Sermons

[11-10] < যাত্রাপুস্তক ৩০:১৭-২১> প্রক্ষালন পাত্রের মাধ্যমে প্রকাশিত বিশ্বাস



< যাত্রাপুস্তক ৩০:১৭-২১> 

“আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি প্রক্ষালন কাৰ্য্যের জন্য পিত্তলময় এক প্রক্ষালন-পাত্র ও তাহার পিত্তলময় খুরা প্রস্তুত করিবে; এবং সমাগম-তাম্বুর ও বেদির মধ্যস্থানে রাখিবে, ও তাহার মধ্যে জল দিবে। হারোণ ও তার পুত্রগণ তাহাতে আপন আপন হস্ত ও পদ ধৌত করিবে। তাহারা যেন না মরে, এই জন্য সমাগম-তাম্বুতে প্রবেশ কালে জলে আপনাদিগকে ধৌত করিবে; কিম্বা পরিচৰ্য্যা করাণার্থে, সদাপ্রভুর উদ্দেশ্যে অগ্নিকৃত উপহার দন্ধ করণার্থে বেদির নিকটে আগমন কালে আপন আপন হস্ত ও পদ ধৌত করিবে, তাহারা যেন মরে, এই জন্য করিবে; ইহা আপনাদের পক্ষে চিরস্থায়ী বিধি, পুরুষানুক্রমে হারোণ ও তাহার বংশের নিমিত্ত।”



সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের প্রক্ষালন পাত্র


 উপাদানঃ পিতলের তৈরী, সবসময়ে জল দ্বারা পরিপূর্ণ থাকত। 

 আত্মিক অর্থঃ পিতল মানে মানুষের বিচারের নিদর্শন। সমগ্র মানব জাতির পাপের ভার যোহনের দ্বারা বাপ্তাইজিত হওয়ার মাধ্যমে যীশু নিজের উপরে তুলে নিয়ে নিজে দোষীকৃত হলেন। ঠিক তেমনি ভাবে প্রক্ষালন পাত্রে অর্থও হল এই যে, আমরা এর জল দ্বারা ধৌত হয়ে পাপ থেকে পরিষ্কৃত হতে পারি, যেমন যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে জগতের সমস্ত পাপ তাঁর উপরে অর্পিত হয়েছিল।

যেসব যাজকেরা সমাগম তাম্বুর দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা সমাগম তাম্বুতে প্রবেশ করার পূর্বে প্রক্ষালন পাত্রের জল দ্বারা নিজেদের হাত এবং পা ধৌত করতেন এবং এভাবে নিজেদের মৃত্যুকে এড়িয়ে যেতেন। পিত্তল হল পাপের বিচার দন্ডের প্রতীক এবং প্রক্ষালন পাত্রের জল হল যীশুর বাপ্তিস্মের নিদর্শন, যা তিনি জগতের মানুষের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নেওয়ার জন্য যোহন বাপ্তাইজকের মাধ্যমে যর্দ্দন নদীতে গ্রহণ করেছিলেন। অন্য কথায়, প্রক্ষালন পাত্র দ্বারা আমরা বুঝতে পারি যে, যীশু নিজের উপরে সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছিলেন এবং সেই পাপের বিচার দন্ডও তিনি মেনে নিয়েছিলেন। প্রক্ষালন পাত্রের জলের অর্থ হল,- পুরাতন নিয়মে সমাগম তাম্বুর নীল সূতা এবং নূতন নিয়মে যোহনের দ্বারা যীশুর বাপ্তিস্ম (মথি ৩:১৫, ১পিতর ৩:২১)।

সুতরাং প্রক্ষালন পাত্র দ্বারা যীশুর বাপ্তিস্মকে বুঝানো হয়েছে, এবং এই স্থানেই আমরা দৃঢ় নিশ্চিত হই যে, আমাদের আসল পাপ সহ যীশু আমাদের সমস্ত পাপ বহন করেছেন এবং ২০০০ বছরেরও অধিক সময় আগে যোহন বাপ্তাইজক দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে তিনি সেই সমস্ত পাপ ধৌত করেছেন।

 যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের মাধ্যমে ধার্মিক হয়েছেন, জগতে এমন ধার্মিক ব্যক্তি রয়েছেন। নীল, বেগুনে, লাল সূতা এবং মিহি মসীনা সূতার মাধ্যমে প্রকাশিত যীশুর সাধিত কাজে বিশ্বাসের মাধ্যমে এঁরা পাপের ক্ষমা পেয়ে পরিত্রাণ লাভ করেছেন। যাহোক, যদিও ধার্মিকেরা পাপ থেকে উদ্ধার পেয়েছেন, তবুও মাংসিক দেহের জন্যে তা যথেষ্ট নয়, তারা প্রতিদিন পাপ না করে পারে না এবং এই সব পাপকে বলা হচ্ছে আসল পাপ। এই সব ধার্মিকেরা যে স্থানে এসে তাদের আসল পাপের সমস্যার সমাধান খুঁজে পেয়েছেন তা হল এই প্রক্ষালন পাত্র। যখনই ধার্মিকেরা কোন আসল পাপ করেন, তারা সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের প্রক্ষালন পাত্রের কাছে আসেন এবং তাদের হাত এবং পাপ ধৌত করেন, যার দ্বারা তারা নিশ্চিত করেন যে, যীশু ইতিমধ্যেই তাদের আসল পাপ ক্ষমা করেছেন এবং ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাসের মাধ্যমেও তারা তা নিশ্চিত করছেন।

বাইবেলে কোন স্থানে জলকে ঈশ্বরের বাক্যের সাথেও তুলনা করা হয়েছে, কিন্তু এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থ হল যীশুর বাপ্তিস্ম। ইফিষীয় ৫:২৬ পদে আছে, “যেন তিনি জলস্নান দ্বারা বাক্যে তাহাকে শুচি করিয়া পবিত্র করেন,” এবং যোহন ১৫:৩ পদে বলে, “আমি তোমাদিগকে যে বাক্য বলিয়াছি, তপ্রযুক্ত তোমরা এখন পরিষ্কৃত আছ।” যে সব সাধুগণ পাপের ক্ষমা পেয়েছেন, তাদের জন্য প্রক্ষালন পাত্র এই প্রমাণ বহন করে যে, মাংসে তারা যত দূর্বল হোক না কেন, প্রভু জল দ্বারা তাদের সমস্ত পাপ ক্ষমা করেছেন।

 ১ পিতর ৩:২১ এবং ২২ পদে আছে, “আর এখন উহার প্রতিরূপ বাপ্তিস্ম অর্থাৎ মাংসের মালিন্যত্যাগ নয়, কিন্তু ঈশ্বরের নিকটে সৎসংবেদের নিবেদন- তাহাই যীশু খ্রীষ্টে পুনরুত্থান দ্বারা তোমাদিগকে পরিত্রাণ করে। তিনি স্বর্গে গমন করিয়া ঈশ্বরের দক্ষিণে আছেন; দূতগণ ও কর্ত্তৃত্ব সকল ও পরাক্রম সমূহ তাঁহার বশিভুত হইয়াছে।” এই কথাগুলোর ঠিক আগেই পিতর নোহের সময়ের জলের আত্মিক ব্যাখ্যা করেছেন। নোহ যদিও পাপীদের সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু তাদের আত্মা পাপে বন্দি হয়েছিল, প্লাবণের জল দ্বারা প্রথম পৃথিবীর সমস্ত নোংরামী ধৌত হয়ে গিয়েছিল, কেবল ৮টি প্রাণী রক্ষা পেয়েছিল। যারা ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করেনি, জল প্লাবনের সময় সেই সমস্ত প্রাণী ধংস হয়ে গিয়েছিল। এবং এখন পিতর প্রকাশ করছেন যে, জল প্লবনের ঘটনা যীশুর বাপ্তিস্মের জলের প্রতিরূপ। যেমন প্রক্ষালন পাত্র হচ্ছে সেই স্থান যেখানে আমরা আর একবার ঈশ্বরের সম্মুখে আমাদের পরিত্রাণকে দৃঢ় করতে পারি।

যে সাধু ব্যক্তিরা বিশ্বাসের মাধ্যমে পাপ থেকে পরিত্রাণ পেয়েছে তারা প্রক্ষালন পাত্রের জলে (যীশুর বাপ্তিস্মে), পিত্তলে (সমস্ত পাপের জন্য ঈশ্বরে বিচারে) বিশ্বাসের মাধ্যমে এবং যীশুর যে তাদেরকে সমস্ত পাপ থেকে উদ্ধার করেছেন সেই সত্যে বিশ্বাসের মাধ্যমে তারা তাদের পাপ থেকে মুক্ত হয়েছে। যদিও আমরা দূর্বলতা এবং অধর্ম দ্বারা এতটাই পরিপূর্ণ যে, নিজেদেরকে আমরা ধার্মিক বলার যোগ্যতা রাখি না, কিন্তু আমরা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি যে, যীশুর বাপ্তিস্মে (পাপভার বহন, জল) এবং তাঁর ক্রুশীয় রক্তে (পাপের শাস্তি, পিত্তল) প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হয়ে আমরা সম্পূর্ণরূপে ধার্মিক হয়েছি। কারণ আমরা ঈশ্বরের এই বাক্যে বিশ্বাস করি যে বাক্য আমাদেরকে সমস্ত পাপ এবং পাপের শাস্তি থেকে পরিত্রাণ করেছে, যার মাধ্যমে আমরা পাপ থেকে মুক্ত হয়ে আমরা ধার্মিক হতে পারি।

 ঈশ্বরের যে বাক্যে আমরা বিশ্বাস করি, সেই বাক্য বলে যে, যোহনের কাছে বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে এবং আমাদের স্থলে ক্রুশে বিচারিত হয়ে রক্ত সেচনের মাধ্যমে তিনি আমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পাপ থেকে মুক্ত করেছেন। ঈশ্বর সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণে এই কারণে প্রাক্ষলন পাত্র স্থাপন করেছেন যেন যে কোন পরিস্থিতিতেই আমরা আমাদের বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করতে পারি, যারা প্রকৃতরূপে পাপ থেকে উদ্ধার পেয়েছি।



সমস্ত আসল পাপ থেকে আপনি কি চিরকালের জন্য 

সত্যিই মুক্তি পেয়েছেন?


শিষ্যদের সাথে নিস্তার পর্বের সময়ে রুটি ও পানপাত্র গ্রহণের সময় যীশু তাঁর ক্রুশীয় মৃত্যুর পূর্বে পিতর ও যোহনের পা জল দ্বারা ধৌত করতে চেয়েছিলেন। কারণ ইতিপূর্বেই যোহনের কাছে বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে যীশু তাঁর শিষ্যদের পাপ তুলে নিয়েছিলেন, তিনি তাদের প্রক্ষালন পাত্রের সত্য সম্পর্কে শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন। যীশু তাদের বলেছিলেন যে, বাপ্তাইজিত হওয়ার মাধ্যমে তিনি নিস্তার পর্বের মেষমাবক হিসাবে গাছে টাঙ্গানোর মাধ্যমে তাদের পাপের মূল্য (মৃত্যু) পরিশোধ করলেন। যেন যীশুর বার জন শিষ্য মাংসে দূর্বল হলেও পুনরায় পাপী না হয়।

একই ভাবে যীশু তাদের পাপ ধুয়ে দিলেন যেন সত্যের বাক্য প্রচারিত হয় যে, যীশু তাদের জগতের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন। এই ভাবেই শিষ্যেরা সব সময়ে জগতের লোকেরা কাছে প্রচার করতেন যে, যীশুই ত্রাণকর্তা এবং জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করতেন যা তিনি আগেই সাধন করেছেন (ইব্রীয় ১০: ১-২০)। এই ভাবে প্রক্ষালন পাত্র পাপীদেরকে এই নিশ্চয়তা দেয় যে, যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস করার মাধ্যমে তারা পাপ থেকে পরিত্রাণ পায়। ঈশ্বরের দেওয়া পাপ মুক্তির পরিত্রাণের দৃঢ়তাও এর দ্বারা পাওয়া যায়।



প্রক্ষালন পাত্রের আকৃতি সম্বন্ধে বাইবেলে কিছু লেখা নাই


সমাগম তাম্বুর প্রতিটি জিনিসের আকৃতির বর্ণনা থাকলেও প্রক্ষালন পাত্রের বর্ণনা দেওয়া হয়নি। এর দ্বারা আমরা এটাই বুঝতে পারি যে, ঈশ্বরের পুত্র প্রভু যীশু খ্রীষ্ট তাঁর উপরে জগতের সমস্ত পাপভার তুলে নিয়ে যে মহা কাজ করেছেন, তার মহত্বের সীমা নেই। এর দ্বারা আমরা আরও বুঝতে পারি যে, যে প্রেম দ্বারা প্রভু আমাদের সমস্ত পাপ এবং বিচার থেকে মুক্ত করেছেন, তার কোন সীমা নেই। প্রক্ষালন পাত্র ঈশ্বরের অপরিসীম প্রেম প্রকাশক করে। মানুষ সারা জীবন পাপ না করে পারে না। কিন্তু যোহন বাপ্তাইজকের কাছে বাপ্তিস্ম নেওয়ার মাধ্যমে যীশু নিজের উপরে জগতের মানুষের সমস্ত পাপ তুলে নিলেন এবং ক্রুশ বিদ্ধ হয়ে রক্ত সেচন করলেন এবং এই ভাবে তিনি আমাদের সমস্ত পাপ চিরকালের জন্য মুছে দিলেন। 

যে স্ত্রীলোকেরা সমাগম তাম্বুর দেখা শুনা করত (যাত্রাপুস্তক ৩৮:৮), তাদের দর্পণ ছিল গলানো পিত্তলের তৈরী এবং সেই গলানো পিত্তলের দর্পণ দ্বারাই প্রক্ষালন পাত্র তৈরী হয়েছিল। এর অর্থ এই যে, ঈশ্বরের বাক্যের আলোতে পাপীরা পরিত্রাণের আলো দ্বারা আলোকিত হয় এবং তাদের পাপান্ধকার দূর হয়ে যায়। আমাদেরকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, ঈশ্বর নিজেই আমাদের পাপ ধুয়ে দিবেন বলে প্রক্ষালন পাত্র তৈরী করেছিলেন। এই সত্যের বাক্য এতটা উজ্জল যে, তা পাপীর হৃদয়ের গভীরের পাপ আলোতে প্রকাশ করে এবং ধুয়ে দেয়, পাপের ক্ষমা দান করার মাধ্যমে তাদেরকে ধার্মিক করে। অন্যকথায়, প্রক্ষালন পাত্র এই সত্য প্রকাশ করে যে, যীশু খ্রীষ্ট ঈশ্বরের বাক্যের মাধ্যমে পাপীদেরকে সম্পূর্ণরূপে পাপ থেকে মুক্ত করেন।



প্রক্ষালন পাত্রও পিত্তলের তৈরী ছিল


যে পিত্তল দ্বারা প্রক্ষালন পাত্র তৈরী ছিল, আপনি তার বৈশিষ্ট্য জানেন? পাপের কারণে যে বিচার দন্ড আমাদের ভোগ করার কথা ছিল, এই পিত্তল সেই বিচার দন্ডেরই প্রতীক। আরও স্পষ্ট ভাবে বলতে গেলে, বাপ্তিস্মের মাধ্যমে যীশু আমাদের সমস্ত পাপ বহন করে ক্রুশে গেলেন এবং আমাদের স্থলে শাস্তি ভোগ করলেন। আমাদের পাপের জন্য আমাদেরকেই শাস্তি ভোগ করার কথা, কিন্তু প্রক্ষালন পাত্রের জলের মাধ্যমে আমরা আর একবার নিশ্চিত হতে পারি যে, আমাদের সমস্ত পাপ ধৌত হয়ে পরিষ্কৃত হয়ে গেছে। যারা এই সত্যে বিশ্বাস করে, বিশ্বাসে তাদের বিচার হয়ে গিয়েছে, তারা আর বিচারের অধীনে নয়।

প্রক্ষালন পাত্র জলে পরিপূর্ণ ছিল, এর দ্বারা বলা হচ্ছে, “নীল, বেগুনে, লাল এবং মিহি মসীনা সূতা দ্বারা যীশু তোমার সমস্ত পাপ পরিষ্কার দিয়েছেন এবং তুমি সম্পূর্ণরূপে পরিত্রাণ পেয়েছ। তিনি তোমাকে ধৌত করেছেন।” অন্য কথায়, প্রক্ষালন পাত্র দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, পাপীরা তাদের পাপ থেকে ধৌত হয়ে পরিত্রাণের দ্বারা ধার্মিক গণিত হয়েছে।

 হোম বলির বেদি পাপের শাস্তি নিদর্শন, প্রক্ষালন পাত্র সমাগম তাম্বুর নীল সূতার সাথে সম্পর্ক যুক্ত যা আমাদেরকে বলে যে, নূতন নিয়মে বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে যীশু নিজের উপরে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন।

কেবল মাত্র তখনই আমরা পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারি, যখন আমরা ফটকের মাধ্যমে সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারি, হোম বলির বেদি এবং তারপর প্রক্ষালন পাত্র অতিক্রম করতে পারি। ঈশ্বরের আবাস সমাগম তাম্বুতে কেবলমাত্র তারাই প্রবেশ করতে পারে, যারা বিশ্বাসে হোম বলির বেদি এবং প্রক্ষালন পাত্র অতিক্রম করতে পারে। সমাগম তাম্বুর বহিঃপ্রাঙ্গণে অবস্থিত প্রক্ষালন পাত্রে প্রকাশিত সত্যে বিশ্বাসের মাধ্যমে কেবলমাত্র পবিত্র স্থানে প্রবেশ করা যায়।

কেউ যদি নিজের শক্তিতে পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে চায়, তবে পবিত্র স্থানের আগুন বেড়িয়ে এসে সেই ব্যক্তিকে পুড়িয়ে ধংস করে দেবে। এমন কি হারোণের পুত্রেরাও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না, তারাও মারা পড়েছিলেন (লেবীয় পুস্তক ১০: ১-২)। যারা ঈশ্বরের ধার্মিকতা সম্পর্কে অজ্ঞ, যারা এই সত্যকে অবহেলা করে পাপ ও বিচারের অধিনে রয়েছে, তারা তাদের পাপের কারণে মরবে। যে সমস্ত লোকেরা নিজেদের ধ্যান-ধারণার মাধ্যমে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে চায়, ঈশ্বরের পরিত্রাণের পরিকল্পনা উপেক্ষা করে, তারা অবশ্যই তাদরে পাপের আগুনে শাস্তি প্রাপ্ত হবে। কারণ, তাদের পাপের শাস্তি অপরিহার্য পরিনতি নরক।

যীশু নীল, বেগুনে, লাল এবং মিহি মসীনা সূতা দ্বারা আমাদের পরিত্রাণ সাধন করেছেন, যেন আমরা পবিত্র স্থান প্রবেশ করতে পারি। আমরা সম্পূর্ণরূপে আমাদের পাপ থেকে পরিত্রাণ পেয়েছি,- এই সত্যে বিশ্বাসের মাধ্যমে কেবল তা সম্ভব। বাইবেলে বিস্তৃত ভাবে এই সত্য প্রকাশিত হয়েছে,- নীল সূতা (যীশুর বাপ্তিস্ম), লাল সূতা (যীশুর ক্রুশীয় মৃত্যু) এবং বেগুনে সূতা (ঈশ্বর স্বয়ং মানুষ হলেন)। এবং এই পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি আসলেই পাপীদেরকে, যীশুর সাধিত নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার কাজ দ্বারা তাদের পাপ এবং অধর্ম থেকে পরিত্রাণ করেছেন। 

 ১ যোহন ৫:৪ পদে বলা হয়েছে, “যে জয় জগতকে জয় করিয়াছে, তাহা এই, আমাদের বিশ্বাস।” এবং পরবর্তীতে ১০ পদে বলা হয়েছে “ঈশ্বরের পুত্রে যে বিশ্বাস করে, ঐ সাক্ষ্য তাহার অন্তরে থাকে।” পরিত্রাণের এই সাক্ষ্য বলতে কি বুঝানো হয়েছে? সেই সত্য সুসমাচারের কথা বলা হয়েছে যার মধ্যে জল, রক্ত ও আত্মা নিহিত রয়েছে, যা ঈশ্বরের পূত্রে বিশ্বাসের সাক্ষ্য দেয় (১ যোহন ৫: ৬-৮)। অন্য কথায়, একমাত্র জল ও আত্মার সুমাচারেই এই সাক্ষ্য রয়েছে যার দ্বারা পাপীদের সমস্ত পাপ ধৌত করে ঈশ্বর তাদেরকে সন্তান হওয়ার অধিকার দেন। আমাদের পাপ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া একমাত্র পথ, পবিত্র স্থানে প্রবেশ করার একমাত্র পথ, ঈশ্বরের দেওয়া জীবন খাদ্য গ্রহণ করার একমাত্র পথ এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহে প্রবেশ করার একমাত্র পথটি হল জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করা। জল ও আত্মার সুসমাচার যা আমাদের সমস্ত পাপ ধৌত করে, সেই সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা আমরা পরিত্রাণ পেয়েছি এবং ঈশ্বরের মন্ডলীতে একত্রিত হয়ে বিশ্বাসে জীবন-যাপন করছি।

 জল ও আত্মার সুসমাচারে সত্য দ্বারা আমরা মন্ডলীতে ঈশ্বরের বাক্যে পরিচর্যা পেতে পারি, এর মাধ্যমে আমরা একত্রিত হতে পারি, এবং ঈশ্বরের এমন ধার্মিক সন্তান হতে পারি যাদের প্রার্থনা ঈশ্বর শুনেন। যখন আমরা এই সত্যে বিশ্বাস করি, তখন আমরা ঈশ্বরের এমন সন্তান হতে পারি যারা নীল, বেগুনে এবং লাল, সূতার সত্যে বিশ্বাস করে, যারা তাঁর সম্মুখে অনুগ্রহের সজ্জায় সজ্জিত। ঈশ্বরের সন্তানেরা যে বিশ্বাসে জীবন-যাপন করে, তা কেবলমাত্র জল ও রক্ত ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের মাধ্যমে আসে। সমস্ত হৃদয় দিয়ে যীশু বাপ্তিস্মে রক্তসেচন ও মৃত্যুতে এবং যীশুই ঈশ্বর,- এই সত্যে বিশ্বাস করলে আমরা পাপ থেকে মুক্ত হতে পারি। যে বিশ্বাস আপনাকে ঈশ্বরের মন্ডলীতে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দেয়, তাহল নীল, বেগুনে এবং লাল সূতা এবং মিহি মসীনা সূতার বিশ্বাস।

বর্তমানে অনেকেই বলে, “আমাদের শুধু যীশুতেই বিশ্বাস করলেই চলবে, এই সব জটিলতার মধ্যে যাওয়া কেন? আসুন আমরা অনর্থক কথা-বার্তা বলে সময় নষ্ট না করি, যীশুতে বিশ্বাস করি, যেভাবে চিন্তা করব সেটাই ঠিক।” এই জাতীয় লোকেরা কাছে আমরা খ্রীষ্টিয় সমাজের সমস্যা সৃষ্টিকারী কিন্তু যেটা যথার্থ এবং স্পষ্ট তাহল কেউ যদি পাপের ক্ষমা ছাড়া যীশুকে বিশ্বাস করে সে অবশ্যই অনন্ত বিচারের সম্মুখিন হবে। জল, রক্ত আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস না করা অলীক ও ভিত্তিহীন বিশ্বাস। আসলে এটা সেই বিশ্বাস নয় যা যীশুকে ত্রাণকর্তা হিসাবে বিশ্বাস করে।

আমি যদি কোন ব্যক্তিকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে এই কথা বলি, ‘‘আমি আপনাকে বিশ্বাস করি,” তবে কি সে আমাদের সাতে একমত হবে এবং খুশি হয়ে বলবে, “এই ব্যক্তি সত্যিই আমাকে বিশ্বাস করে”? বরং সে হয়তো বলবে, “আপনি আমাকে চেনেন? আমার বোধ হয় আমি আপনাকে চিনি না।” যদি আবার তাকে বলি, “কিন্তু তবুও আপনাকে আমি বিশ্বাস করি,” এবং তার দিকে আগ্রহের দৃষ্টিতে তাকাই যেন সে ভাল বোধ করে, তাতেও সে কি সুখী হবে? বরং আরও নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে সে আমার প্রতি এমন দৃষ্টিতে তাকাবে যে, আমি তাকে পটাতে চাচ্ছি এবং তার মনকে জয় করতে চাচ্ছি।

যারা অন্ধভাবে ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে, ঈশ্বরও তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন না। আমরা যদি বলি, “ঈশ্বর, আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। যীশু পাপীদের ত্রাণকর্তা তাও আমি বিশ্বাস করি।” তারপরও আমাদের স্বীকার করতে হবে যে, যীশুই আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন এবং এই সত্যে বিশ্বাস করতে হবে। যদি আমরা বিবেচনাহীন ভাবে বা অন্ধভাবে বিশ্বাস করি, তাতে প্রমাণ হয় যে আমাদের কোন ব্যক্তিত্ব নেই এবং আমরা কখনোই পরিত্রাণ পাব না। প্রথমতঃ আমাদের এই সত্য পরিষ্কার ভাবে জানতে হবে যে, যীশু কিভাবে আমাদের পাপ দূর করলেন। যখন আমরা কাউকে বলি যে তাকে বিশ্বাস করি, তখন আমরা তার উপরে আমাদের পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করি, কারণ তার সম্বন্ধে যথেষ্ট জানার পরেই আমরা বুঝতে পারি যে, সে ব্যক্তি বিশ্বাস যোগ্য। যাকে জানি না তাকে বিশ্বাস করার অর্থ হয় মিথ্যা বলা, নয় তো আমরা বিশ্বাসঘাতকতার বোকামী করছি। ঠিক তেমনি ভাবে যখন আমরা যীশুকে বিশ্বাস করি বলে স্বীকার করছি, তখন আমাদের অবশ্যই জানতে হবে যে, কিভাবে তিনি আমাদের সমস্ত পাপ দূর করলেন। কেবলমাত্র তখনই আমরা প্রভুর মহা আশীর্বাদে পূর্ণ হতে পারব এবং ঈশ্বরের নূতন জন্ম প্রাপ্ত সন্তান হতে পারব।

নীল, বেগুনে ও লাল সূতার বিশ্বাসই প্রকৃত বিশ্বাস, যা আমাদের স্বর্গে নিয়ে যেতে পারবে। অন্য কথায়, প্রকৃত বিশ্বাস হল জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস, যার দ্বারা প্রকাশিত হয়েছে যে, আমরা জল (যীশুর বাপ্তিস্ম), রক্ত (যীশুর মৃত্যু) এবং পবিত্র আত্মায় (যীশুই ঈশ্বর) বিশ্বাস দ্বারা পাপ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। ঈশ্বরের মহা অনুগ্রহ দ্বারা তিনি আমাদের পরিত্রাণ করেছেন, এই সত্য আমাদের জানতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে। এই বিশ্বাস দ্বারাই আমরা পরিত্রাণ লাভ করতে পারি।

কোন ব্যক্তি প্রকৃত সত্য জানে কি না, তার উপরেই নির্ভর করে সেই ব্যক্তির বিশ্বাস যথার্থ কি না। কেবলমাত্র যখন আপনি হৃদয় দিয়ে জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করবেন তখনই যীশুতে প্রকৃত বিশ্বাস করতে পারবেন। এবং সেই বিশ্বাস হল এই যে, যীশুই আমাদের ত্রাণকর্তা, যিনি জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা আমাদের পরিত্রাণ করেছেন, এই বিশ্বাসই আমাদেরকে প্রকৃত পরিত্রাণ দান করেছে।



প্রক্ষালন পাত্র হল সেই পরিত্রাণের নিশ্চয়তা যার দ্বারা

আমরা সমস্ত পাপের ক্ষমা পেয়েছি


প্রক্ষালন পাত্রটি জলে পরিপূর্ণ ছিল এবং মহা পবিত্র স্থানের সামনে রাখা হয়েছিল। প্রক্ষালন পাত্র হচ্ছে সেই স্থান যেখানে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আমরা পাপের ক্ষমা পেয়েছি এবং আমাদের বিশ্বাসের নিশ্চয়তা দেয়। এটা এই নিশ্চয়তা দেয় যে, ঈশ্বর সমস্ত বিশ্বাসীদের পাপ ধৌত করেছেন। পবিত্র স্থানে সেবা কার্যেরত যাজকেরা যেমন তাদের হাত ও পায়ের ময়লা প্রক্ষালন পাত্রের জল দ্বারা ধৌত করত, যখন পাপ করত, এই ধৌত করণের মাধ্যমে পাপের ক্ষমা লাভ করত; এই ভাবে তারা পুনরায় তাদের ক্ষমার নিশ্চয়তা পেত; ঠিক তেমনি ভাবে ঈশ্বরের বাক্যের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, যীশু ইতিমধ্যেই আমাদের সমস্ত পাপ মুছে দিয়েছেন এবং ভয়ানক বিচারে বিচারিত হয়ে তিনি আমাদের জন্য প্রায়শ্চিত্ত সাধন করেছেন।

আমরা অপবিত্র হয়ে যাই, কারণ এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকাকালীন জীবনে আমরা পাপ না করে পারি না। তাহলে, আমাদেরকে অপবিত্রকারী পাপগুলো কিভাবে পরিষ্কার হতে পারে? আমরা যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাসের মাধ্যমে সেই পাপ ধৌত করতে পারি। তিনি রাজাদের রাজা, পাপীদেরকে পাপ থেকে উদ্ধার করার জন্য মানুষের বেশে ২০০০ হাজার বছর আগে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে তাদের পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছিলেন, সেই পাপের কারণে তিনি ক্রুশে তাঁর রক্ত সেচন করেছেন, এবং এই বিশ্বাসেই পাপীরা তাদের পাপের ক্ষমা পেতে পারে। যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে তাঁর নিজের উপরে সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছিলেন,- কেবলমাত্র এই বিশ্বাসেই আমাদের আদি পাপ সহ সমস্ত পাপ ধৌত হয়ে যায়। অন্য কথায়, যখন আমরা বিশ্বাস করি যে, নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার সত্য দ্বারা ঈশ্বর আমাদের সমস্ত পাপ ধৌত করেছেন, তখন আমাদের আদি পাপও ধৌত হয়ে যায়। 



যে বিশ্বাস প্রক্ষালন পাত্রের সত্য জানে, আমাদের অবশ্যই

সেই বিশ্বাস থাকা উচিত 


প্রক্ষালন পাত্রের বিশ্বাস ছাড়া আমরা ঈশ্বরের আবাস সেই পবিত্র স্থানে কখনো প্রবেশ করতে পারি না। আমাদের কাজ সব সময় যথার্থ হয় না। কারণ আমাদের দূর্বলতা রয়েছে, আমরা প্রায়ই পাপ করি। কিন্তু ঈশ্বর আমাদের যে পরিত্রাণ দিয়েছেন তা যথার্থ, কারণ তাঁর বাক্য যথার্থ। কারণ ঈশ্বর তাঁর যথার্থ পরিত্রাণ দ্বারা আমাদের অধর্ম ধৌত করেছেন, আমরা সাহসের সাথে বিশ্বাসে পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারি। প্রক্ষালণ পাত্রের মাধ্যমে না গেলে কেউই পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারে না। ২০০০ বছর আগে যীশু এই পৃথিবীতে এসে জল, রক্ত ও পবিত্র আত্মার সুসমাচার দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ মুছে দিয়েছেন,- এই সত্যে- যে সত্য নীল, বেগুনে ও লাল সুতার মাধ্যমে ভাববাণী করা হয়েছিল, সেই সত্যে বিশ্বাসের মাধ্যমেই কেবল আমরা পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারি। প্রভু আমাদের সমস্ত পাপ ইতিপূর্বেই মুছে দিয়ে আমাদেরকে পাপহীন করেছেন;- এই সত্যে বিশ্বাস না করা পর্যন্ত আমরা পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারি না। 

যদি আমরা নীল, বেগুনে ও লাল সূতার বিশ্বাস ছাড়া ঈশ্বরের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে চাই, যদি আমরা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস না করি, তাহলে আমরা ঈশ্বরের মন্ডলীর মাধ্যমে তাঁর বাক্যের বিশ্বাস দ্বারা তাঁর অনুগ্রহের সিংহাসনের সম্মুখে উপস্থিত হতে পারব না, তাঁর কাছে প্রার্থনা করতে বা তাঁর অনুগ্রহ লাভ করতে পারব না এবং তাঁর সন্তানগণের সাথে এক হতে পারব না। মন্ডলীতে ঈশ্বরের বাক্য শ্রবণ করার মাধ্যমে, সহবিশ্বাসীদের সাথে এক হয়ে আমরা জীবন-যাপন করতে পারি, যদি আমরা বিশ্বাস করি যে, নীল, বেগুনে ও লাল সূতার সত্য দ্বারা তিনি আমাদের ইতিমধ্যেই পরিত্রাণ করেছেন।

প্রক্ষালন পাত্র হল আমাদের পরিত্রাণের চূড়ান্ত নিশ্চয়তা পবিত্র স্থানের সামনে দক্ষিণ পার্শ্বে প্রক্ষালন পাত্র রাখা ছিল এবং তা জলে পরিপূর্ণ ছিল যেন যারা সুসমাচারের মাধ্যমে পাপের ক্ষমা পেয়েছে, তাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়। যারা বিশ্বাস করে, এই প্রক্ষালন পাত্র সেই সব ধার্মিকদের কলুষিত হৃদয়কে ধৌত করে। 

আসুন আমরা ১ যোহন ২:১-২ পদ পড়ি, “হে আমার বৎসেরা, তোমাদিগকে এই সকল লিখিতেছি, যেন তোমরা পাপ না কর। আর যদি কেহ পাপ করে, তবে পিতার কাছে আমাদের এক সহায় আছেন, তিনি ধার্মিক যীশু খ্রীষ্ট। আর তিনিই আমাদের পাপার্থক প্রায়শ্চিত্ত, কেবল আমাদের নয়, কিন্তু সমস্ত জগতেরও পাপার্থক।” আমেন।

আমরা যদি পাপ করি, তাহলে আমাদের একজন সহায় আছেন, তিনি ধার্মিক যীশু খ্রীষ্ট। যীশু জল দ্বারা ধার্মিকদের হৃদয় ধুয়ে পরিষ্কার করেছেন। যে দিন তিনি ক্রুশবিদ্ধ হন, তার আগের দিন, অর্থাৎ শেষ ভোজের সময়ে, শিষ্যদের সাথে একত্রি হয়ে পাত্রে জল ঢালেন এবং শিষ্যদের পা ধুয়ে দিতে লাগলেন। “যখন আমি বাপ্তাইজিত হয়েছিলাম, তার দ্বারা আমি সমস্ত পাপ, এমন কি পরবর্তীতে যে সমস্ত পাপ করবে, তাও বহন করেছিলাম এবং এই জন্য আমি তোমাদের স্থলে ক্রুশে বিচারিত হতে যাচ্ছি। আমি তোমাদের ভবিষ্যতের পাপও তুলে নিয়েছি এবং সেগুলো মুছে দিয়েছি। এবং আমি তোমাদের ত্রাণকর্তা হয়েছি।”

শেষ ভোজে শিষ্যদের পা ধোয়ানোর মাধ্যমে যীশু এই কথাই বলতে চেয়েছিলেন। পিতর যীশুর দ্বারা পা ধুতে অস্বীকার করেছিলেন, তখন তাকে যীশু বললেন, “আমি যাহা করিতেছি, তাহা তুমি এক্ষণে জান না, কিন্তু ইহার পরে বুঝিবে” (যোহন ১৩:৭)। যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে, যীশু তাদের প্রকৃত ত্রাণকর্তা হতে চেয়েছিলেন। যারা নীল, বেগুনে এবং লাল সূতার সত্যে বিশ্বাস করে, যীশু তাদের অনন্তকালীন ত্রাণকর্তা হয়েছেন।



প্রক্ষালন পাত্রের ব্যবহার


যাজকেরা যখন বলি বা উপহার উৎসর্গ করতে সমাগম তাম্বুতে প্রবেশ করতেন, তার আগে প্রক্ষালন পাত্রের জল দ্বারা তারা তাদের ময়লা ধৌত করতেন। ইস্রায়েল জাতির পাপের প্রায়শ্চিত্তের জন্য যাজকেরা যখন বলি হত্যা করতেন, রক্ত ছিটাতেন মাংস টুকরা টুকরা করতেন, তখন তাদের শরীর নোংরা হয়ে যেত এবং সেই নোংরা ধোয়ার প্রয়োজন ছিল। বলি উৎসর্গ করার সময় যখন শরীরে মাটি মেখে যেত, সেগুলো জল দ্বারা ধোয়ার প্রয়োজন ছিল এবং প্রক্ষালন পাত্রই ছিল সেই স্থান যেখানে এই সব ময়লা-নোংরা ধৌত করা হত।

 যখনই আমরা আত্মিক বা মাংসিক পাপ করি, যখন ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করে অপবিত্র হই, আমদেরকে অবশ্যই প্রক্ষালন পাত্রের জল দ্বারা ধৌত হতে হবে। যাজকদের শরীরে, তারা না চাইলেও যখনই কোন ময়লা লাগত, শরীরের সেই ময়লা অংশ জল দ্বারা দুতে হত।

তেমনি ভাবে যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃত ভাবে যখনই তারা পাপ করে বা কলুষিত হয়, তখন প্রক্ষালন পাত্রের জল দ্বারা সেই নোংরা ধুয়ে পরিষ্কার করতে হয়। সংক্ষেপে বললে, নূতন জন্ম প্রাপ্তদের আত্মিক ময়লা প্রক্ষালন পাত্রের জল দ্বারা ধৌত করতে হয়। যেহেতু, প্রক্ষালন পাত্রে ঈশ্বরের অনুগ্রহ নিহিত রয়েছে। প্রক্ষালন পাত্র এমন গৌন বিষয় নয় যে, আমরা বিশ্বাস না করলেও চলবে, কিন্তু যারা যীশুকে বিশ্বাস করে, তাদের জন্য এটা একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়।

সমাগম তাম্বুর প্রতিটি জিনিসের আকৃতি ঈশ্বর নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন, দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি প্রক্ষালন পাত্রে আকৃতি নির্দিষ্ট করেন নাই। এই বৈশিষ্ট্য শুধু প্রক্ষালন পাত্রের জন্য প্রযোজ্য। এর দ্বারা, যারা আমরা সর্বক্ষন পাপ করি,আমাদের উপরে মসিহের সীমাহীন প্রেম প্রকাশ পেয়েছে। মসিহের এই প্রেমে তাঁর বাপ্তিস্ম প্রকাশ পায়, অর্থাৎ হস্তার্পণের মাধ্যমে পাপ ধৌত হওয়া প্রকাশ পায়। যাজকদের দায়িত্ব পালনের সময় তাদের শরীরে ময়লা ধুতে যেমন প্রচুর জলের প্রয়োজন হত, তাই প্রক্ষালন পাত্রটি সব সময়ে জলে পরিপূর্ণ রাখতে হত। তাই প্রক্ষালন পাত্রে আকৃতি প্রয়োজনের উপরে নির্ভর করত। যেহেতু প্রক্ষালন পাত্র পিত্তলের তৈরী ছিল, তাই যতবার যাজকেরা সেখানে নিজেদের ধৌত করত, ততবার তারা তাদের পাপের বিচার দন্ড সম্বন্ধে স্মরণ করত।

 যে যাজকেরা সমাগম তাম্বু কাজের নিয়োজিত ছিল, তাদেরকে প্রক্ষালন পাত্রের জল দ্বারা নিজেদের হাত ও পায়ের ময়লা ধুতে হত। পিত্তল যদি ঈশ্বরের বিচার প্রকাশ করে, তবে জল পাপ ধৌতকরণ প্রকাশ করে। ইব্রীয় ১০:২২ পদ বলে, “আমরা তো শুচি জলে স্নাত দেহ বিশিষ্ট হইয়াছি।”এবং তীত ৩:৫ পদে বলে, “পুনর্জন্মের স্নান দ্বারা ও পবিত্র আত্মার নূতনীকরণ দ্বারা।” এই অংশ গুলোর মত নূতন নিয়মের অনেক অংশে বাপ্তিস্মের জল দ্বারা ধৌত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

যাজকেরা যদি তাদের জীবনের ময়লা-নোংরা প্রক্ষালন পাত্রের জল দ্বারা ধৌত করতেন, তবে আমরা, বর্তমান সময়ের নূতন জন্ম প্রাপ্ত খ্রীষ্টিয়ানেরা, আমাদের কৃত সমস্ত পাপ যীশুর বাপ্তিস্মের জল দ্বারা ধৌত করতে পারি। পুরাতন নিয়মের প্রক্ষালন পাত্রের জল এই সত্য প্রকাশ করে যে, মসিহ এই জগতে এসে যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হয়ে জগতের সমস্ত পাপভার বাপ্তিস্মে জল দ্বারা ধুয়ে দিয়েছেন।

বাইবেলের মাধ্যমে ঈশ্বর আমাদের বলেন যে, যোহনের কাছে বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে যীশু যে শুধু ইস্রায়েলদের পাপ ধৌত করেছেন তা নয়, কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে সমস্ত মানুষের পাপ তাঁর উপরে অর্পিত হয়েছে। তিনি যখন যোহনের দ্বারা বাপ্তাইজিত হন, মথি ৩:১৫ পদে তিনি বলেন, “এখন সম্মত হও, কেননা এই রূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত।” হস্তার্পনের অনুরূপে, মানব জাতির প্রতিনিধি যোহন বাপ্তাইজকের কাছে বাপ্তিস্ম নেওয়ার মাধ্যমে যীশু জগতের সমস্ত মানুষের পাপভার নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন।

 কাজেই, বাপ্তিস্মের মসিহের উপরে সমস্ত পাপ অর্পিত হয়েছে, এই সত্যে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা আমাদের হৃদয়ের সমস্ত পাপ থেকে ধৌত হতে পারি। কারণ এই সত্যে বিশ্বাস দ্বারা ইতিমধ্যেই আমাদের সমস্ত পাপ আমরা যীশুর উপরে অর্পন করেছি। যা আমাদের এখন বিশ্বাস করতে হবে, তাহল যীশু খ্রীষ্ট আমাদের পাপ নিজের উপরে তুলে নেওয়ার কারণে শাস্তি স্বরূপ ক্রুশ বিদ্ধ হলেন এবং রক্ত সেচন করলেন, এই ভাবে প্রকৃত পাপার্থক বলি হলেন এবং এই ভাবে আমাদেরকে সমস্ত পাপ থেকে উদ্ধার করলেন। আপনি কি হৃদয়ে এই সত্য বিশ্বাস করেন? যারা সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস করে যে, মসিহ আমাদের জন্য পাপার্থক বলি হয়েছেন, তারা পরিত্রাণ পেয়েছে।



যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস দ্বারা আসল পাপের সমস্যা থেকেও

উদ্ধার পাওয়া যায়


আমরা কিভাবে আমাদের আসল পাপ ধৌত করতে পারি, বাইবেল কি তা বলে? পূরাতন নিয়মের যাজকেরা যেমন তাদের ময়লা-নোংরা প্রক্ষালন পাত্রের জল দ্বারা ধৌত করতেন, নূতন নিয়মে তেমনি আমরা যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস দ্বারা আমাদের আসল পাপের কলুষতা থেকে ধৌত হতে পারি; এই বাপ্তিস্ম তিনি ঈশ্বরের ধার্মিকতা পূর্ণ করেছিলেন। এই সত্যে বিশ্বাস দ্বারা সমস্ত পাপ ধৌত হয়ে যায়।

ইস্রায়েলীয়রা যখন ঈশ্বরের সম্মুখে পাপার্থক বলি আনত, তখন তারা নিখুঁত মেষ অথবা ছাগল সমাগম তাম্বুতে আনত, এদের মাথায় হস্তার্পণের মাধ্যমে নিজেদের পাপ স্বীকার করে তাদের উপরে অর্পন করত, এবং তারপর এই বলি তারা উৎসর্গ করত। তারপর তারা এর গলা কেটে এর রক্ত হোম বলির বেদির শৃঙ্গে ছিটিয়ে দিত এবং বাকী রক্ত বেদির পাদমূলে ঢেলে দিত (লেবীয় পুস্তক ৪)। এমন কি তাদের এক বছরের পাপ প্রায়শ্চিত্তের দিনের পাপার্থক বলির উৎসর্গ করণের বিশ্বাসের মাধ্যমে দূর হয়ে যেত (লেবীয় পুস্তক ১৬)। শেষে, পুরাতন নিয়মের পাপার্থক বলির প্রথার অনুরূপে আমরাও আমাদের পাপের ক্ষমা লাভ করি; অর্থাৎ মসিহ তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ বহন করে, ক্রুশে রক্ত সেচন করে, আমাদের পাপ ধৌত করেছেন- এই বিশ্বাসে।

পুরাতন নিয়মে হস্তাৰ্পণ নূতন নিয়মে যীশুর বাপ্তিস্মের অনুরূপ। আমরা মসিহ যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হয়ে এবং ক্রুশে বিদ্ধ হয়ে আমাদের পাপ ধৌত করেছেন। যেহেতু বাপ্তিস্ম গ্রহণ এবং ক্রুশে মৃত্যুবরণের মাধ্যমে তিনি এই কাজ সাধন করেছেন, যা দ্বারা ঈশ্বর আমাদেরকে যথার্থ রূপে সমস্ত পাপ থেকে উদ্ধার করেছেন, তাহলে পাপ ক্ষমা লাভের জন্য আর কি বাকী থাকে? আমাদের যা অবশ্যই মনে রাখতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে এই যে, দূর্বলতার কারণে প্রতিদিন আমরা যে পাপ করি, যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে সেই সমস্ত পাপ ধৌত হয়ে গিয়েছে, তিনি জল ও রক্ত দ্বারা এই পৃথিবীতে এসেছিলেন। আমরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও নিজেদের দূর্বলতার কারণে নানা রকম ও অধর্মের শিকার হই। কিন্তু আমাদের ঈশ্বর, যিনি সব জানেন, তিনি মসিহকে এই পৃথিবীতে পাঠালেন, বাপ্তিস্মের মাধ্যমে মসিহ আমাদের সমস্ত পাপ বহন করলেন এবং আমাদের পক্ষে আমাদের স্থলে বলিকৃত হলেন।

সমাগম তাম্বুর সম্মুখে হোমার্থক বলির বেদি এবং প্রক্ষালন পাত্র স্থাপন করার মাধ্যমে ঈশ্বর এই নিয়ম স্থাপন করলেন, যেন আমরা ঈশ্বরের পবিত্র আবাসে প্রবেশ করার পূর্বে আমাদের প্রতিদিনের কৃত আসল পাপগুলো ধৌত করি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, প্রতিদিন অনুতাপের প্রার্থনা করার মাধ্যমে আমরা আসল পাপ থেকে ধৌত হব। অন্য দিকে, মসিহের বাপ্তিস্ম এবং তাঁর ক্রুশীয় রক্তের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ ধৌত হয়ে যায়। ঈশ্বর নিয়ম করেছেন যে, ধার্মিকেরা যীশুতে বিশ্বাস করার পরেও যখন পাপ ও অধর্ম করে, তখন তারা মসিহের বাপ্তিস্মে বা প্রভুর প্রক্ষালন পাত্রে ধৌত হয়ে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হতে পারে।

অনেকের ধারণা যীশুর দ্বারা পাপ বহন করা এবং সেই কারণে বিচারিত হওয়া একই বিষয়, তারা অন্ধভাবে দুটি ভিন্ন বিষয়কে এক করে ফেলে। কিন্তু যেহেতু প্রতিদিন দূর্বলতার কারণে আমরা আসল পাপ করতে থাকি, তাই পাপ পরিষ্কার হওয়া এবং পাপের জন্য শাস্তি এদুটি অবশ্যই ভিন্ন বিষয় হওয়া উচিত। যোহন কর্ত্তৃক যীশুর বাপ্তিস্ম এবং তাঁর ক্রুশীয় মৃত্যু দ্বারা তিনি নিজের উপরে সমস্ত পাপ বহন করেছেন, যেন আমরা পাপ থেকে যথার্থরূপে উদ্ধার পেতে পারি। এই বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা একবারই আমাদের পাপ সম্বন্ধে বিচারিত হই। ঠিক তেমনি মসিহের বাপ্তিস্মে বিশ্বাস দ্বারা আমরা প্রতিদিনের আসল পাপ থেকে মুক্ত হতে পারি। এই দুইটি কাজ, অর্থাৎ বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশীয় মৃত্যু একত্রে আমাদের পরিত্রাণ সাধন করে। পাপ থেকে প্রকৃত ভাবে মুক্ত হওয়ার এটাই আসল বিশ্বাস। সুতরাং আমাদের পাপের ভয়াবহতার কথা চিন্তা করে আমাদেরকে অবশ্যই যীশুর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশকে পৃথকভাবে গুরুত্বসহকারে বিশ্বাস করতে হবে।

সমাগম তাম্বুতে যাজকেরা যখন বলির পশু উৎসর্গ করত, তখন তাদের দেহ মাটি এবং রক্ত দ্বারা নোংরা হয়ে যেত। তারা যে কতটা নোংরা হয়ে যেত, তা আমরা চিন্তাও করতে পারি না। যাজকদের সেই ময়লা ধৌত করতে হত, কিন্তু সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের প্রক্ষালন পাত্রে যদি জল না থাকত, তবে তারা ধৌত হতে পারত না। মহাযাজক হোক বা সাধারণ কোন যাজক হোক, সেই ব্যক্তি যদি এই জলে নিজের ময়লা পরিষ্কার না করত, তবে সে সারা বছরের পাপ থেকে মুক্ত হতে পারত না, বরং তাই নিয়েই তাকে বেঁচে থাকতে হত।

সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণে প্রক্ষালন পাত্র ছিল বিধায়, স্বয়ং মহাযাজকও যদি ময়লায় নোংরা হয়ে যেত, তাকেও সেই নোংরা ধুয়ে ফেলতে হত। কোন যাজক যদি সারা বছরের পাপ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়েও যেত, তারপরও তাকে প্রতিদিনের পাপ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য এই ভাবে ধৌত হতে হত। ঈশ্বরই এই নিয়ম স্থাপন করেছিলেন যে, বলি উৎসর্গ করার সময় নোংরা হয়ে গেলে যাজকেরা ঐ ভাবে নিজেদের ধৌত করবে। কি কারণে প্রক্ষালন পাত্র হোম বলির বেদি এবং পবিত্র স্থানের মাঝখানে রাখা হয়েছিল, আমরা তাও জানতে পারি।



কেন আমাদের জন্য প্রক্ষালন পাত্রের প্রয়োজন?


প্রক্ষালন পাত্রে নিহিত সত্য যোহন ১৩ অধ্যায়ে প্রকাশিত হয়েছে। নিস্তার পর্বের পরে, শেষ ভোজের সময়ে, যীশু পিতর থেকে শুরু করে তাঁর সব শিষ্যের পা ধুয়ে দিতে লাগলেন। পিতরকে যীশু তার পা এগিয়ে দিতে বললেন যেন তিনি ধুতে পারেন। কিন্তু পিতর অস্বীকার বললেন, “আমারই আপনার পা ধুয়ে দেওয়া উচিত, প্রভু, আপনি কেন আমার পা ধুয়ে দিবেন?”

 পিতর ভেবেছিলেন গুরু কখনো শিষ্যের পা ধুয়ে দিতে পারেন, না,তাই তিনি অস্বীকার করেছিলেন। “আমি কিভাবে আমার গুরুকে আমার পা ধুতে বলতে পারি? আমি তা পারি না।”

পিতর যীশুর সেবা নিতে অস্বীকার করতে থাকলেন। তখন পিতরকে যীশু যে কথা বলেছিলেন, তা গভীর তত্ব প্রকাশ করে।

“আমি যাহা করিতেছি, তাহা তুমি এক্ষণে বুঝিবে না, কিন্তু পরে জানিতে পারিবে” (যোহন ১৩:৭)। যীশু বুঝাতে চেয়েছিলেন, “এখন আমি কেন তোমার পা ধুয়ে দিচ্ছি তা তুমি বুঝবে না। কিন্তু আসল পাপ ধৌত হওয়ার জন্য এটাই নিশ্চিত চাবিকাঠি। এখন থেকে তুমি অনেক আসল পাপ করবে। কিন্তু ভবিষ্যতেরও পাপগুলো আমি আমার নিজের উপরে তুলে নিয়েছি, এবং সেই পাপের কারণে আমাকে এখন ক্রুশে রক্ত সেচন করতে হবে। সুতরাং তোমাকে অবশ্যই জানতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে যে, মসিহ হিসাবে আমি তোমার এমন কি ভবিষ্যতের পাপের বিষয়ও চিন্তা করেছি।”

পিতরের দৃষ্টিতে মসিহ দ্বারা তার পাপ ধোয়ার বিষয়টি রীতিবিরুদ্ধ মনে হয়েছিল, এই কারণে তিনি অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু যীশু পিতরকে বললেন, “তুমি ইহার পরে বুঝিবে” এবং তার পা ধুয়ে দিলেন।

“আমি যদি তোমার পা ধুয়ে দিই, তবেই তোমার সাথে আমার সম্পর্ক রয়েছে। এখন তুমি বুঝতে পারছ না কেন আমি তোমার পা ধুয়ে দিচ্ছি। কিন্তু আমি যখন ক্রুশে হত হব এবং স্বর্গারোহন করব, তখন তুমি পা ধোয়ার কারণ বুঝতে পারবে। কারণ আমি তোমার মসিহ, বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমি তোমার ভবিষ্যতের পাপও নিজের উপরে বহন করেছি, এবং তোমার পাপের কারণে বলিকৃত হয়ে আমি তোমার ত্রাণকর্তা হয়েছি।”

 প্রভু যা বলেছিলেন, পিতর সেই সময়ে তা বুঝতে পারেন নি, কিন্তু যীশুর পুনরুত্থানের পরে তিনি তা বুঝতে পেরেছিলেন। আসলেই, এটাই ছিল পাপ মুছে ফেলার প্রকৃত ঘটনা।

“যেহেতু এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকা অবস্থায় আমি পাপ না করে পারি না, তাই প্রভু আমার পা ধুয়ে দিলেন যেন আমি বিশ্বাস করতে পারি যে, যোহন বাপ্তাইজকে কাছে বাপ্তিস্ম নেওয়ার মাধ্যমে মসিহ ইতিপূর্বেই আমার নিজের উপরে বহন করেছেন। বাপ্তিস্ম গ্রহণের দ্বারা তিনি ভবিষ্যতের আসল পাপের সমস্যারও সমাধান করেছেন। তিনি তাঁর বাপ্তিস্মের এই সমস্ত পাপ নিজের উপরে নিয়েছিলেন এবং জগতের সমস্ত পাপভার বহন করে ক্রুশে চড়েছিলেন এবং ক্রুশীয় যাতনার মাধ্যমে পাপের শাস্তি নিজে বহন করেছিলেন। এবং মৃত্যু থেকে পুনরুত্থান করে তিনি প্রকৃত ভাবে এবং সম্পূর্ণরূপে সমস্ত পাপ থেকে আমাদের উদ্ধার করেছেন।”

পরবর্তী সময়ে, এবং প্রভুকে তিনবার অস্বীকার করার পরে পিতর বুঝতে পারলেন এবং বিশ্বাস করলেন। তাই তিনি ১ পিতর ৩:২১ পদে বলেন, “আর এখন উহার প্রতিরূপ বাপ্তিস্ম-অর্থাৎ মাংসের মালিন্যত্যাগ নয়, কিন্তু ঈশ্বরের নিকটে সৎসংবেদের নিবেদন- তাহাই যীশু খ্রীষ্টের পুনরুত্থান দ্বারা তোমাদিগকে পরিত্রাণ করে।” এখানে প্রতিরূপ” শব্দটি দ্বারা “এমন কাউকে বুঝানো হয়েছে যার উপমা পূর্বে ছিল বা পূর্বেই যা পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যার দ্বারা পুরাতন নিয়মের বিষয় পুরাতন নিয়মে পূর্ণ হয়েছে।” সুতরাং পরবর্তী বিষয় সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে যে, যীশুর বাপ্তিস্ম ছিল পুরাতন নিয়মের ‘জল’ এর প্রতিরূপ।

 পুরাতন নিয়মের কালে যখন এক বছরের পাপের মুক্তির জন্য প্রায়শ্চিত্তের দিনে পাপার্থক বলি উৎসর্গ করা হত, মহাযাজক সমস্ত জাতির প্রতিনিধি হিসাবে সেই বলিদানযোগ্য উপহারের উপরে হস্তার্পণ করতেন, এবং ইস্রায়েল জাতির কৃপাপ স্বীকার করতেন যেন পাপগুলো উপহারের উপরে ন্যাস্ত হয়। এই হস্তার্পণের প্রকৃয়া যীশুর বাপ্তিস্মের অনুরূপ। পুরাতন নিয়মে, বলিদান যোগ্য উপহার রক্ত সেচন করার মাধ্যমে মৃত্যু বরণ করত, যেহেতু তার উপরে সমস্ত ইস্রায়েল জাতির পাপ অর্পিত হত। তার গলা কেচে ফেলা হত এবং সমস্ত রক্ত বেরিয়ে যেত। তারপর যাজকেরা চামড়া ছিলত, টুকরা। টুকরা করত এবং মাংস গুলো জ্বলন্ত আগুনে ঈশ্বরের উদ্দেশে উৎস্বর্গ করত।

মসিহ, যিনি পুরাতন নিয়মে আসল বলিদান যোগ্য উপহার, তিনি এই পৃথিবীতে এলেন, হস্তার্পণের মাধ্যমে আমাদের পাপ নিজের উপরে তুলে নিলেন, ক্রুশে রক্ত সেচন করলেন এবং আমাদের স্থলে মৃত্যু বরণ করলেন। সুতরাং, যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিস্ম এবং তাঁর ক্রুশীয় মৃত্যুতে বিশ্বাস করার মাধ্যমে, আপনি এবং আমি, আমরা সম্পূর্ণরূপে পাপের ক্ষমা লাভ করেছি। আমাদের প্রভু বাপ্তিস্ম গ্রহনের মাধ্যমে এবং ক্রুশে রক্ত সেচনের মাধ্যমে আমাদের প্রতিদিনের পাপ ধুয়ে দিয়েছেন, এই বিশ্বাস দ্বারা আমাদের অবশ্যই আমাদের প্রতিদিনের পাপ ধৌত করতে হবে। এই সত্য আমাদেরকে অবশ্যই জানতে হবে এবং তাতে বিশ্বাস করতে হবে। যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন এবং সম্পূর্ণরূপে ধৌত করেছেন এই বিশ্বাসেই কেবল মাত্র আমরা পাপ থেকে মুক্ত হতে পারি। অন্য কথায়, যখন আমরা কোন আসল পাপ করি, আমাদেরকে তখন অবশ্যই জল ও আত্মার সুসমাচারের বিশ্বাসকে দৃঢ় করতে হবে। যীশু যে আমাদের আসল পাপও তাঁর বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশ দ্বারামুছে দিয়েছেন,এই সত্য হৃদয়ে গণনা করার মাধ্যমে আমরা আমাদের পরিত্রাণ কখনো হারাই না, বরং সাথে সাথে অপরাধবোধ থেকে রেহাই পেতে পারি।

ধার্মিকেরা, যারা তাদের প্রতিদিনের পাপ থেকে ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে, তাদের জন্য ঈশ্বর প্রক্ষালন পাত্রে দিয়েছেন যেন, তারা জল, রক্ত এবং আত্মা দ্বারা মুক্ত হতে পারে, জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের মাধ্যমে যেন তাদের আসল পাপও ধৌত হয়ে যায়।

এই কারণেই ঈশ্বর সমাগম তাম্বুর সেবাকার্যে রত মহিলাদের পিত্তল নির্মিত দর্পণের দ্বারা প্রক্ষালন পাত্র নির্মাণ করেছিলেন, যেন সেখানে মানুষ নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পায়। যখনই আমরা আসল পাপ করি এবং দূর্বলতার কারণে পতিত হই, তখনই হাত ও পা ধোয়ার উদ্দেশে আমাদেরকে প্রক্ষালন পাত্রের কাছে অবশ্যই যেতে হবে। যোহনের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে যীশু যে জগতের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন, সেই সত্য মনে করিয়ে দেওয়াই প্রক্ষালন পাত্রের কাজ। ধার্মিকদেরকে এই শিক্ষা দেওয়ার জন্য যে, আমাদের প্রভু ইস্রায়েলীয়দের দ্বারা মহিলাদের গলানো পিত্তলের দর্পণের দ্বারা প্রক্ষালন পাত্র তৈরী করেছিলেন, সব সময় তা জলে পরিপূর্ণ রেখেছিলেন এবং যাজকদের হাত ও পায়ের ময়লা সেই জল দ্বারা ধৌত করার নিয়ম স্থাপন করেছিলেন।

 আমরা বিশ্বাস করি যে, যীশু ঈশ্বরের পুত্র, সৃষ্টিকর্তা এবং মানব জাতির ত্রাণকর্তা। এবং আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, মসিহ এই পৃথিবীতে এসে যোহনের দ্বারা বাপ্তাইজিত হয়ে আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিলেন; অর্থাৎ পৃথিবীতে যখনই আমরা পাপ করি, দূর্বলতায় পতিত হই বা আমাদের দূর্বলতার প্রকাশ পায়, তখন আমাদের আরও বেশি করতে মনে করতে হবে যে, মসিহ এই পৃথিবীতে মাংসে এসেছিলেন, বাপ্তাইজিত ও ক্রুশে বিদ্ধ হয়েছিলেন, এবং এই ভাবে আমাদের পাপ মুছে দিয়েছেন।

যদি আমরা সেই কথা স্মরণ না করি বা তাতে বিশ্বাস না করি, আমরা পাপের ক্ষমা পেয়ে থাকলেও আবার আসল পাপ করব এবং পুরানো অবস্থায় ফিরে যাব এবং পাপী হয়ে যাব। তেমনি প্রতিদিন আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে, আমাদের দূর্বলতা এবং অধর্মে কৃত সমস্ত পাপ যীশুর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে তাঁর উপরে ইতিপূর্বেই অর্পিত হয়েছে। প্রতিদিন আমাদের অবশ্যই স্মরণ করতে হবে, বিশ্বাস করতে হবে এবং নিশ্চিত হতে হবে যে, যোহনের কাছে বাপ্তিস্ম নিয়ে মসিহ আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন এবং ধৌত করেছেন।

পৃথিবীতে এমন কেউ নাই যে কেবলমাত্র যীশুর রক্তে বিশ্বাসের মাধ্যমে পাপের ক্ষমা পেতে পারে, তাকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যোহনের মাধ্যমে বাপ্তিস্ম দ্বারা যীশু আমাদের পাপ বহন করেছেন এবং ক্রুশে রক্ত সেচন করেছেন। মানুষ যদিও পাপের ক্ষমা পেয়েও থাকে, তারপরও সে আসল পাপ করতে পারে। তেমনি যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস ছাড়া প্রত্যেকে পাপে পূর্ণ থাকে, তাদের জীবনে ঈশ্বরের সংকল্প পূর্ণ হবে না। এই কারণে ঈশ্বর তাঁর পুত্রকে দান করেছেন, যোহনের দ্বারা তাকে বাপ্তাইজিত করেছেন এবং ক্রুশে তাঁর রক্ত সেচন অনুমোদন করেছেন।

 যদি আমরা যীশু খ্রীষ্টকে মসীহ হিসাবে স্বীকার করি, তবে আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, যোহনের দ্বারা বাপ্তাইজিত হয়ে তিনি নিজের উপরে সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন, সেই কারণে পাপের সমস্ত বিচারদন্ড বহন করে তিনি ক্রুশে বিদ্ধ হয়েছেন এবং রক্ত সেচন করেছেন। যীশুর বাপ্তিস্ম এবং রক্তে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা পাপ থেকে উদ্ধার পেতে পারি। এই সত্যে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ মুছে যায়। বিশ্বাসে ঈশ্বরের প্রেম হৃদয়ে গ্রহণ করার মাধ্যমে আমরা ধার্মিকতায় পৌঁছাতে পারি। আমাদের হৃদয় এখন পাপমুক্ত, পরিষ্কার এবং নিষ্কলুষ। কিন্তু তারপরেও মাংসে আমরা পাপ করি। এইজন্য প্রতিদিন আমাদের যীশুর বাপ্তিস্মকে স্মরণ করতে হবে, এবং নিজেদেরকে প্রতিদিন এই বিশ্বাস মনে করিয়ে দিতে হবে। যখনই আমাদের দূর্বলতা ও অধর্ম প্রকাশিত হয়, যখন মনে মন্দ চিন্তা উদয় হয় এবং আমরা অপবিত্র হয়ে পড়ি, যখন আমরা খারাপ কিছু করি; তখন যদি আমরা স্মরণ করি যে, যোহনের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে যীশু আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন, তখনই এই সত্যে বিশ্বাস দ্বারা আমাদের হৃদয় আবার পরিষ্কার হয়।

যখন আমরা পাপ করি, প্রথমেই ঈশ্বরের কাছে সেই পাপ স্বীকার করতে হবে। আবারও অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, এই সমস্ত পাপ বাপ্তিস্মের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই যীশুর উপরে অর্পিত হয়েছে। যারা আমরা ইতিপূর্বেই যীশুর বাপ্তিস্মের দ্বারা পুরষ্কৃত হয়েছি, এই একই কাজে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমাদের প্রতিদিনের পাপ ধৌত করতে হবে এই কারণে আমাদের অবশ্যই স্মরন করতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে যে, যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ ধুয়ে যায়।

এখন আমরা দেখলাম কেন ঈশ্বর হোমার্থক বলি এবং সমাগম তাম্বুর মাঝখানে প্রক্ষালন পাত্রটি রেখেছিলেন। তিনি হোমার্থক বলি এবং সমাগম তাম্বুর মাঝখানে প্রক্ষালন পাত্র রেখেছিলেন যেন যখন আমরা ঈশ্বরের সম্মুখে যাব, তার পূর্বে আমাদের দেহ এবং হৃদয় পরিষ্কার করতে হবে। এমন কি যারা যীশুর বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশে বিশ্বাস করে প্রকৃত পাপের ক্ষমা পেয়েছি, তাদের হৃদয়েও ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত পাপের দ্বারা কলুষিত হতে পারে। সুতরাং যখন আমরা হোমার্থক বলি অতিক্রম করে ঈশ্বরের সম্মুখে উপস্থিত হতে যাব, তার পূর্বে প্রক্ষালন পাত্রের জলে আমাদের নোংরামী পরিষ্কার করতে হবে। কারণ বিন্দু মাত্র পাপ নিয়ে আমরা ঈশ্বরের সম্মুখে উপস্থিত পারি না, হোমার্থক বলি এবং সমাগম তাম্বুর মাঝখানে প্রক্ষালন পাত্র রাখা ছিল যেন আমরা প্রক্ষালন পাত্রের জল দ্বারা ধৌত ও পরিষ্কৃত হয়ে ঈশ্বরের সম্মুখে উপস্থিত হতে পারি।



ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সৎসংবেদ কি?


১ পিতর ৩:২১ পদেও যীশুর বাপ্তিস্মকে এভাবে দেখানো হয়েছে, “ঈশ্বরের নিকটে সৎসংবেদের নিবেদন।” এখানে “সৎসংবেদ” বলতে বলা হয়েছে যে, ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, যীশু মানব জাতির সমস্ত পাপ ধৌত করেছেন, প্রতিদিনের কৃত আসল পাপসহ, যর্দ্দন নদীতে যোহনের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে করেছেন। নিজের উপরে সমস্ত পাপ তুলে নেওয়ার উদ্দেশ্য যোহনের দ্বারা প্রভু বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন এবং এইভাবে নিজের দেহের উপরে সমস্ত পাপভার গ্রহণ করেছিলেন, তাঁকে ক্রুশে মরতে হয়েছিল তিনি যা করেছেন, আমরা যদি তা অবজ্ঞা করি বা বিশ্বাস না করি, তাহলে আমাদের সংবেদ কেবল মন্দ হবে এই কারণে তাঁর বাপ্তিস্মে আমাদেরকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। ঈশ্বরের সাক্ষাতে আমাদের অবশ্যই সৎসংবেদ থাকতে হবে। মাংসে যদিও আমরা ১০০% খাঁটি হতে পারব না, অন্ততঃ আমাদের বিবেক খাঁটি হতে পারবে, ঈশ্বরের দৃষ্টিতে অবশ্যই আমাদের সৎসংবেদ থাকতে হবে।

প্রায় অর্ধ শতাব্দী আগে, যুদ্ধে কোরিয়া যখন প্রায় ধংস হয়ে গিয়েছিল, তখন সেই দূর্দশা দূর করার জন্য বন্যার মত বিদেশের সাহায্য এসেছিল। অনাথাশ্রম গুলোই এই সাহায্য পাওয়ার প্রথম দাবীদার ছিল। কিন্তু কিছু অসাধূ লোক সেই অর্থে নিজেদের পকেট ভারী করে এবং সম্পদ বৃদ্ধি করে। বিবেক বলতে তাদের কিছু ছিল না বিদেশ থেকে গুড়ো দুধ, ময়দা, কম্বল, জুতা, কাপড় এবং অন্যান্য জিনিস দাতারা পাঠাচ্ছিল যেন প্রকৃত ক্ষুধার্ত ও বস্ত্রহীন লোকেরা এই সব পেতে পারে, কিন্তু তারা বুঝতে পারে নি যে, কিছু অসাধূ এবং দুষ্ট লোকেরা এই সমস্ত ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাৎ করবে।

 সৎ বিবেক সম্পন্ন লোকেরা সততার সাথে এগুলো আর্তদের মধ্যে বন্টন করত। যারা নিজেদের সম্পদ তৈরী করার পরিবর্তে ক্ষুধায় মৃত প্রায় এবং উলঙ্গ প্রায় দরিদ্রদের কাছে সততার সাথে। এগুলো বিতরণ করতে পারত, ঈশ্বরের দৃষ্টিতে তাদের লজ্জার কিছু ছিল না, কারণ তাদের বিবেক সৎ ছিল। কিন্তু যারা সততার সাথে সেই কাজ করে নি তারা তাদের বিবেকের কাছে চৌর্যের দোষে দোষী। অবশ্যই এখনো তারা যদি নিজেদের পাপ ধৌত করে এবং ফিরে আসে এবং যীশুর বাপ্তিস্মকে বিশ্বাস করে, তবে তাদের সেই পাপ এখানো ধৌত হতে পারে।

যীশু পৃথিবীতে এসে বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন যেন আমাদের পাপ নিজের উপরে তুলে নিতে পারেন এবং আসল পাপও মুছে দিতে পারেন। যোহনের দ্বারা বাপ্তাইজিত হয়ে যীশু একবারেই আমাদের পাপ ধুয়ে দিয়েছেন। যারা যীশুর বাপ্তিস্মে অবিশ্বাস করে, তাদেরকে আমি বলতে চাই, “যদি যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস না করেন, তবে আর কোন বিষয়ে আপনি গর্ব করতে পারেন? কোন নিশ্চয়তায় আপনি বিশ্বাস করছেন না? আপনি কি নিশ্চিত যে, তাঁর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস ছাড়াই আপনি স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবেন?”

যদি আমরা সত্যিকার অর্থে সৎ বিবেক সম্পন্ন মানুষ হতে চাই, তাহলে যোহনের দ্বারা যীশু যে বাপ্তিস্ম নিয়েছিলেন, তাতে আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। তা করতে হলে আমাদের অবশ্যই হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করতে হবে যে, সারা জীবন ধরে আমরা যত পাপ করি সেগুলো তিনি নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন এবং ধৌত করেছেন। এই জন্যই আমাদের মসিহ যীশু ক্রুশে যাওয়ার পূর্বে যোহন কর্ত্তৃক বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন।

 যে স্ত্রীলোকটি ব্যভিচারে ধরা পড়েছিল, যীশু তাকে বলেছিলেন, “আমিও তোমাকে দোষী করি না। আমি তোমার বিচারও করি না” কেন? কারণ, তার সেই ব্যভিচার পাপও যীশু নিজের উপরে ইতিমধ্যেই নিয়েছিলেন এবং তার বিচারও গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বললেন, “তোমার পাপের জন্য আমিই দোষীকৃত হয়েছি। কিন্তু আমার বাপ্তিস্মে বিশ্বাসের মাধ্যমে ধৌত হও। কেননা আমাতে বিশ্বাসের মাধ্যমে তুমি পাপ থেকে পরিত্রাণ পাবে। বিশ্বাসে বিচার দন্ড থেকে মুক্ত হও এবং সমস্ত পাপ থেকে ধৌত হও। বিবেকের সমস্ত পাপ থেকে পরিষ্কৃত হও এবং সেই জীবন জল পান কর যেন তুমি আর কখনও পিপাসিত না হও।”

বর্তমানে, আপনি এবং আমি, আমরা বিশ্বাস করি যে, যীশুই আমাদের পাপ থেকে উদ্ধার করেছেন। আপনি কি সত্যিই কি বিশ্বাস করেন যে, যীশু আসলেই আমাদের সমস্ত পাপ তাঁর উপরে তুলে নিয়ে সেগুলো ধৌত করেছেন? বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের প্রভু আমাদের পাপ ধুয়ে দিয়েছেন। এখন আমরা সৎসংবেদে ঈশ্বরের সম্মুখে উপস্থিত হতে পারি। কেন? কারণ বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে যীশু আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন, সেই পাপের নিজে দোষী হয়েছেন এবং আমাদের স্থলে ক্রুশে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং আবার পুনরুত্থিত হয়েছেন। অনেক দিন পূর্বে যীশু এই পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং ৩৩ বছর বয়সব্যাপী তিনি আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন এবং বাপ্তিস্মের দ্বারা সেগুলো ধুয়ে দিয়েছেন।

আমারেদ আসল পাপও তুলে নিয়ে এবং সেইগুলো ধুয়ে দিয়ে, প্রভু আমাদেরকে ঈশ্বরের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার সামর্থ দিয়েছেন এবং আমাদের ধার্মিক করেছেন। যীশু খ্রীষ্টের প্রায়শ্চিত্ত দ্বারা আমরা বিচারিত হয়েছি। অন্য কথায়, এই প্রভুতে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরকে পিতা বলে ডাকতে পারি এবং ঈশ্বরের সম্মুথে যেতে পারি। তেমনি, যারা যীশু জল, রক্ত ও আত্মার কাজে বিশ্বাস করে, তাদের বিবেক সৎ। অন্য দিকে, যারা যীশুর এই কাজে এবং তাঁর বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশে বিশ্বাস করে না, তাদের বিবেক মন্দ। 



কুসংস্কারাচ্ছন্ন বিশ্বাসের কারণে অনেকে আজকাল ঈশ্বরের

বাক্য সঠিকভাবে অনুধাবন করে না


অনেক ভ্রান্ত লোক আজকাল ঈশ্বরের বাক্যকে সাধারণ জ্ঞান করে বাক্যে ভাজ দেয়, প্রচার করে যে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে হলে আমাদেরকে ভাল কাজ করতে হবে। যখন পরিত্রাণের বিষয় আসে, তারা বলে শুধু ক্রুশীয় রক্তে বিশ্বাস করলে চলবে এবং অলীকভাবে মাংসিক আবেগে পাহাড়ের গুহায় উপবাস প্রার্থনা করে তারা মনে করে যে, তারা ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে। যদিও আসলেই ভ্রান্ত বিশ্বাস, কিন্তু তারপরেও তারা নিশ্চিত ভাবে এই বিশ্বাস করে। তারা বলে, “পাপের কারণে আমি যাতনা পেয়েছি এবং সারারাত ব্যাপী আমি উপবাস প্রার্থনা করেছি,- হে ঈশ্বর, আমি পাপ করেছি, আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। ঐদিন বিকালেও আমি পাপের জন্য যাতনা পাচ্ছিলাম এবং সারা রাত প্রার্থনা করার পরে আমি যখন নেমে এলাম হঠাৎ মনে হল আগুনের বোঝা যেন আমার উপরে চেপে বসেছে এবং ঠিক সেই সময়ে আমার হৃদয় পরিষ্কার ছিল, আমার মন পরিষ্কার ছিল, হৃদয়ের সমস্ত পাপ ধৌত হয়ে তুষারের মত শুভ্র হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং এই সময়েই আমি নূতন জন্ম লাভ করি। হাল্লেলূয়া!”

এই চিন্তা গুলো মানুষের তৈরী, অজ্ঞ এবং মূর্খ চিন্তাগুলো ঈশ্বরের বাক্যকে নিষ্ফল করে। আপনাকে একথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, যারা ভাজ দিয়ে কথা বলে এবং মূর্খের মত কথা বলে, তারা প্রতারণা করে এবং অন্যদের নরকের দিকে ঠেলে দেয়, তাদের অবশ্যই শাস্তি হবে।

“আমার কানে খুব ব্যথা করছিল। কিন্তু প্রভুর বাক্যে বিশ্বাস করেছিলাম যে বিশ্বাস করলেই আমি সুস্থ হতে পারব। তাই আমি এই ব্যথা সহ যখন বললাম, হে প্রভু, আমি বিশ্বাস করি, তখন আমার সমস্ত ব্যথা চলে গেল।”

“আমার গ্যাস্ট্রিক আলসার ছিল, কোন কিছু খেলেই পেটে ব্যথা শুরু হত। সুতরাং খাবার পূর্বে আমি প্রার্থনা করলাম,- হে প্রভু, আমার এখানে ব্যথা করছে; তুমি বলেছ যে যখনই আমরা বিশ্বাস সহকারে প্রার্থনা করব তুমি সুস্থ করবে। আমি এখনো তোমার বাক্যে বিশ্বাস করি। নিশ্চিতভাবেই আমার ব্যথা চলে গিয়েছিল।” 

এই ঘটনাগুলো কি? এই গুলো হল এমন ঘটনা যখন মানুষ বাক্যের মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছে উপস্থিত হয় না। এই সমস্ত ঘটনা প্রমাণ করে যে, তাদের বিশ্বাস ঈশ্বরের বাক্যের উপর নির্ভর করে না। বাক্যের মাধ্যমে যে প্রার্থনার উত্তর পেয়েছে তা না, কিন্তু তাদের রহস্যাবৃত বিশ্বাসের দ্বারা। বাক্যের মাধ্যমে তারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না, কিন্তু তাদের ভ্রান্ত আবেগ এবং অভিজ্ঞতার উপরে নির্ভর করে। এটা খুবই দুঃখজনক ও লজ্জাজনক ব্যাপার যে, বর্তমান খ্রীষ্টিয় জগতে এমন অনেকে আছে।

ঠিক এই ভাবে ঈশ্বরের বাক্য দূরে সরিয়ে রেখে অন্ধভাবে যীশুতে বিশ্বাস করার অর্থ হল নিজেদের আবেগ অভিজ্ঞতার দ্বারা কুসংস্কারাচ্ছন্ন বিশ্বাস। যে লোকেরা দাবী করে যে তারা যীশুকে বিশ্বাস করে, অথচ ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করে না, তাদের নিজেদের পরীক্ষা করা উচিত যে তারা এক শয়তান দ্বারা চালিত কি না। “প্রার্থনার সময়ে আমি যীশুকে দেখেছি। স্বপ্নে যীশু আমাকে দেখা দিয়েছেন। আমি আকুলভাবে প্রার্থনা করেছি এবং সুস্থ হয়েছি।” আংশিক ব্যক্ত মুখে মানুষ এমন বলতে পারে, কিন্তু সুস্পষ্ট বিষয় হল এই যে, এই বিশ্বাস ঈশ্বর হতে নয়, কিন্তু শয়তানের ভ্রান্ত বিশ্বাস।

নীল, বেগুনে, লাল এবং মিহি মসীনা সূতার দ্বারা আমাদের কাছে প্রভু নিজেকে প্রকাশ করেছেন। বর্তমান যুগে ভিন্ন ভাবে কি প্রভু আমাদের কাছে নিজেকে প্রকাশ করেছেন? স্বপ্নে কি মোহাচ্ছন্ন অবস্থায় তিনি কি আমাদের কাছে উপস্থিত হন? তিনি পায়ে বিশাল শিকল বহণন করছেন, রক্ত সেচন করছেন, মাথায় কাঁটার মুকুট পরে বলছেন, “দেখ, তোমার জন্য আমি কতটা যন্ত্রনা ভোগ করছি। এখন তুমি আমার জন্য কি করবে?” এই ভাবেই কি প্রভু আমাদের কাছে নিজেকে প্রকাশ করেন? এটা অর্থহীন।

 এখনো অনেক লোক রয়েছে, যারা এমন স্বপ্ন দেখার পরে ঈশ্বরের কাছে প্রতিজ্ঞা করে, “হে প্রভু, আমি তোমার দাস হব এবং সারা জীবন নিজের জীবন দিয়ে তোমার সেবা করব। তোমার জন্য একটা প্রার্থনা গৃহ করব, তোমার উদ্দেশে এখানে একটা মন্ডলী তৈরী করব। আমার ক্রুশ বহন করব এবং আমার জাতির মধ্যে এবং সারা পৃথিবীতে তোমার নাম প্রচার করব।”

আসলে আমরা সহজেই এ রকম উৎসর্গীকৃত প্রচারক হতে পারি। স্বপ্নে যীশুকে দেখেছে বা প্রার্থনার সময় তাঁর কণ্ঠস্বর শুনেছে,- এরকম বলে যারা এই সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের বিষয়টি আসলেই রহস্যাবৃত। কিন্তু বাক্যের মাধ্যমেই প্রভু আমাদের কাছে প্রকাশিত হন। স্বপ্নে বা প্রার্থনার সময় তিনি আমাদের সাথে কথা বলেন না; বিশেষ করে বর্তমানের এই যুগে যখন তিনি তার সমস্ত বাক্যই সম্পূর্ণরূপে মানুষের কাছে দিয়েছেন। মানুষের অবচেতন মনের অস্পষ্ট অবস্থা থেকে স্বপ্ন আসে। এরা এধরণের স্বপ্ন এজন্য দেখে যে, তারা কল্পনায় যীশুর অসীম প্রেমকে চিন্তা করে এবং এই ব্যাপারে অনেক ভাবে।

ঘুমের আগে আপনার মন যখন কিছুর ভিতরে গভীর ডুবে যায়, তখন স্বাভাবিক ভাবেই সেই বিষয়টি স্বপ্নে আপনার কাছে উপস্থিত হতে পারে। তেমনি মানুষের অবচেতন মন থেকে স্বপ্ন আসে। তাই যদি আমরা অত্যধিক চিন্তা করি, তাহলে সেই বিষয়ে স্বপ্ন দেখি। বিশ্বাসের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই, দৈহিক পরিবর্তন বা অবচেতন মনের ব্যাপার এটা।

এই কারণে মানুষ যখন যীশুর ক্রুশে রক্ত সেচন করা অবস্থাটি খুব বেশি চিন্তা করে, তখন তারা স্বপ্নে কাঁটার মুকুট পরিহিত যীশুকে দেখতে পায়। এমন স্বপ্ন দেখাতে কোন দোষ নেই। কিন্তু এই স্বপ্নকে সিরিয়াসলি নেওয়াটা ভুল। যীশু যদি সত্যিই রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের সামনে উপস্থিত হন এবং বলেন, “আমার জন্য তুমি কি করবে? তুমি আমার জন্য বাকী জীবন কঠোর তপস্যা করবে? আমার জন্য কি তুমি সব কিছু ত্যাগ করবে?” এমন অনেকে আছে যারা বোকার মত সব কিছু ত্যাগ করে এমন জীবন যাপন করে। এমন কেউ কি আছে যে স্বপ্ন দেখে ভীষণ ভয় পেয়েছে এবং তার জীবনই পাল্টে গিয়েছে? এটা রহস্যাবৃত ব্যাপার ছাড়া আর কিছুই নয়।

 তাঁর বাক্যের মাধ্যমে ঈশ্বর আমাদের কাছে প্রকাশিত হন। তিনি এমন নন যে, স্বপ্নে বা প্রার্থনায় দর্শনের মাধ্যমে আমাদের সাথে দেখা করবেন। পুরাতন এবং নূতন নিয়মে ঈশ্বরের বাক্য লেখা আছে; যখন প্রচার করা হয়, তখন আমরা ঈশ্বরের বাক্য শুনতে পাই এবং হৃদয়ে গ্রহণ করি এবং বাক্যের মাধ্যমেই আমরা তাঁর দেখা পেতে পারি। অন্য কথায়, তাঁর বাক্যের মাধ্যমে এবং কেবলমাত্র তাঁর বাক্যের মাধ্যমেই আপনার আত্মা ঈশ্বরের সাথে মিলিত হতে পারে।

 বাক্যের মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি যে, বাপ্তিস্মের মাধ্যমে যীশু নিজের উপরে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন, বাক্য শোনার মাধ্যমেই আমরা এই সত্য হৃদয়ে বিশ্বাস করতে পারি। কেন যীশুকে ক্রুশে মরতে হয়েছিল- তার উত্তরও বাক্যে রয়েছে। বাপ্তিস্মের মাধ্যমে তিনি আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছিলেন বলেই সেই পাপের কারণে তাঁকে ক্রুশে মরতে হয়েছিল। বাক্যের মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরকে জানতে পারি, বাক্যের মাধ্যমে আমরা তাঁকে বিশ্বাস করতে পারি। যীশু যে ঈশ্বর তাও বাক্যের মাধমে জানা যায় এবং তাতে বিশ্বাস করা যায়।



কিভাবে আমরা ঈশ্বরকে বিশ্বাস করেছি?

ঈশ্বরের লিখিত বাক্যের মাধ্যমেই কি নয়?


যদি ঈশ্বরের বাক্য না থাকত, কেমন করে আমরা যীশুর দেখা পেতাম বা তাঁকে বিশ্বাস করতে পারতাম, তিনি আমাদের সমস্ত পাপ মুছে দিয়েছেন। ঈশ্বরের বাক্য না থাকলে আমাদের বিশ্বাসও থাকত না। “আমার মনে হয়...” আমরা আমাদের ধারনার কথা বলতে পারি, কিন্তু তা সত্য নয়; আমাদের হৃদয় যদি অসত্যে ভরা থাকে, তবে আমাদের হৃদয়ে সত্য স্থান পেতে পারে না। সঠিক কথা বলা এমন নয় যে, “আমার মনে হয়...” কিন্তু “বাইবেল বলে...” এটাই সঠিক কথা। বাইবেল পড়লে আমরা ঈশ্বরের কথিত সত্য বাক্য আমাদের হৃদয়ে গ্রহণ করতে পারি, এবং তা আমাদের পুরনো ভুল চিন্তাগুলো শুধরে দেয়।

জল ও আত্মার সুসমাচারে নিহিত সত্য সম্বন্ধে আপনার বিশ্বাস কিরূপ? তা কি আপনার নিজের চিন্তাপ্রসূত? অথবা শ্রবণের মাধ্যমে ঈশ্বরের বাক্য জেনে তাতে বিশ্বাস করেছেণ? বাক্যের মাধ্যমেই আমরা হৃদয়ে বিশ্বাস করে নূতন জন্ম লাভ করতে পারি। এইজন্যই সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গনের ফটক নীল, বেগুনে, লাল ও মিহি মসিনা সূতা দ্বারা তৈরী করা হয়েছিল।

 প্রক্ষালন পাত্রের জল দ্বারা যীশুর বাপ্তিস্মকে প্রকাশ করা হয়েছে, যে বাপ্তিস্ম দ্বারা তিনি আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে নিয়েছিলেন। “এখন সম্মত হও, কেননা এই রূপে সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত(মথি ৩:১৫)।” ঈশ্বরের বাত্যের মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি যে, আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নেওয়ার জন্য যীশু বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন। বাক্যের মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি যে, সারা জীবনব্যাপী আপনি এবং আমি যে পাপ করেছি বা করি সে পাপ তুলে নেওয়ার জন্য যীশু সেই বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন। বাক্যের মাধ্যমে আমরা যীশুর বাপ্তিস্মের বিশ্বাস হৃদয়ে গ্রহণ করেছি। বাক্যের মাধ্যমে আমরা প্রক্ষালন পাত্রের মাধ্যমে প্রকাশিত সত্যে বিশ্বাস করতে পারি।

বাক্যের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, প্রক্ষালন পাত্র পিত্তলের তৈরী ছিল। বাইবেলে পিত্তল বিচারের নিদর্শন। তেমনি, প্রক্ষালন পাত্র পিত্তল দ্বারা তৈরী মানে, যখন আমরা ব্যবস্থারূপ আয়নায় নিজেদেরকে দেখি, আমরা বুঝতে পারি আমরা বিচারদন্ডের যোগ্য। এইজন্য সমাগম তাম্বুতে সেবারত মহিলাদের পিত্তলের দর্পণ দ্বারা প্রক্ষালন পাত্র তৈরী করা হয়েছিল। প্রভু আমদের পরিত্রাণ করেছেন এবং আমাদের পাপ বহনের কারণে তিনি বিচার এড়াতে পারেননি, বরং ভয়ানক বিচারে বিচারিত হয়েছেন। তিনি বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের পাপ বহন করেছেন এবং সেই পাপের কারণে ক্রুশীয় মৃত্যু বরণ করেছেন। বাক্যের মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি যে, তিনি এই পৃথিবীতে এসে বাপ্তিস্ম গ্রহনের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন, সেই সমস্ত পাপ বহন করে ক্রুশে গিয়েছেন, আমাদের প্রাপ্য বিচার ও শাস্তি তাঁর উপরে অর্পিত হয়েছে। এবং এই সত্য হৃদয়ে গ্রহণ করে এবং তাতে বিশ্বাসও করে আমরা পরিত্রাণ পেয়েছি। আপনার ধারনা কি? আপনি কিভাবে পরিত্রাণ পেয়েছেন?

একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের অনুসারীরা কাল্পনিক বিষয় অনুসরন করে, তারা বলে যে, সদস্যদের অবশ্যই তাদের পরিত্রাণের দিন- তারিখ ও সময় সঠিকভাবে বলতে হবে। এই সম্প্রদায়ের একজন পালককে জনসমকে স্বীকার করতে হয়ে ছিল যে, যখন তিনি পাহাড়ে গিয়ে প্রার্থনার মাধ্যমে নিজেকে কিছু না হিসাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন, তখন তিনি পরিত্রাণ পেয়েছেন। তিনি খুব গর্বের সঙ্গে বললেন যে, তিনি তাঁর পরিত্রাণের কখনো ভোলেন না। অবশ্যই এর সাথে মিহি মসিনা সূতার কোন সম্পর্ক নেই; এটা শুধুই আবেগ। এই পালকের বিশ্বাসের সাথে নীল, বেগুনে, লাল ও মিহি মসিনা সূতার কোন সম্পর্ক নেই। ঈশ্বরের বাক্যের মাধ্যমে যে পরিত্রাণ, এই সম্প্রদায়ের সেই পরিত্রাণের সাথে কোন সম্পর্ক নেই; বরং এটা তাদের নিজেদের তৈরী ধারনা মাত্র।

মানুষকে সম্মহিত করা সম্ভব। লোকে যদি অনবরত বলতে থাকে যে, তারা পাপহীন, সব সময় যদি সেই চিন্তা করতে থাকে, তারা নিজেরাই সম্মহিত হয়ে পড়বে, নিজের চিন্তায় পাপহীন মনে হবে। সব সময় যদি তারা এই চিন্তা রোমন্থন করে, এক সময় হয়তো তারা নিজেদেরকে পাপহীন ভাবে, কিন্তু এই অনুভূতি দীর্ঘস্থায়ী হয়। তক্ষণই তারা আবার বলতে থাকে, “আমি পাপহীন, আমি পাপহীন।” কী ভয়ানক অসত্য, অজ্ঞ, আত্মকেন্দ্রিক এবং সংস্কারাবদ্ধ বিশ্বাস এটা!

বোনা মিহি মসিনা সূতা হল পুরাতন ও নূতন নিয়মে ঈশ্বরের বাক্যের নিদর্শন। সমাগম তাম্বু, পবিত্র স্থান এবং মহা পবিত্র স্থানের দরজাগুলো নীল, বেগুনে, লাল ও মিহি মসিনা সূতায় বোনা ছিল। এর। দ্বারা প্রকাশ পায় যে, যীশু আমাদের পরিত্রাণের দরজা, এবং পুরাতন ও নূতন নিয়মের বাক্য অনুযায়ী তিনিই আমাদের প্রকৃত ত্রাণকর্তা। ঈশ্বর যে নিশ্চিত পরিত্রাণ আমাদের দিয়েছেন, তার জন্য আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ!

 এই কারণে যখন আমি প্রার্থনা করি, আমি কখনো আবেগে নির্ভর করি না বা নিজেকে দেখাতে চাই না। ঈশ্বরের কাছে সমস্ত কিছু উজাড় করে দিয়ে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমি প্রার্থনা করি। “পিতঃ দয়া করে আমাকে অনুগ্রহ কর। আমি যেন সারা পৃথিবীতে সুসমাচার প্রচার করতে পারি। আমার সব সহ-প্রচারক এবং বিশ্বাসীগণকে রক্ষা কর। এমন কর্মী দাও যারা সুসমাচার প্রচার করতে পারে, এই সুসমাচার প্রচার করার সুযোগ দাও। বিশ্বাসীরা যেন তোমার বাক্য বুঝতে পারে এবং বিশ্বাস করতে পারে।” এইটুকুই আমি বলি এবং প্রার্থনা করি। আমার আবেগকে আপ্লুত করে বা ক্রন্দন করে আমি প্রার্থনা করি না। ঐ সব আমার প্রার্থনার অংশ নয়।

কিছু কিছু লোক আছে যারা নিজেদের আবেগকে জাগ্রত করার জন্য খুব চেষ্টা করে, এমন কি বহু দিন পূর্বে মৃত তাদের পিতা- মাতাকে স্মরণ করে যেন তাদের চোখ দিয়ে জল বের হয় এবং অন্যেরা তা দেখতে পায়। এই ধরণের উদ্ভাবিত প্রার্থনা ঈশ্বরের কাছে আবর্জনার স্তুপ স্বরূপ যা তিনি উদগীরণ করে দিবেন। যীশুর ক্রুশীয় যাতনাকে স্মরণ করার মাধ্যমে মানুষ তার আবেগকে জাগ্রত করতে চায়, এবং অন্ধভাবে চিৎকার করতে থাকে, “হে প্রভু, আমি তোমাকে বিশ্বাস করি।”

কিন্তু এর দ্বারা কি প্রমাণিত হয় যে, এই লোকদের বিশ্বাস দৃঢ়? যদি আপনি আপনার পাপ সম্পর্কে চিন্তা করেন এবং এই বলে নিজের আবেগকে জাগ্রত চান যে, “আমি পাপ করেছি, হে প্রভু, আমাকে সাহায্য কর, যেন আমি ধার্মিকতার সাথে বেঁচে থাকতে পারি,” তাহলে এর দ্বারা নিজেকে আপনি হয়তো আবেগ আপ্লুত করে তুলতে পারবেন। কারণ এই ধরণের আবেগিক অভিজ্ঞতা এবং কান্নাকাটি আপনার বিষন্নতাকে দূর করে দিতে পারে, এই ভাবে অনেকে নিজেকে সতেজ মনে করে এবং তাদের ধারণা এটাকেই বিশ্বাস বলে। যদিও তাদের জীবন সমস্যায় পরিপূর্ণ, তাই এই অভিজ্ঞতার দ্বারা তারা অনন্ত কিছুটা স্বস্তি অনুভব করে, এবং এই ভাবেই তারা তাদের ধর্মীয় জীবন-যাপন করে।



আপনাকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, প্রভু নীল,

বেগুনে, লাল এবং মিহি মসীনা সূতা দ্বারা আমাদের কাছে 

এসেছেন


আমাদের প্রভু এই পৃথিবীতে এসেছিলেন। সুতরাং আপনার ইন্দ্রিয়ের উপরে নির্ভর করা উচিত নয়, কিন্তু ঈশ্বরের বাক্য শ্রবণ করা উচিত। আপনি হৃদয়ে ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করেন কি-না সেটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রার্থনার সময় কখনো আবেগনির্ভর হবেন না। বরং আবেগকে যথাযথ নিয়ন্ত্রনে রাখবেন। কেন? কারণ এই পৃথিবীতে অনেক ভ্রান্ত লোক আছে যারা এই সমস্ত আবেগী লোকদের খুঁজে বেরায় এবং তাদের আবেগের সুযোগ নেয়। কারণ আবেগের পিছু ছুঁটতে গিয়ে অনেকে প্রায়ই তাদের বুদ্ধিমত্তা হারিয়ে ফেলে, “মহা আত্মিক উদ্দীপনা” নামে যখন কোন উদ্দীপনা সভা হয়, অধিকাংশ সময়ই সেখানে অংশগ্রহণকারীদের আবেগকে জাগ্রত করার চেষ্টা করা হয়।

 যাহোক, এখন যেহেতু আমি নূতন জন্ম লাভ করেছি, চাইলেও আমি ঈশ্বরের বাক্য প্রচারের জন্য এই জাতীয় উদ্দীপনা সভা পৃথিবীর কোথায় করতে পারব না। কারণ আমি সত্যের বাক্যে বিশ্বাসের মাধ্যমে নূতন জন্ম লাভ করেছি; অনেক পূর্বেই আমি আমার আত্মিক জীবনের জন্য ক্ষতিকারক আবেগী স্বভাবকে দূর করেছি।

 আমরা, ধার্মিকেরা ঈশ্বরের বাক্য শ্রবণ করি, আমাদের নিজেদের বুদ্ধি ব্যবহার করে এবং হৃদয়ে বিশ্বাস করি, কিন্তু আবেগ দ্বারা তাড়িত হই না। ঈশ্বরের বাক্য কেউ নির্ভেজাল ভাবে উপস্থাপন করছে কি-না, সেই ব্যক্তি নিজেও সেই বিশ্বাসে আছে কি-না, তা বুঝতে পেরে আমরা ও তৎক্ষণাত সত্যে বিশ্বাস করি। কারণ আমরা নীল, বেগুনে, লাল এবং মিহি মসীনা সূতার সত্যে বিশ্বাস করি এবং পবিত্র আত্মা আমাদের হৃদয়ে আছেন; আমরা বুঝতে পারি যে, আবেগের তাড়না প্রকৃত সত্য থেকে সম্পূর্ণ পৃথক বিষয় এবং আমরা হৃদয়ে সত্যকে গ্রহণ করি।

 নীল, বেগুনে, লাল এবং মিহি মসীনা সূতা দ্বারা যীশু এই পৃথিবীতে এসেছিলেন। কত চমৎকার এই সত্য? ঈশ্বরের যে প্রেম আমাদের পরিত্রাণ দিয়েছে তা কত বিস্ময়কর? ঈশ্বরের বাক্যে লিখিত যীশুর সাধিত চারটি কাজের মাধ্যমে আমরা সবাই বিশ্বাস করেছি যে, যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপর তুলে নিয়েছেন, ক্রুশে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং সমস্ত ধার্মিকতা সাধন করার মাধ্যমে তিনি আপনাকে পরিত্রাণ করেছেন।

আপনি কি এই সত্য হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করেন? যারা সুসমাচার প্রচার করে, তারা অবশ্যই মিহি মসীনা সূতায় তা প্রচার করবে, অর্থাৎ পুরাতন ও নূতন নিয়ম অনুসারে ঈশ্বরের বাক্য, এবং নীল, বগুনে ও লাল সূতার সত্য। এবং যারা এই শোনে, তারা সর্বান্তকরণের তা গ্রহণ ও বিশ্বাস করবে।



প্রক্ষালন পাত্রের জল আমাদের পাপ ধুয়ে দেয়


 বাপ্তিস্মের মাধ্যমে যীশু আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়ে তা ধৌত করেছেন। যীশুর বাপ্তিস্ম হল প্রক্ষালন পাত্রের নিদর্শন। আমরা যারা পাপের কারণে নরক যোগ্য ছিলাম, এর দ্বারা আমরা পরিষ্কৃত হয়েছি এবং ঈশ্বরের সম্মুখে দাঁড়ানোর শক্তি পেয়েছি। কারণ বাপ্তিস্মের মাধ্যমে যীশু আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন। এই কারণেই তিনি সেই সব পাপ বহন করে ক্রুশে গিয়েছেন এবং মৃত্যু বরণ করেছেন। যীশুর বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশ- উভয়ই আমাদের জন্য যীশুর বিচার দন্ড বহন করে। বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশের দ্বারা যীশু আমাদের সবার পরিত্রাণ সাধন করেছেন।

 অনুতাপের প্রার্থনা করার মাধ্যমে আমরা আমাদের পাপ থেকে ধৌত হতে পারি না। যেহেতু যীশু তাঁর বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের পাপ নিজের উপরে নিয়ে ধৌত করেছেন। এই বাক্য শুনে এবং তাতে বিশ্বাস করে, অর্থাৎ যীশুর কাজে বিশ্বাস করে আমরা পাপের বিচার দন্ড থেকে মুক্ত হয়েছি। আমাদের বিচার দন্ড বহন করার জন্য যীশুর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ, তাঁর বাপ্তিস্মে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা আমাদের বিচার দন্ড থেকে রেহাই পেয়েছি। বাস্তবে কি আমরা বিশ্বাসে পরিত্রাণ পেয়েছি। এক দিকে পরিত্রাণ খুবই সহজ বিষয়। যদি আমরা পরিত্রাণের প্রেম ও অনুগ্রহে বিশ্বাস করি তবে আমরা উদ্ধার পাই, কিন্তু বিশ্বাস না করলে আমরা পরিত্রাণ পাই না।



ঈশ্বরের সাধিত পরিত্রাণ কার্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আমরা

কোন ভাবেই উদ্ধার পেতে পারি না


 আমাদের পরিত্রাণের জন্য আমরা কিছুই করতে পারি না যদি ঈশ্বর থেকে না হয়। যেহেতু আমাদের প্রভু জগত সৃষ্টির পূর্বেই এই ভাবে আমাদের উদ্ধার করতে চেয়েছেন এবং পরিত্রাণ কার্য সাধন করেছেন, তাই ঈশ্বরের সিদ্ধান্তের উপরেই সব কিছু নির্ভর করে। পিতা ঈশ্বর তাঁর পুত্র এবং পবিত্র আত্মার মাধ্যমে আমাদের উদ্ধার কতে চেয়েছেন এবং নিরুপিত সময়ে তিনি তাঁর একজাত পুত্রকে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। যীশুর বয়স ৩০ বছর পূর্ণ হলে পরিত্রাণ কার্য সাধন করা সময় পূর্ণ হল, এবং তখন পিতা তাঁকে বাপ্তাইজিত করালেন, ক্রুশীয় মৃত্যু অনুমোদন করলেন এবং পুনরুত্থিত করলেন। এই ভাবে আমাদের পরিত্রাণ সাধন করলেন। পুরাতন এবং নূতন নিয়মের বাক্যের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি আমাদের জন্য প্রভুর সাধিত কাজ সম্পর্কে। হৃদয় দ্বারা বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা পরিত্রাণ পেয়েছি।

আপনি কি বাইবেলের বাক্যকে ঈশ্বরের বাক্য হিসাবে বিশ্বাস করেন? বাক্যই ঈশ্বর, সৃষ্টির আদি থেকে তিনি এবং তাঁর বাক্য আছেন। পুরাতন এবং নূতন নিয়ম অর্থাৎ ঈশ্বরের বাক্যের মাধ্যমে আমরা তাঁকে জানতে পেরেছি এবং তাঁর উদ্দেশ পেয়েছি। এবং পুরাতন এবং নূতন নিয়মে আমরা বুঝতে পারি এবং বিশ্বাস করি যে, তিনি নীল, বেগুনে, লাল এবং মিহি মসীনা সূতার দ্বারা আমাদের উদ্ধার করেছেন। যারা এই সত্যে বিশ্বাস করে, তারাও উদ্ধার পেয়েছে, তারা সাক্ষ্য দিতে পারে যে, ঈশ্বরের বাক্য নিশ্চিতভাবে পরাক্রমী। আমাদের ক্ষুদ্র চিন্তা দ্বারা আমরা ঈশ্বরের বাক্যকে বিচার করতে বা মাপতে পারি না, বরং তার পরিবর্তে আমরা বুঝতে পারি যে, কত নিশ্চিতভাবে তিনি আমাদের উদ্ধার করেছেন।

 আমার প্রত্যাশা এবং প্রার্থনা এই যে, পুরাতন এবং নূতন নিয়মের বাক্যের মাধ্যমে অর্থাৎ নীল সূতা (যীশুর বাপ্তিস্ম), বেগুনে (যীশুই রাজাদের রাজা) এবং লাল সূতা (ক্রুশ) এবং মিহি মসীনা সূতায় (পুরাতন এবং নূতন নিয়মের বাক্য) আপনি বিশ্বাস করবেন। আপনি যদি ঈশ্বরের বাক্য থেকে দূরে থাকেন বা বাকী জীবনে নিজের চিন্তা দ্বারা ঈশ্বরের বাক্যে বিচার করেন, আপনি কখনোই উদ্ধার পাবেন না।

যদি আপনি বুঝতে পারেন যে, আপনি ঈশ্বরের বাক্য ভাল জানেন না, তাহলে আপনি মনোযোগ সহকারে আপনার পূর্বসূরী বিশ্বাসীদের কথা অনুসরন করুন। পালক, কার্যকারী বা সাধারন বিশ্বাসী যার দ্বারাই আপনি প্রচার শোনেন, তা যদি ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সঠিক হয়, আপনাকে তা সত্য বলে স্বীকার করতে হবে এবং হৃদয়ে বিশ্বাস করতে হবে।

যারা ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করা সহজ বলে প্রচার করে না, কিন্তু তারা ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সত্য বলে প্রচার করে। এই কারণে তারা ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সত্য জ্ঞান প্রচার করে- অর্থাৎ জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করে, নীল, বেগুনে, লাল এবং মিহি মসীনা সূতার দ্বারা প্রকাশিত সত্য প্রচার করে। কার কাছ থেকে শুনেছেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যদি তা প্রকৃত ঈশ্বরের বাক্য হয়, তবে একমত হয়ে গ্রহণ করতে কোন বাধা থাকে না, কারণ ঈশ্বরের বাক্যে বিন্দু মাত্র ভুল বা ভ্রান্তি থাকতে পারে না।

আমাদের অবশ্যই ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করতে হবে। “বিশ্বাস করা” অর্থ কি? তার মানে গ্রহণ করা। আস্থা স্থাপন করা। অন্য কথায়, যেহেতু আমাদের প্রভু বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন, তাই আমরা আমাদের সব দূর্বলতার জন্য তাঁর উপরে নির্ভর করি। “প্রভু কি সত্যিই এই কাজের মাধ্যমে আমাকে উদ্ধার করেছেন? আমি তোমাতে বিশ্বাস ও নির্ভর করি।” এইভাবে বিশ্বাস করাই হল প্রকৃত বিশ্বাস।

পৃথিবীর ধর্মতত্ত্ববিদদের মধ্যে এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন যে সঠিকভাবে জানে এবং বিশ্বাস করে। প্রক্ষালন পাত্রে কাচে পৌঁছানোর পূর্বেই তারা সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের ফটকে আটকে যায়, প্রাঙ্গনে প্রবেশ করতে পারে না। যখন তারা সমাগম তাম্বুর উপরে কথা বলে, তারা প্রাঙ্গনের দ্বারকে ধুর্ত ভাবে এড়িয়ে যাওয়া চেষ্টা করে, যখন সমাগম তাম্বুর সম্বন্ধে বই লেখে, তারা প্রাঙ্গণের বেষ্টনির ৯ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট্য বিশাল ফটক উপেক্ষা করে।

কখনো কখনো কেউ কেউ সাহসের সাথে সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গনের ফটক সম্বন্ধে প্রচার করে, কিন্তু যেহেতু তারা এর মূল উপাদান নীল সূতা সম্পর্কে জানে না, তাই বলে, “নীল হল আকাশে রং।” তাই তারা প্রচার করে যে, নীল সূতা প্রকাশ করে যে, যীশুই ঈশ্বর, লাল সূতা দ্বারা ক্ৰশে সেচিত যীশুর রক্তকে প্রকাশ করা হয়েছে, এবং এই ভাবে ধুর্ততার সঙ্গে তারা সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের দরজা সম্বন্ধে এড়িয়ে যায়। বেগুনে কি প্রকাশ করে? এর দ্বারা প্রকাশিত হয় যে, যীশু রাজাদের রাজা, স্বয়ং ঈশ্বর। বেগুনে সূতার মধ্যে যীশুর স্বর্গীয় সত্বা যথার্থরূপে প্রকাশ পেয়েছে, তাই অন্য রং দ্বারা এই সত্যকে বিকৃত করার কিছু নাই।

নীল সূতার বিশ্বাস হল এই যে, যীশু এই পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং যোহনের দ্বারা বাপ্তাইজিত হয়ে একবারেই আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানের ধর্মতত্ত্ববিদেরা, যেহেতু তারা যীশুর বাপ্তিস্ম কে গুরুত্ব দেয় না, তাই তারা সেই সম্বন্ধে জানেও না এবং প্রচারও করে না। যারা বিশ্বাস করে না যে, যীশু নীল, বেগুনে, লাল এবং মিহি মসীনা সূতা দ্বারা এই পৃথিবীতে এসেছিলেন। তারা নূতন জন্ম লাভ করে না, কারণ তারা জানে না যে, বাপ্তিস্মের মাধ্যমে যীশু নিজের উপরে সমস্ত পাপ ও দন্ড বহন করেছেন। তেমনি ভাবে তারা আত্মিকভাবে অন্ধ হয়ে গেছে, বাক্যের সঠিক ব্যবহার জানে না এবং এই জন্য নিজেদের ধ্যান ধারণার ভিত্তিতে ঈশ্বরের বাক্য ব্যাখ্যা করে। তারা প্রচার করে, “যীশুতে বিশ্বাস কর। তাহলে পরিত্রাণ পাবে। এখন থেকে নম্র এবং বিনয়ী হতে পারবে।” যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাসকে তারা সাধারণ ধর্মীয় বিশ্বাসে পরিণত করে, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের সৎকর্মের উপরে বেশি জোর দেয়।

যেহেতু মানুষ জানে যে, শত চেষ্টায় সে ভাল হতে পারে না, তাই এই ধরণের প্রতারণার কথায় ভাল হওয়ার জন্য খুব সহজেই তারা ধরা দেয়। ধর্ম সেই পুরানো বিষয় শিক্ষা দেয়, “চেষ্টা করলে ভাল হতে পারবে।” অথবা “পবিত্র হওয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা।” সব ধর্মে একটি সাধারণ ব্যক্তব্য রয়েছে যে, তারা মানুষের সুন্দর চেষ্টা, চিন্তা এবং ইচ্ছাকে খুব উঁচুতে স্থান দেয়। বৌদ্ধ ধর্মের উদাহরণ কেমন? বৌদ্ধ ধর্মে মানুষের নিষ্ঠা এবং ইচ্ছাকে সবিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, নিজেদের চেষ্টায় পবিত্র হওয়ার জন্য শিষ্যদেরকে শিক্ষা দেওয়া হয়, বলা হয়, “হত্যা কর না। সত্যের অন্বেষণ কর, ভাল হয়।” এক দিকে এই শিক্ষা খ্রীষ্টিয় মতবাদের সাথে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ। খ্রীষ্ট ধর্ম এবং বৌদ্ধ ধর্ম যে কারণে খুব কাছাকাছি মনে হয়, অথচ সম্পূর্ণ বিপরীত,তাহল দুটোই সাধারণ ধর্ম।

 ধর্ম এবং বিশ্বাস প্রত্যেকটাই একটি অপরটি থেকে সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন। প্রকৃত বিশ্বাস হল হৃদয়ে এই সত্য গ্রহণ করা যে, ঈশ্বরের ধার্মিকতার মাধ্যমে আমাদের প্রভু আমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে উদ্ধার করেছেন, তাঁর অনুগ্রহ দান করেছেন। বিশ্বাস হল হৃদয়ে এই সত্য গ্রহণ করা যে, প্রভু এই পৃথিবীতে এসে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নেওয়ার উদ্দেশে বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন এবং সেই পাপ বহণ করে ক্রুশে বিচারিত হয়েছেন। এই সত্যে বিশ্বাস করা যে, প্রভু জল ও আত্মার মাধ্যমে আমাদেরকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করেছেন। আপনি কি বিশ্বাস করেন? অবশ্যই আমাদের হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করতে হবে।



আপনাকে এবং আমাকে ঈশ্বর ইতিমধ্যেই 

পরিত্রাণ দিয়েছেন


তেমনি ভাবে এই সত্য আমাদেরকে হৃদয়ে গ্রহণ এবং বিশ্বাস করতে হবে। ঈশ্বরের প্রকৃত বাধ্য সন্তানেরা ঈশ্বরের সাক্ষাতে তাই করবে, অন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নয়। কেননা ঈশ্বর আপনাকে প্রেম করেছেন, তাঁর একজাত পুত্রকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, আপনার পাপ তুলে নেওয়ার তাঁকে বাপ্তাইজিত করেছেন, তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ এবং রক্ত সেচন করতে অনুমোদন করেছেন, বিচারে তাঁর মৃত্যু অনুমোদন করেছেন এবং তাঁকে পুনরুত্থিত করেছেন। এভাবেই তিনি আপনাকে আপনার পাপ থেকে উদ্ধার করেছেন।

তাহলে আপনি যদি এই সত্যে বিশ্বাস না করেন, তবে ঈশ্বর কি ভাববেন? এখনো যদি আপনি তাঁর বাধ্য পুত্র বা কন্যা যদি তাঁকে সন্তুষ্ট করতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, তাঁর পুত্রের মাধ্যমে তিনি আপনার সমস্ত পাপ মুছে দিয়েছেন এবং আপনাকে পাপ থেকে মুক্ত করেছেন। যদি আপনি কৃতজ্ঞতার সাথে হৃদয়ে বিশ্বাস করেন, মুখে তা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে। আপনি কি তাঁতেও বিশ্বাস করতে চান, কিন্তু মনে হয় হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করা আপনার পক্ষে কষ্টকর। তাহলে মুখে আপনার বিশ্বাসকে স্বীকার করার চেষ্টা করুন যখন আপনি এই ভাবে স্বীকার করবেন যে, আপনি বিশ্বাস করেন, তখন আপনার বিশ্বাস রোপিত হবে এবং আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। যারা সাহসী বিশ্বাস তাদের অধিকার।

ধরুণ, আমার কাছে একটি সত্যিকারের হীরার আংটি আছে। মনে করুন, আমি আপনাদেরকে এই আংটিটি দিলাম, আপনাদের মধ্যে একজন বলল আমি বিশ্বাস করি না যে, এটা আসল হীরার আংটি। আংটিটি সত্যিকারের হীরার হওয়া সত্ত্বেও যে লোক বিশ্বাস করল না, তার কাছে সেটা হীরার নয়, এবং সেই জন্য সে হীরার আংটির মালিক হওয়ার সুযোগ হারাল।

 বিশ্বাসও এই রকম। যদি কোন হীরার বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি সেই লোকদের মধ্যে প্রমাণ করত যে, আংটিটি সত্যিকারের হীরার তৈরী, তাহলে তারা তা বিশ্বাস করত। ঈশ্বর তাঁর লিখিত বাক্যে আমাদের বলেছেন যে, তাঁর দেওয়া পরিত্রাণ সত্য। তাঁর বাক্যের সাক্ষ্য অনুযায়ী যারা পরিত্রাণে বিশ্বাস করে, তারা বিশ্বাসের লোক। প্রকৃত সত্য হিসাবে এটা বিশ্বাস করা আমার পক্ষে কঠিন, কিন্তু সর্বশক্তিমান হিসাবে তুমি যখন বলছ যে এটা সত্য, আমি তা বিশ্বাস করছি।” এভাবে লোকে যখন বিশ্বাস করে তখন তারা বিশ্বাসের লোক হয় এবং মহামূল্যবান দান তাদের প্রতিজ্ঞাত সম্পদ হয়।

 অন্য দিকে, ভিন্ন প্রকারেরও বিশ্বাস আছে। ধরুণ একজন প্রতারক একটি নকল হীরার আংটি নিয়ে এল, এর উজ্জল বর্ণতে মোহিত হয়ে একজন সেটা কিনল, ভাবল যে এটা একটা সত্যিকারের হীরার আংটি। এই ব্যক্তিটি সম্পূর্ণ রূপে বিশ্বাস করল যে, সে একজন জ্ঞানী ব্যক্তির মত কাজ করেছে, কিন্তু আসলে সে প্রতারিত হয়েছে। লোকেরা যখন নকল হীরাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, যখন সেটা সত্য নয়, তখন সেই নকল হীরাটি আসল হীরা হিসাবে প্রতীয়মান হয় কারণ তারা সেই রকম বিশ্বাস করেছে। কিন্তু আসলে তারা যা পেল, তা নকল ছাড়া কিছুই না। অনেক লোক আছে যারা মিথ্যায় বিশ্বাস করে। যদিও তারা তাদের বিশ্বাস সম্পর্কে নিশ্চিত, তবুও তা ভ্রান্ত, ভিত্তিহীন এবং রহস্যজনক, কারণ তা ঈশ্বরের বাক্যের মাধ্যমে আসে নাই।

ঈশ্বর বলেন, “আমাকে ছাড়া অন্য কোন দেবতার আরাধনা করো না।” ঈশ্বরের বাক্যই ঈশ্বর এবং বাক্য বলে আমরা যদি জল ও আত্মা হতে জন্ম গ্রহণ না করি, তবে ঈশ্বরের রাজ্য দেখতে পাব না (যোহন ৩:৫)। ঈশ্বর আমাদের বলছেন যে, প্রথমত আমরা যদি নীল, বেগুনে, লাল এবং মিহি মসীনা সূতার মাধ্যমে সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণের ফটকের ভিতর দিয়ে না যাই, তবে আমরা সমাগম তাম্বুর প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারব না। এবং যারা প্রথমে প্রক্ষালন পাত্রের জল দ্বারা হাত ও পা পরিষ্কার না করে তারা সমাগম তাম্বুতে প্রবেশ করতে পারে না। কেবলমাত্র এই বাক্যই সত্য, এছাড়া অন্য কিছু মিথ্যা।

সত্যে বিশ্বাসই প্রকৃত বিশ্বাস, অন্য কিছুতে বিশ্বাস অলীক। মানুষ কত আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করে, সেটা বিষয় নয়, কিন্তু যেটা ঈশ্বরের বাক্য নয়, তা কখনো ঈশ্বরের বাক্য নয়। যীশু যখন বলেন যে, তিনি তাঁর বাপ্তিস্ম ও ক্রুশীয় মৃত্যুর মাধ্যমে আপনার পাপ দূর করেছেন, আপনাকে শুধু সেই কথা বিশ্বাস করতে হবে। যিনি বলেন যে তিনি এই কাজ সাধন করেছেন, তিনি ঈশ্বর তাঁর বাক্যে বিশ্বাস প্রকৃত বিশ্বাস। আমাদের প্রভু যদি আসলেই এই কাজ না সাধন করতেন তাহলে তা তাঁর ভুল হত, আপনার বিশ্বাস ভুল নয়। অন্য কথায়, প্রভু যদি নিশ্চিত ভাবেই সাধন করে থাকেন, এবং আপনি যদি বিশ্বাস না করেন এবং উদ্ধার না পান, তবে তা সম্পূর্ণরূপে আপনার নিজের দায়। এই কারণে আমাদের যা করা উচিত তাহল বিশ্বাস করা উচিত। মন্ডলীর মাধ্যমে ঈশ্বর কি বলছেন তাতে আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। আপনি কি বিশ্বাস করেন?

মন্ডলীর মাধ্যমে প্রচারিত বাক্য কি? এটা হল সেই বাক্য যা বলে, নীল, বেগুনে, লাল এবং মিহি মসীনা সূতার মাধ্যমে যীশু খ্রীষ্ট এসেছিলেন। মন্ডলীর মাধ্যমে ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করা হয়, বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে যীশু নিজের উপরে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন, তিনিই ঈশ্বর, এবং আমাদের পাপের শাস্তি তিনি ক্রুশে ভোগ করেছেন। যীশু আমাদের পরিত্রাণ করেছেন,- এই সত্যে বিশ্বাসই আসল নিশ্চয়তা প্রাপ্ত হীরা।

যখন প্রথমে আমরা ঈশ্বরের সংকল্প জানতে পারি এবং সমাগম তাম্বুতে প্রকাশিত আত্মিক অর্থ বুঝতে পারি, তখন আমরা তা প্রচার করি, এটা খুবই সহজ বিষয়। কিন্তু যদি আমাদের অন্বেষণ করতে হত, যদি জানতে না পারতাম, সমাগম তাম্বুর শুধু বাহ্যিক বিষয়গুলো জানতাম, এর হিব্রু প্রতিশব্দ জানতাম বা ঐতিহাসিক পটোভুতি জানতাম, তাতে আমাদের কোন উপকার হত না বরং কেবল মাথা ব্যথা বাড়ত।

যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস করুন। যীশু যে বাপ্তিস্ম গ্রহন করেছিলেন তার দ্বারা আমাদের সমস্ত অন্ধকার এবং হৃদয়ে কলুষতা পরিষ্কার করেছেন। বাপ্তিস্ম মানে পাপ ধুয়ে ফেলা, অর্পণ করা, সমাহিত করা, স্থানান্তর করা এবং আচ্ছাদন করা। আমাদের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নেওয়ার জন্যে যীশু বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন। যারা এখন এই সত্যে বিশ্বাস করে না, তারা মারা পড়বে এবং নরকে যাবে। “তুমি প্রক্ষালন কার্যের জন্য পিত্তলময় এক প্রক্ষালন পাত্র ও তাহার পিত্তলময় খুরা প্রস্তুত করিবে, ... বেদির নিকটে আগমন কালে আপন আপন হস্ত ও পদ ধৌত করিবে, তাহারা যেন না মরে, এই জন্য করিবে; ইহা তাহাদের পক্ষে চিরস্থায়ী বিধি, পুরুষানুক্রমে হারোণ এবং তাহার বংশের নিমিত্ত” (যাত্রা পুস্তক ৩০: ১৮,২১)। বিশ্বাস না করা মানে অভিশপ্ত হওয়া। বিশ্বাস না করা মানে নরকে নিক্ষিপ্ত হওয়া। আপনি যদি বিশ্বাস না করেন, তবে যিহোবার অবিশাপ এবং ধংস আপনার উপরে নেমে আসবে এবং আপনি অনন্ত আগুনে নিক্ষিপ্ত হবেন।

 “আপন আপন হস্ত ও পদ ধৌত করিবে, তাহারা যেন না মরে।” মহাযাজকে ঈশ্বর এই কথা বলেছিলেন, বলেছিলেন যে এটা একটি অনন্তকাল স্থায়ী ব্যবস্থা যা তার পরবর্তী বংশধরেরা অবশ্যই পালন করবে। যীশুকে যে তার ত্রাণকর্তা হিসাবে বিশ্বাস করতে চায়, তাকে অবশ্যই তাঁর বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশীয় রক্তে বিশ্বাস করতে হবে। যারা সাহসের সাথে এটা গ্রহণ করে তারা বিশ্বাসের অধিকরী হয়। আপনি যদি বিশ্বাসে হৃদয়ে গ্রহণ করেন তবে পরিত্রাণ আপনার হবে। যখন আমরা বিশ্বাস করি, কেবলমাত্র তখনই সত্য আমাদের জন্য কার্যকরী হয়। ঈশ্বর যা আমাদের বলেছেন অবশ্যই তা বিশ্বাস করতে হবে। অবিশ্বাসের চেয়ে বড় কোন বাধা হৃদয়ের নাই।

 ঈশ্বর বললেন যে, যখন যাজকেরা তাঁর সম্মুখে আসবে, তখন তারা প্রক্ষালন পাত্রের জল দ্বারা অবশ্যই তাদের হাত ও পা ধৌত করিবে, কিন্তু তবুও অনেক লোক দেখা যায় যাদের মাঝে প্রক্ষালন পাত্র দ্বারা হাত ও পা ধোয়ার বিশ্বাস নেই। প্রক্ষালন পাত্রে প্রকাশিত সত্যে যাদের বিশ্বাস নেই, ঈশ্বরের সাক্ষাতে তারা মৃত্যু মুখে পতিত হবে। হৃদয় দিয়ে জল ও আত্মার সুসমাচার বিশ্বাস করুন, পরিষ্কৃত হোন এবং ঈশ্বরের সম্মুকে উপস্থিত হোন, মৃত্যু থেকে রেহাই পান এবং অনুগ্রহ-দান হিসাবে ঈশ্বরের রাজ্য গ্রহণ করুন। আপনি ঈশ্বরের সম্মুখে যতই যুক্তি দেখান না কেন, যদি আপনাকে দেওয়ার সুযোগ গ্রহণ না করেন এবং বিশ্বাস না করেন, তাহলে অবশ্যই বিচারিত হবেন। আমি প্রত্যাশা এবং প্রার্থনা করি, যেন আপনাদের মধ্য বিশ্বাস না করার কারণে কেউ যেন মৃত্যু মুখে পতিত না হয়।

 যদি আপনি পরিত্রাণের এই সত্যে বিশ্বাস না করেন যীশু তাঁর বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশীয় রক্ত দ্বারা আপনার পাপ মুছে দিয়েছে, তবে আপনার মারাত্মক ক্ষতি হবে। আপনি কি বিশাস করেন? প্রক্ষালন পাত্রে মাধ্যমে ঈশ্বর আমাদেরকে পাপ এবং বিচার দন্ড থেকে উদ্ধার করেছেন, তাই তাঁর ধন্যবাদ করি।

সমাগম তাম্বুর বাকী অংশের ব্যাখ্যা পরবর্তী বইয়ে দেওয়া হবে। আমি আশা করি, এই বইয়ের বিষয়বস্তুর মাধ্যমে আপনি ঈশ্বরের সন্তান হওয়ার অধিকার পাবেন।