Sermons

[11-1] < যাত্রাপুস্তক ২৭:৯-২১ > সমাগম তাম্বুতে প্রকাশিত পাপীদের পরিত্রাণ



< যাত্রাপুস্তক ২৭:৯-২১ >

“পরে পাঁচ যবনিকা পরস্পর যোড়া দিয়া পৃথক রাখিবে, অন্য ছয় যবনিকাও পৃথক রাখিবে, এবং ইহাদের ষষ্ট যবনিকা দোহারা করিয়া তাম্বুর সম্মুখে রাখিবে। আর যোড়স্থানে প্রথম অন্ত্য যবনিকার মুড়াতেও পঞ্চাশ ঘুণ্টিঘরা করিয়া দিবে, এবং সংযোক্তব্য দ্বিতীয় যবনিকার মুড়াতেও পঞ্চাশ ঘুণ্টিঘরা করিয়া দিবে। পরে পিত্তলের পঞ্চাশ ঘুন্টি গড়িয়া সেই ঘুন্টিঘরাতে তাহা প্রবেশ করাইয়া তাম্বুর সংযুক্ত করিবে; তাহাতে তাহা একই তাম্বু হইবে; তাম্বুর যবনিকার অতিরিক্ত অংশ, অর্থাৎ যে অর্দ্ধযবনিকা অতিরিক্ত থাকিবে, তাহা আবাসের পশ্চাৎপার্শ্বে ঝুলিয়া থাকিবে। আর তাম্বুর যবনিকার দীর্ঘতার যে অংশে এপার্শ্বে এক হস্ত, ওপার্শ্বে এক হস্ত অতিরিক্ত থাকিবে, তাহা আচ্ছাদন জন্য আবাসের উপরে এপার্শ্বে ওপার্শ্বে ঝুলিয়া থাকিবে। পরে তুমি তাম্বুর জন্য রক্তীকৃত মেষচৰ্ম্মের এক ছাদ প্রস্তুত করিবে, আবার তাহার উপরে তহশচর্ম্মের এক ছাদ প্রস্তুত করিবে।পরে তুমি আবাসের জন্য শিটীম কাষ্ঠের দাঁড় করান তক্তা প্রস্তুত করিবে। প্রত্যেক তক্তা দীর্ঘে দশ হস্ত ও প্রস্থে দেড় হস্ত হইবে। প্রত্যেক তক্তার পরস্পর সংযুক্ত দুই দুই পায়া থাকিবে; এইরূপে আবাসের সকল তক্তা প্রস্তুত করিবে। আবাসের নিমিত্তে তক্তা প্রস্তুত করিবে, দক্ষিণদিকে দক্ষিণ পার্শ্বের নিমিত্তে বিংশতি তক্তা। আর সেই বিংশতি তক্তার নীচে চল্লিশ রৌপ্যের চুঙ্গি গড়িয়া দিবে; এক তক্তার নীচে তাহার দুই পায়ার নিমিত্তে দুই চুঙ্গি, এবং অন্য অন্য তক্তার নীচেও তাহাদের দুই দুই পায়ার নিমিত্তে দুই দুই চুঙ্গি হইবে। আর আবাসের দ্বিতীয় পার্শ্বের নিমিত্তে উত্তরদিকে বিংশতি তক্তা; আর সেইগুলির জন্য রৌপ্যের চল্লিশ চুঙ্গি; এক তক্তার নীচেও দুই দুই চুঙ্গি।”


সমাগম তাম্বুর আয়তাকৃতির প্রাঙ্গণটির মাপছিল ১০০ হাত। হাত বলতে, বাইবেলে কনই থেকে আঙ্গুলের দৈর্ঘ্যকে বুঝান হয়েছে, যা প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটারের সমান। তেমনি সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের বেষ্টনি ১০০ হাত বলতে, প্রায় ৪৫ মিটার, এবং এর প্রস্থ ৫০ হাত তার মানে প্রায় ২২.৫ মিটার। কাজেই পুরাতন নিয়মে ইস্রায়েলের মধ্যে সদাপ্রভুর গৃহে এটাই ছিল পরিমাপ।



সমাগম তাম্বুর বহিঃপ্রাঙ্গণ বেষ্টনি দ্বারা ঘেরা দেওয়া ছিল


আপনি কি কখন সমাগম তাম্বুর কোন চিত্র দেখেছেন? সমাগম তাম্বুটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল, তাহল এর প্রাঙ্গণ এবং তাম্বুটি (সদাপ্রভুর গৃহ) এই সদাপ্রভুর গৃহে অর্থাৎ সমাগম তাম্বুতে একটি ছোট বেদীর মত ছিল, যার নাম যজ্ঞবেদী। এই পবিত্র স্থানটি চারচি ভিন্ন ভিন্ন রংঙের আবারণ দ্বারা ঢেকে রাখা হত, একটি ছিল মিহি মসিনা এবং নীল, বেগুনী এবং লাল রংঙের সুতার অন্যটি ছাগলের পষমের(চামড়ার) এবং আর একটি তহশ চামড়া দ্বারা তৈরী।

সমাগম তাম্বুর পূর্বদিকে নীল, বেগুনী, মিহি সুতার এবং মসিনা সুতার ফটক ছিল। এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করলেই আমরা হোম বলীর যজ্ঞ এবং প্রক্ষালন পাত্র দেখতে পাই। এবং এই প্রক্ষালন পাত্র অতিক্রম করলেই সমাগম তাম্বু। পবিত্র স্থান এবং মহা পবিত্র স্থান এই দুই অংশে সমাগম তাম্বু বিভক্ত ছিল। মহা পবিত্র স্থানে ঈশ্বরের নিয়ম সীন্ধুক ছিল। সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের বেষ্টনি মিহি সাদা সূতায় নিমিত্ত পর্দা দ্বারা ৬০ টি স্তম্ভে বলবান ছিল। অন্যদিকে সমাগম তাম্বুটি ৪৮ টি তক্তা এবং ৯ টি স্তম্ভ দ্বারা তৈরী ছিল। এই সমাগম তাম্বুর নির্মাণ শৈলীর দ্বারা ঈশ্বর যা প্রবেশ করতে চেয়েছেন, সেটা বুঝতে হলে সমাগম তাম্বুর বাহ্যিক কাঠামোর একটা ধারণা থাকতে হবে।

৪৮ টি তক্তা দ্বারা নিমিত্তে সমাগম তাম্বুতে ঈশ্বর বাস করতেন। দিনে মেঘস্তম্ভের দ্বারা এবং রাতে অগ্নিস্তম্ভের ঈশ্বর সমাগম তাম্বুতে তাঁর উপস্থিতি প্রকাশ করতেন। মহা পবিত্র স্থানে ঈশ্বর নিজেই বাস করতেন, এবং ঈশ্বরের গৌরবে সে স্থানে পরিপূর্ণ থাকত। পবিত্র স্থানের ভিতরে দর্শন রুটির মেজ, দীপ বৃক্ষ এবং যজ্ঞের সুগন্ধি দ্রব্য থাকত। মহা পবিত্র স্থানে নিয়ম সিন্ধুক এবং অনুগ্রহ সিংহাসন ছিল। এই স্থান গুলো সাধারণ ইস্রায়েলীয়দের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। সমাগম তাম্বুর নিয়মানুসারে শুধুমাত্র যাজক গণ ও সহযাজক প্রবেশ করতে পারত। লেখা আছে, “উক্ত সকল বস্তু এই রূপে প্রসস্ত হইলে যাজক গণ আরাধনার কার্য সকল সমপন্ন করিবার জন্য ঐ প্রথম তাম্বুতে নিত্য প্রবেশ করে; কিন্তু দ্বিতীয় তাম্বুতে বৎসরের মধ্যে একবার মহাযাজক একাকী পবেশ করেন; তিনি আবার রক্ত বিনা প্রবেশ করেন না, সেই রক্তে তিনি আপনার নিমিত্ত ও প্রজা লোকদের আজ্ঞান কৃত পাপের নিমিত্ত উৎসর্গ করেন”(ইব্রীয় ৯:৬-৭)। এখানে বলা হয়েছে যে, বর্তমান যুগে যাদের জল ও আত্মার সুসমাচারের সুবর্ণ বিশ্বাস রয়েছে তারাই কেবল ঈশ্বরের সেবার্থে জীবন-যাপন করতে পারে।

দর্শন রুটির মেঝ বলতে কি বুঝানো হয়েছে? ঈশ্বরের বাক্যকে বুঝানো হয়েছে। সুগন্ধি ধুপের যজ্ঞ বলতে কি বুঝানো হয়েছে? প্রার্থন বুঝানো হয়েছে।মহা পবিত্র স্থানের ভিতরে ঈশ্বরের নিয়ম সিন্ধুক ছিল এবং সেই নিয়ম সিন্ধুকের উপরে স্বর্ণ নির্মিত অনুগ্রহ সিংহাসন ছিল। করূগদ্বয় তাদের পক্ষ দ্বারা অনুগ্রহ সিংহাসন আবৃত রাখত এবং এদের উভয়ের অবস্থান ছিল মুখোমুখি। এই অনুগ্রহ সিংহাসনের উপরের ঈশ্বরের অনুগ্রহ নেমে আসত। নিয়ম সিন্ধুকে উপরে দশ আজ্ঞা খচিত প্রস্তর ফলক দুটি ছিল, হারোনের যষ্টি এবং মান্না ভর্তি একটি পাত্র ছিল। নিয়ম সিন্ধুকটি একটি সুবর্ণের আবারণ (অনুগ্রহ- সিংহাসন) দ্বারা আবৃত ছিল এবং করূগদ্বয়ের দৃষ্টি অনুগ্রহ সিংহাসনের উপরে নিবদ্ধ ছিল।



জীবিত লোকেরা কোথায় পাপের ক্ষমা পেত? 


পবিত্র স্থানে জীবিত লোকেরা তারা তাদের পাপের ক্ষমা পেত। পবিত্র স্থানটি স্বর্ণে মোড়া ৪৮টি তক্তা দ্বারা নির্মিত ছিল। চিন্তা করুন! স্বর্ণে মোড়া ৪৮টি দেওয়াল কতটা উজ্জল হতে পারে! যেহেতু পবিত্র স্থানে ভেতরটা এবং এর ভেতরের সমস্ত দ্রব্য স্বর্ণ নির্মিত ছিল, তাই সেগুলি খুব উজ্জল ছিল।

হোম বলীর বেদী এবং সমাগম তাম্বুর বহিঃপ্রাঙ্গণে প্রক্ষালন পাত্রটি তামার তৈরী ছিল এবং প্রাঙ্গণের বেষ্টনির স্তম্ভ গুলো রৌপ্য এবং সাদা মসিনা সূতা দ্বারা আবৃত ছিল। অন্যদিকে পবিত্র স্থানের ভিতরের পাত্র গুলো স্বর্ণে নির্মিত ছিল। দীপ বৃক্ষ ছিল স্বর্ণে তৈরী দর্শন রুটির মেজও। যেহেতু পবিত্র স্থানের সমস্ত দ্রব্য গুলো এবং তিন দিকের বেষ্টনি খাঁটি সোনার তৈরী ছিল, তাই পবিত্র স্থানের ভিতরটা সব সময় উজ্জল সোনালী আভায় পরিপূর্ণ ছিল।

পবিত্র স্থানের ভিতরের অংশের উজ্জল সোনালী আভা এই শিক্ষা দেয় যে, ঈশ্বরের পরিত্রাণ প্রাপ্ত সন্তানগণ মন্ডলীর ভিতরে বিশ্বাসে জীবন-যাপন করবে। যারা জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা বিশ্বাসী, তারা পবিত্র স্থানের অভ্যন্তরের স্বর্ণ নির্মিত অংশটির মত। এই পবিত্র স্থানে বাসকারী অর্থাৎ মন্ডলীতে অবস্থানরত বিশ্বাসীদের জীবন আশীর্বাদ যুক্ত তারা সবসময় ঈশ্বরের বাক্যের পরিচর্য্য করে, প্রার্থনা ও তাঁর প্রশংসায় রত থাকে, এবং ঈশ্বরের সিংহাসনের সম্মুখে অনুগ্রহের বস্ত্রে আবৃত হয়ে উপস্থিত হয়। পবিত্র স্থানের অভ্যন্তরে এটাই বিশ্বাসের জীবন। আপনি অবশ্যই এই সত্য হৃদয়ে ধারণ করেন যে, যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের মাধ্যমে ধার্মিক গণিত হয়েছে, তারাই কেবল পবিত্র স্থানের বিশ্বাসের মূল্যবান জীবন-যাপন করতে পারে।



ঈশ্বর পবিত্র স্থানটিকে পরিষ্কার ভাবে দুটি অংশে বিভক্ত করেছেনঃ বহিঃপ্রাঙ্গণ ও অভ্যন্তর ভাগ


অধিকাংশ বাড়ি যেমন বেষ্টনি দ্বারা ঘেড়া দেওয়া থাকে সমাগম তাম্বুটিও তেমনি মিহি সাদা সূতার পর্দ্দা দ্বারা ৬০ টি স্তম্ভের উপরে ঝুলান বেষ্টনিতে ঘেরা ছিল। প্রাঙ্গণের পূর্ব দিকে নীল, বেগুনে এবং লাল সূতা এবং মিহি মসিনা সূতা দ্বারা নির্মিত ফটক ছিল, যার প্রস্থ ছিল ৯ মিটার।

সমাগম তাম্বু সম্পর্কে জানতে গেলে আমাদের এই চিন্তা অবশ্যই থাকতে হবে যে, কতটা বিশ্বাস ঈশ্বর আমাদের কাছে আশা করেন, পরিত্রাণ প্রাপ্তদের বিশ্বাস কেমন এবং সমাগম তাম্বুর বিভিন্ন দ্রব্যের মাধ্যমে বুঝতে হবে ঈশ্বর কিভাবে আমাদের পরিত্রণ করেছেন। পবিত্র স্থানের অভ্যন্তরের যে স্বর্ণ উজ্জল বিশ্বাসের কথা বলা হচ্ছে সে সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের অবশ্যই মনোযোগ সহকারে প্রক্ষালন পাত্র, হোমবলীর বেদী, সমাগম তাম্বুর বহিঃপ্রাঙ্গনের বেষ্টনি এবং এবং এর ভেতরের দ্রব্য গুলির সম্পর্কে ভালভাবে জানতে হলে। এভাবেই আমরা বুঝতে পারব যে, কি ধরণের স্বর্ণময় এবং আভাযুক্ত বিশ্বাস দ্বারা আমরা পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারি।

সমাগম তাম্বুর বহিঃপ্রাঙ্গনে কি কি ছিল? সেখানে প্রক্ষালন পাত্র এবং হোম বলীর বেদী ছিল। ৬০ টি কাঠের স্তম্ভদ্বারা ঘেরা দেওয়া ছিল, এবং মিহি মসিনা সুতার বেষ্টনি এই স্তম্ভগুলোতে ঝুলান ছিল। বেষ্টনির স্তম্ভগুলোশিটীম কাঠের ছিল, এই কাঠ খুব শক্ত কিন্তু হালকা। স্তম্ভগুলো প্রায় ২.২৫মিটার উচু ছিল, অর্থাৎ এই উচ্চতায় কোন লোক প্রাঙ্গণের বাইরে থেকে ভিতরে তাকাতে পারত না। পায়ের নিচে কোন কিছু রেখে হয়ত ভিতর দিকে উকি মেরে দেখা যেতে পারত। কিন্তু মানুষের সাধারণ উচ্চতায় ভিতরের দিকে দেখা সম্ভব ছিলনা। যার অর্থ মানুষ নিজের চেষ্টায় কখন ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারেনা।

বহিঃপ্রাঙ্গণে কাঠের স্তম্ভের নিচের প্রান্তে পিতল দ্বারা মোড়া ছিল এবং উপরের প্রান্ত রৌপ্যে মোড়া ছিল। যেহেতু স্তম্ভগুলো নিজে নিজে সোজা হয়ে দাড়িয়ে থাকতে পারত না, তাই পাশ্বর্বতী স্তম্ভের সাথে প্রতিটি স্তম্ভ পাত দ্বারা দৃড়ভাবে আটকান ছিল। এবং এই স্তম্ভগুলো বিপরিত মুখি স্তম্ভের সাথে গোঁজ ও দড়ি দ্বারা পরষ্পরের সাথে আটকান ছিল (যাত্রাপুস্তক ৩৫:১৮)।



সমাগম তাম্বুর ফটক কি জিনিষ দিয়ে তৈরী করা ছিল?


সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের ফটক নীল, বেগুনেএবং লাল সুতা এবং মিহি মসিনা সুতা দ্বারা তৈরী ছিল। ফটকের উচ্চতা ছিল ২.২৫ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৯ মিটার। এটা নীল, বেগুনে এবং লাল সুতা এবং মিহি মসিনা সুতা দ্বারা চার স্তম্ভের উপরে ঝুলান একটি পর্দ্দ ছিল। যেন যে কেউ সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে চাইলে সহজে এর ফটক খুজে পায়।

সমাগম তাম্বুর ফটক নীল, বেগুনে এবং লাল সুতা এবং মিহি মসিনা সুতা দ্বারা তৈরী ছিল, এর দ্বারাই ঈশ্বর কিভাবে তাঁর পুত্র যীশু চারটি কাজের মাধ্যমে আমাদেরকে পাপ থেকে উদ্ধার করলেন তা প্রকাশিত হয়েছে। এর মোট ৬০ টি কাঠের স্তম্ভ এবং মিহি মসিনা সুতা দ্বারা নির্মিত প্রাঙ্গণের বেষ্টনিদ্বারা আরও বুঝান হয়েছে যে, ঈশ্বর কিভাবে তাঁর পুত্র যীশুর মাধ্যমে আপনাকে এবং আমাকে আমাদের পাপ থেকে উদ্ধার করলেন।

সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের ফটকের দ্বারা ঈশ্বর তাঁর পরিত্রাণ কার্য্যর তত্ত্ব ও পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করেছেন। আসুন আর একবার দেখাযাক, কি দিয়ে সমাগম তাম্বুর ফটক তৈরী ছিল, এটা ছিল নীল, বেগুনে এবং লাল সুতা এবং মিহি মসিনা সুতা দ্বারা এই চার রংঙের সুতার মাধ্যমে যীশু দ্বারা আমাদের পরিত্রাণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যদি এই জিনিষগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ না হত, তাহলে বাইবেলে এর এত বিস্তারিত বর্ণনা থাকতনা।

আপনাকে এবং আমাকে পরিত্রাণ দানের জন্য ঈশ্বরের পরিকল্পনা প্রকাশ করতে সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের ফটকের উপাদানগুলো অত্যাবর্শকীয় ছিল। তাই, নীল, বেগুনে এবং লাল সুতা এবং মিহি মসিনা সূতা- এগুলো পাপীদর পরিত্রাণের জন্য ঈশ্বরের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই চার রংঙের সুতা ঈশ্বরের পরিকল্পিত যথার্ত পরিত্রাণের পরিপূর্ণ প্রকাশ। এইভাবেই ঈশ্বর পরিকল্পনা করেছিলেন। এই জন্য ঈশ্বর মশীকে সীনয় পর্ব্বতে সমাগম তাম্বুর নমুনা দেখিয়ে ছিলেন এবং সেই অনুসারে মশীকে সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের ফটক তৈরী করতে বলেছিলেন।



নীল, বেগুনে,লালসুতা এবং মিহি মসিনা সুতার অর্থকি?


পবিত্র স্থানের ফটক নীল, বেগুনে, লাল সুতা এবং মিহি মসিনা সুতার তৈরী ছিল, এবং পবিত্র স্থান এবং মহাপবিত্র স্থানের মাঝখানে যে পর্দ্দাছিল সেটা ও এই চার সুতার ছিল। শুধু তাই নয়, মহাযাজকের এফদ বস্ত্রটি এবং কমর বন্ধনীটিও এই নীল, বেগুনে লাল সুতা এবং মিহি মসিনা সুতার তৈরী ছিল। তাহলে, এই নীল, বেগুনে,লাল সুতা এবং মিহি মসিনা সুতা দ্বারা আমাদের কি বলা হচ্ছে? প্রকৃত পক্ষে আমাদের পরিত্রাণের জন্য এই চারটি সুতা প্রভু কেন ব্যবহার করলেন? এর দ্বারা আমরা কি বুঝতে পারি? এই চিহ্নটি আমাদের নিবিভড়াবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে।।

প্রথমত, নীল সুতা দ্বারা যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিস্মকে বুঝান হয়েছে। যারা যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিস্মের গুরুত্ব সম্পর্কে জানেনা, তারা বুঝতে পারেনা যে, নীল সুতা যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিস্মের প্রতিক। যেমন যারা নূতন জন্ম প্রাপ্ত নয়, তাদের মতে নীল সুতা বলতে, “যীশু খ্রীষ্ট নিজেই ঈশ্বর, এবং মাংসিক দেহে তিনি এই পৃথিবীতে এসেছিলেন”- এই কথা বুঝান হয়েছে। আবার অন্যরা বলে, “নীল সুতার মানে বাক্য।” কিন্তু বাইবেল আমাদের বলে যে, নীল সুতার অর্থ, “পৃথিবীতে এসে যীশু বাপ্তিস্মের মাধ্যমে জগতের সমস্তপাপ নিজের উপরে তুলে নিলেন।” শাস্ত্র পরিষ্কারভাবে আমাদের একথা বলছে, যীশু যে যোহন বাপ্তাইজকের কাছে বাপ্তিস্ম নিয়েছিলেন, নীল সুতা দ্বারা সেটাই বুঝান হয়েছে। সমাগম তাম্বু সম্বন্ধীয় বাক্য পড়তে পড়তে এই সত্য আমার কাছে প্রকাশ হল, “আচ্ছা, ঈশ্বর তাহলে যীশুর বাপ্তিস্মের গুরুত্ব এখানে প্রকাশ করতে চেয়েছেন!”

বলী উৎস্বর্গ করার সময় ও মহাযাজক নীল সুতার জামা পরিধান করতেন। মহাযাজক স্বর্ণ নির্মিত মুকুট ব্যবহার করতেন এবং সেটিও নীল সুতার দ্বারা তৈরী দড়ি দ্বারা বাঁধা থাকত, এবং এই সোনার পাতে খচিত ছিল “সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্রতা” আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, মহাযাজকের মাথার আবরণের সোনার পাতটি যে নীল সুতা দ্বারা বাঁধা থাকত, সেটাও পরিষ্কারভাবে যীশুর বাপ্তিস্মের বিষয় প্রকাশ করছে, যা প্রভুর উদ্দেশ্যে পবিত্রতার নির্দশন।

এইভাবে সোনার পাতের নীল দড়িটিও ঈশ্বরের প্রকৃত পরিত্রাণের কথা প্রকাশ করছে। অন্য কথায়, পবিত্রতার পতিক হল নীল রং এবং তা যীশুর বাপ্তিস্ম। যদিও নীল রং সাধারনত আমাদের নীল আকাশকে স্বরণ করিয়ে দেয়, কিন্তু নীল ঈশ্বরের দৃষ্টিতে শুধু নীলই বুঝায়না। নীল, বেগুনে, লাল সুতা এবং মিহি মসিনা সুতার মাঝে নীল সুতাটি অবশ্যই যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিস্মকে প্রকাশ করছে। অর্থাৎ নীল সুতা আমাদের বলে যে, যখন বাপ্তাইজিত হলেন (মথি ৩:১৫), তখনই যীশু খ্রীষ্ট নিজের উপরে জগতের সমস্ত পাপ তুলে নিলেন। যীশু খ্রীষ্ট শুধু প্রত্যেকের পাপই তুলে নেন নাই, তিনি বাপ্তিস্ম না নিলে বিশ্বাসীগণ “সদাপ্রভুর উদ্দেশ্যে পবিত্রতা” অর্জন করতে ও পারত না। যীশু যদি বাপ্তিস্ম না নিতেন, তাহলে আমরা কখনই ঈশ্বরের পবিত্রতার বস্ত্র পরিহিত হতে পারতাম না।

মশীকে যেমন দেখিয়ে ছিলেন, তেমনি ঈশ্বরের আদেশ অনুসারে কেন মশী নীল সুতা দ্বারা সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের ফটক তৈরী করলেন, তার আত্মিক অর্থ কি আপনি বুঝতে পারিন? যে ফটক দ্বারা ঈশ্বরের আবাস গৃহ সমাগম তাম্বুতে প্রবেশ করতে হয়, সেই ফটক বলতে যীশু খ্রীষ্টকে বুঝান হয়েছে। যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যম ছাড়া কেউই স্বর্গ রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে না। প্রাঙ্গণের যে ফটক, অর্থাৎ যীশুর পতীক, তা নীল, বেগুনী, লাল সুতা এবং মিহি মসিনা সুতার তৈরী ছিল, যার মাধ্যমে ঈশ্বর পরিত্রাণের সত্য পথটি প্রকাশ করতে চেয়েছেন। বেগুনী সুতার অর্থ পবিত্র আত্মা, যা বলে, “যীশুই রাজাদের রাজা।” লাল সুতা ক্রুশে সেচিত যীশুর রক্তকে নির্দেশ করে। যেমন বলেছি, নীল সুতা যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা যীশুর বাপ্তিস্মকে প্রকাশ করছে।

 সুতরাং নীল, বেগুনী এবং লাল সুতা আমাদেরকে যীশুর বাপ্তিস্ম ঈশ্বরের মাংসের আবির্ভাব এবং তাঁর ক্রুশীয় মৃত্যু সম্পর্কে বলে। এই তিন সুতার মাধ্যমে যীশু বিষয়ক যে সত্য প্রকাশিত হয়েছে, তার দ্বারা আমরা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে পবিত্রতা অর্জনে বিশ্বাস লাভ করতে পারি। অর্থাৎ ঈশ্বর নিজেই এই পৃথিবীতে নেমে এলেন, পাপীদের সমস্ত পাপ বাপ্তিস্মের মাধ্যমে নিজের কাধে তুলে নিলেন, এবং বিজয়ের সাথে সে ক্রুশে রক্ত সেচন করলেন। এই হল নীল বেগুনী এবং লাল সুতার আত্মীকতত্ত্ব।

হয়তো আপনার ধারণা ছিল যে, নীল সুতাটি শুধু ঈশ্বর বা ঈশ্বরের বাক্যকে প্রকাশ করে। কিন্তু আপনাকে অবশ্যই পরিষ্কার ভাবে জানতে হবে যে, নীল সুতা আসলেই যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিস্ম সম্পর্কে কতটা যতার্থরূপে প্রকাশ করছে। যে বাপ্তিস্ম দ্বারা যীশু তাঁর নিজের উপরে জগতের সমস্ত পাপ তুলে নিলেন, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং তা তাঁর কাজের বাইরে নয়, পুরাতন নিয়মের সমাগম তাম্বুর মাধ্যমে ঈশ্বর আমাদের কাছে তা প্রকাশ করেছেন।



বাপ্তিস্মের মাধ্যমে যীশু আমাদের পাপ বহন করেছেন


সমাগম তাম্বুর বেষ্টনী স্তম্ভ শিটীম কাঠদিয়ে তৈরী করা হয়েছিল। এই স্তম্ভগুলোর নিচের প্রান্ত পিত্তলদ্বারা মোড়া ছিল এবং উপরের প্রান্ত রৌপ্যদ্বারা আবৃত ছিল। এর দ্বারা আমরা বুঝতে পারি যে, পাপীরা অবশ্যই তাদের পাপের জন্য বিচারিত হবে। যারা বিচারিত হবে, তারা পরিত্রাণ পাবে। এখনও যাদের বিচার হয়নি, এবং যারা পরিত্রাণ পাইনি, তারা ঈশ্বরের অনন্ত কালীয় শাস্তি কখনই এড়াতে পারবেনা।

যেমন লেখা আছে, “কেননা পাপের বেতন মৃত্যু” (রোমীয় ৬:২৩), তাই পাপীরা তাদের পাপের জন্য অবশ্যই ঈশ্বরের ভয়ঙ্কর বিচারের সম্মুখীন হবে। সুতরাং পাপের জন্য পাপীরা অবশ্যই একবার বিচারিত হবে এবং তারপর অনুগ্রহের পরিচ্ছদে সজ্জিত হয়ে নূতন জন্ম প্রাপ্ত জীবন যাপন করবে। একেই বলে নূতন জন্ম লাঐ করা। নীল সুতার বিশ্বাস হল এইযে, যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন। লাল সুতার বিশ্বাস হল এই যে, ক্রুশে বিচারিত হয়ে রক্ত সেচনের মাধ্যমে তিনি আমাদের সমস্ত পাপ থেকে উদ্ধার করেছেন। পাপের কারণে একবার মৃত্যু এবং পুনরায় নূতন জন্ম লাভ করার এটাই একমাত্র বিশ্বাস। আপনাকে অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে যে, একমাত্র তাদের জন্যই বিচার অপেক্ষা করছে, যারা অবিশ্বাসের কারণে এখনও তাদের পাপের জন্য বিচারিত হয়নি।

যীশুর বাপ্তিস্মই হল একমাত্র পথ, যার দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়ে তিনি আমাদের পরিত্রাণ দিতে চেয়েছেন। নিজের উপরে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই যোহন বাপ্তাইজকের কাছে যীশু বাপ্তিস্ম নিয়েছিলেন। যীশু নিজেই ঈশ্বর, তার পরেও মাংসের বেসে তিনি এই পৃথিবীতে নেমে এলেন, আমরা পাপ থেকে উদ্ধার পাই, এবং সমগ্র মানব জাতির প্রতিনিধি যোহন বাপ্তাইজকের কছে বাপ্তিস্ম নিয়ে আমাদের সমস্ত অধর্ম নিজের উপরে তুলে নিলেন, এবং পাপীদের পক্ষে ভয়ঙ্কর বিচার দ্বারা বিচারিত হবে ক্ৰুশে নিজের দেহ সমর্পণ করলেন এবং জল ও রক্ত সেচন করলেন। সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের ফটক ত্রাণকর্তা হিসাবে যীশুর সাধিত কাজকে প্রকাশ করে। সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গনে পটকরে মাধ্যমে ঈশ্বর পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে, যীশুই পাপীদের ত্রাণকর্তা।

মিহি মসিনা সূতা দ্বারা পুরাতন ও নূতন নিয়মের ঈশ্বরের বাক্য সম্বন্ধে বলা হচ্ছে, এটাই ব্যাখ্যা যা পরিস্পরের সাথে সামজস্য বিধান করে। মিহি মসিনা সূতা পরস্পরের সাথে নিবিরভাবে বোনা হয়। এই মিহি মসিনা সূতার মাধ্যমে ঈশ্বর বলেছেন যে, তিনি কিভাবে আমাদের উদ্ধার করেছেন।

কার্পেট লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই যে, বিভিন্ন সূতা কিভাবে একত্রে বোনা হয়েছে। ঈশ্বর ইস্রায়েলীদের বললেন, সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গনের ফটক নীল বেগুনী এবং লাল এবং মিহি মসিনা সূতা দ্বারা বুনতে। এর দ্বারা বুঝানো যায় যে, যীশু জলের বাপ্তিস্ম, রক্তের (ক্রুশ) এবং পবিত্র আত্মার (যীশুই ঈশ্বর) মাধ্যমে এলেন, যা গভীর ভাবে তাঁর বাক্যে নিহিত রয়েছে এবং সেটাই আমাদের পরিত্রাণের দ্বার। ঈশ্বরের বাক্য প্রকাশিত যীশু খ্রীষ্ট বিষয়ক সত্য বিশ্বাস দ্বারা তাঁর প্রেমে সজ্জিত হয়ে আমরা এখন বিশ্বাসের মাধ্যমেই পূর্ণরূপে পরিত্রাণ পাই।

যীশু আমাদের এলোমেলোভাবে পরিত্রাণ দান করেন নি। সমাগম তাম্বুর দিকে লক্ষ্য করলে আমরা তা বুঝতে পারি। যীশুর প্রতিটি বিষয় যথার্থভাবে সাধন করার মাধ্যমে পাপীদের পরিত্রাণ করেছেন। আমরা যখন বেষ্টনির স্তম্ভের দিকে তাকাই, তখন বুঝতে পারি, কিভাবে তিনি আমাদের উদ্ধার করলেন। সব গুলো স্তম্ভের সংখ্যা একত্রে ৬০ হল কেন? ৬ সংখ্যা মানুষকে প্রকাশ করে এবং তিন সংখ্যা ঈশ্বরকে প্রকাশ করে। প্রকাশিত বাক্য ১৩ অধ্যায়ে ৬৬৬ সংখ্যা উল্লেখ রয়েছে এবং ঈশ্বর বলেন যে, এটি পশুর সংখ্যা এবং সুবুদ্ধিরা এর অর্থ জানে। সুতরাং ৬৬৬ মানে মানুষ ঈশ্বরের মত কাজ করে। মানুষের ইচ্ছা কি? স্বর্গীয় সন্তান হওয়া নয় কি? যদি আমরা সত্যিই ঈশ্বরের সন্তান হতে চাই, তাহলে যীশুতে বিশ্বাসের মাধ্যমে নূতন জন্ম লাভ করে, আমাদেরকে ঈশ্বরের সন্তান হতে হবে। ৬০ স্তম্ভ বিষধাবে এটাই প্রকাশ করছে।

যাহোক, বিশ্বাস ধারণ করার পরিবর্তে মানুষ অহংকার নিয়ে মন্দ কাজের মাধ্যমে নিজেদের পরিশ্রম দ্বারা স্বর্গীয় স্বভাব লাভ করতে চায়। এই একটি মাত্র কারণে মানুষ বাক্যের অপব্যখ্যা করে, নিজেদেরঅভিলাষ চরিতার্থ করতে চায়, নিজেদের তৈরী ভ্রান্তিতে বিশ্বাস করতে চায়, কারণ তাদের বিশ্বাস নেই, বরং জাগতিক বাসনা নিয়ে ঈশ্বরের বিরোধিতা করে। কারণ মাংসিক এই অভিলাষের কারণে দৈহিক শুচিতা পেতে চায়, কিন্তু এর মাধ্যমে তারা বরং ঈশ্বরের বাক্য থেকে আর দূরেই সরে যায়।



সমাগম তাম্বুর সমস্ত উপাদানে পরিত্রাণের বাক্য প্রতি ফলিত হয়েছে


কারণ, যীশু খ্রীষ্ট কর্ত্তৃক পাপীদের পরিত্রাণ দানের মাধ্যমে পবিত্র স্থানে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে সমাগম তাম্বুর সমস্ত দ্রব্য এবং পাত্র গুলি প্রয়োজন ছিল। হোম বেদীর প্রয়োজন ছিল, প্রক্ষালন পাত্রে প্রয়োজন ছিল স্তম্ভ, পিত্তলের চুঙ্গি, রৌপ্যের আকড়া ও সলা করে প্রয়োজন ছিল। এই সমস্ত দ্রব্য গুলো পবিত্র স্থানের বহিঃপ্রাঙ্গণে দেখা যায়, পাপীকে ধার্মিক করার জন্য এর প্রতিটি দ্রব্যর প্রয়োজন ছিল। 

 পাপীকে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করানোর জন্য এর প্রত্যেকটি জিনিসের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল নীল সূতার (যীশুর বাপ্তিস্ম)। সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণে ফটক তৈরীতে নীল, বেগুনে ও লাল সূথা ব্যবহার করা হয়েছিল। এই তিনটি সূতা যীশুর সাধীত তিনটি কাজের নিদর্শন, ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে হলে, এই কাজ গুলোকে বিশ্বাস করতে হবে। যীশু এই পৃথিবীতে এলেন এবং বাপ্তিস্মের মাধ্যমে নিজের উপরে সমস্ত পাপ তুলে নিলেন, দ্বিতীয়ত, যীশুই ঈশ্বর (আত্মা) এবং তৃতীয়ত, যর্দ্দন নদীতে বাপ্তিস্মের সময় জগতের যে সমস্ত পাপভার নিজের উপরে তুলে নিয়েছিলেন, সেই পাপের জন্য ক্রুশে বিচারিত হয়ে মৃত্যু বরণ করলেন। পরিত্রাণ পাবার জন্য এবং ধার্মিক হাবর জন্য এটাই প্রকৃত বিশ্বাসের ধাপ।

বাইবেল পড়লে আমরা বুঝতে পারি যে, আমাদের প্রভু আমাদের জন্য কতটা করেছেন। আমরা পরিষ্কার ভাবে বুঝতে পারি যে, তিনি আমাদের পাপ থেকে উদ্ধার করেছেন, মিহি মসিনা সূতার নিখুদ বুননের মত ধাপে ধাপে কাজ সাধন করেছেন, তিনি সয়ং ঈশ্বর ছাড়া কেউ নয়। উপরন্তু ঈশ্বরই ইস্রায়েলীয়দেরকে নীল, বেগুনী এবং লাল মিহি মসিনা সূতা দ্বারা ৯ মিটার লম্বা ঐ ফটিক তৈরী করতে বলেছিলেন। যেন যে কেই দূর থেকেও তাকালে সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের ফটক তার চোখে পড়ে।

প্রাঙ্গনের স্তম্ভের সাথে ঝুলান মিহি সাদা মসিনা সূতা নির্মিত পর্দ্দা গুলি ঈশ্বরের পবিত্রতা প্রকাশ করে। যেন আমরা বুজতে পারি যে, কোন পাপী দুসাহস দেখিয়ে সমাগম তাম্বুতে উপস্থিত হতে পারে। কন্তু কেবল মাত্র যখন তারা এই চার রংয়ের সূতার দ্বারা প্রকাশিত যীশুর সাধিত চারটি কাজে বিশ্বাস করবে, তখনই কেবল ফটকের মাধ্যমে সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গনে প্রবেশ করতে পারবে। এই ভাবেই, ঈশ্বর পাপীদেরকে বুঝতে সাহায্য করেছেন যে, যীশু খ্রীষ্ট জল,রক্ত ও পবিত্র আত্মা দ্বারা তাদের সমস্ত পাপ মুছে দিয়ে তাদের পরিত্রাণ সাধন করেছেন।

শুধু তাই না, যে সমস্ত দ্রব্য দিয়ে সমাগম তাম্বু তৈরী হয়েছিল, প্রাঙ্গণের ফটকসহ, সেই সব গুলিই প্রকাশ করে যে, ঈশ্বর তাঁর বাক্যের মাধ্যমে পাপীদেরকে ধার্মিক করেছেন। প্রত্যেকেই যেন দেখতে পায়, সে রকম বড় করে ঈশ্বর সেই ফটক তৈরী করতে বলেছিলেন, এবং ফটকটি নীল, বেগুনী, লাল মিহি মসিনা সুতার বুনা হয়েছিল, যেন আমরা বুঝতে পারি যে, ঈশ্বর কিভাবে তাঁর বাক্যের দ্বারা পাপীদেরকে ধার্মিক করেছেন।

সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের ফটক বলে যে, ঈশ্বর আমাদের সম্পূর্ণরূপে পরিত্রাণ করেছেন। শিটীম কাঠ, নীল সুতা (যীশুর বাপ্তিস্ম), লাল সুতা (ক্রুশীয় রক্ত) এবং বেগুনী সুতা (যীশুই ঈশ্বর )। ঈশ্বর স্থির করলেন যে, যারা প্রকৃতভাবে এই গুলোকে বিশ্বাস করবে, তারাই কেবল মাত্র পবিত্র স্থানে, অর্থাৎ ঈশ্বরের গৃহে প্রবেশকরতে পারে।



যীশু খ্রীষ্ট আমাদের বলেছেন


ঈশ্বর আমাদের বলেন যে, সোনালী আভায় উজ্জ্বল বিশ্বাসে জীবন-যাপন করতে হলে, যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ থেকে ধৌত হতে হবে এবং প্রভুর সাক্ষাতে উপস্থিত হতে হবে। এই কারণেই ঈশ্বর নিজেই মশীকে সমাগম তাম্বুর নমুনা দেখিয়ে ছিলেন, মশীকে দিয়েই তৈরী করিয়ে ছিলেন এবং সমাগম তাম্বুর মাধ্যমেই যেন ইস্রায়েলীয়ৱা যেন পাপের ক্ষমা পায়, সে ব্যবস্থা করেছিলেন। যে বিশ্বাস সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের মধ্যদিয়ে আমাদেরকে পবিত্র স্থানে নিয়ে যেতে পারে, আসুন আমরা সেই বিশ্বাস আলোচনা করি। সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের মাধ্যমে ঈশ্বর আমাদের সেই সত্য বিশ্বাসের কথা বলেছেন, অর্থাৎ যীশু জল, রক্ত ও পবিত্র আত্মার মাধ্যমে আমাদের পরিত্রাণ দিয়েছেন। নীল, বেগুনী এবং লাল সুতায় বুনা প্রাঙ্গণের ফটকের মাধ্যমে এই বিশ্বাস প্রকাশিত হয়েছে, বলীদানকৃত মেষশাবকের উপরে মহাযাজকের হস্তার্পন, বলীদানকৃত মেশষাবকের রক্ত সেচন এবং যে বিশ্বাসে মহাযাজক প্রক্ষালণ পাত্রে হাত এবং পা ধুতেন, এই সমস্ত কিছুই আমাদের জানায় যে, জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসই উত্কৃষ্ট সুবর্ণ বিশ্বাস, যা আমাদের পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে এবং গৌরবে সেখানে বাস করতে অস্বীকার দেয়।

সমাগম তাম্বুর মাধ্যমে ঈশ্বর তাঁর পরিত্রাণের অনুগ্রহ এবং আশীর্বাদ আমাদের জন্য অনুমোদন করেছেন। সমাগম তাম্বুর মাধ্যমেই ঈশ্বরের বর্ষিত আশীর্বাদ সম্পর্কে আমরা জানতে পারি। পরিত্রাণের অনুগ্রহ আমরা বুঝতে পারি এবং তাতে বিশ্বাস করতে পারি, যে পরিত্রাণ দ্বারা আমাদেরকে একবারে চিরতরে উদ্ধার করে আমাদেরকে ঈশ্বরের অনুগ্রহ-সিংহাসনের সম্মুখে অধিকার দিয়েছেন, আপনি কি তা বুঝতে পারেন? সমাগম তাম্বুর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি, কতটা যথাযথভাবে আপনাকে এবং আমাকে প্রভু উদ্ধার করেছেন এবং আমাদের পরিত্রাণের জন্য ঈশ্বরের সংকল্প কতটা নিখুত ছিল, কতটা নিশ্চিতভাবে এই পরিকল্পনা সাধনের মাধ্যমে তিনি পাপীদেরকে ধার্মিক করেছেন।

আপনি কি এতকাল যেনতেনভাবে যীশুতে বিশ্বাস করে এসেছেন? আপনি কি মনে করতেন যে, নীল রংঙের অর্থ আকাশ? আপনি কি বেগুনী এবং লাল রংঙের বিশ্বাস সম্পর্কে সজ্ঞান ছিলেন, যার অর্থ রাজাদের রাজা যীশু খ্রীষ্ট এই পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং ক্রুশীয় মৃত্যুর মাধ্যমে আমাদের পরিত্রাণ দিয়েছেন, আপনি কি সেইভাবে বিশ্বাস করেছিলেন? যদি তাই হয়, তবে এখন প্রকৃত বিশ্বাসের যথার্থ সময়। আমি বিশ্বাস করি, আপনারা সকলে এখন যীশুর বাপ্তিস্ম অর্থাৎ নঅল সূতার বিশ্বাস সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং সেই সাথে বুঝতে এবং বিশ্বাস করতে পারবেন যে, ঈশ্বর কতটা অপরিমেয় অনুগ্রহ দ্বারা আপনাকে পরিত্রাণ দিয়েছেন।

শুধু রক্ত এবং পবিত্র আত্মা দ্বারা ঈশ্বার আমাদের পরিত্রাণ দেন নাই। কেন? কারণ নীল, বেগুনী এবং লাল সূতা সম্পর্কে ঈশ্বর আমাদের পরিষ্কারভাবে বলেছেন, এবং এই তিন সূতার মাধ্যমে কতটা যথাযতভাবে যীশু আমাদের পরিত্রাণ করেছেন, তাও তিনি আমাদের বলেছেন। সমাগম তাম্বুর মাধ্যমে, যীশু কতটা পরিকল্পিতভাবে আমাদের পরিত্রাণ সাধন করেছেন, তা বিস্তারিতভাবে দেখান হয়েছে। মশীকে সমাগম তাম্বু তৈরী করতে বলার পর, সমাগম তাম্বুর মাধ্যমে ঈশ্বর যীশুর পরিত্রাণ কাৰ্য্য সম্পর্কে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। সেই প্রতিজ্ঞা অনুসারে যীশু খ্রীষ্ট মাংসের বেশে এই পৃথিবীতে এসে যর্দ্দন নদীতে বাপ্তিস্ম (জল) গ্রহনের দ্বার আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিলেন। বাপ্তিস্মের মাধ্যমেই যীশু পাপীদেরকে সমস্ত পাপ থেকে যথার্থভাবে উদ্ধার করেছেন। তাহলে, এই পরিত্রাণ কতটা পরিকল্পিত, যথার্থ এবং নিশ্চিত!

 পবিত্র স্থানে প্রবেশ করলে আমরা দেখতে পাই দীপ বৃক্ষ, দর্শন রুটির মেজ এবং সুগন্ধী ধূপের বেদি। মহাপবিত্র স্থানে প্রবেশ করার পূর্বে আমরা সোনালী আভায় উজ্জ্বলরুপে উদভাসিত পবিত্র স্থানে প্রবেশ করি, যেখানে আমাদের আত্মার তৃপ্তির জন্যে বাক্যেরুপ খাদ্যপায়।এটা কতটা আশীর্বাদ যুক্ত? ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করার পূর্বে আমরা জল ও আত্মার দ্বারা সুসমাচারদ্বারা পরিত্রাণ পেয়ে ঈশ্বরের মন্ডলীতে পরিচর্যা পাই। ঈশ্বরের মন্ডলীই হল সেই পবিত্র স্থান। যেখানে আমরা জীবনের খাদ্য পাই।

পবিত্র স্থানে অর্থাৎ ঈশ্বরের মন্ডলীতে দীপ বৃক্ষ, দর্শন রুটির মেজ এবং সুগন্ধী ধূপের বেদি ছিল। দীপ বৃক্ষের শাখাগুলি, কান্ড, বাটিগুলি, অলংকৃত অংশ এবং ফুলগুলো পিটান সব খাঁটি স্বর্ণের ছিল। দীপ বৃক্ষটি পিটান উৎকৃষ্ট স্বর্ণের ছিল, এর দ্বারা বুঝাই যে, আমরা যারা ঈশ্বরের সন্তান, ঈশ্বরের মন্ডলীতে আমাদের এক থাকতে হবে।

 দর্শন রুটির মেজে তাড়ি শুন্য রুটি ছিল, এই তাড়িশূন্য রুটি মন্দতা, ও সমস্ত ভ্রান্তিরহিক পবিত্র ঈশ্বরের বাক্যের নিদর্শন। ঈশ্বরের পবিত্র স্থান, অর্থাৎ ঈশ্বরের মন্ডলী এই পবিত্র বাক্যের পরিচর্যা করে, যা সর্বপ্রকার মন্দতার সঙ্গে খাঁটি বিশ্বাসে ঈশ্বরের সম্মুখে বিশ্বাসীদের উপস্থিত করে।

 মহা পবিত্র স্থানের তিরষ্কনীর সম্মুখে সুগন্ধী ধূপের বেদি ছিল, যেখান থেকে প্রার্থনা করা হত, সেখানে এই সুগন্ধী ধূপের বেদি ছিল। পবিত্র স্থানের পাত্রগুলির মাধ্যমে ঈশ্বর আমাদের বলেছেন যে, যখন আমরা তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হব, তখন অবশ্যই প্রার্থনায় এবং তাঁর বাক্যে বিশ্বাসে আমাদেরকে এক হতে হবে। কেবল মাত্র ধার্মিকেরাই প্রার্থনা করতে পারে, ঈশ্বর ধার্মিকদের প্রার্থনা শুনেন(যিশাইয় ৫৯:১-২, যাকব ৫:১৬)। যারা ঈশ্বরের সম্মুখে প্রার্থনা করে, তারাই কেবল তাঁর সাথে মিলিত হতে পারে।

তেমনিভাবে পবিত্র স্থানের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে, ঈশ্বরের মন্ডলীতে পরিত্রাণ লাভ করা কতটা গৌরবের। সমাগম তাম্বু তৈরী করতে যে মূল দ্রব্যগুলি ব্যবহৃত হয়েছিল, সেগুলি হল নীল সূতা (যীশুর বাপ্তিস্ম), লাল সুতা (আমাদের পাপ নিজের উপরে নিয়ে সেই পাপের শাস্তি স্বরূপ ক্রুশে মৃত্যু বরণ) এবং বেগুনী সূতা (যীশুই ঈশ্বর) এর দ্বারা এই অব্যর্থ সত্যকে প্রকাশ করা হয়েছে। এই তিনটি বিষয় আমাদের বিশ্বাসের মুল উপাদান। যখন আমরা বিশ্বাস করি যে, যীশুই ঈশ্বরের পুত্র এবং নিজেই ঈশ্বর এবং তিনিই আমাদের পরিত্রাণ করেছেন, তখনই আমরা সূবর্ণ আভায় উদভাসিত ঈশ্বরের গৃহে উপস্থিত হতে পারি। তিনটি সুতায় প্রকাশিত যীশুর সাধিত কাৰ্য্যগুলিকে আমি যদি বিশ্বাস না করি, তাহলে যত আগে থেকে যীশুকে বিশ্বাস করি না কেন আমরা পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারব না। সব খ্রীষ্টিয়ান মহা পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারেনা।



যারা সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণে অবস্থান করে, তাদের বিশ্বাস ভ্রান্ত


বর্তমানের এমন অনেক খ্রীষ্টিয়ান আছে, যারা নিজেদের বিশ্বাস সম্পর্কে দাবি করলেও পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারে না। অন্যকথায় তারা অন্ধ বিশ্বাস দ্বারা পরিত্রাণ পেতে পারে। যারা বিশ্বাস করে, শুধুমাত্র যীশুর রক্তের বিশ্বাস করলে পরিত্রাণ পাওয়া যায়, তিনি রাজাদের রাজা, তিনিই ঈশ্বর,-এই জাতির বিশ্বাসীরা তারা খুব সাধারন ভাবে যীশুকে বিশ্বাস করে। শুধু যীশুর রক্তে বিশ্বাস করে, তারা হোমবলিরবেদির সম্মুখে উপস্থিত হয়ে অন্ধভাবে প্রার্থনা করে, “হে প্রভু আমি আজও পাপী। আমাকে ক্ষমা কর। আমার জন্য তুমি ক্ৰশারোপিত হয়েছে, মৃত্যুবরণ, করেছে এজন্য আমি তোমাকে সমস্ত ধন্যবাদ জানাই। হে প্রভু আমি তোমাকে ভালবাসি।”

সকাল বেলা এই প্রার্থনা করার পরে তারা কাজে চলে যায়, বিকালে এবং তারা আমার হোম বলির বেদির কাছে উপস্থিত হযে সেই একই প্রার্থনা করে। সকাল বিকাল এবং সারাক্ষণ ধরে তাদের একঘেয়ে প্রার্থনা হোম বলির বেদিকে উৎসর্গ করে তারা নূতন জন্ম লাভ করতে পারে না, বরং নিজেদের ধ্যান ধারণা থেকে তারা ভ্রান্ত বিশ্বাসের ফাঁদে আঁটকে পড়ে।

 তারা বলি দান যত উপহার হোম বলির বেদির কাছে আনে এবং অগ্নি শিখার কাছে রাখে। কারণ অগ্নির তাপে মাংস পুড়ে যায়, পোড়া মাংসের চারিদিকে ছড়িয়ে এবং অবিরত সাদাকালো ধোঁয়া বের হতে থাকে। হোম বলির বেদির সেই স্থান নয়, যেখানে আমাদের পাপ দূর করার জন্য আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে পারি। কিন্তু আসলেই এটা এমন এক স্থান যা আমাদেরকে প্রজ্জলিত নরকের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

 তথাপি মানুষ সকাল বিকাল সেই স্থানে আসে এবং বলে, “প্রভু আমি পাপ করেছি আমাকে ক্ষমা কর।” তারপর তারা বাড়ি ফিরে যায়, এবং তারা মনে করে যে, তাদের পাপের ক্ষমা হয়েছে। তারা এত আনন্দিত হয় যে, আনন্দে গান করে, “ আমি ক্ষমা পেয়েছি, তুমি ক্ষমা পেয়েছ, আমরা সকলে ক্ষমা পেয়েছি।” কিন্তু এই অনুভূতি আবেগমূলক। কিছু সময় যেতে না যেতেই তারা আবার পাপ করছে এবং সেই হোম বলির বেদির সামনে একই স্বীকারোক্তি মুলক প্রার্থনা করছে, “প্রভু, আমি একজন পাপী।” যারা প্রতিদিন সকাল বিকাল এই একই প্রার্থনা নিয়ে হোমবলীর বেদির কাছে যাওয়া আসা করে, যতই বিশ্বাস থাকুক না কেন তবুও তারা পাপী থেকে যায়। এই সকল লোকেরা কখনও ঈশ্বরের পবিত্র রাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না।

তাহলে, প্রকৃত পক্ষে কে পাপের ক্ষমা পাবে এবং ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে? তারা সেই লোকেরা, যারা ঈশ্বর নীরূপিত নীল, বেগুণী ও লাল সুতার তত্ত্বজানে। যারা এই সত্যে বিশ্বাস করে, তারা যীশুর মৃত্যুতে বিশ্বাসের মাধ্যমে হোমবলীর বেদি অতিক্রম করতে পারে। কারণ যীশু নিজের উপরে তাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন, প্রক্ষালণ প্রাত্রে তাদের হাত, পা ধুয়ে দিয়েছেন, যার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে তাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন, এবং তার পরে তারা ঈশ্বরের পবিত্র স্থানে প্রবশ করে। তারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে, তারা পাপের ক্ষমা পেয়ে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারে, কারণ তাদের বিশ্বাস ঈশ্বর অনুমোদিত।

আমি আশা করি যে, আপনারা সবাই এটা অনুধাবন ও বিশ্বাস করতে পারবেন যে, নীল সুতার বাইবেল ভিত্তিক অর্থ হল যীশুর বাপ্তিস্ম। বর্তমানে অনেকেই যীশুকে বিশ্বাস করে বলে দাবি করে, কিন্তু খুব কম লোকে যীশুর বাপ্তিস্মে (নীল সুতায়) বিশ্বাস করে, এটা খুব গভির দুঃখের বিষয়। এটা একটা মহা কষ্টের বিষয় যে, অনেকে খ্রীষ্টিয় বিশ্বাসের সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে অর্থাৎ যীশুর বাপ্তিস্ম অবজ্ঞা করে। কারণ যীশু ঈশ্বর হয়েও অনার্থক এই পৃথিবীতে আসেন নাই বা শুধু ক্রুশে মৃত্যু বরণ করতে পৃথিবীতে এসেছিলেন। আমার প্রার্থনা এবং প্রত্যাশা এমনকি এখন ও আপনারা সবাই নীল, বেগুণী ও লাল সুতায় সত্য জানবেন এবং তাতে বিশ্বাস করবেন এবং সেই বিশ্বাস দ্বারা ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারবেন।



সমাগম তাম্বুর নীল, বেগুণী ও লাল সুতা, যা আমাদের পরিত্রাণের মূল পূর্ব শর্ত, তার দ্বারা প্রভু যে সত্য প্রকাশ করেছেন, আমাদেরকে অবশ্যই সেই সত্যে বিশ্বাস করতে হবে


আমাদের প্রভু আপনাকে এবং আমাকে পরিত্রাণ করেছেন। যখন আমরা সমাগম তাম্বুর দিকে তাকাই, তখন আমরা বুঝতে পারি, কত বৃহৎ পরিকল্পনার মাধ্যমে তিনি আমাদের পরিত্রাণ করেছেন, এ জন্য তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করা যায়না।নীল, বেগুণী ও লাল সূতা দ্বারা তিনি আমাদের পরিত্রাণ দান করেছেন, এই জন্য আমরা তাঁর কাছে চির কৃতজ্ঞ, এবং তিনিই আমাদেরকে নীল, বেগুণী ও লাল সুতার বিশ্বাস ও দান করেছেন।

পাপের কারণে ভয়ঙ্কার বিচারে বিচারিত না হয়ে এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহ সজ্জায় সজ্জিত না হয়ে কোন পাপী কখন পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারেনা। যে একন তার পাপের জন্য বিচারিত হয়নি, সে কিভাবে সমাগম তাম্বুর ফটকের ভিতর দিয়ে পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারে? পারেনা। এই ধরনের লোক যদি পবিত্র স্থানে প্রবেশ করে, তবে তারা প্রথম মুহুর্তেই অভিশপ্ত হয়ে অন্ধ হয়ে যাবে।“হায়! হায়! কি তিব্র উজ্জ্বলতা এখানে! উহ আমিযে কিছুই দেখিতে পাচ্ছিনা! যখন আমি পবিত্র স্থানের বাইরে ছিলাম, তখন ভেবেছিলাম ভিতরে ঢুকেই সব কিছু দেখিতে পাব। কেন আমি কিছুই দেখিতে পাচ্ছিনা? এখানে এত অন্ধকার কেন? যখন বাইরে ছিলাম তখন সব কিছু দেখিতে পাচ্ছিলাম। আমাকে বলা হয়েছিল যে, পবিত্র স্থানের ভিতরটা খুব উজ্জ্বল, কিন্তু এটা অন্ধকার কেন?” তাদের আত্মিক চক্ষু অন্ধ বিধায় তারা কিছুই দেখিতে পায়নাই, কারণ নীল, বেগুণী ও লাল সুতায় তাদের বিশ্বাস নাই। এভাবেই পাপীরা কখন পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারবেনা।

পবিত্র স্থানের জন্য ঈশ্বর আমাদের অন্ধত্বে পরিগনিত করেননি, বরং চির কালের জন্য গৌরবের আশীর্বাদযুক্ত অনুগ্রহ দান করেছেন, যেন আমরা পবিত্র স্থানে বাস করতে পারি। সমাগম তাম্বুর প্রত্যেকটি স্থান নীল বেগুণী এবং লাল সুতা এবং পাকান মিহি মসিনা সুতা দেখা যায়। ঈশ্বর তাঁর বাক্যের মাধ্যমে আমাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছেন এবং তিনি বলেছেন যে, প্রতিজ্ঞা পুরনের মাধ্যমে তিনি আমাদের পনিত্রান দান করেছেন।

প্রভু আমাদেরকে জল, রক্ত ও আত্মা (১ যোহন ৫:৪-৮) দ্বারা পরিত্রাণ করেছেন, যেন আমরা আর অন্ধ না থাকি, বরং চিরকাল তাঁর গৌরবোজ্জ্বল অনুগ্রহে থাকতে পারি। নীল, বেগুনে ও লাল সূতা এবং পাকানো মিহি মসিনা সূতা দ্বারা তিনি আমাদেরকে উদ্ধার করেছেন। দৃঢ়-সুবিন্যস্ত ঈশ্বরের বাক্য দ্বারা প্রভু আমাদেরকে উদ্ধার করেছেন; এবং তিনি আমাদের বলেন যে, এই প্রতিজ্ঞা পুরনের মাধ্যমে তিনি আমাদের উদ্ধার করেছেন।

 নীল, বেগুণী এবং লাল সুতা এবং মিহি মসিনা সুতার মাধ্যমে প্রকাশিত কাজের দ্বারা যীশু যে আপনাকে এবং আমাকে পরিত্রাণ দিয়েছেন, তা কি আপনি বিশ্বাস করেন? হ্যাঁ। আমরা কি এলোমেলোভাবে পরিত্রাণ পেয়েছি? না। নীল, বেগুনী এবং লাল সুতা দ্বারা প্রকাশিত সত্যে বিশ্বাস না করলে আমরা পরিত্রাণ পেতাম না।

নীল সুতা ঈশ্বরকে প্রকাশ করে না। কিন্তু যর্দ্দন নদীতে যীশু যোহনের কাছে যে বাপ্তিস্মের দ্বারা জগতের সমস্ত মানুষের পাপভার তুলে নিয়েছেন, সেই বাপ্তিস্মকেই বুঝান হয়েছে।

নীল সুতায়, অর্থাৎ যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস ছাড়াও হোম বলীর বেদির কাছে উপস্থিত হতে পারে। এমনকি হোম বলীর বেদির পরবর্তি পর্যায় অর্থাৎ প্রক্ষালন পাত্র পর্যন্ত ও পৌঁছাতে পারে, কিন্তু ঈশ্বরের আবাস গৃহ সেই পবিত্র স্থানে পৌঁছাতে পারেন। যারা সমাগম তাম্বুর দরজা খুলতে পারে, এবং পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারে, তারা ঈশ্বরের সেই সব সন্তান, যারা জল ও আত্মর সুসমাচারের মাধ্যমে সমটরূপে পাপের ক্ষমা পেয়েছে। কিন্তু যার জীবন পাপে পরিপূর্ণ, সেই যে হোক না কেন কখনো পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারেনা। তাহলে, পরিত্রান লাভের জন্য আমাদের কত দুর পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে? সমাগম তাম্বুতে প্রবেশ করতে পারলেই যে আমরা পরিত্রাণ পাই, এমন নয় কিন্তু যখন আমরা পবিত্র স্থান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি, তখনই পরিত্রাণ পূর্ণরূপে সাধিত হয়। 



সমাগম তাম্বুর বাইরের বিশ্বাস এবং ভিতরের বিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্য


 সমাগম তাম্বুর বহিঃ প্রাঙ্গনের হোমবলির বেদি এবং প্রক্ষালন পাত্র উভয়ই পিত্তল নির্মিত, এবং কাঠ, রৌপ্য ও পিত্তল দ্বারা বেগুনী নির্মিত ছিল। কিন্তু যখন আমরা সমাগম তাম্বু অভ্যন্তরে প্রবেশ করি, তখন প্রত্যেকটা জিনিসই পৃথক পৃথক দেখতে পাই। সমাগম তাম্বুর মূল বৈশিষ্ট্য হল এই যে, এটা “সূবর্ণ নির্মিত গৃহ”এর তিন দিকের প্রাচীর স্বর্ণ দ্বারা মোড়া ৪৮টি শিটীম কাষ্টের তৈরী ছিল। দর্শন রূটির মেজ এবং সুগন্ধি ধুপের বেদি শিটীম কাষ্টের তৈরী ছিল এবং এগুলো সোনা দ্বারা মোড়া ছিল, এবং দীপ বৃক্ষটি ছিল পিটান সোনার তৈরী। অর্থাৎ সমাগম তাম্বুর ভিতরের সব জিনিষই হয় সোনার তৈরী, নতুবা সোনা দিয়ে মোড়াছিল।

অন্য দিকে তক্তাগুলির নিচের পায়া কি দিয়ে তৈরী ছিল? সে গুলো রূপার তৈরী ছিল। সমাগম তাম্বুর বেষ্টনির স্তম্ভগুলির পায়াগুলি ছিল পিতলের তৈরী, আর সমাগম তাম্বুর তক্তার পায়াগুলি ছিল রূপার তৈরী। আবার বেষ্টনির স্তম্ভগুলি কাঠের তৈরী ছিল, আর সমাগম তাম্বুর তক্তাগুলো ছিল সোনায় মোড়া শিটীম কাঠের তৈরী কিন্তু ফটকের পাঁচটা স্তম্ভের পায়াগুলি পিতলের তৈরী ছিল।

 যদিও সমাগম তাম্বুর তক্তার পায়াগুলি রূপার তৈরী ছিল, কিন্তু সমাগম তাম্বুর ফটকের পাঁচটি স্তম্ভের পায়া ছিল পিতলের। এর অর্থ কি? এর অর্থ এই যে, ঈশ্বরের কাছে উপস্থিত হতে হলে প্রতিটি মানুষকে তার পাপের জন্য বিচারিত হতে হবে। তাহলে, বিচারে মৃত্যুর যোগ্য হয়ে আমরা কি ঈশ্বরের কাছে পৌঁছাতে পারি? আমরা যদি নিজেরাই মরি, তবে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছাতে পারিনা।

সমাগম তাম্বুর দরজার পাঁচটি স্তম্ভের নিচে ব্যবহৃত পিত্তলের পায়ার দ্বারা ঈশ্বর এটাই বুঝাতে চেয়েছেন য়ে, যদিও আমরা আমাদের পাপের জন্য বিচারের যোগ্য ছিলাম, কিন্তু যীশু বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে নিজের উপরে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিলেন এবং সেই পাপ সকলের জন্য আমাদের স্থলে তিনিই বিচারিত হলেন। আমাদের পাপের জন্য আমাদেরকেই বিচারিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অন্য একজন আমাদের স্থলে আমাদের বিচার নিজেই বহণ করলেন। যিনি আমাদের স্থলে জঘন্নমত বিচারে বিচারিত হলেন, আমাদের পক্ষে মৃত্যুকে বরণ করে নিলেন, তিনি যীশু খ্রীষ্টছাড়া আর কেউ নন।

নীল সুতার মাধ্যমে যে সত্য প্রকাশিত হয়েছে, তাহল যীশু খ্রীষ্ট তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছিলেন এবং আমাদেরকে ক্ষমা এবং করেছেন। যেহেতু, আমাদের পাপের বোঝা নিজের ঘাড়ে তুলে নেওয়ার কারণে যীশু খ্রীষ্টকে ঈশ্বর দোষী সাবব্যস্থ করলেন, তাই এইভাবেই তিনি আমাদের পাপ সমস্যার সমাধান করলেন, যেন আমরা আর আমাদের পাপের জন্য বিচারিত না হই। লাল সুতা দ্বারা সেই বিশ্বাস প্রকাশিত হয়েছে, যে বিশ্বাস বলে যে, যীশু ক্রুশে আমাদের জন্য রক্ত সেচন করেছেন, এই বিশ্বাস বলে যে, আমাদের প্রাপ্য যঘন্নতম বিচার যীশু খ্রীষ্ট নিজেই বহণ করেছেন।

 যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাসের মাধ্যমে যারা তাঁর উপরে নিজের পাপভার অর্পন করে, এবং যারা বিশ্বাস করে যে, ক্রুশে দৈহিক মৃত্যুর মাধ্যমে রক্ত সেচন ছাড়া যীশুর সাধিত কাজের মাধ্যমে পাপের ক্ষমা পেয়েছে, তারা পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারে। সমাগম তাম্বুর দরজার পায়াগুলি এই কারণেই পিত্তলের তৈরীছিল। অর্থাৎ আমাদেরকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, খ্রীষ্ট তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছিলেন, এবং আমাদের স্থলে ভয়ানক বিচারে বিচারিত হয়ে রক্ত সেচন করেছেন।

 ঈশ্বর স্থির করেছেন যে, যারা এই সত্যে বিশ্বাস করবে, অর্থাৎ ঈশ্বর নিজেই (বেগুনী সুতা), যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিস্ম (নীল সুতা) এবং আমাদের পাপের জন্য আমাদের স্থলে তিনি যঘন্নতম বিচারে (লাল সূতা) বিচারিত হয়েছিলেন, তারাই কেবল পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারবে। যারা বিশ্বাস করে যে, একবারে চিরতরে তাদের বিচার হয়েগেছে, যীশু তাদের সমস্ত পাপ থেকে উদ্ধার করেছেন, তারা পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারে।

 সমাগম তাম্বুর দরজার স্থম্ভের পায়াগুলো গলান পিত্তলের তৈরী ছিল। এই পিত্তলের পায়ার আত্মিক অর্থ হল, আদমের উত্তরসুরিরা, যারা জন্মগতভাবে পাপী, সে যেই হোক না কেন, কেবল মাত্র তখনই সে পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারবে, যখন সে নীল সুতায় (যীশুর বাপ্তিস্মে) এবং লাল সুতায় (পাপীদের স্থলে যীশুর ভয়ানক বিচার) এবং বেগুনী সুতায় (যীশুই ঈশ্বর) বিশ্বাস করবে। দরজার স্তম্ভের পিত্তল নির্মিত পায়াগুলো আমাদেরকে ঈশ্বরের সুসমাচার সম্ভন্ধে বলে, যেমন খেলা আছে, “কেননা পাপের বেতন মৃত্যু, কিন্তু ঈশ্বরের অনুগ্রহ দান, আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টে অনন্ত জীবন” (রোমীয় ৬:২৩)। যীশু জল ও রক্ত এবং আত্মা দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ ক্ষমা করেছেন।



অবজ্ঞা নয়, কিন্তু ঈশ্বর এবং তাঁর বাক্যে আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে।


 যীশুতে বিশ্বাস করতে পারলেই যে, আপনি নিঃসন্ধেহে পরিত্রাণ পেয়ে গেলেন, তা নয়। অথবা নিয়মিত মন্ডলীতে উপস্থিত হলেই যে, আপনি নূতন জন্ম লাভ করেছেন, তাও নয়। আমাদের প্রভু যোহন ৩ অধ্যায় বলেন, যারা জলে ও আত্মায় নূতন জন্ম প্রাপ্ত, কেবল মাত্র তারাই ঈশ্বরের রাজ্য দেখতে পারবে এবং তাতে প্রবেশ করতে পারবে। যিহুদীদের একজন নেতা এবং ঈশ্বরের একজন বিশ্বস্ত দাস নিকদীনকে যীশু দৃঢ়ভাবে বললেন, “তুমি যিহুদীদের একজন শিক্ষক, তবু তুমি জান না কিভাবে নূতন জন্ম পেতে হয়? যখন কেউ জলে ও আত্মায় নূতন জন্ম লাভকরে, তখনই সে স্বর্গরাজ্য দেখতে পারে এবং তাতে প্রবেশ করতে পারে।” কেউ যখন এই সত্যে বিশ্বাসের মাধ্যমে যীশুতে বিশ্বাস করে যে, নীল সূতা (বাপ্তিস্মের মাধ্যমে যীশু সকলের পাপভার তুলে নিয়েছেন), লাল সুতা (যীশু আমাদের পাপের জন্য মরেছেন), এবং বেগুনী সুতা (যীশুই ত্রাণকর্তা, ঈশ্বর এবং ঈশ্বরের পুত্র), কেবল মাত্র তখনই সে নূতন জন্ম লাভ করতে পারে। যেভাবে সমাগম তাম্বুর যে নীল বেগুনী ও লাল সূতা দেখা যায়, পাপ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে প্রত্যেক পাপীকে সেই সত্যে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, যীশুই ত্রাণকর্তা।

 যেহেতু, অনেকে এই সত্য জানেনা, তাই তারা নূতন জন্ম লাভ করতে পারেনা বা নূতন জন্ম সম্পর্কে ঈশ্বরের বাক্য ও জানেনা। আমাদের প্রভু পরিষ্কারভাবেই বলেছেন যে, যীশুতে বিশ্বাস করি বলে দাবী করলেও, যদি আমরা নূতন জন্ম না পাই, তাহলে কখনও পবিত্র স্থানে, পিতার রাজ্যে আমরা প্রবেশ করতে পারিনা বা বিশ্বাসে প্রকৃত জীবন-যাপন ও করতে পারি না।

 মানবিয় চিন্তা চেতনা থেকে অনেকে মনে করে যেভাবে বিশ্বাস করুন না কেন, খ্রীষ্টিয়ানই যদি নূতন জন্ম পেত, তাহলে কতই না ভাল হত তাই না? যীশু নামে ডাকলেই যদি আমরা পরিত্রাণ পেতে পারতাম, মুখে তাতে বিশ্বাসে দাবে করতে পারতাম, কিভাবে তিনি মাসব জাতিকে উদ্ধার করেছেন, তা যদি না জানতাম তাহলে যীশুতে বিশ্বাস করা মানুষ জাতির জন্য বিষয়করভাবে একটি সহজ বিষয় হত। যখন আমরা কোন নূতন খ্রীষ্টিয়ানকে দেখি, আমরা আনন্দে গাইতে পারি,“আমি ক্ষমা পেয়েছি, তুমি ক্ষমা পেয়েছ, আমরা ক্ষমা পেয়েছি।” “যেহেতু অনেক বিশ্বাসী রয়েছে, তাহলে সাক্ষ্যের মূল বিষয় কোনটি? বিষয়গুলো তাদের মত ভাল। এটাই কি আনন্দের বিষয় নয়?” যদি এটাই আসল বিষয় হত, তাহলে পরিত্রাণকে খুব সহজ মনে করত, অর্থাৎ যীশুকে ডাকলেই যেন পরিত্রাণ পাওয়া যায় এবং যেভাবেই জীবন-যাপন করুক না কেন তারা পরিত্রাণ পাবে। ঈশ্বর বলেন, এরকম অন্ধ বিশ্বাস দ্বারা আমরা কখনই পরিত্রাণ পেতে পারিনা। অন্য দিকে তিনি আমাদের বলেন যে, যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস ছাড়াই পরিত্রাণ পেয়েছে বলে দাবি করে, তারা ব্যবস্থাহীনতার মধ্যে পড়েছে।



আত্মার নূতন জন্ম হয়, মাংসের নয়


 যীশু মানুষের বেশে এই পৃথিবীতে এসে জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা আমাদেরকে পরিত্রাণ দিয়েছেন। জাগতিক হিসাবে যীশুর পিতা যোষেব এক জন কাঠ মিস্ত্রী ছিল (মথি১৩:৫৫), এবং যীশু তাঁর পিতার অধীনে থেকে পরিবারের সেবা করেছে, ২৯ বছর বয়স পর্যন্ত কাঠ মিস্ত্রীর কাজ করছেন। কিন্তু যখন তাঁর বয়স ৩০ হল, তখন তিনি স্বর্গীয় কাজ করতে শুরু করেন, অর্থাৎ জনসম্মুখে তিনি স্বর্গীয় কাজের মাধ্যমে প্রকাশ হন।

 যেহেতু যীশুর জাগতিক এবং ঐশ্বরিক উভয় স্বভাবই ছিল, তেমনি নূতন জন্ম প্রাপ্ত ধার্মিকদের ও দুটি স্বভাব রয়েছে। আমাদের মাংসিক এবং আত্মিক স্বভার রয়েছে। সুতরাং আমরা নূতন জন্ম ছাড়াই কেউ যখন যীশুকে বিশ্বাস করে দাবী করে, তখনই সে লোক নূতন জন্ম প্রাপ্ত হয় না, তার মানে তার আত্মা নূতন জন্ম লাভ করে না। যদি কেউ আত্মার নূতন জন্ম ছাড়া যীশুতে বিশ্বাস করার দাবী করে, সে নিকদিমের মত মাংসে নূতন জন্ম লাভের চিন্তা রয়েছে, আসলে সে কখনই একজন নূতন জন্ম প্রাপ্ত ব্যক্তি নয়। যদিও যীশু নিজেই ঈশ্বর ছিলেন, তথাপি তিনি সমস্ত মাংসিক দূর্বলায় পূর্ণ একজন মানুষ ও ছিলেন। যেমন আমরা বলি, আমরা নূতন জন্ম প্রাপ্ত, তার মানে আমাদের আত্মা নূতন জন্ম লাভ করেছে, মাংসিক দেহ নয়।

 যদি যেনতেন ভাবে যীশুতে বিশ্বাস করার মাধ্যমে নূতন জন্ম লাভ করত, তাহলে আমি একজন খুব সদাশয় পাস্টর হিসাবে পরিছিত হতাম। কেন? কারণ যারা সত্যে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য আমাকে তাহলে এতটা দৃঢ় হতে না, এবং সে জন্য ঈশ্বরের বাক্যের সত্যতা জানাতে আমার উপদেশ গুলোতে আমাকে এতটা নিরাস হতে হত না। তাহলে আমি একজন ভদ্র, বিনয়ী, সদশয়, মৃদু এবং হাস্যরস পূর্ণ পাস্টর হতে পারতাম, মানুষ কি মাংসে পবিত্র হতে পারে তা ব্যাখ্যা করতে পারতাম। এইভাবে আমি আমার প্রভাবকে সৌন্দর্যময় করতে পারতাম। কিন্তু আমি তা কখনই করি না। তার মানে এই নয় যে, আমি আপনার মনে এই প্রভাব বিস্তার করতে পারব না যে, “এই পাস্টর সত্য যীশুর মত পবিত্র এবং করুণাবিষ্ট।” কারণ মাংসিত দেহ পরিবর্তিত হতে পারে না, সামান্নতম দয়ালু সদাশয় এবং করুণাবিষ্ট হলেই এটা প্রমাণিত হয় না যে, সেই মাংসিক দেহ ধারী মানুষটি নূতন জন্ম পেয়ে ধার্মিক হয়েছে। মাংসে কেউ নূতন জন্ম লাভ করতে পারে না। মানুষের আত্মিক সত্ত্বাই ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাসের মাধ্যমে নূতন জন্ম লাভ করে।

যখন আপনি যীশুতে বিশ্বাস করবেন, তখন আপনাকে অবশ্যই এই সত্য মানতে হবে যে, “তোমরা সেই সত্য জানিবে, এবং সেই সত্য তোমাদিগকে স্বাধীন করিবে” (যোহন ৮:৩২)। ঈশ্বরের সত্যই কেবলমাত্র আমাদেরকে নূতন জন্ম দিতে পারে, পাপের দাসত্ব থেকে আমাদেরকে মুক্ত করতে পারে এবং নূতন জন্ম দানের মাধ্যমে ধার্মিক করতে পারে। যখন আমরা সঠিকভাবে বাইবেলের বাক্য প্রচার করতে পারি এবং তাতে বিশ্বাস করতে পারি, কেবলমাত্র তখনই আমরা পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারি, এবং যথাযথ বিশ্বাসে বেঁচে থাকতে পারি, এমনকি মহা পবিত্র স্থানে অনুগ্রহ সিংহাসনের সামনে উপস্থিত হতে পারি। জল ও আত্মার সুসমাচারের আমাদের আত্মাকে নূতন জন্ম দান করে এবং এই বিশ্বাস দ্বারাই আমরা সমস্ত পাপ থেকে ক্ষমা পাই এবং বিশ্বাসে ঈশ্বরের সাথে জীবন-যাপন করতে পারি। আমাদের হৃদয়ে অবস্থিত জল ও আত্মার সুসমাচার আমাদেরকে ঈশ্বরের নূতন জন্ম প্রাপ্ত সন্তান হতে সক্সম করে এবং পভুর সাথে সুখে গৌরব উজ্জল জীবন-যাপন করতে সাহায্য করে।

 অন্ধভাবে যীশুতে বিশ্বাস করা সঠিক বিশ্বাস নয়। মানবীয় দৃষ্টিতে দেখলেও আমি আমার অনেক অধার্মিতা দেখতে পাই। আমি শুধু আমার কথা বার্তার বিষয়ই বলছিনা, কিন্তু যখন যা কিছু করতে যাই, আমি বুঝতে পারি যে, আমার অনেক পাপ রয়েছে, যেমন যখন আমি বিশ্বাসীগণের জন্য এবং প্রভুতে আগত নূতন সন্তানগণের উদ্দেশ্যে কথা বলার জন্যপ্রস্ততি নেই, তখন আমি চাই যেন, ঈশ্বরের বাক্যদ্বারা তাদের হৃদয় অনুগ্রহে পরিপূর্ণ হয়, তারা যেন নূতন জন্ম লাভ করার আশীর্বাদ পায়, যেন তার দেহে এবং মনে শান্তি নিয়ে ফিরে যেতে পারে; তখন আমি দেখতে পাই যে, আমার প্রস্ততিতে অনেক ত্রুটি ছিল যা আমি পূর্ব থেকে সংশোধন করতে পারিনি। অথচ সেইসব বিষয়ে আর সামান্য একটু মনোযোগ দিলেই আরও সুন্দর করা যেত, কিন্তু প্রস্ততির সময়ের শেষ মুহুর্তে, অর্থাৎ বক্তৃতার ঠিক পূর্ব মুহুর্তে এই ত্রুটিগুলো আমার কাছে ধরা পড়ে। আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই, কেন এই চিন্তা আমার মাথায় এলোনা, কেন আমি আগেথেকেই প্রস্ততি নিলামনা; তাহলে সেমিনারে আগত বিশ্বাসীগণ এবং আগত নূতনেরাও আরও যথাযথভাবে ঈশ্বরের বাক্য শুনতে পেত, অনেকে পরিত্রাণ পেত এবং তারা একটা ভাল সময়ে অতিবাহিত করতে পারত। তাছাড়াও সারা দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করার কারণে আমরা পরিশ্রমের যথার্ত ফল পাইনা। নিজের সম্বন্ধে আমি সজ্ঞান যে, আমরা অনেক দুবর্লতা রয়েছে।

“কেন আমি এটা করতে পারিনা ? কেন আমি বিষয়টি আগে চিন্তা করলাম না? আমরা শুধুমাত্র আর একটু মনোযোগী হলেই হত, তবু কেন আমি তা করতে পারিনা?” যখন আমি সঠিকভাবে সুসমাচারের কজে করতে যাই, তখনই আমার দুবর্লতাগুলো দেখতে পাই। সুতরাং আমি নিজেকে বুঝতে পারি, এবং স্বীকার করি, “এই- ই আমি। এই-ই আমার দক্ষতা!” আমি এটা শুধু কথার কথা বলছি, কিন্তু এর দ্বারা আমি যে নিজেকে বিনয়ী দেখাতে চাচ্ছি তাও নয়, কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে আমি এমনই এক ব্যক্তি যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়গুলোকেও সঠিকভাবে শেষ করতে পারিনা, বরং প্রায়ই এলো মেলো করে ফেলি। নিজের দিকে তাকালে আমি অনেক দুবর্লতা দেখতে পাই।



নীল সুতার বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা পবিত্রতা লাভ করি


মানুষ যখন নিজের দিকে তাকায়, তখন বুঝতে পারে যে, শুধু ভুল করা ছাড়া-ভাল কিছু করতে পারেনা। যখন বাস্তবভাবে কোন কাজ করতে যায় তখন মানুষ তার সত্যিকারের দক্ষতা এবং দুবর্লতাগুলো প্রকাশ পায়। তারা বুঝতে পারে যে, তারা সত্যিই অসম্পূর্ণ এবং পাপ ও ভুল করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনা। এমনকি যখন মানুষ মনে করে যে, সেভাল কিছু করছে, তখন সে এই ভাবনা দ্বারা নিজের সাথে প্রতারনা করে, ভাবে যে, তার বিশ্বাস এতভাল যে, সে অবশ্যই ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে।

কিন্তু মাংস কখন ও পরিবর্তন হয় না। ক্রটি বিচ্যুতি ছাড়া কোন মাংসময় দেহ নাই, মাংস সব সময় ভুল করে, এবং নিজের অধর্মতা প্রকাশ করে। যদি কোন কারণে আপনার এই চিন্তা থাকে যে, মাংসিক কোন ভাল কাজের কারণে আপনি আমাদের প্রভুর রাজ্যে প্রওবশ করতে পারেন, আপনাকে অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে যে, মাংস যত ভাল কাজই করুক না কেন তার দ্বারা কোন লাভ নাই। ঈশ্বরের দৃষ্টিতে তা সম্পূর্ণরূপে মূল্যহীন। একমাত্র যে বিষয়টি আমাদের ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে, তাহল সত্যের বাক্যে বিশ্বাস। অর্থাৎ নীল সুতা বেগুনী এবং লাল সুতা যা দ্বারা প্রভু আমাদের পরিত্রাণ করেছেন। কারণ নীল, বেগুনী এবং লাল সুতা দ্বারা প্রভু আমাদের পরিত্রাণ করেছেন এবং সেই বিশ্বাস দ্বারা আমরা পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারি।

ঈশ্বর যদি নীল বেগুনী এবং লাল সূতা দ্বারা আমাদের উদ্ধার না করতেন, তাহলে আমরা কখনই পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারতাম না। আমাদের বিশ্বাস যত দৃঢ়ই হোক না কেন, আমরা কখনই সেখানে প্রবেশ করতে পারতামনা। কেন? কারণ, যদি তাই হত, তাহলে সেই স্থানে প্রবেশ করার জন্য আমাদের মানবীয় বিশ্বাসই যথেষ্ট ছিল। আমরা প্রতিদিন বিশ্বাসে দঢ় আছি, শুধুমাত্র এই কারণেই যদি আমরা ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারতাম, তবে আমাদের মাংসের দূবর্লতা নিয়ে কিভাবে আমরা প্রতিদিন আমাদের বিশ্বাস দৃঢ় রাখতে পারতাম, এবং সেখানে প্রবেশ করতে পারতাম? নিজের চেষ্টাই পাপের ক্ষমার যখন কোন উপায় নেই, এবং প্রতিদিনের পাপ থেকে ফেরারমত যথেষ্ট বিশ্বাস যখন আমাদের নেই, তখন ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করার মত বিশ্বাস আমরা কিভাবে ধরে রাখতে পারি? আমাদের দেহ শুরু থেকেই পাপহীন পবিত্র দেহ হতে পারত, অথবা প্রতিদিন আমরা উপবাস এবং অনুতাপের প্রার্থনা করতে পারতাম, অথবা প্রতিদিন আমরা উপবাস এবং অনুতাপের প্রার্থনাও যদি করতে পারতাম; কিন্তু কারো দেহ কি কখনো এভাবে পবিত্র হয়েছে? কেউ কি কখনো এমন করতে পেরেছে?

ঈশ্বর যদি আমাদের নীল, বেগুনে ও লাল সূতার দ্বারা উদ্ধার না করতেন, তাহলে, আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারতাম। আমরা এমন যে, এই মুহূর্তে আমাদের বিশ্বাস কিন্তু পরক্ষণেই আবার আমরা বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি। প্রতি মুহূর্তে যেহেতু আমাদের বিশ্বাস পরিবর্তন হয়, তাই প্রায়ই আমরা এই ভেবে দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ি যে আসলেই আমার প্রকৃত বিশ্বাস আছে কি না এবং এভাবে অনেক সময় প্রথম বিশ্বাসকেও আমরা হারিয়ে ফেলি। শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রথম দশা থেকে শেষ দশা আরো মারাত্মক হয়। কিন্তু আমাদের মত দূর্বল পাপীদেরকে নীল, বেগুনে, লাল এবং মিহি মসীনা সূতায় প্রকাশিত সঙ্কল্প দ্বারা যথার্থই পরিত্রাণ করেছেন। তিনি আমাদের পাপের ক্ষমা দিয়েছেন। 

যখনই আমাদের এই নিশ্চয়তা থাকে, তখন আমরা মহাযাজকের মত মাথায় “ঈশ্বরের উদ্দেশে পবিত্রতা”-এই সুবর্ণ শিরোস্ত্রাণ ধারন করতে পারি (যাত্রাপুস্তক ২৮:৩৬-৩৮)। তখনই আমরা যাজকত্ব পালন করতে পারি। যাজক হিসাবে যারা প্রভুর কাজ করার সময় “ঈশ্বরের উদ্দেশে পবিত্রতা” এই সাক্ষ্য বহন করতে পারে, তারা জল ও আত্ম সুসমাচারের মাধ্যমে পাপের ক্ষমা পেয়েছে।

মহাযাজকের পাগড়িতে যে স্বর্ণের পাতটি ছিল, তার পাগড়ির সাথে নীল সূতা দ্বারা বাঁধা থাকত। তাহলে কেন ঈশ্বর পাগড়িটি নীল সূতা দ্বারা বাঁধতে বললেন? নীল সূতা দ্বারা আমাদেরকে উদ্ধার করা প্রভুর প্রয়োজন ছিল, এবং এই নীল সূতা যীশুর বাপ্তিস্মের নিদর্শন- যা দ্বারা তিনি আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছিলেন। নূতন নিয়মে বাপ্তিস্ম দ্বারা যীশু যদি নিজের উপরে আমাদের পাপ তুলে নিয়ে তা মুছে না দিতেন, যা ছিল পুরাতন নিয়মে হস্তার্পণের অনুরূপ, তাহলে যীশুতে আমাদের বিশ্বাস যত দৃঢ় হোক না কেন, আমরা যিহোবার কাছ থেকে পবিত্রতা লাভ করতে পারতাম না। এই জন্য সোনার পাতটি পাগড়ির সাথে নীল সূতা দ্বারা বাঁধা ছিল। তাই যখন কেউ “ঈশ্বরের উদ্দেশে পবিত্রতা” খুঁচিত মহাযাজকের মাথায় দেখত, তখন তাদের মনে পড়ত যে, পাপের ক্ষমা পেয়ে পবিত্র হয়ে তাকে ঈশ্বরের সম্মুখে উপস্থিত হতে হবে। এবং এটা মনে করিয়ে দিত কিভাবে তারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে পবিত্র হবে।

আমাদেরও স্মরণ করা উচিত কিভাবে আমরা ধার্মিক হলাম। আমরা কিভাবে ধার্মিক হয়েছি? আসুন, মথি ৩:১৫ পদ পড়ি, “কিন্তু যীশু উত্তর করিয়া তাঁহাকে (যোহনকে) কহিলেন, এখন সম্মত হও, কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত। তখন তিনি তাঁহার কথায় সম্মত হইলেন।” বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে যীশু আমাদের সকলকে পাপ থেকে উদ্ধার করেছেন। কারণ, যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছিলেন, যারা একথা বিশ্বাস করে, তারা পাপহীন। যীশু যদি বাপ্তাইজিত না হতেন, তাহলে আমরা কোন সাহসে নিজেদের পাপহীন বলতে পারতাম? আপনি কি আপনার বিশ্বস্ত চোখের জল দ্বারা আপনার পাপ স্বীকার করে শুধুমাত্র যীশুর ক্রুশীয় মৃত্যুতে বিশ্বাসের মাধ্যমে আপনার পাপের ক্ষমা পেয়েছেন? এমন অনেকে আছে যারা যীশুর মৃত্যুকে স্মরণ করে চোখের জল ফেলতে পারে না, তারা তাদের পূর্বপূরুষদের স্মরণ করার মাধ্যমে, নিজেদের অতীতের কষ্ট বা অসুস্থতা স্মরণ করে খুব কষ্টে চোখের জল বের করার চেষ্টা করে। এভাবে বা যীশুর ক্ৰুশীয় মৃত্যু স্মরণ করে আপনি যদি সত্যিই কাঁদেন, তাতেও আপনার পাপ মুছে যাবে না।

যেমন মহাযাজকের মাথায় “ঈশ্বরের উদ্দেশে পবিত্রতা” –লেখা সোনার পাতটি নীল সূতা দ্বারা বাঁধা ছিল, যা দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ মুছে দেয়। যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন, এজন্য আমরা পাপের ক্ষমা পেয়েছি; যেহেতু যিহোবা তাঁকে আমাদের পাপের ভারগ্রস্থ করেছেন, যেহেতু জগতের সমস্ত পাপভার বাপ্তিস্মের মাধ্যমে তাঁর উপরে অর্পিত হয়েছে। আমরা আবেগে যতই আপ্লুত হই না কেন, আমরা নিজেদের কাজে যতই দূর্বল হই না কেন, আমরা বাইবেলে লিখিত নীল সূতার দ্বারা ধার্মিক হয়েছি। নিজেদের মাংসের দিকে তাকালে আমাদের শ্লাঘা করার মত কিছুই থাকে না, কিন্তু যেহেতু হৃদয়ে নীল, বেগুনে, লাল এবং মিহি মসীনা সূতার বিশ্বাস রয়েছে, যেহেতু আমরা জল ও আত্মার সুসমাচার সম্পর্কে জানি,- যা আমাদের বলে যে যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন এবং সেই পাপ নিয়ে ক্রুশে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাই আমরা নির্ভয়ে সাহসের সাথে সুসমাচার প্রচার করতে পারি। যেহেতু আমাদের জল ও আত্মার সুসমাচার রয়েছে যেন আমরা ধার্মিক জীবন-যাপন করতে পারি এবং বিশ্বাসের সুসমাচার অন্যের কাছে প্রচার করতে পারি।

প্রভুর অনুগ্রহের জন্য আমরা তাঁর ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করতে পারি না। আমাদের পরিত্রাণ এলোমেলো ভাবে আসে নি, তাই আমরা আরও বেশি কৃতজ্ঞ। যে পরিত্রাণ আমরা পেয়েছি তা এমন ব্যাপার নয় যে, যে কেউ যে কোন ভাবে বিশ্বাস করলেই সে পরিত্রাণ পেতে পারে। কেউ যদি নিজের তালে প্রভুকে বারবার “হে প্রভু, হে প্রভু” বলতেই থাকে তার মানে এই নয় যে, এই ভাবে সে পরিত্রাণ পাবে। কারণ আমাদের প্রমাণ রয়েছে যে, জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা আমাদের পাপ দূর হয়ে গেছে, নীল, বেগুনে, লাল এবং মিহি মসীনা সূতার দ্বারা পুংখানুপুংখরূপে প্রভু আমাদের উদ্ধার করেছেন; এই মহা পরিত্রাণের জন্য আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।

বাইবেল আমাদের বলে যে, যীশু খ্রীষ্টকে যারা ঈশ্বরের পুত্র হিসাবে বিশ্বাস করে, তাদের হৃদয়ে এই সাক্ষ্য রয়েছে (১ যোহন ৫:১০)। আমাদের হৃদয়ে যদি এই সাক্ষ্য না থাকত, তবে আমরা ঈশ্বরকে মিথ্যাবাদী করি, তাই আমাদের প্রত্যেকেরই হৃদয়ে এই সাক্ষ্য অবশ্যই থাকতে হবে। তেমনি ভাবে কেউ যদি এই বলে আপনাকে চ্যালেঞ্জ করে, “তুমি যে পরিত্রাণ পেয়েছ তা আমাকে প্রমাণ দেখাও। তুমি বলছ যখনই কেউ পাপের ক্ষমা পায় তখনই সে পবিত্র আত্মারূপ দান পায় এবং সেটাই পরিত্রাণের সুস্পষ্ট প্রমাণ। আমাকে তার প্রমাণ দেখাও,”- তাতে পিছু হটবার কিছু নাই। আপনি সাহসের সাথে এই প্রমাণ দেখাতে পারেন, “আমার হৃদয়ে জল ও আত্মার সুসামচার রয়েছে, যার দ্বারা প্রভু আমাকে সম্পূর্ণরূপে উদ্ধার করেছেন। যেহেতু আমি যথার্থ ভাবে তাঁর দ্বারা উদ্ধার পেয়েছি, তাই আমার কোন পাপ নাই।”

আপনার হৃদয়ে যদি পরিত্রাণের প্রমাণ না থাকে, তাহলে আপনি পরিত্রাণ পান নাই। যত আন্তরিকভাবে মানুষ যীশুকে বিশ্বাস করুক না কেন, তার দ্বারা তার পরিত্রাণ হয় না। এটা কেবলমাত্র একটি অপার প্রেম। এটা এমন প্রেম যা অন্য লোকের চিন্তার তোয়াক্কা করে না। যে ব্যক্তি তোষামদকারী প্রেম দ্বারা আমাদের ভুলাতে চায়, যেন প্রেমের কারণে মরেই যাবে, বিনিময়ে তাকে আমরা প্রেম করতে পারি না। তেমনি ভাবে যারা এখনো পাপের ক্ষমা পায় নি, তারা যদি ঈশ্বরের উদ্দেশে প্রেম দেখানোর জন্য তড়পায়, তারা কখনো ঈশ্বরের বাহুর নিচে ঠাই পাবে না। কারণ ঈশ্বরের প্রতি এ ধরণের প্রেম অলীক ছাড়া কিছুই না।

আমরা যদি ঈশ্বরকে প্রেম করি, অবশ্যই তাঁর সত্যের বাক্যের বিশ্বাস দ্বারা করব। ঈশ্বরের প্রতি আমাদের ভালবাস কখনো পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে না। আমরা অবশ্যই তাঁর প্রতি ভালবাসার কথা বলব, কিন্তু তার পূর্বে আমাদের অবশ্যই জানতে হবে তিনি আমাদের ভালবাসেন কি-না। যারা আমাদের ভালবাসে না, আমরা যদি তাদের প্রতি আমাদের সমস্ত ভালবাসা দেখাই, শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে যে আমাদের হৃদয় ভেঙ্গে গেছে। 

প্রভু আমাদেরকে পাপ থেকে মুক্ত হওয়ার পরিত্রাণের বস্ত্রে সজ্জিত করেছেন যেন আমরা আর দোষীকৃত না হই। তিনি আমাদের স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করার এবং তাঁর সাথে বাস করার অধিকার দিয়েছেন এবং এমন অনুগ্রহ দিয়েছেন যাতে আমরা পাপের ক্ষমা পাই। ঈশ্বরের পরিত্রাণ দ্বারা আমরা স্বর্গের অসংখ্য আত্মিক আশীর্বাদ লাভ করেছি। অন্য কথায়, এই পরিত্রাণের দ্বারা আমরা তাঁর সমস্ত স্বর্গীয় আশীর্বাদ লাভ করেছি।



যীশু স্বয়ং যে পরিত্রাণ আমাদের দিয়েছেন


নীল, বেগুন এবং লাল সূতা দ্বারা প্রভু আমাদের উদ্ধার করেছেন। তিনটি ভিন্ন সূতায় নিহিত পরিত্রাণের সত্য দ্বারা তিনি আমাদের উদ্ধার করেছেন।এই নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার পরিত্রাণ ঈশ্বর আমাদের দিয়েছেন। এটা পরিত্রাণের এমনই অনুগ্রহ যা দ্বারা আমরা পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে এবং বসবাস করতে পারি।

 জল ও আত্মার সুসমাচারের মাধ্যমে আপনি এবং আমি ধার্মিক হয়েছি। এর দ্বারা আমরা ঈশ্বরের মন্ডলীতে যুক্ত হতে পেরেছি এবং বিশুদ্ধ জীবন-যাপন করতে পারছি। এবং এই প্রকৃত সুসমাচার দ্বারা আমরা ঈশ্বরের আত্মিক বাক্যের পরিচর্যা পাচ্ছি এবং তাঁর অনুগ্রহ পাচ্ছি। এর দ্বারা আমরা তাঁর অনুগ্রহ- সিংহাসনের সম্মুখে উপস্থিত হতে পারছি, প্রার্থনা করতে পারছি এবং এমন বিশ্বাস অর্জন করতে পারছি যার দ্বারা আমরা ঈশ্বরের প্রচুর অনুগ্রহকে নিজের করতে পারছি। কেবলমাত্র আমাদের পরিত্রাণের মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের আশীর্বাদগুলোকে নিজের করে নিতে পারছি। এই জন্য পরিত্রাণ এত মূল্যবান।

যীশু বলেছেন আমরা যেন পাষানের উপর আমাদের বিশ্বাসের ঘর বাঁধি (মথি ৭:২৪)। এই পাষান হলো জল ও আত্মার সুসমাচারের মাধ্যমে লাভ করা পরিত্রাণ। তেমনি ভাবে আমরা সকলেই আমাদের পরিত্রাণের জীবন বিশ্বাসে যাপন করব, ধার্মিক হব, পরিত্রাণের জীবন উপভোগ করব এবং পরিত্রাণের মাধ্যমেই স্বর্গে প্রবেশ করব।

 শেষকাল আসন্ন। এই যুগে তাই যথার্থ বাক্য দ্বারা মানুষের উদ্ধার পাওয়া উচিত। অনেকে আছে যারা বলে যে, নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার বিশ্বাস ছাড়াই যে কোন ভাবে যীশুকে বিশ্বাস করলেই পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব; বিশ্বাসের জীবনের কথা না বললেও চলবে, কারণ এই ভাবে পরিত্রাণ পাওয়াই যথেষ্ট।

যাহোক, কেন আমি বারবার এই একই কথা বলছি, তার কারণ হল এই যে, যারা হৃদয়ে পাপের ক্ষমা পেয়েছে, তারা ঈশ্বর অনুমোদিত বিশ্বাসের জীবন-যাপন করতে পারে। কারণ যারা পাপের ক্ষমা পেয়ে ধার্মিক হয়েছে, তাদরে হৃদয়ে পবিত্র আত্মা বাস করেন, তাদেরকে বিশ্বাসে জীবন-যাপন করতে হবে যেন তাদের পবিত্রতা কলুষিত না হয়।

 ধার্মিকদের জীবন-ধারা এবং পাপীদের জীবন-ধারা সম্পূর্ণ বিপরীত। ঈশ্বরের দৃষ্টিতে পাপীদের জীবন-যাপন প্রণালী তাঁর মাপকাঠির সম্পূর্ণ বাইরে। তাদের জীবন কপটতায় পূর্ণ। তারা ব্যবস্থা অনুযায়ী জীবন-যাপন করার জন্য কঠোর পরিশ্রত করে। তারা নিজেদের মাপকাঠি নিজেরাই নির্ধারণ করে, কিভাবে তারা বাঁচবে, কিভাবে কথা বলবে বা কিভাবে হাসবে।

 কিন্তু তা ধার্মিকদের জীবন প্রণালী থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঈশ্বর ধার্মিকদের বিশদভাবে বলেন, “তোমার সমস্ত চিত্ত এবং শক্তি দিয়ে তোমার ঈশ্বর প্রভুকে প্রেম করবে এবং প্রতিবেশীকে নিজের মত প্রেম করবে।” ধার্মিকদের জন্য এটাই ঈশ্বরের দেওয়া জীবন-ধারা। আমাদের মত ধার্মিকদের উচিত সমস্ত হৃদয় দিয়ে ঈশ্বরকে প্রেম করা এবং সমস্ত শক্তি এবং ইচ্ছা দিয়ে তাঁর সংকল্প অনুসরন করা। এবং প্রতিবেশীকে রক্ষা করার জন্য আমাদের প্রচুর ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। এটাই খ্রীষ্টিয়ানের জীবন।

যদি আমরা এমন স্তরে জীবন-যাপন করি যে, আমরা পাপ না করি তাই যথেষ্ট তাহলে আমরা নূতন জন্ম প্রাপ্ত খ্রীষ্টিয়ান জীবন- যাপন করতে পারি না। নূতন জন্ম পাওয়ার আগে আমি একটি রক্ষণশীল প্রেসবিটারিয়ান সম্প্রদায়ের মাঝে ব্যবস্থা অনুসারে জীবন- যাপন করেছি এবং যেহেতু সেই জীবন ব্যবস্থা অনুসারী ছিল, তাই আমি নিখুঁতভাবে ব্যবস্থা পালন করার চেষ্টা করেছি। আজকাল মানুষ আর তেমন করতে চায় না, কিন্তু আমি যেহেতু অনেক আগে থেকেই ধর্মীয় জীবন-যাপন করতে চাচ্ছিলাম, তাই আমি খুব নিখুঁতভাবে দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থা অনুযায়ী যাপন করছিলাম। আমি ব্যবস্থার এতটাই বাধ্য ছিলাম যে, প্রভুর দিনে আমি কোন কাজ করতাম না, যেহেতু ব্যবস্থায় বিশ্রামবারকে পবিত্র ভাবে পালন করতে বলা হয়েছে। তাই আমি রবিবারে গাড়িতে পর্যন্ত চড়তাম না। যদি আমি চাই যে, আমি যেমন জীবন-যাপন করতাম, আপনিও তেমন করবেন, তাহলে হয়তো এমন কাউকেই পেতাম না যে, এতটা ব্যবস্থা অনুযায়ী চলতে পারে। নূতন জন্ম লাভ করার আগে আমার জীবন এ রকম ব্যবস্থা অনুযায়ী ছিল। কিন্তু আমি কতটা ধার্মিকভাবে জীবন-যাপন করছিলাম সেটা বিষয় নয়, ঈশ্বরের সংকল্পের সাথে তার কোন সম্পর্ক ছিল না এবং তার কোন মূল্য ছিল না।

পাঠক, আপনার কি নীল, বেগুনে ও লাল সূতার বিশ্বাস আছে? কারণ এই তিন সূতার মধ্যেই যীশুর পরিত্রাণ নিহিত, যার দ্বারা আমরা বিশ্বাসে পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারি। ২০০০ বছর আগে আমাদের পরিত্রাণ সাধিত হয়েছে। আমরা এই পৃথিবীতে আসার অনেক পূর্বেই যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছিলেন এবং সেই পাপের কারণে আমাদের স্থলে ক্রুশে বিচারিত হয়েছিলেন।



যীশু খ্রীষ্টের মধ্যেই পাপ থেকে পরিত্রাণ নিহিত


যারা নূতন জন্ম প্রাপ্ত নয়, তারা সমাগম তাম্বুর দরজা দিয়ে প্রবেশ না করে অবৈধ ভাবে দেওয়াল টপকায়। তারা বলে, “বেষ্টনির মিহি মসীনা সূতা এত শুভ্র কেন? এটা ভয়ানক অসহ্য। তারা তো নীল এবং লাল রং দিয়ে এটা করতে পারত? বর্তমান সময়ে সেটাই খুব প্রচলিত। এটা চোখে খুব লাগে! এর দৈর্ঘ্য ২.২৫ মিটারেরও বেশি। আমার নিজের দৈর্ঘ্য ২ মিটারও নয়; বেষ্টনী এত উঁচু হওয়াতে আমি কিভাবে ভিতরে প্রবেশ করতে পারি? ঠিক আছে, আমি মই ব্যবহার করব।”

 এই জাতীয় লোকেরা ভাল কজের মাধ্যমে ভিতরে প্রবেশ করতে চায়। তাদের দান ধ্যান, দাতব্য কাজ এবং ধৈর্য দ্বারা সমাগম তাম্বুর বেষ্টনি লাফিয়ে ডিঙ্গাতে চায়, বলে, “আমি নিশ্চিতভাবেই ২.২৫ মিটার লাফাতে পারি।”সূতরাং লাফিয়ে সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে তারা পিছনে ফিরে তাকায় এবং হোমার্থক বলির বেদি দেখতে পায়। তখন তারা বেদি থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে পবিত্র স্থানের দিকে তাকায় এবং প্রথম যে জিনিসটা তারা দেখতে পায় তাহল এর সামনে অবস্থিত প্রক্ষালন পাত্র।

সমাগম তাম্বুর বেষ্টনির স্তম্ভের উচ্চতা ২.২৫ মিটার, কিন্তু পবিত্র স্থানের স্তম্ভের উচ্চতা এবং এর দরজার যবনিকার উচ্চতা ৪.৫ মিটার। দৃঢ় ইচ্ছা থাকলে মানুষ সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারে, কিন্তু যদিও তারা বেষ্টনির ২.২৫ মিটার লাফিয়ে ডিঙ্গাতে পারে এবং প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারে, তথাপি যখন তারা ঈশ্বরের আবাসে প্রবেশ করতে চায়, তখন তাদের পবিত্র স্থানের স্তম্ভের এবং দরজার পর্দার ৪.৫ মিটার উচ্চতা সম্বন্ধে চিন্তা করতে হয়। নিজের চেষ্টায় মানুষ ২.৫ মিটার লাফাতে পারে, কিন্তু তারা ৪.৫ মিটার লাফাতে পারে না। এখানেই তাদের সীমাবদ্ধতা।

 এর মানে এই যে, প্রথম যখন আমরা যীশুতে বিশ্বাস করি, আমরা একটি সাধারণ ধর্ম হিসাবে বিশ্বাস করি। অনেকে আছে যারা নিজের ইচ্ছায় যীশুকে ত্রাণকর্তা হিসাবে বিশ্বাস করে এবং মনে করে যে, এই ত্রাণকর্তা চারজন মহৎ ব্যক্তির মধ্যে একজন যেভাবেই বিশ্বাস করুক না কেন, মানুষ তার নিজের ইচ্ছায় বিশ্বাস করতে পারে, কিন্তু এই বিশ্বাস দ্বারা তারা প্রকৃত নূতন জন্ম লাভ করতে পারে না।

সত্যিকার অর্থে নূতন জন্ম লাভ করতে হলে তাদেরকে অবশ্যই নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার বিশ্বাস অতিক্রম করতে হবে। যীশু আমাদের ত্রাণকর্তা, সত্যের দ্বার স্বরূপ, জল এবং রক্ত এবং আত্মা দ্বারা তিনি আমাদের উদ্ধার করেছেন এবং বিশ্বাস দ্বারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে আমরা নূতন জন্ম লাভ করি। তিন সূতায় প্রকাশিত যীশুর সাধিত কাজের উপরে বিশ্বাস, অর্থাৎ জল, রক্ত ও আত্মার বিশ্বাস। অন্য কিছু বিশ্বাস করার স্বাধীনতা মানুষের আছে, কিন্তু সেই বিশ্বাস দ্বারা যে তারা উদ্ধার পাবে এমন কোন আশীর্বাদের নিশ্চয়তা নেই। জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারাই কেবল আমরা ঈশ্বরের অনুমোদন এবং তাঁর মহৎ পরিত্রাণের আশীর্বাদ লাভ করতে পারি। জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করার অর্থ হল ঈশ্বরের অনুগ্রহে সজ্জিত হওয়া।

 সমাগম তাম্বুকে আপনি কি একটি সাধারণ আয়তাকার স্থান হিসাবে মনে করেন, যার ভিতরে এই গৃহ দাঁড়িয়ে আছে? এতে আপনার বিশ্বাসের কোন উপকার হবে না। সমাগম তাম্বু আমাদের সম্পূর্ণ বিশ্বাসের কথা বলে এবং সেই বিশ্বাস কি তা আমাদের জানতে হবে।

সমাগম তাম্বুর সম্বন্ধে না জেনে আপনি মনে করতে যে এর বেষ্টনির উচ্চতা ২.২৫ মিটার। কিন্তু সেটা মূল বিষয় নয়। আমরা যদি সমাগত তাম্বুর ভেতরে প্রবেশ নাও করতে পারি, বাইরে থেকে যদি তাকাই তাহলে দেখতে পাব যে, বেষ্টনির চেয়ে তাম্বু দ্বিগুন উছু। যদিও আমরা তাম্বুর নিচের দিকে দেখতে পাব না, তথাপি এর দরজা স্পষ্ট দেখতে পাব, যার দ্বারা প্রকাশ পায় যে, প্রাঙ্গনের বেষ্টনির চেয়ে তাম্বু উচ্চতর।

যারা যীশুতে বিশ্বাসের মাধ্যমে পাপের ক্ষমা পেয়েছে এবং সেইভাবে সমাগম তাম্বু প্রাঙ্গণের দরজা দিয়ে প্রবেশ করেছে, তারা হোমার্থক বলির বেদি এবং প্রক্ষালন পাত্রের মাধ্যমে নিজেদের বিশ্বাস দৃঢ় করে এবং তারপর পবিত্র স্থানে প্রবেশ করে। পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই নিজেকে অস্বীকার করতে হবে। পবিত্র স্থানের বাইরের পাত্র গুলির চেয়ে এর ভিতরের পাত্রগুলির উজ্জলতা আরও বেশি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ হতে হবে।

আপনি কি শয়তান কোন জিনিসটা বেশি ঘৃণা করে? সে পবিত্র স্থানের ভিতরের অংশ এবং বাইরের অংশ পৃথককারী সীমানার দাগকে বেশি ঘৃণা করে। কারণ যারা পবিত্র স্থানের ভিতরের অংশ এবং বাইরের অংশ বিভক্ত করে, ঈশ্বর তাদের মাঝে কাজ করেন; কিন্তু শয়তান এই জাতীয় সীমানা নির্ধারণকে ঘৃণা করে এবং মানুষ যেন এই সীমানা তৈরী করতে না পারে নেই চেষ্টা করে। কিন্তু এটা মনে রাখবেনঃ যারা সীমানা নির্ধারণী দাগ টানে ঈশ্বর তাদের মাধ্যমে কাজ করেন। যারা এই ধরণের সীমানা নির্ধারণ করতে পারে, ঈশ্বর তাদের উপরে সন্তুষ্ট হন, এবং তিনি তাদের উপরে আশীর্বাদ ঢেলে দেন যেন তারা উজ্জল বিশ্বাসে পবিত্র স্থানের ভিতরে থাকতে পারে।

বিশ্বাস করুন যে, সমাগম তাম্বুর বাইরের সব পাত্র এবং উপাদান গুলো ঈশ্বর প্রস্তত করেছেন এবং সাজিয়েছেন যেন মানুষ পরিত্রাণ পায়। যখন আপনি এই বিশ্বাসে পবিত্র স্থানে প্রবেশ করবেন, ঈশ্বর আপনার উপরে আরও বেশি আশীর্বাদ ও অনুগ্রহ ঢেলে দিবেন।



অনুগ্রহ-সিংহাসন হল সেই স্থান যেখানে অনুগ্রহের পরিত্রাণ পাওয়া যায়


মহা পবিত্র স্থানে দুই করূব তাদের পাখা দিয়ে নিয়ম সিন্দুক ঢেকে রেখেছে। দুই করূবের মাঝখানের স্থানকে অনুগ্রহ-সিংহাসন বলা হচ্ছে। অনুগ্রহ-সিংহাসন হচ্ছে সেই স্থান, যেখানে ঈশ্বর আমাদের উপরে আশীর্বাদ ঢেলে দেন। নিয়ম সিন্দুকটি রক্তের আবরণ দ্বারা ঢাকা ছিল, যেহেতু মহাযাজক ইস্রায়েল জাতির জন্য উৎসর্গীকৃত বলিদানের রক্ত অনুগ্রহ-সিংহাসনের উপরে সাতবার ছিটিয়ে দিতেন। এবং ঈশ্বর এই ভাবেই অনুগ্রহ-সিংহাসনের উপরে এবং ইস্রায়েল জাতির উপরে আশীর্বাদ ঢেলে দিতেন। যারা এটা বিশ্বাস করে, তারা ঈশ্বরের আশীর্বাদ এবং পরিচালনা পায়। তখন থেকেই তারা ঈশ্বরের সন্তান হয় এবং পবিত্র স্থানে প্রবেশ করে।

বর্তমান খ্রীষ্টিয় জগতে এমন কিছু লোক আছে যারা তাদের বিশ্বাস দ্বারা পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারে, কিন্তু অন্যদের পবিত্র স্থানে প্রবেশ করার মত বিশ্বাস নেই। আপনার বিশ্বাস কেমন আমাদের সেই রকম বিশ্বাস থাকা উচিত যার দ্বারা আমরা পরিত্রাণের দাগ টানতে পারি এবং ঈশ্বরের পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারি এবং এই ভাবেই আমরা ঈশ্বরের মহাআশীর্বাদ পেতে পারি।

কিন্তু এই ধরণের বিশ্বাস সহজ বিষয় নয়। কারণ মানুষ যখন পরিত্রাণের সীমানা নির্ধারণ করে, শয়তান তখন বিষয়টি ঘৃণা করে এবং সে সীমানা মুছে ফেলতে চায়। “তোমাকে এভাবে বিশ্বাস করতে হবে না। অন্য সবাই এ রকম বিশ্বাস করে না, তাহলে কেন তুমি এর উপরে এত গুরুত্ব দিচ্ছ এবং বারবার উল্লেখ করছ? সহজভাবে নেও, স্রোতের সাথে গা ভাসিয়ে দেও।” এ কথা বলে শয়তান পরিত্রাণের স্পষ্ট দাগকে মুছে ফেলতে চায়। আপনি কি তেমন একজন হতে চান, যে শয়তানের প্রতারণায় বিশ্বাস করে ঈশ্বর থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায়? অথবা আপনি কি পরিত্রাণের কথা নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দিয়ে, মন্ডলীতে এক হয়ে, ঈশ্বরের বাক্য অনুসরন করে, প্রার্থনার জীবন-যাপন করার মাধ্যমে ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করতে চান?

বাস্তবিক, যারা পাপের ক্ষমা পেয়েছে, তারা নিজেকে বারবার সেই কথা মনে করিয়ে দেয়। তারা সবসময় জল ও আত্মার সুসমাচারে নির্ভর করে বাঁচতে চায় সুসমাচার সম্পর্কে ধ্যান করা আপনার জন্য ভাল এবং অত্যাবশ্যক। আপনি কি তেমন নয়? “ভগবান ! সেই পুরানো গল্প আবার? গল্পের উপাদান এবং বিষয়বস্তু ভিন্ন হওয়া উচিত, কিন্তু সেই একই বিষয় দেখছি। আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি!”

এমন কেউ কি আছে যে এমন কথা বলতে পারে? নিজের সম্বন্ধে আমার প্রতিদিন একই গল্প বলতে হলে আমি দুঃখিত হতাম, কিন্তু বাইবেল আমাদের বলে যেন আমরা বারবার পরিত্রাণের কথা বলি, আমি কি করতে পারি? পুরাতন এবং নূতন উভয় নিয়মে জল ও আত্মার সুসমাচারের কথা বলা হয়েছে। ঈশ্বরের দৃষ্টিতে যা মন্দ, এ ছাড়া মানুষের জন্য প্রচার করার কথা বলা হয়েছে। ঈশ্বরের দৃষ্টিতে যা মন্দ, এ ছাড়া মানুষের জন্য প্রচার করার আর কিছু নাই। সারা বাইবেলে জল ও আত্মার সুসমাচারের কথা বলা হয়েছে। “পরিত্রাণ, বিশ্বাসের জীবন, বিশ্বাস, আত্মিক জীবন, শয়তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, স্বর্গ, গৌরব, অনুগ্রহ, আশীর্বাদ, পুনরুত্থান, অনন্ত জীবন, প্রত্যাশা এবং পিবত্র আত্মা-” এই সবই প্রকৃত সুসমাচারের মূল বিষয়বস্তু। এ ছাড়া অন্য কিছু বলা কপটতা ও ভ্রান্ত শিক্ষা। যেসব সুসমাচার বাহ্যিক ভাবে একই রকম মনে হয় কিন্তু ভিতরে জল ও আত্মার সুসমাচার থেকে ভিন্ন, তা ভ্রান্ত সুসমাচার।

এটা কত আনন্দের বিষয় যে, ঈশ্বরের মন্ডলী প্রতিদিন ভ্রান্ত শিক্ষার পরিবর্তে ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করছে! ঈশ্বরের মন্ডলীতে এক হয়ে ঈশ্বরের বাক্য শ্রবণ করা এবং তাতে বিশ্বাস করা একটি আশীর্বাদ। প্রতিদিন জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করার মাধ্যমে ঈশ্বরের সন্তানগণ প্রতিদিন ঈশ্বরের অনুগ্রহ স্মরণ করতে পারে, তার কাছে প্রার্থনা করতে পারে, তাঁকে গৌরব দিতে পারে এবং এমন জীবন-যাপন করতে পারে যা মন্দের প্রতি লালায়িত নয়। সে সত্যের বাক্যের মাধ্যমে আপনি পরিত্রাণ পেয়েছেন, সেই বাক্য বারবার স্মরণ করার মাধ্যমে আপনি কি খুশি হন না? আমিও খুব খুশি হই। 

 জল ও আত্মার সুসমাচার ছাড়া আমি যদি অন্য কিছু প্রচার করতে বাধ্য হতাম, তাহলে আমাকে অনেক কষ্ট ভোগ করতে হত। যদি পরিত্রাণের বাক্য ছাড়া মানুষের চিন্তাপ্রসূত অন্য কিছু আমাকে প্রচার করতে হত, তাহলে আমি পালিয়ে বাঁচতাম। অবশ্য তার মানে এই নয় যে, আমি অন্য কিছু বলতে পারি না। মানুষের জীবনের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ের উপরে আমি কথা বলতে পারি, কিন্তু তা একেবারেই অনর্থক এবং আমরা যারা নূতন জন্ম পেয়েছি, আমাদের জন্য তা সাধারণ শিক্ষার মত মিশ্র।

কেবলমাত্র জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা যীশু, যিনি স্বয়ং ঈশ্বর, ঈশ্বরের বাক্য আমরা যত বেশি আলোচনা করি তত বেশি এর মিষ্টতা উপলব্ধি করতে পারি। অন্য অনেক গল্প আছে, আমি আপনাদের বলতে পারি, কিন্তু আমি পরিত্রাণ দানকারী জল ও আত্মার সুসমাচার সম্বন্ধে বলতে বেশি পছন্দ করি। তখন আমি নিজে কে ধন্য মনে করি। যখন আমি পরিত্রাণ সম্বন্ধে কথা বলি, তখন নিজেকে সুখি মনে হয়, কারণ তখন আমি আমার অতীত স্মৃতি রোমন্থন করি, ঈশ্বর কিভাবে আমাকে রক্ষা করলেন সে কথা স্মরণ করি; আবার তাঁর ধন্যবাদ করি এবং পরিত্রাণের বাক্য দ্বারা নিজেকে আবার পূর্ণ করি।

আমি বিশ্বাস করি, যখন আপনি পরিত্রাণের কথা শোনেন, তখন আপনারও সবচেয়ে বেশি ভাল লাগে। হয়তো আপনি এই বলে অভিযোগ করতে পারেন যে, একই কথা প্রতিদিন, কিন্তু অন্তরের গভীরে আপনি চিন্তা করেন, “এখন এটা শুনে আমার আরো ভাল লাগছে; প্রথমে আমি এতটা মহৎ ছিলাম না, কিন্তু যত আমি এ সম্বন্ধে শুনছি, ততই মনে হচ্ছে যে, শোনার মত এর চেয়ে আর কোন ভাল কাহিনী নেই। ইম ভেবেছিলাম আজকের গল্পটা হয়তো বিশেষ কোন গল্প হবে, কিন্তু শেষে দেখলাম এটা সেই একই গল্প। কিন্তু তবুও আমি খুশি।” আমি নিশ্চিত যে, আপনার হৃদয়ের চিন্তা এই রকম।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আমি এখানে যীশুর বাক্য প্রচার করছি। প্রচারকেরা অবশ্যই যীশুর বাক্য প্রচার করবে। ঈশ্বরের মন্ডলীর কর্তব্য হল- যীশু আমাদের পরিত্রাণের জন্য যা সাধন করেছেন, অর্থাৎ লিখিত বাক্যের মাধ্যমে জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করা। মন্ডলীতে এখন আমরা বিশ্বাসের জীবন যাপন করি। পবিত্র স্থানে প্রবেশ করে, পিটানো স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত সপ্তদীপ বৃক্ষের আলোর নীচে দাঁড়িয়ে, উৎকৃষ্ট সুবর্ণের গৃহে খাদ্য খেয়ে, সুগন্ধি ধুপের বেদিতে প্রার্থনা করে, ঈশ্বরের মন্দিরে গিয়ে, তাঁর আরাধনা করে-আমরা আমাদের বিশ্বাসের জীবন যাপন করতে পারি।

 আপনি ও আমি এখন ঈশ্বরের দেওয়া বিশ্বাসের জীবন যাপন করছি। পাপের ক্ষমা লাভ করে বিশ্বাসের জীবন যাপন করাই হল ঈশ্বরের সুবর্ণ গৃহের অভ্যন্তরে বাস করা। “কিন্তু আমাদের বাহ্য মনুষ্য যদ্যপি ক্ষীণ হইতেছে, তথাপি আন্তরিক মনুষ্য দিন দিন নূতনীকৃত হইতেছে (২ করিন্থীয় ৪:১৬)।” সমাগম তাম্বুর নীল, বেগুনে, লাল এবং মিহি মসীনা সূতায় প্রকাশিত সত্যে বিশ্বাস দ্বারা আমাদের আত্মা ঈশ্বরের সুবর্ণজ্জল গৃহে বসবাস করছে।

 আমাদের সমস্ত পাপ এবং বিচারদনন্ড থেকে রক্ষা করার জন্য আমি অনন্তকাল ঈশ্বরের ধন্যবাদ করি। হাল্লিলূয়া!