Sermons

[2-7] <প্রকশিত বাক্য ২: ১২-১৭ > নিকলায়তীয় মতবাদের অনুসারীগণ



<প্রকশিত বাক্য ২: ১২-১৭ >



বিলিয়মের পথ


এখানে বলা হয়েছে এশিয়ার সাতটি মন্ডলীর মধ্যে পর্গামস্থ মন্ডলীর কিছু সদস্য আছে, যারা নিকলায়তীয়দের মতবাদ অনুসরণ করেছে৷ এই প্রকার লোকেরা কেবল জাগতিক অর্থ সম্পদ ও খ্যাতির আকাঙ্খায় নিজেদেরকে শেষ করে ফেলেছে, কিন্তু আত্মাদের রক্ষা করার ব্যাপারে তাদের কোনো আগ্রহ নেই৷ ধর্মীয় নেতাদেরকে আরো বেশী সতর্ক হতে হবে যেন তারা শেষ পর্যন্ত বিলিয়মের মতবাদের অনুসরণ না করে৷ বিলিয়ম সাধুদেরকে জগতের উপাসনার জন্য তৈরী করে এবং তাদেরকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করে৷

ঈশ্বর আমাদের কাছে সংকল্প করেছেন যে, যারা জয় করবে, তিনি তাদেরকে গুপ্ত মান্না এবং একটি শ্বেতপ্রস্তর দেবেন৷ এটি আরো অর্থ প্রকাশ করে যে, যে সমস্ত পালক পার্থিব আশা করে, তারা শেষ পর্যন্ত এই মান্না হারাবে৷ এই মান্নার অর্থ হচ্ছে, “ঈশ্বরের নিঁখুত বাক্য,” এবং গুপ্ত মান্না হারাবে এর অর্থ, ঈশ্বরের ইচ্ছা হারাবে, যা তাঁর বাক্যের মধ্যে নিহিত৷

নুতন জন্মপ্রাপ্ত ঈশ্বরের দাসগণ যখন জগতকে লাভ করে, তাঁর দৃষ্টিতে তারা তা হারায়৷ এটি একটি ভয়াবহ দৃশ্য৷ এই সম্ভাব্য বিষয়ের জন্য আমি শঙ্কিত, এবং আপনাদেরও এটিকে ভয় করা উচিত৷ ঈশ্বর বলেন, যারা জয় করে, তিনি তাদেরকে গুপ্ত মান্না এবং শ্বেত প্রস্থর দেবেন, এবং জগতকে হারানোর ভয়ে এর সাথে সমঝোতা করে এবং জগতের খ্যাতি বা আনন্দের কাছে আত্মসমর্পণ করে, তিনি তাদেরকে এই মান্না দেবেন না৷

বাইবেল আমাদেরকে বলে যে, “ আমি একখানি শ্বেত প্রস্থর তাহাকে দিব, সেই প্রস্থরের উপরে “নুতন এক নাম” লেখা আছে; আর কেহই সেই নাম জানে না, কেবল যে তাহা গ্রহণ করে, সেই জানে৷” ঈশ্বরের বাক্য কত সত্য! যারা যুগ যুগ ধরে জগতকে ভালোবেসেছে, তাদের মধ্যে অনেকেই যীশুর বাপ্তিস্ম ও তাঁর ক্রুশীয় রক্ত সেচনে বিশ্বাস না করায়, তাদের পাপ থেকে উদ্ধার পায় নি৷ এই ধরনের লোকেরা এই সত্য জানেই না যে, খ্রীষ্ট বাপ্তিস্মের দ্বারা তাদের সমস্ত পাপ ক্ষমা করেছেন৷

যীশুতে অনেক লোকের বিশ্বাস ধর্মতত্ত্ববিদদের পরিকল্পনা মাফিক বিশ্বাসের মত৷ তারা মনে করে যেহেতু, যীশু তাদের পাপ তুলে নিয়েছেন, অতএব তারা ধার্মিক হয়েছে, কিন্তু তাদের এই বিশ্বাস অন্তঃসারশূন্য, কেননা যে কেউ প্রকৃত প্রায়শ্চিত্ত গ্রহণ করেছে, সে (নারী/পুরুষ) জগতের এই সমস্ত জাগতিক বিষয়, জাগতিক খ্যাতি, সম্মান, সম্পদ, ক্ষমতা ইত্যাদির বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধ করে এবং জয়ী হয়৷ জগতকে জয় করার অর্থ হচ্ছে, ঈশ্বরের বাক্যকে ধারণ করা যা আমাদেরকে নুতন জন্ম পেতে সাহায্য করে, এবং যারা এই জগতে ধনসম্পত্তি এবং সম্মানের চেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এবং আমাদের হৃদয়ে পবিত্র আত্মাকে ধরে রাখে৷

ঈশ্বর আমাদের বলেন যে, তিনি তাদের নাম জীবন পুস্তকে লিখবেন, যাদের পাপের মোচন হয়েছে এবং যাদের হৃদয়ে পবিত্র আত্মা বাস করছেন৷ যেমন বাইবেল বলে, “যে কেহ খ্রীষ্টে থাকে, তার নুতন সৃষ্টি হইল, পুরাতন বিষয়গুলি অতীত হইয়াছে; দেখ সেগুলি কেমন নুতন হইয়া উঠিয়াছে৷”

যারা নুতন জন্ম পেয়েছে, এবং যাদের হৃদয়ে পবিত্র আত্মা বসবাস করছে, তারা জানে যে, তারা পূর্বে যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, সেভাবে আর কখনও হবে না৷ তারা নিজেরাই বুঝতে পেরেছে যে, জল ও যীশু খ্রীষ্টের রক্তের দ্বারা পুরাতন বিষয়গুলি নুতনভাবে সৃষ্টি হয়েছে৷ এই বিশ্বাসেই তারা বুঝতে পারে, তাদের নাম জীবন পুস্তকে লেখা হয়েছে৷ আর এভাবেই তারা ঈশ্বরের গুপ্ত মান্না দেখতে পারে এবং এভাবেই দাসগণ ও ঈশ্বরের সাধুগণ ঈশ্বরের সত্য বাক্য, ঈশ্বরের নিঁখুত স্বর শুনতে পায়৷

যখন ইস্রায়েলীয়রা প্রতিজ্ঞাত কনান দেশের পূর্বে চল্লিশ বছর যাবৎ মরুভূমিতে ঘুরে বেরিয়েছিল, তখন তাদেরকে এই মান্না দেওয়া হয়েছিল৷ বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী মান্না সাদা ধনে বীজের মত গোল ও ছোট ছিল৷ ইস্রায়েলীয়রা যখন প্রত্যুষে উঠত, তাদের চতুর্দিকে মান্না দ্বারা আবৃত থাকত, যেন মনে হত সারা রাত ধরে তুষারপাত হয়েছে৷ ইস্রায়েলীয়রা তখন এই মান্না সংগ্রহ করত এবং সকালেই এগুলো খেয়ে ফেলত৷ এটাই তাদের প্রতিদিনের খাবার ছিল৷ সম্ভবতঃ কখনও তারা এটাকে ভেজে খেত, কখনও সিদ্ধ করে খেত আবার কখনও তারা অবহেলা করে এটাকে বালতি ভরে রাখত, এভাবে দীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবৎ নির্জন প্রান্তরে এটাই ছিল ইস্রায়েলীয়দের প্রধান খাদ্য৷

কেননা মান্না ধান বীজের মত ক্ষুদ্র ছিল, যার কারণে কেউ কেবলমাত্র একটা মান্না দ্বারা পরিতৃপ্ত হতে পারত না৷ কিন্তু ঈশ্বর তাদেরকে সারারাত ধরে অজস্র মান্না দিতেন, যেন প্রত্যকে ইস্রায়েলীয়রা দিনের প্রয়োজন দিনেই মেটাতে পারে, - একদিনের কমও নয়, এবং বেশীও নয়, কেননা মান্না সঞ্চয় করে রাখা যেত না৷ কিন্তু ষষ্ঠ দিনে ঈশ্বর তাদেরকে শেষ দুদিনের জন্য বেশী মান্না দিতেন, যেন ইস্রায়েলীয়দের বিশ্রাম দিনে মান্না সংগ্রহ করার প্রয়োজন না হয়৷



জীবন খাদ্য


ঈশ্বরের বাক্যই আমাদের মান্না এবং আমাদের জীবন খাদ্য৷ ঈশ্বরের বাক্যের মধ্যেই আমাদের আত্মার খাদ্য পাওয়া যায়, এটাই জীবন খাদ্য৷ এটা এমন নয় যে, বিশেষতঃ এই অংশে আপনি অনেক রুটির খাদ্য খুঁজে পাবেন বরং শাস্ত্রের মধ্যে দিয়ে ঈশ্বরের মহৎ ইচ্ছা খুঁজে পাবেন, যা এতে অল্প আকারে বর্ণনা করা হয়েছে৷

ঈশ্বরের দাসগণ এবং সাধুগণ যারা জগতের সাথে মিত্রতা করে নি, ঈশ্বর তাদেরকে জীবন খাদ্য দিয়েছেন৷ আর তিনি প্রতিনিয়তই সবাইকে এবং আমাদের প্রত্যেকজনকে এই দৈনিক খাদ্য দেন, যেন আমরা আমাদের দৈহিক এবং আত্মিক উভয় প্রয়োজন মেটাতে পারি৷

এই মান্নার জন্যই ইস্রায়েলীয়রা নির্জন প্রান্তরে সুদীর্ঘ চল্লিশ বছর পর্যন্ত কখনো ক্ষুধা অনুভব করে নি৷ এমনকি এই মরুভূমিতে তাদের খাওয়ার উপযোগী কোনো কিছুই উত্পন্ন হয় নি৷ সুতরাং, নিকলায়তীয় কার্যের দ্বারা যারা পরিত্যক্ত হয়েছে, তাদের জন্য ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, তিনিই তাদের গুপ্ত মান্না তাদেরকে খেতে দেবেন৷ ঈশ্বরের দাসগণ, যারা জাগতিক ঐ সমস্ত জিনিস যেমন: অর্থ-সম্পদ, অট্টালিকা ইত্যাদির আকাঙ্খা করবে না, ঈশ্বর তাদেরকে তাঁর নিঁখুত বাক্য দেবেন৷, জীবনের বাক্য যা তাদেরকে জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা নুতন জন্ম পেতে সাহায্য করবে৷

নিকলায়তীয়দের যে সমস্ত কার্য আজকের খ্রীষ্টিয়ান সম্প্রদায়কে জয় করেছে, আমাদেরকে অবশ্যই সেগুলোকে ঘৃনা এবং পরিত্যাগ করতে করতে হবে৷ যারা নুতন জন্ম পায়নি, তাদের বিশ্বাসকে অবশ্যই আমরা অনুসরণ করব না৷ এবং জগতের সুখ-সাচ্ছন্দ্যকে আমরা অবশ্যই প্রত্যাখান করব৷ এটা যদিও ঈশ্বরের ব্যবস্থা যে, আমাদের মাংস মাংসিক বিষয়ের আকাঙ্খা করে, আমাদেরকে অবশ্যই নিকলায়তীয়দের মতবাদ সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে, তাদের সমস্ত কার্যকে ঘৃনা করতে হবে, যা কেবল জগতের শান্তি, এবং ঈশ্বর আমাদেরকে যে সত্য বাক্য দিয়েছেন, তা বিশ্বাসের দ্বারা ঈশ্বরের মান্না ভোজন করতে হবে৷ আমরা এখন ধার্মিক হয়েছি এবং আমাদের হৃদয়ে পবিত্র আত্মা বাস করছেন, আমরা সকলেই বিশ্বাসের দ্বারা বেঁচে থাকব৷

নুতন জন্মপ্রাপ্ত বিশ্বাসীরা অবশ্যই জগতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে৷ আপনি হয়তো নিজের সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন, বর্তমানের অনেক পালকই আছে, যারা অর্থ সম্পদ এবং খ্যাতির আকাঙ্খা করে, নিজেদেরকে অলংকৃত করে, জগতের সাচ্ছন্দ্য পছন্দ করে, এবং জাগতিকতায় নিজেদেরকে সাফল্যমন্ডিত করার চেষ্টা করে৷ এ ধরণের ভ্রান্ত ভাববাদীদের বিরুদ্ধে আমরা অবশ্যই যুদ্ধ করব৷

আমাদের মাংসিক ভাব আছে, এবং আমাদেরও এই সব জাগতিকতা লাভের ইচ্ছার আকাঙ্খা আছে৷ কিন্তু যাদের হৃদয়ে পবিত্র আত্মা আছে, তাদের হৃদয় অবশ্যই জানে যে, তারা জগতকে অনুসরণ করতে পারে না, তাই তারা জগতের এই সমস্ত বিষয়কে অবজ্ঞা করে, এবং এই জন্য তারা কেবলমাত্র বিশ্বাসে বেঁচে থাকবে৷ জগতের অনুসারীদের মত আপনার হৃদয়ও যদি তাদের সাথে একত্রিত হয়, তাদের বিশ্বাসকে সমর্থন করে, তাদের মত আপনিও যদি জাগতিকতার আকাঙ্খা করেন, শেষপর্যন্ত আপনিও যদি বিলিয়মের পথ অনুসরণ করেন তাহলে এমনিতেই আপনি ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবেন৷ আপনার মাংস এবং আত্মার ধ্বংসের জন্য এটাই একমাত্র পথ৷ যখন আপনি জগতকে অনুসরণ করেন, আপনি আপনার বিশ্বাসকে হারান৷ ঈশ্বর বলেন যে, তিনি এই ধরনের লোকদেরকে তাঁর মুখ থেকে উদগীরণ করেন, এই লোকেরা কখনও মান্না খেতে পারে না, এবং শেষপর্যন্ত এরা সম্পূর্ণরূপে তাদের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে৷

পর্গামস্থ মন্ডলীকে ঈশ্বর তিরস্কার করেছেন, কেননা এর সদস্যরা বিলিয়মের মতবাদ অনুসরণ করেছে৷ ঈশ্বর পর্গামস্থ মন্ডলীর দাসকে তিরস্কার করেছেন, কেননা যদিও সে একজন নুতন জন্মপ্রাপ্ত দাস, যার হৃদয়ে পবিত্র আত্মা বাস করেছিল, কিন্তু সে জগতের দ্বারা একজন জাগতিক লোক হিসাবে পরিচিত ছিল এবং সেইভাবে তার মন্ডলী পরিচালিত করত৷ শুধু তাই নয়, সে সেই একই বিশ্বাস তার অনুসারীদের মধ্যে রোপন করেছিল এবং তাদেরকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করেছিল৷ এই ধরণের দাস নুতন জন্ম না পাওয়া একজন জাগতিক পাদ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়৷ এই অংশের মাধ্যমে ঈশ্বর একটি স্পষ্ট এবং কঠোর সতর্কবাণী তাঁর দাসদের জন্য ব্যক্ত করেছেন, যে সব দাসদের আগ্রহ জাগতিক লাভের দিকে এবং মন্ডলীর ধনসম্পত্তি বৃদ্ধিতে, “মন ফিরাও, নতুবা আমি শীঘ্রই তোমার নিকটে আসিব, এবং আমার মুখের তরবারি দ্বারা তাহাদের সহিত যুদ্ধ করিব৷”



যে বিশ্বাস আপনাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় 


মানুষ যদি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তখন কি ঘটবে? আপনি এক মুহুর্তের জন্য চিন্তা করতে পারবেন যে, সত্যই ধ্বংসের পথ এত দ্রুত হতে পারে৷ “তার দুইদিকে ধারালো তরবারি আছে,” অর্থাৎ ঈশ্বরের বাক্য হচ্ছে দ্বিধার খড়গ৷ আপনি যেই হন, এটা কোনো বিষয় নয়, আপনি যদি ঈশ্বরের বাক্য দ্বারা আঘাত পান, আপনি অবশ্যই মরবেন৷ ঈশ্বরের বাক্য কার্যসাধক, যা ভেদ করতে পারে, “প্রাণ ও আত্মা, গ্রন্থি ও মজ্জা এই সকলের বিভেদ পর্যন্ত মর্মভেদী” (ইব্রীয় ৪:১২)৷ আর এটা হৃদয়ের চিন্তা ও বিবেচনার সুক্ষ বিচারক, সুতরাং খ্রীষ্ট যীশুর জল ও রক্ত দ্বারা প্রায়শ্চিত্তের দানে মানুষ আবৃত হতে পারে৷

অনেকে আছে যারা যীশুতে বিশ্বাস করার পরেও ব্যবস্থাগত ফাঁদে পতিত হতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত দেখা যেতে পারে যে, ব্যবস্থা দ্বারা প্রতারিত হয়ে মৃত্যুবরণ করে৷ বাহ্যিক দুঃখকষ্টকে প্রতিহত করতে, এই প্রকার জাগতিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আমাদেরকে অবশ্যই যুদ্ধ করতে হবে এবং জয়ী হতে হবে৷ ঈশ্বরের কার্যকারীদের ভ্রান্ত শিক্ষার বিরুদ্ধে অবশ্যই জয়ী হতে হবে, এবং তাদেরকে নিশ্চিত হতে হবে যে, তাদের অনুসারীরা এই মন্দের দ্বারা প্রতারিত হবে না৷ যে কেউ জগতকে ভালবাসে এবং এর ফাঁদে পতিত হয়, সে তার (নারী/পুরুষ) বিশ্বাস বিলীন হয়ে যেতে দেখবে৷

বর্তমানে অধিকাংশ মন্ডলীগুলোকে আর মন্ডলীর মত মনে হয় না, বরং ব্যবসার স্থান মনে হয়৷ এটা দুঃখজনক মর্মস্পর্শী ব্যাখ্যা৷ কেন এই মন্ডলীগুলো ব্যবসায়িক আলোচনার ক্ষেত্র হিসাবে পরিণত হয়েছে? কারণ বর্তমান মন্ডলীগুলো জাগতিক লাভের আকাঙ্খায় এত ব্যস্ত যে, প্রথমেই তারা এটার অনুসরণ করে এবং জগতের উপাসনা করে৷ আমি অবশ্যই বলব না যে, নুতন জন্ম প্রাপ্ত ব্যক্তির কোনো মাংসিক ইচ্ছা নেই৷ নুতন জন্ম প্রাপ্ত বিশ্বাসীদের মাংসিক আকাঙ্খাও রয়েছে, কিন্তু এই আকাঙ্খা তারা তাদের বিশ্বাসের দ্বারা পরিত্যাগ করেছে৷ যেভাবে অবিশ্বাসীরা তাদের হৃদয়ের মাংসিক অভিলাষের আকাঙ্খা করে, তারা (বিশ্বাসীরা) এই মন্দ বিষয়ের সন্ধান করে না৷

যারা নুতন জন্ম পায় নি, তারা নিজেদের অবস্থানেই রয়ে গেছে এবং এই অবস্থানে থেকেই যেভাবে তারা খুশি সেইভাবে আনন্দ-ফুর্তিতে তাদের জীবনযাপন করতে পারে৷ ব্যভিচার এবং অতৃপ্ত কামনা-বাসনা এগুলো করা তাদের জন্য স্বাভাবিক৷ তাদের মন্দটা এতই যে, তাদের মধ্যে অনেকে শয়তানের উপাসনা করে৷ নুতন জন্ম প্রাপ্ত কেউ কি এসবের কোনো একটি করতে পারবে? অবশ্যই না! তারা কখনই এসব করতে পারে না, কেননা নুতন জন্ম প্রাপ্ত ব্যক্তি জানে যে, এসব আচরণ কত অশ্লীল, কত নোংরা৷ সুতরাং আমরা যারা নুতন জন্ম লাভ করেছি, তারা স্বভাবতই তাদের থেকে ভিন্ন, যারা জগতের গৌরব আকাঙ্খী এবং প্রত্যেকেই তাদের মাংসিক অভিলাষের আকাঙ্খা করে, আমরা অবশ্যই জাগতিক লাভের উদ্দেশ্যে মন্দতার সাথে জীবনযাপন করতে পারি না, এমনকি আমরা এভাবে বেঁচে থাকতেও পারি না৷

যারা নিকলায়তীয়দের কার্যসমূহ অনুসরণ করে, তারা কেবল এই জগতে অর্থ-সম্পদের অনুসরণ করে৷ তারা বেঁচে থাকার এবং ধনী হওয়ার জন্য চেষ্টা করছে৷ অবশ্যই এতে কোনো ভুল নেই৷ কিন্তু যখন আপনার জীবনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সম্পদ সঞ্চয় হয় এবং যখন আপনি ব্যভিচারে পতিত হবেন এবং লোভ-লালসায় ডুবে যাবেন, তখন আপনার বিশ্বাস অবশ্যই ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে৷ যে সব ধর্মীয় নেতা অর্থের জন্য এবং যারা জগতের অর্থসম্পদের জন্য মন্ডলীতে যায়, তারা সকলেই নিকলায়তীয়দের কার্যসমূহ অনুসরণ করছে৷ এই প্রকার লোকেরা শেষে জগতকে হারাবে, কেননা যদিও তারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে বলে দাবি করে, তথাপিও তাদের হৃদয়ের সমস্ত পাপের সম্পূর্ণরূপে প্রায়শ্চিত্ত হয় নি৷



হৃদয়ের চারপ্রকারের ভূমি


মথির সুসমাচার আমাদেরকে বলে যে, একটি গল্পে যীশু একজন বীজবাপকের সম্পর্কে বলেছেন, যার বীজ চার প্রকারের ভূমির উপরে পড়েছিল৷ প্রথম যে ভূমিতে বীজ পড়েছিল, তা পথের পাশের ভূমি ছিল, দ্বিতীয়টি ছিল পাষানময় ভূমি, তৃতীয়টি ছিল কাঁটাযুক্ত ভূমি এবং চতুর্থটি ছিল উত্তম ভূমি৷ এগুলোর প্রত্যেকটির দিকে আমরা লক্ষ্য করি৷

পথের পাশে বলতে একজন কঠিন হৃদয়ের ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে৷ এই প্রকার ব্যক্তি ঈশ্বরের বাক্য শোনে, কিন্তু যেহেতু সে (পুরুষ/নারী) হৃদয়ে দ্রুত সেই বাক্যকে গ্রহণ করতে পারে না, তাই পাখিরা তা খেয়ে ফেলে৷ অন্যকথায়, এই প্রকার ব্যক্তিরা যেটি তাদেরকে (পুরুষ/নারী) জল ও আত্মায় নুতন জন্ম পেতে সাহায্য করতে পারে, সেই পরিত্রাণের বাক্যকে শুধুমাত্র বুদ্ধিমত্তার দৃষ্টিতে দেখে, তাই শয়তান (পাখি) তা কেড়ে নিয়ে যায় এবং তাদের (পুরুষ/নারী) বিশ্বাস বৃদ্ধি পেতে পারে না৷ 

পাষানময় ভূমি বলতে কি বোঝানো হয়েছে? এটা তাদেরকে দর্শায় যারা আনন্দপূর্বক বাক্য গ্রহণ করে কিন্তু তা বেশীক্ষণ স্থায়ী হয় না, কেননা তাদের অন্তরে কোনো মূল নেই৷ আবার কাঁটাবনের মধ্যে বীজ এই অর্থ বহন করে যে, সে শুরুতে বাক্যকে আনন্দপূর্বক গ্রহণ করেছিল, কিন্তু সাংসারিক চিন্তায় ও ধনের মায়ায় সেই বাক্য চেপে রাখে৷

অবশেষে, যারা উত্তম ভূমিতে উপ্ত, তারা সেই প্রকার, যারা ঈশ্বরের বাক্য গ্রহণ ও অনুসরণের দ্বারা তাদের হৃদয়কে ফলবান করে৷ 

আপনার হৃদয় কোন ভূমির পর্যায়ে পড়ে? যদি তা রাস্তার পাশের ভূমি হয়, তবে তা বাক্যের বীজের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী, হয় সেগুলোকে ঝেড়ে ফেলে দেওয়া হবে, না হয় পাখিরা খেয়ে ফেলবে, ঈশ্বরের বাক্যের আশীর্বাদ আপনার জন্য প্রযোজ্য হবে না৷ এই সত্য আমাদের অবশ্যই অনুধাবন করা উচিত৷ যেহেতু আমরা পাপের বীজ, সেহেতু ঈশ্বরের বাক্য ছাড়া ঈশ্বরের সাথে আমাদের সম্পর্ক হতে পারে না৷ অন্যদিকে, আমাদের হৃদয় যদি পাষানময় ভূমি হয়, তাহলে বাক্য সেখানে শিকড় গাড়তে পারে না, ঝর, বৃষ্টি, বাতাস বা খরা সহ্য করতে পারবে না৷ এই ধরনের লোকেদের তাদের ভূমির পরিবর্তন করতে হবে৷ প্রথমে তারা যত আনন্দের সাথে ঈশ্বরের বাক্য গ্রহণ করুক না কেন, যদি তা অঙ্কুরিত হতে না পারে, অথবা সামান্য প্রতিকূলতায় নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তার কোনো মূল্য নেই৷

কন্টকময় ভূমিকে আমাদের জয় করতে হবে৷ এই কাঁটার সাথে আমাদের যুদ্ধ করতে হবে, আমাদের জীবনকে দুর্বিসহ করে তোলে এমন কাঁটাকে উপড়ে ফেলতে হবে৷ যদি তা না করা হয়,তবে অতি শীঘ্রই আমাদের হৃদয় কাঁটায় আবৃত হয়ে যাবে এবং তা সূর্যের আলো আড়াল করে ফেলবে৷ সুর্য্যের আলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এবং কাঁটায় আবৃত হয়ে মাটির জৈবিক শক্তি গ্রহণ করতে না পারলে বাক্যের গাছ শীঘ্রই মরে যাবে৷

জীবনের পরীক্ষা এবং সমস্যাগুলোকে সাহসের সাথে আমাদের জয় করতে হবে৷ যে সব কাঁটা আমাদের চলার পথকে কন্টকময় করে, আমাদের জীবনকে ভারী করে তোলে, সেগুলোর সাথে আমাদের যুদ্ধ করতে হবে৷ অর্থ যদি আমাদের পেছনে টানে, অথবা সুখ্যাতি যদি আমাদের অন্তরায় হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের সেগুলোর সাথে যুদ্ধ করে জয়ী হতে হবে, কারণ, পার্থিব লোভ-লালসা, দুঃশ্চিন্তা আমাদের আত্মাকে ম্রিয়মান করে দেয়, এইগুলোর সাথে আমাদের যুদ্ধ করতে হবে৷ যখন আমরা বিজয়ী আত্মিক জীবনযাপন করব, আমাদের দেহ এবং আত্মা উন্নতি করবে, কারণ তা ঈশ্বরের থেকে সূর্য্যরশ্মি ও পুষ্টি গ্রহণ করবে৷ 

নুতন জন্ম প্রাপ্ত ঈশ্বরের সন্তানদের সাথে এই জগতের সবসময়েই আত্মিক যুদ্ধ লেগে আছে৷ সুতরাং আমরা নিকলায়তীয়দের শিক্ষা অনুসরণ করব না৷ নিকলায়তীয়রা জনগনের সেবায় বেশী নিয়োজিত ছিল৷ কিন্তু মন্ডলীর আসল ভুমিকা জনসেবা নয়, যদি কেউ মনে করে যে, সমাজ উন্নয়নমূলক কাজ করা মন্ডলীর আসল কাজ, তবে সেটা হবে মারাত্মক ভুল৷ 



সাহসের সাথে বর্জন করুন


ঈশ্বর বলেছেন যে, আমরা এই পৃথিবীর লবন৷ এর দ্বারা তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন? আমাদেরকে পৃথিবীর লবন আখ্যা দিয়ে ঈশ্বর এটাই বুঝতে চেয়েছেন যে, এই পৃথিবীর জন্য আমাদের প্রয়োজন রয়েছে৷ লবনের প্রধান কাজ হল, পাপীদের কাছে খ্রীষ্টের জল ও রক্তের সুসমাচার প্রচার করা, যেন তারা পাপ থেকে মুক্ত হয়ে ঈশ্বরের সন্তান হয় এবং স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারে৷ খাদ্য সুস্বাদু করার জন্য যেমন লবনের দরকার, তেমনি এই পৃথিবীর জন্য নুতন জন্ম প্রাপ্ত ধার্মিকদের প্রয়োজন আছে৷অন্যকথায়, নুতন জন্ম প্রাপ্ত ধার্মিকেরা অবশ্যই জল ও আত্মার সুসমাচার অবশ্যই প্রচার করবে এবং পাপীদেরকে মন পরিবর্তনের জন্য সাহায্য করবে৷ আমাদের অবশ্যই লবনের ভুমিকা পালন করতে হবে এবং নুতন জন্ম লাভের জন্য আত্মাগনকে সাহায্য করতে হবে৷ আমাদেরকে অবশ্যই পাপীদেরকে সাহায্য করতে হবে, যেন তারা ধার্মিক হতে পারে৷

ঈশ্বরের প্রকৃত মন্ডলী কি? যেখানে মানুষ তাঁর উপাসনা করতে জড়ো হয়, সেখানে মানুষ ঈশ্বরের প্রশংসা ও প্রার্থনা করে, সেটাই ঈশ্বরের প্রকৃত মন্ডলী৷ যখন প্রলোভন আসবে, ঈশ্বরের সন্তানগণকে অবশ্যই তা প্রতিরোধ করতে হবে৷ শয়তানের যে কোনো পরীক্ষা ও প্রলোভন থেকে নিজেকে রক্ষা করার মত আত্মিক সামর্থ ঈশ্বরের সন্তানগণের অবশ্যই থাকতে হবে৷ শয়তান আপনাকে এভাবে প্রলোভিত করতে পারে, “বিশ্বাস পরিত্যাগ কর, আমি তোমাকে ধনী করব৷ নুতন জন্ম প্রাপ্ত মন্ডলীতে তোমার যোগ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, আমার একটি মন্ডলী আছে, আমি তোমাকে সেখানে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করব৷” কিন্তু যেহেতু শয়তান সবসময় ধার্মিককে ফাঁদে ফেলতে চায়, তাই আমাদের সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে এবং যুদ্ধ করে শয়তানকে জয় করতে হবে, যেন শেষ পর্যন্ত আমরা বিশ্বাসে দৃঢ় থাকতে পারি৷ 

যাদের বিশ্বাস অলীক, তারা জাগতিক বিষয় দিয়ে প্রলুব্ধ করতে চেষ্টা করে৷ তারা অর্থ এবং সুখ্যাতিতে প্রলোভিত হয়৷ শয়তান আমাদের পার্থিব বিষয় দেখায় এবং আমাদেরকে ঈশ্বর ও বিশ্বাসকে পরিত্যাগ করতে বলে৷ এই সময় প্রভুতে আমাদের এই বিশ্বাসের অবশ্যই প্রয়োজন হবে যে, তিনি আমাদের সমস্ত প্রয়োজন মেটাবেন এবং এই বিশ্বাসেই আমরা শয়তানের প্রলোভনকে সাহসের সাথে বর্জন করতে এবং জয়ী হতে পারব৷ 

প্রকৃত আশীর্বাদ ঈশ্বরে নিহিত৷ একমাত্র ঈশ্বরই আমাদেরকে আত্মিক ও শারীরিক উভয়ভাবে আশীর্বাদ করেন৷ এটা জেনে রাখুন যে, শয়তান এমন কেউই নয় যে, আশীর্বাদ করতে পারে, আমরা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারি৷ কোনো কোনো সময় আমরা আমাদের নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি৷ যদি আমরা আমাদের হৃদয়কে জগতের স্রোতের সাথে ভাসিয়ে দিই, তাহলে মাংসিক লোভ-লালসা কামনা-বাসনা প্রকাশ হয়ে পড়বে, কিন্তু নিজেদের সাথে আমাদের অবশ্যই যুদ্ধ করতে হবে৷ এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যারা আমাদের বিশ্বাস ধ্বংস করতে চায়, সেই সব জাগতিক লোকদের সাথে আমাদের অবশ্যই যুদ্ধ করতে হবে৷ সমস্ত জাগতিকতার বিরুদ্ধে আত্মিক যুদ্ধ করাই আমাদের সর্বক্ষণের অদৃষ্ট৷

কেন? কারণ যদি কোনো খ্রীষ্টিয়ান আত্মিক যুদ্ধে লিপ্ত না থাকে, তাহলে বুঝতে হবে যে সে জাগতিকতার সাথে লিপ্ত হয়ে পড়েছে৷ যতদিন পর্যন্ত পৃথিবী শেষ না হচ্ছে এবং ধার্মিক ও পাপীদের বিচার সম্পন্ন না হচ্ছে, ততদিন আমাদের বিশ্বাস ধ্বংস করার জন্য শয়তান বিভিন্ন রকম ছল-চাতুরী, পরীক্ষা, প্রলোভন আমাদের জীবনে আনবে৷ এই কারণে অবিরতভাবে আমাদের আত্মিক যুদ্ধে লিপ্ত থাকতে হবে৷ যারা ঈশ্বর বিরোধী ও যারা আমাদের বিশ্বাস ধ্বংস করতে চায়, আমরা যদি তাদের সাথে হাত মেলাই, তাহলে আমরা সবকিছু, এমনকি নিজেদের জীবনকেও হারিয়ে ফেলব৷ শুধুমাত্র বিশ্বাস ছাড়া অন্য কোনো কিছু যদি আমাদের জীবনে কর্তৃত্ব লাভ করে, তাহলে তাতে আমরা যে সব কিছু হারিয়ে ফেলব তাই নয়, বরং সেই সাথে সাথে ঈশ্বর কর্ত্তৃকও আমরা পরিত্যক্ত হব৷ আমরা অবশ্যই এটা পরিষ্কারভাবে এটা বুঝতে সমর্থ হব যে, কারা আমাদের সাথে দাঁড়ায় এবং কারা আমাদের জন্য আমাদের শত্রুদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ ও জয়ী হয়৷ যখন আমরা একে অপরের বিষয়ে উদার হব, আমাদের শত্রুরা যে বিষয়ে আমাদের বিরোধিতা করতে সাহস পায় না এবং আমরা অবশ্যই দৃঢ়তার সাথে সেই বিষয় সমাধান করব৷ 

নিকলায়তীয়রা আমাদের শত্রু৷ তারা আমাদের শত্রুপক্ষ, কেননা তারা, “শয়তানের দল”, যে কারণে তাদেরকে আমরা সম্মানও করতে পারি না, তাদের সাথে কাজও করতে পারি না৷ আমরা যারা পাপের ক্ষমা পেয়েছি, তারা অবশ্যই নিকলায়তীয়দের সম্মান করতে পারি না৷ যারা ব্যভিচারে আবদ্ধ এবং কেবল বস্তুগত লাভের সন্ধান করে, বরং পৃথিবীতে ঈশ্বরের রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য অবশ্যই আমাদেরকে আমাদের জীবন প্রভুর সেবায় এবং তাঁর ধার্মিকতার কাজে উত্সর্গ করব৷



প্রথমে ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয় চেষ্টা করুন


যীশু আমাদের বলেন, “প্রথমে তাঁহার রাজ্য ও ধার্মিকতার বিষয়ে চেষ্টা কর,” তিনি আমাদেরকে মাংসিক বিষয়ে চিন্তা করার পূর্বে ঈশ্বরের বিষয় চিন্তা করার উপদেশ দিয়েছেন৷ আমরা যারা নুতন জন্ম পেয়েছি, তাদের আত্মিক আকাঙ্খা রয়েছে৷ অবশ্যই এই আকাঙ্খাগুলো মাংসিক আকাঙ্খা নয়, বরং আত্মিক আকাঙ্খা৷ এই কারণে আমরা প্রথমে ঈশ্বরের কার্য ও তাঁর রাজ্যের বিষয় ভাবতে পারি৷ আমরা প্রথমে ঈশ্বরের বিষয় চেষ্টা করি, কিন্তু এর পরেও আমরা মাংসের কার্য করি৷ যেভাবে বাইবেল আমাদের বলে, “মনুষ্য কেবল রুটিতেই বাঁচিবে না, কিন্তু ঈশ্বরের মুখ হইতে যে প্রত্যেক বাক্য নির্গত হয়, তাহাতেই বাঁচিবে৷” অন্য কথায়, আমরা কেবল মাংসে বাঁচি না, মাংস এবং আত্মা উভয়ের জন্যই বাঁচি৷ আমাদেরকে অবশ্যই এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে৷ আমরা যদি নিকলায়তীয়দের কার্য অনুসরণ করি, ভেবে দেখুন, এই সমস্ত বিষয় জাগতিক সুখ-শান্তির জন্য, শেষে আমরা আমাদের নিজেদের ধ্বংসের সম্মুখীন হব৷ এই কারণে প্রথমে আমাদেরকে আত্মিক বিষয়ে চেষ্টা করতে হবে৷ 

যখন স্বর্গ ও নরকের বিষয়টি সামনে আসে, তখন অনেকে শত্রুভাবাপন্ন হয়৷ তারা বলে, “আপনি কি নরকে গিয়েছেন? আপনি কি আপনার নিজের চোখে তা দেখেছেন?” কিন্তু এই সমস্ত প্রশ্ন শয়তানের চিন্তা থেকে আসে৷ কেবল সাধারণ লোকেরাই যে এমন প্রশ্ন করে তা নয়, বরং অধিকাংশ পালক, যারা সারা বছর ধর্মতত্ত্ব শিক্ষা গ্রহণের পেছনে সময় ব্যয় করে, তারাও এই প্রশ্ন করে৷ তাদের মেষপাল স্বর্গের নিশ্চয়তা ছাড়াই এবং কিভাবে নুতন জন্ম লাভ করতে হবে এই জ্ঞান ছাড়াই এমন প্রশ্ন করে, এই কারণে ধর্মীয় নেতাদের অবস্থাও দুর্ভাগ্যজনক এবং শোচনীয় হবে, যাদের এই প্রকার দৃঢ় বিশ্বাস নেই এমনকি নিজেরা নুতন জন্ম লাভ করে নি, তারা নেতৃত্ব দিতে পারে না, এবং যারা ঈশ্বরের বিষয়ে কিছু জানে না, তাদেরকে নুতন জন্ম পেতে হবে৷ যখন অনেক আত্মা শয়তানের চিন্তা চেতনায় কারাবদ্ধ থাকে এবং ঈশ্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, পালকদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা তাদের পক্ষে কি করে সম্ভব, তারা না স্বর্গে বিশ্বাস করে, না তাদের নিজেদের পরিত্রাণে বিশ্বাস করে?

“যেখানে শয়তানের সিংহাসন,” এর অর্থ হচ্ছে শয়তান এখন সমস্ত পৃথিবীর উপর রাজত্ব করবে৷ এ যুগে, যেখানে আমরা বাস করছি, সেটা এমন একটি যুগ, যখন সমস্ত পৃথিবী নিকলায়তীয়তে পূর্ণ হবে৷ যারা বায়ুমন্ডলের গ্যাসের দ্বারা রাতের আকাশ আলোকিত করবে এবং তাদের ব্যবসার মতই তাদের মন্ডলীকে চালিত করবে৷ ঈশ্বর আমাদেরকে বলেন যে, এগুলো তাঁর মন্ডলী নয়, বরং, “শয়তানের দল”৷ আজকের পৃথিবীর অগনিত লোক শয়তানের চিন্তা চেতনার ফাঁদে পতিত হয়েছে, এবং এই পৃথিবীতে লোভ-লালসার সন্ধান করেছে, ধর্মীয় নেতারা দেখানোর জন্য মন্ডলীতে যোগ দেয়, এবং নিজেরা প্রভু বলে সম্বর্ধিত হতে ভালবাসে, যাহোক, তাদের আত্মার পুনর্জন্ম এবং স্বর্গে তাদের প্রত্যাশা অনেক আগেই মুছে গেছে৷ এই প্রকার যুগে এখন আমরা বাস করছি এবং প্রভুর সেবা করছি৷



যারা নুতন জন্ম লাভ করে নি, তাদের বিরুদ্ধে আত্মিক যুদ্ধ


আমরা এই পৃথিবীতে বাস করছি “যেখানে শয়তানকে নিক্ষিপ্ত করা হয়৷” যখন শত্রু আসবে তখন আমরা অবশ্যই সজ্জিত হয়ে বিশ্বাসে তার মোকাবিলা করব৷ আমাদের প্রভুর আগমন দিন পর্যন্ত আমরা সতর্কতার সাথে পাহারা দেব এবং আমাদের “শ্বেতপ্রস্থর” – আমাদের বিশ্বাস রক্ষা করব, যা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা আমাদের নুতন জন্ম পেতে সাহায্য করে৷

আমরা অবশ্যই ঈশ্বরের বাক্যরুপী মান্না খেয়ে বেঁচে থাকব৷ এইরূপে, আমরা অবশ্যই নিকলায়তীয়দের কার্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব এবং জয়ী হব৷ অবশ্যই আমরা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করব৷ আমরা অবশ্যই তাদের কাছে যাব না, যারা কেবল অর্থ এবং জাগতিক সুখ্যাতির সন্ধান করে৷ যারা সত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় এবং কেবল অর্থের আসক্তি করে, এবং ঈশ্বরের কাজ থেকে অনেক দুরে থাকে, যদিও আমরা তাদের সম্মান করতে ও তাদের দুর্বলতাকে ক্ষমা করতে পারি, কিন্তু আমরা তাদের সাথে রুটি ভাঙ্গতে পারি না৷

জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা যারা নুতন জন্ম লাভ করেছে, তাদের নাম কোথায় লিখিত আছে? তাদের নাম জীবন-পুস্তকে লিখিত হয়েছে৷ তাহলে এর অর্থ কি এই যে, এই শ্বেত-প্রস্থরে একটি নতুন নাম লেখা হয়েছে? এর অর্থ এই যে, আমরা ঈশ্বরের সন্তান হয়েছি৷ এখানে আরো লেখা রয়েছে যে, “যে গ্রহণ করেছে” সে ব্যতীত কেউই এই নুতন নাম জানে না, কিন্তু যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা নুতন জন্ম লাভ করেছে, কেবল তারাই যীশুর পরিত্রাণ সমন্ধে জানে৷ পাপীরা জানে না যে, সে কিভাবে ধার্মিক হয়েছে,- এইভাবে, একমাত্র যারা যীশুর নিকট থেকে নুতন নাম পেয়েছে, কেবল তারাই জানে কিভাবে তাদের পাপসমূহ মুছে গেছে৷

আমাদের অবশ্যই নিকলায়তীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে, অন্য কারোর বিরুদ্ধে নয়, কিন্তু নিকলায়তীয়দের বিরুদ্ধে৷ এই অনুচ্ছেদের অন্তর্নিহিত তাত্পর্য হল, আমাদেরকে অবশ্যই কঠিন অবস্থার এবং নিকলায়তীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে, যদিও তারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে এবং সত্য বাক্য জানে, কিন্তু তবুও তারা অর্থ, বস্তুগত স্বার্থ, সম্পদ, সুখ্যাতি ইত্যাদি মাংসিক লাভের জন্য প্রতিনিয়ত ঈশ্বরের বাক্যকে অসম্মান ও প্রত্যাখান করছে৷ 

আমরাও আমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করব৷ আমাদের আত্মশ্লাঘা বা গর্বের কারণে আমরা যদি ঈশ্বরকে অনুসরণ করতে না পারি, তবুও এই প্রকার হৃদয়ের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করব৷ আর যারা নুতন জন্ম লাভ না করেই দাবি করে যে তারা যীশুকে বিশ্বাস করে, আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আত্মিক যুদ্ধে লিপ্ত হব৷ 

আমরা তাঁর গৌরব বিহীন হয়েছি, তা স্বত্তেও প্রভু তাঁর জল ও রক্ত দ্বারা আমাদেরকে উদ্ধার করেছেন৷ এই বাক্যে বিশ্বাসের দ্বারা আমরা অবশ্যই আমাদের বিশ্বাস রক্ষা করব এবং ঈশ্বরের দাসের মত আমাদের জীবনযাপন করব, এবং তিনি আমাদেরকে যে প্রকৃত পরিত্রাণ দিয়েছেন সে জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাব৷ আমরা অবশ্যই প্রথমে ঈশ্বরের রাজ্য ও তাঁর ধার্মিকতার চেষ্টা করব৷ চলুন আমরা সকলে শেষ দিন পর্যন্ত বিশ্বাসের যুদ্ধ করে জয়ী হই৷



যারা জয় করে তাদেরকে মান্না দেওয়া হবে


আসন্ন রুপান্তরের সময় মানবজাতির ইতিহাসের সব চাইতে বড় বিলীন হওয়ার ঘটনা ঘটবে৷ একই সাথে যারা খ্রীষ্টে বিশ্বাস করে, খ্রীষ্টের দ্বিতীয় আগমন সম্পর্কে তাদের সকলের আগ্রহ সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷ অনেকে ভাবে, “যেহেতু সাধুগণ রূপান্তরিত হবে, বিলীন হওয়ার একটা বিরাট ঘটনা ঘটবে, সেহেতু সব রকমের মানুষ অদৃশ্য হয়ে যাবে, বিমান চালক থেকে শুরু করে ট্রেন বা গাড়ি চালক পর্যন্ত৷ দুর্ঘটনা ও দুর্যোগে পৃথিবী পরিপূর্ণ হয়ে যাবে৷ বিমান ক্রাশ হবে, ট্রেনের সংঘর্ষ হবে, মহাসড়কগুলো দুর্ঘটনায় পরিপূর্ণ হবে৷ Rapture নামক একটি বই, যখন এর কথা গুলোর ভিত্তিতে রচিত হয়েছিল, বইটি সর্বাধিক বিক্রীত বই হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল৷ এই লোকেরা বিশ্বাস করত যে, সাধুগণ যখন রুপান্তরিত হবে তখন তারা বাতাসে অদৃশ্য হয়ে যাবে৷ সুতরাং তারা যে শুধুমাত্র রূপান্তরের দিনের জন্য অনুতাপ ও তাদের বিশ্বাসকে প্রস্তুত করেছিল তাই নয়, কিন্তু তাদের অনেকে আবার লেখাপড়া ও চাকরী পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছিল৷ 

খুব বেশী আগে নয়, একটি সম্প্রদায় যারা প্রাক-ক্লেশের রূপান্তরের মতবাদকে গ্রহণ করেছিল এবং তাদের সমস্ত কিছুই মন্ডলীতে দান করেছিল এবং যে দিনের বিষয়ে তাদের নেতারা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল কেবলমাত্র সেই রূপান্তর দিনের প্রতীক্ষা করছিল৷ অবশ্যই, যে দিনের বিষয়ে তারা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল এবং অন্যান্য দিনের মতই তারা অতি উত্সাহে সেই দিনের প্রতীক্ষা করছিল- তাদের সমস্ত প্রতীক্ষায় অলীক৷ প্রত্যেকটি বিষয় যা তারা গুরুত্বের সাথে বিশ্বাস করেছিল এবং প্রতীক্ষা করছিল, তা সব কিছুই মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে৷

কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই ১৯৯৯ সালের অন্য আর একটি দিনকে তাদের রূপান্তরের দিন হিসাবে ঘোষণা করেছিল এবং প্রতীক্ষা করে চলেছিল৷ যাহোক, পূর্বের ন্যায় প্রমানিত হয়েছে যে, তারা মিথ্যার দ্বারা প্রতারিত হয়েছে৷ তাদের নেতাগণ তাদের অসম্পূর্ণ ভাববাণীর জন্য লজ্জিত হয়েছে এবং সংকল্প করেছে যে, তারা আর কখনও খ্রীষ্টের আগমনের সময় নির্ধারণ করবে না৷ এই সমস্ত বিষয় হতে আমরা দেখি যে, প্রাক-ক্লেশের রূপান্তরের মতবাদের সাথে ঈশ্বরের বাক্যের আদৌও কোনো সামঞ্জস্যতা নেই৷

প্রকাশিত বাক্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যীশুর দ্বিতীয় আগমন ও সাধুদের রূপান্তর৷ সমগ্র বিশ্বের খ্রীষ্টিয়ানদের এটাই একমাত্র বৃহত্তম প্রত্যাশা এবং প্রতীক্ষা যে, খ্রীষ্ট যখন এই পৃথিবীতে আসবেন এবং তাঁর বিশ্বাসীদেরকে উর্দ্ধে তুলে নেবেন৷ হতে পারে খ্রীষ্টের দ্বিতীয় আগমনের জন্য বিশ্বাসে অপেক্ষা করা খ্রীষ্টিয়ানদের জন্য একটা কারণ৷ যে কেউ প্রকৃতভাবে যীশুকে বিশ্বাস করে, তারা প্রভুর পূর্ব-ঘোষিত দ্বিতীয় আগমন দিনের জন্য আকুলভাবে প্রতীক্ষা করে৷ 

এই ধরনের বিশ্বাস থাকা অধিকতর শ্রেয় যে, প্রভুর দ্বিতীয় আগমন ও রূপান্তরের জন্য অপেক্ষা করা৷ কোনো বিশ্বাস না থাকার চেয়ে বরং এ বিশ্বাস থাকা ভালো৷ এ পুস্তকের ব্যাখ্যাকারীরা অনেক সময় রূপান্তরের নির্দিষ্ট দিন ও তারিখ সমন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল৷ যেহেতু তাদের অনেকের হিসাবের ভিত্তি ছিল দানিয়েল নয়, সখরিয়, এগুলো তারা ভুল ব্যাখ্যা করেছিল, সেগুলো শেষপর্যন্ত তাদের নিজেদের ভবিষ্যদ্বাণী হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল৷

১ থিষলনীকীয় ৪ অধ্যায়ে পৌল বলেন, খ্রীষ্ট যখন পৃথিবীতে আসবেন, সাধুগণ উর্দ্ধে তাঁর সাথে মিলিত হবে৷ অতএব যারা সঠিকভাবে যীশুতে বিশ্বাস করবে তারা তাদের রূপান্তরের দিনের জন্য অপেক্ষা করবে৷ কিন্তু দিন তারিখ গণনা করে নির্দিষ্ট করা মারত্মক ভুল৷ এর দ্বারা ঈশ্বরের জ্ঞান প্রকাশ পায় না বরং নিজেদের র্গব প্রকাশ পায়৷ মানুষের তৈরী গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে বাইবেলের ভাববাণীর সমাধান করা একটা মহা ভুল৷

তাহলে কখন প্রকৃত রূপান্তর ঘটবে? প্রকাশিত বাক্য ৬ অধ্যায়ে সাধুগণের রূপান্তর সম্পর্কে এইভাবে বলা হয়েছে, ঈশ্বরের সপ্তযুগের চতুর্থ যুগের সময়ে,- যা পান্ডুর বর্ণের অশ্বের যুগ- সাধুগণের সাক্ষ্যমরের মৃত্যু হবে এবং এর পর পঞ্চম যুগে রূপান্তর ঘটবে৷ সাধুগণের রূপান্তর সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং যখন সময় আসবে, তখন এর সত্যতা প্রমাণিত হবে৷ 

ঈশ্বর মানবজাতির জন্য সপ্তযুগের পরিকল্পনা করেছেন এবং প্রথম যে যুগ তা হল শুক্লবর্ণ অশ্বের যুগ৷ এটাই জল ও আত্মার সুসমাচারের বিজয়োল্লাস শুরুর সেই যুগ৷ দ্বিতীয় যুগ হল, লোহিত বর্ণের অশ্বের যুগ৷ তৃতীয় যুগ হল, কৃষ্ণ বর্ণের অশ্বের যুগ, যখন সমস্ত পৃথিবী শারীরিক ও আত্মিক উভয়ভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে৷ চতুর্থ যুগ পান্ডুর বর্ণ অশ্বের যুগ৷ এই যুগে খ্রীষ্টারীর উত্থান হবে এবং সাধুগণ সাক্ষ্যমর হবে৷ পঞ্চম যুগ হবে যখন সাক্ষ্যমরেরা পুনরুত্থিত ও রূপান্তরিত হবে৷ ঈশ্বরের দ্বারা যে প্রথম পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল তা ধ্বংসের মাধ্যমে ষষ্ঠ যুগ সম্পন্ন হবে৷ তার পরে যে সপ্ত যুগ আসবে, সেই যুগে ঈশ্বর তাঁর সাধুগণের নিমিত্ত অনন্তকাল বসবাসের জন্য সহস্রাব্দের রাজত্ব এবং নুতন স্বর্গ ও পৃথিবী খুলে দেবেন৷ এভাবে ঈশ্বর মানুষের জন্য সপ্তযুগ স্থাপন করেছেন৷ এটা কেবল তখনই সম্ভব হবে, যখন যারা যীশুতে বিশ্বাস করে, তারা এই সপ্ত যুগে বিশ্বাস করবে এবং জানবে যে ঈশ্বর তাদের জন্যই সপ্তযুগ নিরূপন করেছেন৷ এটাই একমাত্র ঠিক যে, যারা যীশুতে বিশ্বাস করে, ঈশ্বর নিরূপিত সপ্তযুগ সমন্ধে তাদের জানা এবং বিশ্বাস করা উচিত৷ 

গত শতাব্দীর শেষের দিকে কোরিয়াতে এক লক্ষেরও বেশী লোক তাদের নিজেদের নির্ধারিত খ্রীষ্টের আগমনের দিন, সময় ও তারিখে রূপান্তরিত হবার জন্য প্রতীক্ষা করছে, প্রায় ১২ মিলিয়ন কোরিয়ানকে খ্রীষ্টিয়ান বলা হয়েছে৷ তাদের মধ্যে প্রায় ১০০০০০ জন যীশুর আগমন ও তাদের রুপান্তরের প্রতীক্ষা করেছে৷ অন্যভাবে, এরা কঠিন বিশ্বাসী, যেভাবে লেখা হয়েছে যে, যারা ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস করেছে, ১২ মিলিয়নের মধ্যে কেবল ১০০০০০ জন প্রভুর দ্বিতীয় আগমনের জন্য প্রতীক্ষা করছে, যা শতকরা ১ ভাগেরও কম৷

সমস্যা হচ্ছে যে, ঈশ্বর তাদের জন্য যে সপ্তযুগ নিরূপন করেছেন, সেই সমন্ধে তাদের পরিপূর্ণ জ্ঞান নেই৷ জল ও আত্মার পরিপূর্ণ জ্ঞান না থাকার কারণেবর্তমানের অনেক খ্রীষ্টিয়ান মন্ডলী খ্রীষ্টের দ্বিতীয় আগমন এবং সাধুগণের রূপান্তরের যুগ সমন্ধে তাদের অপরিপক্ক জ্ঞানের ভিত্তিতে খ্রীষ্টের আগমন দিন, তারিখ গণনা করবার মত ভুল কাজ করেছে৷ কাজেই প্রেরিত পৌল তাদেরকে সতর্ক করেছেন, “ তোমরা কোন আত্মা দ্বারা, বা পত্র দ্বারা, মনের স্থিরতা হইতে বিচলিত বা উদ্বিগ্ন হইও না, ভাবিও না যে প্রভুর দিন উপস্থিত হইল৷” (২থিষলনীকীয় ২:২)৷ 

ইতিহাস থেকে বলা যায় যে, অনেকেই অবিরত ঈশ্বরের সংকল্প অগ্রাহ্য করেছে এবং এই উদ্দেশ্যে একের পর এক ব্যর্থ দিনক্ষণ নির্ধারণ করেছে৷ আমার বিশ্বাস, তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাসকে শুধরানো প্রয়োজন৷ কিন্তু রূঢ়ভাবে তাদেরকে তিরস্কার করার ইচ্ছা আমার নেই- আমার একান্ত ইচ্ছা, তাদেরকে শুধরানো৷ কেন? কেননা তাদের ব্যর্থতায় সপ্তযুগ সম্পর্কে তাদের মুর্খতা প্রকাশ করে, যা ঈশ্বর মানুষের জন্য নিরুপণ করেছেন৷ কেননা নিজেদের মানবীয় চিন্তাধারায় তারা যীশুর দ্বিতীয় আগমন সম্পর্কে ভুল হিসাব করেছে এবং বাইবেলে যেভাবে আছে সেটা ভুল বুঝেছে এবং ভুল প্রয়োগ করেছে৷

এই ভুল কোরিয়ান খ্রীষ্টিয়ানদের অবরুদ্ধ করতে পারে নি, কিন্তু পৃথিবীর অবশিষ্ট সাধারনকে অবরুদ্ধ করেছে৷ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মন্ডলীর নেতাগণ, তাদের মধ্যে অনেকেই বিখ্যাত, তারাও একই ধরনের ভুল করেছে৷ যারা এইভাবে যীশুতে বিশ্বাস করেছে এবং তাদের তৈরী রূপান্তরের দিনক্ষণের প্রতীক্ষা করছে, তাদের মত, আমার হৃদয়েও ঈশ্বরের সংকল্প আস্বাদনের ইচ্ছা জাগে, কাজেই তারা যেন সঠিক হতে পারে, ভুল না করে, তারা যেন তাদের উপরে ঈশ্বরের সংকল্প বুঝতে পারে৷ আমার একমাত্র প্রত্যাশা যে, তারাও যেন রূপান্তরের নিমিত্ত ঈশ্বরের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়৷

পান্ডুর বর্ণ অশ্বের যুগের পরেই ঈশ্বর কর্ত্তৃক সত্য রূপান্তর আসবে এবং সাধুগণের সাক্ষ্যমরের মৃত্যুর সময় পার হয়ে আসবে৷ যখন পান্ডুর বর্ণ অশ্বের যুগের মহাক্লেশের সাত বছরের সময় শুরু হবে, তখন পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাশালী নেতা হিসাবে খ্রীষ্টারীর উত্থান হবে এবং সে পৃথিবীর উপরে রাজত্ব করবে৷ 

যখন মহাক্লেশের শুরু হবে, খ্রীষ্টারী সাধুগণকে নির্যাতন শুরু করবে, মহাক্লেশের প্রথমার্ধে নির্যাতনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে- তা হবে প্রথম সাড়ে তিন বছর- যতক্ষণ পর্যন্ত সাত বছরের ঠিক মধ্য অবস্থায় না পৌঁছায়৷ এটা সেই সময় যখন সাধুগণ তাদের বিশ্বাস রক্ষার্থে সাক্ষ্যমর হবে৷ আর এটা শীঘ্রই ষষ্ঠ যুগে পরিণত হবে, যখন সাক্ষ্যমর সাধুগণ পুনরুত্থিত এবং রূপান্তরিত হবে৷

যারা যীশুতে বিশ্বাস করে, তারা অবশ্যই সময় সম্পর্কে ভালোভাবে জানে৷ প্রাক বা মধ্য মহাক্লেশের রূপান্তরের উপরে বিশ্বাসে নির্ভরশীলতা দ্বারা তাদের বিশ্বাসের জীবন ভিন্নভাবে পরিবর্তিত হতে পারে৷ হয় বিশ্বাসীরা পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে বুদ্ধিমানের মত রুপান্তরের জন্য প্রতীক্ষা করবে, অথবা নিজেদের পছন্দের তারিখের উপর মনোযোগ দেবে- এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে ঈশ্বরের বাক্যে তাদের বিশ্বাসের ভিত্তি থাকা বা না থাকার উপরে৷

যদি আপনি স্থির হয়ে প্রকাশিত বাক্যের এই শিক্ষা গ্রহণ করেন, তাহলে আপনি অবশ্যই কারণসমূহ খুঁজে পাবেন এবং এভাবে আপনি সঠিকভাবে আপনার সমস্ত প্রশ্নের সমাধান করতে সক্ষম হবেন৷ কিন্তু রূপান্তরের বিষয়ে যদি আপনার সঠিক ধারণা না থাকে এবং প্রতীক্ষা করতে ব্যর্থ হন, তাহলে আপনার বিশ্বাস ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে৷

স্কফিল্ড কর্ত্তৃক প্রাক-ক্লেশের রূপান্তরের তত্ত্ব ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যিনি একজন ধর্মতত্ত্ববিদ্, যিনি সর্বপ্রথম তার Scofield Reference Bible-এ এর মতবাদ সমূহ প্রতিষ্ঠা করেন৷ এই Scofield Reference Bible-টি ব্যাপকভাবে অনুবাদ হয়েছে এবং পৃথিবীর সর্বত্র ব্যবহৃত হচ্ছে৷ স্কোফিল্ড-এর রেফারেন্স বাইবেলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে, প্রাক-ক্লেশ রুপান্তরের তত্ত্ব এত ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়ে এসেছে৷ কেননা Scofield Reference Bible টি একটি ক্ষমতাসম্পন্ন দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্ত্তৃক লেখা হয়েছে, এবং বইটি বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে এবং অগনিত খ্রীষ্টিয়ান বইটি পড়েছে৷

স্কফিল্ড-এর নিজেরই এই বিষয় ধারণা ছিল না যে, তার দাবিকৃত প্রাক-ক্লেশ রুপান্তরের তত্ত্ব সারা পৃথিবীব্যাপী এত বিস্তার লাভ করবে৷ কার্যতঃ পৃথিবীর সমস্ত খ্রীষ্টিয়ান কর্ত্তৃক প্রাক-ক্লেশ রুপান্তরের তত্ত্ব অতি সাধারনভাবেই গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে৷ কিন্তু স্কফিল্ড-এর প্রাক-ক্লেশ রুপান্তরের তত্ত্ব প্রকাশ হয়ে পড়েছে, ক্ষমতাশালীরা বিশ্বাস করে যে, খ্রীষ্টিয়ান পৃথিবীর পৃথিবীর উপর রাজত্ব করা ক্লেশ-পরবর্তী রূপান্তরের মতবাদ৷

ক্লেশ-পরবর্তী রূপান্তরের তত্ত্ব স্বীকার করে যে, সাত বছরের মহাক্লেশের সময় শেষ হওয়ার পর খ্রীষ্ট পুনরাগমন করবেন এবং একই সাথে তিনি সাধুদের রূপান্তর করবেন৷ এই জন্য অনেকেই মহাক্লেশের সময়ে রূপান্তর এবং প্রভুর দ্বিতীয় আগমনের বিষয় নিয়ে মহা ভয়ে ছিল৷ যখন প্রচারকেরা তাদের বেদী থেকে খ্রীষ্টের দ্বিতীয় আগমন সম্পর্কে প্রচার করছে, লোকেরা অনুতাপের জন্য ধাবিত হয়েছে, তাদের পাপের জন্য কান্নাকাটি করেছে, অবিরত অনুতাপের প্রার্থনার দ্বারা নিজেদেরকে চোখের জলে ভাসিয়ে দিয়েছে, এই ধরনের লোকেরা যীশুকে বিশ্বাস করলেও অনেক বেশী চোখের জল ফেলেছে৷ 

কিন্তু ক্লেশ পরবর্তী রূপান্তরের এই প্রাথমিক বিশ্বাস পরবর্তীতে প্রাক-ক্লেশ রূপান্তরের মতবাদে পরিবর্তীত হয়েছে৷ কেন এমন ঘটল? কারণ মানুষের কাছে ক্লেশ পরবর্তী রূপান্তরের চেয়ে প্রাক-ক্লেশ রূপান্তরের বিশ্বাস সহজতর মনে হয়েছে৷ কারণ তাদের আর সেই মহাক্লেশের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না৷ এটা একটু আশ্চর্যজনক যে, কোনো মহাক্লেশের মধ্যে দিয়ে না গিয়ে তারা রূপান্তরিত হয়ে উর্দ্ধে নীত হতে চেয়েছে৷ এইভাবে প্রাক-ক্লেশ মতবাদ দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়েছে, কারণ এটা মানুষের কাছে অপেক্ষাকৃত সহজতর মনে হয়েছে; মহাক্লেশের মহা দুর্দশার মধ্যে দিয়ে গমন করার চাইতে এই পন্থাই তাদের কাছে সহনীয় বলে মনে হয়েছে৷ 

কষ্টের চেয়ে মানুষ আরামকেই স্বভাবতই বেশী পছন্দ করে, তাই তারা সহজতর বিশ্বাসকেই গ্রহনযোগ্য বলে মনে করেছে৷ পন্ডিতদের দ্বারা প্রণীত বিভিন্ন মতবাদের মধ্য থেকে তাই তারা সহজটাকে বেছে নিতে বেশী আরামবোধ করেছে৷ এইভাবেই এত সহজে অনেকে প্রাক-ক্লেশ রূপান্তরের মতবাদকে মেনে নিয়েছে৷ যারা এই প্রাক-ক্লেশ রূপান্তরের মতবাদকে সমর্থন করেছে, তারা ভেবেছে যে, তাদের দেহ এবং হৃদয়কে কোনভাবে পরিস্কার রাখলেই রূপান্তরিত হওয়া যাবে৷ অথচ তাদের যীশুতে বিশ্বাস এবং প্রভুর আগমনের প্রত্যাশা ততটা জোরালো নয়, বরং তারা দুটো বড় মারাত্মক ভুল করেছে৷

প্রথমতঃ জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস না করেই হৃদয়ে পাপ থাকা অবস্থায় তারা প্রভুর অপেক্ষা করছে৷ তাদের বিশ্বাস শুধুমাত্র যীশুর রক্তের উপরে৷ কিন্তু প্রতিদিন তারা যে পাপ করে, হাজার অনুতাপ করলেও সেই পাপ থেকে তারা সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হতে পারে না৷ তবু তারা রাতদিন একাধারে প্রভুর আগমনের অপেক্ষা করছে৷ পাপের জন্য অনুতাপ করার উদ্দেশ্যে, প্রার্থনা এবং প্রশংসা করার জন্য সারারাত গীর্জায় কাটিয়েছে, রুপান্তরিত হওয়ার জন্য একত্রিত হয়েছে৷ তারা যে তাদের রূপান্তরের জন্য প্রতীক্ষা করেছে, তাতে কোনো ভুল নেই, কিন্তু তা যে বড় ভুলটা করেছে, তা হল প্রকৃত সত্যে বিশ্বাস ছাড়াই তারা প্রভুর অপেক্ষা করেছে, এই বিশ্বাস হল জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস, যার দ্বারা মানুষ ঈশ্বরের সাক্ষাতে তাঁর সন্তান হিসাবে দাঁড়াতে পারে৷

দ্বিতীয়তঃ তারা আর একটা যে মারাত্মক ভুল করেছে তা হল, ঈশ্বরের সংকল্প না বুঝেই তারা দিন তারিখ ঘোষণা করেছে৷ এতে যে শুধু বিশ্বাসীরা বৃথায় অপেক্ষা করেছে তা নয়, কিন্তু তারা এর দ্বারা পৃথিবীতে বিভিন্ন রকমের সর্বনাশ করেছে, অর্থাৎ খ্রীষ্টধর্মের উপরে এর একটি খারাপ প্রভাব পড়েছে, অবিশ্বাসীদের মধ্যে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে৷

এই দুইটি ভুলের কারণে, এর প্রত্যাশিত রূপান্তর যখন ঘটেনি তখন রূপান্তর সমন্ধে মানুষের মধ্যে একটি বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে অনেকে প্রকৃত সত্য থেকে সরে পড়েছে৷ বর্তমানে, খ্রীষ্টের দ্বিতীয় আগমন আসলেই যখন আসন্ন হয়ে পড়েছে, তখন খুব কম লোকেই এই বিষয়ে জোর দিচ্ছে৷

যোহনের মধ্য দিয়ে পর্গামস্থ মন্ডলীর দূতকে ঈশ্বর কি লিখেছেন, এই অনুচ্ছেদে বর্তমানে আমরা তা আলোচনা করছি৷ ঈশ্বর মন্ডলীর দাস ও সাধুগণকে সাক্ষ্যমরের মৃত্যুকে বরণ করার জন্য শেষ দিন পর্যন্ত তাদেরকে বিশ্বাস রক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন৷ কিন্তু ঈশ্বরের নির্দেশে পর্গামস্থ মন্ডলী এবং এর সদস্য যারা জগতের অন্বেষণ করেছে, তাদের জন্য কিছু তিরস্কার আসবে৷ এই কারণে ঈশ্বর মন্ডলীকে অনুতাপ করতে বলেছেন এবং এই কারণে তিনি এটা বলেছেন যে, অন্যথায় তিনি দ্রুত আসবেন এবং এর জন্য শাস্তি দেবেন৷

এখানে আমাদের মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন যে, যোহনের মধ্যে দিয়ে এশিয়ার সপ্ত মন্ডলীকে সাধরনভাবে কি বলেছেন, “যাহার কর্ণ আছে, সে শুনুক, আত্মা মণ্ডলীগণকে কি কহিতেছেন। “ যে জয় করে, তাহাকে আমি গুপ্ত “মান্না” দিব; এবং একখানি শ্বেত প্রস্তর তাহাকে দিব, সেই প্রস্তরের উপরে “নূতন এক নাম” লেখা আছে; আর কেহই সেই নাম জানে না, কেবল যে তাহা গ্রহণ করে, সেই জানে।”

এই শব্দগুলোর প্রতি জোর দিতে চাই, “যে জয় করে, তাহাকে আমি গুপ্ত “মান্না” দিব;” এর অর্থ হচ্ছে, যারা প্রকৃতভাবে প্রভুর জন্য প্রতীক্ষা করে, তারা অবশ্যই ঈশ্বরের বিপক্ষদের জয় করবে৷ অর্থাৎ তারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যারা জগতকে অনুসরণ করে এবং এইভাবে তারা অবশ্যই জগতের প্রেমকারীদের নিকট থেকে নিজেদেরকে পৃথক করবে৷ যারা বিলিয়মকে অনুসরণ করে, তারা ভ্রান্ত ভাববাদীদেরকে অনুসরণ করে৷ ঈশ্বর আমাদেরকে বলেন যে, এই ধরনের লোকেরা কেবল তাদের পাপপূর্ণ লোভে জগতে ধনী হওয়ার চেষ্টা করে, এবং তাদেরকে বিলিয়মের মতবাদের অনুসারী বলে ভাবা হয়৷ 

সব মন্ডলীই ঈশ্বরের মন্ডলী নয়৷ বর্তমানে অনেক মন্ডলীর নেতাগণই স্বীকার করে যে, যীশু ঈশ্বরের পুত্র, কিন্তু তারা বিশ্বাস করে না যে, তিনিই ঈশ্বর৷ এমনকি তাদের মধ্যে অনেকেই বিশ্বাস করে না যে, যীশু খ্রীষ্ট এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন৷

তাছাড়া অনেকেই মন্ডলীতে আসে যেন তারা বস্তুগতভাবে আশীর্বাদযুক্ত হতে পারে৷ মন্ডলীর অনেক নেতাই তাদের সমাগতদের বলে যে, তারা আশির্দানযুক্ত হবে, যদি তারা মন্ডলীতে আরো বেশী অর্থ দান করে৷ এই ধরনের ভ্রান্ত শিক্ষা দ্বারা প্রতারিত হয়ে অনেক বিশ্বাসী সাধারণত চিন্তা করে যে, তাদের বিশ্বাসের পরিবর্তে তারা কি পরিমান উপহার মন্ডলীতে দেবে৷ এভাবে প্রতিনিয়ত মন্ডলীতে উপহার দানের দ্বারা তাদের মধ্যে অনেকেই বিশ্বস্ত বিশ্বাসী হিসাবে প্রমানিত হয়েছে৷ এছাড়াও, তাদের প্রতিদিনের উপস্থিতি এবং মন্ডলীর সেবা, এবং মন্ডলীতে তাদের বড় বড় চেক উপহার দানের মাধ্যমে তাদের মধ্যে অনেককে মন্ডলীতে নেতৃত্বের স্থান দেওয়া হয়েছে, যেমন ডিকনশীপ বা নেতৃত্ব৷ এইগুলো সবই অনেকটা বিলিয়মের পথ, যা আমরা অবশ্যই ভেঙ্গে ফেলব৷

আমরা অবশ্যই এই ধরনের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব৷ আপনি যদি সত্যই গুপ্ত মান্না খেতে চান, তাহলে আপনাকে প্রথমত লক্ষ্য রাখতে হবে যে, আপনার মন্ডলী সত্যিকারের ঈশ্বরের বাক্য অনুসরণ করছে কিনা৷ যদি তা না করে থাকে, তাহলে আপনাকে অবশ্যই যুদ্ধ করতে ও জয় করতে হবে৷ এটা করতে পারলে আপনি ঈশ্বরের সত্য বাক্যরূপ জল ও আত্মার সত্য ভোজন করতে পারবেন৷

কেবল জল ও আত্মার বাক্য হতে গুপ্ত মান্না খেতে পারেন, আপনি নুতন জন্ম পেতে পারেন, এবং এভাবেই নুতন জন্ম পেয়ে আপনি ঈশ্বর কর্ত্তৃক সত্য বাক্য প্রতিনিয়ত ভোজন করতে পারেন৷ এটাই সেই পথ যা নুতন জন্ম প্রাপ্ত ব্যক্তি আলোচনা করতে পারে যে, ঈশ্বরের বাক্য কি, দেখা, শোনা এবং সহভাগিতার মাধ্যমে এটা ভোজন করা যায়৷

আপনি যদি সত্যিই ঈশ্বর কর্ত্তৃক রূপান্তরিত হতে চান, আপনি যদি সত্যই নুতন জন্ম পেতে চান, তাহলে প্রতিনিয়ত একটি নাম মাত্র মন্ডলীতে যোগদান করা একটা বোকামী পূর্ণ ভাবনা৷ মন্ডলীতে যোগদান করলেই ঈশ্বরের সাক্ষাত পাওয়া যায় না, আপনি কখনই সত্য জীবন্ত বাক্য ভোজন করতে সমর্থ হবেন না, এটা কোনো বিষয় নয় যে কত দীর্ঘসময় ধরে আপনি মন্ডলীতে যাতায়াত করছেন-একশ বছর, এক হাজার বছর অথবা আরো বেশী,- এসব কোনো কিছুই আপনাকে আপনার পরিত্রানের সঠিক পথে নিয়ে যাবে না৷ 

এই ধরনের লোকেরা কেবল বিশ্বাসের দ্বারা নুতন জন্ম পেতে পারে না, বরং প্রথম পুনরুত্থানের পরিপূর্ণতা থাকা ব্যতীত তারা তাদের রুপান্তরের জন্য ভুল করে বোকার ন্যায় প্রতীক্ষা করছে- যা হল, তারা এখনও নুতন জন্ম প্রাপ্ত নয়৷ এই ধরনের বিশ্বাস স্বাভাবিকভাবে ভ্রান্ত৷ আপনি যতই খ্রীষ্টের পুনরাগমনের প্রতীক্ষা করুন, যদি আপনি সত্যিই প্রভুকে হৃদয় দিয়ে প্রেম করেন, যদি স্বেচ্ছায় আপনার জীবন যীশুকে দিয়ে দেন, এগুলো কোনো বিষয়ই নয়, এগুলো সবই ব্যর্থ হবে৷ এই প্রকারের লোকেরা প্রভুর দেখা পাবে না৷ ঈশ্বরের জন্য তাদের প্রেম প্রতিদানহীন প্রেমের মত শেষ হয়ে যাবে৷

এই কারণে ঈশ্বর এশিয়াস্থ সাতটি মন্ডলীকে বলেছেন, “যে জয় করে, তাহাকে আমি গুপ্ত “মান্না” দিব;”৷ ঈশ্বর আমাদেরকে বলেন নি যে, কোনো দুঃখ-দুর্দশা ছাড়াই আমরা তাঁর সত্য বাক্য পেতে পারি৷ আমরা যদি মিথ্যাবাদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করি এবং জয়ী না হই, তাহলে আমরা তাঁর জীবন্ত বাক্যরূপ মান্না ভোজন করতে সমর্থ হব না৷ কত বিশ্বস্তভাবে আপনি আপনার মন্ডলীতে যোগদান করেন, সেটা কোনো বিষয় নয়, আপনি যদি সত্য না জানেন, এর অর্থ হচ্ছে, এ যাবৎ আপনি যা জেনেছেন তা সব মিথ্যা৷ আপনাকে অবশ্যই যুদ্ধ করে এই মিথ্যা থেকে রক্ষা পেতে হবে এবং সত্যের সন্ধানে তাদের বিরুদ্ধে আপনাকে জয়ী হতে হবে৷ যে মন্ডলী ঈশ্বরের বাক্যে সাক্ষ্য বহন করছে তা খুঁজে বের করার মাধ্যমে কেবল আপনি এই সত্যে অবতীর্ণ হবেন এবং জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচারের দ্বারা আপনি জীবনদায়ক মান্না ভোজন করতে সমর্থ হবেন৷

আমাদের হৃদয়ে জল ও আত্মার সত্য বাক্য গ্রহণ করা ব্যতীত এমন কিছুই নেই, যা আমাদেরকে প্রতিরোধ করতে পারে৷ যারা হৃদয়ে এই জল ও আত্মার সত্য বাক্য শোনে এবং প্রচার করে, তারা একত্রিত হয় এবং পবিত্র আত্মা তাদের হৃদয়ে বাস করেন৷

ঈশ্বর আমাদের নিকটে প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, যারা জয় করে, তিনি তাদেরকে তাঁর গুপ্ত মান্না দেবেন৷; যেমন, শয়তানের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রামের দ্বারা আমরা অবশ্যই শয়তানকে জয় করব এবং মিথ্যাবাদীদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধে জয় লাভ করব৷ আপনি যদি অনন্ত জীবন পেতে চান, আপনাকে অবশ্যই প্রকৃতভাবে নুতন জন্ম লাভ করতে হবে এবং আপনি যদি ঈশ্বর কর্ত্তৃক রূপান্তরিত হতে চান, আপনার অবশ্যই সঠিক বিশ্বাস থাকতে হবে৷ খ্রীষ্টিয়ান জগতে যেমন অসংখ্য মিথ্যাবাদী খুঁজে পাওয়া যায়, আপনাকে অবশ্যই জগতের এই সমস্ত মিথ্যাবাদীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে এবং জয়ী হতে হবে৷

আপনার বিশ্বাস এমন নড়বড়ে হওয়া উচিত নয় যে, যে কোনো প্রতিকুল ঘটনায় তা দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে৷ আপনি যদি এমন কোনো মন্ডলীর সদস্য হয়ে থাকেন যেখানে ঈশ্বরের বাক্য যথার্থ ভাবে প্রচারিত হয় না, তাহলে আপনার অবশ্যই সেই মন্ডলী পরিত্যাগ করা উচিত৷ কেবলমাত্র যারা সত্যে ও আত্মায় ঈশ্বরের বাক্যের মান্না এবং ঈশ্বরের সত্য বাক্য অন্বেষণ করে, জল ও আত্মার বাক্যের অন্বেষণ করে তাদের সঙ্গেই ঈশ্বর বাস করবেন৷

সেমিনারীতে পড়াশুনা করার সময়ে আমি খুব ভালো ছাত্র ছিলাম, আমি কখনই ক্লাস বাদ দিতাম না এবং আমার মান খুব ভালো ছিল৷ আমি পরিশ্রমের সাথে এবং বিশ্বস্তভাবে পড়াশুনা করেছি, এবং যার ফলে আমি অনেক বিষয়ই বুঝতে পারি নি৷ যেহেতু যীশুর সাথে মিলিত হওয়ার পূর্বে আমি এবং আমার পরিবার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলাম এবং যীশুতে বিশ্বাস করার পর আমি তাঁর সম্পর্কে আমার জ্ঞান ছিল সীমিত৷ এমনকি বাক্যের জ্ঞান ছিল আরো সীমিত এবং এই কারণে আমি শাস্ত্র সমন্ধে জানার জন্য আরো বেশী আগ্রহী ছিলাম৷ ঈশ্বরের বাক্যের জ্ঞানে পিপাসিত হওয়ার কারণে আমি সেমিনারীতে অনেক অধ্যক্ষের কাছে জ্ঞান অর্জন করেছি, তাদের কাছে অনেক প্রশ্ন করেছি, এবং আশা করেছি যে বাইবেল থেকে তাদের উত্তর আমার পিপাসা মেটাতে সক্ষম হবে৷ 

তাদের মধ্যে কেউই আমাকে উপযুক্ত উত্তর দিতে পারে নি৷ যখনই আমি অধক্ষ্যদের কাছে তাদের শাস্ত্রীয় জ্ঞান সমন্ধে প্রশ্ন করতাম উত্তরে তারা কেবল সেমিনারীতে বাইবেল বিষয়ে আমার নিজের জ্ঞানের উপরে মন্তব্য করেছে, অধক্ষ্যরা বাক্য প্রচার করে না, বরং তারা বাইবেল বিষয়ে তাদের নিজেদের “মতবাদ” শিক্ষা দেন কিন্তু যাদের সমস্ত মতবাদ অর্থাৎ, পুরাতন নিয়মের পরিক্রমা থেকে নুতন নিয়মের পরিক্রমা, সিস্টেমেটিক তত্ত্ব থেকে খ্রীষ্টধর্মের ইতিহাস, ক্যাল্ভেনীয় তত্ত্ব থেকে আর্মেনীয় তত্ত্ব, খ্রীষ্ট তত্ত্ব থেকে নিউমেটালজি পর্যন্ত প্রাথমিক তত্ত্ব থেকে বিষদ ব্যাখ্যা পর্যন্ত এই সব কিছুই মানবীয় চিন্তা-ভাবনার ফসল৷ পন্ডিতদের দ্বারা প্রচারিত তত্ত্বগুলোই কেবল শিক্ষা দেয়, যেটি সাধারণ কলেজের শিক্ষকেরা যেমন বিভিন্ন তত্ত্বের শিক্ষা দেন, ঠিক তেমনি৷ 

আমি বাইবেল সমন্ধে একজন অজ্ঞ ব্যক্তি ছিলাম৷ আমার নেওয়া প্রশিক্ষণগুলো যত ব্যাপ্তই হোক না কেন, বাইবেল সমন্ধে আমার জ্ঞানের গভীরতা অন্যের দ্বারা যতই প্রশংসিত হোক না কেন, অথবা সেই জ্ঞানের ভিত্তিতে আমি পরাক্রমী প্রচার করে থাকি না কেন, যতই আমি বাইবেল এবং ধর্মতত্ত্ব বিষয় পড়ছিলাম, দিন দিন আমার সন্দেহ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছিল৷ এটা আমার ব্যক্তিগত অনুভুতি যে, আমি সম্পূর্ণরূপে একজন অজ্ঞ ব্যক্তি ছিলাম; আর এক কারণে সমস্ত কিছুর উপর আমার মনে দাগ কাটতে শুরু করেছিল৷ সুতরাং, ক্লাসে আমি যেসব প্রশ্নগুলো করতাম তা ছিল অদ্ভুত এবং অভূতপূর্ব৷ এসব প্রশ্নের মধ্যে একটা ছিল এই: “যীশু কেন বাপ্তিস্ম গ্রহণ করলেন?” এই প্রশ্নের কোনো সঠিক উত্তর আমি শুনতে পাই নি৷ কেউই আমাকে সঠিক উত্তর দিতে সক্ষম হয় নি যে, যীশু তাঁর মাংসময় দেহে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিতে যোহন বাপ্তাইজকের কাছ থেকে যর্দন নদীতে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন৷ 

যীশুর যে অলৌকিক কার্য সমন্ধে আমার প্রশ্ন ছিল যে, যীশু কিভাবে পাঁচটি রুটি ও দুটি মাছ দিয়ে পাঁচ হাজারেরও বেশী লোককে খেতে দিয়েছিলেন৷ সুতরাং আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, “যীশু যখন পাঁচটি রুটি ও দুটি মাছকে আশীর্বাদ করেছিলেন, তখনই কি সেগুলি বৃদ্ধি পেয়েছিল নাকি বিতরণের সময় তা বৃদ্ধি পেয়েছিল?” এই ধরনের প্রশ্ন উত্থাপনের জন্য আমি প্রায়ই নিন্দা এবং ভর্ত্সনার শিকার হয়েছি৷

এইভাবে আমি বুঝতে পারলাম, “ধর্মতত্ত্ব বলতে এটাকেই বোঝায়৷ ফরাসী ক্যালভিন তার জ্ঞানে যে তত্ত্বকে নিয়মের মধ্যে প্রকাশ করেছেন, আমরা শুধু তাই শিখছি৷ আমরা বাইবেলের কিছুই জানি না৷” তাই আমি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রকাশিত বিভিন্ন বই নিয়ে বাইবেলের সাথে মিলিয়ে আরো গভীর গবেষণা করতে লাগলাম৷ কিন্তু তাতেও কিছু পেলাম না৷

তারা সকলে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, লোকেরা যখন যীশুকে বিশ্বাস করে, তাদের পাপসমূহ ক্রমশ মুছে যায়, এভাবে তারা অনুতাপের প্রার্থনা হেতু পবিত্র হয়েছে, এবং তাদের মৃত্যুতে তারা সম্পূর্ণরূপে পাপ মুক্ত হয় এবং পরে স্বর্গে প্রবেশ করে৷ সাম্প্রদায়িক ভিন্নতা কোনো বিষয় নয়, তাদের প্রত্যেকেরই একটাই দিক আমি দেখতে পেলাম,- যা হল, খ্রীষ্টিয়ানদের সবসময় অনুতাপের প্রার্থনা করতে হবে এবং ক্রমান্বয়ে পবিত্র হতে হবে,- বাক্যের সাথে যার কোনো মিল নেই৷ সুতরাং আমি হাঁটু গেড়ে ঈশ্বরের সম্মুখে তাঁর সত্য সমন্ধে অন্বেষণ করা শুরু করলাম৷

ঈশ্বর তখন আমাকে জল ও আত্মার সত্য সুসমাচার শিক্ষা দিয়েছিলেন৷ এই সত্য আমাকে বিস্মিত করেছে৷ আর তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, বাইবেলের ৬৬ টি পুস্তকের সব জায়গাতেই জল ও আত্মার সত্য খুঁজে পাওয়া যায়, আমার অন্ধ চোখ খুলে গেল এবং আমি বাইবেলের বাক্য পরিষ্কারভাবে দেখতে লাগলাম৷ কিভাবে পুরাতন ও নুতন নিয়ম একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত, এ বিষয় চিহ্নিত করতে আমি সমর্থ হয়েছি এবং যখন আমি এই সত্য খুঁজে পেতে সমর্থ হয়েছি, তখন পবিত্র আত্মা আমার হৃদয়ে অবস্থান নিয়েছেন৷ এই সত্য বাক্য দেখার ও বোঝার পরে, অসংখ্য পাপ যা আমার হৃদয়ে মহামারীর আকার ধারণ করেছিল এবং ভারে আমাকে নুইয়ে ফেলেছিল, যা ঈশ্বরের আশ্চর্য ও অদ্ভুত প্রেম এবং অনুগ্রহের দ্বারা মুছে গেছে৷ 

একটি শান্ত হ্রদে ছোট পাথর নিক্ষেপ করলে ছোট ছোট ঢেউয়ের সৃষ্টি করে, তেমনি আমার হৃদয়ে শান্ত বা অচঞ্চল আনন্দ ও জ্যোতি প্রবেশ করেছে৷ এই জ্যোতির দ্বারা আমি মনে করি যে, ঈশ্বরের বাক্য কি ছিল আমি তা বুঝতে পেরেছি৷ উপলব্ধি করার বিশেষ মুহুর্তে পবিত্র আত্মা আমার হৃদয়ে প্রবেশ করেছে এবং পবিত্র আত্মার প্রবেশ করার কারণে বাইবেলের বাক্য পরিষ্কারভাবে দেখতে পেয়েছি৷ তখন থেকেই আমি সর্বদা জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করছি৷

এই দিনেও, জল ও আত্মার সুসমাচার আমার হৃদয়ে অটল রয়েছে, আমাকে শান্তি ও আনন্দ দিচ্ছে এবং সর্বদা আমার হৃদয়কে পরিস্কার রাখছে৷ এভাবেই আমি ঈশ্বরের বাক্য ভোজন করে আসছি৷ যখন আমি বাক্যে চলতে থাকি, তখন আমার উপলব্ধির সাথে অর্থাৎ, আমার হৃদয় শান্ত আশীর্বাদে পূর্ণ হয়ে আসে এবং এই অনুগ্রহের সমুদ্রে সাঁতার কাটতে আরম্ভ করে৷ এইরূপে আমার হৃদয় আশীর্বাদে পূর্ণ হচ্ছে, আপনি যখন তাঁর নুতন জন্মের পরিত্রাণের বাক্যে বিশ্বাস করেন, ঈশ্বরের বাক্য তখন আপনাকে তাঁর অনুগ্রহ এবং আশীর্বাদের মধ্যে আনয়ন করবেন৷

যখন আমি বাইবেল খুলেছিলাম এবং বাক্যে অবস্থান করেছিলাম, আমার সমস্ত দুঃচিন্তা এবং বিরামহীন চিন্তা চেতনা সমূহ অদৃশ্য হয়ে গেল এবং এর পরিবর্তে আমার হৃদয়ে আনন্দ এবং শান্তি অনুভূত হয়েছিল৷ যখন বাইবেল সমন্ধে জিজ্ঞাসা করা হত যে, ঈশ্বর তাঁর বাক্যের দ্বারা কি বলতে চেয়েছেন আমি তার উত্তর দিতে অসমর্থ ছিলাম৷ কেবলমাত্র জল ও আত্মার সুসমাচার জানা এবং বিশ্বাস করার মধ্যে দিয়েই কেবল একজন ঈশ্বরের বাক্য ভোজন করতে পারে এবং কেবল এইভাবে ভোজনের দ্বারাই নুতন জন্ম পেতে পারে৷ কেননা নুতন জন্ম প্রাপ্ত ব্যক্তির হৃদয়ে আর কোনো পাপ থাকে না, হটাৎ যখন প্রভু এই পৃথিবীতে আসবেন, তারা সকলেই তাদের রূপান্তরের জন্য প্রস্তুত থাকবে, অবশেষে প্রভু তাদেরকে উর্দ্ধে তুলে নেবেন৷



যে বিশ্বাস আমাদেরকে রূপান্তরে নিয়ে যেতে পারে


জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস এবং জানার মাধ্যমে আমাদের পাপ মোচন গগ্রহণের পরে আমরা রূপান্তরের জন্য প্রতীক্ষা করি৷ আর যখন আমরা প্রতীক্ষা করছি; তখন ঈশ্বর কর্ত্তৃক নির্দিষ্ট সময় সমন্ধে পরিস্কার ধারণা নিয়েই আমরা প্রতীক্ষা করব৷ ঈশ্বর কর্ত্তৃক যে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, তা সপ্ত যুগ, এবং এই যুগের মধ্যে সাক্ষ্যমরের মৃত্যুর নিমিত্ত যুগ হচ্ছে পান্ডুরবর্ণ অশ্বের যুগ৷ ঈশ্বর কর্ত্তৃক যে সপ্ত যুগ নির্ধারণ করা হয়েছে, এর মধ্যে চতুর্থ যুগ হল, পান্ডুর বর্ণ অশ্বের যুগ৷ আমরা এখন যে যুগে বাস করছি, অন্য কথায়, তৃতীয় যুগ, কৃষ্ণবর্ণ অশ্বের যুগ৷ 

আমরা যখন উঁচু পাহাড়ে আরোহণ করি, তখন আমরা পথপ্রদর্শকরূপে মানচিত্রের নকশার উপর নির্ভর করি৷ কিন্তু এই নকশা ব্যবহার করে সঠিক এবং নিরাপদে আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারি, এই জন্য আমরা প্রথমে অবশ্যই জেনে নেব আমাদের অবস্থান কি হবে৷ হতে পারে আপনি নকশা পড়তে খুব দক্ষ অথবা নকশাটি কত নিঁখুত এটা কোনো বিষয় নয়,- আপনি যদি না জানেন যে, আপনি কোথায়, তাহলে নকশাটি মূল্যহীন হয়ে যাবে৷ যখন আপনি আপনার নিজের অবস্থান সম্পর্কে বুঝবেন কেবল তখনই আপনি আপনার গন্তব্যে নিরাপদে পৌঁছাতে পারবেন৷

এভাবে কেবল জল ও আত্মার দ্বারা নুতন জন্ম পেয়ে আপনি চিহ্নিত করতে পারবেন কখন আপনি রূপান্তরিত হবেন, বাইবেল অনুযায়ী রূপান্তরের সময় সাত বছরের মহাক্লেশের মধ্যাবস্থার সামান্য অতিক্রম করেছে যা ক্লেশের মধ্যে সাড়ে তিন বছর৷ এজন্য ঈশ্বর যখন প্রথম বিশ্বব্রহ্মান্ডের সৃষ্টি করেছেন তখন তিনি খ্রীষ্টে সংকল্প সাধন করেছেন৷

যীশু খ্রীষ্টেতে ঈশ্বরের পরিত্রাণের সংকল্প ছিল, যা শুধু তাঁর একজাত পুত্রকে এই পৃথিবীতে পাঠানো, তাঁকে বাপ্তাইজিত করানো, ক্রুশে হত করানো এবং মৃত্যু থেকে পুনরায় উঠানোই ছিল না, কিন্তু তিনি পৃথিবীর জন্য, সৃষ্টি থেকে শেষ পর্যন্ত সপ্ত যুগের মাধ্যমে সময় নির্ধারণ করে রেখেছেন৷ যেমন আমরা বাড়িঘর, ব্যবসা-বানিজ্যের পূর্বেই নকশা বা পরিকল্পনা তৈরী করি৷ তাহলে কি ঈশ্বর এই পৃথিবী, মানুষ এবং যীশু খ্রীষ্টেতে আমাকে কোনো সংকল্প ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন? অবশ্যই না! তিনি আমাদেরকে একটি পরিকল্পনায় সৃষ্টি করেছেন৷

ঈশ্বরের এই সংকল্প প্রকাশিত বাক্যে পরিষ্কারভাবে প্রকাশিত হয়েছে৷ আমরা যখন বাক্য খুলি এবং এর মধ্যে অবস্থান করি, ঈশ্বরের প্রকৃত সংকল্প কি ছিল আমরা তা খুঁজে পাই৷ যদিও ঈশ্বরের বাক্য হাজার বছর পুরনো, তবুও এই বাক্য অপরিবর্তনীয় এবং অভিন্ন সত্য হয়ে রয়ে গেছে, না এতে কিছু যোগ করা হয়েছে, না বাদ দেওয়া হয়েছে৷ যারা এটা জানে না এবং জল ও আত্মার দ্বারা নুতন জন্ম লাভ করে নি, ঈশ্বরের বাক্য হেতু যে সত্য আমাদের কাছে প্রকাশিত হয়েছে সেই সত্য সমন্ধে তারা অজ্ঞই রয়ে গেছে৷ কিন্তু যারা বাক্যে অবস্থান করে, বাইবেলে যে সত্য প্রকাশিত হয়েছে, তারা সেই সত্য খুঁজে পেতে এবং বুঝতে সমর্থ হবে৷

এই অনুচ্ছেদে ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছেন, যারা জয় করে, ঈশ্বর তাদেরকে তাঁর মান্না দেবেন, অর্থাৎ ঈশ্বর কেবল তাদেরকে তাঁর বাক্যের আলো দেবেন, যারা মিথ্যাবাদীদের থেকে সত্য উপলব্ধি করতে পারবে এবং তাঁর সত্য বাক্য জানার মধ্য দিয়ে মিথ্যাবাদীদের জয় করতে পারবে৷ যারা মিথ্যা থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং সত্য খুঁজে পেয়েছে, তারা অবশ্যই এই সত্য প্রচারের দ্বারা এই সমস্ত মিথ্যাকে জয় করতে পারবে৷ ঈশ্বর আমাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করবে, তিনি তাদেরকে আশীর্বাদস্বরূপ তাঁর মান্না খেতে দেবেন, “যে জয় করে, তাহাকে আমি গুপ্ত “মান্না” দিব; এবং একখানি শ্বেত প্রস্তর তাহাকে দিব, সেই প্রস্তরের উপরে “নূতন এক নাম” লেখা আছে; আর কেহই সেই নাম জানে না, কেবল যে তাহা গ্রহণ করে, সেই জানে।”

গুপ্ত মান্না বলতে এখানে ঈশ্বরের বাক্যকে বোঝানো হয়েছে৷ অন্যদিকে শ্বেতপ্রস্থর বলতে বোঝানো হয়েছে যে, আমাদের নাম জীবন-পুস্তকে লেখা হবে৷ ঈশ্বর তাদেরকে যে জল ও আত্মার সুসমাচার দিয়েছেন, লোকেরা যখন এই জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে, তাদের হৃদয় নতুন হয়ে ওঠে৷ তাদের হৃদয় পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়, এই বাক্যে বিশ্বাস হেতু তারা বুঝতে পারে যে, তাদের হৃদয়ের সমস্ত পাপ মুছে গেছে৷ এভাবে তারা জল ও আত্মা দ্বারা পরিস্কৃত হয়ে তাদের নাম শ্বেতপ্রস্থরে লিখিত হয়েছে৷

ঈশ্বর আমাদেরকে বলেন যে, কেবল যে এটা গ্রহণ করেছে, সে ছাড়া অন্য কেউই এর নুতন নাম জানে না৷ যাদের সমস্ত পাপ ক্ষমা করা হয়েছে, তারা অবশ্যই তাদের হৃদয়ে অনুভব করতে পারে যে, তাদের হৃদয়ে আর কোনো পাপ নেই এবং তাদের নাম জীবন-পুস্তকে লিখিত হয়েছে৷ অন্য কথায়, তারা জানে যে, জল ও আত্মার সুসমাচার তাদের হৃদয়ের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছে৷ কেবলমাত্র যারা জল ও আত্মার সুসমাচারের বাক্য জানার মধ্যে দিয়ে নুতন জন্ম লাভ করেছে, এবং পাপের ক্ষমা গ্রহণ করেছে, তারাই প্রভুকে এবং এই সত্যকে বুঝতে সমর্থ হয়েছে৷ যারা নুতন জন্ম লাভ করে নি, তারা বুঝতে পারে নি যে, তাদেরকে নুতন জন্ম পেতে হবে৷ কিন্তু নুতন জন্ম প্রাপ্ত লোকেরা সহজেই এই সমস্ত বুঝতে পারে যে, তাদেরকে ঈশ্বরের মান্না খেতে হবে আর তাদের নাম শ্বেতপ্রস্থরে লেখা হয়নি৷

সত্যি কি আপনি রূপান্তরিত হতে চান? আপনি যদি রূপান্তরিত হতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই মান্না খেয়ে যোগ্য হতে হবে৷ আমি মনে করি জল ও আত্মা হতে আপনাকে অবশ্যই নুতন জন্ম পেতে হবে এবং এভাবে মান্না খেয়ে যোগ্য হতে হবে৷ মান্না খেয়ে আপনাকে অবশ্যই মিথ্যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে এবং বিশ্বাসে জয়ী হতে হবে৷ ভ্রান্ত শিক্ষকেরা পাপীদের জন্য মুক্তি আনয়ন করতে পারে না, বরং তারা তাদের বস্তুগত বিষয় এবং মাংসিক বিষয় শোষণ করে৷ আমাদের খ্রীষ্টিয়ান সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ধরনের ভ্রান্ত শিক্ষক, ভাক্ত ভাববাদী এবং ভাক্ত দাসদের বিরুদ্ধে আমরা অবশ্যই যুদ্ধ করব এবং জয়ী হব৷ 

বাইবেলের মতে আমাদেরকে অবশ্যই জানতে হবে যে, যীশু কিভাবে আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন, কেন তিনি বাপ্তাইজিত হয়েছেন, কেন তিনি পৃথিবীর সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন, কেন তিনি ক্রুশে হত হয়েছেন এবং কেন তিনি মৃত্যু থেকে আবার উঠেছেন? আমরা অবশ্যই ভালোভাবে জেনেছি যে, যীশু কেন মাংসে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং সমস্ত কার্য করেছিলেন এবং আমরা অবশ্যই জেনেছি যে তিনি যীশু৷ কিন্তু ভ্রান্ত মন্ডলীগুলো সত্য শিক্ষার পরিবর্তে এটা প্রচার করে যে, যারা মন্ডলীতে নিয়মিত যোগদান করে তাদেরকে সাধু বলে সম্বোধন করে৷ তারা কেবল প্রশ্ন করে, “আপনি কি যীশুকে বিশ্বাস করেন?” যদি উত্তর আসে “হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি” তখনই এই সমস্ত ভ্রান্ত মন্ডলীগুলো তাদেরকে ‘সাধু বা ধার্মিক’ বলে ডাকে, এক বছরের মধ্যে তাদেরকে বাপ্তিস্ম দেয় এবং পরে তাদের কাছ থেকে সমস্ত প্রকারের উপহার, যেমন; ধন্যবাদের উপহার, বিশেষ উপহার, কৃতজ্ঞতার উপহার, নুতন মন্ডলী ইত্যাদির জন্য উপহার নিতে শুরু করে- এরূপে এই ধরণের মন্ডলীগুলো শুধু অর্থ এবং লোভ দ্বারা আকৃষ্ট করে এবং বৃহৎ ও চকচকে গীর্জাঘর তৈরী করে, এগুলো ভ্রান্ত মন্ডলী৷ 

আমরা যখন মান্না খাই, তখন আমাদের এই ধরনের ভ্রান্ত মন্ডলী এবং যারা ভ্রান্ত শিক্ষা প্রচার করছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা অবশ্যই যুদ্ধ করব৷ যদি আমরা এই যুদ্ধে পরাজিত হই, এর মানে এই নয় যে, আমরা আর ঈশ্বরের সাধু নই, বরং তাঁর দ্বারা রূপান্তরিত হতে পারব না৷ ঈশ্বরের সাধু না হওয়া আর ঈশ্বরের সন্তান না হওয়া একই কথা; এমনকি খ্রীষ্ট যদি ১০০ বারও ফিরে আসেন, তবু আমরা কখনই রূপান্তরিত হব না৷

মথি ২৫ অধ্যায়ে আমাদেরকে দশ কুমারীর দৃষ্টান্ত বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে পাঁচজন সুবুদ্ধি ও পাঁচজন নির্বুদ্ধি কুমারী ছিল৷ দৃষ্টান্তটি আমাদের বলে যে, তারা কতটা নির্বুদ্ধি ছিল যারা তাদের প্রদীপ নিলেও তৈল নেয় নি এবং বর আসবার সংবাদ পাওয়ার পরেই তারা তৈল কিনতে বাইরে গিয়েছিল৷ আমরা অবশ্যই সুবুদ্ধি কুমারীদের মত হব, যারা আগে থেকেই তৈল নিয়ে প্রস্তুত ছিল৷ বিশ্বাসের তৈলে প্রস্তুত থাকতে অর্থাৎ যীশুর সাক্ষাতে মান্না খেয়ে অবশ্যই আমরা যোগ্য হব, মিথ্যাবাদীদের জয় করব এবং জল ও আত্মার বাক্য দ্বারা নুতন জন্ম লাভ করব৷ 

যখন আমরা কোনো প্রচার শুনি, তখন নিজেদের মনে এই প্রশ্ন জাগে যে, প্রচারক যা প্রচার করছেন, তা প্রকৃতই ঈশ্বরের বাক্য কিনা৷ এই প্রশ্ন আমাদের ভেতরে থাকা উচিত যে, মন্ডলীর অর্থ ঈশ্বরের কাজের জন্য ব্যয় করা হচ্ছে কি না৷ অন্য কথায়, ঈশ্বরের সত্যিকারের মন্ডলীকে আমাদের অবশ্যই অন্বেষণ করতে হবে৷ যে সব গীর্জাতে শুধু মুখের কথা হিসাবে ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করা হয়, তাদের সমন্ধে আমাদের সতর্ক হতে হবে৷

তাদের মুখের কথা বা অনুতাপের প্রার্থনা যেমনই হোক না কেন, তাদের কথায় তাদের কাজের পরিচয় প্রমাণ করবে, আসলে তারা কি বড় বড় গীর্জাঘর নির্মান করতে চায়, তারা কি ধনীদের তোষামোদ করতে চায়, না কি গরিবদের যত্ন নিতে চায়; অথবা তারা কি প্রকৃতই ঈশ্বরের জন্য আত্মাগণকে জয় করতে চায়৷ ঈশ্বর আপনাকে চোখ এবং কান দিয়েছেন, যেন আপনি নিজেই এই সকলের বিচার করতে পারেন৷ যদি আপনি বুঝতে পারেন যে, এই মন্ডলী ঠিক নেই, তবে সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে দ্বিধা করবেন না, কারণ সেখানে থাকলে শেষ পর্যন্ত নরকেই যেতে হবে৷

জল ও আত্মার সুসমাচার কতটা সত্যি তা কি আপনি বুঝতে পারছেন? যখন আপনি এই সত্য বুঝে হৃদয়ে গ্রহণ করবেন, তখন আপনি সম্পূর্ণ একজন নতুন মানুষ হয়ে যাবেন৷ যারা আগে জগতের ছিল, তারা এখন স্বর্গের প্রজা হয়েছে এবং শয়তানের দ্বারা আগে যারা পীড়িত ছিল, তারা মুক্ত হয়েছে৷ 

যাদের হৃদয়ে পাপ রয়েছে, তারা পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে শয়তান দ্বারা পীড়িত হয়৷ কিন্তু প্রভু এই পৃথিবীতে এসে জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা আমাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছেন৷ কারণ তিনি আমাদের পাপ সম্পূর্ণরূপে তুলে নিয়েছেন, তাই শয়তান আর আমাদের আত্মাকে কষ্ট দিতে বা গ্রাস করতে পারে না৷ সুতরাং, যখন আপনি এই সুসমাচার জেনে তাতে বিশ্বাস করেছেন, শয়তান আপনার থেকে দূরীভূত হয়ে যাচ্ছে এবং আপনার জীবন পাল্টে যাচ্ছে৷

অন্য কথায়, যারা জগতের দাস ছিল, তারা সেই দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়েছে৷ পাপীদের ধার্মিক করার আশ্চর্য কাজ ঈশ্বর করেছেন, যারা জগতের ছিল, তারা স্বর্গের হয়েছে, এবং প্রভু যখন আসবেন, তখন তিনি তাদেরকে তাঁর রাজ্যে তুলে নেবেন৷

আমাদের জাগতিক জীবনই শেষ জীবন নয়৷ নিজের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করে ঈশ্বর আমাদেরকে শুধু জাগতিক এই সংক্ষিপ্ত জীবনটাই দেন নি৷ আমাদের এই মাংসিক জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত, আমরা লেখাপড়া শেষ করতে করতে ২০-৩০ বছর পার করে আসি৷ ৩০ বছর ব্যয় করি আমরা আমাদের জীবনযাপনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করতে, আর এই জীবনের ভিত্তিকে গঠন করে প্রস্তুত করার সময় চলে যায়, ইতিমধ্যে আমাদের বয়স হয় ৪০-৫০ বছর৷ শেষমেষ আমরা যখন নিজেরা এটা ভাববার পর্যায়ে পৌঁছাই যে, আমরা এখন একটু ধীরে জীবনকে উপভোগ করি, ততদিনে আমাদের জীবনের সম্পূর্ণ কাল অতিক্রান্ত হয়ে যায়, এবং আমরা জীবনের শেষ সময়ের মুখোমুখি হই৷ ঠিক ফুল যেমন সকালে ফোঁটে এবং বিকেল হতেই শুকিয়ে যায়, তেমনি আমরা চিন্তা করি যে, সেইভাবে আমরা আমাদের জীবনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর পূর্বে আমরা অনুভব করি যে, আমাদের সময় পার হয়ে গেছে এবং আমরা শুধুমাত্র শেষ পর্যায়ের দিকে তাকাই৷ 

জীবন কত সংক্ষিপ্ত৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, অনেক লোক আছে যারা এই সংক্ষিপ্ত জীবনকে অনুধাবন করে না৷ এমনকি আমাদের জীবনের শেষার্ধে আমাদের মাংস আমাদের সাথে থাকে না, এটা আমাদের আত্মিক জীবনের জন্য যাত্রার শুরু মাত্র৷ কেন? কারণ ঈশ্বর এই সংক্ষিত খেসারত হিসাবে আমাদের জন্য সহস্রাব্দের রাজ্য প্রস্তুত করেন নি, বরং নুতন আকাশ ও পৃথিবী প্রস্তুত করেছেন, যেখানে আমরা অনন্তকাল বাস করব৷ এটা অনন্ত জীবনের জন্য ঈশ্বরের আশীর্বাদ, যা তিনি শুধুমাত্র তাদেরকেই প্রদান করেন, যারা তাঁর জল ও আত্মার বাক্যে বিশ্বাসের দ্বারা নুতন জন্ম লাভ করে৷ 

আপনি যখন গুপ্ত মান্না খাবেন এবং আপনার নাম যখন শ্বেত-প্রস্থরে লিখিত হবে, কেবল তখনই আপনি রূপান্তরিত হতে পারেন৷ ঈশ্বর আমাদেরকে বলেন, যারা কেবল তাঁর মান্না ভোজন করবে, তারাই মহাক্লেশের সময় শয়তানকে জয় করতে সক্ষম হবে৷ আর এইরূপে যারা জয় করবে, কেবল তাদের নাম শ্বেত-প্রস্থরে লিখিত হবে৷ অতএব, যারা জয় করবে না, তাদের রূপান্তরের স্বপ্ন দেখা উচিত নয়, এমনকি তারা নুতন জন্ম লাভ করার স্বপ্নও দেখতে পারে না৷

মহৎ এবং মূল্যবান কিছু করতে গেলে মহান ত্যাগ স্বীকার করতে হয়৷ যেমন সোনা একটি উদাহরণ: খাঁটি সোনা খুঁজে পেতে অনেক চেষ্টা, সময় এবং ঝুঁকি নিতে হয়৷ অনেক লোক এক পিন্ড সোনার তাল খুঁজে পাওয়ার পূর্বেই খনির অভ্যন্তরে মৃত্যুবরণ করেছে৷ এছাড়া খাঁটি সোনা খুঁজে পেতে অনেক পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়৷ অধিকন্তু, এটা যেকোনো নদী থেকে আরোহন করা যায় না, কিন্তু আপানকে একটা নদী পেতে হবে, যেটাতে স্বর্ণের পাললিকতা আছে৷ অন্য কথায়, সোনা খুজতে আপনার সারা জীবনের কঠোর প্রচেষ্টার প্রয়োজনও হতে পারে৷ তাহলে, কেন লোকেরা কষ্ট করে সোনার অনুসন্ধান করে? তারা এরূপ করে কারণ, তারা ভাবে যে, সোনা তাদের নিজেদের জীবনের ঝুঁকির চেয়েও মূল্যবান৷

যাহোক, সোনা এবং রুপার চেয়ে যেটা মূল্যবান, তা হল আমরা ঈশ্বরের সন্তান হতে পারি৷ ঈশ্বর আপনার মাংসের জন্য হয়তো কিছু ক্ষণস্থায়ী সুখ আনয়ন করতে পারেন, কিন্তু ঈশ্বরের সন্তান হলে, ঈশ্বর আপনার জন্য অসীম, অনন্ত সুখ আনয়ন করবেন৷ শেষ সময়ে রূপান্তরিত হতে, ঐশ্বর্য্য, উন্নতি উপভোগ করতে এবং সহস্রাব্দের রাজ্যের গৌরব এবং নুতন আকাশ ও নুতন পৃথিবী এবং এরূপ অনন্ত-জীবন যাপন করতে আমরা অবশ্যই পৃথিবীস্থ সমস্ত মিথ্যাবাদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব, জল ও আত্মার সুসমাচার বিশ্বাস করুন এবং আপনার বিজয় নিশ্চিত করুন৷

এই পৃথিবীতে অনেক মিথ্যাবাদী আছে, যারা আমাদের হৃদয়কে আঁকড়ে ধরার জন্য সুযোগ খুঁজছে এবং আমাদের বিশ্বাসকে পরাজিত করার চেষ্টা করছে৷ যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে এবং যাদের হৃদয়ে বিশ্বাস আছে, কেবল তারাই জানে যে, তাদের বিশ্বাস কত মূল্যবান৷ কেননা তারা এই বিশ্বাসের মূল্য জানে, যে শিক্ষা আমাদের থেকে এই বিশ্বাস হরণ করার চেষ্টা করে, তারা সে সকল ভ্রান্ত শিক্ষার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে৷ আমরা যদি অনুভব করি কত সংখ্যক লোক এই বিশ্বাসে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, আর কতজন এতে যোগ দিতে অসমর্থ হয়েছে, এবং আমরা যদি অনুভব করি যে,কেবলমাত্র এই বিশ্বাস আমাদেরকে আবৃত করে মেষশাবকের বিবাহভোজে স্বাগত জানাবে, এবং আমাদেরকে তাঁর অনন্ত জীবনের আশীর্বাদ দান করবেন, আমরা অবশ্যই এটাকে সম্পূর্ণরূপে আমাদের করে নেব এবং কাউকে আমাদের কাছ থেকে ফিরে যেতে দেব না৷

সঠিক প্রকাশিত বাক্য জানা এবং বোঝার জন্য আমি আগ্রহী ছিলাম- এটা নিশ্চিত করতে যে, আপনি যেন জল ও আত্মার মূল্যবান সুসমাচারের উপরে নির্ভর করতে সক্ষম হন- কারণ আমি জানি অনেক ভ্রান্ত শিক্ষক এমনকি নুতন জন্ম প্রাপ্ত সাধুরাও প্রকাশিত বাক্যের ভুল ব্যাখ্যা করে ও লোকেদেরকে প্রতারিত করছে৷ এ কারণে আমি আমার প্রচার ও ধর্মোপদেশের মাধ্যমে প্রকাশিত বাক্য প্রচার করছি, এটা নিশ্চিত হতে যেন শেষ সময়ে আপনি সঠিক জ্ঞান ও বিশ্বাসের দ্বারা জীবন যাপন করতে পারেন৷ 

প্রকাশিত বাক্যের বাক্য কিছু অসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রকাশ করেছে৷ কিন্তু প্রকাশিত বাক্য তাদের জন্য কিছু প্রকাশ করে নি, যারা ঈশ্বরের গুপ্ত মান্না খেতে পারে নি এবং যাদের হৃদয়ে পবিত্র আত্মা নেই৷ শেষ সময়ের রূপান্তরের চিহ্ন হতে প্রত্যেক খ্রীষ্টিয়ানের প্রত্যাশা নুতন আকাশ ও নুতন পৃথিবীর, যার একটা অতিরিক্ত তাত্পর্যপূর্ণ সংকল্প প্রকাশিত বাক্যে লিখিত আছে৷ কিন্তু ঈশ্বরের বিজ্ঞতা যা তাঁর গোপনীয় বিষয় কারো কাছে প্রকাশ করে নি, প্রকাশিত বাক্য একটি কঠিন বিষয়, যা সকলে বুঝতে পারে না৷ কেউই না, কিন্তু যারা ঈশ্বরের দত্ত মান্না খেয়েছে এবং জল ও আত্মা হতে নুতন জন্ম প্রাপ্ত যাদের নাম শ্বেত-প্রস্থরে লেখা হয়েছে এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে জয় লাভ করেছে, কেবল তারাই প্রকাশিত বাক্য বুঝতে সক্ষম৷

এই কারণে যারা নুতন জন্ম লাভ না করে, প্রাক-ক্লেশের বা ক্লেশ-পরবর্তী রূপান্তরের কথা বলে, তারা অজ্ঞতায় বলে, এমনকি এখনও আমরা অনেকে সহস্রাব্দের রাজত্বকে কেবল চিহ্নমাত্র বলে দাবি করি৷ ঈশ্বরের বাক্য সত্য এবং এই বাক্য পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করে যে, মহাক্লেশ ব্যতীত রূপান্তর হতে পারে না৷ এই বাক্য আমাদেরকে বলে যে, সাধুগণের সাক্ষ্যমরের মৃত্যু এবং তাদের পুনরুত্থানের পরে, সাত বছরের মহাক্লেশের মাঝামাঝি সময়ের সামান্য অতিক্রমের পর রূপান্তর ঘটবে৷ 

প্রতিদিনের জীবন-যাপন চলতে থাকবে এমন সময়ে হটাৎ পাইলটগণ অদৃশ্য হয়ে যাবে বা খাবার টেবিল থেকে মা অদৃশ্য হয়ে যাবে, আমি এটা বিনয়ের সাথেই বলতে চাই যে, এমন ঘটনা ঘটবে না৷ বরং রূপান্তর ঘটবে তখন, যখন পৃথিবীতে আকস্মিক দুর্বিপাক নেমে আসবে, ভূমিকম্প পৃথিবীকে ধ্বংস করবে, আকাশ থেকে তারাগুলো খসে পড়বে এবং পৃথিবী টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙ্গে পড়বে৷ অন্য কথায় বলা যায় যে, রৌদ্রচ্ছল আনন্দঘন দিনে রূপান্তর ঘটবে না৷

তারাগুলো এখনও পতিত হয় নি, পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ এখনও পর্যন্ত দগ্ধ হয় নি এবং সমুদ্র এখনও পর্যন্ত রক্তে পরিনত হয় নি৷ এর দ্বারা আমি কি বলতে চাইছি? আমি বলতে চাইছি যে এখনও পর্যন্ত রূপান্তরের সময় আসে নি৷ ঈশ্বর আমাদেরকে বলেন যে, রূপান্তর আসার পূর্বে যেন আমরা বুঝতে পারি, সেইজন্য ঈশ্বর আমাদেরকে সেই চিহ্ন বা লক্ষণসমূহ দেবেন৷ এই লক্ষণসমূহ হচ্ছে ধ্বংসের চিহ্ন যা পৃথিবীতে পড়বে – সমুদ্রের এবং নদনদীর এক-তৃতীয়াংশ রক্তে পরিণত হবে এবং এক-তৃতীয়াংশ বনজঙ্গল অগ্নি দগ্ধ হবে, তারা খসে পড়বে, জল পানের অযোগ্য হবে এবং এইরূপে সমস্ত কিছু ঘটবে৷ 

পৃথিবী যখন এইভাবে মহা দুর্দশায় নিমজ্জিত হবে, খ্রীষ্টারী তখন সব কিছু একটা নিয়মের মধ্যে আনতে চাইবে, প্রথমত পৃথিবীর অসাধারণ নেতার মত তার উত্থান হবে, সে আত্মিক শাসকের রূপ ধারণ করবে, সে তার অসীম ক্ষমতাবলে পৃথিবীর উপর কর্তৃত্ব করবে৷ বাইবেল আমাদেরকে বলে যে, এটাই সেই সময়, যখন খ্রীষ্টারী সমস্ত পৃথিবীর উপর তার নিপীড়নমূলক শাসন চালাবে, আর প্রভু তাঁর সাধুগণকে তুলে নিতে এই পৃথিবীতে আসবেন৷ যতক্ষণ পর্যন্ত না প্রাকৃতিক মহাধ্বংস যজ্ঞ না ঘটবে এবং খ্রীষ্টারীর উত্থান না ঘটবে, তার আগে রূপান্তর ঘটবে না৷

অন্য কথায়, কেউ যদি তার কাজ কর্ম বন্ধ করে, স্কুল যাওয়া বন্ধ করে এবং তাদের জীবনযাপনের সমস্ত কিছু করা সম্পূর্ণরূপে বিরত রাখে আর মনে করে যে, তারা ত রূপান্তরিত হবে, এমনকি যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের কাছে ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাত চিহ্নসমূহ বাস্তবায়িত না হবে, তার পূর্বে এটা চিন্তা করা ভুল হবে৷ শয়তানের মিথ্যা ফাঁদে পতিত হবার জন্য আপনি অবশ্যই এই পথে প্রতারিত হবেন না৷

যে সমস্ত ভ্রান্ত শিক্ষা আমাদেরকে ফাঁদে ফেলার জন্য আরোপিত হয়েছে, আমরা অবশ্যই এই সব কিছুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব এবং জয়ী হব৷ কেবলমাত্র যে বিশ্বাস ভ্রান্ত শিক্ষার বিরুদ্ধে বিজয়োল্লাস করতে পারে, তা হল, জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস৷ কেবলমাত্র যারা যীশুর বাপ্তিস্মে বিশ্বাস করে যে, বাপ্তিস্ম তাদের সমস্ত পাপ তুলে নিয়েছে, তারাই পাপের এই ধারা থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়েছে৷ কেননা যীশু তাঁর নিজের উপর আমাদের সমস্ত পাপ বহন করেছেন৷ আর এইজন্য তিনি তাঁর নিজের রক্ত দ্বারা আমাদেরকে ক্রয় করেছেন যা আমাদের সমস্ত পাপ ধৌত করেছে৷ কেবল বিশ্বাস এবং বিশ্বাসের দ্বারাই প্রভু আমাদের জন্য এই সকল কিছুই সম্পন্ন করেছেন, আমরা কেবলমাত্র এই বিশ্বাসের দ্বারা তাঁর প্রকৃত পরিত্রাণ গ্রহণ করেছি৷ যারা এখনই এই বাক্য বিশ্বাস করবে, তারা ঈশ্বরের সন্তান হবে, এবং ঈশ্বর তাদের জন্য যে সংকল্প স্থির করেছেন, তারা সেই সমস্ত সংকল্পের জন্য বিজয়োল্লাস করবে৷

অপরদিকে, মিথ্যাবাদীদের জন্য একটা বিষয় অপেক্ষা করছে যে, যারা যীশুকে বিশ্বাস করে বলে দাবী করে, আর এখনও তাদের হৃদয়ে পাপ আছে, এবং যারা প্রভুর সেবার মধ্যে কেবল তাদের নিজেদের লোভ লালসার সন্ধান করে, তারা একত্রে শয়তানের সাথে শাস্তি ভোগ করবে৷ এই কারণে আমাদের জল ও আত্মার সুসমাচার এত মূল্যবান৷ কেবলমাত্র যারা এটা বুঝতে পারে এবং কোন সুসমাচারটি সত্য বা কোনটি মিথ্যা তা উপলব্ধি করতে পারে, তারা ঈশ্বরের গুপ্ত মান্না খেতে পারে, শেষে সমস্ত মিথ্যাকে জয় করতে পারে এবং সহস্রাব্দের রাজ্যে নুতন আকাশ ও নুতন পৃথিবীতে প্রবেশ করতে পারে৷ বাক্য পড়ুন এবং নিজের জন্য দেখুন, কোনটি প্রকৃত সত্য, যা আপনাকে রক্ষা করতে পারে, আপনাকে নিশ্চয়তা ও অনন্ত জীবনে প্রবেশের নিশ্চয়তা দিতে পারে৷ এতে বিশ্বাস করুন এবং অনুভব করার চেষ্টা করুন৷ এটাই বিজয়ী জীবন৷

আত্মিক যুদ্ধে বিজয়, আমাদের জন্য অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এই যুদ্ধে পরাজয় মানে সাধারণ পরাজয় নয়, বরং এর অর্থ নরকে যেতে বাধ্য হওয়া৷ হয়তো সাধারণ যুদ্ধে আমরা পরাজয়কে পুষিয়ে নিতে সক্ষম হব, কিন্তু বিশ্বাসের যুদ্ধে পুষিয়ে নেবার কোনো সুযোগ নেই৷ সুতরাং আপনাকে অবশ্যই সত্য এবং আপনার নিজস্ব ভাবনা, আপনার মাংসের কামনা বাসনা এবং ভ্রান্ত শিক্ষকদের মিথ্যার’র মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ে সক্ষম হতে হবে এবং এমতাবস্থায় আপনি অবশ্যই বাক্যের আলোতে প্রকৃত জ্ঞানের পূর্ণতার দ্বারা শেষ সময়ের নিমিত্ত আপনার বিশ্বাসকে প্রস্তুত করতে পারবেন৷ 

ঈশ্বর সপ্ত বাটি ও সপ্ত তুরীর মহামারী প্রস্তুত করেছেন এবং তিনি আমাদের নিমিত্ত মহাক্লেশ ধার্য করেছেন৷ পৃথিবী যখন অবর্ণনীয় প্রাকৃতিক ধ্বংস যজ্ঞের দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হবে অগ্নি ছড়িয়ে পড়বে, তারাগুলো খসে পড়বে, সমুদ্র, নদ-নদী রক্তে পরিনত হবে- খ্রীষ্টারীর উত্থান হবে এবং এই সমস্ত চিহ্ন বা লক্ষণ দেখে আপনাকে বুঝতে হবে যে, সাত বছরের মহাক্লেশের সময় আরম্ভ হয়েছে৷ যখন শেষ সপ্ত তুরী বাজবে, তার পূর্বে সপ্ত বাটির মহামারী ছেড়ে দেওয়া হবে, সপ্ত তুরীর মহামারী শেষ হওয়ার পরে সাক্ষ্যমরের মৃত্যু, পুনরুত্থান এবং সাধুগণের রূপান্তর ঘটবে৷ 

ঈশ্বর যখন চতুর্থ মুদ্রা খুলবেন, তখন খ্রীষ্টারী সাধুগণের বিশ্বাস হরণ করার চেষ্টা করবে৷ এই সময়ে যাদের নাম জীবন-পুস্তকে পাওয়া যাবে অর্থাৎ যারা নুতন জন্ম প্রাপ্ত হয়ে মান্না খেয়েছে এবং যাদের নাম শ্বেত-প্রস্থরে লেখা থাকবে, তারা সাহসের সাথে সাক্ষ্যমর হবে৷ এটাই সর্বশেষ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী বিশ্বাস, যার দ্বারা প্রভু গৌরাবন্বিত হবেন৷ এটা সেই সাহসী বিশ্বাস যা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস থেকে অর্জন করা যায়৷ সংক্ষেপে বলতে গেলে, এই বিশ্বাস দ্বারা আমরা আত্মিক যুদ্ধে বিজয়ী হতে পারব৷

আমরা অবশ্যই সমস্ত শক্তি দিয়ে আমাদের মন্দ বিষয় বা প্রতিপক্ষকে জয় করব৷ নুতন জন্ম লাভ করে আমরা অবশ্যই মিথ্যাবাদীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করব ও জয়ী হব৷ এরূপ করলে আমরা অবশ্যই বিজয়ী জীবনে বাস করব, যা ঈশ্বরের মান্নায় পরিপূর্ণ এবং শেষ পর্যন্ত আমরা প্রভুর বাক্য প্রচার করব৷ যারা জয় করবে, ঈশ্বর তাদেরকে তাঁর গৌরব ও আশীর্বাদ দান করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন৷ এই বিশ্বাস বিশ্বাসীদের জন্য অনেক বড় প্রত্যাশা যে, তারা ঈশ্বর কর্ত্তৃক উর্দ্ধে নীত হবে এবং সহস্রাব্দের রাজত্বের জন্য দৃঢ় প্রত্যয় এবং নুতন আকাশ ও নুতন পৃথিবী – এ সমস্ত কিছুতে তাদেরকে অনুমতি দেওয়া হবে যারা ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস হেতু সমস্ত মিথ্যার বিরুদ্ধে বিজয়ের দ্বারা ঈশ্বরের গুপ্ত মান্না গ্রহণ করেছে৷

প্রকৃত সত্য যারা জানবে, তারা সব কিছুর বিনিময়ে তা কিনবে এবং সেই সত্য রক্ষা করার জন্য তারা সব ধরনের ত্যাগস্বীকার করতে প্রস্তুত থাকবে৷ কারণ এই ত্যাগস্বীকার দুঃখের বিষয় তো হবেই না, বরং আমাদের জন্য তা মহা আনন্দের বিষয় হবে৷ কারণ শেষ পর্যন্ত আমরা এমন অমূল্য ধন পাব যে, যা রক্ষা করার জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করতেও আমরা প্রস্তুত থাকব৷

আমার প্রত্যাশা ও প্রার্থনা এই যে, সহস্রাব্দের রাজত্ব, নুতন আকাশ ও নুতন পৃথিবীর প্রত্যাশা যেন আপনার হৃদয়ে সর্বদা জাগ্রত থাকে৷ যেন এই প্রত্যাশায় আপনি সমস্ত দুঃখ-দুর্দশাকে জয় করতে পারেন এবং শেষ পর্যন্ত মহা গৌরব ও আনন্দে আপনি জয়ী হতে পারেন৷