Sermons

[2-2] < প্রকাশিত বাক্য ২:১-৭ > যে বিশ্বাস সাক্ষ্যমরের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারে



< প্রকাশিত বাক্য ২:১-৭ >

আমাদের অধিকাংশ জনের কাছে ‘সাক্ষ্যমর’ একটি অপরিচিত শব্দ, কিন্তু যারা নন-খ্রীষ্টান পরিবেশে বড় হয়েছে, তাদের কাছে শব্দটি আরো বেশী অপরিচিত৷ অবশ্যই “সাক্ষ্যমর” শব্দটি প্রতিদিনের ব্যবহারিক জীবনে আমরা খুব একটা ব্যবহার করি না, এই শব্দটি থেকে আমরা নিজেদেরকে বিচ্ছিন্ন ও দূরবর্তী মনে করি, প্রকৃত সাক্ষ্যমরের মৃত্যু কল্পনা করা আমাদের কাছে অবচেতন মনের ব্যাপারের মত৷ তথাপি, প্রকাশিত বাক্যের দুই ও তিন অধ্যায়ে এই সাক্ষ্যমরের বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে, এবং এই বাক্যের মাধ্যমেই সাক্ষ্যমরের মৃত্যু সম্পর্কে আমাদের হৃদয়ে অবশ্যই বিশ্বাস সৃষ্টি করতে হবে, অর্থাৎ যে বিশ্বাস দ্বারা আমরা সাক্ষ্যমর হতে পারি৷

রোমীয় শাসকগণ তাদের প্রজাদের একছত্র শাসক ছিলেন৷ সাম্রাজ্যের একছত্র অধিপতি হওয়াতে নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী যা কিছু তাই করতে পারতেন৷ যুদ্ধের মাধ্যমে অনেকে দেশ জয় করে, অনেক জাতিকে তারা তাদের অধীনস্থ করেছিল এবং এই সমস্ত বিজিত দেশের ধন-দৌলত দ্বারা তারা নিজেরা প্রচুর ধনী হয়ে উঠেছিল৷ একটা যুদ্ধেও তারা পরাজিত হয় নি৷ এইভাবে একটি ছোট রাজ্য পৃথিবীর বৃহৎ সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছিল৷ শুধুমাত্র আকাশ পর্যন্তই এই শাসকদের সীমারেখা ছিল৷ এতটাই ক্ষমতাশালী ছিল যে, প্রজারা তাদের জীবন্ত ঈশ্বর রূপে আরাধনা করত৷

সুতরাং এটা অস্বাভাবিক ছিল না যে, শাসকেরা নিজেদের মূর্তি তৈরী করত এবং প্রজাদের তাদের মুর্তিপুজা করার জন্য বাধ্য করত৷ যে সমস্ত শাসকেরা নিজেদেরকে ঈশ্বর হিসাবে দাবি করত, যীশুতে বিশ্বাস বিস্তৃত হওয়ার পথে তারা ছিল মারাত্মক হুমকিস্বরূপ৷ খ্রীষ্টিয়ানদের সমবেত হওয়াকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে তারা দমননীতি প্রবর্তন করল৷ বিশ্বাসীদের উপরে অত্যাচার – নিপীড়ন, গ্রেফতার, কারাবন্দি, এমনকি বিশ্বাসের জন্য তাদের ফাঁসি পর্যন্ত দিত৷ আদিকালের মন্ডলীর লোকেরা অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য যেমন, মাটির নীচে গুহায় আশ্রয় নিত, এটা ছিল তার বিপরীত৷ বরং এই সময়ে তাদের বিশ্বাস ধরে রাখার কারণে সাক্ষ্যমরের মৃত্যু পর্যন্ত অত্যাচারিত হত৷

এইভাবেই আদি মন্ডলীতে সাক্ষ্যমরের মৃত্যু শুরু হয়৷যে সমস্ত সাধুগণ ওই সময়ের শাসকদের কর্তৃত্ব মনে প্রাণে মেনে নিতে পারেন নি, তাদেরকেই সাক্ষ্যমর হতে হয়েছে৷ তারা তাদের জাগতিক ক্ষমতাকে শ্রদ্ধা করতেন, কিন্তু শাসকেরা নিজেদেরকে যে ঈশ্বর হিসাবে দাবি করত, সেই সব সাধুগণ যীশুকে বাদ দিয়ে তাদের সেই দাবি মেনে নিতে পারেন নি; এই কারণে মুল্যরুপে তাদের জীবনও দিতে হয়েছে৷ রোমান শাসকেরা তাদেরকে যীশুর আরাধনা থেকে বিরত থাকতে বলেছিল, সেই সাথে তাদের নিজেদেরকে ঈশ্বর হিসাবে আরাধনা করতে বলেছিল৷ তাদের এই দাবি অসমর্থন ও অস্বীকার করার কারণে, আদি খ্রীষ্টিয়ানেরা সাক্ষ্যমরের মৃত্যু পর্যন্ত তাদের বিশ্বাস ধরে রেখেছিল৷ ৩১৩ খ্রীষ্টাব্দে মিলানের অনুশাসন পর্যন্ত, অর্থাৎ ধর্মীয় স্বাধীনতা আসা পর্যন্ত তাদেরকে এইভাবে অত্যাচারিত হতে হয়েছিল৷ বিশ্বাসের এই পূর্বপুরুষদের মত আমাদেরও বিশ্বাস পরিত্যাগ না করে মৃত্যু পর্যন্ত বিশ্বাসে স্থির থাকতে হবে৷

যে অংশে এশিয়া মাইনরের সাতটি মন্ডলীর কথা লেখা হয়েছে, সেটা শুধু সেই মন্ডলীর ইতিহাসই নয় বরং সেই সাথে অনাগত ভবিষ্যতের প্রত্যাদেশও বটে৷ এখানেই প্রকাশিত হয়েছে যে, বিশ্বাস ধরে রাখার কারণে ঈশ্বরের সন্তান এবং সাধুগণকে সাক্ষ্যমরের মৃত্যু পর্যন্ত বরণ করতে হবে৷ রোমান সাম্রাজ্যের সময় যেমন হয়েছিল, তেমনি একটি সময় আসবে যখন একজন অধুনা শাসকের আবির্ভাব হবে, যে সকলকে তার নিপীড়নের শাসনের অধীনে রাখবে, নিজের মূর্তি তৈরী করবে এবং সকলকে বাধ্য করবে যেন সকলে তাকে ঈশ্বর হিসাবে আরাধনা করে৷ এই সময়টিও আমাদের সময় থেকে বেশী দুরে নেই, আদি মন্ডলীর বিশ্বাসীগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করে অনেকে সাক্ষ্যমরের মৃত্যু বরণ করবে৷

এই জন্য, এশিয়ার সাতটি মন্ডলীর উদ্দেশ্যে ঈশ্বর যে সতর্কবাণী দিয়েছিলেন, আমাদের হৃদয়ে সেগুলো রাখতে হবে৷ এশিয়ার সাতটি মন্ডলীকে অভিনন্দন জানানোর, অনুপ্রাণিত ও সতর্ক করার মাধ্যমে ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করলেন যে, “যে জয় করে” তাকে তিনি পরমদেশস্থ জীবনবৃক্ষের ফল ভোজন করতে দেবেন৷ তারা “জীবন মুকুট”, “গুপ্ত মান্না”, “প্রভাতীয় তারা” এবং আরো অনেক কিছু অর্জন করবে৷ এটা ঈশ্বরের বিশ্বস্ত প্রতিজ্ঞা যে, সাক্ষ্যমরের মৃত্যুর মাধ্যমে যারা জয়ী হবে, তাদেরকে তিনি সমস্ত স্বর্গীয় আশীর্বাদে পূর্ণ করবেন৷ 

তাহলে, আদি মন্ডলীর সাধুগণ কিভাবে সাক্ষ্যমরের মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন? প্রথম বিষয় আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, যারা সাক্ষ্যমর হয়েছিলেন, তারা ঈশ্বরের দাস ও সন্তান ছিলেন৷ প্রত্যেকেই যে সাক্ষ্যমর হবেন এমন নয়৷ যারা ঈশ্বরকে ত্রাণকর্তা হিসাবে গ্রহণ করে বা বিশ্বাস করে, অত্যাচারে যারা তাদের বিশ্বাসকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে পারে, তারাই সাক্ষ্যমর হতে পারেন৷

পাটম দ্বীপে নির্বাসিত অবস্থায়, যে প্রেরিত যোহন ইফিষস্থ মন্ডলীকে তিরস্কার করেছেন, তিনি যীশুর বারোজন প্রেরিতদের মধ্যে সর্বশেষ ছিলেন৷ অন্য সব প্রেরিতেরা এবং সাধুরা সাক্ষ্যমর হয়েছিলেন৷ ইতিহাস থেকে বলছি, ৩১৩ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত এশিয়ার সাতটি মন্ডলীর অসংখ্য খ্রীষ্টিয়ানদের মধ্যে যারা সাক্ষ্যমর হয়েছিলেন, তাদের সংখ্যা নিতান্ত অল্প ছিল৷ রোমান শাসকদের অত্যাচার থেকে পালিয়ে আক্ষরিক অর্থে মাটির নীচে আশ্রয় নিয়েছিল, অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য মাটির নীচে গর্ত খুঁড়ে তারা আরাধনার উদ্দেশ্যে সমবেত হত৷ এই সমস্ত করেও তারা তাদের বিশ্বাস ত্যাগ করে নি বরং স্ব-ইচ্ছায় সাক্ষ্যমরের মৃত্যুবরণ করেছে৷

ইফিষস্থ মন্ডলীসহ, এশিয়ার আর সাতটি মন্ডলীর বিশ্বাসী এবং সাধুগণ, ঈশ্বর কর্তৃক তিরস্কৃত হওয়া স্বত্তেও সকলে সাক্ষ্যমর হয়েছিলেন৷ প্রভুতে দৃঢ় বিশ্বাসের কারণেই তারা সাক্ষ্যমর হতে পেরেছিলেন৷ তারা সকলেই বিশ্বাস করতেন যে, প্রভুই ঈশ্বর, তিনি তাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন এবং পালক হয়ে তিনি তাদের সকলকে সহস্রাব্দের বর্ষে এবং নূতন আকাশ ও নূতন পৃথিবীতে নিয়ে যাবেন৷ দৃঢ় বিশ্বাসের প্রত্যাশায় দৃঢ় প্রত্যয়ের কারণে তারা সাক্ষ্যমরের মৃত্যুর ভয় ও যন্ত্রনাকে জয় করতে পেরেছিলেন৷

আমরা এখন শেষ কালে বাস করছি৷ সেই দিন খুব বেশী দুরে নয়, যখন একজন স্বেচ্ছাচারী শাসকের উত্থান হবে এবং জগতের সমস্ত কিছুকে তার অধীনস্থ করবে৷ প্রকাশিত বাক্য ১৩ অধ্যায়ে এই স্বেচ্ছাচারী শাসকের কথা লেখা আছে, সে সাধুগণের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং সে চাইবে যেন সাধুগণ তাদের বিশ্বাস অস্বীকার করে৷ কিন্তু আমরা, এই শেষ কালের বিশ্বাসীরা, তার হুমকি এবং দমননীতিকে জয় করতে পারব এবং সাক্ষ্যমরের মৃত্যু পর্যন্ত বিশ্বাসকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে পারব, কারণ সেই আদি মন্ডলীর বিশ্বাসীগণের মত আমাদের বিশ্বাস রয়েছে৷ 

চার ও পাঁচ পদে এই বলে ঈশ্বর ইফিষস্থ মন্ডলীকে তিরস্কার করেছেন, “তথাচ তোমার বিরুদ্ধে আমার কথা আছে, তুমি আপন প্রথম প্রেম পরিত্যাগ করিয়াছ। অতএব স্মরণ কর, কোথা হইতে পতিত হইয়াছ, এবং মন ফিরাও ও প্রথম কর্ম্ম সকল কর; নতুবা যদি মন না ফিরাও, আমি তোমার নিকটে আসিব ও তোমার দীপবৃক্ষ স্বস্থান হইতে দূর করিব।” এর অর্থ কি? অর্থ হল এই যে, ইফিষস্থ মন্ডলীর সদস্যগণ জল ও আত্মারূপ সুসমাচার পরিত্যাগ করেছে৷ ইফিষীয় মন্ডলীর সমস্ত বিশ্বাসীগণ সহ আদি মন্ডলীগুলোর জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করেছিল৷ এর কারণ হল ঈশ্বরের সকল শিষ্যগণ জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করেছিলেন৷ এই প্রেরিতদের কাছ থেকে যে সুসমাচার তখনকার বিশ্বাসীরা শুনেছিল তা সম্পূর্ণ সুসমাচার, ভ্রান্ত বা মানুষের তৈরী সুসমাচার নয়, যা কেবল ক্রুশীয় রক্তের উপরে প্রতিষ্ঠিত৷

কিন্তু এখানে বলা হয়েছে যে, ইফিসস্থ মন্ডলীর বিশ্বাসীরা তাদের প্রথম প্রেম পরিত্যাগ করেছিল৷ তার মানে মন্ডলীর পরিচর্যার ক্ষেত্রে ইফিষীয় মন্ডলীর দাসগণ জল ও আত্মার সুসমাচার পরিত্যাগ করেছিল৷ এই কারণে প্রভু বলেন যে, যদি তারা মন না ফেরায়, তাহলে তিনি তাদের দীপবৃক্ষ স্বস্থান থেকে দূর করবেন৷ দীপবৃক্ষ দূর করার অর্থ হল, মন্ডলীকে দূর করা৷ অর্থাৎ ইফিষীয় মন্ডলীতে পবিত্র আত্মা আর কাজ করতে পারেন না৷

ইফিষীয় মন্ডলীর দাসগণের পক্ষে জল ও আত্মার সুসমাচারের প্রতি ফিরে আসা ততটা অসুবিধার ছিল না৷ কিন্তু এটা ছিল ক্ষুদ্রতম সমস্যা৷ যে ব্যাপারটা তাদের জন্য বেশী সমস্যার ছিল, তা হল তারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করেছিল, তাদের সেই বিশ্বাসকে মন্ডলীতে তারা পরিষ্কারভাবে প্রচার করতে ব্যর্থ হয়েছিল৷ যারা যীশুকে সাধারনভাবে ত্রাণকর্তা হিসাবে বিশ্বাস করত, তাদেরকেও তারা তাদের মন্ডলীতে স্থান দিয়েছিল৷ অর্থাৎ অনেকে জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস ছাড়াই মন্ডলীতে প্রবেশ করেছিল৷ কিন্তু বাস্তবিক অর্থে জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা একজন বিশ্বাসী সাক্ষ্যমর হওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে৷

উপরুন্তু, যারা সমবিশ্বাসে বিশ্বাসী ছিল না এবং যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে নি, তাদেরকেও তারা মন্ডলীতে ঠাঁই দিয়েছিল৷ যেহেতু মন্ডলীতে প্রবেশ করতে হলে অনেক ত্যাগস্বীকারের প্রয়োজন ছিল, এই ত্যাগস্বীকারের কথা বললে হয়ত অনেকে মন্ডলীতে আসতে চাইবে না, সেই কারণে প্রকৃত সত্যকে প্রচার করতে তারা ব্যর্থ হয়েছিল৷

কিন্তু যেখানে সত্য নেই, সেখানে যেহেতু পবিত্র আত্মা বাস করতে পারেন না, তাই ঈশ্বর তাদের দীপবৃক্ষ দূর করার কথা বললেন৷ ইফিষীয় মন্ডলীর বিশ্বাসী এবং সাধুগণের পরিশ্রমের ঘাটতির কারণে যে, ঈশ্বর মন্ডলীকে দূর করতে চেয়েছিলেন তা নয়, বরং যেহেতু মন্ডলীর সত্যের অভাব ছিল তাই ঈশ্বর আর সেই মন্ডলীতে বাস করতে পারেন না৷

ঈশ্বরের মন্ডলীতে জল ও আত্মার সুসমাচার অনুসৃত হবে- এটা একটা মৌলিক সত্য৷ ঈশ্বরের মন্ডলীর সাধুগণ ও বিশ্বাসীগণ যে শুধু সুসমাচার বিশ্বাস করবে তাই নয়, কিন্তু যথার্থ এবং সম্পূর্ণভাবে টা প্রচার করবে এবং শিক্ষা দেবে৷ কারণ, একমাত্র এই সুসমাচারেই আমাদের জন্য ঈশ্বরের প্রেম, অনুগ্রহ এবং আশীর্বাদ আমরা দেখতে পাই৷ 

এই সুসমাচার প্রচারের পরিবর্তে, ইফিষীয় মন্ডলীর বিশ্বাসীগণ এমন অনেক লোককে মন্ডলীতে গ্রহণ করেছিল, যারা শুধু ক্রুশীয় রক্তে বিশ্বাস করত৷ কোনো বিশ্বাসী বা সাধু অথবা মন্ডলীকে জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করলেই চলবে না, কিন্তু সেই সাথে যতক্ষণ পর্যন্ত তারা এই সত্য প্রচার না করবে যে বাপ্তিস্ম এবং ক্রুশীয় রক্তের মাধ্যমে যীশু আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত প্রভুর জন্য যে কোনো কাজ মূল্যহীন৷

প্রভুর দৃষ্টিতে আমরা অসম্পূর্ণ হলেও, আমরা যদি এই সুসমাচারে বিশ্বাস করি এবং টা প্রচার করি, তাহলে পবিত্র আত্মা হিসাবে প্রভু আমাদের এবং আমাদের কাজের মাঝে থাকবেন৷ প্রভুর সন্তানগণ ও সাধুগণ অধর্মে পরিপূর্ণ হলেও, প্রভু তাঁর বাক্যের মাধ্যমে তাদেরকে শিক্ষা ও চালনা দিতে পারেন৷ জল ও আত্মার সুসমাচারের মন্ডলীতে পবিত্র আত্মা অবস্থান করেন, এবং তিনি অবস্থান করলেই বোঝা যাবে যে মন্ডলীটি পবিত্র৷

জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার না করলে, ঈশ্বরের দাসগণ এবং সাধুগণের মধ্যে পবিত্রতা থাকে না৷ তারা হয়তো বলতে পারে যে তাদের মধ্যে পাপ নেই, কিন্তু জল ও আত্মার সুসমাচার যেখানে প্রচারিত হয় না সেখানে পবিত্রতা থাকতে পারে না৷

আদি মন্ডলীর বিশ্বাসীগণ জল ও আত্মার সুসমাচার বিশ্বাস করত, এই সুসমাচার হল এই যে, মানুষের বেশে যীশু, মানুষকে পাপ থেকে উদ্ধার করার উদ্দেশ্যে, এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, যোহন বাপ্তাইজকের দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহনের মাধ্যমে জগতের সমস্ত পাপ নিজের উপরে তুলে নিয়েছিলেন, এই পাপের মূল্যরূপে ক্রুশের উপরে নিজের জীবন দান করেছিলেন৷ বাপ্তিস্মের মাধ্যমে তিনি আমাদের সমস্ত অধর্ম এবং দুর্বলতা তুলে নিয়েছিলেন৷ আমাদের দুর্বলতা এবং অধার্মিকতা জনিত সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছিলেন, এবং তিনি আমাদের অনন্তকালীয় মেষপালক হয়েছেন৷

এমন মহাআশীর্বাদে আশীর্বাদযুক্ত হওয়ার পরে, কে প্রভুকে রোমান শাসকের সাথে বা নশ্বর কোনো সৃষ্টির সাথে ঈশ্বর হিসাবে তুলনা করতে পারে? কারণ ঈশ্বরের অনুগ্রহ এত মহৎ এবং এত অপরিমেয় যে রোমান শাসকের কোনো প্রলোভন বা হুমকি সাধুগণকে ঈশ্বরের প্রেম থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে নি, বরং বিশ্বাসের দৃঢ়তায় তারা স্বেচ্ছায় এবং আনন্দচিত্তে সাক্ষ্যমরের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন৷ বিশ্বাস পরিত্যাগ করার জন্য সব রকমের হুমকি ও চাপ তারা অগ্রাহ্য করেছে এবং জাগতিক উচ্চপদ এবং সুখের প্রলোভনও তারা অস্বীকার করেছে৷ কোনো কিছুই প্রভুর প্রতি তাদের বিশ্বাস থেকে তাদেরকে সরাতে পারে নি বা ঈশ্বর থেকে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে নি এবং এই আমৃত্যু বিশ্বস্ততা সাক্ষ্যমরের মৃত্যুবরণ করতে তাদের সাহায্য করেছিল৷

জল ও আত্মার সুসমাচারের মাধ্যমে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হতে পেরে, সাক্ষ্যমরদের হৃদয় প্রভুর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদে পরিপূর্ণ ছিল৷ যারা অনন্তকালের জন্য পাপ থেকে মুক্ত হয়েছিল তারা ঈশ্বরের প্রেমের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে নি, বরং স্বেচ্ছায় সাক্ষ্যমরের মৃত্যুবরণ করে নিয়েছে৷ রোমান শাসকেরা যেমন আদি মন্ডলীর সময়ে নিজেদেরকে ঈশ্বর হিসাবে আরাধনা করার দাবি করত, সেই রকম সময় খুব শীঘ্রই আসছে, যখন আমাদের বিশ্বাসকে পরিত্যাগ করতে বাধ্য করার জন্য দমননীতি প্রয়োগ করা হবে৷ এরকম যখন ঘটবে, বিশ্বাসের পূর্বসুরীদের পদাঙ্ক আমাদের তখন অনুসরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে, বিশ্বাস ধরে রাখার জন্য সাক্ষ্যমরের মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হবে৷

যদিও আমরা অধার্মিকতায় পূর্ণ, তবুও ঈশ্বর আমাদেরকে এতই ভালোবেসেছেন যে আমাদের সমস্ত পাপ সমূহ তাঁর নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন৷ তাঁর গৌরবের সম্মুখে এত পাপ করা স্বত্তেও তিনি আমাদেরকে তাঁর বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করেছেন৷ তিনি শুধু আমাদেরকে আলিঙ্গনই করেন নি, বরং পাপের সমস্ত দাসত্ব এবং ধ্বংস থেকে আমাদের উদ্ধার করেছেন এবং তিনি আমাদেরকে চিরকালের জন্য তাঁর ভার্য্যা করেছেন৷ এই কারণে আমরা তাঁর সাথে কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি না এবং আমরা তাঁর নামের জন্য স্বেচ্ছায় ও আনন্দে সাক্ষ্যমরের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারি৷ ঈশ্বরের দেওয়া প্রথম প্রেমের কারণে, সাক্ষ্যমরের মৃত্যু পর্যন্ত আমরা মুখোমুখি হতে পারি৷ এটি আমাদের মানবিক আবেগ থেকে সৃষ্টি হয় না, তবুও এই বিষয়ে আমাদেরকে বিশ্বস্ত থাকতে হবে যে, আমাদের দুর্বলতা এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকা স্বত্তেও ঈশ্বর আমাদেরকে তাঁর সমস্ত আশীর্বাদ দান করেছেন৷ সাক্ষ্যমর হওয়া আমাদের ইচ্ছাশক্তির উপর নির্ভর করে না, কিন্তু ঈশ্বরের প্রেমের মহত্বে বিশ্বাসের উপরে নির্ভর করে৷

এমন অনেকেই আছে যারা নিজেদের দেশ বা মতাদর্শের কারণে শহীদ হয়৷ নিজের বিশ্বাসের উপর দৃঢ় প্রত্যয়ের কারণে নিজের জীবন দিতেও এরা পিছপা হয় না৷ কিন্তু আমরা? যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করার মাধ্যমে ঈশ্বরের সন্তান হয়েছি, আমরা কিভাবে সাক্ষ্যমর হব? আমাদের প্রভু আমাদের প্রেম করেছেন এবং উদ্ধার করেছেন এই মহা আনন্দেই আমরা সাক্ষ্যমর হতে পারি৷ আমাদের অগনিত পাপ থাকা স্বত্তেও ঈশ্বর আমাদের গ্রহণ করেছেন, কারণ তাঁর সাথে অনন্তকালীন জীবনযাপনের জন্য তিনি আমাদেরকে আশীর্বাদ করেছেন, পবিত্র আত্মা দান করেছেন এবং আমাদেরকে প্রস্তুত করেছেন, এ কারণে আমরা তাঁকে কখনও পরিত্যাগ করতে পারি না৷

ঈশ্বর আমাদেরকে নূতন আকাশ ও নূতন পৃথিবী দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন, শুধুমাত্র এই কারণেই আমরা আমাদের বিশ্বাস পরিত্যাগ করতে পারি না৷ এটা কোনো ব্যাপার নয় যে, শেষ কালে খ্রীষ্টারীদের এবং রাজনৈতিক নির্যাতনের দ্বারা আমাদের মৃত্যু হবে, তবুও আমরা কখনই আমাদের প্রভু এবং তাঁর জল ও আত্মার সুসমাচারকে অস্বীকার করতে পারি না৷ এমনকি খ্রীষ্টারীদের পদতলে পিষ্ট হয়ে আমরা যদি মৃত্যুবরণও করি, তবুও ঈশ্বরের প্রেম ও অনুগ্রহ আমাদেরকে উদ্ধার করেছে তা আমরা কখনও পরিত্যাগ করতে পারি না৷ যেমন প্রচলিত কথা আছে যে, লাশ হব তবুও প্রভুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করব না৷ আমরা হয়ত অন্যবিষয়ে বাধাগ্রস্ত হতে পারি, কিন্তু একটি বিষয়ে আমরা কখনও বশীভূত হব না- খ্রীষ্টের যে প্রেম আমাদের পরিত্রাণ করেছে আমরা তা পরিত্যাগ করব না এবং বিশ্বাসঘাতকতা করব না৷ 

আপনি কি মনে করেন যে আমাদের অধার্মিকতা স্বত্তেও, খ্রীষ্টারীরা আমাদের প্রতি দয়ালু হবে? অবশ্যই না! সে অসতর্ক হবে না! কিন্তু আমরা কত দুর্বল ও পাপী হওয়া স্বত্তেও আমাদের প্রভু আমাদের স্থান থেকে আমাদের সমস্ত মন্দতা গ্রহণ করে বিচারিত হওয়ার মাধ্যমে সমস্ত কিছুই সম্পন্ন করেছেন, প্রভুর যে প্রেমের পরিত্রাণ, জল ও আত্মার সুসমাচারের মধ্য দিয়ে আমাদেরকে উদ্ধার করেছে, আমরা তা পরিত্যাগ করতে পারি না এবং এই প্রথম প্রেমে আমাদের বিশ্বস্ততার অমর্যাদা করতে পারি না৷ কোনো কিছুই আমাদেরকে অবিশ্বস্ত করতে পারবে না, যদি আমাদের হৃদয়ে প্রথম প্রেমের এই বিশ্বাস থাকে৷

অনুরূপভাবে, যদি এই বিশ্বাস আমাদের হৃদয়ে গভীরভাবে ধারণ করতে পারি, তাহলে, শেষে আমাদের উপরে যতই নির্যাতন, অত্যাচার ও দমননীতি আসুক না কেন, আমরা বিশ্বাসে অনড় থাকতে পারব৷ ঈশ্বরের অমূল্য প্রেমকে যদি আমরা আমাদের হৃদয়ে অনুভব করি, এবং শেষ পর্যন্ত যদি এই প্রেমকে ধরে রাখি, তাহলে, শেষদিন পর্যন্ত আমরা সুসমাচারে নির্ভর করতে পারব৷ এই কারণে যারা বিশ্বস্ততায় চলে, সাক্ষ্যমরত্ব গ্রহণ করা তাদের জন্য কঠিন কিছু নয়৷

আমাদের নিজস্ব সাক্ষ্যমরত্বের জন্য গভীর চিন্তাভাবনা সুমুহ অবশ্যই আমাদের দৃষ্টিগোচরে আনতে হবে৷ সাক্ষ্যমরের মৃত্যু দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণা এবং ক্লেশভোগ করার মত নয়৷ একটি সুচ যেমন অসহনীয় যন্ত্রণার সৃষ্টি করতে পারে, আমাদের মাংসিক একটি ছোট কথাও তেমনি৷ এই ধরণের মাংসিক যন্ত্রণার মত সাক্ষ্যমরের মৃত্যু হতে পারে না৷ বরং সাক্ষ্যমরের মৃত্যু হচ্ছে আপনার নিজের জীবনকে উত্সর্গ করে দেওয়ার মত৷ সাক্ষ্যমরের মৃত্যু বলতে শুধু দৈহিক কষ্টভোগ করাই নয়, কিন্তু বাস্তবে জীবন পর্যন্তও বিসর্জন দেওয়া৷ খ্রীষ্টারীরা যখন দাবি করে যে যেন আমরা তাকে ঈশ্বর বলে ডাকি ও ভজনা করি, তখন আমরা আমাদের নিজেদের মৃত্যুর সাথে সংগ্রাম করি কেননা একমাত্র প্রভুই আমাদের ঈশ্বর এবং একমাত্র তিনিই আমাদের আরাধনার যোগ্য এবং একমাত্র তাঁর নামেই আমরা সাক্ষ্যমর হতে পারি৷ কোনো কিছুর বিনিময়ে আমরা এই বিশ্বাস পরিবর্তন করতে পারি না৷

খ্রীষ্টারী যারা ঈশ্বরকে অস্বীকার করে, এবং একজন ঈশ্বর রূপে ভজনার দাবি করে, তারা কি সত্যই ভজনা পাওয়ার যোগ্য? অবশ্যই না! বিশ্বব্রহ্মান্ড ও পৃথিবীর সৃষ্টি করার ক্ষমতা একমাত্র ঈশ্বরেরই আছে৷ জীবন ও মৃত্যুর উপরে একমাত্র তাঁরই ক্ষমতা রয়েছে৷ সৃষ্টির পূর্বে তিনি একাই ছিলেন নিষ্কলঙ্ক, পাপহীন এবং ধার্মিকতায় পরিপূর্ণ, এবং পৃথিবীর সমস্ত পাপ তুলে নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই আছে৷ খ্রীষ্টারীদের তখন কি অবস্থা হবে? পৃথিবীতে খ্রীষ্টারীদের একমাত্র একটাই শক্তি থাকবে৷ এই কারণে তাদের জন্য আমাদের প্রভুকে পরিবর্তন করতে পারি না এবং সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের উপর থেকে আমাদের বিশ্বাস পরিত্যাগ করতে পারি না৷ 

একমাত্র ঈশ্বরই আমাদেরকে অনন্ত শান্তি দান করবেন৷ যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাসের মাধ্যমে যারা পাপমুক্ত হবে, তাদের জন্য নূতন আকাশ ও নূতন পৃথিবী সহস্রাব্দের দ্বারা স্বগৌরবে খুলে দেওয়া হবে৷ কিন্তু খ্রীষ্টারীদের সম্মুখে যারা নতি স্বীকার করবে, তারা শয়তানের সাথে নরকে নিক্ষিপ্ত হবে এবং অনন্ত শাস্তি ভোগ করবে৷ সাময়িক দুঃখকষ্টের ভয়ে আমরা যদি খ্রীষ্টারীদের সঙ্গে এক হয়ে আমাদের অনন্তকালীন সুখ থেকে দুরে থাকি তাহলে এটা খুবই বোকামির কাজ হবে৷ এই সত্য জেনে যারা জল ও আত্মার সুসমাচার তাদের হৃদয়ে বিশ্বাস করে, তারা সাহসপূর্বক খ্রীষ্টারীদের বিপক্ষে দাঁড়াবে, সাক্ষ্যমর হবে এবং তাদের আত্মত্যাগের পুরস্কারস্বরূপ অনন্ত শান্তি ভোগ করবে৷ 

আপনি এবং আমি আমাদের সকলকে সাক্ষ্যমর হতে হবে৷ ভুল করবেন না, কৃষ্ণবর্ণ অশ্বের যুগের পরেই পান্ডুরবর্ণ অশ্বের যুগ আসবে এবং তখন খ্রীষ্টারীর উত্থান হবে ও সপ্ততুরীর মহামারী শুরু হবে৷ খ্রীষ্টারীর উত্থান অবশ্যই হবে, সাধুগণকে অবশ্যই সাক্ষ্যমর হতে হবে এবং আমাদের পুনরুত্থানের সাথে সাথে আমাদেরকে অতি অবশ্যই রূপান্তরিত হতে হবে৷ এবং অতি অবশ্যই আমরা সহস্রাব্দের রাজত্বে প্রবেশ করব৷ এই কারণে খ্রীষ্টারী যখন অত্যাচার করবে এবং আমাদের মৃত্যু ঘটাবে, আমরা সকলে স্বেচ্ছায় সাক্ষ্যমর হব৷

Quo vadis নামে একটি বিখ্যাত সিনেমাতে খ্রীষ্টারীদের জীবন চিত্রায়িত করা হয়েছে, যারা তাদের বিশ্বাসের কারণে জীবন বিলিয়ে দিয়েছে, এমনকি যখন তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে তখনও তারা ঈশ্বরের প্রশংসা করেছে৷ সিনেমাটা সম্পূর্ণই ছিল কাল্পনিক গল্প, কিন্তু এর ঐতিহাসিক পটভূমি সবই সত্য অর্থাৎ অনেক খ্রীষ্টিয়ান তাদের বিশ্বাসের দৃঢ়তার কারণে জীবন বিসর্জন দিয়েছে৷ কেন তারা এমন করেছিল? কারণ রোমান শাসকগণ তাদেরকে বাধ্য করত, যেন তারা ঈশ্বরের পরিবর্তে অন্য দেবতার ভজনা করে ও তাদের বিশ্বাস ছুড়ে ফেলে দেয় কিন্তু তারা তা মেনে নিতে পারতেন না৷ 

রোমান শাসকদের দাবি অনুসারে তারা যদি তাদের ঈশ্বরকে পরিবর্তন করত তাহলে তারা সমস্ত কিছুরই পরিবর্তন করে ফেলত, শাসকই তাদের দেবতা হত, তার নিষ্ঠুরতায় তাদেরকে শাসন করা হত এবং তাদের দাসত্বের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই তারা মারা যেত৷ তারা পাপ থেকে মুক্ত হতেও পারত না, নূতন আকাশ ও নূতন পৃথিবীতে প্রবেশ করতেও পারত না, এ কারণে তারা আনন্দ ও প্রশংসা করতে করতে নিশ্চিত মৃত্যুবরণ করে নিত তবুও বিশ্বাসের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করত না৷ মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া স্বত্তেও প্রভুর উদ্দেশ্যে তারা প্রশংসা গান করতে পারত কারণ মৃত্যুর যন্ত্রণা থেকেও তাদের প্রত্যাশা ছিল মহত্তর৷ 

জল ও আত্মার সুসমাচার দৃঢ়ভাবে ধারণ করা আমাদের জন্য সত্যই খুব কষ্টসাধ্য এই প্রত্যাশায় জীবনযাপন করা অবশ্যই কর্তব্য, এই বিশ্বাস থাকতে হবে যে, মৃত্যুর ওপারে আমাদের জন্য সুখ ও গৌরবে পরিপূর্ণ অনন্ত-জীবন অপেক্ষা করছে৷ 

আপনি কি প্রভুর জন্য কখনও তাড়িত হয়েছেন? আপনার নিজের পাপ, অধর্ম অথবা ভুল বা ত্রুটির জন্য নয়, কিন্তু প্রভুর জন্য কি প্রকৃতপক্ষে কখনও তাড়িত হয়েছেন? যদি আমাদের সমস্ত তাড়না প্রভুর জন্য হয়ে থাকে, তাহলে তাড়না জনিত সেইসব যন্ত্রণা মহা আনন্দে পরিণত হবে৷ যেমন প্রেরিত পৌল প্রকাশ করেছেন, “কারণ আমাদের মীমাংসা এই আমাদের প্রতি যে প্রতাপ প্রকাশিত হইবে, তাহার সঙ্গে এই বর্তমান কালের দুঃখভোগ তুলনার যোগ্য নয়” (রোমীয় ৮:১৮)৷ কারণ গৌরবে যে আনন্দ আমাদের মাঝে প্রকাশিত হবে, তা প্রভুর জন্য তাড়নার চাইতে এত বেশী মহত্তর যে বর্তমানের সমস্ত তাড়না কষ্টগুলো আমাদের বিশ্বাসের মহা আনন্দ এবং শান্তির নীচে চাপা পড়ে যাবে৷ 

অন্যভাবে বলতে গেলে, আদি মন্ডলীর সাধুগণ এবং সাক্ষ্যমরগণ তাদের প্রতি ঘটিত সমস্ত তাড়না জয় করতে পেরেছিলেন, এবং নিজের জীবন বির্সজন দিতে পেরেছিলেন কারণ তারা জানতেন যে তাদের সেই ক্ষণিক যন্ত্রণার পরেই তাদের জন্য মহা আনন্দ অপেক্ষা করছে৷ তাদের ব্যাথা সহ্য করার বা যন্ত্রণা ভোগ করার মত সামর্থ ছিল এই কারণে তারা যে সাক্ষ্যমর হয়েছিলেন তা নয়, কিন্তু তাদের সম্মুখে যে প্রত্যাশিত মহা গৌরব অপেক্ষা করছিল, সেই প্রত্যাশার কারণেই তারা তা সহ্য করতে পেরেছিলেন৷

সাধারনভাবে মানুষ এই চিন্তা থেকে ব্যথা সহ্য করে যে, তাদের যেকোনো উপায়ে এই ব্যাথা সহ্য করতে হবে৷ এটা একটি সমস্যাপূর্ণ ও ক্লান্তিজনক সংগ্রাম৷ যখন তাদের ধৈর্য্য হতাশার জন্ম দেয়, হতাশা আরো বেড়ে যায়, কষ্টভোগ আরো মূল্যহীন হয়ে পড়ে৷ কিন্তু খ্রীষ্টিয়ানদের জন্য পরীক্ষাসিদ্ধতার আনন্দ এবং শান্তিতে পরিণত হয়, কারণ আমরা আমাদের প্রত্যাশা ও নিশ্চয়তা সম্পর্কে নিশ্চিত৷ বিশ্বস্ত দাসগণের মত আমরা যদি সমস্ত অন্তঃকরণ দিয়ে প্রভুর কাজ করি, আমরা জানি যে, আমাদের বর্তমানের এই কষ্ট ও ত্যাগের চেয়ে প্রত্যাশিত আনন্দ ও শান্তি অনেক বেশী মহত্তর৷ কারণ আমাদের সমস্ত কষ্ট, আনন্দে সমাহিত হবে, আমরা প্রভুর জন্য জীবনযাপন করতে পারব, এমনকি তাঁর জন্য সাক্ষ্যমরের মৃত্যুকেও আলিঙ্গন করতে পারব৷ 

মানুষের মাঝে আত্মা, আবেগ, অনুভুতি, চিন্তা, চেতনা ও বিশ্বাস রয়েছে৷ নূতন জন্ম প্রাপ্ত আত্মার জন্য, যেহেতু প্রভুর আত্মা তাদের মাঝে রয়েছেন, ধার্মিকতার জন্য তাড়িত হলেও তাদের জন্য বর্ণনাতীত আনন্দ এবং গৌরবের শান্তি অপেক্ষা করছে৷ কিন্তু তারা যদি প্রথম প্রেম ত্যাগ করে, তাহলে প্রভু তাদের দীপ বৃক্ষ দূর করতে দ্বিধা করবেন না৷

যারা সমস্ত হৃদয় এবং জীবন দিয়ে জল ও আত্মার সুসমাচারের পক্ষে আনন্দ চিত্তে কাজ করছে, তারা যদি তা থেকে বিরত হয় তার মানে এই দাঁড়ায় যে, ক্রমান্বয়ে তারা সুসমাচারের আনন্দ, তাদের প্রথম প্রেম হারিয়ে ফেলেছে, যদিও তারা পুরোপুরি ভাবে দূর হতে দেয় না৷ হয়তো তারা তাদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ধরে রাখে, কিন্তু তারা যদি গর্বিত চিত্তে এই সুসমাচার প্রচার না করে, যদি তাদের ধারণা পরিস্কার না থাকে যে কিভাবে পাপমুক্ত হওয়া যায়, অর্থাৎ পরিত্রাণের জন্য শুধুমাত্র ক্রুশীয় রক্তে বিশ্বাসই যথেষ্ট নয়, যদি এই ধারণা পরিস্কার না থাকে, তাহলে তাদের বিশ্বাস লোপ পাবে এবং তাদের সাক্ষ্যমরের মৃত্যু মূল্যহীন হয়ে পড়বে৷ তাহলে ঈশ্বর স্বস্থান থেকে তাদের দীপবৃক্ষ দূর করে দেবেন৷

যারা আনন্দ চিত্তে দৃঢ়তার সাথে সুসমাচার প্রচার করে, তারা স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করতে পারে, কারণ তারা কখনও তাদের প্রথম প্রেম পরিত্যাগ করে নি৷ কারণ, খ্রীষ্টের প্রেম বিশ্বাস করে এবং তা প্রচার করার মাধ্যমে তারা আশীর্বাদযুক্ত হয়েছে, তারা সাক্ষ্যমর হতে পারে৷ আপনি কতটা সক্ষম বা কতটা অনুগ্রহ পেয়েছেন, সেটা কোনো বিষয় নয়, কিন্তু আপনি যদি জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার না করেন, তাহলে ঈশ্বর আপনার মন্ডলীকে দূর করে দেবেন৷ এটা অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা ঈশ্বর চান যেন আমরা তা হৃদয়াঙ্গম করি৷ আমরা যদি এই সত্য বিশ্বাস করি এবং অনুধাবন করি, যদি আমরা এই সত্যকে অনুধাবনকরি এবং বিশ্বাস করি, তাহলে আমরা আমাদের হৃদয়কে নবায়িত করতে পারব, এবং প্রভুর নামের জন্য সাক্ষ্যমর হতে পারব৷

আমাদের বিশ্বাসের স্থায়িত্বের মূল কি? টা হল জল ও আত্মার সুসমাচার৷ জল ও আত্মার সুসমাচার যদি না থাকত, তাহলে আমাদের বিশ্বাসের কাজের কি মূল্য থাকত? এই কারণে, আমরা আমাদের বিশ্বাস ধরে রাখতে পারি – ঈশ্বর জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা আমাদের প্রেম করেছেন এবং তাঁর কোলে ঠাঁই দিয়েছেন৷ কারণ, এই প্রেম অপরিবর্তনীয় প্রেম, যার দ্বারা আমরা গৌরাবন্বিত হতে পারি৷

যেহেতু জল ও আত্মার সুসমাচার আমাদের পরিত্রাণ দিয়েছে এবং যেহেতু এই সুসমাচারে খ্রীষ্টের প্রেম রয়েছে, তাই দুর্বলতা সত্বেও শেষ পর্যন্ত আমরা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে চালিত হতে পারি৷ আমরা অধর্মে পূর্ণ, কিন্তু যেহতু আমরা জল ও আত্মার সুসমাচার পরিহিত হয়েছি, তাই আমরা ভাই বোনকে, ঈশ্বরের দাসগণকে এবং জগতের সমস্ত আত্মাকে প্রেম করতে পারি৷ প্রকৃত প্রেম মূলত মানুষের নাগালের বাইরে৷ যেহেতু আমাদের মধ্যে কোনো প্রেম নেই, তাই স্বার্থপরের মত নিজেদেরকে ছাড়া অন্যকে আমরা ভালবাসতে পারি না৷ ভাসা ভাসা উপরে চকচকে দেখে অনেকে প্রতারিত হয়, বাহ্যিক বিষয় এবং বস্তুগত ঐশ্বর্য্য দেখে তারা মানুষের বিচার করে৷ কিন্তু বিশ্বাসীদের মাঝে ঈশ্বরের প্রেম দেখা যায়৷ এটাই আমাদের সুসমাচার প্রচার অর্থাৎ আমাদের প্রভুর প্রকৃত প্রেম প্রচার করতে সমর্থ করে৷ 

আমাদের প্রভু এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমাদের সমস্ত অধর্ম নিজে গ্রহণ করেছিলেন, এবং আমাদের উদ্ধার করার জন্য সমস্ত পাপ ধৌত করেছেন, তাহলে তাঁর যে প্রথম প্রেম আমাদেরকে ঈশ্বরের সন্তান করেছে, কিভাবে আমরা টা পরিত্যাগ করতে পারি? অনেক বিষয়ে আমাদের অভাব থাকতে পারে, কিন্তু এই সত্যে আমাদের বিশ্বাসের ক্ষেত্রে অভাব অবশ্যই থাকা উচিত নয়৷ মহা ক্লেশের সময়ে যেটা সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন তা হল জল ও আত্মার সুসমাচারের এই সত্যে প্রকৃত বিশ্বাস৷ আমরা যখন পরীক্ষায় বা কষ্টে পড়ি, তখন জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসই সেই সব পরীক্ষা থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করবে এবং বিশ্বাসের দৃঢ়তা ধরে রাখতে সাহায্য করবে৷ একমাত্র সেই সুসমাচারের পরাক্রমেই দৈনন্দিন জীবনের শত রকমের কষ্ট ও ক্লান্তির মাঝেও আমরা আনন্দিত ও হাস্যজ্বল থাকতে পারি, এটাই আমাদের প্রভুর প্রেম৷ 

কখন কখন মানুষ ব্যবস্থার ফাঁদে পা দিতে আসক্ত হয়৷ যখন তারা মনে করে যে তাদের কাজের জন্য ঈশ্বর তাদের আশীর্বাদ করেছেন৷ আমি অবশ্যই বলব না যে এটা সম্পূর্ণ ভুল, কারণ প্রভু বলেন যে, যারা তাঁকে প্রেম করে, তিনি তাদেরকে প্রেম করবেন৷ কিন্তু ঈশ্বর আমাদের কাজের জন্য আমাদের প্রেম করেছেন বা পাপমুক্ত করেছেন, তা নয়৷ কারণ, ঈশ্বর আমাদের জন্য তাঁর প্রতিজ্ঞাগুলোর বিষয়ে অবগত আছেন, তিনি আমাদের পাপগুলো জানেন, তাঁর পবিত্র ইচ্ছা এবং প্রেমে তিনি আমাদের প্রেম করেছেন এবং পরিপূর্ণ করেছেন৷ শুধুমাত্র তাঁর আশীর্বাদের কারণে, আমরা বেঁচে থাকতে পারি৷ ঈশ্বর আমাদের যে তাঁর সন্তান ও দাস করেছেন, তার কারণ হল এই যে, আমরা প্রভুর পক্ষে কাজ করতে পারি, তাঁর মহিমায় সজ্জিত হতে পারি, অন্যের কাছে সুসমাচার প্রচার করতে পারি এবং প্রয়োজনে তাঁর জন্য সাক্ষ্যমর হতে পারি৷ কেবলমাত্র তিনি আমাদেরকে এই সকল করার শক্তি যোগান৷ 

Quo Vadis সিনেমাতে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়েও কিভাবে মহিলারা প্রভুর প্রশংসা করেছিল? তারা প্রভুর মাঝে শক্তি খুঁজে পেয়েছিল৷ কারণ খ্রীষ্টের প্রেম এতই মহৎ ছিল যে তারা প্রসংসার সাথে সাক্ষ্যমরের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পেরেছিল৷

এই একই নীতি আমাদের জীবনের জন্য প্রযোজ্য৷ প্রভু শক্তি দিয়েছেন বলে আমরা এভাবে বেঁচে আছি৷ আমরা যেন তাঁর সন্তান এবং দাস হিসাবে জীবনযাপন করছি, তা আমাদের কোনো কাজের বিনিময়ে হয় নি৷ এটা পাওয়ার দাবি করার মত আমরা কোনো কাজই করি নি৷ আমাদের জন্য ঈশ্বরের অপরিবর্তনীয় পবিত্র প্রেম এবং সেই প্রেমে আমাদের বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত তাঁকে অনুসরণ করতে আমাদেরকে সমর্থ করে, যদিও মাঝে মাঝে আমরা উচোট খাই৷ এ শক্তি ঈশ্বরের, আমাদের নয়৷ ঈশ্বরের যে প্রেম আমাদের পরিপূর্ণ করেছে, কেবলমাত্র তার মাধ্যমেই সাক্ষ্যমরের মৃত্যুবরণ করা সম্ভব, কেবলমাত্র তাঁর অনুগ্রহের মাধ্যমে সাক্ষ্যমরের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারি৷ এই সত্য মনে রাখুন যে, সাক্ষ্যমর হওয়ার সামর্থ্য ঈশ্বর যোগান, সাক্ষ্যমরের মৃত্যুর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে সময় নষ্ট করবেন না, মনে করবেন না যে এ ব্যাপারে আপনি কিছু করতে পারবেন৷ কেবলমাত্র জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসই শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত প্রভুর প্রশংসা করার জন্য শক্তি যোগাবেন৷

এশিয়ার ৭ টি মন্ডলীকে প্রভু বলেছিলেন, “যে জয় করে, তাহাকে আমি ঈশ্বরের ‘পরমদেশস্থ জীবন বৃক্ষের’ ফল ভোজন করিতে দিব৷” নূতন আকাশ ও নূতন পৃথিবীতে এই বৃক্ষ রয়েছে৷ সেখানে ঈশ্বরের সিংহাসন রয়েছে, মূল্যবান পাথরের তৈরী বাড়িও রয়েছে, এবং উপচে পড়া জীবন জলও রয়েছে৷ ঈশ্বর তাদেরকে পরমদেশ দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন, যারা জয় করে, এবং সেখানেই তারা পবিত্রতার সাথে তাঁর সঙ্গে বসবাস করবেন৷

যারা জয় করে, তারা জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারাই জয় করে৷ এই সুসমাচার ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে জয় করা অসম্ভব৷ ঈশ্বরের শক্তিতেই কেবল সম্ভব, মানুষের শক্তিতে নয়৷ যে শক্তি দ্বারা আমরা জয় করতে পারি, তা ঈশ্বর থেকে আসে৷ আমাদেরকে অবশ্যই অনুধাবন ও স্বীকার করতে হবে যে, জল ও আত্মার সুসমাচার অতি মহৎ, এবং ঈশ্বরের প্রেম ও পরিত্রাণ অতি মহৎ; কারণ সাক্ষ্যমরের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার মত বিশ্বাস এই সুসমাচার থেকেই আমরা পেতে পারি৷ আমাদের দুর্বলতা থাকতে পারে, প্রতিভা বা যোগ্যতা না থাকতে পারে, আমরা অসম্পূর্ণ, মুর্খ বা অজ্ঞ হতে পারি, কিন্তু তবুও আমাদের ক্ষমতা আছে, কারণ আমাদের হৃদয়ে জল ও আত্মার সুসমাচার রয়েছে৷

যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে, জীবন-পুস্তকে তাদের নাম লেখা আছে৷ জীবন-পুস্তকে যাদের নাম লেখা নেই তারা পতিত ও শয়তানের দ্বারা বন্দি হবে৷ কেবলমাত্র জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে যাদের নাম জীবন-পুস্তকে লেখা হয়েছে, তারা দিয়াবলের কাছে মাথা নত করবে না৷ আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে যে, জীবন-পুস্তকে আপনার নাম স্পষ্ট ও নিশ্চিতভাবে লেখা আছে৷

খ্রীষ্টের প্রথম প্রেম, যা আমাদের প্রভু আমাদেরকে দিয়েছেন, এটাতে বিশ্বাসের দ্বারা আমরা সাক্ষ্যমর হই৷ আমরা দুঃখ ও ভয় ছাড়াই আমাদের সাক্ষ্যমরের মৃত্যুর জন্য প্রতীক্ষা করতে পারি, কেননা আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের মধ্যে যে পবিত্র আত্মা বাস করেন, তিনিই আমাদের সাক্ষ্যমরের মৃত্যুর মুখোমুখি হতে শক্তি প্রদান করবেন৷ কারণ সাক্ষ্যমরের মৃত্যুর যাতনা আমাদের জন্য প্রতীক্ষিত স্বর্গীয় গৌরবের সাথে তুলনা করা যায় না, মৃত্যুর সম্মুখে আমরা ভয়ে জড়সড় হব না, পরিবর্তে সাহসপূর্বক মূল্যবান সুসমাচারের পক্ষে আমাদের সাক্ষ্যমরের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করব৷ কিভাবে আমরা সাক্ষ্যমর হতে পারি, এ সমস্ত অদ্ভূত চিন্তাধারা আমাদের পিছনে পরিত্যাগ করতে হবে৷ সাক্ষ্যমরের মৃত্যুর জন্য এই সমস্ত চিন্তা আমাদের ইচ্ছা দ্বারা নয় কিন্তু ঈশ্বরের দ্বারাই হবে৷ 

আমি নিশ্চিত যে নিম্নস্থ ঘোষণা কোনো একদিন উচ্চস্বরে ঘোষিত হবে: “সুধী নাগরিকবৃন্দ, চিহ্ন গ্রহণের আজ শেষ দিন৷ আজ মাত্র অল্প সংখ্যক লোক চিহ্ন গ্রহণ করতে পারবে৷ এ পর্যন্ত আপনাদের সহযোগিতার জন্য আমরা আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ৷ এই চিহ্ন গ্রহণ করা উত্তম এবং আপনাদের জন্য অপরিহার্য্য কেননা এটা আমাদের দেশে স্থাপন করার আদেশ৷ সুতরাং অনুগ্রহপূর্বক শহর মিলয়াতনে আসুন যত শীঘ্র সম্ভব চিহ্ন গ্রহণ করুন৷ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা এই চিহ্ন গ্রহণ না করবে, তারা কঠোরভাবে দন্ড পাবে৷ এখন এটা পরিষ্কারভাবে করতে, যারা এখনও চিহ্ন গ্রহণ করে নি, আমি তাদের নাম ধরে ডাকব৷” অবশ্যই এটা একটা অলীক কল্পনা, কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা ঘটবে৷

নতুন মন্ডলীভুক্ত বিশ্বাসীরা একে অপরকে মাছের মত গণ্য করে৷ তাদের মধ্যে এটাই তাদের সংকেত শব্দ৷ আমাদেরও এই ধরণের চিহ্ন তৈরী করতে হবে, যাতে আমরা আমাদের ভাই-বোনেদের চিনতে পারি, যেন সাক্ষ্যমরের মৃত্যুর আলিঙ্গন করতে আমরা একে অপরের বিশ্বাসকে উত্সাহিত করতে পারি৷

সাক্ষ্যমরের মৃত্যু এমন বিষয় নয়, যা আমাদের ইচ্ছা দ্বারা আমরা অর্জন করতে পারি, আমরা সাহসের সাথে আমাদের সমস্যাগুলোর মোকাবিলা করতে পারি এবং সেগুলো দূর করতে পারি৷ ধার্মিকতার মৃত্যুর সাক্ষাতে আমাদের ভয়ের কিছু নেই৷ পৃথিবীতে থাকা অবস্থায় আমাদের প্রভুর জন্য এসবই আমরা করেছি৷ আমরা নিজেদেরকে প্রভুর উদ্দেশ্যে দিতে পারি, কেবল আমরা জানি যে, ঈশ্বরের নামের জন্য সাক্ষ্যমর হওয়ার নিমিত্ত পূর্বেই নিজেদেরকে নিরূপণ করেছি৷ আপনার অবস্থান বা সহায় সম্পত্তি হারানোর ভয়ে আপনি যদি সাক্ষ্যমরের মৃত্যুকে এড়াবার চেষ্টা করেন, তাহলে আপনাকে আকস্মিক দুর্ঘটনা ও মহা দুঃখকষ্টের সম্মুখীন হতে হবে, এটা আপনাকে বুঝতে হবে৷ তারা খ্রীষ্টের জন্য সাক্ষ্যমর হবেন এবং শেষ দিন পর্যন্ত প্রভুর উদ্দেশ্যে জীবনযাপন করবেন এই সত্য জানার মধ্য দিয়ে আপনি অবশ্যই একজন বিশ্বস্ত লোক হবেন৷

আমরা যখন বুঝতে পারব যে, আমরা সাক্ষ্যমর হব, আমরা আমাদের প্রকৃত জীবনে হৃদয়ে বিশ্বাসে আরো জ্ঞানী হব৷ এই জ্ঞান আমাদের নির্বুদ্ধিতা দূর করে পৃথিবীতে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকতে সাহায্য করে৷ এর অর্থ এই নয় যে, আমরা আমাদের জীবন ত্যাগ করব, কিন্তু আমরা প্রভুর উদ্দেশ্যে বেঁচে থাকব৷ শয়তানকে অতল গহ্বরে নিক্ষিপ্ত করার পুর্বমুহুর্ত পর্যন্ত ঈশ্বর শয়তানকে ক্ষমতা দিয়েছেন, প্রভু যিনি আমাদেরকে উদ্ধার করেছেন; আমরা তাঁর পক্ষে জীবনযাপন করি, খ্রীষ্টারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি এবং শয়তানকে জয় করি, এবং সমস্ত গৌরবের বিজয় একত্রে ঈশ্বরকে দিই৷ ঈশ্বর আমাদের দ্বারা গৌরাবন্বিত হতে চান৷ আমাদেরকে গ্রহণ করার জন্য প্রভুকে আমি ধন্যবাদ দিই, আমাদের বিশ্বাসের গৌরব তাঁকে দিই যে তিনি আমাদেরকে এত কিছু দিয়েছেন৷

আমরা বিশ্বাস করি যে, প্রভু আমাদেরকে শীঘ্রই নিতে আসবেন৷ শেষ কালে অনেক আত্মা যখন ঈশ্বরের নিকটে ফিরে আসবে, ঈশ্বর তাদেরকে তাঁর সন্তান রূপে গ্রহণ করবেন এবং নিয়ে যাবেন৷ প্রকাশিত বাক্য ৩:১০ পদে, ফিলাদিলফিয়া মন্ডলীর প্রতি ঈশ্বর বলেছেন যে, “তুমি আমার ধৈর্য্যের কথা রক্ষা করিয়াছ, এই কারণ আমিও তোমাকে সেই পরীক্ষাকাল হইতে রক্ষা করিব, যাহা পৃথিবীনিবাসীদের পরীক্ষা করিবার জন্য সমস্ত জগতে উপস্থিত হইবে।” ঈশ্বর অবশ্যই তাঁর বাক্যের প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করবেন৷

এই পদে “তুমি আমার ধৈর্য্যের কথা রক্ষা করিয়াছ,” বাক্যের দ্বারা ঈশ্বর সাধুগণকে বিশ্বস্ত জীবনযাপনের জন্য অর্পণ করেছেন৷ এর অর্থ হচ্ছে, অন্যেরা তাদের প্রতি কি বলেছে বা করেছে এটা কোনো বিষয় নয়, বরং তারা যেন তাদের বিশ্বাসকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখে৷ ঈশ্বর বলেন যে “পরীক্ষাকাল হইতে রক্ষা করিব”, তিনি বলেছেন, যারা তাঁর ধৈর্য্যের কথা রক্ষা করবে তারা বিশ্বাসের পরীক্ষা হতে উদ্ধার পাবে৷

যখন মহাক্লেশ ও সাক্ষ্যমরের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হবে, অন্যভাবে, বিশ্বস্তভাবে আমাদের প্রতিদিনের প্রার্থনা, সেবা এবং জীবনযাপনের মধ্যে দিয়ে ঈশ্বর আমাদেরকে নিয়ে যাবেন৷ আমরা যখন আমাদের মনকে প্রস্তুত করব যে, আমরা সাক্ষ্যমর হব, তখন আমাদের হৃদয় থেকে সমস্ত মন্দটা ধৌত হয়ে যাবে, এমনকি বিশ্বাসে আমাদের হৃদয় আরও বলবান হবে৷ ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি স্মরণ রাখার মাধ্যমে আমরা অবশ্যই ঈশ্বরের সম্মুখে বিশ্বস্ত জীবনযাপন করব, আমাদের সাক্ষ্যমরের মৃত্যু, যা আমরা পরীক্ষাকাল হতে ধরে রাখব৷ আমাদের বিশ্বাসের দ্বারা অবশ্যই আমরা অল্পকাল বেঁচে থাকব৷

বর্তমান যুগ প্রকাশিত বাক্যের যুগ৷ অনেক নির্বোধ খ্রীষ্টিয়ান আছে, যারা ঈশ্বরের বাক্যে অজ্ঞ, এমনকি তারা প্রাক-মহাক্লেশে দৃঢ়ভাবে নির্ভর করে৷ যখন শেষ দিন আসবে, তখন তার বুঝতে পারবে তাদের কি ভুল ছিল৷ তাদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের দিনগুলো গনণা করা হচ্ছে৷ আমাদের করণীয় হল এই যে, আমাদের প্রত্যাশা থাকতে হবে যে, ঈশ্বর অবশ্যই তাঁর প্রতিজ্ঞার বাক্য সিদ্ধ করবেন৷ 

যখন আমরা মহাক্লেশের মধ্যে থাকি, আমরা বিশ্বাস রক্ষার্থে সাক্ষ্যমর হব, আর তার পূর্বেই সপ্ত বাটির মহামারী শুরু হবে, আমরা যীশুর সাথে রূপান্তরিত হব এবং সহস্রাব্দের রাজত্বে প্রবেশ করব৷ খ্রীষ্টের সাথে আমাদের রাজত্ব করার প্রত্যাশা, আমাদের জন্য যে পুরস্কার অপেক্ষা করছে তার জন্য এই পৃথিবীতে আমাদের দুঃখকষ্ট আরও বেড়ে যাবে৷ নূতন আকাশ ও নূতন পৃথিবীতে প্রবেশ করা তখন অবর্ণনীয় আনন্দে পরিণত হবে৷ ঈশ্বরের এই প্রতিজ্ঞা পূরণের নিমিত্ত আমরা এখন প্রভুর পক্ষে বিশ্বস্ত জীবনযাপন করছি৷ আমাদের প্রভুর সমস্ত প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করুন, আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় থাকব, যে দিন আমাদের গৌরাবন্বিত দেহে চিরদিনের জন্য তাঁর সাথে বসবাস করব৷

আমাদেরকে সুসমাচার দানের মধ্য দিয়ে প্রকৃতভাবে পাপ থেকে মুক্তির জন্য, তাঁর উপর বিশ্বাস রক্ষার্থে সাক্ষ্যমরের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার জন্য এবং আমাদের জন্য এখনও তাঁর আশীর্বাদ স্থায়ী রয়েছে, এজন্য আমি প্রভুকে ধন্যবাদ দিই৷



ইফিষীয় মন্ডলীর ইতিহাস


ইফিষীয় ছিল রোমান সাম্রাজ্যের আমলে এশিয়া মাইনর অঞ্চলের একটি বৃহৎ বন্দর শহর এবং বানিজ্য ও ধর্মীয় কার্যাবলীর মূল কেন্দ্রবিন্দু৷ আদি মন্ডলীর সময়ে এটি আন্তর্জাতিক শহর হিসাবে প্রকাশ পায়, এর উত্তর দিকে ছিল সুনা এবং দক্ষিন দিকে ছিল মিলিতা৷ জনশ্রুতি অনুযায়ী যুদ্ধের দেবী আমাজন দ্বাদশ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে এই শহর তৈরী করে, এবং এথেন্সের রাজকুমার আন্দ্রক্লুশের কাছে তা হস্তান্তর করে৷

মূলত বলা যায় ইফিষীয় ছিল একটি উন্নত শহর, অর্থাৎ এটা ছিল খুবই জাগতিকতায় মত্ত একটি শহর ছিল৷ এই কারণে ঈশ্বর ইফিষীয় মন্ডলীকে বলেছেন, যেন তারা জল ও আত্মার সুসমাচার না হারায় এবং শেষ পর্যন্ত শয়তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়ী হয়৷ ঈশ্বরের সত্য বাক্য যে কত গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা অবশ্যই উপলব্ধি করব এবং সমস্ত কিছুর বিনিময়ে আমাদের বিশ্বাস অবশ্যই রক্ষা করব৷

প্রেরিত যোহনের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর ইফিষীয় মন্ডলীর প্রতি লিখেছেন, “যিনি নিজ দক্ষিণ হস্তে সেই সপ্ত তারা ধারণ করেন, যিনি সেই সপ্ত সুবর্ণ দীপবৃক্ষের মধ্যে গমনাগমন করেন, তিনি এই কথা কহেন; আমি জানি তোমার কার্য্য সকল এবং তোমার পরিশ্রম ও ধৈর্য্য; আর আমি জানি যে, তুমি দুষ্টদিগকে সহ্য করিতে পার না, এবং আপনাদিগকে প্রেরিত বলিলেও যাহারা প্রেরিত নয়, তাহাদিগকে পরীক্ষা করিয়াছ ও মিথ্যাবাদী নিশ্চয় করিয়াছ; এবং তোমার ধৈর্য্য আছে, আর তুমি আমার নামের জন্য ভার বহন করিয়াছ, ক্লান্ত হও নাই”৷ ইফিষীয় মন্ডলী তার পরিশ্রম, ধৈর্য্য দ্বারা দুষ্টকে সহ্য না করে, যারা প্রেরিত নয় তাদেরকে পরীক্ষা করার দ্বারা এবং তার নামের জন্য ধৈর্য্য সহকারে ভারবহনের কার্য্য করেছে৷

কিন্তু তারপরেও ইফিষীয় মন্ডলী তার ভুল কাজের জন্য তিরস্কৃত হয়েছে৷ এই অনুচ্ছেদটি বলে, “তথাচ তোমার বিরুদ্ধে আমার কথা আছে, তুমি আপন প্রথম প্রেম পরিত্যাগ করিয়াছ। অতএব স্মরণ কর, কোথা হইতে পতিত হইয়াছ, এবং মন ফিরাও ও প্রথম কর্ম্ম সকল কর; নতুবা যদি মন না ফিরাও, আমি তোমার নিকটে আসিব ও তোমার দীপবৃক্ষ স্বস্থান হইতে দূর করিব। কিন্তু এইটী তোমার আছে; আমি যে নীকলায়তীয়দের কার্য্য ঘৃণা করি, তাহা তুমিও ঘৃণা করিতেছ। যাহার কর্ণ আছে, সে শুনুক, আত্মা মণ্ডলীগণকে কি কহিতেছেন। যে জয় করে, তাহাকে আমি ঈশ্বরের “পরমদেশস্থ জীবনবৃক্ষের” ফল ভোজন করিতে দিব।”

উপরের অনুচ্ছেদটিতে এটি বলা হয়েছে যে, ঈশ্বর নীকলায়তীয়দের ঘৃণা করেন৷ এখানে নীকলায়তীয়দের মধ্যবর্তী বিশ্বাসীদের আর একটি দল যারা ঈশ্বরের মন্ডলী এবং তাঁর সত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল৷ প্রকৃতপক্ষে নীকলায়তীয়রা পর্গামস্থ মন্ডলীর প্রতি কি করেছিল, সে বিষয়ে পরবর্তী অনুচ্ছেদে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে৷ 



নীকলায়তীয়দের ঘৃণ্যকাজ


প্রকাশিত বাক্য ২:১৪ পদে বলা হয়েছে, “তথাচ তোমার বিরুদ্ধে আমার কয়েকটী কথা আছে, কেননা তুমি সেই স্থানে বিলিয়মের শিক্ষাবলম্বী কয়েক জনকে রাখিতেছ; সেই ব্যক্তি ইস্রায়েল-সন্তানদের সম্মুখে বিঘ্ন ফেলিয়া রাখিতে বালাককে শিক্ষা দিয়াছিল, যেন তাহারা প্রতিমার কাছে উৎসৃষ্ট বলি ভক্ষণ ও বেশ্যাগমন করে ।” গনণাপুস্তক ২২ অধ্যায়ে মোয়াবিয়দের রাজা বালাকের কাহিনী লিপিবদ্ধ রয়েছে, যেখানে এই অনুচ্ছেদটির মিল খুঁজে পাওয়া যেতে পারে৷

এই সময় ইস্রায়েলীয়রা মিশর থেকে তাদের যাত্রা শেষে কনান দেশের মোয়াবের সমভূমিতে পৌঁছালো, তারা সাতটি গোষ্ঠির ভূমি জয় করেছিল, “গরু যেমন মাঠের নবীন তৃণ চটিয়া খায়৷” এই জয়ের কথা শুনে বালাক তাদের ঈশ্বরে আতঙ্কিত হয়েছিলেন; তিনি এই জন্য ভীত হয়েছিলেন, যে মোয়াবিয়দের পরিণতি হবে ইতিমধ্যে কনান জয়কারী গোষ্ঠির মত৷ ইস্রায়েলীয়দের জয় প্রতিহত করার জন্য বালাক একটি পথে চেষ্টা করলেন, তিনি বিলিয়মকে ডাকলেন, যিনি একজন ভন্ড ভাববাদী ছিলেন৷ সুতরাং তিনি যেন তার হয়ে ইস্রায়েলীয়দের অভিশাপ দেন৷ 

বিলিযম ছিলেন একজন ভন্ড ভাববাদী কিন্তু বিজাতীয়রা তাকে একজন ঈশ্বরের সেবক বলে জানতেন৷ না, তিনি মহাযাজক হারোনের বংশধর ছিলেন, না লেবীয় বংশের ছিলেন৷ কিন্তু মোয়াবের রাজা বালাক বিশ্বাস করতেন যে, বিলিয়ম যাদেরকে আশীর্বাদ করবে, তারা আশীর্বাদযুক্ত হবে, এবং যাদেরকে অভিশাপ দেবে, তারা অভিশপ্ত হবে৷ ওই সময় বিলিয়ম একজন ভন্ড ভাববাদী ছিলেন, তবুও তিনি একজন খ্যাতিমান জাদুকর হিসাবে পরিচিত ছিলেন৷

বালাক রাজা বিলিয়মকে যা করতে বলতেন, তিনি টা অবজ্ঞা করতেন৷ এর কারণ, ইস্রায়েলীয়রা ঈশ্বরের লোক ছিল, ঈশ্বরের থেকে বিলিয়মের ইস্রায়েলীয়দের প্রতি অভিশাপ দেওয়ার কোনো অনুমতিই ছিল না, কিন্তু এরূপ করতে গিয়ে বিলিয়্ম নিজেই অভিশপ্ত হতেন৷ ঈশ্বরের আত্মায় আবিষ্ট হওয়ার মাধ্যমে বিলিয়ম ইস্রায়েলীয়দেরকে আশীর্বাদ ব্যতীত আর কিছুই করতে পারতেন না৷ এই কারণে বালাক ক্রোধান্বিত হয়ে ইস্রায়েলীয়দেরকে অভিশাপ দেওয়ার জন্য বিলিয়মকে বললেন, যেন সেখানে তিনি তাদেরকে দেখতে না পান৷ 

বিলিয়ম বালাকের নিকট থেকে প্রচুর স্বর্ণ-রৌপ্য গ্রহণ করলেন এবং পুনরায় ইস্রায়েলীয়দেরকে অভিশাপ দেওয়ার একটি পথ তাকে শিক্ষা দিলেন৷ তাদের পরীক্ষার ধরণ ছিল যে, মোয়াবিয়দের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাদের নারীগণের দ্বারা ইস্রায়েলীয়দেরকে ব্যভিচার করাবে এবং এইরূপে তাদের পাপের নিমিত্ত ঈশ্বরের দ্বারা শাস্তিভোগ করবে৷ এইরূপে ইস্রায়েলীয়দের ধ্বংস ডেকে আনার নিমিত্ত ভন্ড ভাববাদী বিলিয়ম বালাককে শিক্ষা দিয়েছিলেন৷

ঈশ্বর বলেন যে, তিনি বিলিয়মকে ঘৃণা করেন, কেননা সে শুধু অর্থকেই ভালোবেসেছে৷ খ্রীষ্টিয়ান সম্প্রদায়ের মধ্যেও অনেকে রয়েছে যারা বিলিয়মের মত৷ হতে পারে তারা সকলেই ভন্ড ভাববাদী, কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই সম্মানীয় এবং শ্রদ্ধেয়৷ কিন্তু বিলিয়মের বাহ্যিক অবস্থা ছিল ক্রমাগত বিরুদ্ধাচারণ করা৷ তার যখন প্রচুর অর্থ ছিল, তখন তিনি আশীর্বাদ করতেন; যখন তার থাকত না, তখন তিনি অভিশাপ দিতেন৷ দুঃখজনক হলেও, বর্তমানে খ্রীষ্টিয়ান সম্প্রদায়ের মধ্যে বিলিয়মের মত ঐ ধরণের অনেক লোক আছে যারা নিজেদেরকে ঈশ্বরের সেবক হিসাবে মনে করে৷ কেবলমাত্র জাগতিক লাভের আশায় যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, তারা ভন্ড ভাববাদীর ন্যায়৷ এই কারণেই ঈশ্বর নীকলায়তীয়দের ঘৃণা করতেন৷ 

ঈশ্বরের মন্ডলী এবং তাঁর দাসদের উপর কি ধরণের ধ্বংস নেমে আসবে আপনি কি টা ভাবতে পারেন? এটাই সম্পদের প্রেম৷ যারা কেবলমাত্র জাগতিক লাভের আশা করছে, ঈশ্বরের সাক্ষাতে তারা তাদের চক্ষুর সম্মুখে নিজের ধ্বংস দেখবে৷



বিলিয়মের অনুসারী মন্ডলীগুলো


আজকে এই প্রৈরিতিক কালেও অনেক মন্ডলী এবং ভন্ড দাস রয়েছে, যারা বিলিয়মকে অনুসরণ করছে৷ তারা, তাদের অনুসারীদের প্রত্যেককে অর্থের বিনিময়ে নিঃশেষ করে ফেলছে৷ উদাহরণ স্বরূপ, তারা আত্মিক দিকে ততটা জোর দেয় না, বরং যে সমস্ত সভ্যরা মন্ডলীতে বেশী দান-ধ্যান করতে পারে, তার উপরেই তারা তাদের বিশ্বাসের পরিমাপ করে৷ অর্থাৎ তারা মন্ডলীতে কত টাকা দিল, সেটাই যেন তাদের বিশ্বাসের মাপকাঠি৷ বেশী দিলে বেশী বিশ্বাস ও কম দিলে কম বিশ্বাস,- এই নীতি অনুসরণ করার কারণে মন্ডলী দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং মন্ডলীর বৃদ্ধিতে তা বিরাট প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়৷

এটা অবশ্যই একটা সুন্দর বিষয় যে বিশ্বাসীরা তাদের কৃতজ্ঞচিত্তে ঈশ্বরের এবং তাঁর সুসমাচার প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ কিন্তু বিলিয়মের মত ভন্ড ভাববাদীরা বিশ্বাসীদের উপর চড়াও হয়ে তাদের নিজেদের উদর পূর্ণ করে৷ তারা তাদের অনুসারীদের এইভাবে জাগতিক সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করে যে, “ আমি বিশ্বস্তভাবে আমার দশমাংশ দান করেছি এবং ঈশ্বর তাঁর ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাকে দশগুণ আশীর্বাদ দানে পুরস্কৃত করেছেন৷” বিলিয়মের দ্বারা ভুলপথে চালিত হয়ে, সন্দেহভাজন এই সব বিশ্বাসীরা মনে করে যে, এটাই সত্য বিশ্বাসের পথ, এমনকি আত্মিক ও জাগতিক, মিথ্যা গর্ব এই পথেই এমনিতেই তারা তাদের নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনে৷

“নীকলায়তীয়দের কার্য্যসকল” বিলিয়মের কার্য্যসমূহ থেকে আলাদা নয়৷ এভাবে বিলিয়ম, ইস্রায়েলীয়দের সম্মুখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য বালাককে শিক্ষা দিচ্ছিল, বর্তমানে খ্রীষ্টিয়ান সম্প্রদায়ের অনেকে দল ভারী করার জন্য নিজেদেরকে ঈশ্বরের সেবক হিসাবে দাবি করে৷ এই ভ্রান্ত ভাববাদীদের দ্বারা বিপথে চালিত হয়ে, তারা শেষপর্যন্ত ভ্রান্ত পালকদের দ্বারা তাদের সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় এবং আগে বা পরে যখন তাদের এই জ্ঞান ফিরে আসে, তারা বুঝতে পারে যে, তারা যেটা বিশ্বাস করেছিল, টা সম্পূর্ণই ভ্রান্ত৷ শেষে তারা ভ্রান্ত মন্ডলীর দোষ দেয় এবং তাদের বিশ্বাস পরিত্যাগ করে৷ প্রকৃতপক্ষে তারা কথিত ইভেনজেলিক্যাল মন্ডলীতে এই ধরণের দুঃখজনক সম্পর্ক বিরল নয়৷ বিলিয়মের দ্বারা প্রতারিত হয়ে, অনেক বিশ্বাসীই এই মন্দতায় চালিত হয়েছে এবং শেষপর্যন্ত মন্ডলীতে থেকেছে৷ 

এই অনুচ্ছেদটি আমাদের বলে যে, ঈশ্বর নীকলায়তীয়দের কার্য্যসমূহ ঘৃণা করেন৷ আমরা যদি নীকলায়তীয়দের অনুসরণ করি, তাহলে আমরা ঈশ্বরের থেকে আমাদের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি৷ আমাদের অনেক আত্মসাক্ষ্য রয়েছে, যা ঈশ্বর আমাদেরকে দিয়েছেন এবং এ সবই আত্মিকতা সমৃদ্ধ সম্পদ৷ কিন্তু জাগতিক লাভের আশায় এই সাক্ষ্য ব্যবহার করে হয়ত আমরা ভালো অবস্থায় থাকতে পারব, কিন্তু এটাই নীকলায়তীয়দের পথ, যা ঈশ্বর নিজেই ঘৃণা করেছেন৷



বিশ্বস্ত জীবন


ঈশ্বর এশিয়ার ৭ টি মন্ডলীর সবগুলোকেই নীকলায়তীয়দের কার্যের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন৷ তিনি তাদের কাছে আরো প্রতিজ্ঞা করেছেন যে যারা জয় করবে, তারা জীবন বৃক্ষের ফল ভোজন করবে৷ যখন আমরা প্রভুর সেবা করি, আমরা বিশ্বাসের দ্বারাই এরূপ করি, কেননা তাঁর উদ্ধারের নিমিত্ত আমাদের কৃতজ্ঞতা এবং এই জ্ঞান লাভের কারণে যে, জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করাই সঠিক কাজ৷ অন্যদের কাছে দেখানো বা নিজেদেরকে উপস্থাপন করার জন্য আমরা ঈশ্বরের সেবা করি না৷ এরূপ করলে না সঠিক সেবা হয়, না সত্য বিশ্বাস থাকে৷ ঈশ্বরের মন্ডলীতে নীকলায়তীয়দের মত এরূপ কার্য সম্পর্কে আমরা অবশ্যই সতর্ক হব৷ এ কারণেই ঈশ্বর এশিয়াস্থ ৭ টি মন্ডলীকে নীকলায়তীয়দের কার্য্য সম্পর্কে সতর্ক করেছেন৷

আপনি কি জানেন, কেন অনেক মন্ডলী নূতন জন্ম প্রাপ্ত মন্ডলী নয়, এবং অনেক বড় ও বৃহৎ মন্ডলী আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে? তারা বৃদ্ধি পেয়েছে এই কারণে যে তাদের মন্ডলী ভ্রান্ত বিশ্বাস ও সাক্ষ্য দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল৷ ঈশ্বরের দাসগণ নিজেদের উদরপূর্তির জন্য কখনই সভ্যদের কাছে অন্যায় সুবিধা ভোগ করতে পারেন না৷

পরিত্রাণের বিশ্বাসেই সত্য বিশ্বাস যা ঈশ্বর, যীশুর বাপ্তিস্মের মধ্য দিয়ে আমাদেরকে দান করেছেন, এবং আমাদের স্থানে থেকে বিচারিত হয়েছেন ও ক্রুশে রক্ত সেচন করেছেন৷ অনেক মন্ডলীতেই সদস্যরা নূতন জন্ম প্রাপ্ত হোক বা না হোক, তারা তাদের দল ভারী করার জন্য সাক্ষ্য দান করে৷ আপনাকে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে এবং বুদ্ধির পরিচয় দিতে হবে যে, কোন সাক্ষ্যটি আপনার বিশ্বাসের আত্মিক উন্নতি সাধন করছে এবং ঈশ্বরকে গৌরাবন্বিত করছে, ভ্রান্ত তাঁর নিজের ফাঁদেই পতিত হবে৷

বর্তমান বিশ্বের বড় বড় মন্ডলীগুলো বিলিয়মের মত নেতাদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে৷ বিলিয়মের পথ অনুসারী মন্ডলীর নেতারা তাদের মন্ডলীর অনুসারীদেরকে জাগতিক লাভের দিকে পরিচালিত করে৷ খ্রীষ্টিয়ান নেতারা বিলিয়মের মত অর্থের দ্বারা তাদের অনুসারীদেরকে আকঁড়ে ধরে এবং জাগতিক আত্ম-সাক্ষ্য দানে তাদেরকে উত্সাহিত করে৷ আমি তাদের এই কার্য্যসকল অতিশয় ঘৃণা করি৷

জীবনের সত্য বিশ্বাস অন্য কোনো বিশ্বাস থেকে আরম্ভ হয় নি৷ নীকলায়তীয়দের মধ্য দিয়ে শয়তান যে, ফাঁদ তৈরী করে রেখেছে, আমাদের অবশ্যই তা সতর্কতার সঙ্গে প্রতিহত করতে হবে৷ আমরা প্রত্যেকেই নীকলায়তীয়দের কার্য্য সকল জানি, এবং শয়তানের সেবকদের সীমাহীন প্রলোভন দ্বারা প্রতারিত হব না৷ ঈশ্বরের দাসদেরকে অবশ্যই এই বিষয়ে সতর্কভাবে মনোনিবেশ করতে হবে৷ এগুলো মন্ডলীর সাথেই যুক্ত৷ মন্ডলীর নেতারা যখন জাগতিক অর্থ সম্পদে পরিপূর্ণ হয়, তারা কিধরনের গাড়ি চালায়, তাদের কত বড় বাড়ি হয়, তাদের নিজেদের কত বড় প্রাসাদ হয়, কত বিশাল তাদের ব্যাঙ্ক একাউন্ট, - তারা শেষ পর্যন্ত মন্ডলীকে প্রভাবিত করেছে এবং তাদের নীকলায়তীয়দের পথে ধাবিত করেছে৷

এশিয়াস্থ সপ্ত মন্ডলীকে ঈশ্বর এই বিষয় বিশেষভাবে সহযোগী হতে বলেছেন৷ বিলিয়মের মত বিশ্বাসী লোকেরা কেবল জাগতিকতা লাভ করতে চায়, নিজেদের গৌরব লাভ করতে চায় এবং বিশ্বাসের ভিত্তি হতে চায়৷ ঈশ্বরের মন্ডলী অবশ্যই জাগতিকতার অন্বেষণ করে না৷ এইরূপে ঈশ্বর আমাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, তিনি তাদেরকে আশীর্বাদ করবেন যারা জল ও আত্মার সুসমাচারের পক্ষে ধাবিত হবে, আমরা আমাদের জাগতিক সম্পদ পৃথিবীতে সঞ্চয় করব না, বরং জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচারের কাজে ব্যবহার করব৷



ভ্রান্ত পালকদের ছুড়ে ফেলা হবে


এমনকি নূতন জন্ম প্রাপ্ত বিশ্বাসী যারা নীকলায়তীয়দের ফাঁদে ধরা পড়বে তাদেরকেও নরকে নিক্ষিপ্ত করা হবে৷ শুরুতে তারা ভাবতে পারে যে এরূপ নেতাদের বিশ্বাস চমত্কার এবং শক্তিশালী, কিন্তু ভ্রান্ত পালকদের প্রবঞ্চনা তাদেরকে এমনিতেই ধ্বংসের পথে পরিচালিত করবে৷

ঈশ্বর দূতদের দ্বারা ইফিষীয়াস্থ মন্ডলীকে বলেছেন যে, তিনি নীকলায়তীয়দের কার্য্যসকল ঘৃণা করেন৷ নীকলায়তীয়দের দ্বারা যারা ফাঁদে পতিত হয়েছে তারা (স্ত্রী/পুরুষ) অনন্ত নরকের যন্ত্রণা ভোগ করবে৷ হতে পারে তারা (স্ত্রী/পুরুষ) একজন নূতন জন্ম প্রাপ্ত বিশ্বাসী, ঈশ্বরের একজন দাস, অথবা যে কেউ, যখন তারা নীকলায়তীয়দের ফাঁদে পতিত হয়েছে, তাদের ধ্বংস অনন্তকালীন৷ একজন ভ্রান্ত পালক দলকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে, ভাক্ত ভাববাদী নিজেদের অভিশাপ ডেকে আনে৷

এই জন্য ঈশ্বর তাঁর দাসদেরকে বলেছেন, “আমার মেষদেরকে ভোজন করিও৷” মেষপালক যেভাবে তার মেষদেরকে তত্ত্বাবধান করে, বিপদ থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনে রাখে, তেমনিভাবে ঈশ্বরের দাসদেরকেও বিশ্বাসীদের তত্ত্বাবধান করতে হবে৷ এইভাবে মেষপালকদের অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে, তাদের দল বিপথে যাবে না, তাদের সামনে কি ধরণের বিপদ ওৎ পেতে আছে তা অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে এবং এইসব কাছের বিপদকে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে৷

আমি লোকের কাছে শুনেছি যে, যারা প্রকৃতই জাগ্রত মেষ, তারা খুবই জেদী প্রাণীর মত৷ আমরাও কি ঈশ্বরের সাক্ষাতে এই ধরণের অবাধ্য মেষের মত নই? ঈশ্বর আমাদেরকে যখন সুশোভিত মেষ রূপে বর্ণনা করেছেন, তখন তাঁর একটি মহৎ উদ্দেশ্য ছিল, তিনি ভালোভাবেই জানতেন আমাদের জ্ঞানে আমরা কত অবাধ্য৷

কেন ঈশ্বর নীকলায়তীয়দের, ইষাবলের এবং বিলিয়মের কার্য্যসকলের বিষয়ে এশিয়াস্থ সপ্ত মন্ডলীকে পুনরায় বলেছেন? তিনি কেন প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, যারা জয় করবে, তাদেরকে তিনি জীবনবৃক্ষের ফল খেতে দেবেন? ভাক্ত ভাববাদীদের প্রতারণার বিরুদ্ধে রক্ষক হয়ে তিনি আমাদেরকে এভাবে শিক্ষা দিয়েছিলেন৷ ঈশ্বরের বাক্যের মধ্যস্ততায় আমরা অবশ্যই আমাদেরকে প্রশ্ন করব, “জল ও আত্মার সত্য সুসমাচার কি?” কিছু কিছু জাগতিক পাঠ্যপুস্তকে ঈশ্বরের বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সেগুলি সুসমাচার৷ বর্তমানে খ্রীষ্টিয়ান সম্প্রদায় ছলনাপুর্ণ সুন্দর সুন্দর বক্তৃতা দিতে পারে, যা জল ও আত্মার সুসমাচারের কিছুই করতে পারে না৷ অনেক বিখ্যাত প্রচারকগণ এমনকি তাদের নিজেদের পেশাদারী বক্তব্য লেখক যারা তাদের লোকদের জন্য বক্তৃতা লেখেন, এই সমস্ত যা তারা করছে কেবলমাত্র পড়ার নিমিত্তই এগুলো পাঠ্য পুস্তকরূপে প্রস্তুত করা হয়েছে৷

আমরা অবশ্যই নীকলায়তীয়দের ফাঁদে পতিত হব না৷ নূতন জন্ম প্রাপ্ত মন্ডলীগুলো আরো বেশী সতর্ক হবে এবং জাগতিকতা লাভের আশা করবে না, নেতাগণ অবশ্যই রক্ষক হবে, কিন্তু এমন করবে যেন প্রত্যেকেই একই মন্ডলীর উপাসক৷ মন্ডলীর সদস্যদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে বৃহৎ প্রাসাদ তৈরী করার চেয়ে বরং প্রকৃত উপাসনালয় তৈরী করা উচিত এবং সেখানে প্রভুর আগমনের নৈকট্য প্রচার করা উচিত৷ বড় বড় প্রাসাদ তৈরী করে জাগতিকতায় মেতে থাকা এবং বস্তুগত দিকে অতি লালায়িত হওয়া নীকলায়তীয়দের শিক্ষার অনুরূপ৷

আমাদেরকে অবশ্যই ভ্রান্ত পালকদের বিষয়ে সতর্ক হতে হবে এবং আমাদেরকে নিশ্চিত হতে হবে যে, আমরা কখনই তাদের বিশ্বাসের অনুসরণ করে ভ্রান্তপথে চালিত হব না৷ সাধুগণ কখনই অর্থ প্রিয় হয় না৷ তাহলে, ঈশ্বরের প্রথম প্রেম, জল ও রক্তের সুসমাচার আমরা অবশ্যই ভালবাসি এবং ধারণ করি৷ খ্রীষ্টের জল ও রক্তের দ্বারা তিনি আমাদেরকে উদ্ধার করেছেন, আমরা তাঁর সাথে মিলিত হব, এই বিশ্বাস ধারণের দ্বারা আমরা অবশ্যই শেষদিন পর্যন্ত বিশ্বস্ত জীবনযাপন করব৷ আমাদেরকে অবশ্যই ঈশ্বরের এই বাক্যে বিশ্বাস করতে হবে যে, যীশু তাঁর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশীয় মৃত্যুর দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন৷

যারা নীকলায়তীয়দের পথ অনুসরণ করে, তারা কখনই জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করতে পারে না৷ তারা জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচারের কাজে আগ্রহী হয় না, বরং কেবলমাত্র অর্থ উপার্জনে ব্যস্ত থাকে৷ এরাই আজকের বিলিয়ম, যারা ইস্রায়েলীয়দের সম্মুখে বাধাস্বরূপ এবং তাদেরকে তাদের ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে৷ আমাদেরকে অবশ্যই এটা স্মরণে রাখতে হবে৷

পরিনামে যিহোশূয়ের দ্বারা বিলিয়মকে মরতে হয়েছিল৷ যিহোশূয়ের পুস্তকে লিখিত আছে যে, যখন ইস্রায়েলীয়রা কনান জয় করেছিল, যিহোশূয় তরবারির আঘাতে এই ভাক্ত ভাববাদীদের হত্যা করেছিলেন৷ বিলিয়মকে হত্যা করা হয়েছিল, কেননা সে ঈশ্বরের প্রকৃত সেবক ছিল না৷ তারা আজকের বিলিয়ম, যারা খ্রীষ্টের নাম ব্যবহার করে, নতুন বিশ্বাসীদেরকে প্রভাবিত করছে এবং নিজেদের উদর পূর্ণ করছে৷ আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, বিলিয়ম তার লোভ-লালসা চরিতার্থ করার জন্য জাল বিস্তার করেছে৷

ঈশ্বর ইফিষস্থ মন্ডলীর দাসগণকে বলেন, “যে জয় করে, তাহাকে আমি ঈশ্বরের “পরমদেশস্থ জীবনবৃক্ষের” ফল ভোজন করিতে দিব।” অন্যভাবে এই অনুচ্ছেদটি আরো প্রকাশ করে যে, যারা প্রবঞ্চক এবং নষ্ট, তারা মরবে৷ বিলিয়মের পথ অনুসরণ করা মানেই নিজের মৃত্যুর পথ অনুসরণ করা৷ ঈশ্বর আমাদেরকে তাঁর সতর্কবাণী দিয়েছেন, যেন আমরা নীকলায়তীয়দের ফাঁদে পতিত না হই এবং এজন্য আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই৷ এটা আমার একান্ত প্রত্যাশা এবং প্রার্থনা যেন, জাগতিক চিন্তাভাবনায় আপনি ডুবে না জান এবং আপনার লোভ-লালসার কারণে শেষে ঈশ্বরের কাছ থেকে পরিত্যক্ত না হন৷