঈশ্বর কিছু সংখ্যককে মনোনীত করেছেন এবং অন্যদের প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এমনকি এই পৃথিবী সৃষ্টির পূর্ব্বে ঈশ্বর সমস্ত পাপীদের রক্ষা করার সংকল্প করেছিলেন, এবং যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে তাঁর ধার্মিকতায় তাঁর সন্তান করেছেন। অন্য কথায়, যীশুর সুসমাচার দ্বারা তিনি সমস্ত পাপীকে মনোনীত করেছেন। তাহলে আপনি কিভাবে বিশ্বাস করবেন?

আপনি কি বিশ্বাস করেন যে, পাহাড়ে গভীরভাবে ধ্যানরত বৌদ্ধ সন্যাসী ঈশ্বরের নির্বাচনের বহির্ভূত? যদি ঈশ্বরের পূর্ব নিরূপণ এবং মনোনয়ন যীশু খ্রীষ্ট ব্যাতিরেকে শর্তহীনভাবে হয়, তাহলে তাঁর বাক্য প্রচার করা এবং বিশ্বাস করার কোন প্রয়োজন নেই। যদি যীশু খ্রীষ্ট ব্যাতিরেকে শর্তহীনভাবে হয়, তাহলে তাঁর বাক্য প্রচার করা এবং বিশ্বাস করার কোন প্রয়োজন নেই। যদি যীশু খ্রীষ্ট ব্যতিরেকে কিছু লোক রক্ষা পাবে এবং কিছু লোক রক্ষা পাবে না এমন হয়, তাহলে পাপীদের যীশুতে বিশ্বাস করার কোন প্রয়োজন নেই। যীশু যে তাঁর বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশীয় রক্তের মাধ্যমে আমাদেরকে পাপ থেকে মুক্ত করেছেন, শেষকালে এটা অর্থহীন হবে। এমন কি যীশুতে পাওয়া ঈশ্বরের ধার্মিকতা এই বৌদ্ধ সন্যাসীদেরকেও রক্ষা করবে, যারা যীশুতে বিশ্বাস করে না, শুধুমাত্র যদি তারা অনুতাপ করে এবং ঈশ্বরের দিকে মন ফিরায়।

পৃথিবীতে অনেক লোক আছে যারা যীশুতে বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে জীবন-যাপন করে। আমরা তাদেরকে দুটি দলে ভাগ করতে পারি, একটি দল হবে এষৌর ন্যায় এবং অন্যটি যাকোবের ন্যায়। যাকোবের মত এই ধরনের লোকেরা নিজেদেরকে পাপী এবং নরকযোগ্য মনে করে, যীশু প্রদত্ত জল ও আত্মার সুসমচার দ্বারা এরূপে তারা তাদের পাপ থেকে মুক্ত হতে পারে। অন্য দলটি এষৌর ন্যায়, যারা যীশুতে তাদের বিশ্বাসের প্রচেষ্টা দ্বারা স্বর্গের দুয়ারে প্রবেশের চেষ্টা করে।

আপনি কার মত? যাকোব, না এষৌ? আপনি কি ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করেন? অথবা আপনি পূর্ব মনোনয়নের ভ্রান্ত মতবাদের বিশ্বাস করেন? আপনার পছন্দের এই দুই প্রকার বিশ্বাসই স্থির করবে শেষকালে আপনি কোথায় যাবেন, স্বর্গে না নরকে। আপনাকে অবশ্যই এই ভ্রান্ত মতবাদ ছুড়ে ফেলে দিতে হবে এবং ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বলা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা তাঁর সাথে শান্তি স্থাপন এবং ধার্মিকতা গ্রহণ করতে হবে। শুধুমাত্র এই বিশ্বাসই আমাদেরকে পাপ থেকে মুক্ত করতে পারে এবং অনন্ত জীবন দিতে পারে।