Sermons

[11-9] < যাত্রা পুস্তক ২৭:১-৮ > হোমার্থক বলির বেদিতে প্রকাশিত বিশ্বাস



< যাত্রা পুস্তক ২৭:১-৮ >
“আর তুমি শিটিম কাষ্ঠ দ্বারা পাঁচহস্ত দীর্ঘ, পাঁচ হস্ত প্রস্থ বেদি নির্মান করিবে। সেই বেদি চতুষ্কোণ এবং তিন হস্ত উচ্চ হইবে। আর তাহার চারি কোণের উপরে শৃঙ্গ করিবে, সেই বেদি শৃঙ্গ সকল তৎসহ অখন্ড হইবে, এবং তুমি তাহা পিত্তলে মুড়িবে। আর তাহার ভস্ন লইবার নিমিত্তে হাঁড়ী প্রস্তুত করিবে, এবং তাহার হাতা, বাটি, ত্রিশূল ও অঙ্গারধাণী গড়িবে; তাহার সমস্ত পাত্র পিত্ত দিয়ে গাড়িবে। আর জালের ন্যায় পিত্তলের এক ঝাঁঝরি গড়িবে, এবং সেই ঝাঁঝরির উপরে চারিকোণে পিত্তলের চারি কড়া প্রস্তুত করিবে। এই ঝাঁঝরি নিম্নভাগে বেদির বেড়ের নিচে রাখিবে, এবং ঝাঁঝরি বেদির মধ্যে পর্যন্ত থাকিবে। আর বেদির নিমিত্তে শিটিম কাষ্ঠের বহন-দন্ড করিবে ও তাহা পিত্তলে মুড়িবে। আর কড়ার মধ্যে ঐ বহন-দন্ড দিবে; বেদি বহনকালে তাহার দুই পার্শ্বে সেই বহন-দন্ড থাকিবে। তুমি ফাঁপা করিয়া তক্তা দিয়া তাহা গড়িবে; পর্বতে তোমাকে যে রূপ দেখানো গেল, লোকেরা সেই রূপে তাহার করিবে।”

আমি হোম বলির বেদিতে প্রতীয়মান বিশ্বাস সম্পর্কে আলোচনা করতে চাই। যখন ইস্রায়েল লোকেরা ঈশ্বরের ব্যবস্থার ৬১৩ টি ধারার যে কোন একটি লঙ্ঘন করত, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে পালন করতে হত এবং যখন তারা তাদের পাপ চিনতে পারত, তারা ঈশ্বরের দ্বারা স্থাপনকৃত বলিদানের রীতি অনুসারে ঈশ্বরের কাছে তাদের নির্দোষ বলি উৎসর্গ করত। যে স্থানে তারা বলি উৎসর্গ করত এটা হল হোম বলির বেদি। অন্য কথায়, ইস্রায়েলর লোকেরা নির্দোষ বলির পশুর উপরে তাদের হস্তার্পণের দ্বারা তাদরে পাপের মোচন লাভ করত; এটার গলা কেটে এবং রক্ত নিয়ে সেই রক্ত হোম বলি বেদির শৃঙ্গে মাখিয়ে বাকী রক্ত বেদি মূলে ঢেলে দেয়া হত, আর বেদির উপরে এই বলির মাংস পোড়ান হত।


হোম বলির বেদির আধ্যাত্মিক অর্থ কি?

হোম বলি বেদির দৈর্ঘ্য প্রস্থ উভয়ই ছিল ২.২৫ মিটার এবং উচ্চতা ১.৩৫ মিটার, বেদিটি শিটিম কাঠ দিয়ে তৈরী করা হয়েছিল পিত্তল দ্বারা মোড়ানো ছিল। যখনই তারা এই হোম বলির বেদির দিকে তাকাত, তারা বুঝতে পারত যে, তারা এমন লোক যারা তাদের বিচারে আবদ্ধ এবং তাদের শাস্তি এড়াতে অক্ষম। আর তারা বুঝত যে, ঠিক বলির পশুকে যেভাবে মারা হয়েছিল, তেমনি তাদেরকেও সেভাবে তাদের পাপের জন্য মরতে হত। কিন্ত তারা এটাও বিশ্বাস করতে পেরেছিল যে, মসিহ এই পৃথিবীতে আসবেন এবং দন্ডিত হওয়ার দ্বারা তাদের পাপ মুছে দেবেন এবং তাদের পাপের জন্য বলির মেষের ন্যায় মৃত্যুবরণ করবেন।
 হোম বলির বেদি ছিল আমাদের ত্রাণকর্তা যীশু খ্রীষ্টের প্রতিবিম্ব। যেভাবে নির্দোষ পশুর উপরে হস্তার্পণের দ্বারা তা বলি দেয়া হয়েছিল এবং এর রক্ত সেচন করা হয়েছিল তেমনি ঈশ্বরের পুত্ররূপে যীশু খ্রীষ্ট আমাদের কাছে এসেছিলেন এবং আমাদের সমস্ত পাপের দন্ড বহন করেছিলেন। পুরাতন নিয়মে ঠিক যেভাবে হস্তার্পণের মধ্য দিয়ে হোমের বলিকে সমস্ত পাপ গ্রহণ করতে হত এবং তাদের রক্ত সেচন করতে হত, তেমনি যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা তিনি তাঁর উপরে পৃথিবীর সমস্ত গ্রহণ করেছেন এবং ক্রুশে তাঁর রক্ত সেচনের দ্বারা এই সমস্ত পাপের দন্ড বহন করেছেন।
এই ভাবেই, হোম বলির বেদি আমাদেরকে দেখায় যে, যীশু খ্রীষ্ট তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন, ক্রুশে মরেছেন, পুনরায় মৃত্যু থেকে উঠেছেন, আর এভাবেই আমাদেরকে রক্ষা করেছেন।


পাপের ক্ষমা পেতে ইস্রায়েলদেরকে হোম বলির বেদিতে বলি উৎসর্গ করতে হত

যখন আমরা লেবীয় পুস্তকের ৪ অধ্যায়ের দিকে তাকাই আমরা দেখি যে, যখনই কোন তৈলাভিষিক্ত যাজক, সমগ্র ইস্রায়েল, শাসক বা যে কোন সাধারণ লোক পাপ করত, তারা ঈশ্বরের কাছে বলির উপহার এনে, তাদের হাত সেটার মাথার উপরে রেখে, সেটাকে বলি দিয়ে, রক্ত নিয়ে এবং তা হোম বলির বেদির নিকটে এনে ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গ করার দ্বারা তারা পাপের মোচন লাভ করত।
প্রকৃতপক্ষে, যেখানে ইস্রায়েলীয়রা প্রতিদিন তাদের পাপের বলি প্রদান করত সেটি ছিল এই হোম বলির বেদি। এমন কোন দিন ছিল না যে এই বেদি ব্যস্ত না থাকত। যে ইস্রায়েলীয়রা তাদের পাপ থেকে মুক্ত হতে চাইত, তারা একটি নির্দোষ পশু প্রস্তুত করত এবং তাদের বলি উৎসর্গ হিসাবে তা হোম বলির বেদির উপরে ঈশ্বরকে প্রদান করত। পাপীরা হস্তার্পণের দ্বারা বলির পশুর উপরে তাদের পাপ অর্পণ করত, এবং এই সমস্ত পাপের দন্ড হিসাবে পশুটির গলা কাটার দ্বারা এর রক্ত সংগ্রহ করত। যাজক তখন এই উৎসর্গের বলির রক্ত বেদির শৃঙ্গের উপরে দিত, আর এর মাংস ও মেদ বেদির উপরে দগ্ধ করা হত। এভাবেই ইস্রায়েলের লোকেরা তাদের পাপের মোচন লাভ করত।
 কে পাপ করেছে সেটা না দেখেই, হোক সে ইস্রায়েলদের নেতা, মহাযাজক, সাধারণ যাজক, মহাসমাবেশে সকলে, বা কোন সাধারণ লোক, তাদেরকে এরূপ উৎসর্গের বলি রূপে বলির পশু যেমন গোবৎস, ছাগ, বা মেষ ঈশ্বরকে প্রদান করার দ্বারা তাদের পাপ থেকে মোচন লাভ করতে হত।
পাপীদের বা তাদের প্রতিনিধিদিগকে বলির উপরে তাদের হাত রাখতে হত, হত্যা করতে হত, হোম বলির বেদির শৃঙ্গে এর রক্ত দেওয়া হত, বাকী রক্ত বেদি মূলে ঢেলে দেওয়া হত, এবং এর পরে তাদের উৎসর্গের মেদ দগ্ধ করা হত যা তাদের পাপের ক্ষমা করত। অতএব, বহু লোককে হোম বলির বেদিতে তাদের বলির পশু আনতে হত, রক্ত নিতে হত এবং এটা যাজককে দিতে হত।
যখন বেদিতে বলি দেওয়া হত, এই হোম বলির নির্দেশে হতে হত। আর যখন পাপীরা ঈশ্বরকে বলির উপহার প্রদান করত, তাদেরকে নিশ্চিত হয়ে নির্দোষ পশু ঈশ্বরের সাক্ষাতে আনতে হত, আর একমাত্র নির্দোষ উৎসর্গের বলির উপরে হস্থার্পনের দ্বারা সমস্ত পাপ পশুর উপরে চলে যেত। এরূপে উৎসর্গের সময়ে কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকত না।
 স্বাভাবিকভাবে, যে ব্যক্তি পাপ করত, তাকেই বলির পশুর উপরে তার হাত রাখতে হত, কিন্তু যখন সমস্ত ইস্রায়েল জাতি পাপ করত, তখন এর প্রাচীন নেতারা উৎসর্গের বলির উপরে হাত রাখত (লেবীয়পুস্তক ৪:১৫)। যে উৎসর্গের বলির মস্তকের উপরে হস্তার্পণ করা হত, অবশ্যই সেটাকে গলা কেটে রক্ত নেয়ার দ্বারা হত্যা করা হত। আর শেষান্তে, এটাকে বেদীর উপরে দগ্ধ করা হত।
 দগ্ধ করা মাংস, মেদ ও কাষ্টের ধোঁয়ায় সর্বদা বেদির চার পাশের স্থান পরিপূর্ণ হত, এবং এর শৃঙ্গ ও বেদীর পাদদেশের ভূমি সর্বদা বলির পশুর রক্তে সিক্ত থাকত। হোম বলির বেদি ছিল পাপ মোচনের স্থান, যেখানে ইস্রায়েলের লোকদের ধৌত করনার্থে ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গের বলী প্রদান করা হত।
এই বেদির ধোঁয়া কখনও শেষ হত না, বেদীর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ উভয়ই ছিল ২.২৫ মিটার এবং উচ্চতা ছিল ১.৩৫ মিটার। এর মধ্যভাগে জালের ন্যায় পিত্তলের এক ঝাঝরি স্থাপন করা হয়েছিল এবং এর উপরে যে হোমবলি অগ্নিতে দগ্ধ করা হত, তা থেকে অবিরত ধূঁয়া উঠত। এইরূপে যেখানে যে স্থানে বলি দগ্ধ করা হত এবং ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গ করা হত, তা ছিল হোম বলির বেদি।


হোমবলির বেদির সমস্ত পাত্র পিত্তলের তৈরী ছিল

 হোমবলির বেদির ভষ্ম সরাতে এবং অন্যত্র নিয়ে যেতে পিত্তলের পাত্র ব্যবহার করা হত হোম বলির বেদিটাই শিটিম কাষ্ঠের উপরে পিত্তলের দ্বারা মোড়ানো ছিল, আর তাই বেদি এবং এর পাত্রগুলো পিত্তলের তৈরী ছিল।
এই হোমবলির বিদির একটি নির্দিষ্ট আধ্যাতিক অর্থ রয়েছে। পিত্তল ঈশ্বরের সাক্ষাতে পাপের বিচার নির্দেশক। এরূপ, হোমবলিব বেদি এমন একটি স্থান ছিল যা আমাদেরকে পরিষ্কারভাবে দেখায় যে, পাপীরা অবশ্যম্ভাবীভাবে তাদের পাপে বিচারিত হত। ঈশ্বর নিশ্চয় পাপীদেরকে তাদের পাপের জন্য অবশ্যই শাস্তি প্রদান করবেন। যে স্থানে পাপীদের পাপের বিচারের নিমিত্ত প্রতিনিধিস্বরূপ বলি উৎসর্গ করা হত, সেটা ছিল হোমবলির বেদি, আর বিদিটা নিজেই এবং এর পাত্রগুলো পিত্তলের তৈরী ছিল; এরূপে, এই জিনিসগুলো আমাদেরকে বলে যে, প্রত্যেক পাপের অবশ্যই বিচার অবশ্যম্ভাবী।
বেদি আমাদেরকে দেখায় যে, লোকের তাদের পাপের কারণে দন্ড পেতে বাধ্য এবং মৃত্যু অবধারিত, হোম বলির বেদির কাছে বলির পশু আনা এবং তা ঈশ্বরকে প্রদানের দ্বারা তারা তাদের পাপ থেকে ধৌত হতে পারত, পাপের মোচন লাভ করত, আর এভাবে আবার বাঁচত। এখানে, যে সমস্ত বলি হোমবলির বেদির উপরে বলিতদান করা হত, সেগুলো আমাদেরকে বলে যে, যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিস্ম এবং রক্ত সেচন বিশ্বাসীদের পাপ ক্ষমা করেছে। সুতরাং যে বিশ্বাস হোমবলির বেদিতে বলি উৎসর্গ করত তা নূতন নিয়মে ও যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিস্মে ও রক্তে বিশ্বাস অনুসারে একই বিশ্বাস চলে এসেছে।
যখন আমরা আমাদের ত্রাণকর্ত্তারূপে যীশুকে বিশ্বাস করি, আমরা অবশ্যই ঈশ্বরকে আমাদের বিশ্বাস প্রদান করব, যে বিশ্বাস যীশু বাপ্তিস্ম ও ক্ৰুশীয় রক্তকে আমাদের পাপের মোচন হিসাবে বিশ্বাস করে। পুরাতন নিয়মে, বিশ্বাস নীল, বেগুনে লাল এবং পাকান মিহি মসীনা সুতার বোনা সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গনের দ্বার খোলে এবং প্রবেশ করে। এই বিশ্বাস সেই বিশ্বাসের সমরূপ। 


হোম বলির বেদিতে যে সমস্ত বলি উৎসর্গ করা হত তা যীশু খ্রীষ্টের নিদর্শন

যীশু যখন এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, তখন তিনি কি করেছিলেন? আমরা পাপে পূর্ণ ছিলাম; ঈশ্বরের বিরুদ্ধে আমরা পাপ করেছিলাম এবং তাঁর আজ্ঞা ও ব্যবস্থা লঙ্ন করেছিলাম। কিন্তু আমাদের এই সমস্ত পাপ মুছে দিতে যীশু খ্রীষ্ট যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং নিজের উপরে পৃথিবীর সমস্ত পাপ তুরে নিয়েছিলেন, এবং তারপরে ক্রশে তাঁর রক্ত সেচন করেছিলেন। ঠিক যেভাবে বলিদান যোগ্য উপহারের উপরে হস্তার্পণের দ্বারা ইস্রায়েলীয়দের পাপ সেটার উপরে অর্পণ করত এবং তারপরে সেটাকে হত্যা কতর ও হোম বলির বেদিতে দগ্ধ করত, তেমনি যীশু খ্রীষ্ট নির্দোষ উৎসর্গের বলিরূপে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তিনি ক্রুশের উপরে বলির রক্ত সেচন করেছিলেন এবং আমাদের স্থলে ক্ৰুশে মরেছিলেন। হাত ও পায়ে পেরেক বিদ্ধ হয়ে এবং তাঁর রক্ত সেচনের দ্বারা আমাদের প্রভু আমাদের পাপের নিমিত্ত সমস্ত পাপের শাস্তি বহন করেছেন, আমাদের পাপের নিমিত্ত আমাদের পরিবর্ত্তে দন্ডিত হয়েছেন। এভাবে, তিনি আমাদেরকে আমাদের সমস্ত পাপ এবং দন্ড থেকে রক্ষা করেছেন।
যীশু, যিনি হোম বলির বেদির মূল সত্য ছিলেন, তিনি যখন পৃথিবীতে এসেছিলেন, তখন কি করেছিলেন? যীশু খ্রীষ্ট তাঁর বাপ্তাইজিত হওয়া, ক্ৰুশারোপিত হওয়া ও ক্রুশের উপরে মৃত্যুবরণ করা এবং পুনরায় মৃত্যু থেকে উঠার উপরে তুলে নেয়ার দ্বারা আমাদেরকে রক্ষা করেছেন। আমাদের প্রভু এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, আমাদের নিশ্চিত পরিত্রাণ সাধন করেছেন, এবং তারপরে স্বর্গরাজ্য অধিষ্টিত হয়েছেন।


আমরা, যারা প্রতিদিন পাপ না করে পারি না

 হোম বলির বেদির অন্য অর্থ ও রয়েছে, যা হল, “অধিষ্টিত করা।” বস্তুতঃ, আপনি এবং আমি প্রতিদিন পাপ করি। অতএব, আমাদেরকে সর্বদা ঈশ্বরের কাছে আমাদের বলি উৎসর্গ করতে হবে, আর এজন্যে, আমাদের পাপের শাস্তির ধূঁয়া সর্বদা ঈশ্বরের কাছে উত্থিত হচ্ছে। এমন কোন দিন আছে কি, যে আপনি মোটেও পাপ না করে যথাযথভাবে জীবন যাপন করেছেন? যতক্ষণ পর্যন্ত যাজক উৎসর্গ করতে ক্লান্ত না হতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ইস্রায়েলদেরকে অবিরত উৎসর্গের বলি প্রদান করতে হত, যা দ্বারা ইস্রায়েলদের অগনিত পাপ ক্ষমা হত এবং সেগুলোকে তারা আর বহন করত না। প্রতিদিন ইস্রায়েলিয়রা ঈশ্বরের সম্মুখে ব্যবস্থা লঙ্ঘন করত এবং পাপ করত, তাদেরকে তাদের উৎসর্গের বলি প্রদান করতে হত।
ইস্রায়েলীয়দের প্রতিনিধি হয়ে মোশি ইস্রায়েলদের জন্য ঈশ্বরের আজ্ঞা ও ৬১৩টি ব্যবস্থা ঘোষনা করেছিলেন, “এখন যদি তোমরা আমার রবে অবধান কর ও আমার নিয়ম পালন কর, তবে তোমরা সকল জাতি অপেক্ষা আমার নিজস্ব অধিকার হইবে, কেননা সমস্ত পৃথিবী আমার; আর আমার নিমিত্ত তোমরাই যাজকদের এক রাজ্য ও পবিত্র এক জাতি হইবে(যাত্রা পুস্তক ১৯:৫-৬)।”
 তখন ইস্রায়েল লোকেরা প্রতিজ্ঞা করেছিল,“সদাপ্রভু যাহা কিছু বলিয়াছেন, আমরা সমস্ত কিছুই করিব”(যাত্রাপুস্তক ১৯:৮)। সুতরাং ইস্রায়েল লোকেরা এই ঈশ্বরকে জানতে এবং বিশ্বাস করতে চেয়েছিল, যিনি মোশির কাছে প্রকাশিত হয়েছিলেন এবং তাদের সত্য ঈশ্বররূপে মোশির দ্বারা তাদের সাথে কথা বলেছিলেন, আর তারা এই ঈশ্বরের কাছে সুরক্ষা যাচ্ঞা করেছিল। ঈশ্বর তাদেরকে যা বলেছিলেন তা পালন করার দ্বারা তারা শুধু ঈশ্বরের প্রজা হতে চায় নাই কিন্তু ঈশ্বরের অধিকৃত রাজ্যের যাজক এবং পবিত্র জাতি হতেও চেয়েছিল। এইরূপে, ঈশ্বর তাদেরকে যে আজ্ঞা দিয়েছিলেন, তারা সেগুলোর সমস্তই পালন করতে চেষ্টা করত।
ইস্রায়েলীয়রা যে পাপ করবে, এটা কি ঈশ্বর পূর্বে জানতেন? অবশ্যই তিনি জানতেন। একারণেই ঈশ্বর মোশিকে সিনয় পৰ্ব্বতে ডেকেছিলেন, তাকে সমাগম তাম্বুর চিত্র দেখিয়েছিলেন, এটার আকার ও আয়তন ব্যাখ্যা করেছিলেন, তাকে এটা তৈরী করতে বলেছিলেন, আর তাকে দিয়ে ঈশ্বর সেইভাবেই তৈরী করিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি বলিদান প্রথা স্থাপন করেছিলেন। যার দ্বারা এই সমাগম তাম্বুতে বলি উৎসর্গ প্রদান করা হত।
যখন ইস্রায়েল লোকেরা ঈশ্বরের কাছে তাদের পাপের একটি উৎসর্গের জিনিস খুঁজতে হয়েছিল, তাদেরকে একটি নিষ্পাপ গোবৎস, মেষ, ছাগ, ঘুঘু, বা কপোত আনতে হত; এবং কিছু ব্যতিক্রম রক্ষা করতে হত, উৎসর্গের বলির মস্তকের উপরে হস্থার্পনের দ্বারা তাদেরকে পাপ অর্পণ নিশ্চিত হতে হত (লেবীয়পুস্তক ১:১-৪)। আর এর গলা কেটে ফেলার দ্বারা রক্ত নেয়া হত এবং এই রক্ত যাজককে প্রদান করতে হত। তাদের যাজক তখন এই রক্ত নিতেন, হোমবলির বেদির শৃঙ্গে রক্ত দিতেন, বাকী রক্ত ভূমিতে ঢেলে দিতেন। উৎসর্গের বলিকে টুকরো টুকরো করে কাটতেন, এই টুকরোগুলিকে বেদির উপরে রাখতেন এবং সেগুলোকে দগ্ধ করার মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গ করতেন।
 এভাবেই, ইস্রায়েলীয় তাদের পাপের ক্ষমা পেত। যখন উপহার দগ্ধ করা হত, তাদেরকে শুধু এর মাংস দগ্ধকরতে হত না, কিন্তু এর অন্ত্র ও যকৃত থেকে মেদ ছাড়ানো এবং তা দগ্ধ করা হত। এইভাবে, ঈশ্বর ইস্রায়েলদের পাপ ক্ষমা করতেন।


সমস্ত পাপ মোচন লাভ করার একমাত্র পথ

যখন আমরা নিজেদের দিকে তাকাই, আমরা প্রকৃতই বুঝতে পারি যে, আমরা সর্বদা পাপ না করে পারি না। আমরা আমাদের জীবন যাত্রায় সর্বদা পাপ করছি। আমরা বিভিন্ন কারণে অগনিত পাপ করি, এর কারণ হয়তো আমরা দুর্বল, আমাদের বহু দোষ ত্রুটি আছে, আমরা অতি লোভী বা আমাদের অত্যাধিক ক্ষমতা রয়েছে। এমনকি এদের মধ্যে যারা যীশুকে তাদের ত্রাণকর্ত্তারূপে বিশ্বাস করে তাদের মধ্যে এমন কেই নেই যে পাপ করে না।
এভাবে ঈশ্বরে বিশ্বাস করে আমরা যারা সর্বদা পাপ করি, এই সমস্ত পাপ থেকে রক্ষা পেতে এবং ধৌত হতে আমাদের নিমিত্ত একমাত্র পথ হল, যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিস্মে বিশ্বাস করা। তিনি নিজেই ঈশ্বর, যিনি জল ও রক্তের দ্বারা এসেছিলেন (১যোহন ৫:৬); তিনি নীল, বেগুনে লাল এবং পাকান মিহি মসীনা সূতার মধ্যদিয়ে হোমবলির বেদির উৎসর্গের বলিরূপে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন। এই যীশু যখন ক্ৰুশে রক্ত সেচন এবং মৃত্যুর দ্বারা পাপের বেতন পরিশোধ করে তাঁর নিজের উপরে আমাদের পাপ তুলে নিয়েছেন, তাহলে বিশ্বাসের মধ্যদিয়ে আমরা কিভাবে পাপ মোচন লাভ করতে না পারি? আমাদের মসীহ, যীশু খ্রীষ্টের পরিত্রাণের কারণে, বিশ্বাসের মধ্যদিয়ে আপনি এবং আমি একেবারে আমাদের পাপের মোচন লাঐ করতে পারি।
যদিও বাস্তবিক সর্বদা আমরা পাপ করি, আমাদের বাপ্তিস্মের পরিত্রাণ এবং রক্তের কারণে, যা যীশু সাধন করেছিলেন, যখন তিনি এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, আমরা আমরা মুক্ত হতে পারি। আমাদের প্রভু তাঁর বাপ্তিস্মের মধ্যদিয়ে আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন, পৃথিবীর পাপ ক্রুশে বহণ করেছেন এবং ক্ৰুশারোপিত হয়েছেন এবং তারপরে আমাদেরকে সম্পূর্ণভাবে আমাদের পাপ থেকে মুক্ত করেছে। আমাদের পাপের নিমিও বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা, তাঁর ক্রুশারোপনের মধ্যদিয়ে আমাদের সমস্ত পাপের শাস্তি বহন করার দ্বারা এবং মৃত্যু থেকে ওঠার দ্বারা যারা এই সত্যে বিশ্বাস করি, তিনি আমাদেরকে সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করেছেন। যদিও আমরা আমাদের পাপের নিমিও শাস্তি না পেয়ে পারি না, অন্যকথায়, পরিত্রাণের প্রেমে এবং দয়ার কারণে যা যীশু আমাদেরকে নীল, বেগুনে, এবং লাল মধ্যদিয়ে প্রদান করেছেন, আপনি এবং আমি এই বিশ্বাসের মধ্যদিয়ে রক্ষা পেয়েছি। অন্যকথায়, ঈশ্বর আমাদের পাপ হতে আমাদেরকে রক্ষা করেছেন। অর্থাৎ তাঁকে বিশ্বাসের দ্বারা আমরা আমাদের সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হয়েছি। এটাই তাই, যা হোম বলির বেদি আমাদেরকে দেখাচ্ছে।
 আপনি হয়তো মনে করেন যে, সমাগম তাম্বুর অভ্যান্তরে সমস্ত কিছু চমৎকার, আপনি যদি প্রকৃতই এর অভ্যন্তরে প্রবেশ করতেন, তাহলে আপনি একটি অযাচিত এবং বিরক্তিকর অনুভূতির সম্মুখীন হতেন। পিত্তলের আয়তকার হোমবলির বেদিটি দেখে ভয় লাগতে পারে, যা একই সময়ে ধুয়া ও অগ্নি উদগীরন করে। পিত্তলের বেদিটি হয়তো পাপীদের জন্য অপেক্ষা করে থাকবে, এর ভূমি রক্তে সিক্ত হবে, আর যে কেউ বুঝতে পারবে যে, এটাই ছিল পাপের শাস্তির সেই স্থান।
হোম বলির বেদিমূলে রক্ত নদীর ন্যায় প্রবাহিত হবে। যখনই ইস্রায়েলীয়রা পাপ করত, তারা তাদের বলির পশুকে সমাগম তাম্বুতে আনত, এর উপরে হস্তার্পনের দ্বারা তারা তাদের পাপ অর্পণ করত, এর গলা কাটত, এর রক্ত নিত এবং এই রক্ত হোমবলির বেদির শৃঙ্গে দিতেন এবং বাকী রক্ত বেদিমূলে ঢেলেদিতাম।
তারপর তারা বলিটিকে টুকরো টুকরো করে কাটত, এবং অন্ত্ৰাপ্লাবকের সাথে মেদ সবটুকু লইত, এর মাংস ঝাঁঝরীর উপরে রাখত এবং সেগুলো দগ্ধ করত। যখন রক্ত সংগ্রহ করা হত, প্রথমে এটা সম্পূর্ণ তরল থাকত, লাল দেখাত। কিন্তু কিছু সময় পরে এটা ঘ হয়ে যেত এবং ধীরে ধীরে আঠাল হয়ে যেত। যদি আপনি বাস্তবিকই সমাগম তাম্বুর ভিতরে প্রবেশ করতেন, তাহলে আপনি এই আতঙ্কিত করা রক্ত দেখতে পেতেন।
যখনই ইস্রায়েলীয়রা ঈশ্বরের আজ্ঞা লঙ্ঘন করত, হোম বলির বেদির মধ্য দিয়ে তারা বুঝতে পারত যে, উৎসর্গের বলি ন্যায় তাদেরকে বেদির উপরে মরতে হত। কেন? কেননা ঈশ্বর তাদের সাথে তাঁর রক্তের চুক্তি করেছিলেন। “যদি তোমরা আমার ব্যবস্থা পালন কর, তোমরা আমার প্রজা এবং স্বর্গরাজ্যের যাজক হবে, কিন্তু যদি তোমরা তা পালনে ব্যর্থ হও, তুমি এই উৎসর্গের বলির ন্যায় অবশ্যই মরবে।” এভাবেই ঈশ্বর রক্তের দ্বারা তার চুক্তি স্থাপন করেছিলেন। এইরূপে, ইস্রায়েল লোকেরা এটাকে পদত্ত ঘটনা হিসেবে গ্রহণ করেছিল যে, যদি পাপ করে এবং ব্যবস্থা লঙ্ঘন করে তাহলে তাদেরকে রক্ত সেচন করতে হবে।
বস্তুতঃ শুধুমাত্র ইস্রায়েলীয় নয় কিন্তু যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে সকলকে অবশ্যই তাদের পাপের জন্য বলির রক্ত প্রদান করতে হবে। এটা আমাদেরকে দেখায় যে, যে কেউ ঈশ্বরের সাক্ষাতে পাপ করে, এবং তাঁর (নারী/ পুরুষ) হৃদয়ে পাপ থাকে, সে কত মহা বা ক্ষুদ্র পাপ হোক না কেন অবশ্যই এর ফল হিসাবে এই পাপের শাস্তির সম্মুখিন তাকে হতে হবে। যদিও ব্যবস্থার বিচার হল- পাপের বেন মৃত্যু-যা ঈশ্বর প্রত্যেকের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন, এত বেশি লোক নেই যারা প্রকৃতই ঈশ্বরের বিচারের ভয় করে এবং নিজেরা ঈশ্বরের বলিদানের এবার প্রতীয়মান ঈশ্বরের পরিত্রাণের ব্যবস্থা পালনের চেষ্টা করে।
 হোম বলির বেদি আমাদেরকে বলে যে, ব্যবস্থা অনুসারে যেভাবে পাপের বেতন হিসাবে মৃত্যুকে স্থির করা হয়েছে, তেমনি যীশু খ্রীষ্ট সমাগম তাম্বুর দ্বারে প্রতীয়মান, নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূতার মধ্য দিয়ে আমাদের পাপ এবং দন্ড থেকে আমাদেরকে রক্ষা করেছেন। আমরা যারা সর্বদা পাপ করি, এবং অবশ্যই আমাদের পাপের জন্য শাস্তি পেতাম, আমাদের নিমিত্ত যীশু খ্রীষ্ট মানব দেহে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা মানব জাতির সমস্ত পাপ তাঁর নিজের দেহে বহন করেছিলেন, মহা দুঃখভোগ এবং যাতনা বহন করেছিলেন, নিজে বলি হয়েছিলেন এবং তারপরে আপনাকে এবং আমাকে সমস্ত পাপ থেকে রক্ষা করেছেন।
 খ্রীষ্ট তাঁর নিজের দেহকে বলিরূপে উৎসর্গ করেছিলেন এবং তারপরে আমাদেরকে রক্ষা করেছিলেন, যেন আপনি এবং আমি বিশ্বাসের দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হতে পারি। অন্য কথায়, যারা তাদের পাপের কারণে মৃত্যুকে এড়াতে পারত না, তাদের নিমিত্ত যীশু খ্রীষ্ট তাঁর বাপ্তিস্মের মধ্য দিয়ে সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন, ক্রুশারোপিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, মৃত্যু থেকে পুনরায় উঠেছিলেন এবং এই প্রকারে তাদের সকলকে তাদের পাপ ও দন্ড থেকে রক্ষা করেছিলেন।
আমরা যখন এই হোম বলির বেদির দিকে তাকাই আমরা তখন এই বিশ্বাসে উপনিত হই। বেদিতে সর্বদা উৎসর্গের বলি প্রদান করতে দেখে আমরা বুঝতে এবং বিশ্বাস করতে পারি যে, যদিও আমাদের যাদেরকে আমাদের দৈনিক পাপের জন্য মৃত্যুবরণ করতে হত, ঈশ্বর আমাদেরকে তাঁর উৎসর্গের বলিতে পরিণত করেন নাই, কিন্তু পরিবর্তে আমাদের প্রভু নিজেই এই পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং আমাদের পরিত্রাণ সাধন করেছিলেন। বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা, ক্রুশে তাঁর রক্ত সেচনের দ্বারা এবং মৃত্যু থেকে পুনরায় ওঠার দ্বারা যীশু আমাদেরকে রক্ষা করেছেন।
 এ কারণেই পিতা ঈশ্বর ইস্রায়েলদেরকে তাদের পাপের জন্য দন্ডিত করার পরিবর্তে তাদের উৎসর্গের বলি গ্রহণ করতেন এবং তাদরে সমস্ত পাপ ক্ষমা করতেন। বলির পশুর উপরে তাদের হস্তার্পণের দ্বারা ইস্রায়েলদের সমস্ত পাপ সেটার উপরে অর্পণ করার দ্বারা এবং তাদের দ্বারা সেটাকে হত্যা করানোর দ্বা এবং এর মাংস ও মেদ তাঁকে উৎসর্গ করানোর দ্বারা ঈশ্বর ইস্রায়েলদের পাপ ক্ষমা করতেন। এই উৎসর্গের বলির মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের সমস্ত পাপ ধুয়েও দিতেন। এটা ঈশ্বরের অনুগ্রহ এবং তাঁর প্রেম ছাড়া আর কিছুই না। 


ঈশ্বর কেবলমাত্র ব্যবস্থা দ্বারা আমাদের সাথে আচরণ 
করেন নাই

 ঈশ্বর যদি তাঁর ব্যবস্থা অনুসারে আপনাকে ও আমাকে এবং সমস্ত ইস্রায়েল লোকদের বিচার করতেন, তাহলে কত লোক এই পৃথিবীতে জীবিত থাকবে? যদি ঈশ্বর কেবল তাঁর ব্যবস্থা দ্বারা আমাদেরকে পরিমাপ করতেন এবং বিচার করতেন, তাহলে কেউই আমরা এমন কি একটি দিনও বাঁচতাম না। এমন কি আমাদের সিংহভাগই আমরা ২৪ ঘন্টা স্থায়ী হতাম না, কিন্তু মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারা যেতাম। অন্যরা যেখানে অবশ্যই ১০ঘণ্ট টিকে থাকত সেখানে আমরা অবশ্যই এক ঘন্টার মধ্যে মারা যেতাম, কিন্তু এই পার্থক্য নিষ্ফল- উভয়ই আমরা মরতে বাধ্য। এখন যেমন লোকেরা ৬০, ৭০, ৮০ বা এর চেয়ে বেশি বাঁচে, তারা আর এত দিনে বাঁচতে সক্ষম হবে না। সেই সাথে তারা দন্ড প্রাপ্ত হবে।
 আজ সকালে কি ঘটছে তা ভাবুন। রাতভার পার্টিতে থেকে আপনার ছেলে বিছানা থেকে উঠতে এখনও যুদ্ধ করছে। আপনার স্ত্রী তাকে জাগাতে চেষ্টা করছে। একটি প্রতিযোগিতায় আসন্ন, আপনার ছেলে তাকে জাগানোর জন্য যে তার মায়ের সাথে তীব্র গর্জন করছে, আর আপনার স্ত্রী তার সাথে চিৎকার করার জন্য সন্তানদের উপরে তীব্র গর্জন করছে- আর এভাবে শুরু হয় প্রতিকালীন যুদ্ধ। পরিশেষে পাপ করছে এবং তাদরে কেউই এমন কি একটি দিনও রক্ষা পাবে না। এই পাপের জন্য তারা উভয়েই দন্ডিত হবে।
কিন্তু ঈশ্বর তাঁর ধার্মিক ব্যবস্থা দ্বারা আমাদের সাথে আচরণ করেন নাই। “কিন্তু তিনি আমাদের প্রতি পাপানুযায়ী ব্যবহার করেন নাই, আমাদের অধৰ্ম্মানুযায়ী প্রতিফল আমাদিগকে দেন নাই” (গীতসংহিতা ১০৩:১০)।
ধার্মিক ব্যবস্থা দ্বারা আমাদেরকে বিচার করার পরিবর্তে ঈশ্বর এই ধার্মিক ব্যবস্থার পূর্ণ সাধন করতে উৎসর্গের বলি প্রস্তুত করেছিলেন যা আমাদের স্থান পূরণ করবে। উৎসর্গের বলির উপরে হস্তার্পণের দ্বারা, এবং আমাদের জীবনের পরিবর্তে উৎসর্গের বলির রক্ত তাকে প্রদান করানোর দ্বারা ঈশ্বর আমাদের জীবনের পরিবর্তে উৎসর্গের বলির জীবন গ্রহণ করেছেন, এবং মানব জাতির সমস্ত পাপ ক্ষমা করেছেন, ইস্রায়েলীয় এবং তৎসঙ্গে আমাদেরকে তিনি সমস্ত পাপ থেকে রক্ষা করেছেন এবং আমাদেরকে পুনরায় বাঁচিয়েছেন। আর বিশ্বাসীদেরকে তাদের পাপ থেকে রক্ষা করার দ্বারা ঈশ্বর তাদেরকে তাঁর নিজের প্রজা করেছেন। এভাবেই ঈশ্বর ইস্রায়েলীয়দেরকে স্বর্গরাজ্যের যাজক তৈরী করেছেন।
উৎসর্গের বলি বলতে এখানে যীশু খ্রীষ্ট ব্যতিত অন্য কাউকে বুঝানো হচ্ছে না। আমাদের পাপের কারণে যীশু খ্রীষ্ট উৎসর্গের বলি হয়েছিলেন, এবং আমরা যারা পাপের দন্ডের সম্মুখিন ছিলাম আমাদেরকে রক্ষা করতে তিনি তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন, ক্রুশে তাঁর রক্ত সেচন করেছে এবং মৃত্যু বরণ করেছেন। আমাদেরকে আমাদের সমস্ত পাপ থেকে রক্ষা করতে ঈশ্বরের একজাত পুত্র মাসব দেহে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং তাঁর বাপ্তিস্মের মধ্য দিয়ে উৎসর্গের বলি হয়েছিলেন, পিতা ইচ্ছানুযায়ী সমস্ত কিছু পালন করেছিলেন। যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তিস্ম গ্রহণের দ্বারা মানব জাতির পাপ নিজের উপরে তুলে নেয়ার দ্বারা পৃথিবীর এই সমস্ত পাপ ক্রুশে বহন করার দ্বারা ক্ৰুশারোপিত হওয়ার দ্বারা, তাঁর রক্ত সেচন করার দ্বারা এবং নিজেকে বলি করার দ্বারা, এবং মৃত্যুবরণ এবং পুনরায় মৃত্যু থেকে ওঠার দ্বারা যীশু আপনাকে এবং আমাকে সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করেছেন।
যখন আমরা শুনি পরিত্রাণের বাক্য আমাদেরকে বলছে যে, যীশু আমাদের স্থলে বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, ক্রুশারোপিত হয়েছিলেন, ক্রুশারোপিত হয়েছিলেন, এবং পুনরায় তিন দিনের মধ্যে মৃত্যু থেকে উঠেছিলেন, আমরা মহা অনুপ্রাণিত হয়ে যাই। কারণ আমাদের পরিবর্তে যিনি বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন তিনি নিষ্পাপ ছিলেন। যার দরুন সমস্ত পাপ তাঁর উপরে চলে গিয়েছিল, আর পাপের বেতন হিসাবে তিনি সমস্ত নির্যাতন, নিপিড়ন, যন্ত্রনা, দুঃখভোগ চূড়ান্তভাবে মৃত্যুকে বহন করেছেন, এগুলোর মধ্যে সবগুলো প্রথমে আমাদিগেতে হওয়া উচিত ছিল। খ্রীষ্ট যখন এইভাবে আমাদেরকে আমাদের পাপ হতে রক্ষা করেছেন, তখন এই সত্যে বিশ্বাস না করা বিদ্বেষপরায়নতার ছাড়া বেশী কিছু হতে পারে না।


আমাদেরকে অবশ্যই নীল, বেগুনে এবং লাল সুতার মধ্যদিয়ে সাধিত পরিত্রাণে বিশ্বাস করতে হবে

যখন যীশু খ্রীষ্ট তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা এই সমস্ত পাপ এবং পাপের দন্ড বহন করেছিরেন, এবং যখন আমাদের স্থলে নিজেকে বলি দেয়ার দ্বারা আপনাকে এবং আমাকে রক্ষা করেছেন, তখন অবশ্যই আমাদেরকে এই প্রকার বিশ্বাস থাকতে হবে। যা বলে, “ধন্য প্রভু!” যদিও লোকেরা স্পর্শকাতর গল্প, জীবনী বা যে কোন ধরনের হৃদয়র্স্পশী গল্প দ্বারা সহজেই অনুপ্রাণিত হয়, যখন তাদের হৃদয়ে ঈশ্বরের নিঃশর্ত প্রেম আসে তারা বরফের ন্যায় ঠান্ডা হয়ে যায়। যখন প্রভুর অনুগ্রহ এত মহত যে, তিনি আমাদের নিমিত্ত বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন এবং ক্রুশে মরেছিলেন, এখনও পশু স্বভাবের বহু লোক আছে যারা এই অনুগ্রহ উপলব্দি করতে পারেনা এবং এর জন্য তাকে মোটেও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে না।
ঈশ্বরের পুত্র যীশু খ্রীষ্ট এই জগতে এসেছিলেন এবং আমাদের জন্য উৎসর্গের বলি হয়েছিলেন। তিনি তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর নিজের দেহে গ্রহণ করেছিলেন এবং ক্রুশে তাঁর দেহ দানের দ্বারা তিনি নিজে বলি হয়েছিলেন। তিনি আমাদের নিমিত্ত চড় খেয়েছিলেন, টেনে হিচড়ে তাঁর পেষাক খোলা হয়েছিল, উলঙ্গ হয়েছিলেন, নির্যাতিত এবং নিপিড়িত হয়েছিলেন। এভাবেই তিনি আমাদেরকে রক্ষা করেছিলেন। এই সত্যে বিশ্বাসের দ্বারাই আমরা ঈশ্বরের সন্তান হয়েছি। এটাই সকলের সবচেয়ে মহা অনুপ্রেরনা, ঈশ্বরের মহা অনুগ্রহ, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। খ্রীষ্ট যখন এভাবে আমাদেরকে রক্ষা করেছেন, এটা দেখে আমি গভির দুঃখার্ত হই যে, এখনও অনেক লোক আছে, যারা এটা শোনার পরে ও বিশ্বাস করে না এবং তাঁকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে না।
কেননা যীশু এই জগতে এসেছিলেন, তাঁর বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং নিজেকে বলি দিয়েছিলেন, যার জন্য আপনি এবং আমি আমাদের সমস্ত পাপ থেকে রক্ষা পেয়েছি। অতএব, যিশাইয় ৫৩:৫ পদে বলেন, “কিন্তু তিনি আমাদের অধর্মের নিমিত্ত বিদ্ধ, আমাদের অপরাধের নিমিত্ত চুর্ণ হইলেন; আমাদের শান্তি জনক শাস্তি তাঁহার উপরে বর্তিল, এবং তাঁহার ক্ষতসকল দ্বারা আমাদের আরোগ্য হইল।”
আমরা আমাদের সম্পূর্ণ জীবদ্বশায় পাপ করি। আমরা যারা দন্ডিত না হয়ে পারতাম না, আমাদের সমস্ত পাপ, বিচার, ধ্বংস এবং অভিষাপ থেকে আমাদেরকে মুক্ত করতে আমাদের প্রভু স্বর্গরাজ্যের সিংহাসন ফেলে এই পৃথিবীতে নেমে এসেছিলেন। তিনি যোহনের সম্মুখে নিজেকে নত করেছিলেন এবং বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, এই পাপগুলি ক্রুশে বহণ করেছিলেন, মহা দুঃখভোগ করেছিলেন, তাঁর হৃদয়ের সমস্ত রক্ত ভূমিতে সেচন করেছিলেন, পুনরায় মৃত্যু থেকে উঠেছিলেন। আমাদের নিমিত্ত উৎসর্গের বলি হয়েছিলেন এবং আমাদের পরিত্রাণের সত্য ঈশ্বর হয়েছেন।
 আপনি কি এই ঘটনার বিষয়ে চিন্তা করেন এবং এটা কি আপনার হৃদয়ের গভিরে সংরক্ষণ করেন? যখন আপনি বাক্য শোনেন, এটা ঠিক যে, আপনার বিশ্বাস করা উচিত এবং আপনার হৃদয়ে মহা অনুপ্রাণিত হওয়া যে, যীশু বাস্তবিকই মানব দেহে এই জগতে এসেছিলেন, এবং তিনি বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, ক্রুশারোপিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিরেন, এবং তাঁর লোকদেরকে তাদের পাপ থেকে রক্ষা করতে পুনরুত্থিত হয়েছিলেন। যদি আমরা উপলব্ধি করি যে, আমরা সকলে নরক যোগ্য, তাহলে আমরা হৃদয়ের গভীরে উপলব্ধি করতে পারি যে, এই পরিত্রাণ কত মহা কৃতজ্ঞতাপূর্ণ এবং প্রেরণাদায়ক। যদিও আমরা ঈশ্বরের বিশ্বাস করতে চেয়েছিলাম এবং তাঁর সন্তান হতে চেয়েছিলাম, এটা অর্জন করার আমাদের কোন উপায় ছিল না। কিন্তু আপনি এবং আমি আমরা যারা সত্যিকারভাবে আমাদের পাপের মোচন খুঁচতে ছিলাম, তিনি সত্যের বাক্য সহ আমাদের সাথে আমাদের সম্মুখে এলেন, যা হল, যীশু এই জগতে এসেছিলেন, বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, ক্রুশে মরেছিলেন, এবং তিন দিনের মধ্যে মৃত্যু থেকে পুনরায় উঠেছিলেন।
এটা কি যীশুর ত্যাগ স্বীকার ছিল না, আমরা কিভাবে আমাদের পাপের মোচন লাভ করতাম? আমরা কখনোই পারতাম না! এটা কি যীশুর বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশীয় রক্তের জন্য হয়েছিল না, এবং এটা কি সমাগম তাম্বুতে প্রতীয়মান নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মসীনা সূতার পরিত্রাণের জন্য হয়েছিল না, পরিত্রাণ ছিল আমাদের জন্য শুধু গ্রীষ্মকালীন মধ্য রাতের স্বপ্ন। যদি তাঁর ত্যাগ স্বীকার না হত, আমরা কখনো আমাদের পাপ থেকে মুক্ত হতে পারতাম না এবং সেগুলোর শাস্তি থেকেও, কিন্তু আমরা নরকের অনন্ত অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হতাম এবং অনন্তকাল তা ভোগ করতাম। অধিকন্তু খ্রীষ্ট আমাদের নিমিত্ত নিজেকে বলি দেওয়ার দ্বারা আমাদের রক্ষা করেছেন, ঠিক পুরাতন নিয়মের উৎসর্গের বলির ন্যায়।


নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার পরিত্রাণ নূতন নিয়মে সাধিত হয়েছে

সুপ্রিয় পাঠকগণ, আপনারা অবশ্যই সমাগম তাম্বুর নিমিত্ত ব্যবহৃত নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূতার সত্য কখনোই ভুলবেন না। পাকানো মিহি মসীনা সূতা হল, নূতন এবং পুরাতন নিয়মের বাক্য, যে বাক্য ঈশ্বর আগের থেকে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, তিনি নিজেই আমাদের নিজেদের ত্রাণকর্তারূপে আমাদের কাছে আসবেন, এবং এই প্রতিজ্ঞা অনুসারেই যীশু খ্রীষ্ট এই জগতে এসেছিলেন। নীল সূতা আমাদেরকে বলে যে, খ্রীষ্ট এই জগতে এসে তাঁর বাপ্তিস্মের মধ্য দিয়ে আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন। অন্য কথায়, তিনি যে প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন তা হল, তিনি আমাদেরকে আমাদের সমস্ত পাপ থেকে রক্ষা করবেন এবং আমাদের দন্ড থেকে মুক্ত করবেন আমাদের এবং এই পৃথিবীর প্রত্যেকের পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিতে তিনি যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন এবং বাস্তবিক পৃথিবীর সমস্ত পাপ বহন করেছিলেন। আমরা অবশ্যই এটা ভুলব না, যীশু যে উৎসর্গের বলিরূপে এসেছিলেন এবং তাঁর বাপ্তিস্মের মধ্য দিয়ে আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন, এটা যদি আমরা ভুলে যাই, তাহলে আমরা পরিত্রাণ পাব না।
অধিকাংশ সময়ে এই পৃথিবীতে আমরা আত্মগরিম নিয়ে বেঁচে থাকি। লোকদের অন্তর এমন যে, যদিও লোকেরা অন্যদের দম্ভোক্তি সহ্য করতে পারে না, তৎসত্ত্বেও নিজেরা দম্ভ করতে ভালবাসে। কিন্তু একদা এমন একটা সময় এসেছিল যখন আমি আমার নিজের নয় কিন্তু অন্য কারো বিষয়ে শুরু করেছিলাম, এই সময়টি তখন, যে সময় নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূতার মধ্য দিয়ে আমাকে রক্ষা করার জন্য যীশুর কাছে আমি কৃতজ্ঞ হয়েছিলাম। অন্যকথায় আমি যীশুতে শ্লাঘা করেছিলাম। বর্তমানে, আমি যত পারি তত শ্লাঘা করি এবং বলি যে, আমাদের পাপ মুছে দিতে যীশু এই জগতে এসেছিলেন, বাপ্তাইজিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের উপরে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন, আর এভাবে প্রভু আমাদের রক্ষা করেছেন। আমি এই সত্যের শ্লাঘা করতে, এটা প্রচার করতে এবং সমস্ত গৌরব ঈশ্বরকে প্রদান করতে ব্যর্থ হই না।
অধিকন্তু, অনেক লোক আছে যারা যদিও যীশুকে বিশ্বাস করে বলে স্বীকার করে, তারা যীশুর বাপ্তিস্মকে বাদ দিয়ে তাঁর বাক্য প্রচার করছে, বা তাঁর নাম ধারণ করার দ্বারা শ্লাঘা করছে। একজন ভূয়া যাজক ছিলেন, যিনি দাবী করেছিলেন যে, তিনি এক মাসের জন্য তিনি তার নিজের জন্য মাত্র ৩০০ ডলার খরচ করেন। যেহেতু এটা ছিল একটা বিরাট কাজ, তিনি শ্লাঘা করে বলতেন যে, তিনি মাত্র ৩০০ ডলার দ্বারা এক মাস চলতে পারেন, যেহেতু তার অনুসারীরা তার যাতায়াত খরচ পরিশোধ করত, তাই তিনি নিজে কোন যাত্রা খরচ নিতেন না। কিন্তু বিশ্বাসীদের টাকা কি টাকা নয়? আর নিজের বেলায় যেটা ঘটত, অন্যের টাকার বেলায়ও কি এক কথা নয়? এই খ্রীষ্টিয়ান নেতা দাবী করতেন যে, কোন কিছুর প্রয়োজন হলে তিনি শুধু প্রার্থনা করতেন। “হে ঈশ্বর, আমার যাত্রা খরচের ব্যবস্থা কর, আমি তোমাকে বিশ্বাস করি।” এই প্রার্থনা দ্বারা কিছুর বিশ্বাসীর হৃদয় নরম হত এবং তারা তার যাত্রা খরচ বহন করত। যারা বলে যে, তাদের শ্লাঘা করার মত কিছু আছে, তাদের দেখে আপনার কি চিন্তা হয়?
মথি ৩:১৩-১৭ পদে আছে, “তৎকালে যীশু যোহন দ্বারা বাপ্তাইজিত হইবার জন্য গালীল হইতে যর্দ্দনে তাঁহার কাছে আসিলেন। কিন্তু যোহন তাঁহাকে বারণ করিতে লাগিলেন, বলিলেন, আপনার দ্বারা আমারই বাপ্তাইজিত হওয়া আবশ্যক, আর আপানি আমার কাছে আসিতেছেন? যীশু উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, এখন সম্মত হও, কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত। তখন তিনি তাঁহার কথায় সম্মত হইলেন। পরে যীশু বাপ্তাইজিত হইয়া অমনি জল হইতে উঠিলেন; আর দেখ, তাঁহার নিমিত্ত স্বর্গ খুলিয়া গেল, এবং তিনি ঈশ্বরের আত্মাকে কপোতের ন্যায় নামিয়া আপনার উপরে আসিতে দেখিলেন; আর দেখ, স্বর্গ হইতে এই বাণী হইল ‘ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, ইহাঁতেই আমি প্রীত।”
 যীশু বাপ্তাইজিত হওয়ার সময় যা ঘটেছিল, এই অনুচ্ছেদে তা বর্ণনা করা হয়েছে। যীশু যখন যর্দ্দন নদীতে যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, এবং জল থেকে উঠে এসেছিলেন, তখন স্বর্গের দ্বার খুলে গিয়েছিল এবং পিতা ঈশ্বরের রব শোনা গিয়েছিল, “ইনি আমার প্রিয় পুত্র, ইহাঁতেই আমি প্রীত।” যোহন বাপ্তাইজক সেই সময়ে আকস্মিকভাবে অচেতন ছিলেন।
এই যর্দ্দন নদীতে যোহন বাপ্তাইজক দুইবার বিস্মিত হয়েছিলেন। তিনি প্রথম বিস্মিত হয়েছিলেন যখন তিনি দেখেছিলেন যে, যীশু তাঁর কাছে এসেছেন এবং তাঁর দ্বারা বাপ্তাইজিত হতে চেয়েছেন, এবং বাপ্তাইজিত করার পরে পুনরায় তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন, যখন স্বর্গ খুলে গিয়েছিল এবং শুনেছিলেন পিতা ঈশ্বর বলেছেন, “ইনি আমার প্রিয় পুত্র, ইহাঁতেই আমি প্রীত।”
যোহন বাপ্তাইজক কর্ত্তৃক যীশু বাপ্তাইজিত হওয়ার কারণ কি? মথি ৩:১৫ পদে এখানে আমাদেরকে উত্তর দেয়। আসুন আবার ১৫ ও ১৬ পদ পাঠ করি, “কিন্তু যীশু উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, এখন সম্মত হও, কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত। তখন তিনি তাঁহার কথায় সম্মত হইলেন। পরে যীশু বাপ্তাইজিত হইয়া অমনি জল হইতে উঠিলেন; আর দেখ, তাঁহার নিমিত্ত স্বর্গ খুলিয়া গেল, এবং তিনি ঈশ্বরের আত্মাকে কপোতের ন্যায় নামিয়া আপনার উপরে আসিতে দেখিলেন।” 
যীশু কেন বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তার কারণ মথি ৩:১৫ পদে আমাদের বলা হয়েছে। যীশু যদিও স্বর্গরাজ্যের মহা যাজক ছিলেন এবং ঈশ্বরের একজাত পুত্র ছিলেন, তৎসত্ত্বেও আমাদেরকে রক্ষা করতে তার লোক করতে, আমাদের পাপ থেকে রক্ষা করতে তিনি এই জগতে এসেছিলেন। অন্যথায়, যীশু উৎসর্গের বলিরূপেএই জগতে এসেছিলেন, যাতে আমাদের স্থলে বলি হয়ে এবং এই পাপ নিজের উপরে তুরে নেওয়ার দ্বারা পাপের বেতন পরিশোধ করেছেন। একারণেই যীশু যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হতে ইচ্ছা করেছিলেন।
অন্য কেউ নয়, কিন্তু যোহন বাপ্তাইজক কর্ত্তৃক যীশু কেন বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন? কেননা যোহন বাপ্তাইজক ছিলেন মানব জাতির প্রতিনিধি এবং নারী কর্ত্তৃক যারা জন্ম গ্রহণ করেছে, তিনি ছিলেন তাদের সকলের চেয়ে মহত্তর। মথি ১১:১১ পদে বলে, “স্ত্রীলোকের গর্ভজাত সকলের মধ্যে যোহন বাপ্তাইজক হইতে মহান কেহই উৎপন্ন হয় নাই।” যোহন বাপ্তাইজক ছিলেন পুরাতন নিয়মে মালাখি পুস্তকে ভাববাণীকৃত ঈশ্বরের দাস, “দেখ, সদাপ্রভুর সেই মহৎ ও ভয়ঙ্কর দিন আসিবার পূর্বে আমি তোমাদের নিকটে এলিয় ভাববাদীকে প্রেরণ করিব” (মালাখি ৪:৫)। যোহন বাপ্তাইজকই সেই এলিয়, ঈশ্বর যাকে পাঠাতে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।
ঈশ্বর কেন যোহন বাপ্তাইজককে এলিয়রূপে আহবান করেছিলেন? এলিয় একজন ভাববাদী ছিলেন, যিনি ইস্রায়েলদিগের মন ঈশ্বরের কাছে ফিরিয়ে এনেছিলেন। ঐ সময়ে ইস্রায়েলীয়রা বারকে ঈশ্বর হিসাবে পূজা করছিল, কিন্তু এলিয় তাদেরকে প্রকৃতভাবে দেখিয়েছিলেন যে, কে প্রকৃত ঈশ্বর, বাল নাকি যিহোবা ঈশ্বর। তিনি ছিলেন ভাববাদী, যিনি তার বিশ্বাস এবং উৎসর্গের বলির মধ্যদিয়ে ইস্রায়েল জাতিকে প্রদর্শন করেছিলেন যে, কে প্রকৃত জীবন্ত ঈশ্বর, আর এভাবে তাদেরকে পরিচালিত করছিলেন, যারা প্রতিমা পূজা করছিল তাদেরকে সত্য ঈশ্বরের কাছে ফিরিয়ে এনেছিলেন। একারণেই পুরাতন নিয়মের শেষে ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, “আমি তোমাদের কাছে এলিয়কে প্রেরণ করব।” কেননা সমস্ত মানবজাতি যারা ঈশ্বরের প্রতিমূত্তিতে তৈরী হয়েছিল, তারা প্রতিমাপূজা এবং দেবদেবীর পূজার ভ্রান্ত পথে চলছিল, ঈশ্বর বলেছিলেন যে, তিনি তাদের নিমিত্ত তাঁর দাসকে পাঠাবেন, যিনি তাদেরকে ঈশ্বরের পথে ফিরিয়ে আনতে পরিচালিত করবেন। যিনি এভাবে এসবেন তিনি যোহন বাপ্তাইজক।
 মথি ১১:১৩-১৪ পদে বলা হয়েছে, “কেননা সমস্ত ভাববাদী ও ব্যবস্থা যোহন পৰ্য্যন্ত ভাববাণী বলিয়াছে। আর তোমরা যদি গ্রহণ করিতে সম্মত হও, তবে জানিবে, যে এলিয়ের আগমন হইবে, তিনি এই ব্যক্তি।” যে এলিয়কে আসতে হবে সে যোহন বাপ্তাইজ ব্যতিত অন্য কেউ নয়। ১১-১২ পদে লেখা হয়েছে, “আমি তোমাদিগকে সত্য বলিতেছি, স্ত্রী লোকের গর্ভজাত সকলের মধ্যে যোহন বাপ্তাইজক হইতে মহান কেহই উৎপন্ন হয় নাই, তথাপি স্বর্গ-রাজ্যে অতি ক্ষুদ্র যে ব্যক্তি, সেতাঁহা হইতে মহান। আর যোহন বাপ্তাইজকের কাল হইতে এখন পর্যন্ত স্বর্গ-রাজ্য বলে আক্রান্ত হইতেছে, এবং আক্রমীরা সবলে তাহা অধিকার কারতেছে।”
সুতরাং এখানে যখন এটা বলছে যে, “স্ত্রী লোকের গর্ভজাত সকলের মধ্যে যোহন বাপ্তাইজক হইতে মহান কেহই উৎপন্ন হয় নাই।” এর অর্থ হল ঈশ্বর যোহন যোহন বাপ্তাইজককে সমগ্র মানব জাতির প্রতিনিধিরূপে উঠিয়েছিলেন। যীশু জন্মের ছয়মাস পূর্বে ঈশ্বর যোহন বাপ্তাইজককে এই পৃথিবীতে জন্ম গ্রহণ হতে দিয়েছিলেন। আর ঈশ্বর তাকে পুরাতন নিয়মের শেষ ভাববাদী এবং যাজকরূপে প্রস্তুত করেছিলেন। অতএব, জগতের মহাযাজক হিসাবে যোহন বাপ্তাইজক যীশু খ্রীষ্টকে বাপ্তাইজিত করেছিলেন এবং এভাবে মানব জাতির সমস্ত পাপ তাঁর উপরে অর্পিত হয়েছিল। অন্যকথায়, কি কারণে যোহন বাপ্তাইজক যীশুকে বাপ্তাইজিত করেছিলেন, তা ছিল, পৃথিবীর সমস্ত পাপ তাঁর উপরে অর্পণ করতে। যীশু কি কারণে যোহন বাপ্তাইজক কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, সেটা ছিল, তাঁর বাপ্তিস্মের মধ্যদিয়ে সমস্ত মানব জাতির পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিতে। 
একারণেই যীশু মথি ৩:১৫ পদে বলেছেন, “এখন সম্মত হও, কেননা এইরূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত।” কেননা সমস্ত ধার্মিক সাধিত হতে পারত শুধু মাত্র যীশু পৃথিবীর সমস্ত পাপ গ্রহণ করতে যদি যোহন বাপ্তাইজক কর্ত্তৃক বাপ্তিস্ম গ্রহণ করতেন, তাই যীশু বলেছিলেন এটাই ছিল উপযুক্ত। 


এই পদ্ধতিতে এভাবেই আমাদের প্রভু পাপীদেরকে রক্ষা করেছিলেন

যীশু যোহন কর্ত্তৃক এই যে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন, তা পুরাতন নিয়মের হস্তাৰ্পনের সমতুল্য। অন্যকথায়, এটা ছিল হস্তার্পন, যা পুরাতন নিয়মের সময়ে কারো পাপ উৎসর্গের বলির উপরে অর্পণ করতে হোম বলির বেদীর সম্মুখে করা হত। এই জগতে এসে বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা যীশু খ্রীষ্ট হস্তার্পনের প্রতিজ্ঞার পূর্ণতা সাধন করেছিলেন- যখন দৈনিক পাপ উৎসর্গ করা হত, যেখানে ইৎসর্গের বলির মস্তকের উপরে হস্তার্পনের দ্বারা পাপীরা তাদের পাপ অর্পণ করত এবং যখন সপ্তম মাসের দশম দিনে, মহা প্রায়শ্চিতের দিনে বাৎসরিক পাপ উৎসর্গ করা হত। মহা যাজক যার মধ্যদিয়ে উৎসর্গের বলির উপরে হস্তাৰ্পনের দ্বারা ইস্রায়েলদের সমস্ত পাপের বার্ষিক মূল্য অর্পন করতেন, তখন এই প্রতিজ্ঞা তৈরী হয়েছিল।
পুরাতন নিয়মের হস্তার্পনের ন্যায় যীশু বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা পৃথিবীর সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে গ্রহণ করেছিলেন, তিনি এই সমস্ত পাপ ধৌত করেছিলেন, এবং যেহেতু তিনি মানব জাতির এই সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছিলেন, সেহেতু তিনি আমাদের স্থলে তিনি এই পাপের শাস্তি বহন করেছিলেন এবং বলি হয়েছিলেন। এভাবেই যীশু খ্রীষ্ট আমাদের পরিত্রাণের সত্য ঈশ্বর হয়েছেন।
এইরূপে, আমাদেরকে অবশ্যই সত্যিকারভাবে স্বীকার করতে হবে যে, আমাদের পাপের কারণে আমরা আমাদের নিশ্চিত মৃত্যু এড়াতে পারতাম না এবং দন্ডিত হতাম। আমাদের অবশ্যই এটা জানতে এবং অনুভব করতে হবে। আর আমাদেরকে অবশ্যই উপলব্দি করতে হবে যে, যীশু খ্রীষ্ট আমাদে ত্রাণকর্ত্তা এই পৃথিবীতে এসে আমাদের নিমিত্ত বলি হওয়ার দ্বারা আমাদেরকে রক্ষা করেছেন-অর্থাৎ, তাঁর বাপ্তিস্ম, ক্রুশারোপন এবং পুনরুত্থানের দ্বারা পরিত্রাণের কার্যের দ্বারা যীশু খ্রীষ্ট আমাদের সমস্ত পাপ ধৌত করেছেন এবং আমাদের পাপ থেকে আমাদেরকে সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করেছেন। আমাদেরকে অবশ্যই আরও বিশ্বাস করতে হবে যে, যীশু আমাদেরকে পরিত্রাণের অনুগ্রহ দান প্রদান করেছেন, তিনি আমাদের পরিত্রাণ সাধন করেছেন এবং তাঁর অনুগ্রহদান হিসাবে এই সাধিত পরিত্রাণ আমাদেরকে প্রদান করেছেন। যীশু সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করেছেন, যাতে কেউ যদি শুধুমাত্র বিশ্বাস করে এবং কেউ যদি শুধু গ্রহণ করে, তাহলে সে নারী/পুরুষ প্রকৃতভাবে রক্ষা পাবে।
আমাদেরকে এটা উপলব্দি করতে সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দ্বারটি নীল, বেগুনে, লাল পাকান মিহি মসীনা সুতা দ্বারা বোনা হয়েছিল। আমরা যদি সমাগম তাম্বুর দ্বার খুলি, কেন আমরা প্রথমে হোম বলির বেদি দেখতে পাব এটাও তার একটা কারণ। হোম বলির বেদিতে যে বলি উৎসর্গ করা হত, তা ছিল পরিত্রাণ পদ্ধতির পূর্বাভাষ, যেটার মধ্যদিয়ে যীশু খ্রীষ্ট আমাদেরকে রক্ষা করেছেন। যে বলি হোম বেদিতে উৎসর্গ করা হত হস্তার্পণ এবং রক্তক্ষরণের দ্বারা মৃত্যু বরণ করে সেগুলোকে নিজেদের উপরে পাপীদের অপরাধ গ্রহণ করতে হত। উৎসর্গের বলির রক্ত তখন বেদির শৃঙ্গে দেয়া হত, আর বাকী রক্ত টুকু ভূমিতে ঢেলে দেয়া হত। তারপরে, তারা পশুটির মাংস এবং মেদ হোমবলির বেদির উপরে উৎসর্গ করত। এটাই ছিল ঈশ্বরের কাছে বলি উৎসর্গের পদ্ধতির দ্বারা যীশু খ্রীষ্ট আমাদের ত্রাণকর্ত্তা হয়েছেন। এই সব বৈশিষ্ট্যগুলি ঠিক তার সমতুল্য। অন্যকথায়, বলি উৎসর্গের মধ্যদিয়ে ঈশ্বর আমাদেরকে দেখিয়েছেন যে, যীশু খ্রীষ্ট এই পৃথিবীতে আসবেন এবং এই উপায়ে আমাদেরকে রক্ষা করবেন।
হোমবলির উৎসর্গের পশুর উপরে অব্যর্থভাবে পাপীদের হস্তার্পন করতে হত। এ কারণে সমাগম তাম্বু আমাদেরকে জল ও আত্মার সুসমাচারের কথা বলছে। এই পৃথিবীতে এসে যীশু খ্রীষ্ট মানবজাতির পাপ নিজের উপরে তুলে নিতে বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন। বাপ্তিস্ম হল পরিত্রাণের অবিকল অনুরূপ যা খ্রীষ্ট ঈশ্বরের সম্মুখে পৃথিবীর সমস্ত পাপীদের জন্যে উৎসর্গের বলি হতে গ্রহণ করেছিলেন।
এই সমাগম তাম্বুর মধ্যদিয়ে এখন আমরা পরিষ্কার বিশ্বাস রাখতে পারি। ইস্রায়েল লোকদের প্রায়শ্চিত্তের দিনে ঠিক যেভাবে মহা যাজকের হস্তার্পনের মধ্যদিয়ে উৎসর্গের বলি তাদের পাপ সমুহ গ্রহণ করত এবং তেমনি এটাকে তাদের পাপের কারণে তাদের স্থলে বলি হতে হত, কারণ তাদের পাপ এখন সেটাতে অর্পিত হয়েছে (লেবীয় ১৬), যীশু খ্রীষ্ট আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিতে এবং এই পাপের জন্য আমাদের নিজেদের উৎসর্গের বলি হতে এই জগতে এসেছিলেন, বাস্তবিকই আমাদের উৎসর্গের বলি হয়েছিলেন, আর এভাবে আমাদের সমস্ত পাপ এবং দন্ড থেকে আমাদেরকে রক্ষা করেছেন। আমরা এখন সম্পূর্ণভাবে এই প্রেমের পরিত্রাণে বিশ্বাস করতে পারি। এই সত্যে বিশ্বাসের দ্বারা ঈশ্বর যে প্রেমের পরিত্রাণ আমাদেরকে প্রদান করেছেন তারজন্য আমরা তার ধন্যবাদ করতে পারি এবং তাঁর কাছে ঋণ পরিশোধ করতে পারি।
 সমাগম তাম্বু সম্বন্ধে একজনের যতই জ্ঞান থাকুক না কেন, এটা বিষয় নয়,যদি সে (নারী/পুরুষ) এতে বিশ্বাস না করে, তাহলে তার সমস্ত জ্ঞানই মূল্যহীন। সুতরাং আমরা যেমন বুঝি, তেমিনভাবে আমাদেরকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, বাস্তবিক যীশুর বাপ্তিস্মের গুরুত্ব কত। সমাগম তাম্বুর তিনটি দ্বার ছিল, যার সবগুলোই ছিল নীল, বেগুনে, লাল সুতা এবং পাকান মিহি মসীনা সুতায় বোনা। মানুষ তাদের অজ্ঞতার কারণে ভিন্নভাবে সমাগম তাম্বুর দ্বারের ব্যাখ্যা দিতে পারে।
 এই সূতার বিন্যাসে প্রথমটা বোন হয়েছিল নীল সূতা দিয়ে, এটাকে অনুসরন করে বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূতা দ্বারা বোন হয়েছিল। শুধুমাত্র এই উপায়ে তৈরী দ্বারকেই সমাগম তাম্বুর দ্বার হিসাব বর্ণনা করা যেতে পারে, কেননা পুরাতন নিয়মের সময়ে ঈশ্বর যেভাবে ইস্রায়েলকে এটা তৈরী করতে আদেশ করেছিলেন, এটা সেটা যথাযথভাবে তৈরী হয়েছিল।
 দ্বরটিকে কেন এইভাবে তৈরী হতে হয়েছিল এর একটা কারণ ও ছিল। কুমারী মরিয়মের দেহের মধ্য দিয়ে এবং মানব দেহে মানব জাতির ত্রাণকর্তারূপে যীশু কিভাবে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে, মনোযোগ দিতে হবে যদি তিনি আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর উপরে তুলে নিতে বাপ্তাইজিত না হতেন, তিনি আমাদের সত্য ত্রাণকর্তা হতে পারতেন না। যদি তিনি বাপ্তাইজিত না হতেন, তাহলে তিনি ক্রুশারেপিত ও হতে পারতেন না এবং ক্রুশে মরতে পারতেন না। এইরূপে, প্রথমে নীল সূতা বুনতে হয়েছিল, আর এর আপেক্ষিক গুরুত্ব জটিল।


কাকে আমরা অবশ্যই বিশ্বাস করব?

অতএব, আমাদেরকে অবশ্যই যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস করতে হবে যে, যিনি আমাদেরকে আমাদের পাপ থেকে রক্ষা করেছেন। আমরা শুধু তখনই সত্য নূতন জন্ম প্রাপ্ত হতে পারি, যখন আমরা পরিত্রাণ বিশ্বাস করি যা ঈশ্বরের পুত্র, যীশু খ্রীষ্ট, আমাদের ত্রাণকর্তা আমাদেরকে দিয়েছেন। যখন আমরা ঈশ্বরের পুত্রকে আমাদের পরিত্রাণের ঈশ্বর হিসাবে বিশ্বাস করি এবং যখন আমরা এই সত্যে বিশ্বাস করি যে, যীশু দ্বারা আমাদের পাপ সমূহ তাঁর নিজের উপরে একেবারে তুলে নিয়েছেন এবং ক্রুশে আমাদের শাস্তি বহন করেছিলেন, তখনই আমরা সকলে আমাদের সত্য পরিত্রাণ লাভ করতে পারি।
 কেননা যীশু খ্রীষ্ট বাপ্তিস্ম বিনা অন্য কোন উপায়ে আমাদের পাপ তাঁর নিজের তুলে নিতে পারতেন না, একমাত্র এই সঠিক পদ্ধতিতে আমাদের পাপ বহন করার দ্বারা তিনি ক্রুশে যেতে পারতেন, তাঁর রক্ত সেচন এবং এর উপর মরতে পারতেন। তিনি যতই ঈশ্বরের পুত্র হন বা আমাদের ত্রাণকর্তারূপে জগতে আসেন না কেন, কোন ব্যাপার ছিল না যদি না তিনি তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা আমাদের পাপসমূহ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিতেন, এই পৃথিবীতে আমাদের পিরত্রাণ কোথাও পাওয়া যেত না।
অতএব, পূর্ণ দৃঢ় প্রত্যয়ী হতে আপনার জন্য বাইবেল সংক্রান্ত বিস্তারিত নিশ্চিত প্রমাণ প্রয়োজন, যা ইতিমধ্যে আপনার মুছে দিয়েছেন।
মনে করুন আপনি কোন একটি গ্রহণযোগ্য ঋণে ঋণী। তখন কেউ আপনাকে বলে, “উদ্বিগ্ন হবেন না; আমি আপনাকে এই পাওয়া মিটিয়ে দেব। উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই। আমি এই সমস্যার সমাধান করব।” যখনই আপনি তার সাথে সাক্ষাত করবেন, এই লোক আমাদেরকে বলতে থাকে, “আমি কি আপনার উদ্বিগ্ন হতে বলি নাই? আমি বলেছিলাম যে, আমি এটার তত্ত্ববধান করব।” আবার মনে করুন এই লোক রাগন্বিত হয়ে আপনাকে বলছেন কেন আপনি তাকে বিশ্বাস করেন না? এমন কি যদি এই লোক প্রতিদিন আপনাকে বলে, “আমি এগুলো সমস্ত পাওনাই মিটিয়ে দিয়েছি; শুধু আমকে বিশ্বাস কর,” যখন তিনি প্রকৃতই আপনার ঋণ পরিশোধ না করবেন, আপনি কি শুধু বিশ্বাসের দ্বারা প্রকৃতই এই দেনা থেকে মুক্ত হবেন? অবশ্যই না!
যত দৃঢ়ভাবে তিনি আপনাকে বলে না কেন, “যদি তুমি আমাকে বিশ্বাস কর, তোমার সমস্ত দেনা পরিশোধ হয়ে যাবে,” কোন ব্যাপার নয়, যদি তিনি প্রকৃতই আপনার দেনা পরিশোধ না করেন, তখন আপনার দেনা যেমন ছিল তেমনই রয়ে যাবে, আর এই ব্যক্তি শুধু আপনাকে প্রতারিত করছে। সূতরাং আপনি তাকে বার বার জিজ্ঞাসা করুন “তাহলে আপনি কি আমার দেনা শোধ করেছেন? তখন তিনি প্রতি উত্তরে আপনাকে বলবেন “কে তুমি এত সন্দেহপূর্ণ? শুধু নিঃশর্তভাবে আমকে বিশ্বাস কর। আমি তোমাকে বলেছিলাম যে, আমি তোমার সমস্ত দেনা পরিশোধ করে দেব। তোমাকে যা করতে হবে তাহল, শুধু আমাকে বিশ্বাস কর, এখনও তুমি এত সন্দেহপ্রবণ! এরকত হয়ো না!” সুতরাং আবার মনে করুন, আপনি তাকে আপনার সর্বান্তকরণে বিশ্বাস করেছেন। কিন্তু আপনি যতই তাকে বিশ্বাস করুন কোন ব্যাপার নয় যদি তিনি আপনার ঋণ পরিশোধ না করেন, তখন তার সমস্ত কথা মিথ্যা হয়ে যায়।


বর্তমান খ্রীষ্টিয়ানেরা এইভাবেই বিশ্বাস করে

আজকের খ্রীষ্টনরা বলে, “যীশু ক্রুশে তাঁর মূল্যবান রক্ত সেচনের দ্বারা আপনাকে রক্ষা করেছেন। তিনি সেখানে পাপের সমস্ত দন্ড বহন করেছেন।এভাবেই তিনি আপনাকে রক্ষা করেছেন।” অনেক ধৰ্ম্মোপদেশক তাদরে সমাবেশে এই রকম প্রচার করে। যখন সমাবেশের কেউ উঠা দাঁড়িয়ে তাদেরকে বলে “কিন্তু আমি এখনও পাপী,” তারা বলে “তার কারণ তোমার বিশ্বাস অল্প। শুধু বিশ্বাস কর! অন্য কিছু নয় কিন্তু তোমার অবিশ্বাসই তোমার পাপ!” “মহাশয়, বাস্তবিক আমিও আমিও বিশ্বাস করতে চাই। কিন্তু আমি জানি না, কেন আমি বিশ্বাস করতে পারি না।” “এমন কি যদিও আমি বিশ্বাস করি আমি জানি না কেন আমি এখনও পাপী রয়ে গেছি। বাস্তবিক আমি বিশ্বাস করি।” “তোমার যথেষ্ট বিশ্বাস নাই। তোমার আরও বেশি বিশ্বাস করার প্রয়োজন। পর্বতে আরোহন কর এবং উপবাস করতে চেষ্টা কর। যতক্ষন বিশ্বাস না হয় আহার বন্দ করে দাও।” “না উপবাস করার অবস্থায় তোমাকে বিশ্বাস করার চেষ্টা করতে হবে।”
আজকের বহু ধর্মোপদেশক আপনাকে বিশ্বাস করতে বলে অধিকন্তু তারা আপনার সমস্যার সমাধান করে না, আর তারা বিশ্বাস না করার জন্য আপনাকে কেবল তিরষ্কার করে। আপনার ভূমিকায়, আমি বিশ্বাস করতে চেষ্টা করেন এবং এটা বিশ্বাস করা খুবই কঠিন, বা আপিন সত্যিই অন্ধভাবে বিশ্বাস করেছেন কিন্তু আপনার পাপের সমস্যা এখনও রয়ে গেছে। এখানে ভুল কোথায়? এর ব্যাখ্যা কি হতে পারে? লোকদের সত্য এবং শক্তিশালী বিশ্বাস নেই, কারণ তারা জানে না যে, যীশু বাপ্তাইজত হওয়ার দ্বারা তাদের সমস্ত পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন। কারণ তারা ভ্রান্ত ভাবে বিশ্বা করে। যার দ্বারা তারা তাদের পাপ সমস্যার সমাধান করতে পারে না, তারা যতই বিশ্বাস করুক না কেন কোন ব্যাপার নয়।
কোন নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কেবল শর্তহীনভাবে বিশ্বাসের দ্বারা কি আস্থা আসে? অবশ্যই না! একেবারে সম্পূর্ণ বিশ্বাস আসে তখনই, যখন আপনি জানবেন কিভাবে প্রকৃতভাবে পাপ সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং এটাতে বিশ্বাস করেন। “যদিও আমি আপনার সম্বন্ধে দ্বিধাগ্রস্থ ছিলাম, এটা সুস্পষ্ট যে, আপনি ইতিমধ্যে আমার পাপের সমস্যার সমাধান করেছেন। আমি যতই বিশ্বাস করতে চেষ্টা না কেন কোন ব্যাপার নয়, আমি আপনার পরিত্রাণে বিশ্বাস না করে পারি না, যেহেতু এই পরিত্রাণ খুবই নিশ্চিত। আমার সমস্যা সমাধান করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।” অন্য কথায়, যদিও প্রথমে আমরা দ্বিধাগ্রস্থ হই, তথাপি আমাদের পরিত্রাণ এত নিশ্চিত যে, আমার আর দ্বিধাগ্রস্থ থাকতে পারি না। আমাদের পরিত্রাণে চিহ্ন ও প্রমাণ স্বরূপ যীশু আমাদেরকে তাঁর প্রাপ্ত জল ও আত্মার সুসমাচার দেখিয়েছেন। “এই ভাবে আমি তোমার ঋন পরিশোধ করেছি।” শুধুমাত্র যখনই আমরা এই প্রাপ্ত বস্তুর দিকে তাকাই যা আমাদেরকে দেখায় যে, তোমার সমস্ত ঋণ পরিশোধ হয়ে গেছে, তখন সত্য বিশ্বাস আমাদের কাছে আসতে পারে।
তিনি কিভাবে আমাদেরকে রক্ষা করেছেন এবং কিভাবে আমাদের পাপ মুছে গিয়েছে, এই প্রমাণ যখন আমাদের কাছে না থাকে, যে আমরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে স্বীকার করি, সে ভাবে আমরা বিশ্বাস করতে পারি না, বলতে পারি না যে, যীশু খ্রীষ্ট নিজেই ঈশ্বর, আমাদের ত্রাণকর্তা এবং ত্রাণকর্তায় বিশ্বাসের দাবী করতে পারি না। অন্য কথায়, যদ্যপি আমাদের পাপের বেতন পূর্ণ পরিশোধের রশিদ না দেখেছি, আমাদের দৃঢ় প্রত্যয় থাকতে পারে না। কিন্তু যে সমস্ত লোকেরা এই রশিদ দেখা ব্যতিত বিশ্বাস করে, তারা হয়তো প্রথমে শক্ত ও বিশ্বাসের অনুভুতি ব্যক্ত করে, কিন্তু বস্তুত: তাদের বিশ্বাস সাধারণত অন্ধ। এটা একটা গোঁড়ামী বিশ্বাস ছাড়া বেশি কিছু নয়।


একটি অন্ধবিশ্বাস আপনি উত্তম বিশ্বাস হিসাবে গণ্য করেন?

যদি একজন অন্ধবিশ্বাসী পালক অন্যদের কাছ থেকেও অন্ধ প্রত্যাশা করে আপনি এটা কেমন মনে করেন? “বিশ্বাস করুন ! অগ্নি গ্রহণ করুন! অগ্নি, অগ্নি, অগ্নি!অগ্নির ন্যায় পবিত্র আত্মা আমাদেরকে অগ্নিতে পূর্ণ করছে! আমি বিশ্বাস করি যে, ঈশ্বর আপনাদের সকলকে আশীর্বাদ করবেন! আমি বিশ্বাস করি তিনি ধনী করবেন! আমি বিশ্বাস করি তিনি আমাদের আশীর্বাদ করবেন! আমি বিশ্বাস করি তিনি আমাদেরকে সুস্থ্য করবেন!” যখন এইরূপ পালক এই প্রকারের প্রদর্শনী করে, শ্রোতাদের কান বাজতে শুরু করে এবং তাদের হৃদয় প্রবলভাবে স্পন্দিত হতে শুরু করে। সর্বোচ্চ সাউন্ড সিস্টেমের একটি চ্যানেলের মধ্য দিয়ে যখন তিনি অগ্নি; অগ্নি, অগ্নি বলে চিৎকার করতে শুরু করেন, তখন তার সেই রাজকীয় স্বরে শ্রোতাদের হৃদয় প্রবলভাবে স্পন্দিত হতে শুরু করে। তারা তখন আবেগে আচ্ছন্ন হয়ে যায় যেন একটি শক্তিশালী বিশ্বাস তাদের কাছে এসেছে, আর লোকদের শুনিয়ে আর্তনাদ করতে থাকে, “প্রভু যীশু আইস! ও পবিত্র আত্মা আইস!”
ঠিক এই সময়ে পালন শ্রোতাদের আরও উত্তেজিত করতে বলতে থাকেন, “আসুন প্রার্থনা করি। আমি বিশ্বাস করি যে, পবিত্র আত্মা এখন আমাদের কাছে নেমে আসছে এবং আমাদেরকে পূর্ণ করছে।” ব্যান্ডের অনুপ্রাণিত করার বাজনার তাল ও শীঘ্র এটাকে অনুসরন করে, লোকেরা তাদরে হাত উপরে উঠায়, লোকেরা প্রবল উদ্যমে হিংস্র হয়ে যায় এবং তাদের আবেগের বিস্ফোরন চরমে পৌঁছায়। ঠিক এই সেই ধরে তখন পালক বলেন, “আসুন আমরা আমাদের উৎসর্গ দান করি। এই সমস্যার সময়ে ঈশ্বর আপনার কাছ থেকে বিশেষ উপহার গ্রহণ করতে চান। আসুন আমরা সকলে আমাদের বিশেষ উপহার ঈশ্বরকে প্রদাণ করি।”
তাদের আবেগে আচ্ছন্ন হয়ে লোকরা তখন শেষ পর্যন্ত তাদের খালি করে ফেলে। এই ভ্রান্ত পালক ইতিমধ্যে এক বিশাল মঞ্চ প্রস্তুত করেছেন যা টাকা সংগ্রহ করতে যথেষ্ট বিশাল ছিল এবং এর সামনে এক ডজন বাটার ফ্রাই নেট (সংগ্রহের গামলা রেখেছিল। যখন ব্যান্ডের বাজনা শুরু হয়, আর লোকদের হৃদয় তাদের উত্তেজনার দ্বারা আচ্ছন্ন হয়, তখন তিনি বাটার ফ্লাই কালেক্টরদের (স্বেচ্ছাসেবীরা সংগ্রহের গামলাগুলো অতিক্রান্ত করে) শ্রোতাদের অভ্যন্তরে পাঠিয়ে দেন।
মিথ্যা বলার দ্বারা অর্থাৎ বেশি দান মানে বেশি আশীর্বাদ, এবং লোকদের আবেগ উত্তেজিত করার দ্বারা এই ভ্রান্ত পালকেরা লোকদের চোখের জল সেচন করতে এবং তাদের মানি ব্যাগ খুরতে প্ররোচিত করে। এটা তাদেরকে প্রত্যক্ষকরণ এবং কারণ উপলব্ধি ব্যতিরেকেই তাদের টাকায় হাত দেয়া তো এবং পরিবর্তে তাদেরকে তাদের আবেগে আচ্ছন্ন করে রাখত। এটা না ঈশ্বরের বাক্য ভিত্তিক না কোন প্রকার ধৰ্ম্মোপদেশে ভিত্তক, কিন্তু একটি গোঁড়ামী এবং অন্ধবাক্য, যা হল চুরির দিকে নিন্মাভিমূখী হওয়া। এইরূপে, নিজেদের ভবিষ্যতের লক্ষ্যে পৌঁছাতে যে সমস্ত পালকের বিশ্বাস অন্ধ, তারা লোকদের আবেগকে উত্তেজিত করে।
যদি আমরা জানি যে, আমাদের প্রভু তাঁর বাপ্তিস্মের মধ্য দিয়ে আমাদের পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন, এই যদি আমরা এই যীশু খ্রীষ্টকে আমাদের ত্রাণকর্তারূপে বিশ্বাস করি তাহলে আমরা স্থলিতপদ হব না কিন্তু শান্তিতে থাকব। যে জিনিস আমাদেরকে সম্পূর্ণভাবে আন্দোলিত করে তাহল যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের দ্বারা আমাদের পাপ তাঁর সম্বন্ধে নিয়েছেন, এবং ক্রুশারোপিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। আমরা যখন এই বিষয়ে চিন্তা করি যে, যীশু নিজেই তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন এবং এই পাপের বেতন পরিশোধ করতে মৃত্যবরণ করেছেন, আমরা বিশাল ভাবে কৃতজ্ঞ হই এবং আমাদের হৃদয় মহানন্দে ভরে ওঠে। যাহোক, আমাদের হৃদয়ে এই শান্তিপূর্ণ অনুপ্রেরণা এই পৃথিবীর যে কোন কিছুর চেয়ে তা মহত্তর; এটা ব্যতিরেকে, না কোন প্রেমের সাক্ষ্য, না এই পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান হীরা আমাকে কখনও অধিক অনুপ্রাণিত করতে পারে।
 বিপরীতে আবেগে উদীয়মান গোঁড়ামীর অনুপ্রেরণা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। যদিও তারা তারা হয়ত এই অনুপ্রেরণার মধ্যে কিছুক্ষণ বাস করে, যখন তারা প্রতিদিন পাপ করে এই এই পাপের দ্বারা অনুগ্রহ বঞ্চিত হয়, তারা লজ্জায় তাদের মুখ না লুকিয়ে পারে না। “যীশু যখন আমাদের শাস্তি বহন করেছিলেন এবং আমাদের জন্য ক্রুশে মরেছিলেন, কেন আমি এখনও প্রতিদিন পাপ করি?” সুতরাং তারা মুখ দেখাতে পারে না এবং সময়ের সাথে সাথে তারা আর অনুপ্রাণিত হতে পারে না; তারা এমন কি ঈশ্বরের সম্মুখে যেতে পারে না এর চেয়ে বেশি লজ্জার কি আছে।
এ কারণেই ঈশ্বর আমাদেরকে হোম বলির বেদি প্রদর্শন করেছেন। উৎসর্গের বলি, যা বলিদান প্রথা অনুসারে বেদিতে উৎসর্গ করা হত তা আমাদের ত্রাণকর্তা যীশু খ্রীষ্ট ছাড়া অন্য কেউ নয়। এই রূপে, হোম বলির বেদি সাক্ষ্য দেয় যে, যীশু এই জগতে এসেছিলেন এবং বস্তুত: নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূতার মধ্য দিয়ে আমাদেরকে একেবারে রক্ষা করেছেন। ঈশ্বর আমাদের এই হোম বলির বেদি দেখিয়েছেন এবং আমরা যেন এতে বিশ্বাস করে রক্ষা পাই।


এই যুগে আমাদের অবশ্য করণীয় কি?

বহু জিনিস আছে যা আমরা নূতন জন্ম প্রাপ্তরা এই যুগে অবশ্যই করব। সর্বপ্রথমে, আমাদেরকে পৃথিবী ব্যাপী জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করতে হবে যারা এখনও নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূতার সত্য সম্পর্কে অজ্ঞান তাদের কাছে আমাদেরকে অবশ্যই সত্য প্রচার করতে হবে, আর এই ভাবে তাদেরকে নরকের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে তাদেরকে অবশ্যই সাহায্য করতে হবে। কেন? কেননা বহু লোক আছে যারা এমন কি সমাগম তাম্বুতে প্রতীয়মান জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস এবং উপলব্ধি ব্যতিতই যীশুকে অনুসরন করছে।
তাদের কাছে এই সত্য প্রচার করতে হবে এখনও আমাদের বহু কিছু করার আছে। ট্রান্সলেটিং, প্রুফ রিডিং এবং প্রিন্ট করতে, ফান্ড নিশ্চিত করতে এই বইগুলো সম্পাদনা করে আমাদেরকে সারা পৃথিবীর সকল দেশে পাঠাতে হবে, সমগ্র বিশ্বের আমরা যে বই পাঠিয়েচি, বাস্তবিক বহু কাজ আছে যা আমাদের করার প্রয়োজন।
সুতরাং আমরা যখন আমাদের সহকর্মীদের এবং নেতাদের দিকে তাকাই, আমরা দেখি তারা কত ব্যস্ত। এই ভাবে সমস্ত সাধু এবং ঈশ্বরের মন্ডলীর কর্মীরা এত ব্যস্ত যে তারা শারিরীকভাবে পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কথায় আছে যে, ম্যাবাথন বানাররা যখন তাদের ৪২.১৯৫ কি:মি: কোর্সের শেষে পয়েন্টে পৌঁছায়, তখন তারা এত ক্লাত হয় যে, তারা দৌঁড়াচ্ছে না অন্য দিকে করছে তা তারা বুঝতে পারে না। সংক্ষেপে, শেষ পরিশ্রত তাদেরকে মানবিকভাবে শুণ্য করে ফেলে। সম্ভবত: আমরা জল ও আত্মার সুসমাচারে জন্য আমাদের দৌঁড়ের এই পয়েন্টে পৌছে গেছি। একজন ম্যারাথন রানার যেমন করে তেমনি বিরামহীন ভাবে জল ও আত্মার সুসমাচারের পক্ষে আমাদের জীবন-যাপন অভিষ্ট লক্ষ্যে দীর্ঘ দৌঁড়ের ন্যায়। কারণ সুসমাচারের পক্ষে আমাদের দৌড় প্রভূর আসার দিন পর্যন্ত চলবে, আমরা সকল কষ্টের মোকাবেলা করব।
কেননা যেহেতু আমাদের প্রভু আমাদের মধ্যে আছেন, যেহেতু আমাদের জল ও আত্মার সুসমাচার রয়েছে, আমাদের আস্থা বিশ্বাস করে যে, আমাদের প্রভু নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূতা দ্বারা আমাদেরকে রক্ষা করেছেন, এবং যেহেতু আমরা সবচেয়ে নিশ্চিত সত্যে বিশ্বাস করি, আমরা সকলে নূতন শক্তি লাভ করতে পারি। এর কারণ যীশু আমাদিগকে পরিত্রাণের অনুগ্রহদান প্রদান করেছেন যার জন্য আমরা এই দান লাভ করেছি। সুতরাং আমাদের কষ্ট আমাদের কোন সমস্যা করতে পারে না। পরন্তু, ধার্মিকেরা যত অসুবিধার মধ্যে পড়ে ততবেশী সবল হয়। আমি সত্যই প্রভুকে ধন্যবাদ করি।
আধ্যাত্মিকভাবে, আমাদের হৃদয়ে, আমাদের চিন্তায় এবং আমাদের পারিপার্শ্বিকতায় মধ্যে দিয়ে আমরা নূতন শক্তি অনুভব করতে পারি যা প্রভু আমাদেরকে দিয়েছেন এবং প্রভু আমাদের সাথে আছেন। কেননা আমরা অনুভব করি যে, তিনি আমাদেকে সাহায্য করেছেন এবং আমাদেরকে ধরে রেখেছেন এবং তিনি আমাদের সঙ্গে আছেন, আমরা তাঁর আরও ধন্যবাদ করি। তাই প্রেরিত পৌল বলেছেন, “যিনি আমাকে এই শক্তি তাঁহাতে আমি সকলই করতে পারি”(ফিলিপীয় ৪:১৩)। আমরা প্রতি নিয়ত স্বীকার করি যে, প্রভু যদি আমাদেরকে ক্ষমতা প্রদান না করেন, আমরা মোটেও কিছু করতে পারব না। যীশু খ্রীষ্ট শুধু আমাদের জন্য বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন না, কিন্তু ক্ৰুশরোপিত হওয়ার দ্বারা, নিজের মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার দ্বারা এবং মৃত্যু থেকে পুনরায় ওঠার দ্বারা আমাদের জন্য বলি হয়েছিলেন, আর এভাবে আমাদের সত্য ত্রাণকর্তা হয়েছেন। যখনই আমরা হোম বলির বেদির দিকে তাকাই আমরা নিজেরাই আমাদেরকে এই সত্য মনে করিয়ে দেই।
হোম বলির বেদি তৈরী হয়েছিল শিটিম কাষ্ট দিয়ে এবং ভিতরে এবং বাইবে পিত্তলে মোড়ানো। এর উচ্চতা ছিল প্রায় ১.৩৫ মিটার এবং এর দ্বার, জালের ন্যায় পিত্তলের ঝাঁঝরি ঝাঁঝরি বেদির মধ্য পর্যন্ত থাকিবে, উচ্চতা প্রায় ৬৪ সে:মি:। বলির মাংস ঝাঁঝরির উপরে রাখা হত এবং দগ্ধ করা হত।
যখন আমরা হোম বলির বেদির দিকে তাকাই, আমরা অবশ্যই নিজেরা নিজেদেরকে দেখতে সক্ষম হই। আমরা আরও দেখতে পাই যে, যীশু খ্রীষ্ট তাঁর বাপ্তিস্মের মধ্য দিয়ে আমাদের পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন এবং ক্রুশে তাঁর রক্ত সেচনের দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপের দন্ড তিনি বহন করেছেন। সত্যিই আপনি এবং আমি আমাদের পাপ এবং দন্ডের কারণে ঈশ্বরের সাক্ষাতে মৃত্যুকে এড়াতে পারতাম না। আমাদের পাপ এবং দন্ডের কারণে আপনি এবং আমি অবশ্যই মরতাম এবং চির অভিশপ্ত হতাম কিন্তু যীশু খ্রীষ্টের কারণে, যিনি প্রায়শ্চিত্ত অনন্ত উৎসর্গ হিসাবে এই জগতে এসেছিলেন, বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন,মৃত্যুবরণ করেছিলেন, আমাদের জন্য সব কিছু সাধন করেছিলেন, ঠিক পুরাতন নিয়মে উৎসর্গের বলির মত, তাই আমরা রক্ষা পেয়েছি।
 একটা বলির পশু যখন জীবিত থাকে, তখন খুব সুন্দর দেখায় এবং অতি আদরের হয়; হস্তার্পণের মাধ্যমে সেটার উপরে পাপ অর্পণ করার পরে টোকে যখন জবাই করা হয়, যখন রক্তপাত হয়, তখন কি ভয়ঙ্কর না দেখায়! আমরা যারা এই রকম ভয়ঙ্করভাবে মৃত্যুর যোগ্য ছিলাম, আমরা আমাদের শাস্তি থেকে মুক্ত হয়েছি, এটা সত্যিই একটা মহা অনুগ্রহ। এই অনুগ্রহ সম্ভব হয়েছিল যেহেতু প্রভু আমাদেরকে পরিত্রাণের অনুগ্রহ প্রদান করেছেন। ঠিক যেমন নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মিহি মসীনা সূতায় প্রতীয়মান হয়েছে, যীশু খ্রীষ্ট মানুষের দেহে এই জগতে এসেছিলেন এবং তাঁর বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশীয় রক্তের মধ্য দিয়ে আমাদেরকে রক্ষা করেছিলেন, আর এভাবে আমাদেরকে পরিত্রাণের সত্য অনুগ্রহ প্রদান করেছিলেন। ঈশ্বর এভাবেই আপনাকে এবং আমাকে পরিত্রাণের অনুগ্রহ প্রদান করেছিলেন-আপনি এটা হৃদয়ে বিশ্বাস করেন? আপনি কি এই পরিত্রাণের অনুগ্রহ দান, যীশুর প্রেমে বিশ্বাস করেন? আমাদের সকলকে অবশ্যই এই বিশ্বাস থাকতে হবে।
যখন আমরা হোম বলির বেদির দিকে তাকাই, আমাদেরকে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে, যীশু খ্রীষ্ট এই পন্থায় আমাদেরকে রক্ষা করেছেন। তিনি আমাদেরকে পরিত্রাণের অনুগ্রহ প্রদান করতে এই ভাবে বলি হয়েছিলেন। উৎসর্গের বলির উপরে যেমনিভাবে হস্তার্পণ করা হত এবং এই উৎসর্গের বলির যেভাবে রক্ত পাতে মৃত্যু, যীশুও এই প্রণালীতে বলি হওয়ার দ্বারা আমাদের পরিত্রাণ প্রদান করেছেন। এভাবেই তিনি আমাদেরকে আমাদের পাপ থেকে রক্ষা করেছেন। আমাদেরকে অবশ্যই এটা উপলব্ধি করতে হবে, ঈশ্বরের সাক্ষাতে আমাদের হৃদয়ে বিশ্বাস করতে হবে এবং আমাদের সর্বান্তকরণে তাঁকে ধন্যবাদ প্রদান করতে হবে।
ঈশ্বর চান আমাদের যা প্রদান করেছেন, পরিত্রাণের অনুগ্রহ দান ও প্রেম, তা আমরা বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে গ্রহণ করি। তিনি চান ক্রুশীয় রক্ত এবং বাপ্তিস্মের পরিত্রাণ আমরা হৃদয়ে বিশ্বাস করি, যা জল ও আত্মার মধ্য দিয়ে আসার দ্বারা তিনি সাধন করেছেন। এটা আমার প্রত্যাশা যে, আপনা সকল হৃদয়ে আমাদের প্রভুর প্রেমে বিশ্বাস করুন এবং সত্যিকারভাবে পরিত্রাণের অনুগ্রহ দান গ্রহণ করুন। আপনি কি সত্যিই এটা আপনার হৃদয়ে গ্রহণ করেছেন? 


কে আমাদের জন্য এইমত বলি হয়েছিলেন?

একদা আমি একটি লিফলেট দেখেছিলাম যাতে সাক্ষ্য দেয়া হয়েছিল, “কে আপনার নিমিত্ত মরবে? কার সাথে আপনি সাক্ষাত করেছেন যে, আপনাকে যন্ত্রনা থেকে মুক্তি দেবে? যীশু খ্রীষ্ট আমাদরে নিমিত্ত বলি হয়েছিলেন। এর দ্বারা কি আপনার হৃদয় যন্ত্রনামুক্ত হয় না?” প্রকৃত পক্ষে কে আপনার পাপের জন্য আপনার স্থলে বাপ্তাইজিত এবং ক্রুশে মরার দ্বারা পাপ মুছে দিয়েছেন এবং পাপ বহন করবে? কে আপনাকে তার প্রেম প্রদান করতে তার (নারী/ পুরুষ) সমস্ত রক্ত সেচন করবে এবং মৃত্যুবরণ করবে? কে আপনার নিমিত্ত এই বলির মুখোমুখি সর্বদা স্বেচ্ছায় আগ্রহী? এটা কি আপনার আত্মীয়রা? আপনার সন্তান? আপনার পিতামাতা?
তাদের কেউই না! এটা ঈশ্বর নিজেই যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। আপনাকে আপনার পাপ থেকে রক্ষা করতে এই ঈশ্বর মানব দেহে এই জগতে এসেছিলেন, আপনার পাপ নিজের উপরে তুলে নিতে বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, আপনার পাপের দন্ড বহন করতে ক্রুশারোপিত হয়েছিলেন এবং তাঁর রক্ত সেচন করেছিলেন, আপনার সৎ ত্রাণকর্তা হয়েছেন, পুনরায় মৃত্যু থেকে উঠেছেন, এমন কি এখনও জীবিত আছেন, আর দান হিসাবে প্রেম এবং তাঁর পরিত্রাণ আপনাকে প্রদান করেছেন। আপনি কি সত্যই আপনার হৃদয়ে এই প্রেমের পরিত্রাণ গ্রহণ করতে চান? আপনি কি প্রকৃতই আপনার হৃদয়ে বিশ্বাস করেন?
 যারাই বিশ্বাস করবে তারাই প্রভুকে গ্রহণ করবে, এবং যারা তাঁকে গ্রহণ করতে তারাই রক্ষা পাবে। তাঁকে গ্রহণ করা অর্থ প্রেম এবং পরিত্রাণ গ্রহণ করা যা খ্রীষ্ট আমাদের জন্য প্রদান করেছেন। এই প্রেম, পাপমুক্তি, পাপ বহন এবং এই পাপের দন্ড আমাদের হৃদয়ে বিশ্বাসের দ্বারা আমার রক্ষা পাই এটাই সেই বিশ্বাস, যা পরিত্রাণের অনুগ্ৰহদান লাভ করে।
সমাগম তাম্বুর সমস্ত কিছুই যীশু খ্রীষ্টকে প্রকাশ করে। ঈশ্বর আমাদের থেকে কোন বলিদান চান নাই। তিনি আমাদের কাছে যা কিছু চেয়েছেন তা হল তিনি আমাদের অন্তরে পরিত্রাণের অনুগ্রহ প্রদান করেছেন আমরা তাতে বিশ্বাস করি। “তোমাতে আমি পরিত্রাণের অনুগ্রহ প্রদান করতে এই জগতে এসেছিলাম। পুরাতন নিয়মের উৎসর্গের বলির ন্যায় হস্তার্পণের মধ্য দিয়ে তোমার সমস্ত পাপ আমাতে গ্রহন করেছি এবং এই উৎসর্গের বলি বহন করেছি। এভাবেই আমি তোমাকে রক্ষা করেছি।” সমাগম তাম্বুর মধ্য দিয়ে ঈশ্বর আমাদেরকে যা বলেছেন এটা তাই।
ঈশ্বর যে আমাদেরকে এভাবে রক্ষা করেছেন, এত বেশি প্রেম করেছেন এবং এই রকম যথাযথভাবে পরিত্রাণের অনুগ্রহ প্রদান করেছেন, যদি আমরা বিশ্বাস করি কোন লাভ নেই, সবই কর্মহনী। সুপ সুস্বাদু করতে আপনাকে অবশ্যই প্রথমেই কেবিনেটে রাখা লবন তাতে দিতে হবে; তেমনি যদি আপনি এবং আমি হৃদয়ে বিশ্বাস না করি, এমন কি তাঁর যথার্থ পরিত্রাণও সম্পূর্ণভাবে কার্যহীন হয়ে যায় যদি আমরা তাঁর জল ও আত্মার সুসমাচারের জন্য হৃদয়ে তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ না হই এবং হৃদয়ে এটা গ্রহণ না করি, তাহলে যীশুর বলি মূল্যহীন হয়ে যায়।
আপনি যখন জানবেন ত্রাণকর্তা ঈশ্বর আপনাকে যা প্রদান করেছেন সেই প্রেম এবং বলি কি, আপনার হৃদয়ে গ্রহণ করবেন এবং এই গুলোর জন্য তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ হবেন তখনই খ্রীষ্টের পরিত্রাণের যথার্থ অনুগ্রহ দান গ্রহণ না করেন, কিন্তু শুধু নিজের মাথায় এটা বোঝন, তাহলে এটা সম্পূর্ণভাবে কর্মহীন।


আপনাকে যা করতে হবে তাহল শুধু সত্যকে আকড়িয়ে
ধরতে হবে

স্টোভের উপরে আপনার সুপ কতটুকু গরম হল সেটা কোন ব্যাপান নয়, যদি শুধু আপনি চিন্তা করেন যে, আপনি লবন দিতে যাবেন এবং তথাপি আসলেই তেমনটি না করেন, আপনার সুপ লবনযুক্ত হবে না। আপনি শুধু তখনই রক্ষা পাবেন যখনই আপনি আপনার হৃদয়ে গ্রহণ এবং বিশ্বাস করেন যে, প্রভু আমাদের জন্য বাপ্তাইজিত এবং বলি হওয়ার দ্বারা আপনাকে আপনার পাপ থেকে রক্ষা করেছেন, ঠিক যেমন হোম বলির বেদির উৎসর্গের বলি বলিকৃত হয়েছিল। ঈশ্বর যখন আপনাকে পরিত্রাণের অনুগ্রহ দান প্রদান করেছেন, আপনি যখন আমাদেরকে বলছেন যে, তিনি আমাদেরকে করতে হবে তাহল সেটা স্বাভাবিকভাবে বিশ্বাস করতে হবে।
ঈশ্বর যে প্রেম আপনাকে প্রদান করেছেন, তা কি শিথিল উদ্যম? অবশ্যই না! প্রভুর প্রেম যথার্থ। অন্য কথায়, আমাদের প্রভু আপনাকে এবং আমাকে যথার্থ এবং সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করেছেন। কারণ নিশ্চিত করার জন্য তিনি তাঁর ক্রুশের মৃত্যুর এবং বাপ্তিস্মের দ্বারা যথাযথভাবে আমাদের পাপ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন, এই প্রেম সম্পর্কে আমাদের আর কোন সন্দেহ থাকতে পারে না। তিনি এই যথার্থভাবে আমাদেরকে রক্ষা করেছেন এবং পরিত্রাণের অনুগ্রহ দান প্রদান করেছেন। আমাদের সকলকে অবশ্যই ঈশ্বর যে পরিত্রাণের অনুগ্রহ দান প্রদান করেছেন তা গ্রহন করতে
ধরুন, একমুহূর্তের জন্য আমি সবচেয়ে মূল্যবান রত্ন দিয়ে তৈরী একটি মূল্যবান গহনা পরেছি। যদি এটা আমি আপনাকে উপহার হিসাবে দান করি। আপনাকে যা করতে হবে তা হল, সহজাত প্রবৃত্তি হিসাবে এটাকে গ্রহণ করতে হবে। এটাই কি ঘটনা নয়? আপনাকে এটা নিজের করে নিতে কত স্বাভাবিক এবং সহজ কাজ? এই গহনা আপনার করে নিতে আপনাকে যা করতে হবে তা হল শুধু পৌঁছাতে হবে এবং আঁকড়িয়ে ধরতে হবে। এটা তাই। 
যদি শুধু আপনি আপনার হৃদয় খুলে দেন এবং যীশুর বাপ্তিস্মের মধ্য দিয়ে সমস্ত পাপ তাঁতে অপর্ণ করেন, আপনারা সকলে সহজেই আপনাদের পাপের মোচন লাভ করতে পারেন এবং আপনাদের জন্য হৃদয় পূর্ণ করতে পারেন। এই কারণে ঈশ্বর বলেছেন যে, তিনি বিনামূল্যের দান হিসাবে আমাদেরকে পরিত্রাণ প্রদান করবেন। শুধুমাত্র পৌঁছানো এবং এটাকে আঁকড়িয়ে ধরার দ্বারাই পরিত্রান আপনার হতে পারে।
 একটি সেন্ট পরিশোধ ছাড়াই আমরা দান হিসাবে আমাদের পরিত্রাণ লাভ করেছি। যারা এটা গ্রহণ করতে চায় ঈশ্বর তাদের এই দান দিতে সন্তুষ্ট হন, যারা কৃতজ্ঞপূর্ণভাবে এটাকে গ্রহণ করেছে তারা আশীর্বাদযুক্ত। যারা ঈশ্বরের প্রেম আনন্দে গ্রহণ করে, তারা তাঁর প্রেমে আবৃত, আর তারা এমন যারা এই দাতাকে ভালবাসেন এটা গ্রহণের দ্বারা তারা তাঁর হৃদয়কে সন্তুষ্ট করছে। এই গ্রহণ করাই সঠিক কাজ। ঈশ্বর আপনাকে যে যথার্থ পরিত্রাণ প্রদান করেছেন, যখন আপনি তা গ্রহণ করেন, অর্থাৎ পরিত্রাণের সত্য দান, তখনই সেটা আপনার হতে পারে। যদি আপনি এটাকে আপনার হৃদয়ে গ্রহণ না করেন, তাহলে যত কঠিন চেষ্টা করেন না কেন, লাভ নেই, পরিত্রাণের অনুগ্রহ দান আপনার হবে না।
 আমিও এই পরিত্রাণের অনুগ্রহন দান গ্রহণ করেছি। “আহ! প্রভু আমার জন্যে এই ভাবে বাপ্তাইজিত হয়েছেন। এভাবে বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা তিনি আমার সমস্ত পাপের দন্ড বহন করেছেন। আমার নিজের নিমিত্তে তিনি চূড়ান্তভাবে বাপ্তাইজিত হয়েছেন। ধন্য প্রভু!” আমি যেটা বিশ্বাস করি এটা তা-ই। অতএব, আমি এখন ও যদি পাপের মোচন লাভ করেছি। আপনিও যদি চান, এক্ষুণি এটা গ্রহণ করুন।
তখন থেকে আমি সারাক্ষণ এই পরিত্রাণের অনুগ্রহ দানের কথা চিন্তা করছি। এমন কি এখনো পুনরায় যখন এটা সম্বন্ধে আমি ভাবি, আমি উপরব্ধি করি যে, আমি আর অন্য কিছুর জন্য নয় কিন্তু আমার পরিত্রাণের জন্য প্রভুকে ধন্যবাদ দিতে পারি। কেননা এই পরিত্রাণের প্রেম আমার হৃদয়ে রয়েছে, আমি কখনো এটা ভুলতে পারি না। যখন আমি প্রথম নীল, বেগুনে, লাল এবং পাকানো মসীনা সূতার প্রতীয়মান সত্য জল ও আত্মার সুসমাচার বিশ্বাস এবং গ্রহণ করেছিলাম, তখন আমি ঈশ্বরের নিকটে আসিম কৃতজ্ঞ হয়েছিলাম। আর এমন কি এখনও কয়েক বছর পর হয়ে যাওয়ার পরেও আমার হৃদয় একইভাবে কৃতজ্ঞতাপূর্ণ এবং আমি প্রতিদিন নবীনীকৃত হচ্ছি।
আমাকে রক্ষা করতে যীশু সত্যিকার ভাবে এই জগতে এসেছিলেন, আমার পাপ তাঁর নিজে উপরে তুলে নিতে বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, এবং আমার পাপের শাস্তি বহন করতে ক্রুশে মরেছিলন। যখন আমি উপলব্ধি করেছিলাম যে, এই সমস্ত জিনিস তিনি আমার জন্যেই করেছিলেন, সাথে আমি সেগুলোকে গ্রহন করেছিলাম এবং আমার করে নিয়েছিলাম। সর্বক্ষণ আমি উপলব্ধি করি যে, এটা সর্বোত্তম জিনিস যা আমি আমার সারা জীবনে কখনো করি না, সবচেয়ে বিজ্ঞতার এবং বুদ্ধিমানের কাজ। অতএব, আমি বিশ্বাস করি যে, প্রভু সত্যই আমাকে ভালবাসেন এবং আমার তত্ত্ববধান করেন এবং আরও বিশ্বাস করি এবং স্বীকার করি যে, তিনি এই সমস্ত জিনিস করেছেন কারণ তিনি আমাকে ভালবেসেছেন। “প্রভু, আমার সমস্ত কৃতজ্ঞতা আমি তোমাকে প্রদান করি। তুমি যেভাবে আমাকে ভালবেসেছ, তেমনি আমি তোমাকে ভালবাসি।” নূতন জন্ম প্রাপ্তদের জন্য এই ভাবে স্বীকার করা মহা আনন্দে।
আমাদের প্রভুর প্রেম চির অপরিবর্তনীয়। আমাদের জন্য তাঁর প্রেম যেমন চির অপরিবর্তনীয় তেমনি তাঁর জন্য ও আমাদের প্রেম কখনও পরিবর্তীত হতে পারে না। সময়তে যখন দুঃখভোগ করি এবং দূর্দশার মুখোমুখি হই, আমাদের হৃদয় হয়তো ঘুরে বিপথে চলে যায় আর আমরা হয়তো এই প্রেম অস্বীকার করি এবং ভুলে যেতে ইচ্ছা করি। কিন্তু এমন কি যখন আমরা বেদনায় নিমজ্জিত হই এবং আমাদের সচেতনতায় আমাদেরকে ব্যর্থ করে দেয় এবং যখন আমরা যা কিছু চিন্তা করি তা আমাদের নিজেদের ব্যথা হয়, তখনও ঈশ্বর বিশ্বস্ত ভাবে আমাদেরকে ধরে রাখেন যাতে আমাদের হৃদয় কখনও তাঁর প্রেম ভুলে না যায়।
ঈশ্বর আমাদিগকে অনন্ত প্রেম করেন। যীশু আমাদের নিমিত্ত একটি সৃষ্টি হিসাবে এই জগতে এসেছিলেন, কারণ তিনি তাঁর নিজের মৃত্যু পর্যন্ত আমাদেরকে প্রেম করেছিলেন। এখন আমি আপনাকে আপনার নিজের জন্য ঈশ্বরের প্রেমে বিশ্বাস করতে স্বর্ণির্বন্ধ অনুরোদ করছি। আর এটা আপনাদের হৃদয়ে গ্রহণ করুন। আপনি কি এখন বিশ্বাস করেন?
আমি প্রভুকে তাঁর প্রেমের দ্বারা আমাদেরকে আমাদের পাপ থেকে যথার্থভাবে রক্ষা করার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।