Sermons

[2-1] < প্রকাশিত বাক্য ২:১-৭> ইফিষীয় মন্ডলীর প্রতি পত্র



< প্রকাশিত বাক্য ২:১-৭>


“ ইফিষস্থ মণ্ডলীর দূতকে লিখ;—যিনি নিজ দক্ষিণ হস্তে সেই সপ্ত তারা ধারণ করেন, যিনি সেই সপ্ত সুবর্ণ দীপবৃক্ষের মধ্যে গমনাগমন করেন, তিনি এই কথা কহেন; আমি জানি তোমার কার্য্য সকল এবং তোমার পরিশ্রম ও ধৈর্য্য; আর আমি জানি যে, তুমি দুষ্টদিগকে সহ্য করিতে পার না, এবং আপনাদিগকে প্রেরিত বলিলেও যাহারা প্রেরিত নয়, তাহাদিগকে পরীক্ষা করিয়াছ ও মিথ্যাবাদী নিশ্চয় করিয়াছ; এবং তোমার ধৈর্য্য আছে, আর তুমি আমার নামের জন্য ভার বহন করিয়াছ, ক্লান্ত হও নাই। তথাচ তোমার বিরুদ্ধে আমার কথা আছে, তুমি আপন প্রথম প্রেম পরিত্যাগ করিয়াছ। অতএব স্মরণ কর, কোথা হইতে পতিত হইয়াছ, এবং মন ফিরাও ও প্রথম কর্ম্ম সকল কর; নতুবা যদি মন না ফিরাও, আমি তোমার নিকটে আসিব ও তোমার দীপবৃক্ষ স্বস্থান হইতে দূর করিব। কিন্তু এইটী তোমার আছে; আমি যে নীকলায়তীয়দের কার্য্য ঘৃণা করি, তাহা তুমিও ঘৃণা করিতেছ। যাহার কর্ণ আছে, সে শুনুক, আত্মা মণ্ডলীগণকে কি কহিতেছেন। যে জয় করে, তাহাকে আমি ঈশ্বরের “পরমদেশস্থ জীবনবৃক্ষের” ফল ভোজন করিতে দিব।”



টীকা


পদ ১ : “ইফিষস্থ মণ্ডলীর দূতকে লিখ;—যিনি নিজ দক্ষিণ হস্তে সেই সপ্ত তারা ধারণ করেন, যিনি সেই সপ্ত সুবর্ণ দীপবৃক্ষের মধ্যে গমনাগমন করেন, তিনি এই কথা কহেন” 


পৌল যে জল আত্মার সুসমাচার প্রচার করেছিলেন, তার ভিত্তিতে ইফিষে ঈশ্বরের এই মন্ডলী স্থাপিত হয়েছিল৷ এই অংশে, “সপ্ত সুবর্ণ দীপবৃক্ষ” বলতে ঈশ্বরের সাতটি মন্ডলীকে বোঝানো হয়েছে৷ যেখানে জল ও আত্মার বিশ্বাসীগণ একত্রিত হতেন, এবং “সপ্ত তারা” বলতে ঈশ্বরের দাসগণকে বোঝানো হয়েছে৷ “যিনি নিজ দক্ষিণ হস্তে সেই সপ্ত তারা ধারণ করেন” কথাটি দ্বারা অন্যদিকে এটাও বোঝানো হচ্ছে যে, ঈশ্বর নিজেই তাঁর দাসগণকে ধরে রাখেন এবং ব্যবহার করেন৷ 

একথা আমাদের অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে যে, ঈশ্বর এশিয়ার ৭ টি মন্ডলীর উদ্দেশ্যে তাঁর দাস যোহনের মাধ্যমে যা বলেছিলেন, তা এই বর্তমানের শেষকালীন মন্ডলীর জন্যও সমভাবে প্রযোজ্য৷ মন্ডলীর উদ্দেশ্যে এবং তাঁর দাসদের মাধ্যমে ঈশ্বর আমাদের আগামী বিভিন্ন পরীক্ষা ও ক্লেশের উপরে বিজয়ের উপায় সম্পর্কে বলেছেন৷ প্রকাশিত বাক্যের বাক্য শ্রবণ করে এবং বিশ্বাস করে, আমাদের শয়তানের উপর জয়লাভ করতে হবে৷


পদ ২: “ আমি জানি তোমার কার্য্য সকল এবং তোমার পরিশ্রম ও ধৈর্য্য; আর আমি জানি যে, তুমি দুষ্টদিগকে সহ্য করিতে পার না, এবং আপনাদিগকে প্রেরিত বলিলেও যাহারা প্রেরিত নয়, তাহাদিগকে পরীক্ষা করিয়াছ ও মিথ্যাবাদী নিশ্চয় করিয়াছ;”

ঈশ্বর এখানে ইফিষীয় মন্ডলীর পরিশ্রম, ধৈর্য্য এবং মন্দতার বিপক্ষের কথা বলেছেন, এবং সেই সাথে ভ্রান্ত প্রেরিতদের পরীক্ষা করা এবং ভ্রান্তি নিশ্চিত করার কথা বলেছেন৷ ইফিষীয় মন্ডলী তাদের দৃঢ় বিশ্বাস এবং সমর্পণ সম্পর্কে কতটা মহৎ ছিল, সে কথাই এ অংশে বলা হয়েছে৷ কিন্তু আমাদের অবশ্যই এ কথা অনুধাবন করতে হবে যে, প্রথম জীবনের বিশ্বাস যতই দৃঢ় থাকুক না কেন, পরবর্তিতে যদি সেই বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তার আর কোনো মূল্যই থাকে না৷ আমাদের বিশ্বাস সত্য বিশ্বাস হতে হবে, যা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সমভাবে দৃঢ় থাকতে হবে৷

কিন্তু ইফিষীয় মন্ডলীর বিশ্বাসীদের বিশ্বাস কেমন ছিল, সেই জন্য ঈশ্বর তাদেরকে কঠোরভাবে তিরস্কার করেছেন এবং এই বলে সতর্ক করেছেন যে, স্ব-স্থান থেকে তিনি তাদের দীপ বৃক্ষ বের করে দেবেন৷ মন্ডলীর ইতিহাস থেকে দেখা যায় যে, এশিয়া মাইনরের সাতটি মন্ডলী বাস্তবে অভিশপ্ত হয়েছিল, তাই তাদের দীপ বৃক্ষ বের করে দেওয়া হয়েছে৷ এই ইফিষীয় মন্ডলী থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে, এবং মনে রাখতে হবে যে, ঈশ্বরের অনুমোদিত জল ও আত্মার সুসমাচারের ভিত্তিতে আমাদের মন্ডলী প্রতিষ্ঠিত হতে হবে, যাতে আমরা ঈশ্বরের এমন দাস হতে পারি, যেন বিশ্বাসে মন্ডলী ধরে রাখতে পারি৷


পদ ৩: “এবং তোমার ধৈর্য্য আছে, আর তুমি আমার নামের জন্য ভার বহন করিয়াছ, ক্লান্ত হও নাই।”

আমাদের প্রভু, তাঁর সব মন্ডলীর তত্ত্বাবধান করেন, এবং তাঁর নামের জন্য সাধুগণ কতটা পরিশ্রম করে তা তিনি ভালো করেই জানেন৷ কিন্তু ইফিষীয় মন্ডলীর বিশ্বাসীরা তাদের প্রথম বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিল, এবং জল ও আত্মার প্রকৃত সুসমাচার পরিত্যাগ করে ভ্রান্ত বিশ্বাসের দিকে ধাবিত হচ্ছিল৷


পদ ৪: “তথাচ তোমার বিরুদ্ধে আমার কথা আছে, তুমি আপন প্রথম প্রেম পরিত্যাগ করিয়াছ।”

ইফিষীয় মন্ডলীর দাসগণ এবং সাধুগণের বিশ্বাস এত ভালছিল যে প্রভু, নিজেই তাদের কাজ, পরিশ্রম এবং তাদের প্রশংসা করেছেন৷ তারা ভ্রান্ত প্রেরিতদের পরীক্ষা করেছে এবং তাদেরকে মিথ্যাবাদী চিহ্নিত করেছে৷ তারা খ্রীষ্টের নামের জন্য পরিশ্রম করেছে, ধৈর্য্য ধরেছে, কিন্তু অস্থির হয় নি৷ অথচ এইসব ভালো কাজের জন্য প্রশংসিত হওয়ার পরেও তারা তাদের আসল বিষয় হারিয়ে ফেলেছিল – যীশু খ্রীষ্টের দেওয়া প্রথম প্রেম পরিত্যাগ করেছিল৷

এর মানে কি দাঁড়ায়? এর মানে হল এই যে, জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা তারা যে একেবারেই তাদের পাপ থেকে মুক্ত হয়েছিল, তা ধরে রাখতে তারা ব্যর্থ হয়েছিল এবং প্রভুতে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিল৷ অন্যকথায়, তাদের জল ও আত্মার সুসমাচার পরিত্যাগ করা মানে, তারা মন্ডলীতে ভ্রান্ত শিক্ষা এবং বিভিন্ন সুসমাচার প্রবেশ করতে দিয়েছিল৷ 

তাহলে, সেইসব সুসমাচার এবং শিক্ষাগুলো কি? সেগুলি হল জাগতিক দর্শনশাস্ত্র এবং মানবীয় প্রতিমা পূজা৷ এই বিষয়গুলো এখনও মানুষের জন্য দেওয়া ঈশ্বরের সত্য সুসমাচারের বিপক্ষে৷ এগুলো হয়তো মাংসের পক্ষে মঙ্গলজনক, এমনকি একতা ও শান্তি আমার পক্ষে কাজ করতে পারে, কিন্তু তা ঈশ্বরের সাথে মানুষকে এক করতে পারে না৷ এইভাবেই ইফিষীয় মন্ডলীর দাসগণ এবং সাধুগণ তাদের বিশ্বাসকে ভ্রান্ত প্রেরিতত্ত্বের প্রতি নিয়ে গিয়েছিল, এবং তারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে অভিশপ্ত হয়েছিল৷ এই কারণে, প্রভু তাদের তিরস্কার করেছিলেন৷ 

মন্ডলীর ইতিহাস খুঁজলে আমরা দেখতে পাই যে, আদি মন্ডলীর সময় থেকে জল ও আত্মার সুসমাচার অকার্যকর হয়ে পড়েছিল৷ এই বিষয় থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদেরকে অবশ্যই জল ও আত্মার সুসমাচার দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে হবে, প্রভুকে সন্তুষ্ট রাখতে হবে৷

তাহলে ইফিষীয় মন্ডলীর দাসগণ এবং সাধুগণের “প্রথম প্রেম” বলতে কি বোঝানো হয়েছে? প্রথম প্রেম বলতে ঈশ্বরের দেওয়া জল ও আত্মার সুসমাচারকে বোঝানো হয়েছে৷ জল ও আত্মার সুসমাচার হল পরিত্রাণের বাক্য যা জগতের প্রত্যেককে পাপ থেকে মুক্ত করার ক্ষমতা রাখে৷

পৌল, যোহন এবং দাসগনের নিকট ঈশ্বর, এশিয়াস্থিত মন্ডলীতে জল ও আত্মার সুসমাচার প্রকাশ করেছেন এবং তা তাদের বুঝতে দিয়েছেন৷ এভাবেই তারা সুসমাচারে বিশ্বাস রাখতে পেরেছিলেন; এবং এভাবেই তাদের দ্বারা সেই সুসমাচার শুনে এবং তাতে বিশ্বাস করে অন্যেরাও জগতের সমস্ত পাপ থেকে পরিত্রাণ পেয়েছিল৷

প্রভুর দেওয়া জল ও আত্মার সুসমাচার যীশু খ্রীষ্টের বাপ্তিস্ম ও তাঁর রক্তের বাক্যে নিহিত৷ কিন্তু তবুও, ইফিষীয় মন্ডলীর দাসগণ যদিও প্রথমে কৃতজ্ঞতার সাথে জল ও আত্মার সুসমাচার গ্রহণ করেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তা তারা পরিত্যাগ করেছিল৷


পদ ৫: “অতএব স্মরণ কর, কোথা হইতে পতিত হইয়াছ, এবং মন ফিরাও ও প্রথম কর্ম্ম সকল কর; নতুবা যদি মন না ফিরাও, আমি তোমার নিকটে আসিব ও তোমার দীপবৃক্ষ স্বস্থান হইতে দূর করিব।”

ইফিষীয় মন্ডলীর সন্তানগণ ঈশ্বরের যে প্রেম থেকে সরে গিয়েছিল, তার অর্থ হল যে, তারা জল ও আত্মার সুসমাচারের পথ থেকে সরে গিয়েছিল৷ এই জন্য প্রভু তাদের বলেছিলেন, যেখান থেকে তাদের বিশ্বাস হারিয়েছিল, তারা যেন সেখানে ফিরে আসে, অনুতাপ করে এবং প্রথম কাজগুলো করে৷

তাহলে ইফিষীয় মন্ডলী থেকে জল ও আত্মার সুসমাচার হারিয়ে যাওয়ার কারণ কি? ইফিষীয় মন্ডলীর বিশ্বাসের দুর্বলতা, নিজেদের মানবীয় ধ্যান-ধারণার উপর নির্ভরতাগুলোই তাদের ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়৷ জল ও আত্মার সুসমাচার ঈশ্বরের দান, এই সম্পূর্ণ সত্যের মাধ্যমেই বর্তমান জগতের প্রচলিত সব ভ্রান্ত মতবাদ ও শিক্ষা প্রকাশিত হয়েছে৷ অর্থাৎ, ইফিষীয় মন্ডলী যখন জল ও আত্মার সুসমাচারের প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছিল, জাগতিক লোকেদের সাথে তাদের দন্ধ তখন অপরিহার্য ছিল৷

এই দন্ধের কারণেই ইফিষীয় মন্ডলীর বিশ্বাসীগণের পক্ষে জগতের লোকেদের সাথে উঠাবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল, এই বিশ্বাসের কারণে, তারা বিভিন্নভাবে অত্যাচারিত হয়েছিল৷ এই দন্ধ এড়াবার জন্য এবং লোকেরা যেন সহজে মন্ডলীর সাথে যুক্ত হতে পারে, এই উদ্দেশ্যে ইফিষীয় মন্ডলীর সন্তানেরা জল ও আত্মার প্রকৃত সুসমাচার থেকে সরে গিয়ে দর্শনশাস্ত্র ভিত্তিক সুসমাচার মন্ডলীতে প্রবেশ করতে দিয়েছিল৷

এই দর্শনশাস্ত্র ভিত্তিক সুসমাচার ভ্রান্ত সুসমাচার যা মানবীয় চিন্তা থেকে সৃষ্ট, যার দ্বারা শুধু মানুষের সাথে ঈশ্বরের সম্পর্কই নয়, বরং নিজেদের মধ্যে শান্তি আনয়নের জন্য মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের বিষয়েও বলা হয়েছে৷ ঈশ্বর-মানুষের এবং মানুষে-মানুষে পারস্পরিক, - এই উভয় ধরণের বিশ্বাস ঈশ্বর আমাদের কাছে চান না৷ ঈশ্বর আমাদের কাছে সেই বিশ্বাস চান, যে বিশ্বাসের দ্বারা আমরা ঈশ্বরের কাছে আজ্ঞাবহ হয়ে তাঁর শান্তিতে বিশ্রাম পাব৷ 

ইফিষীয় মন্ডলীর সন্তানগণ এই কারণে জল ও আত্মার সুসমাচারের বিশ্বাস থেকে সরে গিয়েছিল, যে তারা এমন কিছু গ্রহণ করতে চেয়েছিল, যা ঈশ্বরের মন্ডলীতে প্রযোজ্য নয়; অর্থাৎ, জাগতিক লোকেরা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে না, তারা নিজেদের খেয়ালী শিক্ষায় সেই সুসমাচারকে যোগ করেছিল৷ জল ও আত্মার সুসমাচারেই কেবল ঈশ্বরের মন্ডলী প্রতিষ্ঠিত হতে পারে৷

আদি মন্ডলীর সময় যেমন ছিল, বর্তমান জগতেও এমন অনেকে আছে যারা মনে করে যে, পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য কোনো রকমভাবে যীশুকে বিশ্বাস করাই যথেষ্ট, এবং তারা বুঝতে পারেনা যে, কেন তাদের জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করতে হবে৷ জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস ছাড়া শুধুমাত্র যীশুতে বিশ্বাস করা মহা ভ্রান্তি৷ যারা সাধারণ ধর্মীয় চিন্তাভাবনা থেকে প্রভুকে বিশ্বাস করে, তারা অসম্পূর্ণ বিশ্বাসে চলছে, এক সময়ে তারা ঈশ্বরের বিপক্ষ হয়ে পড়বে৷ এই জন্যই প্রভু ইফিষীয় মন্ডলীকে তিরস্কার এবং সতর্ক করেছিলেন, যেন তারা ভ্রান্ত বিশ্বাস পরিত্যাগ করে প্রথম বিশ্বাসের প্রতি ফেরে, জল ও আত্মার সুসমাচার প্রথম শুনে তাদের যে বিশ্বাস জন্মেছিল, অনুতাপের মাধ্যমে তারা যেন আবার সেই সত্য বিশ্বাসের প্রতি ফিরে আসে৷ 

আমাদের জন্য এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে, তা হল ঈশ্বরের কোনো মন্ডলী যদি জল ও আত্মার সুসমাচারের বিশ্বাস থেকে সরে পড়ে, তাহলে ঈশ্বর আর সেই মন্ডলীকে তাঁর মন্ডলী হিসাবে অভিহিত করবেন না৷ এই জন্যই ঈশ্বর বলেছেন যে, তিনি তাদের কাছ থেকে সেই দীপ বৃক্ষ দূর করে দেবেন এবং যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে, সেই বিশ্বাসীদেরকে তা দেবেন৷

যে মন্ডলী জল ও আত্মার সুসমাচার থেকে সরে গেছে এবং তা প্রচারও করে না; সে মন্ডলী আর ঈশ্বরের মন্ডলী থাকতে পারে না৷ এই সত্য অনুধাবন করা আমাদের জন্য প্রকৃতই গুরুত্বপূর্ণ যে, জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করা এবং তা ধারণ ও প্রচার করা অন্য যে কোনো কাজের চেয়ে শ্রেয়তর৷

এশিয়া মাইনরের ওই সাতটি মন্ডলী যেখানে ছিল, সেটা এখন মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় পরিণত হয়েছে৷ প্রভু তাঁর দীপ বৃক্ষ সরিয়ে যারা সারা পৃথিবীতে জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে তাদের কাছে এনেছেন৷ ঈশ্বরের প্রকৃত মন্ডলীতে জল ও আত্মার সুসমাচারের সত্য রয়েছে৷ এটা ছাড়া ঈশ্বরের মন্ডলী স্থায়িত্ব লাভ করতে পারে না৷ প্রৈরিতিক যুগে যীশুর বারোজন শিষ্যেরই জল ও আত্মার সুসমাচারে নিরবিচ্ছিন্ন ছিল ( ১ পিতর ৩:২১, রোমীয় ৬, ১ যোহন ৫)৷

তথাপি এটা দুঃখজনক যে, আদি মন্ডলীর সময় থেকে এশিয়া মাইনরের মন্ডলীগুলো জল ও আত্মার সুসমাচার পরিত্যাগ করেছিল, যার ফলে সেখানে এখন মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চল হয়ে পড়েছে৷ উপরন্তু রোমীয় সাম্রাজ্যের শাসক কনস্টানটাইনের জারিকৃত মিলান অনুশাসনের কারনেও রোম থেকে জল ও আত্মার সুসমাচার হারিয়ে গিয়েছিল৷


পদ ৬: “ কিন্তু এইটী তোমার আছে; আমি যে নীকলায়তীয়দের কার্য্য ঘৃণা করি, তাহা তুমিও ঘৃণা করিতেছ।”

নীকলায়তীয় বলতে তাদেরকেই বোঝানো হয়েছে, যারা যীশুর নামের মাধ্যমে জাগতিক ও বস্তুগত বিষয়ের প্রতি অনুরক্ত ছিল৷ কিন্তু এই ইফিষীয় মন্ডলী নীকলায়তীয়দের সেইসব মতবাদ ও কাজকে ঘৃণা করত৷ ইফিষীয় মন্ডলীর এই বিষয়টিকে ঈশ্বর বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন৷ 


পদ ৭: “যাহার কর্ণ আছে, সে শুনুক, আত্মা মণ্ডলীগণকে কি কহিতেছেন। যে জয় করে, তাহাকে আমি ঈশ্বরের “পরমদেশস্থ জীবনবৃক্ষের” ফল ভোজন করিতে দিব।”

ঈশ্বরের দাস এবং সন্তানগণকে অবশ্যই পবিত্র আত্মার কথা শুনতে হবে৷ পবিত্র আত্মা তাদের বলেছিলেন, তারা যেন জল ও আত্মার সুসমাচারে দৃঢ় বিশ্বাস করে এবং তাদেরকে অবশ্যই অসত্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে এবং তাদেরকে জয় করতে হবে৷ অসত্য প্রচারকারীদের কাছে পরাজয় বরণ করা মানে ধ্বংস ডেকে আনা৷ ঈশ্বরের বিশ্বাসীগণ এবং দাসগণ অবশ্যই তাদের অস্ত্র-শস্ত্র দ্বারা, অর্থাৎ জল ও আত্মার সুসমাচারের বাক্য দ্বারা তাদের শত্রুকে পরাস্থ ও জয় করবে৷

ঈশ্বর বলেন, “যে জয় করে, তাহাকে আমি ঈশ্বরের “পরমদেশস্থ জীবনবৃক্ষের” ফল ভোজন করিতে দিব।” “যে জয় করে” কেবলমাত্র তাকেই ঈশ্বর জীবনবৃক্ষের ফল ভোজন করতে দেবেন৷ কিন্তু কি বা কাকে জয় করতে হবে? যারা যেন জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে না, আমাদের বিশ্বাস দ্বারা তাদেরকে জয় করতে হবে৷ যারা অসত্যে রয়েছে, বিশ্বাসীদের অবশ্যই তাদের সাথে অবিরত আত্মিক যুদ্ধ করতে হবে এবং বিশ্বাসে তাদেরকে অবশ্যই এই যুদ্ধে জয়ী হতে হবে৷ যেন জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা তারা বিজয়ী জীবন যাপন করবে এবং অবশ্যই এই জন্য ঈশ্বরের ধন্যবাদ ও গৌরব করবে৷ সত্যে যাদের বিশ্বাস রয়েছে, কেবলমাত্র তারাই তাদের শত্রুদের জয় করতে পারবে৷ 

আদি মন্ডলীর সময়ে যারা যেন জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করেছিল, এবং তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করেছিল, সাক্ষ্যমরের মৃত্যু পর্যন্ত তাদেরকে বরণ করতে হয়েছিল৷ তেমনিভাবে যখন খ্রীষ্টারীর উত্থান হবে, আরও অনেকে তখন সাক্ষ্যমর হবে৷