Sermons

[8-11] < রোমীয় ৮:৩১-৩৪ > অনন্তকালস্থায়ী প্রেম


< রোমীয় ৮:৩১-৩৪ >

“এই সকল ধরিয়া আমরা কি বলিব ? ঈশ্বর যখন আমাদের সপক্ষ, তখন আমাদের বিপক্ষ কে? যিনি নিজ পুত্রের প্রতি মমতা করিলেন না, কিন্তু আমাদের সকলের নিমিত্ত তাঁহাকে সমর্পণ করিলেন, তিনি কি তাঁহার সহিত সমস্তই আমাদিগকে অনুগ্রহ-পূর্বক দান করিবেন না? ঈশ্বরের মনোনীতদের বিপক্ষে কে অভিযোগ করিবে? ঈশ্বর ত তাহাদিগকে ধার্ম্মিক করেন; কে দোষী করিবে? খ্রীষ্ট যীশু ত মরিলেন, বরং উত্থাপিতও হইলেন; আর তিনিই ঈশ্বরের দক্ষিণে আছেন, আবার আমাদের পক্ষে অনুরোধ করিতেছেন।”


 যদি ঈশ্বর জগত পত্তনের পূর্বেই যীশু খ্রীষ্টের দ্বারা তাঁহার ধার্মিকতার মাধ্যমে আমাদেরকে আবৃত করেই থাকেন, তাহলে কেউই সেটা নষ্ট করতে পারবে না। ন্যায়পরায়নতার মতবাদে নয়, কিন্তু খ্রীষ্টের ধার্মিকতায় বিশ্বাসের মাধ্যমে যারা সত্যিকারভাবে পাপ থেকে মুক্ত হয়েছে, তারাই প্রকৃত ঈশ্বরের সন্তান। 

 তাই, সব ধার্মিক ব্যক্তিই ধার্মিক নয়। যীশুতে বিশ্বাস করার কারণে বর্তমানে কিছু কিছু লোক নির্যাতিত হচ্ছে, কিন্তু ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে যারা ঈশ্বরের সন্তান হয়েছে, কোন অবস্থাতেই তারা ঈশ্বর থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। ঈশ্বর যখন আমাদেরকে তাঁর ধার্মিকতার সুসমাচার দান করেছেন, তখন কে আমাদের বিপক্ষ হতে পারে ?



ঈশ্বর সমস্তই আমাদিগকে অনুগ্রহ-পূর্বক দান করেছেন


 “যিনি নিজ পুত্রের প্রতি মমতা করিলেন না, কিন্তু আমাদের সকলের নিমিত্ত তাঁহাকে সমর্পণ করিলেন, তিনি কি তাঁহার সহিত সমস্তই আমাদিগকে অনুগ্রহ-পূর্বক দান করিবেন না?”(রোমীয় ৮:৩২)

 তাঁর পুত্রে বিশ্বাসের মাধ্যমে যারা ধার্মিকতা লাভ করেছে, তিনি তাদের সমস্ত কিছুই অনুগ্রহ-পূর্বক দান করেছেন। স্বর্গরাজ্য, ঈশ্বরের সন্তান হওয়ার অধিকার, তাঁর বাক্য বোঝার অধিকার, তাঁর ধার্মিকতার পক্ষে কাজ করার অধিকার এবং অনন্তজীবন-সমস্ত কিছুই তাঁর অনুগ্রহের দান। 

 ঈশ্বর আমাদেরকে তাঁর সন্তান করার উদ্দেশেই তাঁর পুত্রকে আমাদের জন্য দান করেছেন। এমন কি আছে যাছে যা, তিনি আমাদের দেন নাই? তাঁর ধার্মিকতার মাধ্যমে যারা প্রকৃত সত্যকে বিশ্বাস করেছে, স্বর্গ-মর্ত্তের সমস্ত আশীর্বাদ তিনি তাদের দান করেছেন। ঈশ্বরের ধার্মিকতার জন্য তাঁর দাসগণ এবং বিশ্বাসীগণ চিরদিন তাঁর প্রশংসা করে।



ঈশ্বরের মনোনীতগণের বিপক্ষে কে দাঁড়াতে পারে?


 “ঈশ্বরের মনোনীতদের বিপক্ষে কে অভিযোগ করিবে? ঈশ্বর তো তাহাদিগকে ধার্ম্মিক করেন; কে দোষী করিবে? খ্রীষ্ট যীশু ত মরিলেন, বরং উত্থাপিতও হইলেন; আর তিনিই ঈশ্বরের দক্ষিণে আছেন, আবার আমাদের পক্ষে অনুরোধ করিতেছেন” (রোমীয় ৮:৩৩-৩৪)।

 যীশু খ্রীষ্টেতে ঈশ্বরের ধার্মিকতায় তিনি যাদের মনোনীত করেছেন, কেউই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারে না, যীশুর পক্ষে, ঈশ্বরের ধার্মিকতা দ্বারা তাদেরকে পাপ থেকে মুক্ত করা হয়েছে। যে সমস্ত লোকেরা যীশুর মাধ্যমে ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে, তাদের অন্তরে কোন পাপ নাই। এর কারণ হচ্ছেন ঈশ্বর, অন্য কেউ নয়। যারা তাঁর ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে, তিনি তাদেরকে পাপ মুক্ত করেন। 

 ঈশ্বরের পুত্র যীশু খ্রীষ্ট এই পৃথিবীতে মানুষের মত, মানুষের বেশে আসলেন, যোহন বাপ্তাইজক দ্বারা বাপ্তাইজিত হলেন, পৃথিবীর সমস্ত পাপের বোঝা তিনি তুলে নিলেন, ক্রুশে মরলেন এবং তিন দিন পরে পুনরুত্থিত হলেন, এবং যারা তাঁকে বিশ্বাস করে তিনি তাদের প্রভু হলেন। 

 এই কারণে আমরা বলতে পারি না যে, যারা ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাসের দ্বারা ধার্মিক হয়, তারা পাপী এবং দোষী। এমন কি এখনও ঈশ্বর তাদেরকে স্বীকৃতি দেন, যারা তার ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে।এর পরিপ্রেক্ষিতে পবিত্র আত্মা তাদের হৃদয়ে বাস করেন। এই কারণে কেউ ঈশ্বরের ধার্মিকতা অথবা তার ধার্মিকতায় বিশ্বাসের দ্বারা যাদের পাপ ক্ষমা হয়েছে, কেউই এর বিরুদ্ধে কুৎসা রচনা করতে পারবে না।

 যীশুর বাপ্তিস্ম, ক্ৰশে তাঁর রক্ত সেচন, এবং তাঁর মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মাধ্যমে ঈশ্বরের ধার্মিকতা প্রকাশিত হয়েছে। ঈশ্বরের সমস্ত ধার্মিকতা সাধনের পর যীশু খ্রীষ্ট ত্রাণকৰ্ত্তা এবং মধ্যস্থতাকারী হিসাবে ঈশ্বরের দক্ষিণে বসিয়া আছেন।