Sermons

[11-8] < যাত্রপুস্তক ২৭:৯-১৯> সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারের রং



< যাত্রপুস্তক ২৭:৯-১৯>

 “আর তুমি আবাসের প্রাঙ্গণ নির্ম্মাণ করিবে; দক্ষিণ পার্শ্বে, দক্ষিণদিকে পাকান সাদা মসীনা সূত্রনির্ম্মিত যবনিকা থাকিবে; তাহার এক পার্শ্বের দীর্ঘতা এক শত হস্ত হইবে। তাহার বিংশতি চুঙ্গি পিত্তলের হইবে, এবং স্তম্ভের আঁকড়া ও শলাকা সকল রৌপ্যের হইবে। তদ্রূপ উত্তর পার্শ্বে এক শত হস্ত দীর্ঘ যবনিকা হইবে, আর তাহার বিংশতি স্তম্ভ ও বিংশতি চুঙ্গি পিত্তলের হইবে; এবং স্তম্ভের আঁকড়া ও শলাকা সকল রৌপ্যের হইবে। আর প্রাঙ্গণের প্রস্থের নিমিত্তে পশ্চিমদিকে পঞ্চাশ হস্ত যবনিকা ও তাহার দশ হস্ত ও দশ চুঙ্গি হইবে। আর প্রাঙ্গণের প্রস্থ পূর্ব্ব পার্শ্বে পূৰ্ব্বদিকে পঞ্চাশ হস্ত হইবে৷ [দ্বারের] এক পার্শ্বের জন্য পনর হস্ত যবনিকা, তিন স্তম্ভ ও তিন চুঙ্গি হইবে। আর প্রাঙ্গণের দ্বারের নিমিত্তে নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রে শিল্পকারের কৃত বিংশতি হস্ত এক পর্দ্দা ও তাহার চারি স্তম্ভ ও চারি চুঙ্গি হইবে৷ প্রাঙ্গণের চারিদিকের স্তম্ভ সকল রৌপ্যেশলাকাতে বদ্ধ হইবে, ও সেগুলির আঁকড়া রৌপ্যময়, ও চুঙ্গি পিত্তলের হইবে। প্রাঙ্গণের দীর্ঘতা এক শত হস্ত, প্রস্থ সৰ্ব্বত্র পঞ্চাশ হস্ত, এবং উচ্চতা পাঁচ হস্ত হইবে, সকলই পাকান সাদা মসীনা সূত্রে করা যাইবে, ও তাহার পিত্তলের চুঙ্গি হইবে। আবাসের যাবতীয় কাৰ্য্য সম্বন্ধীয় সমস্ত দ্রব্য ও গোঁজ পিত্তলের হইবে।”



প্রাঙ্গণ হবে পিত্তল নির্মিত


নূতন জন্ম এবং নামমাত্র খ্রীষ্টিয়ানদের বিশ্বাসের মধ্যে পরিষ্কার পার্থক্য রয়েছেঃ পূর্বের লোকেরা জানে এবং বিশ্বাস করে যে, ঈশ্বর আমাদের সমস্ত পাপ মুছে দিয়েছেন, আর পারবর্তীকালের লোকেরা তাদের নিজস্ব চিন্তা চেতনার উপর ভিত্তি করে যীশুতে বিশ্বাস করে, খাঁটিভাবে ধার্মিকতা অনুশীলনের বিষয়ের মত। অধিকন্তু যারা ধার্মিকতার বিষয় হিসাবে ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, তারা এত বৃদ্ধি লাভ করেছে যে, এমন কি যারা আসল সত্য প্রচার করছে, তারা এই সমস্ত ভ্রান্ত বিশ্বাসের লোকদিগেতে প্রচারিত ভ্রান্ত শিক্ষা এবং বৃদ্ধি দেখে হতাশ হচ্ছে। তারা হতাশ হয়েছে কারণ তারা পরিষ্কারভাবে জানে যে, বহু খ্রীষ্টিয়ান এরূপ ছলনা এবং প্রতারনার ভ্রান্ত ধার্মিকতায় ডুবে আছে।

সেই সময় এর দ্বারা আমিও হতাশ হয়েছিলাম। কারণ, সত্য গননার মাধ্যমে আমি সত্যিকারভাবে নূতন জন্ম পেয়েছিলাম, এবং আমাকে তার কাজের উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করার জন্য আমি সত্যিকারভাবে ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ, এবং যেহেতু আমার অন্তর ঈশ্বরের সত্য বিস্তৃতভাবে প্রচার করতে ব্যাকুল ছিল, আমি দেখেছিলাম বহু লোক মিথ্যা দ্বারা প্রতারিত হয়ে তাদের ধার্মিকতার জীবন পরিচালিত করছে, আমি দুঃখিত না হয়ে পারি নাই।

তৎসত্ত্বেও, যেটা পরিস্কার সেটা হল, আমার হৃদয়ে পবিত্র আত্মা আছেন, যিনি আমার মন্দতাকে ঘৃনা করেন, আমার হৃদয়ে কোন পাপ নেই। অতএব, আমার হৃদয় কৃতজ্ঞতাপূর্ণ এবং আমি যে সুসমাচার বিশ্বাস করি তার উপরে আমার কোন লজ্জা নেই। যখন আমি পৃথিবী ব্যাপী লোকদের কাছে এই সত্যের বাক্য প্রচার করি, যদি তারা সত্যের বাক্য শোনে এবং এতে বিশ্বাস করে, তাহলে তাদেরও ঈশ্বরের ও লোকদের সম্মুখে কোন লজ্জা থাকে না, যখন তারা এই সত্যে বিশ্বাস করে, তারা সত্যিকারভাবে ঈশ্বরের সন্তান হয়ে যায়।

 বিশ্বাসের দ্বারা আপনিও সত্যিকারভাবে একই অনুগ্রহ পেতে পারেন। এমন কি যদি আপনি ধর্মতত্ত্ব অধ্যায়ন না করেন, যদি আপনি শুধু মাত্র জল ও আত্মার এই সুসমাচারের সত্যে বিশ্বাস করেন, আপনি আপনার পাপের মোচন লাভ করবেন, ঈশ্বরের সন্তান হবেন, এবং আপনার অন্তরে পবিত্র আত্মা গ্রহণ করবেন। আর পবিত্র আত্মার দ্বারা আপনি ঈশ্বরের দাসগণের সঙ্গেও চলতে পারেন। এটাই পরিস্কার সত্য, আর এভাবে সত্য বিশ্বাসে বিশ্বাস করা যায়।

যদিও আমি একটা পৃথিবীতে বাস করছি, যা মিথ্যা দ্বারা পরিপূর্ণ, আমার হৃদয়ে এই সত্য থাকার কারণে এই মুহূর্ত পর্যন্ত সত্যের সুসমাচার প্রচার করতে সক্ষম হয়েছি। যখন আমি সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের উপরে বাক্য প্রচার শুরু করলাম, আমি মিথ্যাবাদীদের কর্ম- পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে জানতে পারলাম, আর এভাবেই আমি মিথ্যা থেকে সত্যকে উপলব্দি করলাম। আমি কেন সমাগম তাম্বুর এই সত্যের সাক্ষ্য দিতেছি, এটা তার কারণ। এটা আমাতে অপরিমেয় আনন্দ বয়ে এনেছে যে, সমাগম তাম্বুর মধ্যদিয়ে আসল সত্য প্রচারের দ্বারা লোকেরা সত্য এবং মিথ্যার উপলব্দি করতে সক্ষম হয়েছে।

আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল, সমাগম তাম্বুর এই বই লিখে এটাকে বিভিন্ন পরিভাষায় সরবরাহের চেষ্টা করা। এই বিষয়ে আমি গভির মনোযোগ দিয়েছি, মুল লেখা পড়েছি যেন সমাগম তাম্বুর কোন অংশের কোন ভুল ব্যাখ্যা না হয়, পাঠক যেন ভুল তথ্য না পায়। সমাগম তাম্বু সম্পর্কে আমার নিজের জ্ঞান এবং বোধ থাকা সত্ত্বেও, আমি এর গুপ্ত আত্মিক রহস্য অন্যদের কাছে, অর্থাৎ এ বিষয়ে যাদের জ্ঞান সীমিত তাদের কাছে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছি। এই কাজ করতে আমি খুব উদ্বিগ্ন ছিলাম এবং অনিশ্চয়তায় ভুগছিলাম যে, কতটা সঠিকভাবে এবং নিদিষ্টভাবে আমি সমাগম তাম্বুর গুরুত্বের ব্যাখ্যা করতে পারব।

যদি লোকেরা প্রথমে এটাকে শুনে যত তাড়াতাড়ি বিশ্বাস করতে এবং বুঝতে পারত, তাহলে অবশ্যই এটা সুন্দর হত। কিন্তু রোম একদিনে তৈরী হয়নি, তদ্রুপ, সমস্ত বিষয়ের মত, সত্যের প্রচার এবং সত্য বিশ্বাস একদিনে সম্পাদন হয় না, সতুবা কিন্তু যেভাবে আমরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র করে অন্তঃসার পর্যন্ত খনন করি, এটা মাত্রাতিরিক্ত অর্জন। অতএব, শুরু থেকে অতি গভির খনন সম্পর্কে আমি আংশিক উদ্বিগ্ন ছিলাম, প্রত্যেকে এটা বুঝতে সক্ষম হত না, এবং এটা সবচেয়ে ভয়ঙ্কার চ্যালেঞ্জ ছিল, যেটার সম্মুখীন আমি এই বই লিখতে গিয়ে হয়েছিলাম।

তৎসত্ত্বেও, ঈশ্বরের সাহায্যের দ্বারা বইটি অত্যাধিক সমস্যা ব্যতিত শেষ পর্যন্ত বের হয়েছে। বলা বাহুল্য, এর জন্য আমি খুবই খুশী এবং কৃতজ্ঞ। এই বইয়ের মধ্যদিয়ে, এবং সত্য থেকে মিথ্যাকে উপলব্ধি করার দ্বারা, আমি শুধু প্রকাশ করব কত মূল্যবানভাবে, পরিষ্কারভাবে এবং সন্দেহাতীতভাবে আজকের জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসীরা রক্ষা পেয়েছে, এবং বিপরীতে, এই জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসীদের বিশ্বাস এবং ধার্মিকতা অন্য সুসমাচারে বিশ্বাসীদের বিশ্বাস ও ধার্মিকতা থেকে সঠিক। অতএব, সর্বপরি আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ আমাকে আমার পাপ থেকে রক্ষা করার জন্য।

আজকে, তথাকথিত অনেক সুসমাচার রয়েছে, যেটা শর্তহীনভাবে দাবী করে যে, তারা পাপহীন, কারণ তারা যীশুতে বিশ্বাস করে। তাদের হৃদয় সর্ব প্রকার সন্দেহজনক এবং ভ্রান্ত বিশ্বাসে পূর্ণ। সমাগম তাম্বু অধ্যায়নকালে আমি আর ও পরিষ্কারভাবে বুঝেছিলাম যে, তাদের বিশ্বাস আসলে ঠিক কতটা ব্যর্থ এবং ভ্রান্ত আর এই বোধ গম্যতার কারণে, আমার পরিত্রাণের নিমিত্ত আমি সমস্ত অন্তঃকরণ দিয়ে আরো বেশী ঈশ্বরের ধন্যবাদ করি।



সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের বেড়া এবং দ্বার


মুল অনুচ্ছেদে যে বিষয়টি খুঁজে পাই তা হল, সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের আয়াতনে দৈর্ঘ্য ছিল ৪৫ মিটার এবং প্রশস্ত ছিল ২২.৫ মিটার দৈর্ঘ্য এক হাত সমান ০.৪৫, প্রাঙ্গণটি ছিল চতুর্দিকে ৬০ টি স্তম্ভ দ্বারা বিস্তৃত, প্রত্যেক স্তম্ভের উচ্চতা ছিল ২.২৫ মিটার; এর পূর্ব দিকে ছিল দ্বার। যা ৯ মিটার ছিল প্রশস্ত। আর বাকী সমস্ত বেড়া(১৩৫ মিটারের মধ্যে প্রায় ১২৬ মিটার) ছিল পাকান সাদা মসীনা সূত্রের পর্দা দ্বারা বিস্ত্তৃত।

সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বার ছিল নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রে শিল্পাকারে কৃত, এবং এর পরিমাপ ৯ মিটার প্রস্থ ২.২৫ মিটার দৈর্ঘ্য। অর্থ কথায়, এই চারটি ভিন্ন রঙের সূত্রে একটি পর্দা নির্মিত হয়েছিল,পরিমাপ ছিল ৯ মিটার দৈর্ঘ্য ২.২৫ মিটার প্রস্থ। প্রথম পূর্ণ দৈর্ঘ্য নীল সূত্রে বোনা হয়েছিল এবং প্রস্থে পাকান সাদা মসীনা সূত্রে এবং পরে বেগুনে সূত্রে ২.২৫ মিটার উচ্চতা বোনা হয়েছিল এবং তারপরে সাদা সূত্রের বুনন অনুসরণ করে ২.২৫ মিটার উচ্চতার লাল সূত্রে বোনা হয়েছিল, মোটা এবং টেকসহ পর্দা বানাতে কার্পেটের মত বোনা হয়েছিল, যা ছিল ২.২৫ মিটার উচ্চতার। এভাবে ২.২৫ মিটার উচ্চতা ও ৯ মিটার চওড়া মাপের একটি পর্দা বোনা হয়েছিল, যা সমাগম তাম্বুর পূর্বদিকের প্রাঙ্গণের চারটি স্তম্ভের উপরে রাখা হয়েছিল।

এরূপে সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে লোকদের কার্পেটের মত পর্দাটি টেনে উপরে উঠান লাগত। অন্যান্য দ্বারের মত সমাগম তাম্বুর দ্বার কাঠের তৈরী ছিল না। যদি ও এর স্তম্ভগুলো কাঠের তৈরী ছিল, দ্বারটি ছিল স্তম্ভগুলির উপরে ঝুলান একটি নীল, বেগুনে, এবং লাল সূত্রের এবং পাকা সাদা মসীনা সূত্রের বোনা পর্দা।

আপনি অবশ্যই একটি সার্কেস প্রদর্শনে গিয়েছেন, এবং দেখেছেন কিভাবে একটি সার্কেস তাম্বু তৈরী করা হয়েছে। এর দ্বার সচরাচ মোটা কাপড়ের হয়ে থাকে। সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারও এই প্রকারের সমজাতিয় কিছু ছিল। যেভাবে এটা মোটা বুননের কাপড়ের তৈরী ছিল, শক্ত দরজার মত এটা ঠেলা দিয়ে খোলা যেত না, কিন্তু প্রবেশ করতে এটাকে টেনে সরান লাগত। এটা শুধু মাত্র সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারের ঘটনা ছিল না, কিন্তু সমাগম তাম্বুর ভিতরের পবিত্র এবং মহাপবিত্র স্থানের দ্বারের নিমিত্ত ও ছিল।

ঈশ্বর কেন ইস্রায়েলদেরকে তিনটি দ্বার সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বার পবিত্র স্থান, এবং মহাপবিত্র স্থানের দ্বার নীল, বেগুনে, এবং লাল সূত্র এবং পাকা সাদা মসীনা সূত্র দ্বারা বুনতে বললেন? এই আদেশের পিছনে ঈশ্বরের কি ইচ্ছা ছিল তা আমাদের পরিষ্কারভাবে খুঁজে বের করা প্রয়োজন। ইব্রীয় পুস্তকে আমাদিগকে বলা হয়েছে যে, পুরাতন নিয়মের উত্তম উত্তম বিষয়গুলি একটি মূল বিষয়ের ছায় বিশিষ্ট, তা হল যীশু খ্রীষ্ট (ইব্রীয় ১০: ১)।

তদ্রুপ সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বার যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিস্ম, ক্রুশীয় মৃত্যু এবং তাঁর নিজস্ব পরিচয়ের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। এভাবে যখন আমাদের পুরাতন নিয়ম বুঝতে সমস্যা হয়, আমরা নূতন নিয়ম দেখার দ্বারা তা বুঝতে পারি। আসল বিষয়বস্তু দেখা ব্যাতিত এর আকৃতির প্রতিকৃতি বের করা কঠিন, কিন্তু যখন আমরা দেখি কি বা কে ছায়াটি গঠন করেছে, আমরা সমস্ত বিষয় সম্পর্কে বুঝতে পারি। আমরা অবশ্যই পরিষ্কারভাবে সবাই বুঝতে পারি যে, আসলে পুরাতন নিয়মে ঈশ্বর পাপীদের নিমিত্ত যে ত্রাণকর্ত্তা প্রস্তুত করেছিলেন তিনি কে, সমাগম তাম্বুর আসল বিষয়বস্তু হিসাবে তাঁকে জানি, এবং বিশ্বাস করি যে, তাঁর কাজ আমাদিগকে আমাদের সমস্ত পাপ থেকে রক্ষা করেছে।

তাহলে, সমাগম তাম্বুর আসল বিষয়বস্ত কে, যিনি পাপীদের ত্রাণকৰ্ত্তা হয়েছেন? এটা যীশু খ্রীষ্ট ছাড়া আর কেউ নয়। যখন আমরা অনুসন্ধান করি আমাদের ত্রাণকর্ত্তা যীশু খ্রীষ্ট কিভাবে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং কিভাবে তিনি আমাদেরকে আমাদের পাপ থেকে রক্ষা করেছেন, তাহলে আমরা সঠিক সত্য খুঁজে পাই যে, তিনি পাপীদেরকে নীল, বেগুনে এবং লাল সূত্র দ্বারা রক্ষা করেছেন। 

যীশুর’ পাপীদিগের পরিত্রাণ বোঝা, জানা এবং সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারের বর্ণগুলোর প্রতীয়মান সত্যে বিশ্বাস করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যখন সমাগম তাম্বুর বিষয়ে গবেষনা করি, যে প্রথম বিষয়টি আমরা বুঝি তা হল, প্রাঙ্গণের চারটি সূত্র দ্বারা তৈরী হয়েছিল। আমরা যখন এই দ্বারের রহস্য সমাধান করি, তখন আমরা যীশু খ্রীষ্টের কাৰ্য্য সমূহ দৃঢ়ভাবে উপলব্দি করতে পারি। চারটি সূত্রে বোনা পর্দার দ্বারটির দিকে তাকানোর দ্বারা আমরা আরও পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারি যে, কিভাবে আমরা অবশ্যই যীশুতে জানতে এবং বিশ্বাস করতে পারি এবং প্রকৃতঅর্থে কোন প্রকারের বিশ্বাসটি ভ্রান্ত বিশ্বাস তাও জানতে পারি।

সমাগম তাম্বুর বহিঃপ্রাঙ্গণ প্রকৃত পক্ষে আমাদেরকে মেষের খোঁয়াড়কে স্মরণ করিয়ে দেয়। বস্তত যীশু আমাদের মসীহ, ঈশ্বরের মেষের খোঁয়াড়ের দ্বার এবং এ ছাড়াও তিনি উত্তম মেষপালক (যোহন ১০:১-১৫)। যখন আমরা প্রাঙ্গণের চতুর্দিকের স্তম্ভগুলোর কথা চিন্তা কির, এটা আমাদিগকে মসীহের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যিনি তাঁর মেষদিগের নূতন জন্ম প্রাপ্ত সাধুদের দ্বার ও উত্তম মেষপালক হয়েছেন।

 প্রকৃত অর্থে মেষপালক তাঁর মেষদিগকে রক্ষা করতে খোঁয়াড়ের চতুর্দিকে খুঁটি স্থাপন করেছেন এবং সেখানে একটি দ্বার তৈরী করেছেন এবং এই দ্বারের মাধ্যমে তিনি তাঁর মেষদের প্রহরা দেন। এই দ্বারের মাধ্যমে মেষপালক তাঁর মেষদের সান্নিধ্যে আসেন এবং তাদেরকে রক্ষা করেন। ফলে যারা তাঁর মেষ নয়, তারা এই দ্বারের মধ্যদিয়ে গমনাগমনের অনুমতি প্রাপ্ত নয়। মেষপালক মেষেদের এবং নেকড়েদের বেছে আলাদা করেছেন, একারণে মেষদের মেষপালক প্রয়োজন।

তথাপি, যদি এটা হয় যে, মেষদের মধ্যে কেউ মেষপালকের দ্বারা পরিচালিত হতে অনিহা প্রকাশ করে। এরূপ মেষগুলো মৃত্যুর পথে প্রবেশ করবে, বস্তুতঃ যখন এটা একটা ঘাতক এবং বিপদ জনক পথ তারা চিন্তা করবে যে এটা একটা সুন্দর পথ, যেহেতু তারা মেষপালকের রব শোনে নাই এবং তাঁর দ্বারা চালিত হতে অনিহা প্রকাশ করে। এই মেষগুলো মেষপালকের দ্বারা সুন্দরভাবে জীবন কাটাতে এবং প্রতিপালিত হতে পারে। বস্তুতঃ আমাদের পালক যীশু খ্রীষ্ট যিনি আমাদের মসীহ হয়েছেন।



যীশু খ্রীষ্ট আমাদেরকে সমাগম তাম্বুর দ্বারের চারটি বর্ণ 

দেখিয়েছেন


 যে পর্দাটি সমাগম তাম্বুর দ্বার হিসাবে স্থাপন করা হয়েছিল তা নীল, বেগুনে এবং লাল সূত্র এবং মিহি মসীনা সূত্রে বোনা ছিল। সমাগম তাম্বুর দ্বার তৈরী করতে এই চারটি ভিন্ন বর্ণের সূত্র ব্যবহার হয়েছিল। সে গুলো মসীহের চারটি কার্যকালের প্রতীক যা হল, এই জগতে এসে হারানো মেষগণকে রক্ষা করে পূর্ণতা সাধন করতে হবে-অর্থাৎ সমস্ত পৃথিবীর আত্মিক ইস্রায়েলদেরকে তাদের পাপ থেকে রক্ষা এবং তাদেরকে ঈশ্বরের পাপহীন লোকে পরিণত করা। 

যদি আমরা প্রকৃতপক্ষে জানি যে, কে আমাদের মসীহ, যিনি তাঁর চার কার্যকালসহ আমাদের কাছে এসেছিলেন, তাহলে, দ্ব্যর্থহীন সত্য এই যে, এই বিশ্বাসের দ্বারা আমরা আমাদের সমস্ত পাপ থেকে ধৌত হয়েছি, আমাদের বাকী জীবন জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচারের কাজে নিয়োজিত করেছি, এবং এই একান্ত বিশ্বাসের মধ্যদিয়ে আমরা স্বর্গে প্রবেশ করব। অতএব, বস্তুতঃ প্রত্যেককে অবশ্যই সত্যের বাক্য জানতে হবে যে, নীল, বেগুনে এবং লাল সূত্রের মধ্য দিয়ে মসীহ আমাদের কাছে এসেছিলেন এবং আমাদেরকে আমদের সমস্ত পাপ থেকে রক্ষা করেছেন।

আপনি কি মসীহের চারটি কার্যকালে বিশ্বাসের দ্বারা আপনার পাপের মোচন লাভ করতে চান? তাহলে আসুন সমাগম তাম্বুর বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করি। যারা নীল, বেগুনে এবং লাল সূত্র, এবং পাকান সাদা মসীনা সুত্রের বোনা কার্যকাল সম্পর্কে জানে, তারা তাদের পাপের মোচন লাভের দ্বারা ধার্মিকগণিত হবে।

চার ভিন্ন বর্ণের সূত্রে বোনা সমাগম তাম্বুর দ্বারের দিকে তাকিয়ে প্রকৃতপক্ষে বিশ্বাস করতে হয়েছিল যে, ভবিষ্যতে বাস্তবিকই মসীহ আসবেন এবং এই চারটি কার্যকাল পূর্ণ করবেন।



প্রত্যেক পাপী যে সত্য অবশ্যই বিশ্বাস করবে


যদি আমরা সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের ঝুলান সাদা মসীনা সূত্রের দিকে তাকাতাম, ঈশ্বররে আসলে কত পবিত্র তা বোঝার দ্বারা আমরা আমাদের ত্রাণকর্ত্তার প্রয়োজন অনুভব করতাম। বস্ততঃ প্রত্যেকে যারা ঈশ্বরের পবিত্রতার কাছে এসেছিল,তারা স্বীকার না করে পারে নাই, বলেছে, “ঈশ্বর আমি বুঝতে পারি যে, আমার পাপের জন্য আমি নরকে যেতে বাধ্য, যেহেতু আমি বড় একটা পাপের স্তপ।” প্রাঙ্গণের স্তম্ভের উপর দিয়ে আচ্ছাদিত সাদা মসীনা কাপড়ের দিকে তাকিয়ে, এর পরিচ্ছন্নতা এবং জাকজমকতা এত মহত ছিল, লোকেরা তাদের হৃদয়ের পাপ চিনতে পারত এবং অনুধাবন করত যে, ঈশ্বরের সাথে বাস করতে সম্পূর্ণভাবে তা অযোগ্য। যখন কারো হৃদয় ঈশ্বরের সাক্ষাতে সরল না হয়, তাদের পাপ সর্বদা প্রকাশিত হয়। এরূপে লোকেরা ভয় পেত যে, তাদের পাপ প্রকাশিত হবে, তাই তারা ঈশ্বরের সম্মুখে যেতে অনিচ্ছুক ছিল।

কিন্তু যখন এরূপ পাপে পূর্ণ লোকেরা বুঝে যে, তাদের ত্রাণকর্ত্তা তাঁর নীল এবং লাল সূত্রের দ্বারা তাদের পাপ সমস্যার সমাধান করছেন, তারা পরিত্রাণের মহা প্রত্যয় এবং হৃদয়ের প্রত্যাশা নিয়ে আত্মবিশ্বাস সহকারে ঈশ্বরের সম্মুখে যেতে পারে।

সমাগম তাম্বুর দ্বারে দেখান চার ধাপ বিশিষ্ট সত্য আমাদিগকে বলে যে, মসীহ মানুষের দেহে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, যোহন কর্ত্তৃক তাঁর বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে পৃথিবীর সমস্ত পাপ তাঁর উপরে তুলে নিয়েছেন, এবং ক্রুশে তাঁর রক্ত সেচন করলেন। যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে সমাগম তাম্বুর চারটি বর্ণের সত্য সঠিকভাবে জানে এবং বিশ্বাস করে, তাহলে তারা পাপের অনন্ত মোচন লাভ করতে পারে; যে সত্যের মাধ্যমে খ্রীষ্ট তাঁর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশীয় রক্তের দ্বারা আমাদেরকে আমাদের সমস্ত পাপ থেকে সম্পূর্ণ রক্ষা করেছেন, যীশুর বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশারোপনও তেমন সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারের চারটি বর্ণের ন্যায় পরিত্রাণ।

নীল, বেগুনে এবং লাল সূত্র, এবং পাকান সাদা মসীনা সূত্রে বোনা প্রকৃতপক্ষে আমাদিগকে মসীহের কার্যকালকে দেখায় যা পাপীদেরকে তাদের সমস্ত পাপ থেকে রক্ষা করেছেন। পরিত্রাণের যে সত্য ঈশ্বর মানব জাতিকে দিয়েছেন, তা এই নীল, বেগুনে, এবং লাল সূত্রে এবং পাকান সাদা মসীনা সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে। বস্তুতঃ যাদের হৃদয়ে পাপ রয়েছে, তারা জল ও আত্মার সুসমাচারে প্রকাশিত পরিত্রাণের সত্যে বিশ্বাসের দ্বারা তাদের সমস্ত পাপের ক্ষমা প্রাপ্ত হয়েছে।

 এই পৃথিবীতে অগনিত আবির্ভূত হয়েছে। এই সমস্ত পার্থিব ধর্মগুলি তাদের নিজেদের চিন্তার দ্বারা নিজস্ব মতবাদের মাধ্যমে আবির্ভূত হয়েছে, সমস্ত কিছুই মানুষকে পবিত্রতায় পৌছানোর চেষ্টা করতে তৈরী করছে। কিন্তু এই পার্থিব ধর্মের মাধ্যমে এমন কি একজন মানুষ ও কোনদিন তাদের পাপ ধৌত করতে পারেনি। কারণ হল, তার যে পাপে পূর্ণ এটা অনুধাবন ব্যতিত তারা তাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনার উপরে প্রতিষ্টিত, তাদের নিজস্ব পরিত্রাণের মতবাদে বিশ্বাস করছে এবং তারা সেইভাবে গঠিত হয়েছে। কারণ, প্রত্যেকে এক একজন পাপের স্তপ। যে কখনই নিজে নিজে পবিত্র হতে পারেনা, কেই তার মৌলিক পাপের প্রকৃতি থেকে মুক্তি পেতে যতই চেষ্টা করুক না কেন, সেটা কোন ব্যপার নয়, কেউই কোন দিন এটা অর্জন করতে পারে না। এজন্যই প্রত্যেকেরই সত্যিকারভাবে ত্রাণকৰ্ত্তার প্রয়োজন। যিনি তাকে তার পাপ থেকে মুক্ত করবেন- অর্থাৎ এ কারণেই যীশুকে প্রত্যেকের প্রয়োজন। আপনাকে অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে যে, মানব জাতির যীশু ছাড়া কোন ত্রাণকর্ত্তা নেই।

কারণ ঈশ্বরের ব্যবস্থা পাপীকে ঈশ্বরের গৃহে প্রবেশ করতে অনুমতি করে না, আমরা অবশ্যই জানি এবং বিশ্বাস করি যে, মসীহ সত্যিকারভাবেই আমাদের সমস্ত পাপ মুছে দিয়েছেন।

যে সুসমাচারের দ্বারা মানব জাতির সমস্ত পাপ চিরতরে ক্ষমা হয়ে যায়, তা জল ও আত্মার সুসমাচার ছাড়া অন্য কিছুই নয়। পার্থিব ধর্মের মতবাদে কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে, তা তাকে তার পাপে সম্বন্ধীয় আর ও সমস্যার মধ্যে ঠেলে দিবে কারণ আমাদের পবিত্র ঈশ্বরের প্রতিটি অধ্যর্মের জন্যই পাপীদের দোষী সাব্যস্ত করবেন। 

নীল, বেগুনে এবং লাল সূত্রে এবং পাকান সাদা মসীনা সূত্রের দ্বারা প্রকাশিত সত্য নূতন নিয়মের যুগে জল ও আত্মার সুসমাচারের দ্বারা পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়েছে। আপনি কি এখন ও কাউকে দাবী করতে শুনেছেন যে, সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বার শুধুমাত্র নীল বা বেগুনী বা শুধু লাল সূত্রে তৈরী হয়েছিল? যদি শুনে থাকেন, তাহলে এই মুহূর্ত থেকে আপনাকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, সমাগম তাম্বুর দ্বার প্রকৃতপক্ষে বোনা হয়েছিল নীল,বেগুনে এবং সূত্র এবং পাকান সাদা মসীনা সূত্র দিয়ে তৈরী। ঈশ্বর ইস্রায়েলদেরকে সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারের নিমিত্ত শিল্পকারের প্রস্ততকৃত নীল, বেগুনে এবং লাল সূত্র এবং পাকান সাদা মসীনা সূত্রের একটি পর্দা তৈরী করতে পরিষ্কাভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

 অধিকন্তু, অনেক লোক ভুলবশত চিন্তা করত যে, সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বার শুধুমাত্র লাল সূত্রে বোনা হয়েছিল, তারা আমাদের প্রভুর চারটি কার্যকালের সত্যের রহস্যের সমাধান করতে পারত না। এ কারণে এমনকি যখন তারা যীশুতে বিশ্বাস করেছে, তখন ও তাদের হৃদয়ে পাপ ছিল। এখন অনুধাবন করুন এবং এই সত্যে বিশ্বাস করুন যে, খ্রীষ্ট তাঁর নীল, বেগুনে লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রের কার্যকালের মধ্যদিয়ে আপনার সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন। এই নীল, বেগুনে লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রের দ্বারা সাধিত পরিত্রাণের কার্য প্রকৃতপক্ষে সম্পূর্ণভাবে আপনাকে আপনার সমস্ত পাপ থেকে রক্ষা করেছে। আপনার অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে যে, যীশু এই চার কার্যকালের মাধ্যমে আপনার সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন। অন্যকাথায়, এই সত্য এড়িয়ে পাপ মোচনের নিজস্ব ধ্যান ধারনায় স্থির থাকা ভুল।

 এমনকি কিছু লোক তারা সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গনের দ্বারে ব্যবহৃত নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রের অর্থ কি তা ভূলে এড়িয়ে যায়, ভুলবশত দাবী করে যে, যে কেউ শুধুমাত্র যীশুকে ত্রাণকৰ্ত্তারূপে বিশ্বাস করলেই শর্তহীনভাবে রক্ষা পেতে পারে। বস্ততঃ যখন আমরা খ্রীষ্টিয়ান সমাজের নেতাদের কাছে যীশুর চারটি কার্যকালের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি, আমরা অনেকেই খুঁজে পাই, যারা সেগুলো এড়িয়ে চলে। তারা বলে যে, তারা শুধু লাল সূত্রের কার্যকালে বিশ্বাস করে। যদি আর ও কোন বিষয়ে তারা বিশ্বাস করে, তবে তারা অবশ্যই বলবে যে, তারা বেগুনে সূত্রের কার্যকালেও বিশ্বাস করে। যাহোক, আমাদের প্রভু প্রকৃতপক্ষেই নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রের দ্বারা মানব জাতির পরিত্রাণের নিমিত্ত সমস্ত কার্য সম্পাদন করেছেন। এরূপ, আমরা অবশ্যই বিশ্বাস করি যে, আমাদের প্রভু আমাদের নিমিত্ত তাঁর পরিত্রাণের চারটি কার্যকাল বহণ করেছেন। বস্ততঃ জানার নিমিত্ত যার হৃদয়ে আছে, সে সমাগম তাম্বুর দ্বারের নীল, বেগুনে,লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রে প্রকাশিত সত্য জানতে পারে এবং এতে বিশ্বাস করতে পারে।

“আমি কিভাবে নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রের অর্থ বুঝব?” এই সূত্র এবং মসীনার সত্য অনুসন্ধান করতে আপনি যদি কাউকে এই প্রশ্নটি করেন, প্রতিউত্তরে আপনি অবশ্যই তিরোস্কৃত হবেন, “আপনি অবশ্যই বাইবেলকে অতি গভীর এবং বিস্তারিতভাবে জানতে চেষ্টা করবেন না; এটা আপনার জন্য ক্ষতি বয়ে আনতে পারে,” এবং আপনার কৌতুহল অবশ্যই তুচ্ছিকৃত হবে। ভগ্নহৃদয় হয়ে তখন অনেক লোক নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রে তাদের কৌতুহল হারিয়ে ফেলে। আর দ্বারের মধ্যদিয়ে বিস্তারিতভাবে যিনি প্রকাশিত হয়েছেন, আপনি সেই মসীহের সাথে কখনও কোনদিন সাক্ষাত করতে পারবেন না।

 যারা নীল, বেগুনে, লাল পাকান সাদা মসীনা সূত্রের কার্য অনুধাবন করা ব্যতিত মসীহের সাথে সাক্ষাত করতে চেষ্টা করে, তারা বাস্তবিকই শুধু ধর্মবিদ যারা পার্থিব ধর্মগুলোর মতই খ্রীষ্টিয়ান ধর্মকে বিশ্বাস করে। ঈশ্বরের গৃহে প্রবেশ করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারের নীল, বেগুন, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রে প্রকাশিত ঈশ্বরের পরিত্রাণের চারটি কার্যকালের সত্যকে সঠিকভাবে বিশ্বাস করতে হবে। যারা এই সত্য পেয়েছে, তারা অবশ্যই অনুধাবন করবে যে, নূতন নিয়মের জল ও আত্মার সুসমাচারের দ্বারা প্রভু সেগুলোকে পূর্ণ করেছেন।

ঈশ্বর মোশীকে নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্র দ্বারা সমাগম তাম্বুর দ্বার বুনতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাহলে এর আর্থিক অর্থ কি? সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারের নিমিত্ত ব্যবহৃত নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রের প্রত্যেক বর্ণই যীশুর কার্য যা, তিনি আমাদের পাপ মুছে দেয়ার নিমিত্ত করেছিলেন। এই সূত্র এবং মসীনা একে অন্যের সহিত গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। এরূপে, যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে মনোযোগ দেয় এবং বিশ্বাস করে, তারা যীশুর চারটি কার্যকালকে তাদের পাপের অনন্ত মোচন হিসাবে বিশ্বাস করতে পারে।

 এটা সত্ত্বেও নীল, বেগুনে ও লাল বর্ণে প্রতীয়মান পরিত্রাণের সত্য অগ্রাহ্য এবং না জানার চেষ্টা হল মোশীর প্রতি কার সম্পূর্ণ উদাসীনতার প্রকাশ এবং এটা তাঁর বিরূদ্ধে দাড়িয়ে তাঁর শক্র হওয়ার সামিল। বস্তুতঃ অনেক নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকান সাদা মসীনা সূত্রে প্রতীয়মান সত্যে উদাসীন এবং তারা খ্রীষ্টান ধর্মকে পৃথিবীর অন্যান্য ধর্মে পরিনত করেছে। যদি এই লোকেরা যীশুর চারটি কার্যকালকে উদাসীনতার সাথে দেখে, তাহলে এটাই তার প্রমান যে, তারা পার্থিব ধর্মবীদদের ফল যারা খ্রীষ্টের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। যাহোক, সৌভাগ্যক্রমে, আমাদের জন্য এখন প্রত্যাশা রয়েছে, এই প্রথিবীতে এখন ও অনেক লোক জল ও আত্মার সুসমাচার খুঁজছে।

যখন লোকদের সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারের দ্বারা প্রকাশিত পাপ মোচনের আত্মিক সত্যের জ্ঞান থাকে, তারা স্বর্গীয় সমস্ত আত্মিক অনুগ্রহ লাভ করতে পারে। এই বিশ্বাসই প্রকৃতপক্ষে আবশ্যকীয় বিশ্বাস যা, রমাসীর সাথে সাক্ষাত করতে কাউকে অবশ্যই জানতে এবং বিশ্বাস করতে হবে, এমরা অবশ্যই এই মুর্হূতের জন্য নয় কিন্তু চিরতরে এর উপরে জীবন যাপন করব। আপনি যদি সত্যিকারভাবে একজন খ্রীষ্টিয়ান হন, আপনাকে অবশ্যই এর উপরে মনোযোগ দিতে হবে।

 যে কেউ ঈশ্বরের গৃহে প্রবেশ করতে চায়, তাকে অবশ্যই নীল, বেগুনে, এবং লাল সূত্র এবং পাকান সাদা মসীনা সূত্রে প্রতীয়মান সত্য খুঁজে পেতে হবে, এবং তদনুসারে ঈশ্বরের প্রশংসা করতে হবে।



মশীহ যিনি ভাববাণীর পূর্ণতা সাধনকারী হিসাবে 

এসেছিলেন


ঈশ্বর তাঁর বাক্যে ভাববাণী করেছিলেন যে, একজন কুমারীর গর্ভে মসীহ জন্ম নিবেন। যিশাইয় ৭:১৪ পদে বলা হয়েছে, “অতএব----প্রভু আপনি তোমাদিগকে এক চিহ্ন দিবেন; দেখ, এক কন্যা গর্ভবতী হইয়া পুত্র প্রসব করিবে, ও তাঁহার নাম ইম্মানুয়েল।[আমাদের সহিত ঈশ্বর] রাখিবে।” অন্যকথায়, মীখা ৫:২ পদ বলছে যে, মসীহ বৈথলেহমে জন্ম গ্রহণ করবেন; “আর তুমি, হে বৈৎলেহম-ইফ্রাথা, তুমি যিহূদার সহস্রগণের মধ্যে ক্ষুদ্রা বলিয়া অগণিতা, তোমা হইতে ইস্রায়েলের মধ্যে কৰ্ত্তা হইবার জন্য আমার উদ্দেশে এক ব্যক্তি উৎপন্ন হইবেন; প্রাককাল হইতে, অনাদিকাল হইতে তাঁহার উৎপত্তি।” পুরাতন নিয়মের ঠিক এই বাক্যের ভাববাণী হিসাবে প্রকৃতপক্ষে মসীহ এই পৃথিবীতে এসেছিলেন। ঈশ্বরের বাক্যানুসারে ভাববাণীর পূর্ণতা সাধন হিসাবে তিনি মানুষের দেহে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন।

তাহলে, মানব জাতীর ইতিহাসে কোন সন্ধিক্ষণে মসীহ এসেছিলেন? কখন যীশু খ্রীষ্টি এই পৃথিবীতে এসেছিলেন? তিনি রোমান সম্রাট অগষ্টাসের রাজত্বকালে তিনি এই পৃথিবীতে এসেছিলেন (B.C.27-A.D.14)। যীশু যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তিস্ম গ্রহণ এবং ক্রুশে রক্ত সেচনের দ্বারা আপনাকে এবং আমাকে, আমাদের সমস্ত পাপ এবং শাস্তি থেকে মুক্ত করতে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন।

ইস্রায়েল জাতী যখন রোমান সম্রাটের ঔপনিবেশিকতায় পরিনত হয়েছিল এবং যখন অগাষ্টাস সম্রাট হিসাবে এটার রাজত্ব করছিলেন, তখন যীশু মানবজাতীর ত্রানকর্ত্তা হিসাবে এসেছিলেন। কারণ ইস্রায়েল ছিল রোমান ঔপনিবেশ, একে রোমের শাসন অনুসরণ করতে হত। এই সময়ে রোমের সম্রাট অগাষ্টাস রোম সম্রাজ্যে আইন জারি করছিলেন যে, প্রত্যেকে তার (নারী/পুরুষ) নিজ নগরে আসতে হবে এবং আদমশুমারীর নিমিত্ত নাম লেখাতে হবে। অগাষ্টাসের আইন অনুসরণ করে এই আদমশুমারী তৎক্ষণাৎ শুরু হয়েছিল। ইস্রায়েল যারা বসবাস করছিল তারাসহ রোম সম্রাজ্যে বাসকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে আদমশুমারীর নিমিত্তে গননার জন্য খোঁজা হয়েছিল, সমস্ত ইস্রায়েলকেও তাদের নিজ নগরে ফিরতে হয়েছিল। এই মুহূর্ত থেকেই যীশু খ্রীষ্টি মানবজাতীর ইতিহাসে কাজ শুরু করছিলেন।



পুরাতন নিয়মের বাক্যের পূর্ণতার প্রতি দৃষ্টিপাত করুন


এই সময়ে যিহূদিয়া দেশে ইতিমধ্যে মসীহ কুমারী মরিয়মের গর্ভে ধারণকৃত হয়েছিলেন। এই মরিয়ম যোষেবের প্রতি বাগদত্তা হয়েছিলেন। যোষেব এবং মরিয়ম দুজনেই যিহূদি জাতি, ঈশ্বর ইস্রায়েলের বার বংশের বিষয়ে যেভাবে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, শুধু যিহূদা বংশ থেকেই রাজা জন্ম নিতে থাকবেন।

 সুতরাং যখন রোম সম্রাট অগাষ্টাস আদমশুমারী নিমিত্ত ঘোষনা দিলেন, যিহূদা বংশীয় মরিয়ম তখন তার গর্ভে এক শিশু বহন করছিলেন। যখন তার সময় কাছে আসল এবং তিনি সন্তান জন্ম দিতে উদ্যত হলেন সম্রাটের ঘোষনার কারে, তাকে যোষেবের নিজ নগরে যেতে হয়েছিল এবং আদমশুমারীর নিমিত্ত নাম লেখাতে হয়েছিল। এতএব ধারনা করা হচ্ছিল মরিয়ম যেকোন সময় সন্তান প্রসাব করতে পারেন। তথাপি তিনি যোষেবের সাথে বৈৎলেহম অভিমুখে রওনা হলেন। যখন মরিয়মের প্রসব বেদনা শুরু হয়েছিল, তাদেরকে তার নিমিত্ত একটি আশ্রয় খুঁজতে হয়েছিল, কিন্তু তারা নগরে কোন আশ্রয় খুঁজে পেলেন না। অতএব, তাদেরকে যে কোন স্থান পাওয়া যায় তাই-ই ব্যবহার করতে হয়েছিল, এমনকি শেষ পর্যন্ত তারা একটি গোশালার আশ্রয় নিয়েছিল। আর মরিয়ম তার শিশু সন্তান যীশুকে গোশালায় প্রসব করেছিলেন।

১খ্রীষ্টাব্দে, যীশু একটি জাবপাত্রে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর মানুষের দেহে এই প্রথিবীতে এসেছিলেন। একদা যেখানে জীবযুন্ত থাকত, মানবজাতির ত্রাণকর্ত্তা সেই স্থানে এসেছিলেন। এর অর্থ হল, যীশু মসীহ হওয়ার জন্য এই সর্বনিম্ন স্থানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং সমস্ত বিষয়ই সৃষ্টির পূর্বে ঈশ্বর কর্ত্তৃক পরিকল্পিত এবং নির্ধারিত। যদিও লোকেরা অবশ্যই জানে যে, যিহোরা ঈশ্বর মানব জাতির ইতিহাস পরিচালনা করেন, কেউ কখনও অনুধাবন করতে পারে নাই যে, প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বর নিজেই তাদেরকে উদ্ধার করতে এই পৃথিবীতে আসতে হবে। অতএব, ঈশ্বর যে কাউকেই বোঝার নিমিত্ত এটা সম্ভব করেছিলেন যে, সমস্ত মানব জাতিকে তাদের পাপ থেকে মুক্ত করতে এই পৃথিবীতে মানুষের অবনত দেহে জন্ম গ্রহণ করেন, নিজেকে অবনত করার দ্বারা তিনি তাকে (নারী/পুরুষ) রক্ষা করেছেন।

 তাহলে সমস্ত জায়গা বাদ দিয়ে যীশু কেন বৈৎলেহমে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন? এছাড়াও আমরা আশ্চর্যান্বিত হই, কেন তিনি গোশালায় জন্ম নিয়েছিলেন এবং সমস্ত সময় বাদ দিয়ে কেন যখন ইস্রায়েল রোমের দ্বারা ঔপনিবেশক হিসাবে শাসনাধীন ছিল, তখন যীশু জন্ম গ্রহণ করেছিলেন? কিন্তু শীঘ্রই আমরা খুঁজে পাই যে, এই সমস্ত জিনিস তাঁর লোকদিগকে তাদের পাপ থেকে মুক্ত করতে তাঁর দ্বারা বিশদ পরিকল্পিতভাবে ঘটছে।

যখন যোষেফ এবং মরিয়ম আদমশুমারীর নিমিত্তে নিজনগরে তাদের নাম লিখিয়ে ছিলেন। তাদেরকে তাদের পরিবারের সঠিক তথ্যাদির প্রমাণ যোগান দিতে হয়েছিল যে, তারা প্রকৃত পক্ষেই এই নগরের। তারা শুধু তখনই আদমশুমারীতে তাদের নাম লেখাতে পারত, যখন তারা প্রমাণ দিতে প্রয়োজনীয় প্রমানাদি উপস্থাপন করত যে, তাদের পূর্ব পুরুষের প্রকৃত পক্ষেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বৈৎলেহমে বাস করছিলেন। তাদেরকে প্রকাশ করতে হত যে, কারা তাদের পূর্ব পুরুষ এবং তারা কাদের বংশধর ছিল, এবং আদম শুমারীর সময়ে এরূপে তাদের পরিবারের বংমের বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করতে হয়েছিল। যোষেফ এবং মরিয়মের সঠিক পরিচয় যেভাবে ঐতিহাসিক ভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে, কেউ এগুলো যোগ বা বিয়োগ করতে পারে না, ঈশ্বর নিশ্চিত ছিলেন যে, মানব জাতির ইতিহাস ও যীশুর জন্মের সাক্ষ্য দেবে। (মথি ১:১-১৬, লূক ৩:২৩- ৩৮)। এগুলো সব ঈশ্বরের কাজ যা তিনি পুরাতন নিয়মের বাক্যের ভাববাণী পূর্ণ করতে সম্পাদন করেছিলেন।

মীখা ৫:২ পদে বলা হয়েছে, “আর তুমি, হে বৈৎলেহম-ইফ্রাথা তুমি যিহূদার সহস্রগণের মধ্যে ক্ষুদ্র বলিয়া অগণিতা, তোমা হইতে ইস্রায়েলের মধ্যে কৰ্ত্তা হইবার জন্য আমার উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তি উৎপন্ন হইবেন; প্রাক্কাল হইতে, অনাদিকাল হইতে তাহার উৎপত্তি।” যোষেফ এবং মরিয়মের সেই নগরে পৌঁছানোর দ্বারা ভাববাণীকৃত নগর বৈৎলেহম বিশেষ নগরী হয়েছিল, যেখানে ত্রাণকর্তার জন্মের দিন উপস্থিত হয়েছিল, এবং তিনি জন্মেছিলেন অর্থাৎ ঈশ্বর তাঁর ভাববাদি গণের ভাববাণী পূর্ণ করতে এই কার্য সাধন করেছিলেন। মানবজাতির পাপ মুছে ফেলার নিমিত্ত এটা ছিল ঈশ্বরের পরিকল্পনার নিশ্চিত অর্জন। যার জন্য পুরাতন নিয়মের ভাববাণী বাক্যের পূর্ণ সাধন করতে যীশুকে ছোট নগর বৈৎলহমে জন্ম গ্রহণ করতে হয়েছিল।

ছোট নগর বৈৎলহমে যীশুর জন্মের এক হাজার বছর পূর্বে ঈশ্বর তাঁর ভাববাণী মীখার মধ্য দিয়ে ভাববাণীর বাক্য দিয়েছিলেন, উপরে যেভাবে উল্লেখ রয়েছে (মীখা ৫:২)। তেমনিভাবে, যিশাইয় ভাববাদী প্রায় ৭০০ বছর পূর্বে আমাদের প্রভুর আসার বিষয়ে ভাববাণী করেছিলেন যে, মশীহ কিভাবে তাঁর লোকদের নিকট এসে পাপীদের ত্রাণকর্তা হবেন। (যিশাইয় ৫৩)। ঈশ্বর যেবাবে মীখা ভাববাদীর মধ্য দিয়ে ভাববণী করেছিলেন, ঠিক সেইভাবে যীশু ছোট নগরী বৈৎলহমে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন, তিনি সর্বদা তাঁর ভাববাণীর বাক্য পূর্ণ করেন।

 যখন যোষেফ এবং মরিয়ম আদমশুমারীর জন্য নাম লেখাতে তাদের পূর্ব পুরুষদের নগরে ঢুকেছিলেন, তখন ঐতিহাসিক ঘটনার মত হিসাবে এই ভাববাণী পূর্ণ হয়েছিল। ঈশ্বর এটা নিশ্চিত হওয়ার দ্বারা তাঁর বাক্য পূর্ণ করেছিলেন যে, মরিয়ম ঠিক যখন বৈৎলহমে প্রবেশ করবে, তখনই শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার সময় আসবে, অন্য কোথায়ও নয় কিন্তু এই নগরেই তাঁকে এই নগরেই সন্তান প্রসব করতে হয়।

এখানে, আমরা দেখতে পাই যে, আমাদের ঈশ্বরই ঈশ্বর যিনি আমাদিগকে তাঁর ভাববাণী বলে এবং সমস্তই যথাযথভাবে পূর্ণ করেন। এর থেকে আমরা খুঁজে পাই যে, সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণে ব্যবহৃত “পাকান মসীনা সূত্রা” ঈশ্বরের বাক্যে পরিপূর্ণতা এবং সুক্ষতার ইঙ্গিত করে। ঈশ্বরের এমন কি সৃষ্টির পূর্বে মানব জাতির পরিত্রাণের পরিকল্পনা করেছিলেন এবং তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ বাণীর বাক্য অনুসারে ব্যর্থতা ব্যতিতই এটা পূর্ণ করেছিলেন।

অতএব, আমরা বুঝতে পারি যে, পুরাতন নিয়মের বাক্য নিশ্চয়ই ঈশ্বরের বাক্য, এবং নূতন নিয়মের বাক্য ও ঈশ্বরের বাক্য। বিশ্বাস অনুসারে আমরা আরও বুঝতে পারি যে, প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের সমস্ত মহাবিশ্ব এবং পৃথিবীর উপরে শাসন এবং ঘটনা পরিচালনা না করেন। অন্য কথায়, আমরা বুঝতে পারি যে, ঈশ্বর সমস্ত মহাবিশ্ব সৃষ্টি করে আমাদিগকে দেখিয়েছেন যে, তিনি সমস্ত লোক, সমস্ত ঘটনা এবং পুংখানুপুংখরূপে প্রত্যেকের সমস্ত অবস্থার উপরে রাজত্ব করেন। অতএব, ঈশ্বর আমাদিগকে দেখান যে, সেটা যাই হোক না কেন, তাঁর অনুমোদন ব্যতিত কারো নিজের ইচ্ছার কিছুই অর্জন সম্ভব নয়।

যখন শিশু যীশু জন্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং এই জগতে এসেছিলেন, তিনি পশুর আবাস্থলে জন্ম গ্রহণ না করে পারেন নাই, যেহেতু পান্থশালায় তাঁর জন্য কোন স্থান ছিল না। আর প্রকৃত পক্ষে তিনি নিজেই বৈৎলহমে নগরে জন্মেছিলেন। আরমা অবশ্যই অনুধাবন করব যে, এগুলো ঈশ্বরের দূরদর্শিতাপূর্ণ ভাববাণী অনুসারে তাঁর বিশ্ববাস্তবতার চমৎকার অর্জন।

অতএব, আমরা অবশ্যই বিশ্বাস করি যে, একজন যিনি এই মহাবিশ্বের ঘটনা সমূহ নিয়ন্ত্রন করেন, তিনি আমাদের ঈশ্বর, ত্রাণকর্তা যিনি আমাদেরকে আমাদের পাপ থেকে মুক্ত করেছেন। এই সত্যই ঈশ্বরের বাক্য যা, আমাদিগকে দেখায় যে, তিনি সমস্তের উপরে কর্ত্তৃত করেন, যেহেতু, ঈশ্বর সমস্ত কিছুরই প্রভু।

এটা এখন এমন ভাবে পরীক্ষিত যে, যীশুর জন্ম গ্রহণ বেৎলহমের ছোট নগরে হওয়া কোন দূর্ঘটনায় পতিত হওয়া নয়, অথবা এমন কিছু নয় যা বাইবেলের বাক্য সুনিপুন ভাবে তৈরী করার দ্বারা খামখেয়ালীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঈশ্বর নিজে যা কিছু বলেছেন, এটা তা-ই, এবং ঈশ্বর যীশুর মধ্য দিয়ে যার পূর্ণতা সাধন করেছেন, এটা তা-ই।

আমরা অবশ্যই এটা জানব এবং বিশ্বাস করব। আমরা অবশ্যই এটাকে হৃদয়ে গ্রহণ করব এবং বিশ্বাস করব যে, আমাদের মশীহের পরিত্রাণ সেই সত্য যা, নীল, বেগুন, লালও পাকানো সাদা মসীনা সূত্র দ্বারা পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়েছে। ঈশ্বর আমাদিগকে এটাও দেখিয়েছেন যে, পাপের মোচন এমন কিছু নয় যা, দূর্ঘটনাবশত অর্জিত হয়েছে, কিন্তু এটা অর্জিত হয়েছে ঈশ্বরের দূরদর্শিতায় প্রস্তুতকৃত যীশুর চারটি কার্যকালেন মধ্য দিয়ে।

এটা সেই সাথে আরও দেখায় যে, খ্রীষ্টিয়ান ধর্ম অন্যান্য পার্থিব ধর্মের একটি নয়। একটি পার্থিব ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা এবং খাঁটি মরণশীল কিন্তু খ্রীষ্টয়ান ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা আমাদের ত্রাণকর্তা নিজেই ঈশ্বর, এই সত্যই খীষ্ট ধর্মের মূল ভিত্তি। অন্যকথায়, ঈশ্বর নিজেই সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, খ্রীষ্ট ধর্ম কোন পার্থিব ধর্ম নয়। অন্যান্য পার্থিব ধর্মের মত নয়, খ্রীষ্টিয়ান ধর্ম ঈশ্বরের সমস্ত অনুগ্রহের উপর প্রতিষ্ঠিত। যেভাবে এটা রোমীয় ১১:৩৬ পদে লেখা রয়েছে, “যেহেতুক সকলই তাঁহা হইতে ও তাঁহার দ্বারা ও তাহার নিমিত্ত। যুগে যুগে তাঁহারই গৌরব হউক। আমেন।” তিনি আমাদিগকে তাঁর একমাত্র পুত্রকে আমাদের ত্রাণকর্তা হিসাবে, আমাদের পাপের মোচনের নিমিত্ত জল ও আত্মার সুসমাচার, অন্তরে বাসকারী পবিত্র আত্মা এবং স্বর্গরাজ্য প্রদান করেছেন। অতএব, আমরা সকলে জানি এবং হৃদয়ে বিশ্বাস করি যে, আমাদের সমস্ত অন্তঃকরণ দ্বারা আমাদের ঈশ্বর এবং তাঁর বাক্যকে পালন করব এবং ভয় করা উচিত।

 এমন কি সৃষ্টির পূর্বেই এই পৃথিবীতে মশীহের জন্ম, পিতা ঈশ্বর কর্ত্তৃক সংকল্পিত পরিত্রাণের পরিকল্পনা অনুসারে হয়েছিল। আমাদের পরিত্রাণ যথার্থভাবেই এর মধ্য দিয়ে পরিকল্পিত হয়েছিল। ঈশ্বর আমাদিগকে পরিষ্কার ভাবে অনুধাবন করতে দিয়েছেন যে, এই সত্যই নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো সাদা মসীনা সূত্রের প্রকৃত বিষয়বস্তু। অতএব, আমাদেরকে পরিত্রাণ জানতে হবে যা, আমাদের পাপের মোচন হিসাবে জল ও আত্মার সুসমাচারের মধ্য দিয়ে আমাদের কাছে এসেছে এবং এই রূপ বিশ্বাস করতে হবে যে, এই চারটি বর্ণের সত্য ও জল ও আত্মার সুসমাচারের দ্বারা সম্পূর্ণ হয়েছে।



যীশু খ্রীষ্ট, ত্রাণকর্তা যিনি আমাদিগকে তাঁর নীল, বেগুনে, 

লাল এবং পাকানো মসীনা সূত্রের মাধ্যমে রক্ষা করেছেন


যে কার্যের দ্বারা যীশু খ্রীষ্ট পাপীদেরকে তাদের পাপ থেকে রক্ষা করেছিলেন তা চার খন্ডে বিভক্তঃ নীল সূত্র (যীশুর বাপ্তিস্ম) বেগুনে রং (ঈশ্বর হিসাবে অন্য কথার, যীশু রাজাদের রাজা) লাল সূত্র (যীশুর রক্ত); এবং পাকানো মিহি মসীনা সূত্র (নূতন নিয়মের বাক্যের বিশদ ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে পাপীদের তাদের সমস্ত পাপ থেকে পরিত্রাণের সম্পূর্ণতাদায়ক)। যীশু নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূত্রের মধ্য দিয়ে যথাযথ ভাবে ত্রাণকর্তা হয়েছেন। 

আমাদেরকে অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে যে, যীশু যিনি জল ও আত্মার মধ্য দিয়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন, আমাদেরকে নীল (যীশুর বাপ্তিস্ম), বেগুনে (যীশুই ঈশ্বর), লাল (যীশুর রক্ত) এবং পাকানো মিহি মসীনা সূত্রের (যীশু যিনি নূতন নিয়মের বাক্যের মাধ্যমে পরিত্রাণ অর্জন করে ছিলেন)মধ্য দিয়ে আমাদের পাপ থেকে রক্ষ করেছেন, এটাতে আমাদের বিশ্বাস ব্যতিত আমরা কখনই আমাদের পাপ এবং এই পাপের দন্ড থেকে থেকে কখনও মুক্তি পেতে পারি না। এইভাবে আমাদের পাপ এবং দন্ড থেকে রক্ষা করা ব্যতিত আমাদের প্রভু আমাদের যথার্থ ত্রাণকর্তা হতে পারতেন না।

কেন সমাগম তাম্বুর দ্বারের পর্দা নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মসীনা সূত্রের দ্বারা হয়েছিলেন, অবশ্যই এর কারণ আত্মিক ভাবে আমাদিগকে বুঝতে হবে। সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বার নীল, বেগুনে লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূত্র অবশ্যই দ্বারটি চিনতে এবং সহজে খুঁজে পেতে পারে। এই দ্বারের মাধ্যমে ঈশ্বর তাঁর প্রতাপযুক্ত গৃহে প্রবেশ করতে অনুমোদন করতেন।

 সমাগম তাম্বু নিজেই ঈশ্বরের প্রতাপযুক্ত গৃহ। সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারের এবং বেড়ায় প্রতীয়মান সত্য অনুধাবন ব্যতিত যে কেউ ইচ্ছে করলেই ঈশ্বরের গৃহে প্রবেশ করতে পারত না। ঈশ্বর বলেছিলেন যে, যারা সমাগম তাম্বুতে সজ্জিত পাকানো সাদা মসীনার পবিত্রতা অগ্রাহ্য করবে, তারা দ্বার দিয়ে সমাগম তাম্বুতে প্রবেশ করতে পারে না, কিন্তু অন্য পথ দিয়ে যারা প্রবেশ করে তারা চোর ও দস্যু। পরিত্রাণের দ্বার বলতে যীশু খ্রীষ্টকে বুঝায় (যোহন ১০)।

যখন বাইবেল বলে যে, এই দ্বার নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো সাদা মসীনা সুত দ্বারা বোনা হয়েছিল, তখন ঈশ্বর আমাদেরকে পরিষ্কার ভাবে দেখাচ্ছেন যে, নূতন এবং পুরাতন নিয়মের তাঁর সত্যের বাক্যের মধ্য দিয়ে যীশু ঈশ্বরের পুত্র হিসাবে এই জগতে এসেছিলেন, যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন। ক্রুশে মরেছিলেন, আমাদের মশীহ হয়েছেন। এভাবে আমরা নীল, বেগুনে লাল এবং পাকা মিহি মসীনা সূত্রের কার্যকাল খুঁজে পেতে পারি। আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, ঈশ্বরের পুত্র, সেবা বিশ্বাস ঈশ্বর আমাদিগকে অনুমোদন করেছে, যিনি পাপের বিচার থেকে আমাদিগকে রক্ষা করতে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, এবং তিনিই ত্রাণকর্তা, যিনি বর্তমানে নূতন এবং পুরাতন নিয়মের মধ্য দিয়ে মানবজাতির পরিত্রাণ অর্জন করেছেন।

আমরা অবশ্যই প্রকৃত পক্ষে বুঝতে সক্ষম হবে কেন সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বার দিয়ে নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূত্র দ্বারা বোনা হয়েছিল। নীল সূত্র আমাদিগকে কি বলে? এবং বেগুনে লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূত্র আমাদিগকে কি বলে? যখন আমরা ঈশ্বরের সংকল্প বুঝি, আমরা আরও বুঝি যে, নীল, বেগুনে লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূত্রের কার্যসমূহ আমাদের নিমিত্ত ঈশ্বরের পরিত্রাণের পরিকল্পনা, এবং অনন্ত জীবনের সত্য এবং এর ফলে পাপ মোচনে আমাদের বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে আমরা তাঁর রাজ্যে প্রবেশ করতে পারি।

 যখন আমরা বলি যে, আমরা নীল, বেগুনে, এবং লাল সূত্রে বিশ্বাস করি, এর অর্থ হল যে, যীশু যোহন কর্ত্তৃক কেন বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন এবং ক্রুশে রক্ত সেচন করেছিলেন, মশীহ কে পুরাতন নিয়মের সমস্ত বলিদানের কার্যসমূহ, এবং নূতন নিয়মের জল ও আত্মার সুসমাচার আমরা ভালভাবে জানি। সংক্ষেপে, বিশ্বাসীগণের প্রয়োজনীয়, যারা অনন্তকালের নিমিত্ত রক্ষা পেতে আন্তরিকভাবে সত্যের অনুসন্ধান করে।

এটা মনে হতে পারে যে, অনেক লোক সমাগম তাম্বুর বিষয়ে ভাল জ্ঞান সম্পন্ন, কিন্তু বস্তুতঃ এটা আসলে কোন ব্যাপার নয়। সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারের নীল, বেগুনে, এবং লাল এর দ্বারা কি বুঝায়, লোকের আসলে সেটা সম্পূর্ণ এড়িয়ে যায়। এই নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো সাদা মসীনা সূত্রের কার্যকালগুলি বুঝতে পাপ কঠিন, এগুলোর বিষয়ে শিখতে এবং বিশ্বাস করতে অনেক লোকের সত্য আকাংঙ্খা রয়েছে। যাহোক, যেহেতু এই কার্যকাল কারো দ্বারা বুঝতে পারা যায় না, তাদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের মন্তব্যের উপর ভিক্তি ভুলভাবে এটাকে ব্যাখ্যা করছে। বস্তুত, অনেক ধর্মীয় নেতারা এই সত্যকে যেভাবে তারা উপলব্ধি করছে ভুল ব্যাখ্যা করতে এবং ভুল বুঝছে, তারা এটাকে শুধুমাত্র তাদের ধর্মীয় উদ্দেশে ব্যবহার করছে। কিন্তু ঈশ্বর খ্রীষ্টিয়ানদেরকে এইসব মিথ্যাবাদীর দ্বারা আর প্রতারিত হতে দিবেন না। এই নিমিত্তে তাঁকে সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারে নিমিত্তে ব্যবহৃত নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূত্রের সত্য পরিষ্কার ভাবে ব্যাখ্যা করতে হয়েছে এবং তার কারে কালে তাদেরকে সমস্ত পাপ থেকে রক্সা করেছেন।

 নূতন নিয়ম হতে ১ যোহন ৫:৬-৮ পদে বলা হয়েছে, “যীশু তাহাকে পড়িয়া থাকিতে দেখিয়া ও দীর্ঘকাল সেই অবস্থায় রহিয়াছে জানিয়া কহিলেন, তুমি কি সুস্থ হইতে চাও? রোগী উত্তর করিল, মহাশয়, আমার এমন কোন লোক নাই যে, যখন জল কম্পিত হয়, তখন আমাকে পুস্করিণীতে নামাইয়া দেয়; আমি যাইতে যাইতে আর এক জন আমার আগে নামিয়া পড়ে।” এই অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আমাদের প্রভু মানব দেহে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, তাঁর বাপ্তাস্মের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছিলেন এবং তাঁর রক্ত সেচনের দ্বারা আমাদিগকে রক্ষা করেছিলেন। এ কারণেই সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বার সম্পূর্ণই নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূত্রে বোনা হয়েছিল।

প্রথমতঃ নীল সূত্র আমাদিগকে কি প্রদর্শন করে? এটা আমাদিগকে সত্যের একটি অংশ প্রদর্শন করে, যিনি এই জগতে এসে যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তিস্ম গ্রহণের দ্বারা পৃথিবীর সমস্ত পাপ তুলে নিয়ে পাপীদের প্রকৃত মশীহ হয়েছেন। বস্তুতঃ এই বাপ্তিস্ম যা যীশু যর্দ্দন নদীতে যোহন কর্ত্তৃক গ্রহণ করেছিলেন, তা যীশুর এই পৃথিবীর সমস্ত পাপ একেবাবে চিরতরে তুলে নেয়ার সত্য। মানব জাতির প্রতিনিধি যোহন বাপ্তাইজক কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা যীশু প্রকৃতই পৃথিবীর সমস্ত পাপ তাঁর কাঁধে বহন করেছিলেন। কারণ এভাবেই সমগ্র মানবজাতির পাপ যীশুর নিজের মস্তকে স্থানান্তরিত হয়েছিল, যারা এই সত্য বিশ্বাস করে, তাদের হৃদয়ে কোন পাপ থাকে না।

দ্বিতীয়তঃ, সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারের বোনা বেগুণে সূত্রের প্রকৃত অর্থ কি? এটা আমাদিগকে বলে যে, যীশুই প্রকৃত রাজাদের রাজা।বস্তুতঃ যীশু বিশ্বকে সৃষ্টি করেছিলেন, তিনি নিজেই সৃষ্টিকর্তা, কোন সৃষ্টি নন, এবং প্রকৃতই একজন মশীহ, যিনি এই জগতে এসেছিলেন। তিনি, মশীহ প্রকৃতই ইতিমধ্যে মানব দেহে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন। আর যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তিস্ম গ্রহণের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত পাপ তাঁর নিজের দেহে বহন করার দ্বারা এবং বলিরূপ মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মাধ্যমে যীশু তাঁর সমস্ত লোকদেরকে তাদের সমস্ত পাপ ও পাপের বিচার থেকে রক্ষা করেছেন, যারা তাদের মশীহকে চেনে, ভয় করে এবং বিশ্বাস করে।

 বস্তুতঃ যীশুই যথার্থ ঈশ্বর এবং যথার্থ মশীহ। তিনিই যথার্থ ত্রাণকর্তা। কারণ যীশু রক্ত সেচন, দ্বারা ক্ৰুশীয় মৃত্যু এবং মৃত্যু থেকে তাঁর পুনরুত্থানের দ্বারা তিনি তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে পৃথিবীস্থ আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন, তিনি শুধু আমাদের পাপ ধৌত করেন নাই, কিন্তু তিনি আমাদের স্থলে পাপের ভয়ঙ্কর বিচারও গ্রহণ করেছেন।

তৃতীয়তঃ লাল সূত্র দ্বারা রক্তকে বুঝায় যা, যীশু ক্রুশে সেচন করেছিলেন, এবং এর অর্থ হচ্ছে, আমরা যারা তাঁকে বিশ্বাস করি, তিনি আমাদিগকে নূতন জীবন দান করেছেন। লাল সূত্রের সত্য আমাদিগকে বলে যে, যোহনের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহণ করার মাধ্যমে পৃথিবীর সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নেওয়ার দ্বারা যীশু খ্রীষ্ট আমাদের নিজেদের পাপের জন্যে শুধুমাত্র বিচারই গ্রহণ করেন নাই, কিন্তু যারা পাপে মৃতু ছিল তাদেরকে জীবন প্রদানের বিশ্বাস প্রদানের দ্বারা নূতন জীবনও প্রদান করেছেন। যারা তাঁর বাপ্তিস্মে এবং তিনি যে রক্ত সেচন করেছেন তাতে বিশ্বাস করে, প্রকৃতই যীশু তাদেরকে নূতন জীবন দান করেছেন।

তাহলে, পাকানো মিহি মসীনার কি অর্থ প্রকাশ করে? এটার দ্বারা প্রতীয়মান হচ্ছে যে, নূতন নিয়মের মাধ্যমে লিখিত ঈশ্বরের পরিত্রাণের প্রতিজ্ঞা তিনি পূর্ণ করেছেন। এটা আমাদিগকে আরও বলে যে, যখন নূতন নিয়মে যীশু তাঁর বাপ্তিস্ম এবং আমাদের পাপের নিমিত্ত ক্রুশের উপরে বিচারিত হওয়ার মাধ্যমে পৃথিবীর সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিলেন, তখন ঈশ্বর ইস্রায়েলদের এবং আমাদের কাছে পরিত্রাণের যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তা তিনি পূর্ণ করেছিলেন।

যিশাইয় ১:১৮ পদে যিহোবা ঈশ্বর বলেছেন, “সদাপ্রভু কহিতেছেন, আইস, আমরা উত্তর প্রত্যুত্তর করি; তোমাদের পাপ সকল সিন্দুবরণ হইলেও হিমের ন্যায় শুক্লবর্ণ হইবে; লাক্ষার ন্যায় রাঙ্গা হইলেও মেষলোকের ন্যায় হইবে।” তাছাড়া, সমাগম তাম্বুতে যে ভাবে বলিদান উৎসর্গ করা হত, পুরাতন নিয়মের বলিদান পদ্বতি সেইভাবে পরিচালিত হত, যেইভাবে ইস্রায়েলদের পাপ বলিদানের মেষের উপরে হস্তপর্ণের মধ্য দিয়ে চলে যেত, সেটাই ছিল ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা, যা ঈশ্বর ইস্রায়েল এবং আমাদের কাছে করেছিলেন। এটা ছিল ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞার প্রকাশ যে, তিনি ভবিষ্যতে ঈশ্বরের মেষশাবকের মাধ্যমে জগতের সমস্ত লোকের তাদের দৈনিক এবং পার্থিব পাপ থেকে রক্ষা করেছেন।

এটা ছিল মশীহ আসার প্রতিজ্ঞারে চিহ্ন। তাই নূতন নিয়মের সময়ে, যখন যীশু পুরাতন নিয়ম অনুসারে তাঁর বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে পৃথিবীর সমস্ত পাপ একেবারে চিরতরে তাঁর উপরে তুলে নিয়েছিলেন, এটা ছিল ঈশ্বরের চুক্তির পূর্ণতা সাধন। ঈশ্বর আমাদিগকে তাঁর প্রতিজ্ঞার বাক্য প্রদান করে দেখিয়েছেন যে, তিনি প্রকৃতই সে গুলোকে পূর্ণ করেছেন, ঠিক যেভাবে তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। যে বাপ্তিস্ম যীশু গ্রহন করেছিলেন তাতে এই সত্য প্রতীয়মান হয় যে, প্রতিজ্ঞার ঈশ্বর তাঁর সমস্ত প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করেছেন।



যীশু খ্রীষ্ট, যিনি জল, রক্ত এবং পবিত্র আত্মার দ্বারা

এসেছিলেন


যীশু কেন যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন? কারণ ছিল, মানব জাতির সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিতে এবং আমাদের নিমিত্তে পাপের বিচার গ্রহণ করতে। সমগ্র মানব জাতির পাপ মুছে দিতে এবং আমাদের সত্য ত্রাণকর্তা হতে যীশু যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, ক্ৰুশারোপিত হয়েছিলেন এবং এর উপরে রক্ত সেচন এবং মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এরূপ করার দ্বারা তিনি শুধুমাত্র আমাদের পাপ ধৌত করেন নাই, কিন্তু আমাদের পরিবর্তে তিনি এই সমস্ত পাপের সকল বিচার গ্রহণ করেছেন এবং এভাবে আমাদের অনন্ত ত্রাণকর্তা হয়েছেন। যখন তিনি যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন এবং ক্রুশের উপরে পৃথিবীর এই পাপ সমূহ বহন করেছিলেন, তখন আমাদের সমস্ত পাপ যীশুতে চলে গিয়েছিল। এর কারণ, যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা, তিনি আমাদের সমস্ত পাপ বহন করেছিলেন, এবং যেহেতু জগতের এই সমস্ত তিনি বহন করেছিলেন, তাই তাকে ক্রুশারোপিত হতে হয়েছিল, ক্রুশের তাঁর রক্ত সেচন এবং আমাদের স্থুলে তাঁকে মরতে হয়েছিল।

যিশাইয় ৫৩:৫ পদে বলা হয়েছে, “কিন্তু তিনি আমাদের অপরাধের নিমিত্ত বিদ্ধ, আমাদের অপরাধের নিমিত্ত চূর্ণ হইলেন; আমাদের শান্তি জনক শাস্তি তাঁহার উপরে বৰ্ত্তিল, এবং তাঁহার ক্ষত সকল দ্বারা আমাদের আরোগ্য হইল।” প্রভুর বাপ্তিস্মের মধ্য দিয়ে আমাদের যে আদি পাপ আমরা আমাদের সকলের পূর্ব পুরুষ আদম হতে উত্তোরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলাম এবং আমাদের নিজেদের প্রকৃত পাপ, যা আমরা আমাদের জীবন-যাপনের মধ্য দিয়ে করে থাকি, তা সমস্তই যীশুতে চলে গিয়েছিল। আর তিনি এই সমস্ত পাপের নিমিত্ত বিচারিত হয়েছিলেন। এভাবে রক্ত ও রক্তের দ্বারা আমাদের নিকটে আসার দ্বারা আমাদের প্রভু আমাদের সমস্ত পাপ মুছে দিয়েছেন (১ যোহন ৫:৫-৮)।

তাহলে, এই যীশু খ্রষ্টি, আমাদের ত্রাণকর্তা এবং মশীহ কে যিনি আমাদের সমস্ত পাপ হৃদয়ঙ্গম করেছিলেন এবং সে গুলোকে মুছে দিয়েছিলেন? আদি পুস্তক ১:১ পদে বলা হয়েছে, “আদিতে ঈশ্বর আকাশ মন্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি করিলেন।” কে এই শক্তিমান ঈশ্বর ছিলেন যে, তার বাক্যের দ্বারা মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছিলেন? তিনি পাপীদের মশীহ ব্যতিত অন্য কেউ নন, যিনি আপনাকে এবং আমাকে পৃথিবীর সমস্ত পাপ থেকে রক্ষা করতে তাঁর বাপ্তিস্মের জল দ্বারা এসেছিলেন, তিনি একজন যিনি, ত্রাণকর্তা হিসাবে এসেছিলেন, যিনি পৃথিবীর সমস্ত পাপের নিমিত্তে বিচারিত হতে ক্রুশে রক্ত সেচন করেছিলেন। জল, রক্ত এবং আত্মার মধ্য দিয়ে যীশু পাপ এবং বিচার থেকে আমাদিগকে রক্ষা করেছেন। আমাদের প্রভু আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিতে আমাদের ত্রাণকর্তা হিসাবে এসেছিলেন এবং আমাদের স্থুলে এই পাপে বিচারিত হয়েছেন।

বস্তুতঃ যীশু নিজেই ঈশ্বরের পুত্র এবং ঈশ্বর মশীহই প্রকৃত আমাদের ঈশ্বর। “যীশু” নামের অর্থ “ত্রাণকর্ত, যিনি তাঁর প্রজাগণকে তাদের পাপ থেকে উদ্ধার করতেন” (মথি ১:২১)। অন্য দিকে গ্রীক ভাষায় “খ্রীষ্ট” “Basileus ” অর্থ “রাজাদের রাজা”। যীশুই সৃষ্টিকর্তা, যিনি সম্পূর্ণ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন, সকলের প্রকৃত শাসন কর্তা পাপীদের মুক্তিদাতা, এবং রাজাদের রাজা, যিনি শয়তানের বিচার করেন।

এই সত্য ঈশ্বরই প্রকৃত ভাবে তাঁর প্রতিমূর্তিতে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর নিজের সৃষ্টি এই আমরা যে ভাবে আমাদের দুর্বলতার কারণে পাপ পতিত হয়েছিলাম এবং ধংসপ্রাপ্ত হতে নরকযোগ্য হয়েছিলাম, আমাদের পাপ থেকে আমাদেরকে রক্ষা করতে রাজাদের রাজা আমাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন এবং এবং এই প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করতে তিনি আমাদের কাছে এসেছিলেন। আর আমাদেরকে পাপহীন ঈশ্বরের লোক করতে আমাদের প্রভু নিজেই জল, রক্ত এবং আত্মার দ্বারা আমাদের কাছে এসেছিলেন।

মশীহ, যিনি সৃষ্টিকর্তা প্রকৃতই আমাদের সমস্ত পাপ মুছে দিতে মানব দেহে এই জগতে এসেছিলেন, এবং যর্দন নদীতে যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছিলেন। আর ক্রুশীয় মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের সমস্ত পাপের নিমিত্ত আমাদের স্কুলে বিচারিত হয়েছিলেন। বস্তুতঃ যীশু খ্রীষ্টই আমাদের মশীহ যেহেতু তিনি আমাদের ত্রাণকর্তা এবং আমাদের জীবনের প্রভু, আমরা তাঁতে জীবন-যাপনের দ্বারা নূতন এবং অনন্ত জীবন লাভ করতে পারি। অতএব, মশীহ প্রকৃতপক্ষেই আমাদের ঈশ্বর হয়েছেন। এ কারণেই সমাগম তাম্বুর দ্বারের নীল, বেগুনে, ও লাল সূত্রে বোনা হয়েছিল, এটাই জল ও আত্মার রহস্য, যা আমাদের সমস্ত পাপ এবং পাপের বিচার থেকে আমাদেরকে মুক্ত করেছে।

 প্রভু যে প্রকৃতই আমাদেরকে পাপ থেকে রক্ষা করেছেন তা অস্পষ্ট নয়। আমাদের প্রভু আমাদের কাছে অনিশ্চিত ভাবে তার পরিত্রাণের প্রতিজ্ঞা করেন নাই, এটা সাদামাটা ভাবে অর্জিত হয়নি, এবং তিনি প্রকৃতই তার জল ও রক্তের মধ্য দিয়ে আমাদিগকে রক্ষা করেছেন, এই কঠিন সত্যকে এবং তাঁকে যারা খামখেয়ালিভাবে বিশ্বাস করে, তিনি তাদের বিশ্বাসকে স্বীকৃত দেন না। অতএব, যারা তাঁকে নামমাত্র বিশ্বাস করে, আমাদের প্রভু তাদেরকে বলেছেন, “যাহারা আমাকে হে প্রভু, হে প্রভু বলে তাহারা সকলেই যে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করিতে পাইবে, এমন নয়, কিন্তু যে ব্যক্তি আমার স্বর্গস্থি পিতার ইচ্ছা পালন করে, সেই পাইবে”(মথি ৭:২১)।

ভ্রান্ত শিক্ষকের দৃঢ়ভাবে বলে যে, তারা প্রকৃতই লোকদেরকে যীশু নামে পবিত্র আত্মা গ্রহণ করিয়েছে, তার নামে ভুত ছাড়িয়েছে এবং তাঁর নামে অনেক আশ্চর্য কাজ করেছে। কিন্তু মথি ৭:২৩ পদে ঈশ্বর তাদেরকে বলেছেন যে, “আমি কখনও তোমাদিগকে জানি নাই; হে অধর্মচারীরা, আমার নিকট হইতে দূর হও!” এটা আমাদিগকে বলে যে, খ্রীষ্টিয়ানদের মধ্যে অনেকে আছে যারা তাতের পাপে পূর্ণ রয়েছে, যারা বিচারের দিনে তাদের পাপের জন্যে বিচারিত হবে এবং নরকে নিক্ষিপ্ত হবে।

 বস্তুতঃ বহু খ্রীষ্টিয়ান আছে যারা পরিষ্কার ভাবে স্বীকার করে, “যীশু আমাদের ত্রাণকর্তা। যীশু দ্ব্যর্থহীন ভাবে আমাদেরকে আমাদের সমস্ত পাপ থেকে রক্ষা করেছেন।” কিন্তু এরূপ দাবী সত্ত্বেও, এমন কি তারা শিখতে ও চেষ্ঠা করে না যে, প্রকৃতই মশীহ তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা তাদের পাপ তুলে নিয়েছেন, এবং প্রকৃতই তাদের এই সমস্ত পাপের জন্য ক্রুশে রক্ত সেচনের দ্বারা বিচারিত হয়েছেন। এই সমস্ত লোকেরা পাপ পূর্ণ অবস্থায় ঈশ্বরের সম্মুখে যায়, যেহেতু তারা শুধু নামে মাত্র বিশ্বাস করে, ঠিক যে পার্থিব অন্যান্য ধর্মের একটি তারা খাঁটি অনুশীলন করছে।

এরূপে, যেহেতু তারা প্রভুর বলা সত্য অনুসারে বিশ্বাস করে না, প্রভু বলেন, “তোমরা সত্য জানিবে, এবং সত্য তোমাদিগকে স্বাধীন করিবে,” তাই তারা প্রভু কর্ত্তৃক স্বীকৃত নয়। লোকেরা যীশুতে বিশ্বাস বা না করুক, যাদের অন্তরে পাপ রয়েছে, তারা ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে না, যেখানে কোন পাপ পাওয়া যায় না, এই জন্য তারা এখানে প্রবেশ করার অযোগ্য। অতএব, তাদেরকে অবশ্যই নিশ্চিত হবে যে, পৃথিবীতে থাকা অবস্থায় নীল, বেগুনে এবং লাল সূত্রের সত্যে বিশ্বাসের দ্বারা তারা স্বর্গে প্রবেশ করার যোগ্য হতে পারে। সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারের পর্দা নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূত্রের দ্বারা বোনা ছিল মশীহের দূরদর্শীতা। পাপের কারণে যারা নরকযোগ্য তাদেরকে অবশ্যই এতে বিশ্বাস করতে হবে।

কারণ এই লোকেরা সত্য জানে না, আর যেহেতু তারা তাদের নিজেদের অর্জিত ভুল জ্ঞান দ্বারা যীশুতে বিশ্বাস করে, তাই তারা এখনও পাপে পূর্ণ সমাগম তাম্বুর বিষয় বস্তুতে সত্য অনুসারে বিশ্বাস না করার কারণে তারা এখনও পাপে পূর্ণ রয়েছে, তারা তাদের নিজস্ব ভাবনায় ত্রাণকর্তার বিষয়ে চিন্তা করছে এবং এই ভাবনায় উপরে ভিত্তি করে তাদের নিজস্ব পরিত্রাণের মতবাদ সৃষ্টি করছে, বিশ্বাস করছে যে, ঈশ্বরের কাছে অনুতাপের পাপের প্রার্থনা উৎস্বর্গের দ্বারা তাদের নিজস্ব চেষ্টার মধ্য দিয়ে পরিত্রাণ আসে এবং তারা তাদের বর্ধিত পবিত্রতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

এই পৃথিবীতে অনেকে আছে যারা যীশুকে তাদের ত্রাণকর্তা হিসাবে বিশ্বাস করার দাবী করে, এবং তথাপি তারা প্রকৃতভাবে যীশুর বাপ্তিস্ম এবং তার রক্তে বিশ্বাস করে না। এই পৃথিবীতে অনেকে আছে যারা তাদের পরিত্রাণ হিসাবে নীল, বেগুনে, এবং লাল সূত্রে বিশ্বাস ব্যতিরেকে চিন্তা করে যে, যদিও তারা পাপে পূর্ণ, তথাপি তারা শুধু যীশুর রক্তে বিশ্বাসের দ্বারাই ঈশ্বরের পবিত্র রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে।



নূতন এবং পুরাতন নিয়মের মিলকরণ


যিশাইয় ৩৪:১৬ পদে ঈশ্বর আমাদিগকে বলেন যে, ঈশ্বরের প্রতিটি বাক্যরই এক একটি পরিপুরক বাক্য আছে। অন্য কথায়, ঈশ্বরের সমস্ত বাক্যই পূর্ণ হয়েছে। ঈশ্বর আমাদেরকে অনুসন্ধান করতে বলেছেন যে, তাঁর নূতন নিয়মের বাক্যের সাথে তাঁর পুরাতন নিয়মের বাক্যের মিল রয়েছে কি-না। পুরাতন নিয়মে যা লেখা হয়েছে, নূতন নিয়মে তার একটি অনুরূপ বাক্য রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, পুরাতন নিয়মে সেখানে ইস্রায়েলেরা হস্তাপর্ণের মধ্য দিয়ে বলির মেষের উপরে তাদের পাপ অর্পণ করত। নূতন নিয়মে পৃথিবীর আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিতে যীশু খ্রীষ্ট বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন এবং এভাবেই আমাদের সমস্ত পাপ তাঁতে স্থানান্তরিত হওয়ার দ্বারা পুরাতন নিয়মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়েছে।

 যীশু তাঁর জল ও রক্তের মধ্য দিয়ে বলিদান যোগ্য উপহার এবং পাপীদের ত্রাণকর্তা হিসাবে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন। যদি তিনি বাপ্তিস্ম গ্রহণের দ্বারা পৃথিবীর সমস্ত পাপ তুলে না নিতেন, তাহলে ক্রুশের উপরে তাঁর মৃত্যু বরণ করার প্রকৃতই কোন প্রয়োজন ছিল না। আমাদের প্রভু পরিষ্কার ভাবেই নীল, বেগুনে, এবং লাল সূত্রের মধ্য দিয়ে আমাদের সমস্ত মুছে দিয়েছেন। এটাও ছিল ঈশ্বরের বাক্য দ্বারা তাঁর প্রতিজ্ঞাত, যার ফলে এই বাক্যের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রভু এই পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং আমাদের লাল বর্ণের পাপ সমূহকে ধৌত করে তুষারের ন্যায় শুভ্র করেছেন।

বস্তুতঃ এই সত্য বিশ্বাসের পূর্বে নিঃসন্দেহে আমরা অসীম পাপের মধ্য দিয়ে উপচে পড়েছিলাম। অতএব, ঈশ্বরের সম্মুখে আমাদের দম্ভ করার কিছুই নাই। ঈশ্বরের সম্মুখে আমাদের শুধু দম্ভ করার কিছুই নেই তা নয়, কিন্তু তাঁর সম্মুখে আমাদের সাহসী হবার মোটেই কিছুই নেই। অন্য কথায়, এমন কি আমাদের এমন কিছুই নেই যা আমাদেরকে স্মার্ট হতে সাহায্য করে। ঈশ্বরের সম্মুখে আমরা যা বলতে পারি তা হল, “হ্যাঁ, আপনিই ঠিক।”

যদি ঈশ্বর বলেন, “তুমি একটি অধর্মের বীজ, তুমি নরকেই যাবে।”

“হ্যাঁ, আপনি ঠিক বলেছেন; দয়া করে আমাকে ক্ষমা করুন।”

“আমি তোমাকে জল, রক্ত এবং আত্মার মধ্য দিয়ে তোমাকে রক্ষা করেছি।”

“হ্যাঁ, প্রভু ! আমি বিশ্বাস করি!”

 আমি সকল সময়ে শুধু “হ্যাঁ” বলতে পারি। ঈশ্বরের সম্মুখে দাঁড়িয়ে আমরা তাকে বলতে পারি না, “আমি এটা করছি, ওটা করছি; এই রকম ভালভাবে আমি আমার মন্ডলীর সেবা করছি; আমি প্রকৃতই সর্বান্তকরণের যীশুতে বিশ্বাস করি; আমি নাছোড়বান্দা ভাবে আমার বিশ্বাসকে রক্ষা করেছি যা অন্য কেই কল্পনা করতে পারে না।”

প্রকৃত পক্ষে আমাদের প্রভু আমাদের প্রভু কিভাবে আমাদের সমস্ত পাপ মুছে দিয়েছেন? তিনি আমাদিগকে দেখিয়েছেন যে, তিনি নূতন ও পুরাতন নিয়মের বাক্য এবং নীল, বেগুনে, ও লাল সূত্রের মধ্য দিয়ে সে গুলোকে মুছে দিয়েছেন। পুরাতন নিয়মে যেখানে তিনি নীল, বেগুনে এবং লাল সূত্রের দ্বারা আমাদের পাপ মুছে দিয়েছেন, নূতন নিয়মে সেখানে, তিনি মানব দেহে এই জগতে এসে, যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তিস্ম গ্রহণের দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নেওয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের ত্রাণকর্তা হয়েছেন এবং ক্রুশে তাঁর রক্ত সেচনের দ্বারা আমাদের সমস্ত এবং পাপের বিচারের গ্রহণ করেছেন।

বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা আমাদের প্রভু এই পৃথিবীর সমস্ত পাপ একেবারে চিরতরে তুলে নিয়েছেন (মথি ৩:১৫)। আমাদের পার্থিব সমস্ত পাপ যীশুর কাঁধে চলে গেছে। বাপ্তিস্মের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত পাপ তাঁর উপরে তুলে নেওয়ার পরে, এই পাপ তিনি ক্রুশে বহন করেছিলেন, ক্রুশারোপিত হয়েছিলেন, ক্রুশে রক্ত সেচন করেছিলেন, ক্রুশে মৃত্যু বরণ করেছিলেন, পুনরায় মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হয়েছিলেন এবং এই ভাবে আমাদের সমস্ত পাপ সত্যিকার ভাবে মুছে দিয়েছেন। এভাবেই যীশু খ্রীষ্ট আমাদের আবশ্যকীয় ত্রাণকর্তা হয়েছেন।

 ঈশ্বরের ধার্মিকতা যা আমরা গ্রহণ করেছি, তা এই যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাসের দ্বারা অর্জিত, যিনি জল, রক্ত এবং আত্মার মধ্য দিয়ে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন। এটাই ঈশ্বর থেকে প্রাপ্ত প্রকৃত পরিত্রাণ, এটা কিছু নয়, যা আমরা নিজেরা অর্জন করেছি। এমন কিছুই যে, আমরা ঈশ্বরের সম্মুখে ঈশ্বরের দম্ভ করতে পারি।

 বস্তুতঃ যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাসে দ্বারা আমরা আমাদের সমস্ত পাপ থেকে রক্ষা পেয়েছি, যিনি আমাদের অবশ্যম্ভাবী ত্রাণকর্তা হয়েছেন। অন্য কথায়, আমরা যারা পাপী ছিলাম, যীশুর বাপ্তিস্মে এবং যে রক্ত তিনি আমাদের জন্য সেচন করেছেন তাতে বিশ্বাসের দ্বারা প্রকৃতই আমরা পাপের মোচন লাভ করেছি। পরিত্রাণের কার্যের হিসাব করলে, ধরুন যীশুর সাধিত পরিত্রাণ সর্বমোট ৭০ ভাগ এবং বাকী ৩০ ভাগ আমাদের পাপ না করার প্রচেষ্টা দ্বারা গণিত হয়, আমরা বিশেষ ভাবে পবিত্র হতে এবং অল্প অল্প করে পরিত্রাণ সম্পূর্ণ হতে, আমাদেরকে আক্ষরিক ভাবে সারারাত উত্তপ্তভাবে প্রার্থনার রত থাকতে হবে, প্রতিদিন আমাদেরকে অনুতাপের প্রার্থনা উৎসর্গের মধ্যে দিন কাটাতে হবে, সমাজের সেবা করতে হবে। অথবা যা কিছু সম্ভব সমস্ত কিছুই করতে হবে।

 কিন্তু রোমীয় পুস্তকে প্রেরিত পৌল বলেছেন, “দূর্ভাগ্য মনুষ্য আমি! এই মৃত্যুর দেহ হইতে কে আমাকে নিস্তার করিবে? আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্ট দ্বারা আমি ঈশ্বরের ধন্যবাদ করি। অতএব, এখন যাহারা খ্রীষ্ট যীশুতে আছে তাহাদের প্রতি কোন দণ্ডজ্ঞা নাই” (রোমীয় ৭:২৪-৮:১)। ঠিক পৌল যেভাবে স্বীকার করেছিলেন, আমাদেরকেও তার মত অবশ্যই যীশু খ্রীষ্টকে বিশ্বাস করতে হবে। শাস্ত্র আমাদিগকে ১০০ ভাগ রক্ষা করেছেন। তাহলে কার সাধ্য আছে আমাদেরকে দোষী করে? কেউ কখনও আমাদের দোষী করতে পারবে না, যেহেতু যীশু খ্রীষ্ট আমাদের সমস্ত দূর্বলতা থেকে আগেই আমাদিগকে ১০০ ভাগ রক্ষা করেছেন।



আপনি এবং আমি, আমরা সবাই আত্মিক ফরীশী


আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো দীর্ঘদিন ধরে যীশুকে সামান্য পরিমান বিশ্বাস করেছেন এবং জেনে আসছেন। অন্যকথায়, এমনকি জল ও আত্মার সুসমাচার জানার পূর্বে আপনি যীশুকে আপনার ত্রাণকর্ত্তারূপে বিশ্বাস করেছিলেন। নূতন জন্ম ব্যতিত দশ বছর যাবৎ আমিও একজন খ্রীষ্টান ছিলাম।

 যখন আমরা প্রথম যীশুকে ত্রাণকর্ত্তারূপে বিশ্বাস করেছিলাম, ৩টা নূতন শক্তিলাভের অভিজ্ঞতা। এই শুরুটা এত প্রাণবন্ত ছিল যে, আমরা ভাবতাম যদি নীল, বেগুণী এবং লাল সূত্রের সত্য নাও জানি, তথাপি শুধুমাত্র যীশুকে ত্রাণকর্ত্তারূপে বিশ্বাস করার দ্বারা আমরা নিঃশর্তভাবে রক্ষা পাব।

 প্রথম যখন আমি যীশুতে বিশ্বাস করেছিলাম, বস্তুতঃ আমার হৃদয় আনন্দে পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং, যখন আমি যীশুতে বিশ্বাস করেছিলাম, তখন আমি মহা আনন্দ লাভ করেছিলাম, কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর পরে, আমি নিজেকে নিজে দেখতে পেয়েছিলাম, এবং দেখেছিলাম যে, আমি প্রতিনিয়ত যে পাপ করছিলাম, তাতে আমি আবদ্ধছিলাম, এবং জানতে পারলাম যে, আমি তখনও স্বাধীনছিলাম না। আপনি কি চিন্তা করেন, সেই প্রাথমিক খ্রীষ্টান জীবনের পাঁচ বছরে আমি পাপ করেছিলাম বা মোটেই পাপ করিনি? আপনি আমাকে জানেন বা না জানেন, উত্তরটি সুন্দর পরিষ্কার, অবশ্যই আমি করেছিলাম। এই সময়ে যখন আমি সত্য জানতাম না, আমি সব সময় তীব্রভাবে পাপ করছিলাম, এবং এই নিদারুন যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে আমাকে অনুতাপের প্রার্থনা করতে হয়েছিল, এমনকি এই সময়ে আমি তিন দিন উপবাস ও করেছিলাম। মনে হল আমার হৃদয়ের বোঝা কিছুটা লাঘব হল, আমাকে ঈশ্বরের প্রশংসা করতে সাহায্য করেছিল, “♬ অদ্ভুদ অনুগ্রহ! ♬ কি সুন্দর সেই স্বর যা আমাকে, এই দুর্ভাগাকে রক্ষা করেছে! ♪” কিন্তু এর পরে অবশ্যই আমি আবার ও পাপ করেছিলাম। কারণ আমার বহু দূর্বলতা ছিল, এবং আমি ত্রুটিপূর্ণ ছিলাম, প্রতিদিন আমি পাপ করছিলাম, এমনকি এরূপ করার জন্য আমি নিজেকে ঘৃণা করতাম। ভাল কাজের দ্বারা কখনোই আমি আমার পাপ সমস্যার সমাধান করতে পারি নাই।

এইরূপ অবস্থায় আরও পাঁচ বছর অতিবাহিত হয়েছিল, এবং যখন এভাবে আমি দশ বছর যাবৎ খ্রীষ্টিয়ান ছিলাম, হঠাৎ, আমি এটা উপলব্দি করে প্রচন্ড বাধা খেয়েছিলাম যে, এই সমস্ত বছরগুলোতে আমি কত পাপ করেছি। প্রতিদিন নিজেকে এরূপ মহাপাপ করতে দেখে আমি গভির বিষন্ন এবং চরম হতাশা হয়েছিলাম। আর আমি যখন ব্যবস্থার সম্মুখে দাড়িঁয়েছিলাম, আমি যে কতটা পাপে পূর্ণ ছিলাম, সেটাও আমার কাছে আবিষ্কৃত হল। ঈশ্বরের সম্মুখে দাড়াঁনো আমার পক্ষে অধিকতর কঠিন হয়েছিল, এবং শেষ পর্যন্ত একজন পাপীতে পরিণত হয়েছিলাম, সে উত্তম জ্ঞানে যীশুকে ভালভাবে জানার এবং তাকে বিশ্বাস করার দাবী করতে পারে না। তাই খ্রীষ্টিয়ান হিসাবে আমি আমার দশ বছরের পাপে পূর্ণতা স্বীকার না করে পারলাম না।

প্রথম যখন আমি যীশুতে বিশ্বাস করেছিলাম, আসলে আমি ভেবেছিলাম যে, আমি একজন পূর্ণ খ্রীষ্টিয়ান। কিন্তু সময় অতিবাহিত হয়েগেল, আমি শুধু আরও বেশী উপলব্দি করছিলাম যে, প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের সম্মুখে দম্ভ করার আমার কিছুই নেই। আমি জেনেছিলাম, “আসলে আমি একজন ফরীসী। ফরীসা শুধু বাইবেলেই পাওয়া যায় না, আজকে আমি একজন ফরীসী।” 

 যারা নিজেদের পবিত্রতায় ভক্তাসীপূর্ণ, এই প্রকার লোকেরা ফরীসী। প্রতি রবিবার পার্শ্বে বাইবেল বুঝিয়ে গীর্জার পথে তারা তাদের সহ খ্রীষ্টানদেরকে চিৎকার করে বলে, “সুপ্রভাত! হাল্লেলূয়া!” আর যখন তারা ভজনা করে, তারা শুনতে পায় কেউ ক্রুশের কথা বলছে, শেষ পর্যন্ত তারা কান্নাকাটি করে। ঈশ্বরের রক্তের বিষয়ে চিন্তা করে আমি নিজেই অনেক চোখের জল বিসর্জন দিয়েছি ভজনা করার জন্য এটাকে আমি প্রদত্ত সত্য বলে ভাবতাম। কিন্তু এই পৃথিবীতে বেচেঁ থাকা অবস্থায় প্রত্যেকে শেষ পর্যন্ত নিজের পাপের পরে পাপ করাটাকে উপলব্দি করে। সুতরাং লোকেরা আর একটিবার অনুতাপের প্রার্থনা উৎসর্গ যায়। তারা অবশ্যই ক্ষনিকের জন্য তৃপ্তি অনুভব করত, কিন্তু অতিশীঘ্রই বা পরে তারা এই অনুতাপের প্রার্থনা থেকে হারিয়ে যেত, যেহেতু, তারা বিভিন্ন পন্থায় পাপ করত। পরবর্ত্তীতে কেউ কেউ পরভাষায় কথা বলত এবং দর্শণ দেখত, কিন্তু সেগুলো সবই নিস্ফল। তারা অবশ্য যতই চেষ্টা করুক না কেন, সেটা কোন ব্যপার নয়, তাদের হৃদয়ে পাপের সমস্যার সমাধান করতে তা তাদের কোন কাজে লাগত না।

 যদি শেষ পর্যন্ত তারা উপলব্দি করে যে, ঈশ্বরের সম্মুখে স্বাভাবিকভাবে তারা মূল্যহীন জীব এবং তাদের পাপের কারণে তারা নরকে যেতে বাধ্য, যদিও এই উপলব্দি দেরিতে আসত, এটা হত তাদের ভাগ্যের পরিণতি। বস্তুতঃ যত দেরী করে আমরা যীশুকে বিশ্বাস করেছিলাম, ততবেশী আমরা উপলব্দি করেছিলাম যে, আসলে আমরা কত ভয়ঙ্কর পাপী ছিলাম। কিন্তু ফরীসীরা এগুলো লুকাতে ভাল পারদর্শী। তারা তাদের হৃদয়ের পাপ লুকাতে এবং ভন্ডামী করতে এত পারদর্শী যে, তারা তাদের আসপাশের যারা আছে, তাদের কাছে উৎকৃষ্ট বলে বিবেচিত হতেন। 

এই পৃথিবীর ধর্মবাদীরা একে অপরকে মহা সম্মান করে। কিন্তু তারা কতটুকু সম্মান এবং শ্রদ্ধা পেল সেদিকে তাকিয়েই যখন তারা ঈশ্বরের সম্মুখে দাঁড়ায়, তখন তারা ঠিক একটি পাপের স্তম্ভ।

যখন আমরা সত্য জানতাম না, আমরা ও কঠোরভাবে অনুতাপের প্রার্থনা উৎসর্গ করতাম। কিন্তু কিছুদিন পরে আমরা ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম এবং তাই শেষে পর্যন্ত আমরা প্রার্থনা করছিলাম, “প্রভু তুমি যা করতে চাও, তাই কর। আমার বহু পাপ রয়েছে। তথাপী আমি পুনরায় পাপ করেছি। এখন এ বিষয়ে তোমার কাছে বলতে আমি খুবই বিহবল হয়ে পড়ছি।” যদিও এটা বিপদগ্রস্থ হওয়ার পথ, কেননা আমাদেরকে বলা হয়েছে যে, যখন আমরা আমাদের পাপ স্বীকার করব, ঈশ্বর আমাদের উপরে সন্তুষ্ট হবেন এবং তিনি তাঁর ধার্মিকতার দ্বারা আমাদের পাপ ক্ষমা করবেন এবং আমাদের সকল অধার্মিকতা ধৌত করে পরিষ্কৃত করবেন, তথাপী আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করতে থাকি, “প্রভু, আমার পাপ আছে। প্রভু! অনুগ্রহপূর্বক আমাকে ক্ষমা কর।” এবং তৎসত্ত্বেও আমাদের হৃদয়ে পাপ সমুহ রয়ে গেছে।

 যখনই লোকেরা ঈশ্বরের কাছেতাদের মাথা নত করে, তাদের সচেতনতা তাদের পাপকে মনে করিয়ে দেয়, এবং তাদের হৃদয় কুরে কুরে খায়। আমাদের সচেতনতা আমাদের হৃদয়কে পীড়ন করে বলছে, “এত পাপ করা সহ কোন সাহসে তুমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা কর?”

সুতরাং, কিছুক্ষণ পরে, যেহেতু প্রকৃতই আমাদের বলার কিছুই নেই, শেষ পর্যন্ত আমারা ক্রন্দন করে বলি, “প্রভু! প্রভু!” প্রায়শইঃ আমরা পাহাড়ে যাই এবং আমাদের প্রভুর নামে চিৎকার করি। লোকজনের মনোযোগ আকর্ষনের বিড়ম্বনা এড়াতে রাত্রিতে আমাদেরকে পাহাড়ে উঠতে হয়েছে, গুহাতে ঢুকেছি, এবং প্রভুর নামে ক্রন্দন করেছি। কিন্তু এটাও আমাদের নিজেদের দ্বারা তৈরীকৃত উপযুক্ততা এবং এভাবে আমাদের পাপ আমাদের সাথেই থেকে যায়। 

আমরা এটা বলে আমাদের সচেতনতাকে প্রকাশ করতে চেষ্টা করি যে, আমরা আর পাপেপূর্ণ থাকব না, “ঈশ্বর এত দয়ালু যে, তিনি আমার পাপ মুছে দিয়েছেন। আমি তিন বছর যাবৎ উপবাস প্রার্থনা করেছি। আমি মনে করি এর চেয়ে বেশী কি আছে, আমার তত বেশী পাপ হয়নি। আমাদের দয়ালু ঈশ্বর কি আমাকে ক্ষমা করবেন না?”

আসলে আমরা কি ঈশ্বরের ক্ষমাশীলতার জন্য তা প্রশংসা করে নিজেদের প্রতারিত করছি? যখন আমরা ঈশ্বরের সম্মুখে পাপী থেকে যাই, আমরা কিভাবে নিজেদের হৃদয়কে প্রতারিত করতে পারছি? আমরা মন্ডলীতে যত উচ্চপদ আসনে হই না কেন এবং আমরা অন্যদের কর্ত্তৃক যতবেশী প্রশংসিত হই না কেন সেটা কোন ব্যপার নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নিজেরা পাপ করতে থাকব, আমরা কখনই এই পাপ থেকে স্বাধীন হতে পারছি না, এবং পরিনামে অবশেষে এইভাবে একজন ভন্ডে পরিনত হই। 

পাপপূর্ণ ইচ্ছাগুলো ক্রমাগতভাবে আমাদের হৃদয়ে জেগে উঠতে থাকে। যদি আমরা অগণিতবার ক্রুশের উপরে যীশুর রক্তের কথা বলি, যদিও তাঁর ক্রুশীয় রক্তের কথা ভেবে আমরা অনেক অশ্রু সেচন করি, এবং যদিও আমরা ভাল খ্রীষ্টান হয়েছি, তথাপি জল ও আত্মার যথার্থ সুসমাচারের কাছে না আসা পর্যন্ত আমরা পাপে পূর্ণ থেকে যাই। খ্রীষ্টান ধর্মে সমস্ত ধর্মীয় আচার পালন করা সত্ত্বেও তখন আমার পাপ ছিল। এটা ছিল ফরীসীদের ধর্ম। পৃথিবীতে অনেক লোক আছে, যাদের এই প্রকারের বিশ্বাস রয়েছে এবং তাদেরকে এমনকি আমাদের খ্রীষ্টান সমাজের মধ্যে ও পাওয়া যায়। 



জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা আমাদের সমস্ত

পাপ মুছে গেছে


জল ও আত্মার সুসমাচার জানার পূর্বে এবং এই সুসমাচারে বিশ্বাস করার পূর্বে আমাদের সকলের হৃদয়ে পাপ ছিল। নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকান মিহি মসীনা সূত্রের সত্যে আমাদের বিশ্বাসের পূর্বে আমাদের চিন্তা চেতনা পাপে পূর্ণ ছিল। সমস্ত সততায় ঈশ্বরের সম্মুখে আমরা পাপী, এবং আমাদের পাপের কারণে আমরা নরকে যেতে বাধ্য, বাইবেলে আমাদিগকে বলা হয়েছে যে, “পাপের বেতন মৃত্যু।” এভাবে আমরা আমাদের পাপের কারণে ভীষনভাবে পীড়িত হয়েছিলাম। আর আমাদের পাপের জন্য ঈশ্বরের বিচারের কারণে আমরা দৈহিক এবং আত্মিক উভয়ভাবে নরকে যেতে বাধ্য ছিলাম।

আমরা বহু লোককে খ্রীষ্টান ধর্মে কনভার্ট করেছি এবং তাদেরকে শিক্ষা দিয়েছি। কিন্তু যে সময় আমরা কাজ করেছি সে সময় আমরা নিজেদের চিন্তা চেতনাকে পরিষ্কার করতে অসমর্থ ছিলাম। ঈশ্বরের সম্মুখে এটা আমরা অস্বীকার করতে পারতাম না। ঈশ্বরের সম্মুখে যেটা জানতাম তাহল, আমাদের হৃদয় পাপে পূর্ণ এবং আমরা নরকে যেতে বাধ্য।

আমার সর্বদাই একটা সমস্যাপূর্ণ প্রশ্ন ছিলঃ ‘‘আমাদের প্রভু যখন এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, কেন তিনি বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন?” যীশু কেন বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন সেটা আমি খুঁজে বের করতে চেয়েছিলাম। কেন এবং কি উদ্দেশে যীশুকে বাপ্তাইজিত হতে হয়েছিল? আমি আমাদের নিজেদের জলে বাপ্তিস্মকে যীশুতে আমাদের বিশ্বাসের চিহ্ন হিসাবে বুঝতে পারতাম, কিন্তু যীশু কেন যোহন বাপ্তাইজক দ্বারা বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন তা আমি মোটেও বুঝতে পারতাম না। কেন তিনি বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন? কেন?

সুতরাং আমি কিছু খ্রীষ্টান সমাজের নেতাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, “রেভারেল্ড, আমার একটা প্রশ্ন আছে। আমি যদি জিজ্ঞাসা করি আপনি কি কিছু মনে করবেন?” তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করতে বললেন, সুতরাং আমি তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। “এটা বাইবেল সম্পর্কে। এটা পরিষ্কার যে, নূতন নিয়মে যীশু যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু আমি নিশ্চিত না যে কেন তিনি বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন। রেভারেন্ড, আপনি জানেন, কেন?” স্বহাস্যে আমাকে বলতে থাকেন, “তুমি এখন ও তা জান না? এটা এমন জিনিস যা এমনি আমাদের সান্ডেস্কুলের শিশুরা জানে! এটা মূল শাস্ত্রীয় লেখায় পাওয়া যায়। উপমা দ্বারা আমদেরকে পরিচালিত করতে একটি মডেল হিসাবে যীশু কি বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন না এবং আমাদিগকে তাঁর নম্রতা প্রদর্শন করতে কি বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন না?” সুতরাং আমি বলেছিলাম, কিন্তু রেভারেন্ড, “উত্তরটা যদি এতই সাধারণ ছিল, এমনকি প্রকৃতপক্ষে এটা আমাদের সান্ডেস্কুলের বাচ্চারা জানবে। আমি এটা মূল বই এবং ইতিহাস উভয়টাতেই অনুসন্ধান করেছি, কিন্তু তাঁর বাপ্তিস্ম এই অর্থ প্রকাশ করে নাই। যীশু যোহন কর্ত্তৃক কেন বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তার কি কোন কারণ থাকবে না?”

আমি অবিরত জিজ্ঞাসা করেছিলাম। আমি খ্রীষ্টিান হওয়ার ঠিক পরেই উত্তর অনুসন্ধান করতে শুরু করেছিরাম। অন্য কিছু নয় কিন্তু ঐ প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান কাজে বছরের পর বছর আমি নিজেকে নিয়োজিত করেছিলাম। এই প্রশ্নের উত্তরে আমি সব ধরনের গবেষনা করেছি। যদিও আমি এভাবে সমস্ত কিছু অনুসন্ধান, জিজ্ঞাসা এবং গবেষনা করেছি, কোথাও আমি পরিষ্কারভাবে এবং নির্দিষ্টভাবে এমন কিছু পাইনি যা যীশুর বাপ্তিস্মের ব্যাখ্যা দেয়। নীল, বেগুনে, এবং লাল সূত্রে এবং পাকান মিহি মসীনা সূত্রে প্রতীয়মান জল ও আত্মার সুসমাচারে পভু আমাকে প্রবুদ্ধ না করা পর্যন্ত চুড়ান্ত উত্তর খুঁজতে আমাকে সংগ্রাম করতে হয়েছিল।

 যখন যীশু বাপ্তিস্মের সমাধানহীন ধাধর দ্বারা আমি আক্রান্ত হয়েছিলাম, তখন মথি ৩: ১৩- ১৭ পদ পুংখানুপুংখরূপে পর্যবেক্ষণ করেছিল, “তৎকালে যীশু যোহন দ্বারা বাপ্তাইজিত হইবার জন্য গালীল হইতে যর্দ্দনে তাঁহার কাছে আসিলেন। কিন্তু যোহন তাঁহাকে বারণ করিতে লাগিলেন, বলিলেন, আপনার দ্বারা আমারই বাপ্তাইজিত হওয়া আবশ্যক, আর আপনি আমার কাছে আসিতেছেন? কিন্তু যীশু উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, এখন সম্মত হও, কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত। তখন তিনি তাঁহার কথায় সম্মত হইলেন। পরে যীশু বাপ্তাইজিত হইয়া অমনি জল হইতে উঠিলেন; আর দেখ, তাঁহার নিমিত্ত স্বর্গ খুলিয়া গেল, এবং তিনি ঈশ্বরের আত্মাকে কপোতের ন্যায় নামিয়া আপনার উপরে আসিতে দেখিলেন। আর দেখ, স্বর্গ হইতে এই বাণী হইল, ‘ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, ইহাঁতেই আমি প্রীত।”

এই বাক্য পড়ে আমি চুড়ান্তভাবে অনুধাবন করেছিলাম, “তাহলে এটা এই! যীশু কেন বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তার কারণ তিনি পুরাতন নিয়মের উৎসর্গের বলি ছিলেন! এটাই নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকান মিহি মসীনা সূত্রে লুকায়িত তাঁর পরিত্রাণের সত্য!”

 যোহন বাপ্তাইজক প্রকৃতই এলিয়, যাকে পাঠাতে পুরাতন নিয়মে ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। ঈশ্বর মালাখী ৪:৫পদে বলেছেন যে, বিচার দিনের পূর্বে তিনি এলিয়কে পাঠাবেন, এবং মথি ১১:১৪পদে আমাদিগকে বলা হয়েছে যে, ইনিই সেই এলিয়, যাকে তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তিনি অন্য কেউ নন, তিনি যোহন বাপ্তাইজক। কিন্তু আমি এলিয়ের সম্পর্কে খুঁজে পেয়েছিলাম, কিন্তু আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে, কেন যোহন বাপ্তাইজক কর্ত্তৃক যীশুকে বাপ্তাইজিত হতে হয়েছিল। তারপরে আমি পূনরায় মথি ৩:১৩-১৭ পদে গেলাম এবং অনুচ্ছেটি পুংখানুপুংখরূপে পুনরায় পড়লাম, “এখন সম্মত হও, কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত, যখন যীশু বাপ্তাইজিত হইয়া অমনি জল হইতে উঠিলেন---‘ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, ইহাঁতেই আমি প্রীত।” তখনই আমার সমস্ত সন্দেহের অবসান হয়েছিল। “সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করতে,” তিনি প্রকৃতই তাঁর বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলাম। যীশু প্রকৃতপক্ষে তার বাপ্তিস্মের মাধ্যমে সমস্ত লোককে রক্ষার এই ধার্মিকতার কাজ সাধন করেছিলেন।

পুরাতন নিয়মের হস্তারপণ এবং বাপ্তিস্ম একই। সমাগম তাম্বুর বলিদানের নিয়ম অনুসারে যেভাবে উৎসর্গের বলির মস্তকের উপরে হস্তার্পন করা হত। পাপীদে নিমিত্ত বলি উৎসর্গের সময় বেদীর বলি দগ্ধ হওয়ার পূর্বে বেদীর বলির উপরে তাদের হস্তার্পণ করতে হত, পাশা পাশি পাপ স্বীকার করে সেগুলোকে উৎসর্গের বলির উপরে স্থানান্তরিত করা হত; প্রধান যাজকদেরকে ইস্রায়েল লোকদের সমস্ত পাপ স্বীকার করত এবং সেগুলো নিজেদের এবং ইস্রায়েলদের নিমিত্ত উৎসর্গের বলির উপরে স্থানান্তরিত করত; আর নূতন নিয়মের সময় যীশুকে যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হতে হয়েছিল- এই সময় বিষয় একটি অন্যটির অনুরূপ। চুড়ান্তভাবে আমি উপলব্দি করেছিলাম যে, প্রত্যেকের পাপ মুছে দিতে এবং পৃথিবীর সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নেয়ার নিমিত্ত যীশু এভাবে তাঁর বাপ্তিস্ম (হস্তাৰ্পণ) গ্রহণ করেছিলেন।

 সুতরাং, শাস্ত্রের মূল অংশ আমি খুঁজে পেয়েছিলাম। আমি দেখেছিলাম অনুচ্ছেদটি কেমনভাবে, “এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত” গ্রীক ভাষায় লেখা হয়েছে, "" Ἄφες ἄρτι, οὕτως γὰρ πρέπον ἐστὶν ἡμῖν πληρῶσαι πᾶσαν δικαιοσύνην '' এই অনুচ্ছেদে, “এইরূপে” এবং “ধার্মিকতা” গ্রীক ভাষায় এভাবে লেখা হয়েছে, “hutos (οὕτως γὰρ)'' এবং “dikaiosune (δικαιοσύνην)” প্রথমটার অর্থ “এইরূপে” “যথাযথভাবে,” “শুধু এই পদ্ধতির দ্বারা,” “সর্বোত্তম উপায়ে অথবা “এই পদ্ধতিতে।” পরেরটার অর্থ হল, “ধার্মিকতা, ন্যায়বিচার বা ঈশ্বরের কাছে গ্রহণযোগ্য সততা।”

এটা আমাদেরকে বলে যে, যীশু পাপীদেরকে তাদের পাপ থেকে রক্ষা করেছেন। এটা আমাদেরকে বলে যে, যীশু বাপ্তাইজিত এবং ক্রুশে রক্ত সেচনের দ্বারা ঈশ্বরের ধার্মিকতা সাধন করেছেন। অন্যকথায় এর অর্থ হল যে, তিনি বাপ্তিস্মের মাধ্যমে সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন। এভাবে আমাদের সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে, কেননা যা আমাদিগকে দ্বিধাগ্রস্থ ও আশ্চয্যান্বিত করত, এখন আমরা সেগুলোর সত্য অর্থ অনুধাবন করেছি। এর কারণ যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন এবং এই পাপের শাস্তি স্বরূপ তিনি ক্রুশারোপিত হয়েছেন এবং ক্রুশে মরেছেন। জল ও আত্মার সুসমাচারে এই সত্যই পাওয়া গেছে।

অন্যকথায়, আমরা নূতন জন্ম প্রাপ্তরা বুঝতে পেরেছি যে, যোহন কর্ত্তৃক যীশু যে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন তা ছিল আমাদের পরিত্রাণের অপরিহায্য উপাদান, এবং তিনি তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে একেবারে পৃথিবীর সমস্ত পাপ তাঁর উপরে তুলে নিয়েছেন। জল ও আত্মার সুসমাচারের একই সত্য আপনাকে ও অনুধাবন করতে হবে। শুধুমাত্র তখনই আপনার আত্মা আলোকিত হতে পারে।

বস্তুতঃ যীশু যেদিন যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত গ্রহণ করেছিলেন সেইদিন আমরা কখন ও ভুলতে পারি না। আমরা কখন ও সেদিন ভুলতে পারি না, যেদিন আমরা উপলব্দি করেছিলাম যে, প্রকৃতই আমাদের পাপ যীশুতে চলে গেছে। এই সত্য উপলব্দির দ্বারা আমাদের হৃদয়ে যে পরিবর্তন ঘটেছিল তা আমরা দেখেছি। সেগুলো হ্রদের উত্তাল ঢেউয়ের ন্যায় আমাদের হৃদয় জুড়ে বিস্তৃতভাবে প্রবাহিত হয়েছিল। অন্ধকারভেদ করে ভোরের উজ্জ্বল আলো আমাদিগেতে প্রবেশ করেছিল,পরিত্রাণের সত্য আমাদিগকে জানতে সাহায্য করেছিল।



যীশু যে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন, তা দ্বারা পৃথিবীর সমস্ত

পাপ তাঁর উপরে অর্পিত হয়েছিল


মথি ৩:১৩-১৭ পদ পড়ার পরে, দীর্ঘক্ষণ যাবৎ আমি একটা কথাও বলতে পারি নাই। বস্তুতঃ যদিও আমি পাপ পূর্ণ ছিলাম, যীশু তাঁর বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলাম এবং বলেছিলেন, “এখন সম্মত হও, কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত।” অতএব, কেন যীশু ক্রুশে তাঁর রক্ত সেচন করেছিলেন (লাল সূত্র), তাঁর কারণ ছিল যীশুর বাপ্তিস্ম (নীল সূত্র)। এই যীশু ছিলেন ঈশ্বর নিজেই (বেগুনে সূত্র)। আর পুরাতন নিয়মের বাক্য দ্বারা (পাকানো মিহি মসীনা সূত্র) দ্বারা তিনি আমাদেরকে পরিত্রাণের প্রকৃত সত্য শিক্ষা দিয়েছেন। অন্য কথায়, যীশু আমাদের সমস্ত পাপ তুলো নিয়েছেন।

“তাহলে, এখনও কি আমাদের পাপ আছে বা নেই ? যীশু যখন যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, প্রত্যেকের পাপ তখন যীশুতে চলে গিয়েছিল। আমাদের পাপ কি সম্পূর্ণরূপে যীশুতে চলে গিয়েছিল? ঐ সময়ে পৃথিবীর সমস্ত পাপ কি তাঁর উপরে চলে গিয়েছিল? মাতৃ জঠরে থাকাকালীন আমাদের যে পাপ ছিল তা কি পার্থিব পাপ নাকি পার্থিব নয়? এক বছর বয়সে আমরা যে পাপ করি সেগুলো কি প্রকারের? সে গুলোও পৃথিবীর পাপ নয়? শৈশবে আমরা যে পাপ করেছি সেগুলো কি প্রকারের? সেগুলো ও কি পার্থিব পাপের আওতায় নয়?”

আমরা যে সঠিক পদক্ষেপে রয়েছি, এক নিশ্চিত হতে আমাদেরকে এই প্রশ্নগুলো নিজেদেরকে জিজ্ঞাসা করতে হবে। সেই রকম বিশ্বাস হল এমন একটি বিষয় যার দ্বারা আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, ঈশ্বরের বাক্যের ভিত্তিতে আমরা দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি। শৈশবে আমরা যে পাপ করেছি প্রকৃত পক্ষে সেগুলো পার্থিব পাপ, তেমনি তোর থেকে উনিশ বছর বয়সে কৃত পাপ গুলোও পার্থিব পাপ। আমাদের জীবনকালে আমরা যে সমস্ত পাপ করি, যৌবনের সময়ের উল্লেক করে নাই, সমস্ত পাপ পার্থিব। এইরূপ পৃথিবীর সমস্ত পাপ ইতিমধ্যে যীশুতে চলে গেছে। তাই কি নয়? অবশ্যই তাই। লেখা আছে যে, আমাদের প্রভু শুধু আমাদের পাপ তুলে নেননি, কিন্তু প্রত্যেক এবং সকল মানব জাতির পাপ তুলো নিয়েছেন। সুতরাং আমরা উপলব্ধি করতে করেছি, “প্রকৃত পক্ষে আমাদের সমস্ত পাপ যীশুতে চলে গেছে। তাহলে এখনও কি আপনার পাপ আছে? না, আমাদের ভিতরের আর কোন পাপ নেই!”

এর কারণ যীশু প্রকৃত পক্ষে যোহন কর্ত্তৃক বাণ্ডাইজিত হয়েছিলেন, যে যোহন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, “ঐ দেখ, ঈশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপভার লইয়া যান?” (যোহন ১:২৯) মানব জাতির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যত মানুষ ছিল, আছে এবং থাকবে, যীশু প্রত্যেক ব্যক্তির সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন। যে কেউ সারা জীবনে যে সমস্ত পাপ করছে এবং এমন কি প্রত্যেকের সন্তানের পাপ যীশু তুলে নিয়েছেন। পৃথিবী হাজার বছর কি বিলিয়ন বছর থাকুক না কেন কোন ব্যাপার নয়, আমাদের প্রভু তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা পৃথিবীর এর সমস্ত লোকদের পাপ তুলে নিয়েছেন, এই পাপ সমূহ তিনি ক্রুশের উপরে তাঁর কাঁধে বহন করেছেন, ক্রুশ বিদ্ধ হয়েছেন এবং এভাবে আমাদের পাপের নিমিত্ত তিনি সমস্ত বিচার গ্রহণ করেছেন- আমরা যেটা বুঝি তা এটাই।

আমরা নূতন জন্ম প্রাপ্তরা প্রকৃতই উপলব্ধি করছি যে, এর কারণেই যীশু মৃত্যু থেকে পুনরায় উঠেছেন এবং আমাদের ত্রাণকর্তা হয়েছেন, আর যখন আমরা এরূপ বিশ্বাস করি, আমাদের সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

এভাবে তাঁর বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে এবং ক্রুশে তাঁর তত্ত্ববধান করেছেন। এ কারণে বাইবেল সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারের নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূত্রের কথা বলছে এবং একারণেই ১ যোহন ৫:৪-৬ পদে আমাদিগকে বলা হয়েছে যে, যীশু আমাদের কাছে শুধু জলে আসেন নি কিন্তু জল ও রক্তে আমাদের কাছে এসেছিলেন। এভাবে আমরা উপলব্ধি করি, “সুতরাং বাইবেল আমাদিগকে বলে যে, আমাদের ত্রাণকর্তা তাঁর বাপ্তিস্ম গ্রহণের দ্বারা ঈশ্বরের ধার্মিকতা সাধন করেছেন। এটাই সত্য! যাহোক, খ্রীষ্টিান নেতারা এই সত্য আমাদিগকে শিক্ষা দেন নাই, কারণ তারা সবাই এ বিষয়ে অজ্ঞ!”

যখন ঈশ্বরের নীল, বেগুনে, লাল ও পাকানো মিহি মসীনা সূত্রের সত্য আমাদিগকে বলে যে, আমরা পাপহীন, তখনই আমরা পাপহীন হই। কেউই অন্যের আত্মার পরিত্রাণ অনুমোদন করতে পারে না। মানুষের প্রশংসা অর্জন করায় কোন লাভ নেই। লোকে যদি আমাদিগকে খুব বলে খ্রীষ্টিান হিসাবে আখ্যায়িত করে বা খ্রীষ্টিান হিসাবে আমাদেরকে সর্বোচ্চ স্থান দেয়, তাতে আমাদের পরিত্রাণের জন্য কি লাভ হতে পারে? লোকে আমাদেরকে পাপহীন বলে অনুমোদন করে তখন আমরা পাপহীন হই না, কিন্তু যখন ঈশ্বরের নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূত্র দ্বারা খ্রীষ্ট আমাদের সমস্ত পাপ মুছে দিয়েছেন তখনই আমরা পাপহীন হই।

ঈশ্বরের বাক্য আমাদেরকে বলে যে, ঈশ্বর শুধু আমার পাপ মুচে দেন নি, কিন্তু আপনার পাপও মুছে দিয়েছেন। এটা আমাদিগকে বলে যে, যেহেতু যীশু খ্রীষ্ট, মশীহ সমস্ত লোকের পাপ মুছে দিয়েছেন, আমরা যদি শুধু বিশ্বাস করি, আমরা পাপের মোচন লাভ করব। এভাবেই জল ও আত্মার মধ্য দিয়ে পাপ মোচন লাভের দ্বারা আমরা সমসাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারের মধ্যে প্রবেশ করতে পারব।



যথার্থ বিশ্বাস কি?


সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারে নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূত্র দ্বারা বোনা ছিল। প্রত্যেকের এই যথার্থ আস্থা আছে, যা বিশ্বাস করে যে, আমাদের প্রভু এই পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং এভাবে আমাদের সমস্ত পাপ থেকে রক্ষা করেছেন। যখন আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের প্রভু মানব দেহে এই পৃথিবীতে জন্মেছিলেন, যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, ক্রুশে মরেছিলেন, মৃত্যু থেকে উঠেছিলেন এবং এই ভাবে আমাদের ত্রাণকর্তা হয়েছেন, আমরা সবাই ঈশ্বরের সন্তান হতে পারি। যদিও আমাদের কর্ম মন্দতায় পতিত হয়, যদিও আমাদের দেহ মূল্যহীন হয়, তথাপি আমাদের হৃদয়ে নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূত্রের বিশ্বাসের দ্বারা আমরা পাপহীন হয়েছি। অতএব, একমাত্র বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে ধার্মিক হওয়া সম্ভব। নীল, বেগুনে, লাল, এবং পাকানো মিহি মসীনা সূত্রে প্রতীয়মান পরিত্রাণের বিশ্বাসের দ্বারা আমরা ঈশ্বরের ধার্মিকতায় আবৃত হই। সংক্ষেপে, জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা আমরা ঈশ্বরের সন্তান হয়েছি।

আমাদের কেউ কেউ হয়তো এখনও সম্পূর্ণভাবে বুজতে পারে নাই। যদি এরূপ হয়, আপনার যা কিছু করেছেন তা-ই করুন, এই বই পড়তে থাকুন অথবা ঈশ্বরের মন্ডলীতে উপস্থিত হোন। যতদূর সম্ভব হয়েছে আমরা সমাগম তাম্বুর সাধারণ অবয়বের আলোচনা আমরা করছি, কিন্তু যে মুহূর্তে আপনি বিস্তারিত ব্যাখ্যাগুলো পড়তে শুরু করবেন, আপনি সমাগম তাম্বুর সম্পূর্ণ উপলব্ধিতে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন। এটা এত সোজা যে, এমন কি একজন শিশু ও এটা সহজেই উপলব্দি করতে পারে।

যদি লোকদের বিশ্বাসের ভিত্তিতে তাদের যীশু বিষয়ে জ্ঞান ভুল হয়, তারা কখননোই তাদের পাপ থেকে রক্ষা পায় না, যত দীর্ঘ সময় ধরে তারা যীশুতে বিশ্বাস করুক না কেন, তা দশ বছর বা দশ হাজার বছর হোক সেটা কোন ব্যাপার নয়। তারা প্রতিদিন পাপ করতেই থাকে। তারা তাদের পাপের অভিশাপ থেকে রেহাই না পাওয়ার জন্য তারা কান্নকাটি করে। যখন কোন জিনিস তাদের পক্ষে ইতিবাচক হয়, এই সমস্ত লোকেরা ভাবে যে, ঈশ্বর তাদেরকে সাহায্য করছেন। কিন্তু যখন কোন জিনিস সামান্যতম নেতিবাচক হয়, তারা আশ্চৰ্য্যানিত হয়ে বলে যে, “এর কারণ আমি দশমাংশ দিই নাই, এজন্য কি এমন হয়েছে? অথবা গত রবিবার আমি গীজায় যাইনি এজন্যে? আমি পাপ করেছি এবং ঈশ্বরের সেবায় ব্যর্থ হয়েছি, এবং আমি মনে করি প্রকৃতই এ সমস্তের জন্যে তিনি আমাকে শাস্তি দিচ্ছেন।” এই ভাবে শেষ পর্যন্ত ব্যবস্থায় বাণী হয়ে তারা মৃত্যু বরন করে, কেননা শাস্ত্র আমাদিগকে বলে যে, “ব্যবস্থা ত ক্রোধ সাধন করে” (রোমীয় ৪:১৫)।

 প্রকৃতই ভাবেই সম্পূর্ণ বিশ্বাস থাকতে হলে, আমাদেরকে অবশ্যই যীশুর চারটি কাৰ্যকালে সঠিক বিশ্বাস থাকতে হবে এবং সঠিক ভাবে জানতে হবে, যিনি নীল, বেগুন, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূত্রের মধ্য দিয়ে আমাদের কাছে এসেছেন। আমাদেরকে অবশ্যই যীশু প্রদত্ত সত্যকে উপলব্ধি করতে হবে। শুধুমাত্র যখনই আমাদের এই চার রকম সত্যে পরিস্কার ধারণা এবং এতে বিশ্বাস থাকবে। তখনই ঈশ্বরের সম্মুখে আমাদের সম্পূর্ণ বিশ্বাস থাকবে, এবং আমরা সত্যিকার পাপহীন হয়েছি, আরমা সর্বদাই পাপহীন ধার্মিক, এমন কি নিজেদেরকে পাপের বন্ধন থেকে মুক্ত করতে আমাদের সংগ্রাম করা ব্যাতিত, আমরা বিশ্বাসের পাপহীন লোক; এমন কি আমাদের নিজেদের ইচ্ছা শক্তি প্রয়োগ ব্যাতিত আমরা ঈশ্বরের যথার্থ সন্তান, যাদের সমস্ত পাপ ধূয়ে তুষারের ন্যায় শুভ্র করা হয়েছে, এমন কি আমাদের উত্তম কাজে এবং প্রচেষ্টা ব্যাতিতই তা করা হয়েছে।

ঠিক পিতামাতার সতর্ক প্রহরার দৃষ্টিতে শিশুরা যেমন খেলে, বিশ্রাম নেয়, তেমনি এই সত্যে বিশ্বাসের দ্বারা বস্তুত আমরা দয়ালু পিতা ঈশ্বরের সম্মুখে আমাদের হৃদয়ের শান্তি এবং স্থিরতা পাই। যদিও আপনার উত্তম কাজ যথেষ্ট নয়, আপনি যা করেছেন তা হল, প্রভুর কাৰ্য্যে বিশ্বাস করেছেন, আপনি যতই ক্ষুদ্র হোন না কেন, আপনি আরও বেশী আমাদের ঈশ্বরের প্রেম অনুভব করতে পারবেন।

আপনি কি আপনার পাপ থেকে মুক্তি পেতে উচ্চরবে মিনতী করেছেন, এখনও কি নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকান মিহি মসীনা সূত্রে বিশ্বাস করতে সক্ষম নন? এখন যারা এই সত্য জানেন, পাপের প্রায়শ্চিত্তের নিমিত্ত আপনাদের আর উচ্চরবে মিনতী করতে হবে না, কিন্তু সম্পূর্ণভাবে করলেই হবে। যারা ঈশ্বরের সন্তান হয়, তারা যীশুকে সত্যিকারভাবে জানা এবং বিশ্বাসের দ্বারাই হয়, যিনি জল, রক্ত এবং আত্মার মধ্যদিয়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন। তারা তাদের উপরি উপরে কাজের দ্বারা ঈশ্বরের সেবা করেনা, কিন্তু তারা প্রথমত প্রেম এবং বিশ্বাসের দ্বারা তাঁর সেবা করে। ঈশ্বর তার রব শোনার নিমিত্ত আমাদিগকে গ্রহণ করেছেন এবং আমাদের সাথে গমনাগমন করছেন। যেহেতু আমরা তাঁকে বিশ্বাস করি, তিনি আমাদের সাহায্য করেন। আর যেহেতু আমরা যীশুতে বিশ্বাস করি, যিনি বাপ্তিস্ম এবং রক্তের দ্বারা আমাদিগকে রক্ষা করেছেন, যাতে আমরা আমাদের বিশ্বাস স্থাপন করি, তাই আমরা ঈশ্বরের সেবক হয়েছি, যিনি আমাদিগকে তাঁর ধার্মিকতার পরিচর্যা করেছেন।

এখন আমাদের সকলকে যে সত্য উপলব্দি করতে হবে তা হল, আমাদেরকে পাপ মোচনের যথার্থ পরিত্রাণ প্রদান করতে নীল, বেগুনে,লাল এবং পাকান মিহি মসীনা সূত্রে বুনে ঈশ্বর সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের আমাদের পরিত্রাণের দ্বার তৈরী করেছিলেন। শাস্ত্র আমাদেরকে বলে যে, যীশু জল, রক্ত ও আত্মার মধ্যদিয়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন, এবং পুরাতন নিয়মে সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারের নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকান মিহি মসীনা সূত্রের দ্বারা আমাদেরকে আমাদের পাপ থেকে রক্ষা করেছেন। আমাদের প্রভু পাপ থেকে পরিত্রাণের আমাদের দ্বার হয়েছেন। আমাদেরকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে এবং আবারও মশীহের এই চার কাৰ্য্য বিশ্বাস করতে হবে, যিনি প্রকৃতভাবে এবং বাস্তবিকভাবে আমাদেরকে আমাদের সমস্ত পাপ হতে মুক্ত করেছেন।



যীশু যোহন কর্ত্তৃক যে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন, তা সমাগম তাম্বুর দ্বারে প্রতিয়মান নীল সূত্রের প্রকৃত সারমর্ম


আসুন মথি ৩ : ১৩-১৭ পদে পুনরায় ফিরে যাই, “তৎকালে যীশু যোহন দ্বারা বাপ্তাইজিত হইবার জন্য গালীল হইতে যর্দ্দনে তাঁহার কাছে আসিলেন। কিন্তু যোহন তাঁহাকে বারণ করিতে লাগিলেন, বলিলেন, আপনার দ্বারা আমারই বাপ্তাইজিত হওয়া আবশ্যক, আর আপনি আমার কাছে আসিতেছেন? কিন্তু যীশু উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, এখন সম্মত হও, কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত। তখন তিনি তাঁহার কথায় সম্মত হইলেন। পরে যীশু বাপ্তাইজিত হইয়া অমনি জল হইতে উঠিলেন; আর দেখ, তাঁহার নিমিত্ত স্বর্গ খুলিয়া গেল, এবং তিনি ঈশ্বরের আত্মাকে কপোতের ন্যায় নামিয়া আপনার উপরে আসিতে দেখিলেন। আর দেখ, স্বর্গ হইতে এই বাণী হইল, ‘ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, ইহাঁতেই আমি প্রীত।” এটা এমন সময়, যখন যীশু বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, সেটা ছিল কুমারী মরিয়ম হতে জন্মগ্রহণের ৩০ বছর বয়সের সময়। “তখন” শব্দটি দ্বারা সেই সময়কে বুঝান হয়েছে, যখন যোহন বাপ্তাইজক এবং যীশু উভয়ই ৩০ বছর বয়সে উপনিত হয়েছিলেন।

যীশুর ৬ মাস পূর্বে জন্ম গ্রহণকারী যাোহন বাপ্তাইজক ছিলেন পৃথিবীর মানবজাতির প্রতিনিধি, যিনি তাদেরকে মন পরিবর্তনের বাপ্তিস্ম দিচ্ছিলেন (মথি ৩:১১, ১১:১১)। যীশুর যখন ৩০ বছর বয়স হয়েছিল, তিনি এই যোহনের কাছে এসেছিলেন বাপ্তাইজিত হতে যিনি লোকদেরকে যর্দ্দন নদীতে বাপ্তিস্ম দিচ্ছিলেন। কিন্তু যোহন বাপ্তাইজক তাঁকে বাঁধা দিতে চেষ্টা করেছিলেন, বলেলন, “আপনার দ্বারা আমারই বাপ্তাইজিত হওয়া আবশ্যক, আর আপনি আমার কাছে আসিতেছেন?” যীশু তখন উত্তর করে বললেন, “এখন সম্মত হও, কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত।” তখন রাজী হলেন এবং যীশু তাঁর দ্বারা বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন। শাস্ত্রে আরও লিপিবদ্ধ আছে যে, যীশু যখন বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তখন তাঁর নিমিত্ত স্বর্গ খুলে গিয়েছিল এবং তা থেকে একটি বাণী হয়েছিল, “ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, ইহাতেই আমি প্রীত।”

এখানে মথি ৩:১৫ পদে যীশু কেন বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন তার কারণ আমাদেরকে বলেন। এই সত্য সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের নীল, সূত্রকে নির্দেশ করছে, “এখন সম্মত হও, কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত।” যোহন কর্ত্তৃক যীশুর বাপ্তিস্ম গ্রহণ ছিল সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের নীল, বেগুনে এবং লাল সূত্রে প্রতিয়মান পাপীদের অপরাধের ক্ষমার নিমিত্ত “কেননা এইরূপে ধার্মিকতা সাধন করা তাদের পক্ষে উপযুক্ত ছিল।”

 যীশু খ্রীষ্ট যে বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা প্রত্যেকের পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন, তা ছিল ঈশ্বরের প্রেম এবং পাপীদের পরিত্রাণের নিমিত্ত তাঁর কার্য্যসকলের পূর্ণতা সাধন। যোহন ৩:১৬পদে যেমন বলা হয়েছে, “কারণ ঈশ্বর জগতকে এমন প্রেম করলেন যে, আপনার একজাত পুত্রকে দান করিলেন, যেন যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে, সে বিনষ্ট না হয় কিন্তু অনন্ত জীবন পায়।” যীশু আমাদেরকে পার্থিব পাপ থেকে রক্ষা করতে বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, যাতে আমরা আমাদের পাপের কারণে বিচারিত না হই। একারণে যীশু ঈশ্বরের সমস্ত ধার্মিকতা এবং মানব জাতির সমস্ত পাপ যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তিস্ম হওয়ার মাধ্যমে তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন, কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা তাদের পক্ষে উপযুক্ত।

“ঈশ্বরের সমস্ত ধার্মিকতা” কি ? উপরের অনুচ্ছেদটি আমাদিগকে বলে যে, যীশু যে কারণে যোহন বাপ্তাইজক কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তা ছিল পিতার সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা।

 এখানে, আমাদের খুঁজে বের করা প্রয়োজন যে, প্রকৃতভাবে ঈশ্বরের ধার্মিকতা কি? “সমস্ত ধার্মিকতা” এই ঘটনাকে বুঝায় যে, যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা যীশু মানব জাতির সমস্ত পাপ তাঁর উপরে তুলে নিয়েছেন। তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা তিনি পৃথিবীর সমস্ত পাপ একেবারে তাঁর উপরে তুলে নিয়েছেন। তাঁর জন্মের উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীর সমস্ত পাপ একেবারে মুছে দেয়া, যোহন কর্ত্তৃক যে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন তা ছিল পরিষ্কারভাবে ধার্মিকতা গ্রহণ। ঈশ্বরের ধার্মিকতা সাধনের অর্থ হলো ধার্মিকতার কাজের পূর্ণতা সাধন, যা পৃথিবীর সমস্ত পাপ মুছে দেয়- অর্থাৎ এটা ছিল পরিত্রাণের পূর্ণতা সাধন।

যীশুর বাপ্তিস্ম ছিল অপরিহার্য্য পদ্ধতি, যার দ্বারা ঈশ্বর আমাদিগকে আমাদের সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করেছেন। ঈশ্বর আমাদের সমস্ত পাপ মুছে দিতে পুরাতন নিয়ম স্থাপন করেছিলেন, তিনি যোহন বাপ্তাইজককে মানব জাতির প্রতিনিধিরূপে উঠিয়েছিলেন, তাকে দিয়ে তাঁর পুত্র যীশু খ্রীষ্টকে বাপ্তাইজ করালেন এবং এভাবে আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর পুত্রের উপরে চলে গেল। এটা ঈশ্বরের অনুগ্রহ ব্যতিত অন্যকিছু ছিল না। কারণ ঈশ্বর আমাদিগকে অত্যাধিক প্রেম করতেন, আমাদিগকে তাঁর সন্তানে পরিনত করতে এবং আমাদের পাপ মোছার ধার্মিকতার কাৰ্য্য সাধন করতে ঈশ্বর যোহন কর্ত্তৃক যীশুকে বাপ্তাইজিত হওয়ালেন। এ কারণেই ঈশ্বর বলেছিলেন, “ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, ইহাতেই আমি প্রীত।” অন্যকথায় পিতা ঈশ্বর বলেছিলেন, “আমার পুত্র তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে সমস্ত পাপ তাঁর উপরে তুলে নিয়েছেন।” 

 অন্যকথায়, যীশু খ্রীষ্ট এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, এবং যোহন বাপ্তাইজক কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হওয়ার এই পদ্ধতির মধ্যদিয়ে সবচেয়ে উপযুক্ত পন্থায় আমাদের পাপ সমুহ বহন করেছেন এবং এভাবে আমাদের পাপ মুছে দিতে উৎসর্গের বলি হয়েছেন।

এর কারণ ঈশ্বরের পুত্র আমাদের নিমিত্ত বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন এবং এভাবে আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর উপরে গ্রহণ করেছিলেন, সেইজন্যে এই সমস্ত পাপ তিনি ক্রুশে বহণ করেছিলেন, ক্রুশারোপিত হয়েছিলেন এবং তাঁর মূল্যবান রক্ত সেচন করেছিলেন, এবং এভাবে আমাদের সকলের ত্রাণকৰ্ত্তা হয়েছিলেন। অন্যকথায়, আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের পাপের জন্য বাপ্তাইজিত হয়েছেন, ক্রুশের উপরে তাঁর রক্তের মাধ্যমে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন এবং মৃত্যু থেকে পুনরায় উঠার দ্বারা আমাদেরকে রক্ষা করেছেন। আর মৃত্যু থেকে উঠার পরে এবং পরে এবং তাঁর পরিত্রাণের কাৰ্য্য সাধন করে তিনি এই ঈশ্বরের সিংহাসনের দক্ষিণে বসে আছেন, আর যখন তাঁর সময় আসবে, তিনি চুড়ান্ত নিশ্চিতভাবে পুনরাগমণ করবেন। এটাই জল ও আত্মার সুসমাচারের সত্য এবং পরিত্রাণের সার।

যাত্রা পুস্তক ২৭:১৬ পদে সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারের বিষয়ে লেখা আছে, “আর প্রাঙ্গণের দ্বারের নিমিত্তে নীল, বেগুনে লাল ও পাকান সাদা মসীনা সূত্রে শিল্পকারের কৃত বিংশতি হস্ত এক পর্দা ও তাহার চারি স্তম্ভ ও চারি চুঙ্গি হইবে।” সুতরাং সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গনের দ্বার নীল, বেগুনে লাল এবং পাকান সাদা মসীনা সূত্রে বোনা হয়েছিল। এটা আমাদেরকে যে সত্য বলছে তা হল, পরিত্রাণের অনুগ্রহদানের বিশ্বাসের দ্বারা আমরা স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করি।

নীল সূত্রে বোনা সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারা যে ঘটনা নির্দেশ করে তা হল, যীশু যখন এই প্রথিবীতে এসেছিলেন এবং বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, আমাদের সমস্ত পাপ যীশুতে চলে গিয়েছিল।

বেগুনে সূত্র আমাদের বলে যে, যীশু খ্রীষ্ট যিনি আমাদের পাপের জন্য বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তিনি মৌলিকভাবে নিজেই স্রষ্টা যিনি সমস্ত বিশ্বব্রহ্মান্ড এবং এর সব কিছু সৃষ্টি করেছেন, যিনি আমার এবং আপনার প্রভু। বেগুনে বর্ণ রাজাদের বর্ণ (যোহন ১৯:২-৩) এবং তাই এটা আমাদেরকে বলে যে, যীশু খ্রীষ্ট রাজাদের রাজা এবং সকলের প্রভু। “খ্রীষ্ট” শব্দের অর্থ “অভিষিক্ত” এবং শুধু মাত্র রাজা, যাজক এবং ভাববাদীগণেই অভিষিক্ত হতে পারতেন। এরূপে, যদিও যীশু খ্রীষ্ট মানব দেহে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, তথাপি, তাঁর সত্য পরিচয় ছিল, তিনি ছিলেন রাজাদের রাজা। অন্যকথায়, যীশু ছিলেন প্রভু এবং স্রষ্টা যিনি এই সমস্ত ব্রহ্মান্ড তৈরী করেছেন। যীশু নিজেই সর্বশক্তিমান ঈশ্বর এবং পিতা ঈশ্বরের একজাত পুত্র ছিলেন।

লাল সূত্রে বোনা সমাগম তাম্বুর দ্বারের লাল সূত্র বলতে ত্যাগ স্বীকারকে বোঝায় যা এই রাজাদের রাজা করেছিলেন যখন তিনি মানব দেহে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং অতপর তাঁর বাপ্তিস্মর দ্বারা আমাদের পাপ সমুহ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছিলেন এবং ক্রুশারোপিত হয়েছিলেন এবং ক্রুশের তাঁর রক্ত সেচন করেছিলেন। যীশু খ্রীষ্ট বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা, তাঁর মূল্যবান রক্ত সেচন করার দ্বারা এবং এভাবে আমাদের নিমিত্ত নিজেকে ত্যাগ করার দ্বারা আমাদের পক্ষে পাপের বেতন পরিশোধ করেছেন। লাল সূত্র যীশু খ্রীষ্টের ত্যাগ স্বীকারের রক্তের প্রতীক।

সর্বশেষে, পাকান মিহি মসীনা সূত্র নূতন এবং পুরাতন নিয়মের ঈশ্বরের জটিল বাক্যকে নিদের্শ করে। বাইবেল নূতন ও পুরাতন নিয়মের মধ্য দিয়ে আমাদের পরিত্রাণের কথা বলে। পুরাতন নিয়মে, ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, তিনি আমাদের ত্রাণকর্তারূপে আমাদের কাছে আসবেন, আর নূতন নিয়মে, ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, তিনি আমাদের ত্রাণকর্ত্তারূপে আমাদের কাছে আসবেন। আর নূতন নিয়মে, ঠিক তিনি যেমন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন প্রকৃতপক্ষে যীশু খ্রীষ্ট, ঈশ্বর নিজেই এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন এবং ক্রুশে তাঁর রক্ত সেচন করেছিলেন এ সমস্ত কিছুই আমাদের পাপের জন্য বলিরূপে তাঁর উপরে প্রদত্ত হয়েছে।

নীল সূত্র দ্বারা ঈশ্বর যে বাক্য প্রতীয়মান করেছেন তা হল, যীশু খ্রীষ্ট আমাদেরকে আমাদের পাপ থেকে রক্ষা করতে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা এই পাপ সমূহ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন; আর বেগুনে সূত্র দ্বারা তিনি যা প্রতীয়মান করেছেন তা হল, এই যে যিনি বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তিনি ঈশ্বর নিজেই। এবং লাল সূত্র দ্বারা ঈশ্বর যা প্রতীয়মান করেছেন তা হল, যীশু ত্রাণকর্ত্তারূপে এই পৃথিবীতে এসে, বাপ্তাইজিত হয়ে পৃথিবীর পাপ ক্রুশে বহণ করে এবং তাঁর মূল্যবান রক্ত সেচন করার দ্বারা আপনাকে এবং আমাকে রক্ষা করেছেন।

তাহলে, পুরাতন নিয়মের ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাত বাক্যের দ্বারা পরিত্রাণ এসেছে, অন্যকথায়, পরিত্রাণ পাকান মিহি মসীনা সূত্রে প্রতীয়মান। এই কারণেই এই নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকান মিহি মসীনা সূত্র দ্বারা সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বার বোনা হয়েছিল। যখন আমরা সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারের দিকে তাকাই, এই দ্বার পরিকল্পিতভাবে আমাদিগেতে প্রকাশ করে এবং দেখায় যে, ঈশ্বর কিভাবে আমাদিগকে আমাদের পাপ থেকে রক্ষা করেছেন এবং তাঁর প্রজা করেছেন; এইরূপে, আমাদের সকলকে অবশ্যই সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারে ব্যবহৃত চার সূত্রের আধ্যাত্মিক অর্থ অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে।

সমাগম তাম্বুর দ্বারের বর্ণের কথা বলতে গিয়ে বাইবেল প্রথমে এর নীল সূত্রের উল্লেখ করেছে। সচারচর আমরা ক্রমান্বয়ে ভাবি বেগুনে, নীল এবং লাল এভাবে, কিন্তু বাইবেলে ক্রমান্বয়ে নীল, বেগুনে এবং লাল সূত্রের কথা বলা হয়েছে। এটা আমাদেরকে নীল সূত্রের গুরুত্ব প্রদর্শন করে। প্রকৃতপক্ষে যীশু যখন আমাদের ত্রাণকর্ত্তারূপে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন। তিনি যদি যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত না হতেন, আমরা আমাদের পাপ হতে পরিষ্কৃত হতে সক্ষম হতাম না। একারণেই পৃথিবীর পাপ থেকে রক্ষা করতে যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন এবং ক্রুশরোপিত হয়েছিলেন, সমস্ত কিছু তিনি করেছিলেন পিতার ইচ্ছার বাধ্যতায়।

যীশুই এই ব্রহ্মান্ডের প্রভু, যিনি সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি আমাদের ঈশ্বর। যিনি এই পৃথিবীতে আমাদিগকে সৃষ্টি করেছেন তিনি নিজেই ঈশ্বর, যিনি আমাদিগকে নূতন জীবন দান করেছেন, এবং যিনি আমাদের জীবন যাপন নিয়ন্ত্রণ করেন। আমাদেরকে আমাদের পাপ থেকে রক্ষা করতে সমগ্রজাতির প্রতিনিধির দ্বারা তাঁকে বাপ্তাইজিত হতে হয়েছিল, এবং এভাবেই আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছিলেন। অন্যকথায়, যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা যীশু খ্রীষ্ট আমাদের সত্য ত্রাণকর্ত্তা হয়েছেন।

 যীশু খ্রীষ্টের এই প্রথিবীতে আসা ছিল আমাদেরকে আমাদের পাপ থেকে মুক্ত করা এবং আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নেওয়া, যার জন্য তিনি বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন। প্রথমে যদি তাঁর বাপ্তিস্ম না হত তবে তিনি কখনই ক্রুশারোপিত হতে সক্ষম হতেন না। একারণেই সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বার আমাদিগকে স্পটভাবে দেখাচ্ছে যে, যীশু কেমন যথাযথভাবে আমাদেরকে আমাদের পাপ থেকে রক্ষা করেছেন-অর্থাৎ তাঁর পরিত্রাণের বিশেষ পদ্ধতি।

 সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বার আমাদেরকে বলে যে, যীশু খ্রীষ্ট এই জগতে এসেছিলেন, যোহন হতে বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে মানব জাতির সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন এবং ক্রুশারোপিত হয়েছেন- অন্যকথায়, যাতে তিনি নিজের দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপের তত্ত্বাবধান করতে পারেন। যীশু যখন বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তখন স্বর্গের দ্বার খুলে গিয়েছিল এবং পিতা ঈশ্বর বলেছিলেন, “ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, ইহাঁতেই আমি প্রীত।” যীশু খ্রীষ্ট আমাদের মশীহ এবং ত্রাণকর্ত্তা, এছাড়াও তিনি ঈশ্বরের পুত্র ছিলেন, ঈশ্বরই প্রকৃত স্রষ্টা যিনি তাঁর নিজ বাক্য দ্বারা এই সমস্ত বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র ঈশ্বর হয়ে ও আমাদের প্রকৃত ত্রাণকর্ত্তা হওয়ার জন্য বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ যীশুকে বহণ করতে হয়েছিল।

যীশু খ্রীষ্ট এই সমগ্র বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টি করেছিলেন এবং এটা নিয়ন্ত্রন করেন, তিনি আমাদের পাপ থেকে আমাদের স্পষ্ট পরিত্রাণ দেখিয়েছেন। কারণ, আমাদের পাপ মুছে দিতে তিনি এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা এইরূপে সমস্ত পাপ তাঁর উপরে তুলে নিয়েছিলেন এবং ক্রুশে মরেছিলেন, যার জন্য আপনি আর আমি সত্যিকারভাবে রক্সা পেয়েছি। যীশুই সৃষ্টিকর্তা যিনি আমাদের জীবন এবং মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করেন, যিনি সমস্ত বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টি করেছেন, যিনি আমাদের আদিপিতাগণকে এবং সমগ্র মানব জাতিকে এই পৃথিবীতে এনেছিলেন তিনি ছিলেন নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকান মিহি মসীনা সূত্রের মূল বিষয় বস্তু।

 ঈশ্বর নিজেই পাপীদের উৎসর্গের বলিরূপে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন। যীশুই এই ঈশ্বর সর্বশক্তিমান এবং দয়ার ঈশ্বর যিনি আমাদিগকে রক্ষা করেছেন। একারণেই, যীশু খ্রীষ্ট সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছিলেন। অর্থাৎ তিনি ঈশ্বরের সমস্ত ধার্মিকতার পূর্ণতা সাধন করেছিলেন, এবং এ কারণেই পৃথিবীর পাপ তিনি ক্রুশের উপরে বহণ করেছিলেন, ক্রুশারোপিত হয়েছিলেন এবং তাঁর বহুমূল্য রক্ত সেচন করেছিলেন। ঠিক যেভাবে এটা সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারে প্রতীয়মান হয়েছে, যীশু খ্রীষ্ট আমাদের পাপ মুছে দিতে আমাদের নিজেদের উৎসর্গের বলি হয়েছেন।

 একারণে, শুধুমাত্র সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বার নয়, কিন্তু পবিত্র স্থানের দ্বার, মহা পবিত্র স্থানের দ্বার এবং এমনকি ঈশ্বরের গৃহের আচ্ছাদনের আবরণী ও নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকান মিহি মসীনা সূত্র দ্বারা বোনা হয়েছিল। এজন্যই যীশু খ্রীষ্ট আপনার নিমিত্ত বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন এবং এতে বিশ্বাসের কারণে আপনি এবং আমি ধৌত হয়েছি। যীশু সমস্ত ধার্মিকতা পূর্ণ হয়েছিল তাঁর বাপ্তিস্মের মধ্য দিয়ে নিজের উপরে সমস্ত লোকের পাপ তুলে নেওয়ার দ্বারা অতএব, আমাদের অবশ্যই যা করতে হবে তাহল, আমাদের কে বুঝতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে যে, আমাদের সমস্ত পাপও সেই সময় যীশুতে চলে গিয়েছিল।

যাহোক, বহু খ্রীষ্টিয়ান আছে যারা তাঁকে খামখেয়ালী ভাবে এবং অগ্রাহ্য ভাবে বিশ্বাস করে। তারা তাদের নিজেদের ব্যবস্থা বিহীন ধার্মিকতায় এত একঘুঁয়ে যে প্রথম থেকেই ঈশ্বরকে চ্যালেঞ্জ করে আসছে। তিনি যে পরিত্রাণ দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী আমাদের তাঁকে বিশ্বাস করতে হবে। যীশু বলেছেন, “আমিই পথ, সত্য ও জীবন” (যোহন ১৪:৬)। তিনি আমাদিগকে বলেছেন, “আমিই পথ। আমিই পথ যা তোমদিগকে স্বর্গে যেতে পরিচালিত করবে। আমিই মেষপালক, পথ এবং সত্য। প্রকৃত পক্ষে আমিই জীবন যা তোমাকে রক্ষা করেছে।” আমাদের পাপ থেকে আমাদিগকে রক্ষা করার দ্বারা যীশু খ্রীষ্ট আমাদের কাছে নূতন জীবনের প্রভু হয়েছেন।



যখন আমরা যীশুতে বিশ্বাস করি, কিভাবে তাঁকে আমরা বুঝব এবং বিশ্বাস করব?


তিনি যে এই পৃথিবীতে এসেছেন এবং আমাদেরকে রক্ষা করেছেন, সঠিকভাবে এটা বিশ্বাস করার দ্বারা আমরা আমাদের সমস্ত পাপ থেখে রক্ষা পেতে পারি। বিশ্বাস শব্দটি এইরূপ অর্থের সাথে সম্পর্কযুক্ত “নির্ভর করা,” “ধরে রাখা,” “বিশ্বাস ভরে অর্পণ করা” বয়ষ্করা যখন খুব বৃদ্ধ হয়ে যান, তখন সন্তানদের উপরে নির্ভরশীলহয়ে পড়েন, যখন তাদের নিজেদের দ্বারা জীবন যাপন পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে, তখন তারা এটা করেন। তদ্রুপ, ঈশ্বরের উপর নির্ভর করে আমরা জীবন যাপন করি। কারণ, আমরা সাধারণভাবে নিজেরা নিজেদের পাপ মুছে ফেলতে পারিনা। এমনকি যদি আমরা নিজেরা পাপ না করার চেষ্টা করি, তথাপি শেষ পর্যন্ত আমরা সর্বদা জীবন যাপনে পাপ করি। যীশু আমাদের জন্য যা করেছেন তাতে বিশ্বাসের দ্বারা আমরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করি এবং আমাদের ত্রাণকর্তা যীশু খ্রীষ্টেতে আমাদের বিশ্বাস স্থাপন করি কিন্তু আমরা নিজেরা আমাদেরকে আমাদের পাপ থেকে মুক্ত করতে পারিনা।

একারণেই, যখন আমরা যীশুতে বিশ্বাস করি, এবং আমাদের পরিত্রাণের অনুসন্ধান করি, আমাদেরকে প্রথমে অবশ্যই জানতে হবে, কি প্রকারের বিশ্বাস সঠিক বিশ্বাস। ২০০০ বছরের ও পূর্বে, পকৃতপক্ষে আপনাকে এবং আমাকে এবং প্রত্যেক মানব জাতিকে আমাদের পাপ থেকে রক্ষা করতে যীশু এই পৃথিবীতে এসেছিলেন। ৩০ বছর বয়সে তিনি যোহন বাপ্তাইজক কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন এবং এভাবে পৃথিবীর সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছিলেন। এ ঘটনায় আমাদের সকলকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। আমাদেরকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, যীশু যখন গ্রহণ করেছিলেন তখন শুধু আমার এবং আপনার পাপ গ্রহণ করেনি, কিন্তু তিনি তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা পৃথিবীর সমস্ত পাপ তাঁর কাঁধে তুলে নিয়েছেন, অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের প্রত্যেক পাপ যীশু খ্রীষ্ট কর্ত্তৃক তুলে নেয়া হয়েছে।

যাহোক, বহু লোক এই ঘটনা অগ্রাহ্য করে যে, যীশু যখন বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন তখন শুধু পৃথিবীর সমস্ত পাপ নয়, কিন্তু তাদের সমস্ত পাপ যীশুতে চলে গিয়েছিল এবং অবিরত শুধু ক্রুশূয় রক্তে বিশ্বাস করে। একারণে তাদের কেউই সহজে উপলব্দি করতে পারেনা যে, কোনটা সঠিক বিশ্বাস, এমনকি যদিও তারা দেখে যে, সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বার নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান মিহি মসীনা সূত্রে বোনা তথাপি তারা উপলব্দি করতে পারে না।

 যীশু খ্রীষ্ট আমাদেরকে রক্ষা করতে যখন এই জগতে এসেছিলেন, তিনি হঠকারীভাবে আমাদিগকে রক্ষা করেন নাই। তিনি প্রকৃতই তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন এবং তাঁর ক্রুশারোপনের দ্বারা আমাদের পাপের শাস্তি, বহন করেছেন, যার জন্য আপনি এবং আমি সম্পূর্ণভাবে রক্ষা পেয়েছি। এভাবেই যীশু খ্রীষ্ট সমগ্র মানব জাতিকে মুক্ত করেছিলেন। এ কারণে আমাদের প্রভু বলেছেন, “যে আমার কাছে আসিবে তাহাকে আমি কোনমতে বাহিরে ফেলিয়া দিব না”(যোহন ৬:৩৭)।

যখন আমরা বলি যে, আমরা যীশুতে বিশ্বাস করি, আমরা শুধু তাঁর ব্যক্তিত্বে বিশ্বাস করি না, বা শুধু তার সর্বশক্তিমত্তায় বিশ্বাস করি না। বরং আমরা এই ঘটনায় বিশ্বাসের দ্বারা রক্ষা পেয়েছি যে, যীশু ঈশ্বর হওয়া সত্ত্বেও এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা আপনার এবং আমার সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন এবং আমাদের নিমিত্ত ক্ৰুশে ক্রুশারোপিত হয়েছিলেন। সমাগম তাম্বুতে প্রতীয়মান পরিত্রাণের দিকে যখন আমরা তাকাই, এটা আমাদের কাছে স্বচ্ছ পরিষ্কার হয়ে যায় যে, আসলে কোনটা সঠিক বিশ্বাস, যা আমাদেরকে অব্যশই যীশুকে বিশ্বাস করার সময় অবশ্যই স্বীকার করতে হয়।

 আজকে বহু লোক শুধুমাত্র ক্ৰুশীয় রক্তে বিশ্বাস করে, অবিরম গান করছে, “♬আপনি কি পাপের বোঝা থেকে মুক্তি হবেন? ♪রক্তের শক্তি আছে, রক্তে শক্তি আছে, রক্তের শক্তি আছে,♬ নিজেদের উৎসবের সাথে অন্ধের মত চিৎকার করে, “প্রভু! আমি বিশ্বাস করি!” যত অত্যুৎসাহীভাবে তারা যীশুতে বিশ্বাস করুক না কেন, কেবলমাত্র শুধু ক্রুশীয় রক্তে বিশ্বাসের দ্বারা তারা কখনোই তাদর পাপ থেকে মুক্ত হতে পারে নাই।

কেননা আমরা এইরূপে যে, আমাদের সমগ্র জীভন যাত্রায় আমরা কখনও আমাদের পাপ থেকে হতে পারি নাই, আমাদের সত্যিকারভাবেই ত্রাণকর্তার প্রয়োজন, আর এই ত্রাণকর্তা যীশু ছাড়া অন্য কেউ নন। যীশু খ্রীষ্টই ত্রাণকর্তা, যিনি আমাকে এবং আপনাকে মুক্ত করতে এসেছিলেন, তিনি রাজাদের রাজা, তিনি সৃষ্টিকর্তা, যিনি এই বিশ্ব-ব্রহ্মান্ড এবং সব কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি আমাদের জীবনের প্রভু। তিনি এই জগতে এসেছিলেন, তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা আমাদের পাপ তাঁর উপরে তুলে নিয়েছিলেন, এবং ক্রুশে মৃত্যু বরণ করার দ্বারা আমাদের পাপ সমূহ ধৌত করেছিলেন। অন্যকথায়, আমরা যীশু খ্রীষ্টকে আমাদের ত্রাণকর্তারূপে বিশ্বাস করার দ্বারা রক্ষা পেয়েছি, যিনি তাঁর বাপ্তিস্মের ও ক্রুশের দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপের শাস্তি বহন করেছিলেন। সমাগম তাম্বুর পরিষ্কারভাবে এবং নির্দিষ্টভাবে আমাদেরকে যা দেখাচ্ছে এটা তাই।



যে সমস্ত লোকেরা ধর্মীয়ভাবে যীশুতে বিশ্বাস করে


এই দিনগুলোতে লোকেরা দাবী করে যে, তারা শুধুমাত্র ক্রুশীয় রক্তে বিশ্বাসের দ্বারা রক্ষা পেতে পারে। এইরূপ ব্যর্থ দাবী পোষন করা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রর্দশন ছাড়া আর কিছু নয়। এই লোকেরা বলে, “যখন ঈশ্বরকে আমি আমার অনুতাপের প্রার্থনা করি, পবিত্র আত্মা আমার হৃদয়ে কথা বলেন, “আমার সন্তান, আমি তোমার পাপ ক্ষমা করে দিয়েছি।’ যখন আমি এই এর স্বর শুনিলাম, আমি যে কত কৃতজ্ঞ হয়েছিলাম!” তারা এরূপ দাবী করে বলে যে, এরূপ বিশ্বাস তাদের বিশ্বাসের সাক্ষ্য।

কিন্তু পরিত্রাণ আমাদের ভাবের অনুভতির দ্বারা আসে না। বরং আমরা আমাদের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ মাত্রার মধ্য দিয়ে: জ্ঞান, ভার এবং ইচ্ছা, আমরা রক্ষা পেয়েছি। অন্যকথায়, প্রথমত আমাদের ঈশ্বর ত্রাণকর্তা কিভাবে আমাদেরকে রক্ষা করেছেন এটা জানার দ্বারা আমরা অবশ্যই রক্ষা পেয়েছি, এর পরবর্তীতে এটাও বিশ্বাস করছি। কিন্তু ধর্মগুলোর ব্যাপার কি? সে গুলো কি? ধর্ম হল মানুষের নিজেদের চিন্তাভাবনার উপরে তৈরী মানব সৃষ্টি বিধান। 

অনেক আগে, মা আমার পরিবারের প্রধান ছিলেন। আমি তার সাহায্যকারী ছিলাম, সমস্ত রান্না ঘরে আমি তাকে অনুসরন করতাম, বাইবেলের যাকোবের ন্যায় তাঁকে জিজ্ঞাসা করতাম, কি সাহায্যের তার প্রয়োজন। যখন আমার মা রান্না ঘরে খাদ্য তৈরী ব্যস্ত থাকতেন, আমি তখন খাবার ঘরের টেবিল সাজাতে ব্যস্ত থাকতাম। আমি এবং আমার মা একটি দারুণ যৌথ সমন্বয় সাধন করতাম। সকালে উঠেই আমরা রান্নার আগুন জ্বালাতাম, টেবিল প্রস্তুত করতাম, এবং খাওয়ার পরে একটি ঝাড়ু দিয়ে ফ্লোরের মেঝে ঝাড় দিতাম। এই ঝাড়ু দেয়ার মাধ্যমেই সকালের টুকিটাকি কাজ শেষ হয়ে যেত।

এটা ঐ দিনগুলোতে কোরিয়াতে কোন বিশেষ দৃশ্য ছিল। কিন্তু মজার ব্যাপার ছিল যে, যে ঝাড়ু রান্নাঘরের মেঝে পরিষ্কারের কজে ব্যবহৃদ হত তা হঠাৎ একটি দেবতায় পরিণত হয়েছিল, যা আমাদের প্রশ্নের উত্তর প্রদানের দাবী করত। অন্য কথায়, লোকেরা প্রকৃতই এই ব্যবহৃত ক্ষয়প্রাপ্ত ঝাড়ুর কাছে প্রার্থনা করত। এরূপ হাস্যকর ঘটনা আমাদের জীবনেও মাঝে মাঝে ঘটে; শুধু তাই নয়, কিন্তু যখনই পরিবারে বা প্রতিবেশীদের কোন দূর্ভাগ্য দেকা যায়, আমরা যাদুমন্ত্র প্রদর্শন করতে মন্ত্রবেত্তা ডাকি। কারণ লোকেরা যে সময় সর্বেশ্বরবাদ বিশ্বাস ধারণ করত, এবং বিশ্বাস করত যে, দেবতারা সবখানেই থাকতেন, যে ঝাড়ু দিয়ে মেঝে ঝাড় দেয়া হত কেবলমাত্র সেই ঝাড়ুই দেবতা হয়ে যায় নাই, কিন্তু পাহাড়ের উপরে বৃহৎ প্রস্তর ফলক যাতে পুরুষানুক্রমে তাদের নাম লেকা ছিল, বা আরও এমনকি বাস্তবিকভাবে চোখে যা দেখত তা-ই তাদের দেবতায় পরিণত করত।

আজকাল, সময় অতিক্রমের সাথে সাথে, লোকেরা ব্যাপকভাবে এই প্রকার মূর্খতা থেকে বেরিয়ে আসছে; কিন্তু ঐ সময়ে, যে কোন কিছু দেবতায় পরিনত হওয়ার ঘটনা বারংবার ঘটত। সুতরাং মন্ত্রবিদ্যা সেই সময়ে অন্যমত একটি সচল ব্যবসা ছিল। আমার মনে আছে আমি দেখেছি যাদুকর যাদুক্রিয়া প্রদর্শনীর সময়ে অবোধ উচ্চারনে মন্ত্র পাঠ করছে। আমি যাদু দেখে ফেরার পথে অনুকরণ করা উচ্চারণ আবৃতি করতাম, বলতাম, “আবরাকাডাবরা আবরাকাডাবরা, আলো হোক, আলো হোক, যখন আলো আসে, সব কিছুই আমার হয়ে যায়। আরধনার অভাবে মিষ্টি কুমড়ার পিপা ভেঙ্গে গিয়েছিল। আবরাকাডাবরা আবরাকাডাবরা।” অবশ্য তারা কি অর্থ বুঝাত এ সম্বন্ধে আমার কোন ধারনাই ছির না।

 যখন এ ধরণের কোন যাদুকর প্রতিবেশীর বাড়ীতে যাদুক্রিয়া প্রদর্শন করত, গ্রামের সমস্ত মানুষ জড়ো হতো তা দেখার জন্য। এই ধরণের ঘটনার উল্লেখযোগ্য দিক হল মৃতশুকরের মাথার জন্য অর্থ অপচয় করা অর্থাৎ উলু বনে মুক্তা ছড়ানো। এই সব মন্ত্রবেত্তার তন্ত্রমন্ত্রের জন্য প্রচুর অর্থ ব্য হত। আমার সব্লপ পরিচিত বৃদ্ধদের মধ্যে একজন দাবী করত যে, সে এক কুমারী প্রেতাত্মা দ্বা আবিষ্ট।

সে দাবীর করত যে, সে সমস্ত ভুতগ্রস্তের ভুত ছাড়াতে পারত, কারণ সে একজন কুমারী প্রেতাত্মা দ্বারা আবিষ্ট- ধরে নেয়া হত কুমারী প্রেতাত্মারা অন্যদের থেকে অনেক বেশী শক্তি ধারণ করে। সে বলেছিল যে, যদি সে অধিক ক্ষমতাশালী কোন পিশার্চকে শেষপর্যন্ত মোকাবেলা করতে না পারে সে এই পিশার্চকে তাড়িয়ে দেবার পরিবর্তে নিজেই নিজেকে মেরে ফেলবে কিন্তু তৎসত্ত্বেও সে দাবী করত যে, বিভিন্ন বন্য পিশার্চদের তাড়িয়ে দিতে পারত। সে একজন যাদুকর ছাড়া কিছুই না।

 অন্যান্য যে কেউর মত সে স্বাভাবিকভাবেই তারা জীবন যাপন করত। কিন্তু যখনই কেউ তাকে তার মন্ত্র প্রদর্শন করতে অনুরোধ করত, সে তার পেষাকে পাল্টিয়ে জাদুকরের পেষাকে সজ্জিত হত এবং দর্শকদের নিমিত্ত প্রদর্শনী প্রদর্শন করতেন। এর কারণ লোকেরা হৃদয় এরূপ মিথ্যা উপাসকের মন দ্বারা দখল হয়ে গিয়েছিল যে, তারা এই প্রকার আদি ধর্মগুলোর অনুসরন করত এবং যেখানে ঈশ্বরের বাক্য দ্বারা করার কিছুই থাকে না এবং পরিশেষে তারা সর্বপ্রকার উন্মত্ত এবং লজ্জাজনক বিষয়ে বিশ্বাস করে।

 অন্যকথায়, লোকেরা নিজেরাই তাদের ধর্ম তৈরী করছে। উপরের গল্প অনুসারে, তারা নিজেরাই নিজেদের দেবতা উদ্ভাবন করব। কারণ লোকেরা এই প্রকার উৎসাহ রয়েছে। এমন কি খ্রীষ্টনরাও, যখন বলেছে যে, যীশু তাদের জন্য ক্রুশারোপিত হয়েছেন, এর উপরে নিজেদের আবেগের দ্বারা তারা সহজে আচ্ছন্ন হতে পারে, এবং পরিশেষে বিমোহিত হয়ে যায় এবং অন্ধের ন্যায় তাঁকে বিশ্বাস করে। আর যখন তারা বলেছে যে, যীশুই ঈশ্বরের পুত্র এবং সৃষ্টিকর্তা যিনি সমস্ত বিশ্ব ব্রহ্মান্ড সৃষ্টি করেছেন, তখন তারা এটাকে ভালবাসে এবং এরূপ একটি বার শর্তহীনভাবে বিশ্বাস করে। তারা এটা শুনতে ও ভালবাসে, “আমিই পথ, সত্য ও জীবন। আমাদিয়া না আসিলে কেহ পিতার নিকট যাইতে পারে না।” তথাপি আসল অর্থ না বুঝে তারা আবার ও নিঃশর্তভাবে বিশ্বাস করে। কারণ ঈশ্বরের বাক্য ভ্রান্ত নয়, এমনকি প্রথমে যখন তারা সুন্দরবাক্য শোনে, তারা যেটা বলে তা হল, তারা যীশুকে ভালবাসে।

কিন্তু যীশুতে যারা তাদের বিশ্বাস অবজ্ঞা করে এখন হৃদয়ে পাপে পূর্ণ রয়েছে, যীশু এই সমস্ত লোকদের বিচার করতে আসবেন। এছাড়াও যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে তিনি তাদেরকে নিয়ে যেতে আসবেন। অধিকাংশ রোকেরা যারা জল ও আত্মার সুসমাচারের সত্য জানে না এবং নিজেদের চিন্তা ভাবনার উপরে ভিত্তিকরে যীশুকে বিশ্বাস করে, তারা শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারে যে, প্রায় ১০ বছরের তাদের ধর্মীয় জীবনে তারা সত্যিকারভাবে পাপী এবং ঈশ্বরের ব্যবস্থা অনুসারে জীবন যাপন করতে তারা অক্ষম।

আমিও যীশুকে খামখেয়ামীভাবে বিশ্বাস করতাম। আমি সর্বদা প্রশংসা গান করতাম, খ্রীষ্টের বিরোধতা করে আনন্দে আত্মহারা হতাম। কিন্তু যীশুকে জানার পরে আমি ব্যবস্থা জেনেছিলাম এবং ব্যবস্থা জানার পরে আমি আমার পাপ চিনতে পেরেছিলাম। আমার পাপ জানার পরে আমি বুঝতে পারলাম যে, পাপের অনন্ত দন্ড হবে এবং ফলে পাপের যন্ত্রনাভোগেও হবে।

 পাপের যন্ত্রনাভোগের সমাধান করতে আমি আমার অনুতাপের প্রার্থনা উৎসর্গ করেছিলাম। যাহোক যে মিথ্যা উপাসকের বিশ্বাস দ্বারা সমস্ত লোকেরা আশীর্বাদ পেতে প্রার্থনা করে এটা ঠিক তেমন বিশ্বাস। কারণ ঈশ্বরের বাক্য লেখা ব্যবস্থা জানতে পারার পরে আমার খুবই উদ্বিগ্ন হয়েছিল এবং আমি আমার পাপ চিনতে পেরেছিলাম, আমি ভেবেছিলাম আমাকে অনুতাপের প্রার্থনা করতে হবে এবং এরূপ প্রার্থনা অনুতাপের প্রার্থনা আমাকে উদ্বেগ থেকে কিছুটা মুক্তি আনয়ন করেছিল। কিন্তু তখন ও আমার বিবেকের কাছে আমার পাপরয়ে গিয়েছিল এবং উপলব্দি করলাম যে, আমার আত্মা তখনও পাপের বন্ধনে আবদ্ধ ছিল, আমি অবিরত যন্ত্রনাভোগ করতে থাকলাম।

এই প্রকারের, আমি আমার পাপের বন্দি থাকার কারণে যীশুকে বিশ্বাস করি নাই, কিন্তু আমি আমার পাপ বুঝতে পারার পরে আমি যীশুকে বিশ্বাস করেছিলাম এবং এটা হয়েছিল এভাবে আমার পাপ উপলব্ধি করার পরে, অর্থাৎ যন্ত্রনালভোগ আমার কাছে পরে। “আমাকে খুব শীঘ্রই যীশুতে বিশ্বাস অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে” “এমন কি আমি ভেবেছিলাম যে, আমি যীশুকে আমার তারুণ্যের খুব শুরুতেই জানতে এবং বিশ্বাস করতে পেরেছিলাম। তাই আমি যীশুতে বিশ্বাস করা থেকে সাধারণ ভাবে বিরত থাকতে পারি নাই। আর এইরূপে এই জগতের পাপের বন্ধন ভেঙ্গে ফেলতে আমি অনুতাপের প্রার্থনা উৎসর্গ করেছিলাম, কিন্তু কোন উপকার হয় নাই, মৌলিকভাবে এই সমস্যা সমাধান করতে এই প্রার্থনা সামান্য কার্যকারী।”

এমন কি সাধারণ লোকেরা যারা এই কার্য সাধন করে তারা এ বিষয়ে সচেতন নয়, কিন্তু যখন তারা মন্ডলীতে উপস্থিত হতে শুরু করে, তারা ব্যবস্থা সম্পর্কে শোনে এবং তারা তাদের পাপ বুঝতে পারে এবং এই ভাবে তারা তাদের পাপে আবদ্ধ হয়ে যায়। তখন তারা প্রথমেই আবেগযুক্ত অনুতাপের প্রার্থনা প্রদানের দ্বারা তাদের পাপ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে, কিন্তু যত সময় পার হয় তারা তত উপলব্ধি করতে যে, তারা তাদের পাপের আবদ্ধ এবং তাদের সেগুলোর ক্ষমা পেতে হবে।

তারা যত অধিক অনুতাপের প্রার্থনা করুক সেটা কোন ব্যাপার নয়, তারা যত প্রার্থনা করবে ততবেশী বুঝতে পারবে যে, তাদের পাপ মুছবে না। এমন কি আরও বেশি প্রকাশিত হত এবং এমনকি পাপের আরও বেশি উপস্থিতি তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিত। এই মুহূর্ত থেকে এউরূপ লোকেরা ধার্মিক জীবন-যাপন কঠিন যন্ত্রনাপূর্ণ হত এবং তারা অবিরত তা ভোগ করতে থাকত। তারা সানন্দে বলত, “যখন আমি প্রথম বিশ্বাস করেছিলাম আমি এত যে ভাল অনুভব করেছিলাম, কিন্তু এখন ৫ থেকে ১০ বছর পার হওয়ার পরে কেন আরও খারাপ অনুভব করছি?” কেন আমি অত্যাধিক সমস্যায় জর্জরিত? আরা অনুধাবন করে যে, হয়তো তাদের পরিত্রাণের দৃঢ় বিশ্বাস আর নেই, তাহলে যখন তারা প্রথমে বিশ্বাস করেছিল, কোন জিনিস তারা এত দৃঢ়ভাবে ধারন করেছিল। যীশুতে বিশ্বাস করার পরে তারা পাপে পূর্ণ হয়েছে, এটা বিশ্বাস করতে করতে তারা তাদের বিশ্বাসে সব ধরনের মতবাদ অবলম্বন করে এবং পরিশেষে তারা এরূপ ধর্মবিদ হয়।

 এর কারণ, এই লোকগুলো সত্য জানেনা যে, যীশু নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান মিহি মসীনা সূত্রের দ্বারা তাদের পাপ থেকে তাদেরকে রক্ষা করেছেন এবং শেষেপর্যন্ত খাঁটি ধর্মবিদ করেছেন। যদিও তারা যীশুতে বিশ্বাস করে বলে দাবী করে। তারা এখনও সমস্যার জর্জরিত, তাদের অন্তরে শান্তি নেই। এমন কি যদি তারা চেষ্টাও করে, তবুও এরূপ লোকেরা পরিবর্তিত হয়ে অন্য ঈশ্বরের কাছে গমন করতে পারেনা। তারা জেনে গেছে যে, ঈশ্বর ব্যতিত অন্যকাউকে বিশ্বাস করা প্রতিমাপূজার স্বরূপ। কারণ, তারা পরিষ্কারভাবে জানে যে, যীশু ঈশ্বরের পুত্র, তিনি নিজেই ঈশ্বর এবং তিনিই তাদের ত্রাণকৰ্ত্তা, তারা কখনই ভিন্ন কোন ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে পারে না। আর যেহেতু তারা সত্য জানে না, তাই তারা তাদের পাপের দ্বারা সর্বদা সমস্যায়, এবং কষ্টে জীবন যাপন করে।

একারণে তাদেরকে অবশ্যই যীশু খ্রীষ্টকে জানতে ও বিশ্বাস করতে হবে যিনি নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূতার মধ্য দিয়ে এসেছেন। এই খ্রীষ্টিয়ানেরাও, যারা শেষ পর্যন্ত ধর্মবিদে পরিণত হয়, জানে যে, যীশুই রাজা, যিনি ক্রুশের উপরে তাঁর রক্ত সেচন করেছেন এবং বাইবেলের বাক্য ঈশ্বরের বাক্য।

যাহোক, তারা যেটা জানে না তা হল, যীশু শুধু তাদের পাপ নয় কিন্তু পৃথিবীর সমস্ত পাপ তাঁর বাপ্তিস্মের মধ্য দিয়ে তুলে নিয়েছেন, এবং এই অজ্ঞতার কারণে তারা তাদের বিশ্বাস দৃঢ়ভাবে ঘোষনা করলেও তারা পাপী হিসাবে জীবন-যাপন করছে এবং এ কারণে, সরিশেষে তারা পাপীদের জন্য সংরক্ষিত স্থানে গমন করবে। কারণ এরূপ খ্রীষ্টিয়ান ধর্ম বিদদের কোন ধারণা নাই যে আসলে যীশু কিভাবে তাদের পাপ তুলো নিয়েছেন, যখনই তারা উদ্দীপ্ত হয়, তারা তাদের নিজেদের আবেগে বিশ্বাস করে। ফলে, তারা যেটা বিশ্বাস করে, সেটার সাথে বাস্তবতার কোন মিল থাকে না, ঠিক একজন অন্ধের একটি হাতির বিভিন্ন অঙ্গ স্পর্শ করে হাতি চেনার মত। এ কারণে তারা অনুধাবন করতে পারে না যে, তাদের বিশ্বাসের ভ্রান্তি কোথায় এ জন্যেই পুনরায় তারা দ্বিধাগ্রস্থ হয়।



যদি আমরা নীল সুতার সত্যে বিশ্বাস না করি আমাদের 

প্রতি কি ঘটবে?


আমরা যদি সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারের নীল সুতা বাদ দিয়ে যীশুকে আমাদের ত্রানকর্তারূপে বিশ্বাস করি, তাহলে কি ঘটবে? ঈশ্বর যখন নীল, বেগুনে লাল এবং পাকান মিহি মসীনা সুতা দ্বারা সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বার তৈরী করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন ইস্রায়েলদেরকে শুধু বেগুনে লাল এবং পাকান মিহি মসীনা সূত্র দ্বারা তৈরী করার নির্দেশ দেয়ার বদলে মোশীকে কি বলেছিলেন, আর ইস্রায়েলীয়রা কি প্রকৃতপক্ষে এইভাবে দ্বারটি তৈরী করেছিল? ঈশ্বরকি এটাকে তাঁর সমাগম তাম্বুর দ্বার হিসাবে গ্রাহ্য করতেন? এরূপ হলে তিনি কখনই এটা অনুমোদন করতেন না। কারণ ঈশ্বর ইস্রায়েলদের চারটি ভিন্ন বর্ণের সূত্রের দ্বারা সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বার তৈরী করতে বলেছিলেন, এটা যদি তদানুরূপভাবে করা না হত, তাহলে এটা সমাগম তাম্বুর দ্বার হিসাবে কখনই ডাকা হত না। চারটি সুতার একটিও কখনও বাদ যায় নাই।

সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বার নীল, বেগুনে, লাল ও পাকান মিহি মসীনা সূত্র দ্বারা বুনতে হয়েছিল। কারণ, যীশু, ঈশ্বর নিজেই মানবদেহে আমাদের ত্রাণকৰ্ত্তারূপে এই জগতে এসেছিলেন, তাঁর নিজের দেহের উপরে জগতের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন, মৃত্যু থেকে উঠেছেন, এবং এইভাবে আমাদের পাপ ধৌত করে তুষারের ন্যায় শুভ্র করেছেন, যীশুর এই সমস্ত কার্যে বিশ্বাস এবং আস্তার দ্বারা আমরা আমাদের পাপ থেকে মুক্তহয়েছি। সমাগম তাম্বুর দ্বারা আমাদেরকে বলে যে, আমাদের পাপ থেকে রক্ষা পেতে আমাদেরকে কিভাবে যীশুতে বিশ্বাস করতে হবে। সমাগম তাম্বুর দ্বারে প্রতীয়মান সত্যে যারা বিশ্বাস করে, তারা সকলে তাদের পাপ থেকে রক্ষা পেয়েছে। তারা সকলে তাদের পাপ মোচন লাভ করেছে, তুষারের ন্যায় শুভ্র হয়েছে। যীশু খ্রীষ্ট আমার এবং আপনার পাপ ধৌত করে আমাদেরকে তুষারের ন্যায় শুভ্র করেছেন। যীশু খ্রীষ্ট আপনার এবং আমার সত্যিকারের ত্রাণকর্ত্তা হয়েছেন।

 সমাগম তাম্বুর দ্বারে প্রতীয়মান এটাই আসল সত্য। আজকে এখন বহু লোক আছে, যারা নীল সূত্রে প্রকাশিত অর্থ বিশ্বাস করে না, যদি ও তারা বেগুনে, লাল এবং পাকান মিহি মসীনা সূত্রে তাদের বিশ্বাস দবী করে।

এই বইয়ের প্রারম্ভিক গবেষনা করতে একদা আমি একটা খ্রীষ্টান বইয়ের দোকানে গিয়েছিলাম। সেখানে আমি সবচেয়ে বিখ্যাত কিছু খ্রীষ্টান লেখকের সমাগম তাম্বুর উপরে লেখা বই পেয়েছিলাম। যাহোক, এমন কি কেউ কেউ সেখানে সমাগম তাম্বুর দ্বারের বিষয়ে কিছু বলেন নি, সেখানে অন্যেরা নিম্নলিখিত ভিত্তিহীন দাবী করে, “সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গনের দ্বারের নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকান মিহি মসীনা সূত্র আমাদেরকে কি বলছে? নীল হল আকাশের রং, অতএব আমাদেরকে বলে যে, যীশুই ঈশ্বর। লাল বর্ণ মূল্যবান রক্তকে নির্দেশ করে যা, যীশু ক্রুশে সেচন করেছেন, যখন তিনি এই জগতে এসেছিলেন। বেগুনে বর্ণ আমাদেরকে বলে যে, তিনিই রাজা।”

 এই প্রকার ব্যাখ্যা ধারাবাহিকতাহীন। বেগুনের সূত্রের মধ্যদিয়ে আমাদেরকে বলা হয়েছে যে, যীশুই ঈশ্বর। যখন ঈশ্বর বেগুনে সূত্রের মধ্যদিয়ে আমাদেরকে বলেছেন যে, যীশুই রাজাদের রাজা এবং প্রভুদের প্রভু, তখন কেন তিনি নীল সূত্রের দ্বারা এটা পুনরায় বললেন? এর কারণ এই লোকেরা নীল সূত্রের রহস্য জানে। যার জন্য তারা এটাকে যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

 কারণ তারা শুধু ক্রুশের রক্ত সেচনই চেনে, তারা লাল সূতাকে মহা প্রধান্য দেয়। যখন আমরা তাদের সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গনের চিত্রাঙ্কন দেখি, আমরা দেখি যে, সেটা বেশির ভাগই সাদা এবং লাল বর্ণ দ্বারা অঙ্কিত। যখন সমাগম তাম্বুর দ্বারে অবশ্যই পরিষ্কারভাবে নীল, বেগুনে লাল পাকানো মিহি মসীনা বর্ণ দেখানো হয়েছে, তখন তাদের অঙ্কনে শুধু লাল এবং সাদা সূতা দেখানো হয়েছে, কিছুটা বেগুনে বর্ণ হলেও মোটেই নীল সূতা নেই।

এই পৃথিবীতে এখন বহু লোক আছে যারা নীল সূতার সত্য বুঝে এরূপ যুক্তি বিরুদ্ধ কথা বলে। আজকের সময়ের বহু আছে যারা দাবী করে তারা একমাত্র যীশুর ক্রুশীয় রক্তে বিশ্বাসের দ্বারা রক্ষা পেতে পারে, এমন কি জানেও না যে, যীশু আমাদের পাপের শাস্তি একেবারে বহন করতে তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন। এরূপ লোকদের হৃদয় পাপে পূর্ণ থাকে। আজ কাল বা তারও পরে- বস্তুত মৃত্যু পর্যন্ত- যেমন তারা পাপপূর্ণতা থেকে মুক্ত হতে পারে নাই, তেমনি লোকেরা পীড়নযুক্ত হবে। তাই কিছু লোক স্বীকার করে, “আমার মৃত্যু পর্যন্ত আমি ঈশ্বরের সাক্ষাতে পাপী।” কিন্তু যীশুকে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও মরণ পর্যন্ত তারা থাকবে এটা সঠিক বিশ্বাস?

যীশুতে বিশ্বাসের পরে, কখন সত্যিকার ভাবে তাহলে আমরা ধার্মিক হই? যারা যীশুর বাপ্তিস্ম ও রক্তে বিশ্বাস করে ধার্মিক হয় স্বর্গ কি তাদের জন্য রক্ষিত স্থান নয়? প্রকৃতপক্ষে স্বর্গ ধার্মিকদের স্থান পাপীদের জন্যে নয়। শুধু ধার্মিকেরা, যারা নির্দিষ্টভাবে তাদের পাপ থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং যারা পাপহীন হয়েছে, তারাই স্বর্গে প্রবেশ করতে পারে।

যারা যীশুকে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও মৃত্যু পর্যন্ত নিজেদেরকে পাপী হিসাবে ঘোষনা করে তারা যতবার তাঁতে তাদের বিশ্বাস স্বীকার করুক না কেন,- কোন ব্যাপার নয়, পরিত্রাণের উপর তাদের কোন দৃঢ় প্রত্যয় নেই, কারণ নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূতা সম্পর্কে তারা অজ্ঞান। এমন কি যদিও তারা যীশুতে বিশ্বাস করে এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করে, তাকে কোন দৃঢ় বিশ্বাস নেই যে, তাদের প্রার্থনার উত্তর পাবে। যদিও তারা যীশুতে বিশ্বাস করে, তারা তাঁর কাছে থেকে সাহায্য কি প্রেম, কিছুই পাবে না। তারা তাদের ভজনা প্রদর্শনের সময় অবশ্যই প্রেম অনুভব করে, কিন্তু যখন তারা তাদের ভজনা শিথিল করে, তারা অনুভব করে যে, তারা যেন ঈশ্বর কর্ত্তৃক পরিত্যাক্ত, যেন তারা ঈশ্বর কর্ত্তৃক ঘৃণিত। তারা ভাবে যে, শুধুমাত্র যখন তারা নৈবেদ্য এবং ভজনা তাঁর কাছে উৎসর্গ করে, তখন ঈশ্বর তাদের প্রেম করেন এবং অনুগ্রহ করেন, আর যখন তারা তাঁকে নৈবেদ্য উপহার দিতে ব্যর্থ হবে, তিনি তদের আর প্রেম করবেন না। যখন তারা কিছু কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়, তারা ভাবে যে, ঈশ্বর তাদের ঘৃণা করেন, তারা বুঝতে অক্ষম যে কোন তাদেরকে এরূপ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, পরিশেষে তাদের দূর্ভোগের জন্যে তাঁকে দোষারোপ করতে থাকে এবং আর তাকে বিশ্বাস করে না।

সর্বশেষে, ঈশ্বর এবং এরূপ লোকেরা মধ্যকার বিশ্বাস ভেঙ্গে যায়। কারণ তাদের বিশ্বাস তাদের নিজেদের চিন্তা-চেতনা এবং আবেগ থেকে উৎপন্ন; এটা খুবই খামখেয়ালী, অনিশ্চিত এবং ভ্রান্ত। আমরা যখন ঈশ্বরের কাছে যাই; অবশ্যই আমাদের আবেগকে ছুড়ে ফেলে দিতে হবে। যখন আমরা ঈশ্বরের কাছে যাই, আমাদেরকে অবশ্যই এই সত্যে বিশ্বাসে মাধ্যমে তার কাছে যেতে হবে যে, আমাদের পাপের কারণে আমরা নরকে যেতে বাধ্যছিলাম, যীশু খ্রীষ্ট তাঁর বাপ্তিস্ম এবং রক্তের মাধ্যমে আমাদেরকে রক্ষা করেছেন। ঈশ্বরের বাক্য এবং ব্যবস্থার বাক্যের সাক্ষাতে, জল ও আত্মার সুসমাচারের সাক্ষাতে এবং আমাদের নৈতিকার দ্বারাও আমরা অবশ্যই বুঝতে পারি যে, আমরা এমন ধরণের ছিলাম যারা কেউই নরকের দন্ড থেকে বাদ যেতাম না। শুধু যখন আমরা জানি, শিখি, বিশ্বাস করি এবং আস্তা রাখি যে, আমরা কি পাপী ছিলাম এবং কিভাবে ঈশ্বর আমাদের পাপ থেকে রক্ষা করেছেন, তখন আমরা সকলে বুঝতে পারি যে, যীশু খ্রীষ্ট আগেই আমাদের সত্য ত্রাণকর্তা হয়েছেন।



একমাত্র সত্য বিশ্বাসের দ্বারা আমরা পরিত্রাণের দান গ্রহণ করতে পারি


অতএব, আপনাকে এবং আমাকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, আমাদের উত্তম দ্বারা রক্ষা পেয়েছি নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূত্রের বিশ্বাসের দ্বারা। আর আমাদের অবশ্যই জানতে এবং বিশ্বাস করতে হবে যে, আমাদের পাপ থেকে আমাদেরকে রক্ষা করতে যীশু খ্রীষ্ট এই চার ভাগে বিভক্ত সত্যে পরিষ্কার ভাবে আমাদের কাছে এসেছিলেন। তিনি পুরাতন নিয়মে মসিহের রূপে আসার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, আর এই প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী বাস্তবিকই তিনি এই জগতে এসেছিলেন এবং তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা তিনি সমগ্র মানব জাতির পাপ তাঁর নিজের উপরে একেবারে তুলে নিয়েছেন। তারপর পৃথিবীর পাপ তিনি বহন করেছেন, ক্রুশারোপিত হয়েছেন, তাঁর বাহুমূল্য রক্ত সেচন করেছেন এবং“সমাপ্ত হইল।” (যোহন ১৯:৩০)বলার পরে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। তিন দিনের মধ্যে পুনরুত্থিত হয়ে, আরও ৪০ দিন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন এবং ঈশ্বরের সিংহাসনের দক্ষিণে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, এবং পুনরাগমনের প্রতিজ্ঞাও করেছিলেন। আমাদেরকে অব্যশই এগুলো বিশ্বাস করতে হবে।

 “নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা বর্ণের আমার কার্যকাল গুলোর দ্বারা আমি তোমাকে সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করেছি। আর যারা এই পরিত্রাণের সত্যে বিশ্বাস করে, তাদেরকে নিয়ে যেতে আমি পুনরায় ফিরে আসব। এছাড়াও আমি তাদেরকে ঈশ্বরের সন্তান হতে অধিকার প্রদান করব। যারা এই সত্যে বিশ্বাস করে, তাদের নিমিত্ত আমি তাদের হৃদয়ের পাপ ধৌত করব এবং তাদেরকে তুষারের ন্যায় শুভ্র করব, আমি তাদেরকে পবিত্র আত্মা প্রদান করব এবং আমি তাদেরকে আমার নিজের সন্তান তেরী করব।” আমাদের প্রভু আমাদেরকে যা বলেছেন, তা এটাই।

আমাদেরকে অবশ্যই এই বাক্যে বিশ্বাস করতে হবে। আমাদের প্রভু ইতিমধ্যেই এই সমস্ত প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করেছেন, আর যারা এই জগতে আছে, তিনি প্রকৃতই তাদের জীবনে কাজ করেছেন। যারা এই সত্যে বিশ্বাস করে, তিনি তাদেরকে রক্ষা করেন এবং তাদের জন্য সাক্ষ্যবহন করেন। এ কারণেই আমরা আমাদের প্রভুর বাপ্তিস্ম এভং রক্তের কাৰ্য্যের মধ্য দিয়েই রক্ষা পেয়েছি, অনুগ্রহে, সুরক্ষায় এবং তাঁর প্রেমে বাস করি, এবং ধার্মিকতার জীবন-যাপন করি। তিনি আমাদেরকে রক্ষা করেছেন, কারণ বিশ্বাসের দ্বারা আমরা আমাদের পাপ থেকে মুক্ত হয়েছি।

যখন এই সমাগম তাম্বুর বই সম্পূর্ণ পৃথিবীর সমস্ত ভাষায় অনুবাদ হবে, আমি নিশ্চিত যে, সমগ্র পৃথিবীর লোকেরা তাদের সত্য বিশ্বাসের দ্বারা তাদের পাপ থেকে রক্ষা পাবে। যারা দাবী করে যে, শুধুমাত্র যীশুর রক্তের দ্বারাই পাপের মোচন আসে, তারা আর এরূপ দাবী করতে সক্ষম হবে না, কিন্তু পরিবর্তে তারা বুঝতে পারবে যে, তাদের বিশ্বাস কত ভ্রান্ত ছিল। তারা আর ভ্রান্ত কিছু ধারণ করবে না এবং দাবী করবে না যে, এটাই পরিত্রাণ। তারা কখনোই বলতে সক্ষম হবে না যে, তারা শুধু যীশুর রক্তে বিশ্বাসের দ্বারা রক্ষা পেতে পারত।

সমাগম তাম্বুর দ্বারে পাওয়া যায় জল ও আত্মার সুসমাচার। নীল, বেগুনে, লাল ও পাকানো মিহি মসীনা সূতার পরিত্রাণের বাক্য। কারণ এটাই পুরাতন নিয়মে প্রতিজ্ঞাত এবং ভাববাণীকৃত ঈশ্বরের বাক্য; আর যেহেতু তাঁর বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশারোপনের মাধ্যমে সমস্ত পাপের পরিত্রাণ সাধনের দ্বারা ঈশ্বরের নূতন নিয়মে তাঁর বাপ্তিস্ম রক্ষা করেছেন, আমরা যদি আনন্দ এবং পূর্ণ কৃতজ্ঞতায় এই দানে বিশ্বাস করি, আমরা সকলেই পাপের অনন্ত মোচন লাভ করতে পারি।

 এই বাক্যটিই খুবই সহজ এবং যথার্থ কিন্তু এটা একটা সত্যও বটে যা এমন কি সমগ্র বিশ্বের সমস্ত জ্ঞান দ্বারা বোঝা যায় না, যদি কিনা তাঁর বাক্যে আপনার খাঁটি বিশ্বাস না থাকে। এজন্যেই এভাবে আমাদেরকে অবশ্যই তাঁর বাক্যে বিশ্বাস করতে হবে। কারণ এটা এমন মূল্যবান সত্য যা আপনি এবং আমি এখনও এ বিষয়ে অজ্ঞ রয়ে গেছি, আমাদেরকে অবশ্যম্ভাবী ভাবে জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করতে হবে। সমাগম তাম্বুতে প্রতীয়মান নীল, বেগুনে, লাল ও পাকানো মিহি মসীনা সূতার সত্যকে আমাদেরকে স্বাধীনভাবে এবং সহজে শিখানোর দ্বারা ঈশ্বর আমাদেরকে আমাদের বিশ্বাসের দ্বারা এই অমূল্য দান অনুমোদন করেছেন।

 আপনার এবং আমার মত, আমরা যারা এই সত্যে বিশ্বাস করি, আমরা সকলে আমাদের সমস্ত কৃতজ্ঞতা ঈশ্বরকে প্রদান করি, তার সত্যের প্রেমের জন্যে। এখন অনেকে আছে যারা নীল, বেগুনে লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূতার সম্বন্ধে জানে না, আর তারা লোকদের তাদের ভুল ভ্রান্ত পথে পরিচালিত করছে এবং ভ্রান্ত শিক্ষা দিচ্ছে। আমরা তাদের কাছেও আমাদের এই সত্য করতে চাই। তাদের কাছেও, এই সত্য না জানার দ্বারা যাদের হৃদয় পীড়িত, আমরা জল ও আত্মার সত্যের সুসমাচার প্রচার করে তাদেরকে তাদের পাপ থেকে মুক্ত করতে চাই এবং পরিত্রাণের দ্বারে প্রবেশ করতে চাই। যখন আমরা সমাগম তাম্বুর সত্য প্রচার করি, যারা এটাতে বিশ্বাস করে, তারা রক্ষা পাবে, কিন্তু যারা বিশ্বাস করে না, তারা তাদের পাপে দোষী হবে। যদি আমরা যীশুতে বিশ্বাস করতে স্থির করি, আমাদেরকে অবশ্যই নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো সাদা মসীনা সূতার সত্য জেনে তাকে বিশ্বাস করতে হবে।

শুরু থেকেই কেউই নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূতার সত্য জানে না। ঈশ্বর আমাদেরকে বলেছেন, “আর তোমরা সেই সত্য জানিবে এবং সেই সত্য তোমাদিগকে স্বাধীন করিবে” (যোহন ৮:৩২)। সত্যটা কি? সত্যটি হল সত্য সুসমাচার (ইফিষীয় ১:১৩)। অর্থাৎ নীল, বেগুনে ও লাল সূতা প্রতীয়মান জল ও আত্মার সুসমাচার। নীল, বেগুনে এবং লাল সূতায় সম্পূর্ণ বিশ্বাস এবং সেগুলোই জানাই হল সত্যে সঠিক বিশ্বাস করা।

 ঈশ্বর আমাদেরকে কেন বলেছিলেন যে, সত্য আমাদেরকে স্বাধীন করবে? আপনি কিভাবে আপনার পাপ থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন? নীল, বেগুনে, এবং লাল সূতায় বিশ্বাসের দ্বারা আপনি, শুধু না সেই সাথে আপনার হৃদয়ে, ও পবিত্র আত্মা বাস করেছিল? আপনার হৃদয় এবং সচেতনতা উভয় থেকে কি পরিষ্কার ভাবে আপনার পাপ মুছে গেছে? আপনি কি প্রকৃতই বিশ্বাস করেন এবং আপনি কি প্রকৃতই আপনার অন্তরে গভীর থেকে স্বীকার করতে পারেন যে বস্তবিক ঈশ্বর আপনার পিতা? কেননা ঈশ্বর শুধু তাদের চেনেন, যারা পাপহীন হয়ে তার সন্তান হয়েছে। যারা সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের ফটকের নীল, বেগুনে, লাল এবং মিহি মসীনা সূতায় বিশ্বাস করে, তিনি শুধু তাদের বিশ্বাসকে অনুমোদন করেন। পাপীরা ঈশ্বরের সন্তান নয়, কেবল মাত্র যারা নূতন জন্ম প্রাপ্ত এবং যারা ঈশ্বর প্রদত্ত জল ও আত্মারসুসমাচারে বিশ্বাস করে তারা ঈশ্বরের সন্তান।

যদি এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকাকালীন আমরা বহু সমস্যা, কষ্ট ও দুঃখের সম্মুখিন হই, প্রভু ঈশ্বর আমাদের মধ্যে বাস করার কারণে আমরা সুখী। যদিও আমরা উপযুক্ত নই, তথাপি ঈশ্বরের ধর্মিকতায় জীবন-যাপন করে, সমগ্র পৃথিবী ব্যাপী নীল, বেগুনে ও লাল সূতার সুসমাচার, যে সুসমাচার আমাদের ঈশ্বরের ধার্মিকতা দান করে, প্রচার করার মাধ্যমে আমরা আশীর্বাদ যুক্ত জীবন-যাপন করছি।

সর্বোপরি, নীল, বেগুনে ও লাল সূতার কারণে আমরা ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ। কতটা ভক্তি সহকারে আমি বিশ্বাস করেছিলাম, সেদিকে না তাকিয়েই প্রথমে যখন আমি যীশুকে বিশ্বাস করেছিলাম আমার হৃদয় তখনও পাপে পরিপূর্ণ ছিল এবং সেই কারণে আমি খুব যন্ত্রনা পাচ্ছিলাম। কতটা অকৃত্রিম ভাবে আমি যীশুকে বিশ্বাস করেছিলাম সেটা ব্যাপার নয়, পরিষ্কারভাবে আমার চেতনায় পাপ ছিল। ঈশ্বরের সম্মুখে বিবেকের দিকে দৃষ্টিপাত করার মাধ্যমে মানুষ বুঝতে পারে সে পাপী কি না। অন্য কথায়, যাদের হৃদয়ে এখনো পাপ রয়েছে তারা এমন লোক, যারা এখনো তাদের পাপের মোচন লাভ করতে পারে নি। এমন কি তাদের হৃদয়ে বিন্দু মাত্র পাপ থাকে,তারা যে পাপের ক্ষমা করে নি সেটাই তার প্রমাণ।

যাহোক, যখন আমি সত্য জানতাম না, যে সত্য আমার সমস্ত পাপের, এমন কি ক্ষুদ্রতম পাপের সমাধান করত, এবং যখন আমার হৃদয়ে নানা প্রকার প্রশ্ন ছিল, তখন ঈশ্বর তাঁর নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার বাক্যের মাধ্যমে আমাকে দর্শন দিলেন। 

এই বাক্য মথি লিখিত সুসমাচারে আছে, যা আমরা পূর্বেই পড়েছি। মথি ৩:১৩-১৭ পদ পড়তে পড়তে আমি এই অংশ পড়েছিলাম, “এখন সম্মত হও, কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত” (মথি ৩:১৫)। তখন আমি বুঝেছিলাম এবং বিশ্বাস করেছিলাম যে, যীশু যখন বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন এবং জল থেকে উঠে এসেছিলেন, তখন ঈশ্বর তাঁর ধার্মিকতার সাক্ষ্য দিয়েছিলেন এবং যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিস্মের মাধ্যমে যেভাবে সমস্ত পাপ মুছে গিয়েছিল, সেভাবে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা হয়েছিল।

যীশু যখন যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তখন আমার সমস্ত পাপ পরিষ্কার ভাবে যীশুতে অর্পিত হয়েছিল, আর সেগুলো সবই একত্রে ক্রুশের উপরে সমাধান হয়েছিল। সেই মুহূর্তে আমি উপলব্ধি এবং বিশ্বাস করেছিলাম যে, যীশু কেন বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন। পাপ সম্বন্ধে সমাধান না হওয়া আমার সমস্ত প্রশ্নের এবং সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছিল। ঠিক যে ভাবে আমার সমস্ত পাপ একেবারে আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। আমি এই পাপ মোচনের সত্যে এত কৃতজ্ঞ ছিলাম যে, ঈশ্বরের সত্য বাক্য, জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস এবং তা জানার জন্য আমি পাপের মোচন লাভ করেছিলাম।

প্রভু তাঁর লিখিত বাক্যের মধ্যে দিয়ে আমার কাছে এসেছিলেন, এবং জল ও আত্মার সুসমাচার হৃদয়ে বিশ্বাস করার মাধ্যমে আমি পাপের মোচন পেয়েছিলাম। তখন থেকেই, আমি নূতন ও পুরাতন নিয়মের মধ্যে দিয়ে অনেক লোকের কাছে নীল, বেগুনে ও লাল সূতার সাক্ষ্য দিয়েছিলাম। এমন কি এখনো দেই, আমি এই সত্য তত্ত্ব প্রচার করতে থাকলাম। সত্য সুসমাচার মানুষের চিন্তা-চেতনা বা মতবাদ বা আবেগের তৈরী নয়।

নীল, বেগুনে এবং লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূতা দ্বারা প্রভু আমাদের সমস্ত পাপ মুছে দিয়েছেন। নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার মধ্যে দিয়ে সারা পৃথিবীর সকলে পরিষ্কার ভাবে পরিত্রাণের সত্য বুঝতে পারবে এবং জানতে পারবে যে, এই সত্য জল ও আত্মার সুসমাচার ছাড়া আর কিছুই না। এই শেষকালেও এই একমাত্র সত্যের প্রয়োজন রয়েছে। অসংখ্য মানুষ এই সত্যে বিশ্বাস করবে।

 বর্তমান যুগ এমন যুগ যেখানে মানুষের সমস্ত ধার্মিকতা চূর্ণ হয়ে যাচ্ছে এবং তাদের দুষ্টতা অপ্রতিরোধ্য গতিতে বেড়ে যাচ্ছে। চারিদিকের অবস্থা অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং মানুষের হৃদয়ে মৌলিক মন্দতা প্রকাশ পাচ্ছে। তারা এই সত্য অস্বীকার করে যে, প্রভু আপনাকে এবং আমাকে নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার মধ্যে দিয়ে উদ্ধার করেছেন। এই অনুগ্রহ কতটা মূল্যবান এবং কৃতজ্ঞতা পূর্ণ? এই যথার্থ পরিত্রাণের জন্য আমি প্রভুর ধন্যবাদ করি এবং আনন্দ ও শান্তিতে আমার জীবন উপচে পড়ার জন্য আমি প্রভুর ধন্যবাদ করি।

পৃথিবী এখন শেষ কালের দিকে এগোচ্ছে এবং প্রবেশও করেছে। এই সময়ে, যারা ভক্তি সহকারে প্রভুর সেবা করত তাদের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে এবং বিশ্বাসীদের বিশ্বাস শিথিল হয়ে যাচ্ছে। আপনি জল ও আত্মার সুসমাচার ছাড়া অন্য কিছুর উপাসনা করার চেষ্টা করেন, শেষ পর্যন্ত আপনি আপনার হৃদয়ে বিঘ্নিত হবেন। ঈশ্বরে বিশ্বাস করার সময় আপনি যদি নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার সুসমাচারে বিশ্বাস না করেন আপনি শুধুই হতাশ হবেন তা আপনার জীবনে অর্থ পূর্ণ কিছু প্রদান করবে না বা কোন বাস্তব ফল উৎপন্ন করবে না।

কেননা সমাগম তাম্বুর নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূতার চার বর্ণের সুসমাচারের সত্যই পরিষ্কার সত্য। এই অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীর জন্য এটাই উত্তম সুসমাচার। সমাগম তাম্বুতে প্রকাশিত সত্য জানার এবং বিশ্বাসের দ্বারা পাপ মোচন লাভ করে আমরা যে জীবন-যাপন করছি, তা একটি অমূল্য অনুগ্রহ, একটি মহামূল্য দান এবং আমাদের জন্য মহা সুখে বিষয়। 

কেননা যারা সমাগম তাম্বুর দ্বারে প্রকাশিত নীল, বেগুনে, লাল। এবং পাকানো মিহি মসীনা সূতার সত্য জানে এবং বিশ্বাস করে, তারা মিথ্যার নয়, সত্যের সেবা করে, তাদের হৃদয়ে অনন্ত আনন্দ থাকে।

সমাগম তাম্বুর দ্বারে প্রকাশিত এই সত্য আপনি কি জানেন এবং কি তাতে বিশ্বাস করেন? আপনাকে অবশ্যই এটা জানতে এবং বিশ্বাস করতে হবে।