Sermons

[13] ঈশ্বরের ধার্মিকতার পক্ষে জীবিত থাকি


 রোমীয় ১৩:১ পদ বলছে, “প্রত্যেক প্রাণী প্রাধান্য প্রাপ্ত। কর্ত্তৃপক্ষদের বশীভূত হইক; কেননা ঈশ্বরের নিরূপন ব্যাতিরেকে কর্ত্তৃত্ব হয়না; এবং যে সকল কর্ত্তৃপক্ষ আছেন, তাঁহারা ঈশ্বর নিযুক্ত।”

 আমরা অবশ্যই সামাজিক আদর্শের পরিসীমার মধ্যে বসবাস করি। ঈশ্বর ভয় এবং সম্মান করতে আদেশ করেছেন, যিনি আধ্যাত্মিক ও জাগতিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকর্তা। এই কারণে ঈশ্বর সরকারী কর্মকর্তাদের ক্ষমতা দিয়েছেন এবং আমরা অবশ্যই তাদের অবজ্ঞা করব না। পৌল বলেছেন, আমরা অবশ্যই সরণ করব, “তোমরা পরস্পর প্রেম ব্যাতিত আর কিছুই ধার করো না” (রোমীয় ১৩:৮ )।

 এই কারণে আমরা বিনামূল্যে বই প্রকাশিত করছি এবং সমস্ত জগতে সুন্দর সুসমাচার সরবরাহ করছি। 

প্রভু বলেন, “ব্যবস্থার পূর্ণতা সাধনই প্রেম।” জাতিগণের মন মায়াজালে আবিষ্ট যেন তারা তাদের ধর্ম্মিয় জীবনে ব্যবস্থাকে বিশ্বস্তভাবে রক্ষা করছে। ঈশ্বর আমাদিগকে জল ও আত্মার সুসমাচার দিয়েছেন যেন তাঁর ধার্মিকতা প্রকাশ করে আমাদিগকে পাপ থেকে উদ্ধার করেন। জল ও আত্মার সুসমাচারে প্রদর্শিত ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করা আমাদের প্রয়োজন। এই সুন্দর প্রচারের মাধ্যমে আমাদের প্রভু সত্যিই আমাদিগকে স্বীকৃত জীবন দিয়েছেন, যেহেতু ইহা তাদের সমস্ত পাপ থেকে লোকদিগকে রক্ষা করে। আমরা অবশ্যই কোন ঋন নেব না; অন্যদিকে যীশু খ্রীষ্টের প্রেমের দ্বারা প্রেমের ঋন গ্রহণ করব।



এখন আমাদের জেগে থাকার সময় 


 ১১ পদ বলে, “আর এরূপ কর, কারণ তোমরা এই কাল জ্ঞাত আছ, ফলতঃ এখন তোমাদের নিদ্রা হইতে জাগিবার সময় হইল; কেননা যখন আমরা বিশ্বাস করিয়াছিলাম, তখন অপেক্ষা এখন পরিত্রাণ আরও সন্নিকট।” যখন আমাদের দেহকে বন্দি দশা থেকে মুক্ত করা হবে তৎপরে আমাদের এই দূর্বল দেহ রূপান্তরিত হবে এবং আমরা এক হাজার বছর যাবত খ্রীষ্টের সঙ্গে রাজত্ব করব।

 আমরা আমাদের বংশ এবং নোহের বংশের মধ্যে সাদৃশ্য দেখতে পাই। একটি নূত যৌন বিষয়ক ঢেক বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নাড়া দিয়েছে। এই পৃথিবী এতই খারাপ হয়ে গেছে যে একজন দীর্ঘক্ষণ পে ফোন ব্যবহার করার জন্য অন্য ব্যক্তি তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে? এরূপ অনেক নির্দয় এবং মন্দ কাজ এই সমকালীন লোকদের মধ্যে ঘটছে। 

 আমরা অবশ্যই গভীরভাবে বিবেচনা করব যে, এখন আমাদের জেগে থাকার সময়। আমাদের প্রভুর দ্বিতীয় আগমনের সময় একেবারে সন্নিকট। আমরা বিচক্ষণ হব এবং বুঝতে সক্ষম হব যে, এই যুগ কেমন এবং গভীরভাবে হৃদয়ঙ্গম করব যে, প্রভুর দ্বিতীয় আগমন সন্নিকট। একই সাথে এটাও স্নরণ করব যে, বাস্তবিক অনেক লোক এই যুগ সম্পর্কে অসচেতন।

 “বাস্তবিক নোহের সময় যেরূপ হয়েছিল, মনুষ্য পুত্রের আগমনও তদ্রুপ হইবে” (মথি ২৪:৩৭)। এমন কি নোহের সময় লোকেরা গৃহ নির্ম্মান করত, বিবাহ করত, সর্বপ্রকার পাপে রত ছিল এবং তাদের প্রতিদিনের ব্যবসা বাণিজ্যে নিয়োজিত ছিল, যতক্ষণ না পর্যন্ত হঠাৎ ঈশ্বরের বিচার দন্ড তাদের উপর নিক্ষিপ্ত হল। অন্য কেহ নয়, কিন্তু নোহর প্রত্যাশা ছিল ভারী বৃষ্টি হবে এবং বন্যায় সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাবে, কিন্তু অল্প কয়েকজন যারা উদ্বাস্তুরূপে তার জাহাজে ছিল। যারা অকালে ঈশ্বরের বিচারাজ্ঞার সম্মুখীন হল তারা কোন রকম প্রত্যাশা ব্যাতিত বিনামূল্যে খাচ্ছিল এবং পাপ করছিল।

 এই পৃথিবী কেবলমাত্র যুদ্ধের ভয়াবহতায় অনাবৃত নয় কিন্তু ভয়ানক প্রাকৃতিক দুর্যোগ যাহা আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে 

পৃথিবীর সর্বত্র ঘটতে থাকে। এমন কি আমরা যা খাই তাতেও ভয়ানক বিপদ ওৎ পেতে তাকে, এমন কি আমরা তাদের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া ব্যাতিত আমরা দীর্ঘক্ষণ আমাদের নিজেদের খাবার উপভোগ করতে পারি না। এই কারণে অবশ্যই আমাদের বিজ্ঞতার সাথে জীবন-যাপন করতে হবে। এবং স্মরণ করতে হবে যেদিন আমরা প্রথম বিশ্বাস করেছিলাম সেই দিন অপেক্ষা আমাদের দৈহিক পরিত্রাণ আরো অধিক নিকটবর্ত্তী। 



আপনি কি খ্রীষ্টের পরিত্রাণের বস্ত্র দ্বারা আবৃত? 


 আপনি হয়তো ভাবতে পারেন যে, বিশ্বাসের কার্য্যক্ষেত্রে পৃথিবীর বিনাশ কিছুই না, এবং এর সবকিছুই করে পার্থিব রাজনীতি ও অর্থনীতি। কিন্তু বিশ্ব মন্ডলীর দূর্যোগ পৃথিবীর বিনাশের নিমিত্ত হুঁশিয়ারী সংকেত। এই পৃথিবী শীঘ্রই অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চরম ক্লেশের সম্মুখীন হবে। বাইবেল আমাদিগকে বলে যে, প্রভুর দ্বিতীয় আগমন একেবারে নিকটবর্ত্তী; আমরা অবশ্যই “পরস্পর প্রেম ব্যতিত অন্য কিছু ধার করব না”- প্রত্যেকে প্রেমে সহিষ্ণু, সংরক্ষণ, মত দান এবং সহযোগীতা করব। আমরা অবশ্যই হৃদয়ঙ্গম করব যে, আমরা যখন প্রথম বিশ্বাস করেছিলাম সেই দিন অপেক্ষা আমাদের প্রত্যাশা আরো নিকটবর্ত্তী।

 আমরা এমন একটা যুগে বাস করছি, যেখানে যীশু খ্রীষ্টের ফিরে পক্ষে অপেক্ষায় সেই প্রত্যাশায় আমাদের উজ্জীবিত থাকা প্রয়োজন।

 আমাদের প্রত্যাশা কোথায় ? আমাদের প্রত্যাশা খ্রীষ্টের ফিরে আসার পক্ষে অপেক্ষায় থাকা, যিনি আমাদিগকে উঠাবেন এবং মহাক্লেশের সাত বৎসর অতিবাহিত হওয়ার পর সহস্র বৎসর তাঁর রাজত্বে আমাদিগকে পুরস্কৃত করবেন। সময় অতি নিকটবর্তী হওয়াতে আমরা অবশ্যই খ্রীষ্টের ধার্মিকতার মধ্যে থেকে সেই। প্রত্যাশায় জীবন-যাপন করব। আমরা অবশ্যই দৃঢ়তার সাথে দাঁড়াব এবং জল ও আত্মার সুসমাচারের দৃঢ়তায় আমাদের সমস্ত অন্তঃকরণের সহিত সেবা করব। আমরা অবশ্যই আমাদের যাজকবৃত্তি দ্বারা সমুদয় জগতের প্রত্যেক আত্মাকে সুসমাচারের অংশী করে বিকশিত করব। 



আমরা অবশ্যই পরস্পর প্রেম ব্যাতিত অন্য কিছু ধার করবনা 


 আমি জানি যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে অনেক অনেক দুর্ভোগ হবে, যেমন ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্নৎপাত। বিশ্ব বিপর্যয়ের মূল বিষয়কে নিয়ে বর্তমানে অনেক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। আমি চিন্তা করি যে, এই কারণে পৃথিবী সম্ভবতঃ হলিউড লেখকদের কল্পনায় পরিণত হবে, এবং এতেই প্রমাণিত যে, লোকেরা অসচেতনভাবে অনুভব করে পৃথিবীর বিনাশ অত্যাসন্ন।

অতএব আমরা আমাদিগকে মাংসিক কার্য্যর সাথে সংশ্লিষ্ট করব না, কিন্ত আমাদিগকে আত্মিক কার্য্যর সাথে সংশ্লিষ্ট করব।

 আমরা অবশ্যই বিশ্বাস করি যে, সবচেয়ে সুন্দর জীবন হল, জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা প্রচারিত জীবন। পৃথিবীর সমস্ত লোকেরা আমাদের যাজকত্বে অতিশয় বিস্মিত হয়েছে। অগণিত মানুষ আমাদিগকে বলছে আমরা কত বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি যে, কোরিয়ার মত দেশে ছোট্ট একদটা দল নিয়ে এত ক্ষমতা সহকারে ঈশ্বরের ধার্মিকতা প্রচার করছি। হ্যাঁ, আমরা ক্ষুদ্র ও দূর্বল হওয়া সত্ত্বেও অদ্যপি আমরা পৃথিবীর সর্বত্র সুসমাচার প্রচার করছি, কারণ আমরা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করি, যাহা ঈশ্বরের ধার্মিকতা।

 রোমীয় ১৪ : ৮ পদ বলছে, “কেননা যদি আমরা জীবিত থাকি, তবে প্রভুরই উদ্দেশ্যে জীবিত থাকি; এবং যদি মরি, আমরা প্রভুরই।” পৌল পূর্ব পদে আরো বলেন, “কারণ আমাদের কেহ আপনার উদ্দেশ্যে জীবিত থাকে না, এবং কেহ আপনার উদ্দেশ্যে মরে না।” আমরা কেবলমাত্র আমাদের প্রভুর উদ্দেশ্যে জীবিত থাকি। 

 যেহেতু আমরা আমাদের প্রভুর দ্বারা এই জগতে জন্মগ্রহণ করেছি এবং তাঁর ধার্মিকতার দ্বারা ধার্মিক হয়েছি , আমরা মরি কিংবা বাঁচি আমরা প্রভুরই। আমরা খ্রীষ্টের নিজস্বের ন্যায় এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকি কিংবা ছেড়ে যাই, যেন ঈশ্বরের ধার্মিকতার পক্ষে জীবন-যাপন করি। ঈশ্বর আমাদের দ্বারা সন্তুষ্ট এবং সমস্ত জগতে মহানন্দের সুসমাচার প্রচারের জন্য তাঁর মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করতে। আমাদিগকে মনোনীত করেছেন। তিনি আমাদের নিমিত্ত সুসমাচার প্রচারের মহাদ্বারা উন্মুক্ত করেছেন। তিনি আমাদিগকে বাস্তবিক সমস্ত জাতির কাছে পায়ে হেঁটে না গিয়ে বইয়ের মাধ্যমে সুসমাচার প্রচারের অনুমতি দিয়েছেন। 

 ঈশ্বরের ধার্মিকতার সুসমাচার অনুবাদ করে পর্যায়ক্রমে বইয়ের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে এবং ইংরেজী ভাষাভাষী বিশ্বে, স্প্যানিশ ভাষাভাষী দেশে, এশিয়ার প্রায় প্রত্যেকটি দেশে, আফ্রিকা এবং ইউরোপে পাঠানো হয়ে থাকে আমি নিশ্চিত যে, এই নূতন অনক্রমিক বইগুলিতে আমাদের প্রভু যিনি বিশ্বের সকল আত্মাগণকে ঈশ্বরের ধার্মিকতায় অধ্যাতিক আশীর্বাদে পূর্ণ হতে অধিকার দিয়েছেন। ইহা কেমন বিস্ময়কর ঈশ্বরের কাজ তাঁর ধার্মিকতায় বিশ্বাসকারীদের তাঁর ইচ্ছার মধ্য দিয়ে পূর্ণতা সাধন করে।

 অবশেষে এই জগত সুন্দর সুসমাচার দ্বারা আবৃত হবে; তৎপরে ঈশ্বরের ধার্মিকতায় অন্তর্ভূক্ত সুসমাচার সমস্ত পৃথিবীতে প্রচারিত হবে। ঈশ্বর প্রত্যেকটি পরিকল্পনা পূর্ণ করবেন, যা তিনি আমাদের জন্য সংরক্ষণ করেছেন। 

 এই যুগ হলো মহাপ্রলয়ের অব্যহতির পূর্ব সময়। তেল সংকট এবং বিশ্বব্যাপি অর্থনৈতিক আকস্নিক ভিতি পৃথিবীকে একাধিকবার আঘাত করতে পারে। আমরা নিদ্দিষ্টভাবে কি করছি, এ বিষয়ে আরও বেশী বিশ্বস্ত হব। এই পৃথিবীর শেষ না আসা পর্যন্ত আমরা অবশ্যই জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করতে থাকব। এই পৃথিবীর একজনও যেন এই সুসমাচার শুনতে বাদ না থাকে, সেজন্য আমরা মনোযোগী হয়ে জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করতে থাকব। আমরা এই উদ্দেশে একই সহযোগীতা করব এবং কাজ করব। আমরা অবশ্যই গিদিয়োনের তিনশত যোদ্ধার মত কাজ করব। যদিও আমরা সংখ্যায় খুব কম, আমরা স্বর্গের সাহসী যোদ্ধা এবং ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে আছেন।

 যে কেহ পাপের ক্ষমা গ্রহণ করতে পারে এবং ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞ হয়ে ঈশ্বরের ধার্মিকতা প্রচারের যোগ্য হতে পারে। আমরা বিশ্বাসে বিজয়ী হব কারণ আমাদের ঈশ্বরের ধার্মিকতা আছে। ঈশ্বরের ধার্মিকতায় যারা বিশ্বাস করে তারা সর্বদা আত্মার কাজ অনুসরণ করবে এবং আধ্যাত্মিক কাজে তাদের লক্ষ্য স্থির করবে। 

 আমি প্রার্থনা করি যে, ঈশ্বরের ধার্মিকতা আপনার উপরে বর্ত্তুক।