Sermons

[11-2] < প্রকাশিত বাক্য ১১:১-১৯ > ইস্রায়েলের লোকেদের পরিত্রাণ



< প্রকাশিত বাক্য ১১:১-১৯ >

 

ঈশ্বর কেন ইস্রায়েলীয়দের জন্য দুইজন ভাববাদী পাঠাবেন? ঈশ্বর স্বতন্ত্রভাবে ইস্রায়েলীয়দেরকে রক্ষা করতে এরূপ করবেন৷ মূল অনুচ্ছেদ আমাদেরকে বলে যে, ঈশ্বর ১২৬০ দিন যাবৎ দুই সাক্ষীকে দিয়ে ভাববাণী বলাবেন৷ ইস্রায়েলীয়দেরকে শেষ সময়ে রক্ষার নিমিত্ত এটা করা হবে৷ এছাড়া ঈশ্বরের এইভাবে ইস্রায়েলীয়দেরকে রক্ষা করার অর্থ হল, পৃথিবীর শেষ সময় আসন্ন৷

দুই পদে বলা হয়েছে, “কিন্তু মন্দিরের বহিঃস্থিত প্রাঙ্গণ বাদ দেও, তাহা পরিমাণ করিও না, কারণ তাহা জাতিগণকে দত্ত হইয়াছে; বিয়াল্লিশ মাস পর্য্যন্ত তাহারা পবিত্র নগরকে পদতলে দলন করিবে।” এর অর্থ হল যে, পরজাতিয়দের উপরে ভীষণ ভয়ঙ্কর মারী আসবে, যখন সাত বছরের সময়ের মহাক্লেশ শুরু হবে এবং ক্রমান্বয়ে মহা বিভ্রান্তি এবং মারী উপস্থিত হবে, তখন পরজাতিয়দের মধ্যে যারা সুসমাচার শুনবে এবং বিশ্বাস করবে, তারা সাক্ষ্যমর হবে, তাছাড়া ঈশ্বর ইস্রায়েলীয়দের জন্য দুই ভাববাদী উঠাবেন, তাদেরকে দিয়ে সাক্ষ্য প্রদান করাবেন যে, যীশুই ঈশ্বর এবং ত্রাণকর্তা, আর এভাবে ইস্রায়েলীয়দেরকে রক্ষা করবেন৷ এই বাক্য আমাদের বলে যে, এগুলো তাঁর আগমনের নিমিত্ত ঈশ্বরের কাজ৷

আমরা অবশ্যই এই বাক্য তাদেরকে শিক্ষা দেব, যারা শয়তান দ্বারা প্রতারিত হচ্ছে, এবং যারা দাবি করে যে, শেষ সময়ের দুই জিতবৃক্ষ তাদের সম্প্রদায়ের নেতা বা শেষ সময়ে এলিয় ভাববাদী, যিনি তাদের প্রতিষ্ঠাতারূপে ভাববাণী বলেছেন৷ যখনই জাগতিক মন্ডলীগুলো প্রকাশিত বাক্যের বিষয়ে কথা বলে, তারা এই অনুচ্ছেদের দুই জিতবৃক্ষের উপরে আলোচনাটাই সবথেকে বেশী কাজে লাগায়৷ সমস্ত লোকেই বিরুদ্ধ ধর্মামতালম্বীদের ধর্মকর্ম পদ্ধতি দ্বারা প্রতারিত হয়, যাদের দ্বারা অনেক আগে আমিও একবার প্রতারিত হয়েছিলাম, কেউ কখনও এরূপ অদ্ভুত দাবী করতে ব্যর্থ হয় না যে, তার (নারী/পুরুষ) ধর্মরীতির নেতা এখানে উল্লিখিত দুই জিতবৃক্ষ৷ আমি যেটা জানি যে, প্রত্যেক বিরুদ্ধ ধর্মমতালম্বী শেষ পর্যন্ত এরূপ দাবী উত্তোলন করবে৷

কিন্তু এই বিরুদ্ধ ধর্মমতালম্বী ব্যক্তিরা যেটা দাবি করে প্রকাশিত বাক্যে এই দুই জিতবৃক্ষ এবং দুই দীপবৃক্ষ তা নয়৷ ঈশ্বর ইস্রায়েলীয়দের রক্ষার্থে দুই ভাববাদী উঠাবেন এবং এই দুই জিতবৃক্ষ সত্যিই সেটা নির্দেশ করে৷

ঈশ্বর কিভাবে ইস্রায়েলীয় লোকদেরকে রক্ষা করবেন ১১ অধ্যায়ে তা বিস্তারিতভাবে আমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়েছে৷ রোমীয় পুস্তকের ন্যায় প্রকাশিত বাক্যে পুস্তকের প্রতিটি অধ্যায়ের একটি বিশেষ বিষয়বস্তু রয়েছে৷ একমাত্র এই বিষয়বস্তু জানার দ্বারা আমরা বুঝতে পারি যে, এই অধ্যায়ের সমস্ত বিষয়গুলি কি সম্পর্কে৷ পরজাতিরা বিয়াল্লিস মাস পর্যন্ত পবিত্র নগরীতে পদতলে দলিত করবে, এই বাক্য পড়ে এবং এর বিষয়বস্তু না জেনে অনেকে দাবী করে যে, পরজাতিদের যুগ পার হয়ে যাবে এবং পরিবর্তে ইস্রায়েলীয়দের পরিত্রাণের যুগ উন্মুক্ত হবে এবং এভাবে তখন থেকেই ইস্রায়েলীয়রা রক্ষা পাবে৷

কিন্তু এটা সত্য থেকে অনেক দুরে৷ ৭ অধ্যায়ে বলা হয়েছে বহু সংখ্যক লোক মহাক্লেশের সময় রক্ষা পাবে অর্থাৎ শুধু ইস্রায়েলীয়রা নয়, মহাক্লেশের সময় পরজাতি এবং ইস্রায়েলীয় উভয়েই রক্ষা পাবে৷ এইরূপে ১১ অধ্যায়ে আমাদেরকে যা বলা হয়েছে তা হল, এভাবে ঈশ্বর শেষ সময়ে ইস্রায়েলীয়দেরকে রক্ষা করতে একজন ভাববাদী উঠাবেন, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, পরজাতিরা আর রক্ষা পাবে না৷

তাহলে কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করবে, “সাত অধ্যায়ে আমাদেরকে যেরূপ বলা হয়েছে, ঈশ্বর কর্তৃক মুদ্রাঙ্কিত ১৪৪,০০০ সংখ্যক ইস্রায়েলীয় কি ইতিমধ্যে রক্ষা পায় নি?” মুদ্রাঙ্কিত হওয়া এবং রক্ষা পাওয়া এক নয়৷ এমন কেউ নেই যে, যীশু খ্রীষ্টে গমনাগমন ব্যতীত রক্ষা পেতে পারে৷ শুধুমাত্র এটা বিশ্বাসের দ্বারা পরিত্রাণ উপস্থিত হয় যে, যীশু খ্রীষ্ট এই পৃথিবীতে আসার দ্বারা, আমাদের সমস্ত পাপের ভার গ্রহণ করতে বাপ্তাইজিত হওয়ার দ্বারা, এই পৃথিবীর সমস্ত পাপ ক্রুশে বহণ এবং ক্রুশীয় মৃত্যুর দ্বারা এবং মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হওয়ার দ্বারা আমাদের ত্রাণকর্তা হয়েছেন৷

যদিও আমরা জানি যে, মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত আমরা পাপ করতে বাধ্য, তত্স্বত্তেও, যীশু খ্রীষ্ট আমাদের সমস্ত পাপ মুছে দিয়েছেন এবং এভাবে আমাদের ত্রাণকর্তা হয়েছেন, এটা বিশ্বাসের দ্বারা আমরা রক্ষা পেয়েছি৷ যেখানে ১৪৪,০০০ ইস্রায়েলীয় মুদ্রাঙ্কিত হয়েছে, সেখানে ঈশ্বর আরো দুই ভাববাদী তুলবেন এবং তাদের মাধ্যমে ইস্রায়েলীয়দের কাছে তাঁর সুসমাচার প্রচার করবেন৷ অন্যকথায়, বাক্য আমাদেরকে যা বলে, তা হল, দুই ভাববাদী ইস্রায়েলীয়দের কাছে সুসমাচার প্রচার করেছে, এবং তাদের ১৪৪,০০০ জন এভাবে রক্ষা পেয়েছে৷

বাইবেল কখনও কুসংস্কারাচ্ছন্ন এবং পক্ষপাতমূলক নয়৷ এমন কেউ নেই যে যীশু খ্রীষ্টের মধ্য দিয়ে গমনাগমন ব্যতীত রক্ষা পেতে পারে৷ ঈশ্বর বলেন নি যে, যীশু খ্রীষ্টের মধ্য দিয়ে গমনাগমন ব্যতীত “তোমরা রক্ষা পাবে, কিন্তু গমনাগমন না করলে রক্ষা পাবে না৷”

মূল অনুচ্ছেদে উল্লিখিত দুই ভাববাদী, যারা দুই জিতবৃক্ষ, তারা গলগাথা নামক স্থানে হত হবেন৷ তাদের মৃত দেহ কবর না দিয়ে বাইরে ফেলে রাখা হবে এবং যারা যীশুকে বিশ্বাস বা গ্রহণ করবে না, তারা তাদের মৃত্যুতে আনন্দ করবে এবং একে অপরকে উপঢৌকন পাঠাবে৷ কিন্তু ১১ ও ১৩ পদে আমাদেরকে বলা হয়েছে, “পরে সেই সাড়ে তিন দিন গত হইলে, ঈশ্বর হইতে জীবনের নিশ্বাস তাঁহাদের মধ্যে প্রবেশ করিল, তাহাতে তাঁহারা চরণে ভর দিয়া দাঁড়াইলেন, এবং যাহারা তাঁহাদিগকে দেখিল, তাহারা অতিশয় ত্রাসযুক্ত হইল। পরে তাঁহারা শুনিলেন, স্বর্গ হইতে তাঁহাদের প্রতি এই উচ্চ রব হইতেছে, এই স্থানে উঠিয়া আইস; তখন তাঁহারা মেঘযোগে স্বর্গে উঠিয়া গেলেন, এবং তাঁহাদের শত্রুগণ তাঁহাদিগকে দেখিল।”

এই বাক্য অকপটভাবে আমাদেরকে বলে যে, আমরা- অর্থাৎ আপনি এবং আমি, আমরা পরজাতিয়েরা, যখন সময় আসবে আমরাও বিশ্বাসের দ্বারা সাক্ষ্যমর হব, এবং সাক্ষ্যমরের মৃত্যুর পরে দ্রুত আমাদের পুনরুত্থান এবং রূপান্তর আসবে৷ এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত বাক্যের পুস্তকের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে৷ অনুচ্ছেদটি এছাড়াও আমাদের বলে যে, যখন সপ্তবাটির মহামারী এই পৃথিবীর উপর প্রবাহিত হবে, তখন রূপান্তরিত সাধুগণ স্বর্গে প্রশংসা করতে থাকবে৷

এছাড়া ১৪ অধ্যায়ে বলা হয়েছে, যে ১৪৪,০০০ লোক রক্ষা পেয়েছিলতারা একটি গীতের মাধ্যমে ঈশ্বরের প্রশংসা করছিল যা অন্য কেউ নয়, কিন্তু পবিত্রগণের প্রথম ফলগুলিই সেই গীত গাইতে পারে৷ আমাদেরকে যা বলা হয়েছে তা হল, ইস্রায়েলীয়রা যখন রক্ষা পেয়েছে তখন তারা যত্রতত্র সাক্ষ্যমর হবে এবং তাদের সাক্ষ্যমরের মৃত্যুর পর দ্রুত তাদের পুনরুত্থান এবং রূপান্তর হবে৷

পরজাতিয়দেরকেও একইভাবে সংশ্লিষ্ট করা হবে৷ শেষ সময়ে আপনি এবং আমি সপ্ততুরীর মহামারীর অনেক কঠিন অবস্থার মধ্যে দিয়ে গমন করব, কিন্তু ঈশ্বর নিজেই আমাদেরকে এই সমস্ত মারী থেকে রক্ষা করবেন৷ প্রথম সাড়ে তিন বছর অতিক্রমের মধ্য দিয়ে যখন সাত বছরের মহাক্লেশের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছাবে, সাধুগণের যন্ত্রনাও চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে৷ কিন্তু এই চরম যন্ত্রণা কেবলমাত্র অল্পক্ষণ স্থায়ী হবে৷ ঈশ্বরের বহু সাধু এবং দাস দ্রুত সাক্ষ্যমর হবে এবং তাদের সাক্ষ্যমরের পর দ্রুত তাদের রূপান্তর আসবে৷

কেন? কেননা প্রকাশিত বাক্যে বারংবার লিখিত আছে যে, পৃথিবীর উপরে সপ্তবাটির মহামারী চলাকালে সাধুগণ স্বর্গে বসে ঈশ্বরের প্রশংসা করতে থাকবে৷ বাক্যে এটা অদ্ভুতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে৷

প্রকাশিত বাক্যে ১০:৭ পদে বলা হয়েছে, “কিন্তু সপ্তম দূতের ধ্বনির দিনসমূহে, যখন তিনি তূরী বাজাইতে উদ্যত হইবেন, তখন ঈশ্বরের নিগূঢ়তত্ত্ব সমাপ্ত হইবে, যেমন তিনি আপন দাস ভাববাদিগণকে এই মঙ্গলবার্ত্তা জানাইয়াছিলেন।” এখানে বলা হচ্ছে যে, রূপান্তরের নিগূঢ়তত্ত্ব ঈশ্বর ব্যতীত অন্য কারো কাছে নেই৷ ১ থিষলনীকীয় ৪: ১৬ পদে পৌল আমাদেরকে আরো বলেছেন যে, “কারণ প্রভু স্বয়ং আনন্দধ্বনি সহ, প্রধান দূতের রব সহ, এবং ঈশ্বরের তূরীবাদ্য সহ স্বর্গ হইতে নামিয়া আসিবেন, আর যাহারা খ্রীষ্টে মরিয়াছে, তাহারা প্রথমে উঠিবে।”

যাহোক,ঈশ্বর স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে নেমে আসবেন, এর অর্থ এই নয় যে, তিনি অবিলম্বে পৃথিবীতে নেমে আসবেন৷ স্বর্গ থেকে তিনি আকাশে নেমে আসবেন এবং যখন প্রথম পুনরুত্থান ও নুতন জন্ম প্রাপ্ত ও নিদ্রিতদের উত্থান ঘটবে, এবং তখন সাধুগণের সাথে দূর আকাশে তারা প্রভুর সাথে মিলিত হবে৷ মধ্যাকাশে মেষশাবকের বিবাহভোজের পরে এই পৃথিবী সপ্তবাটির মহামারীর দ্বারা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে, অতঃপর ঈশ্বর আমাদের সাথে নুতন পৃথিবীতে নেমে আসবেন এবং তখনও যারা জীবিত থাকবে, তিনি তাদের সম্মুখে আবির্ভূত হবেন৷

প্রকাশিত বাক্যের ব্যাখ্যা এবং বাইবেলের উপস্থাপন কেউ নিজের ব্যক্তিগত মতামত অনুযায়ী করার অর্থ ধ্বংসের পথে পরিচালিত হওয়া৷ কোনো ধর্ম শিক্ষাবিদদের দ্বারা প্রবর্তিত খাঁটি প্রকল্পিত বিষয়ে বিশ্বাস করা এবং বাক্য সম্পূর্ণরূপে বুঝতে পারা ব্যতীত তা সমর্থন করা স্বভাবিকভাবেই ভুল৷

রক্ষনশীল খ্রীষ্টিয়ান সমাজের কিছু সম্মানীয় ও খ্যাতিমান ধর্মশিক্ষাবিদ রয়েছে, যারা এল বার্কহফ এবং আব্রাহাম কুইপারের ন্যায় সহস্রাব্দবাদ প্রচারের দায়িত্ব গ্রহণ করে থাকে৷ প্রাক-ক্লেশের রূপান্তর, ক্লেশ-পরবর্তী রূপান্তর এবং সহস্রাব্দবাদ, এইসব তত্ত্বের মধ্যে সহস্রাব্দবাদের শেষ মতবাদে বিশ্বাস করা আর বাইবেলকে বিশ্বাস না করা একই কথা৷

যে সময়টাতে লোকেরা ক্লেশ-পরবর্তী রূপান্তরে বিশ্বাস করবে, সে সময় এখন পার হয়ে যাচ্ছে, এবং এই সমস্ত দিনে লোকেরা প্রত্যেকে প্রাক-ক্লেশের রূপান্তরে বিশ্বাস করছে৷ কিন্তু এই তত্ত্বও বাইবেল সম্মত নয়৷ যখনই তারা প্রাক-ক্লেশের রূপান্তরের বিষয়ে বলছে তখনই লোকেরা এটাকে খুব পছন্দ করছে৷ কেন? কেননা প্রাক-ক্লেশের রূপান্তরের তত্ত্ব অনুসারে খ্রীষ্টিয়ানদের সাত বছরের মহাক্লেশের সমন্ধে দুঃখ করার কিছু নেই৷

এইরূপে বিশ্বাসীগণ বিশ্বাসী জীবনযাপনের জন্য এই মতবাদ ক্রমশ গ্রহনীয় হয়ে উঠছে, যেটা না ঠান্ডা না গরম, এবং মন্ডলী তাদের জনসমাগমের পরিধি বৃদ্ধি করতে উদ্বিগ্ন৷ লোকেদের বিশ্বাস এভাবে শিথিলতর হয়, কেননা তারা ভাবে যে, মহাক্লেশের মধ্য দিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, বস্তুতঃ শেষকাল নিকটবর্তী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন তাদের বিশ্বাস অবশ্যই শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন, ঠিক তখনই তাদের বিশ্বাস ক্রমশ শিথিল ও লজ্জাজনক হয়ে যাবে৷ লোকেরা অনেক আগে সহস্রাব্দবাদে বিশ্বাস করত, অতঃপর লোকেরা এক সময় ক্লেশ-পরবর্তী রূপান্তরে বিশ্বাস করল এবং বর্তমানে তারা প্রাক-ক্লেশের রূপান্তরের তত্ত্বে বিশ্বাস করছে৷

১৮৩০ দশকে Moody Bible Institute এর একজন প্রফেসর রেভাঃ স্কফিল্ড তার নির্দেশিত বাইবেল লিখতে আরম্ভ করলেন৷ স্কফিল্ড, ডারবাই নামক একজন বিশ্ববিখ্যাত ধর্মতত্ত্ববিদ কর্তৃক প্রচন্ডভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন৷

ডারবাই ছিলেন স্কফিল্ড-এর আত্মিক পরামর্শদাতা, যিনি পূর্বে একজন ক্যাথলিক যাজক এবং উচ্চ বুদ্ধিমত্তা এবং বিস্তর জ্ঞানসম্মত ব্যক্তি ছিলেন৷ ক্যাথলিক মন্ডলীর প্রতারণা বুঝতে পারার পরে তিনি সেটি ত্যাগ করলেন এবং ছোট একটি খ্রীষ্টীয় সংস্থাতে যোগ দিলেন এবং ক্রমান্বয়ে সেটার নেতা হলেন৷ যদিও তিনি অবিরাম বাইবেল পড়তেন এবং অনুশীলন করতেন, তথাপি তিনি প্রকাশিত বাক্য থেকে হৃদয়াঙ্গম করতে পারতেন না যে, রূপান্তর কি মহাক্লেশের পূর্বে নাকি পরে ঘটবে৷ সুতরাং এই বিষয়ের উপর আরো স্পষ্ট প্রমান খুঁজতে তিনি একটি ভ্রমনে গিয়েছিলেন

এই ভ্রমনকালে তিনি একজন যুবতীর সাথে সাক্ষাত করেছিলেন, যিনি একজন শল্য চিকিত্সক ছিলেন৷ মেয়েটি দাবি করেছিল যে, সে দর্শনের মাধ্যমে দেখে যে, মহাক্লেশের পূর্বেই রূপান্তর সংঘটিত হবে৷ সে তাকে যা বলেছিল তিনি তা বিশ্বাস ও গ্রহণ করেছিলেন এবং অতঃপর ডারবাই তার বাইবেল অনুশীলনের সাথে প্রাক-ক্লেশের রূপান্তর সংযুক্ত করেছিলেন, সেটা হল মহাক্লেশের পূর্বেই রূপান্তর আসবে৷

যাহোক, এই সময় লোকেরা প্রধানত ক্লেশ-পরবর্তী রূপান্তরের তত্ত্বে বিশ্বাস করছে, তখন ডারবাইয়ের প্রাক-ক্লেশের রূপান্তরের তত্ত্ব ভালোভাবে গ্রহণ হয়নি৷

ডারবাই দাবি করেন যে, প্রকাশিত বাক্যে ইস্রায়েলীয় লোকেদের পরিত্রাণ সম্পর্কে লেখা রয়েছে, এবং এটা পরজাতিয়দের পরিত্রাণের নিমিত্ত কোনো কাজেই লাগবে না৷ আর “তুমি আবার ভাববাণী বলিবে (১০:১১)” এর দ্বারা তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, এটা জল ও আত্মার সুসমাচারের মত নয়, কিন্তু স্বর্গরাজ্যের সুসমাচার যা এর আগমন প্রচার করে৷

স্কফিল্ড, যিনি ডারবাইয়ের ন্যায় এরূপ কল্পিত ধারণাগুলিকে গ্রহণ করে তার নির্দেশিত বাইবেলে প্রাক-ক্লেশের রূপান্তরের তত্ত্ব সম্পূর্ণরূপে একত্রিত করে সপ্তযুগের উপর নিজস্ব কল্পিত ধারণা সৃষ্টি করেছেন৷ স্কফিল্ডের এরূপ দাবি তার সময়ে চাহিদার সম্মুখীন হয়েছিল এবং সারা পৃথিবীতে ধার্মিকদের মধ্যে মহাআলোড়ন সৃষ্টির কারণে তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে যথোপযুক্ত হয়েছিল এবং সামগ্রিকভাবে গ্রহণীয় হয়েছিল৷

কিন্তু বাইবেলে ঈশ্বর কি বলেন? শাস্ত্রে আমরা দেখি যে, যীশু যিনি সপ্ত মুদ্রা দ্বারা তাঁর সপ্ত যুগের ঘটনা বিভাগ করেছেন, তিনি ঈশ্বরের সম্মুখে সপ্ত মুদ্রায় মুদ্রাঙ্কিত পুস্তকটি গ্রহণ করলেন এবং খুললেন৷

প্রথম যুগ হল শুক্লবর্ণ অশ্বের যুগ৷ এটা পরিত্রাণের যুগ, যে যুগে ঈশ্বর পৃথিবী ও মানুষ সৃষ্টি করেছিলেন এবং যথার্থ ক্ষণ থেকে আমাদেরকে রক্ষা করতে স্থির করেছিলেন৷ প্রকাশিত বাক্যে ৬:২ পদে আমাদেরকে যেভাবে বলা হয়েছে, “আমি দৃষ্টি করিলাম, আর দেখ, এক শুক্লবর্ণ অশ্ব, এবং তাহার উপরে যিনি বসিয়া আছেন, তিনি ধনুর্ধারী, ও তাঁহাকে এক মুকুট দত্ত হইল; এবং তিনি জয় করিতে করিতে ও জয় করিবার জন্য বাহির হইলেন।” প্রভু বিজয়োল্লাস করবেন এবং অবিরত বিজয়োল্লাস করতে থাকবেন৷ এমনকি সৃষ্টির পূর্বেও সুসমাচার ছিল এবং পরিত্রাণ শুরু হয়েছিল৷

দ্বিতীয় যুগ হল লোহিতবর্ণ অশ্বের যুগ৷ এই শয়তানের যুগে সে মানুষের মধ্যে থেকে শান্তি হরণ করবে, তাদেরকে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ করাবে, একে অপরকে ঘৃনা করতে প্রলুব্ধ করবে এবং ধর্মযুদ্ধে নিয়োজিত করবে৷

তৃতীয় যুগ হল কৃষ্ণবর্ণ অশ্বের যুগ, সে সময়টা শারীরিক এবং আত্মিক দুর্ভিক্ষের যুগ এবং চতুর্থ যুগ হল পান্ডুরবর্ণ অশ্বের যুগ, সাক্ষ্যমরের মৃত্যুর যুগ৷ পঞ্চম যুগ হল রূপান্তরের যুগ- ঈশ্বর তাঁর যুগগুলোর মধ্যে একটিতে সাধুগণের রূপান্তর নিরূপণ করেছেন৷ সপ্তযুগ হল সপ্তবাটির যুগ, পৃথিবীর অবসম্ভাবী ধ্বংসের যুগ, আর উক্ত যুগই হল সহস্রাব্দ-এর রাজ্য এবং নুতন আকাশ ও নুতন পৃথিবীর যুগ৷ এভাবেই ঈশ্বরের সপ্তমুদ্রায় মুদ্রাঙ্কিত পুস্তকের মধ্যে পৃথিবীর সময়কে সাতটি যুগে ভাগ করেছেন৷

স্কফিল্ড এই সময়ের সাতটি যুগকে ভাগ করেছিলেন তার নিজস্ব নিরূপিত সংকল্প অনুসারে৷ তুলনামূলকভাবে,প্রকাশিত বাক্য ৬ অধ্যায়ে ঈশ্বরের হস্তে ধারনকৃত পুস্তকের সপ্ত মুদ্রার মধ্য দিয়ে যে সপ্ত যুগের ভাববাণী বলা হয়েছে তা স্বয়ং ঈশ্বর কর্তৃক নিরূপিত৷ তথাপি লোকেরা মানুষের সৃষ্ট প্রাক-ক্লেশের রূপান্তরের কথা বলে এবং অনেকে এতে একমত হয়ে বিশ্বাস করে যে, প্রভুকে আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করার তাদের কোনো প্রয়োজন নেই৷

তারা তাদের হৃদয়ে সংকল্পবদ্ধ, “মহাক্লেশের পূর্বে আমরা যখন রূপান্তরিত হব, যখন সাত বছরের মহাক্লেশ আসবে এর পূর্বেই আমরা ঈশ্বরের সাথে থাকব৷ সুতরাং এ বিষয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই৷” ঈশ্বরের বাক্য কি আমাদের বলে যে, যেখানে মহাক্লেশের পূর্বে আমরা রূপান্তরিত হব সেখানে বাস্তবিকপক্ষে বিশ্বাসে প্রস্তুত হওয়ার আমাদের কোনো প্রয়োজনই নেই এবং বছরে দুই-একবার মন্ডলীতে উপস্থিত হওয়ায় যথেষ্ট৷ কিন্তু ঈশ্বর আমাদেরকে এটা বলেন নি৷

“তাঁহারা চটপরিহিত হইয়া এক সহস্র দুই শত ষাট দিন পর্য্যন্ত ভাববাণী বলিবেন।“, “বিয়াল্লিশ মাস পর্য্যন্ত তাহারা পবিত্র নগরকে পদতলে দলন করিবে।” ঈশ্বরের এরূপ বাক্য আমাদেরকে বলে যে, পরজাতিয়রাও মহাক্লেশের সময়ে রক্ষা পাবে৷ জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করতে ঈশ্বর তাঁর দুই ভাববাদিকে তুলবেন৷ যখন কষ্টের সময় আসবে তখন এমন কেউ নেই যে, ঈশ্বর নিরূপিত সাত বছর সময়ের মহাক্লেশের প্রথম সাড়ে তিন বছরের সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া ব্যতীত ঈশ্বরের সম্মুখে দাঁড়াতে পারে৷ ঈশ্বর আমাদেরকে আরো বলেছেন যে, এই সময় ক্লেশের মধ্য হতে অনেক সাক্ষ্যমর বেরিয়ে আসবে৷

যীশুকে বিশ্বাস করতে গেলে অবশ্যই তাঁকে যথাযতভাবে বাইবেল শিক্ষা করতে হবে এবং যেটা যথাযথভাবে ঠিক সেটিতে বিশ্বাস করতে হবে৷ বাইবেলের প্রতিটা পৃষ্ঠা পড়া ব্যতীত যদি লোকেরা যদি তাদের নিজেদের মত করে তাকে প্রচার ও বিশ্বাস করে, তাহলে বিরুদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ন্যায় তারাও ধ্বংস হয়ে যাবে৷ কেন পৃথিবীতে অসংখ্য সম্প্রদায় রয়েছে, তার একটা কারণও রয়েছে, তাহল অনেক লোক নিজেদের ব্যাখ্যার উপর ভিত্তি করে বাইবেল বিশ্বাস করে৷

আমাদেরকে বলা হয়েছে ইস্রায়েলীয়রা রক্ষা পাবে অর্থাৎ ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাত বাক্য অনুসারে তাঁর পরিকল্পনা পূর্ণ হবে৷ এছাড়া এই বাক্য আমাদেরকে আরো বলে যে, ঈশ্বর আমাদের কাছে বলা তাঁর প্রতিজ্ঞাত বাক্য কখনই ভঙ্গ করবেন না, বরং সেগুলো সমস্তই পূর্ণ করবেন৷ একারণেই আমাদের এরূপ মহা প্রত্যাশা৷

ইস্রায়েলের দুই ভাববাদী তাদের মৃত্যুর সাড়ে তিন বছর পরে পুনরুত্থিত হবে এবং স্বর্গে আরোহন করবে৷ এটাই রূপান্তর৷ সাক্ষ্যমরেরা কিভাবে রূপান্তরিত হবে এটা তার একটি নমুনা এবং এটা আমাদেরকে রূপান্তর পূর্ববর্তী ঘটনা হিসাবে দেখানো হয়েছে৷ বাইবেল আমাদেরকে বলে যে, সপ্ত তুরীধ্বনির পরে এই পৃথিবী খ্রীষ্টের রাজ্যে পরিণত হবে এবং তিনি অনন্তকাল তার উপরে রাজত্ব করবেন৷ সুতরাং যারা যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস করে তারাও তাঁর সাথে রাজত্ব করবে৷

সাধুগণের সাক্ষ্যমরত্ব লাভের পরে ঈশ্বর এই পৃথিবী সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করবেন৷ আমরা জানিনা পৃথিবী ১০০% ধ্বংস হবে কিনা, বাইবেলে এই বিষয়ে বিস্তারিত লেখা নেই, কিন্তু প্রকাশিত বাক্যে ১১:১৮ পদে ঈশ্বর আমাদেরকে বলেন, “আর জাতিগণ ক্রুদ্ধ হইয়াছিল, কিন্তু তোমার ক্রোধ উপস্থিত হইল, আর মৃত লোকদের বিচার করিবার সময় এবং তোমার দাস ভাববাদিগণকে ও পবিত্রগণকে ও যাহারা তোমার নাম ভয় করে, তাহাদের ক্ষুদ্র ও মহান সকলকে পুরস্কার দিবার, এবং পৃথিবীনাশকদিগকে নাশ করিবার সময় উপস্থিত হইল।”

মহাক্লেশের সাড়ে তিন বছরের ঠিক শেষভাগে কিংবা সাড়ে তিন বছরের ঠিক শুরুতে নয় কিন্তু সামান্য পার হলেই নিঃসন্দেহে অবশ্যই রূপান্তর আরম্ভ হবে৷ সাত বছরের সময়ের মধ্যবর্তী সময় হল যখন ক্লেশ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে৷ এটা সেই সময় যখন ইস্রায়েলীয় লোকেদের হাতে সাধুগণ সাক্ষ্যমর হবে এবং তার পরে শীঘ্রই রূপান্তর উপস্থিত হবে৷ যখন রূপান্তর সংঘটিত হবে তখন আমরা সবাই মধ্যাকাশে মেষশাবকের বিবাহভোজে অংশগ্রহণ করব৷ মথি ২৫ অধ্যায়ে যেভাবে আমাদেরকে বলা হয়েছে, যে সময়ে আমরা আকাশে মেষশাবকের বিবাহভোজে অংশগ্রহণ করব, সেই সময়ে পৃথিবীতে সপ্তবাটির মহামারী নেমে আসবে৷ আকাশে ঈশ্বরের প্রশংসা করতে করতে পৃথিবীতে যা কিছু ঘটছে সেগুলো আমরা দেখতে পাব, আমরা ঈশ্বরকে তাঁর সমস্ত অনুগ্রহের জন্য ধন্যবাদ জানাব৷

                  আমার প্রার্থনা ও প্রত্যাশা যে, আপনি প্রকাশিত বাক্যের মাধ্যমে কখন শেষ দিন আসবে সেটা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন, বাক্য সম্পূর্ণভাবে বুঝতে সক্ষম হবেন, বিশ্বাসের দ্বারা ধৈর্য্যসহকারে জীবনযাপন করতে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে সক্ষম হবেন৷ মেষশাবকের বিবাহভোজে অংশগ্রহণ করে তাঁকে প্রশংসা, সম্মান ও আরাধনা প্রদান করতে আপনাকে অবশ্যই আপনার বিশ্বাসকে প্রস্তুত করতে হবে৷

আমার প্রত্যাশা যে,প্রকাশিত বাক্য সেইদিনের বিষয়ে আপনাকে প্রধান সহায়কের প্রমান দেবে, আরেকটিবার আপনার হৃদয়কে স্মরণ করিয়ে দেবে যে, জল ও আত্মার সুসমাচারে আপনার বিশ্বাসের দ্বারা আপনাকে অবশ্যই ধৈর্য্যে এবং সত্যে জীবনযাপন করতে হবে৷