Sermons

[14-1] < প্রকাশিত বাক্য ১৪:১-২০ > পুনরুত্থিত এবং রূপান্তরিত সাক্ষ্যমরগণের প্রশংসা



< প্রকাশিত বাক্য ১৪:১-২০ >

পরে আমি দৃষ্টি করিলাম, আর দেখ, সেই মেষশাবক সিয়োন পর্ব্বতের উপরে দাঁড়াইয়া আছেন, এবং তাঁহার সহিত এক লক্ষ চোয়াল্লিশ সহস্র লোক, তাহাদের ললাটে তাঁহার নাম ও তাঁহার পিতার নাম লিখিত। পরে স্বর্গ হইতে বহু জলের কল্লোল ও মহামেঘধ্বনির ন্যায় রব শুনিলাম; যে রব শুনিলাম, তাহাতে বোধ হইল, যেন বীণাবাদকদল আপন আপন বীণা বাজাইতেছে; আর তাহারা সিংহাসনের সম্মুখে ও সেই চারি প্রাণীর ও প্রাচীনবর্গের সম্মুখে নূতন একটী গীত গান করে; পৃথিবী হইতে ক্রীত সেই এক লক্ষ চোয়াল্লিশ সহস্র লোক ব্যতিরেকে আর কেহ সেই গীত শিখিতে পারিল না। ইহারা রমণীদের সংসর্গে কলুষিত হয় নাই, কারণ ইহারা অমৈথুন। যে কোন স্থানে মেষশাবক গমন করেন, সেই স্থানে ইহারা তাঁহার অনুগামী হয়। ইহারা ঈশ্বরের ও মেষশাবকের নিমিত্ত অগ্রিমাংশ বলিয়া মনুষ্যদের মধ্য হইতে ক্রীত হইয়াছে। আর তাহাদের মুখে কোন মিথ্যা কথা পাওয়া যায় নাই; তাহারা নির্দ্দোষ। পরে আমি আর এক দূতকে দেখিলাম, তিনি আকাশের মধ্য পথে উড়িতেছেন, তাঁহার কাছে অনন্তকালীন সুসমাচার আছে, যেন তিনি পৃথিবী-নিবাসীদিগকে, প্রত্যেক জাতি ও বংশ ও ভাষা ও প্রজাবৃন্দকে, সুসমাচার জানান; তিনি উচ্চ রবে এই কথা কহিলেন, ঈশ্বরকে ভয় কর, ও তাঁহাকে গৌরব প্রদান কর, কেননা তাঁহার বিচার-সময় উপস্থিত; যিনি স্বর্গ, পৃথিবী, সমুদ্র ও জলের উনুই সকল উৎপন্ন করিয়াছেন, তাঁহার ভজনা কর। পরে তাঁহার পশ্চাৎ দ্বিতীয় এক দূত আসিলেন, তিনি কহিলেন, “পড়িল, পড়িল সেই মহতী বাবিল, যে সমস্ত জাতিকে আপনার বেশ্যাক্রিয়ার রোষমদিরা পান করাইয়াছে। পরে তৃতীয় এক দূত উহাঁদের পশ্চাৎ আসিলেন, তিনি উচ্চ রবে কহিলেন, যদি কেহ সেই পশু ও তাহার প্রতিমূর্ত্তির ভজনা করে, আর নিজ ললাটে কি হস্তে ছাব ধারণ করে, তবে সেই ব্যক্তিও ঈশ্বরের সেই “রোষ-মদিরা পান করিবে, যাহা তাঁহার কোপের পানপাত্রে অমিশ্রিতরূপে প্রস্তুত হইয়াছে; এবং পবিত্র দূতগণের সাক্ষাতে ও মেষশাবকের সাক্ষাতে “অগ্নিতে ও গন্ধকে যাতনা পাইবে। তাহাদের যাতনার ধূম যুগপর্য্যায়ের যুগে যুগে উঠে”; যাহারা সেই পশু ও তাহার প্রতিমূর্ত্তির ভজনা করে, এবং যে কেহ তাহার নামের ছাব ধারণ করে, তাহারা দিবাতে কি রাত্রিতে কখনও বিশ্রাম পায় না। এস্থলে সেই পবিত্রগণের ধৈর্য্য দেখা যায়, যাহারা ঈশ্বরের আজ্ঞা ও যীশুর বিশ্বাস পালন করে। পরে আমি স্বর্গ হইতে এই বাণী শুনিলাম, তুমি লিখ, ধন্য সেই মৃতেরা যাহারা এখন অবধি প্রভুতে মরে, হাঁ, আত্মা কহিতেছেন, তাহারা আপন আপন শ্রম হইতে বিশ্রাম পাইবে; কারন তাহাদের কার্য্য সকল তাহাদের সঙ্গে সঙ্গে চলে। আর আমি দৃষ্টি করিলাম, আর দেখ, শুভ্রবর্ণ একখানি মেঘ, সেই মেঘের উপরে মনুষ্যপুত্রের ন্যায় এক ব্যক্তি বসিয়া আছেন, তাঁহার মস্তকে সুবর্ণ মুকুট ও তাঁহার হস্তে একখানি তীক্ষ্ণ কাস্ত্যা। পরে মন্দির হইতে আর এক দূত বাহির হইয়া, যিনি মেঘের উপরে বসিয়া আছেন, তাঁহাকে উচ্চ রবে চীৎকার করিয়া কহিলেন, আপনার কাস্ত্যা লাগাউন, শস্য ছেদন করুন; কারণ শস্যচ্ছেদনের সময় আসিয়াছে; কেননা পৃথিবীর শস্য শুকাইয়া গেল। তাহাতে, যিনি মেঘের উপরে বসিয়া আছেন, তিনি আপন কাস্ত্যা পৃথিবীতে লাগাইলেন, ও পৃথিবীর শস্যচ্ছেদন করা হইল। পরে স্বর্গস্থ মন্দির হইতে আর এক দূত বাহির হইলেন; তাঁহারও হস্তে একখানি তীক্ষ্ণ কাস্ত্যা ছিল। আর যজ্ঞবেদি হইতে অন্য এক দূত বাহির হইলেন, তিনি অগ্নির উপরে কর্ত্তৃত্ববিশিষ্ট, তিনি ঐ তীক্ষ্ণ কাস্ত্যাধারী ব্যক্তিকে উচ্চ রবে এই কথা কহিলেন, তোমার তীক্ষ্ণ কাস্ত্যা লাগাও, পৃথিবীর দ্রাক্ষালতার গুচ্ছ সকল ছেদন কর, কেননা তাহার ফল পাকিয়াছে। তাহাতে ঐ দূত পৃথিবীতে আপন কাস্ত্যা লাগাইয়া পৃথিবীর দ্রাক্ষা-গুচ্ছ ছেদন করিলেন, আর ঈশ্বরের রোষের মহাকুণ্ডে নিক্ষেপ করিলেন। পরে নগরের বাহিরে ঐ কুণ্ডে তাহা দলন করা গেল, তাহাতে কুণ্ড হইতে রক্ত বাহির হইল, এবং অশ্বগণের বল্‌গা পর্য্যন্ত উঠিয়া এক সহস্র ছয় শত তীর ব্যাপ্ত হইল।” 



টীকা


পদ ১: "পরে আমি দৃষ্টি করিলাম, আর দেখ, সেই মেষশাবক সিয়োন পর্ব্বতের উপরে দাঁড়াইয়া আছেন, এবং তাঁহার সহিত এক লক্ষ চোয়াল্লিশ সহস্র লোক, তাহাদের ললাটে তাঁহার নাম ও তাঁহার পিতার নাম লিখিত।'' 

খ্রীষ্টারী কর্ত্তৃক সাক্ষ্যমর হওয়ার পরে যারা পুনরুত্থিত এবং রূপান্তরিত হয়েছে এবং স্বর্গে যারা প্রভুর প্রশংসা করছে, এখানে সেই সব নুতন জন্ম প্রাপ্তদের বিষয়ে বলা হয়েছে৷ যে সমস্ত সাধুগণ খ্রীষ্টারী কর্ত্তৃক সাক্ষ্যমর ও নিদ্রিত হয়েছিল, তারা এখন স্বর্গে এক নুতন গীতে প্রভুর প্রশংসা করছেন৷ ৪ পদে আমরা দেখি যে, ১৪৪,০০০ লোক এক নুতন গীত গেয়েছেন৷ যখন রূপান্তরিত লোকের সংখ্যা শুধু ১৪৪,০০০ জন, তখন হয়ত আপনি আশ্চর্য হবেন৷ কিন্তু এখানে ১৪ সংখ্যার অর্থ হল, সমস্ত কিছু পরিবর্তীত হয়েছে (মথি ১:১৭)৷ 

আমাদেরকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, সাধুগণের সাক্ষ্যমরের মৃত্যু এবং রুপান্তরের পরে প্রভু বর্তমান এই পৃথিবীকে পরিবর্তিত করে সম্পূর্ণ একটা নতুন পৃথিবীতে পরিবর্তিত করবেন৷ এই পৃথিবীর পরিবর্তে প্রভু এমন এক পৃথিবী সৃষ্টি করবেন যেখানে তিনি তাঁর প্রজাদের নিয়ে বাস করবেন৷ এটাই সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা৷

এই পৃথিবীতে থাকাকালীন খ্রীষ্ট কর্ত্তৃক প্রদত্ত জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা যারা সাধু হয়েছে, তারাই স্বর্গে প্রভুর প্রশংসা করে৷ এইরূপে, যেহেতু তারা এখন খ্রীষ্টের অধিকৃত, তাই তাদের ললাটে মেষশাবকের পিতার নাম লেখা রয়েছে৷


পদ ২: “পরে স্বর্গ হইতে বহু জলের কল্লোল ও মহামেঘধ্বনির ন্যায় রব শুনিলাম; যে রব শুনিলাম, তাহাতে বোধ হইল, যেন বীণাবাদকদল আপন আপন বীণা বাজাইতেছে;”

তারাই স্বর্গের সাধুগণ, যারা প্রভু কর্ত্তৃক প্রদত্ত পরিত্রাণ রক্ষা করতে সাক্ষ্যমর হয়েছে এবং যাদের বিশ্বাস হল প্রভুই একমাত্র তাদের ঈশ্বর এবং যারা অতঃপর পুনরুত্থিত হয়েছে৷ কেননা তাদের দেহ পুনরুত্থিত হয়েছে এবং তারা প্রভুর প্রতাপে রূপান্তরিত হয়েছে৷ তারা স্বর্গে তাঁর পরিত্রাণের জন্য তাঁর প্রশংসা করেছে এবং তাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ প্রদানের জন্য তাঁর প্রশংসা করেছে৷ তাদের প্রশংসার ধ্বনি স্রোতের কল্লোলের ন্যায় সুন্দর এবং মেঘগর্জনের ন্যায় রাজকীয়৷ তারা সকলে এই পৃথিবীতে থাকাকালীন প্রভু কর্ত্তৃক প্রদত্ত জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা তাদের পাপমোচনের মাধ্যমে অনন্তকালের জন্য তাদের পাপ থেকে রক্ষা পেয়েছে৷ 


পদ ৩: “আর তাহারা সিংহাসনের সম্মুখে ও সেই চারি প্রাণীর ও প্রাচীনবর্গের সম্মুখে নূতন একটী গীত গান করে; পৃথিবী হইতে ক্রীত সেই এক লক্ষ চোয়াল্লিশ সহস্র লোক ব্যতিরেকে আর কেহ সেই গীত শিখিতে পারিল না।” 

১৪৪,০০০ লোক বলতে এখানে রূপান্তরিত সাধুগণকে বোঝানো হয়েছে৷ বাইবেলে ১৪ সংখ্যার অর্থ হল একটি নতুন পরিবর্তন৷ যারা স্বর্গে নুতন গীত সহ প্রভুর প্রশংসা করতে পারেন, তারা সেই সব লোক যারা পৃথিবীতে থাকাকালীন জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা নুতন জন্ম প্রাপ্ত এবং পাপের মোচন লাভের দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে৷ একারণেই প্রভু এখানে বলেন যে, তারা ১৪৪,০০০ লোক৷ 

তারা ভিন্ন অন্য কেউই জল ও আত্মার সুসমাচারের মধ্য দিয়ে প্রভুর পাপমোচনের অনুগ্রহের কারণে তাঁর প্রশংসা করতে পারে না৷ যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা ক্ষমা পেয়েছে এবং যারা অনুগ্রহরূপ পবিত্র আত্মা গ্রহণ করেছে, তাদের দ্বারা প্রভু এভাবে প্রশংসিত হন৷ 


পদ ৪: “ ইহারা রমণীদের সংসর্গে কলুষিত হয় নাই, কারণ ইহারা অমৈথুন। যে কোন স্থানে মেষশাবক গমন করেন, সেই স্থানে ইহারা তাঁহার অনুগামী হয়। ইহারা ঈশ্বরের ও মেষশাবকের নিমিত্ত অগ্রিমাংশ বলিয়া মনুষ্যদের মধ্য হইতে ক্রীত হইয়াছে।”

তারাই সাধুগণ, যারা কোনো পার্থিব শক্তি বা ধর্মের দ্বারা তাদের বিশ্বাস কলুষিত করে নি৷ পৃথিবীতে বহু লোক আছে যারা সহজেই তাদের বিশ্বাস পরিবর্তন করে৷ কিন্তু যারা প্রভুর বাপ্তিস্মে এবং তাঁর ক্রুশীয় রক্তে বিশ্বাসের দ্বারা সাধু হয়েছে এবং তাদের পাপের ক্ষমা লাভ করেছে, তারা এই পৃথিবীর কোনো কিছুর নিমিত্ত কখনই তাদের বিশ্বাসকে পরিবর্তিত করতে পারে না৷

যেসব সাধুগণ স্বর্গে অধিষ্ঠিত এবং প্রভুর প্রশংসা করে তারা অপরিবর্তনীয়ভাবে প্রভু কর্ত্তৃক প্রদত্ত জল ও আত্মার সুসমাচার পালন করেছে এবং তাদের বিশ্বাস রক্ষা করেছে৷ এইরূপে যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে তাদের বিশ্বাসের নিমিত্ত প্রভু কর্ত্তৃক রূপান্তরিত হয়েছে, তারাই স্বর্গরাজ্যে প্রভুর প্রশংসা করতে পারে৷

৪ পদের মাঝখানে লেখা হয়েছে, “যে কোন স্থানে মেষশাবক গমন করেন, সেই স্থানে ইহারা তাঁহার অনুগামী হয়।” আপনাকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, যারা অবশ্যই জল ও আত্মার সুসমাচারে তাদের বিশ্বাসের মধ্যে দিয়ে তাদের সমস্ত পাপ একেবারে ধৌত হয়েছে, তাদের এইভাবে নুতন জন্ম হওয়ার পরে, প্রভু তাদেরকে যেভাবে পরিচালিত করেন, সেইভাবে পরিচালিত হয়৷ কেননা, তারা তাদের পাপের ক্ষমা লাভ করেছে, প্রভু তাদেরকে যেভাবে পরিচালিত করেন, সেইভাবে সানন্দে পরিচালিত হওয়ার আকাঙ্খা তাদের রয়েছে৷ শেষ সময়ে, বিশ্বাসের সাথে খ্রীষ্টারী কর্ত্তৃক সাক্ষ্যমর হয়ে এবং প্রভু কর্ত্তৃক পুনরুত্থিত ও রূপান্তরিত হয়ে তারা স্বর্গে প্রভুর প্রশংসা করবে৷

এটাও লেখা রয়েছে, “ইহারা ঈশ্বরের ও মেষশাবকের নিমিত্ত অগ্রিমাংশ বলিয়া মনুষ্যদের মধ্য হইতে ক্রীত হইয়াছে।” পৃথিবীর অসংখ্য মানুষের মধ্যে কেবল মুষ্টিমেয় লোক প্রভু কর্ত্তৃক প্রদত্ত জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা তাদের সমস্ত পাপ থেকে রক্ষা পেয়েছে৷ একারণেই যিরমিয় ৩: ১৪ পদে আমাদের প্রভু বলেন, “ আমি নগর হইতে একজন ও গোষ্ঠী হইতে দুইজন করিয়া তোমাদিগকে গ্রহণ করিব, ও সিয়োনে অনিব৷” এই অল্প সংখ্যক লোকেরাই জল ও আত্মার সুসমাচারের সাথে পরিচিত হয়েছে এবং তাদের পাপের ক্ষমা লাভ করেছে৷

যেহেতু তারা মেষশাবকের অধিকৃত, তাই ঈশ্বর কর্ত্তৃক যেমন সমস্তই প্রতিজ্ঞাত, তেমনি তারা পুনরুত্থানের অগ্রিমাংশ লাভ করবে এবং প্রভুর প্রতাপের দ্বারা তারা রূপান্তরিত হবে এবং অনন্তকাল খ্রীষ্টের প্রশংসা করবে৷ এই পৃথিবীতে প্রভু যেভাবে তাদের পরিচালিত করতেন, তারা সেইভাবে পরিচালিত হত৷ এগুলো সমস্তই ঈশ্বরের ক্ষমতা এবং অনুগ্রহের দ্বারা হবে৷ 

পদ ৫: “ আর তাহাদের মুখে কোন মিথ্যা কথা পাওয়া যায় নাই; তাহারা নির্দ্দোষ।”

যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা নুতন জন্ম পেয়েছে, তারা তাদের মুখ দ্বারা সত্য সুসমাচার প্রচার করতে পারে৷ যেখানে বহু লোক আজকে নিজেদের পন্থায় সুসমাচার প্রচার করছে, সেখানে এটাও সত্য যে, মুষ্টিমেয় লোক শুধু প্রকৃতভাবে জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করছে৷

যারা কেবল যীশুর ক্রুশীয় রক্ত প্রচার করে, তা প্রভু কর্ত্তৃক প্রদত্ত জল ও আত্মার সুসমাচার নয়৷ কেন? যেহেতু অন্য কোনো সুসমাচার নয় কিন্তু জল ও আত্মার সুসমাচারই একমাত্র বাইবেলের সত্য সুসমাচার৷ সত্য সুসমাচারের বাক্যের দ্বারা যেভাবে ধার্মিকের হৃদয়ের পাপ তুলে নেওয়া হয়েছে, সেইভাবে সম্পূর্ণ দৃঢ়ভাবে তারা তাদের মুখ দিয়ে এই জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করতে পারে৷

পদ ৬-৭: “পরে আমি আর এক দূতকে দেখিলাম, তিনি আকাশের মধ্য পথে উড়িতেছেন, তাঁহার কাছে অনন্তকালীন সুসমাচার আছে, যেন তিনি পৃথিবী-নিবাসীদিগকে, প্রত্যেক জাতি ও বংশ ও ভাষা ও প্রজাবৃন্দকে, সুসমাচার জানান; তিনি উচ্চ রবে এই কথা কহিলেন, ঈশ্বরকে ভয় কর, ও তাঁহাকে গৌরব প্রদান কর, কেননা তাঁহার বিচার-সময় উপস্থিত; যিনি স্বর্গ, পৃথিবী, সমুদ্র ও জলের উনুই সকল উৎপন্ন করিয়াছেন, তাঁহার ভজনা কর।”

নুতন জন্ম প্রাপ্ত সাধুরা অবশ্যই এই পৃথিবীর উপরে অবিরাম জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করতে থাকবে৷ অতএব, সাধুগণের রূপান্তরের নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত অবশ্যই জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচারের এই কাজ চালিয়ে যেতে হবে৷

একমাত্র জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসীরাই তাদের রক্ষা করতে খ্রীষ্টারী কর্ত্তৃক সাক্ষ্যমর হবে, এবং কেবলমাত্র তারাই এইভাবে স্বর্গরাজ্যে নীত হবে৷ প্রত্যেককে অবশ্যই ঈশ্বরকে ভয় করতে হবে৷ জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করতে হবে, আর এভাবেই তাদেরকে তাদের পাপের ক্ষমা ও অনুগ্রহদান হিসাবে পবিত্র আত্মাকে গ্রহণ করতে হবে৷ যদি আজকের খ্রীষ্টিয়ানেরা প্রভু কর্ত্তৃক প্রদত্ত জল ও আত্মার সুসমাচার ধন্যবাদের সাথে বিশ্বাস করতে অক্ষম হয়, তাহলে তাদের যীশুতে বিশ্বাস সম্পূর্ণ নিস্ফল৷

একমাত্র যিনি সম্পূর্ণ বিশ্বব্রহ্মান্ড এবং এর সমস্ত জিনিসই সৃষ্টি করেছেন, তিনি যীশু খ্রীষ্ট ব্যতিরেকে অন্য কেউ নন৷ এইরূপে মানবজাতিকে অবশ্যই যীশু খ্রীষ্টকে অবশ্যই তাদের ঈশ্বররূপে চিনতে হবে, যিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদেরকে তাদের পাপের জন্য তাঁর ক্ষমার দ্বারা পরিত্রাণ প্রদান করেছেন, এবং যেহেতু তাঁর হাত দ্বারা তিনি সমস্ত জিনিসই সৃষ্টি এবং সম্পন্ন হয়েছে, তাই অবশ্যই তাঁর ভজনা করতে হবে৷ তাদের হৃদয়ে তাঁর জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারা সমস্ত লোক তাদের সকল পাপের ক্ষমা পেতে পারে এবং অনুগ্রহদান হিসাবে পবিত্র আত্মার অনুগ্রহলাভ করতে পারে৷

যারা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাদেরকে যীশু খ্রীষ্ট যে প্রতিদান দেবেন, তা গ্রহণ করতে পৃথিবীকে অবশ্যই এখন প্রস্তুত হতে হবে৷ যেহেতু, ঈশ্বরের বিচার দিন আমাদের নিকটবর্তী, তাই আমাদেরকে অবশ্যই বিশ্বাস প্রস্তুত করতে হবে যে, আমরা শীঘ্রই প্রভু কর্ত্তৃক রূপান্তরিত হব৷ রূপান্তরের নিমিত্ত প্রস্তুত হওয়ার উপায় হল প্রভু কর্ত্তৃক প্রদত্ত জল ও আত্মার সুসমাচারের বাক্যে বিশ্বাস করা৷ কেন? যেহেতু শুধু জল ও আত্মার তাঁর সুসমাচারে বিশ্বাসের দ্বারাই একজন পবিত্র আত্মা গ্রহণ করতে পারে এবং যখন শেষ দিন আসবে, তখন তখন তাদের রূপান্তরে প্রভু কর্ত্তৃক উর্দ্ধে নীত হওয়ার গৌরবে আচ্ছাদিত হবে৷

যত শীঘ্র সম্ভব, সমস্ত পাপীদেরকে অবশ্যই যীশু খ্রীষ্টকে সৃষ্টির ঈশ্বর এবং পরিত্রাণদাতারূপে বিশ্বাস করতে এবং যোগ্য ভাবে তাঁর ভজনা করতে হবে৷ তাদেরকে অবশ্যই তাদের হৃদয়ে জল ও আত্মার সুসমাচার গ্রহণ করতে হবে, আর এইরূপে তাদের উপহার হিসাবে তাঁর ক্ষমার অনুগ্রহ এবং পবিত্র আত্মা গ্রহণ করতে হবে৷ যারা প্রভুর দেওয়া জল ও আত্মার সুসমাচার হৃদয়ে গ্রহণ করে ও ঈশ্বরের ভজনা করে, তারা একারণেই করতে পারে যেহেতু তারা এই সুসমাচারকে অগ্রাহ্য করে নি৷


পদ ৮: “পরে তাঁহার পশ্চাৎ দ্বিতীয় এক দূত আসিলেন, তিনি কহিলেন, “পড়িল, পড়িল সেই মহতী বাবিল, যে সমস্ত জাতিকে আপনার বেশ্যাক্রিয়ার রোষমদিরা পান করাইয়াছে।” 

যীশু খ্রীষ্টের ভয়াবহ বিচারের দ্বারা এই পৃথিবী নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে৷ কেননা যা কিছু মৌলিকভাবে ভ্রান্ত শিক্ষা, সেগুলি দ্বারাই পার্থিব ধর্মগুলি সৃষ্টি হয়েছে, এগুলি ঈশ্বর কর্ত্তৃক ধ্বংস হবে৷ এই পার্থিব ধর্মগুলো লোকেদেরকে ঈশ্বরের চাইতে পৃথিবীকে অতি বেশী অনুসরণ করতে শেখায়, ঈশ্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর উপকরণ হিসাবে তাদেরকে ব্যবহার করে৷ যেহেতু এই পৃথিবীর লোকেরা ঈশ্বরকে পরিত্যাগ করেছে এবং এইরূপে পার্থিব ধর্মে আসক্ত হয়েছে, তাই এই পৃথিবী এইভাবেই ধ্বংস হবে৷

তারা পার্থিব ধর্ম অনুসরণ করেছে, এর অর্থ হল, তারা ভ্রান্ত ঈশ্বর ও দেবতাদের অনুসরণ করেছে৷ তাই ঈশ্বর তাঁর ক্রোধে এই পৃথিবীকে ধ্বংস করবেন৷ এই পৃথিবীর সব কিছু এবং ভ্রান্ত ধর্মগুলো ঈশ্বর কর্ত্তৃক পরাস্ত হবে, রোষ-মদিরা পান করবে৷ এইরূপে যারা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, যেমন দেবতারা, যারা পার্থিব ধর্মগুলোর সাথে সংযুক্ত, সেগুলো সবাই ঈশ্বরের মারীর দ্বারা পতিত হবে এবং অনন্তনরকে নিক্ষিপ্ত হবে৷


পদ ৯-১০: “পরে তৃতীয় এক দূত উহাঁদের পশ্চাৎ আসিলেন, তিনি উচ্চ রবে কহিলেন, যদি কেহ সেই পশু ও তাহার প্রতিমূর্ত্তির ভজনা করে, আর নিজ ললাটে কি হস্তে ছাব ধারণ করে, তবে সেই ব্যক্তিও ঈশ্বরের সেই “রোষ-মদিরা পান করিবে, যাহা তাঁহার কোপের পানপাত্রে অমিশ্রিতরূপে প্রস্তুত হইয়াছে; এবং পবিত্র দূতগণের সাক্ষাতে ও মেষশাবকের সাক্ষাতে “অগ্নিতে ও গন্ধকে যাতনা পাইবে।”

এখানে ঈশ্বর প্রত্যেককে সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি কেউ এই পশু এবং তার প্রতিমূর্তির ভজনা করে কিম্বা ললাটে বা হস্তে তার ছাব ধারণ করে, সে (নারী/পুরুষ) নরকের যাতনা ভোগ করবে৷ অনেক লোকের মধ্যে দিয়ে কাজ করে শয়তান খ্রীষ্টারীর প্রতিমূর্তিতে প্রতিমা নির্মান করে সমগ্র জাতিকে সেটার পূজা করতে বাধ্য করবে, কিন্তু যারা নুতন জন্ম প্রাপ্ত তারা খ্রীষ্টারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, এবং তাদের বিশ্বাস রক্ষা করতে সাক্ষ্যমর হবে৷ নুতন জন্ম প্রাপ্ত সাধুগণকে তাদের বিশ্বাস রক্ষা করতে অবশ্যই এভাবে খ্রীষ্টারীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং সাক্ষ্যমর হতে হবে৷ 

যদি কেউ খ্রীষ্টারীর কাছে আত্মসমর্পণ করে তার প্রতিমূর্তির সম্মুখে নত হয় এবং তার নামের অথবা সংখ্যার ছাব ধারণ করে, সে (নারী/পুরুষ) ঈশ্বরের ক্রোধ সঞ্চয় করবে, যা তাকে (নারী/পুরষ) অনন্ত অগ্নি এবং গন্ধকের হ্রদে নিক্ষেপ করবে৷ যখন ক্লেশের সময় আসবে, তখন ধার্মিকগণকে অবশ্যই প্রভু তাদের বিশ্বাস রক্ষা করে এবং তাঁর রাজ্যে তাদের প্রত্যাশা রেখে অবশ্যই ঈশ্বরের কাছে প্রর্থনা করতে হবে৷ আর যীশুতে বিশ্বাসের দ্বারা তাদেরকে অবশ্যই খ্রীষ্টারীর বিপক্ষে দাঁড়াতে হবে এবং বিশ্বাস রক্ষা করতে হবে, তাদের সাক্ষ্যমরের মৃত্যু, পুনরুত্থান এবং রূপান্তরে অংশগ্রহণ করতে হবে, আর এভাবে প্রভুর সাথে তাঁর রাজ্যে বাস করার অনন্ত অনুগ্রহ লাভ করতে হবে৷ 


পদ ১১: “তাহাদের যাতনার ধূম যুগপর্য্যায়ের যুগে যুগে উঠে”; যাহারা সেই পশু ও তাহার প্রতিমূর্ত্তির ভজনা করে, এবং যে কেহ তাহার নামের ছাব ধারণ করে, তাহারা দিবাতে কি রাত্রিতে কখনও বিশ্রাম পায় না। ”

যারা শয়তানকে ঈশ্বররূপে ভজনা করে তাদেরকে তাঁর মারী প্রদত্ত হবে এবং অনন্ত নরকে যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে৷ যে কেউ শেষ সময়ে খ্রীষ্টারীর কাছে আত্মসমর্পণ করবে, এবং তার প্রতিমূর্তিকে ঈশ্বর রূপে ভজনা করবে, তারা ঈশ্বরের ক্রোধে পূর্ণ অগ্নি ও গন্ধকের হ্রদে যাতনাগ্রস্থ হবে৷ আমাদের সকলকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, যে কেউ পশুটিকে এবং তার প্রতিমূর্তিকে অনুসরণ করে এবং যে কেউ পশুটির ছাব ধারণ করে, তার দিনে ও রাতে কোনো বিশ্রাম হবে না৷


পদ ১২: “এস্থলে সেই পবিত্রগণের ধৈর্য্য দেখা যায়, যাহারা ঈশ্বরের আজ্ঞা ও যীশুর বিশ্বাস পালন করে।”

সাধুগণের কাছে প্রভুর প্রতিজ্ঞা ঐশ্বর্য্য, গৌরব এবং আশীর্বাদ যেমন তারা বিশ্বাস করে, তেমনি তাদেরকে অবশ্যই ধৈর্য্য সহকারে সেই বিশ্বাস দৃঢ়ভাবে অক্ষুন্ন রাখতে হবে৷ তাদেরকে অবশ্যই দৃঢ়ভাবে ক্লেশের সময়ের মধ্যে দিয়েও গমন করতে হবে৷ প্রভু সাধুগণের কাছে শেষ সময়ের যে প্রতিজ্ঞা করেছেন তা হল, তাদের সাক্ষ্যমরের মৃত্যুর পরে তাদেরকে প্রভুর সাথে বাস করার অনুগ্রহ প্রদান করবেন, যেমন, প্রভুর প্রতাপের দ্বারা তাদের পুনরুত্থানের পর তারা উভয়েই স্বর্গে নীত হবেন৷ এইভাবে সাধুগণ এই আশীর্বাদের বিশ্বাসে একাগ্র থাকবে, যা তাদেরকে মেষশাবকের বিবাহ ভোজে প্রবেশ করতে, তাঁর সাথে সহস্র বত্সর রাজত্ব করতে এবং সর্বদা তাঁর সাথে স্বর্গরাজ্যে বাস করতে সাহায্য করবে৷ যখন শেষ সময় আসবে, তখন সাধুগণের তাদের বিশ্বাস রক্ষা করতে সাক্ষ্যমরের মৃত্যুবরণ করার প্রয়োজন হবে৷ শেষ সময়ে তাদেরকে অবশ্যই সমস্ত ক্লেশের মধ্যে দিয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে গমন করতে হবে৷

যে সমস্ত সাধুগণ এখন বর্তমান যুগে বাস করছেন, যখন খ্রীষ্টারী তাদের উপর বলপ্রয়োগ করবে, হুমকি দেবে এবং প্রলোভিত করে তাদের বিশ্বাস ত্যাগ করাতে চাইবে, তত্সত্বেও তারা অবশ্যই প্রভুর প্রতিজ্ঞায় বিশ্বাস করে তাদের সাক্ষ্যমরের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করবে৷ কেন? কেননা তিনি যেভাবে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তারপর সেভাবে দ্রুত ঈশ্বরের সমস্ত অনুগ্রহ পূর্ণ হবে৷ শুধুমাত্র ঈশ্বরের এবং প্রভুতে বিশ্বাস রক্ষা করার দ্বারা সাধুগণ তাদের পুরস্কার লাভ করবে৷ অতএব, প্রভুর বাক্যে বিশ্বাস রাখুন৷ যে সমস্ত সাধুগণ এভাবে যীশু খ্রীষ্টের বাক্যে এবং তাঁর সম্পূর্ণ নুতন পৃথিবীতে তাদের বিশ্বাস রক্ষা করে, ঈশ্বর তাদেরকে সাদরে অভ্যর্থিত করবেন৷

শেষ সময়ের ক্লেশের সমস্ত কঠিনতার মধ্য দিয়ে সাধুগণ অবশ্যই দৃঢ়ভাবে ধৈর্য্যসহকারে প্রভুর সুসমাচারের পরিচর্যা করবে তার যথেষ্ট কারণ রয়েছে৷ ভবিষ্যতের মঙ্গলের নিমিত্ত ধৈর্য্যসহকারে বর্তমান স্বীকার করার প্রয়োজন আছে৷

রোমীয় ৫:৩-৪ পদ আমাদেরকে বলে, “কেবল তাহা নয়, কিন্তু নানাবিধ ক্লেশেও শ্লাঘা করিতেছি, কারণ আমি জানি, ক্লেশ ধৈর্য্যকে, ধৈর্য্য পরীক্ষাসিদ্ধতাকে, এবং পরীক্ষাসিদ্ধতা প্রত্যাশাকে উত্পন্ন করে৷” যে সমস্ত সাধুগণ প্রভুতে বিশ্বাসের দ্বারা ধৈর্য্যের সঙ্গে মহাক্লেশের মধ্য দিয়ে গমন করতে পারে, তারা অনুগ্রহের জীবনযাপন করবে, প্রভু হতে পুনরুত্থান ও রূপান্তর গ্রহণ করবে এবং তাঁর সঙ্গে বাস করবে৷ এইরূপে, আমাদের সকলকে অবশ্যই আমাদের বিশ্বাসের সাথে ধৈর্য্যসহকারে শেষ সময়ের ক্লেশের মধ্যে দিয়ে গমন করতে হতে পারে৷ প্রভু এই পৃথিবীতে এবং স্বর্গে তাদের নিমিত্তে যা কিছু সাধন করবেন, সাধুগণ সমস্ত জিনিসই বিশ্বাস করেন৷


পদ ১৩: “পরে আমি স্বর্গ হইতে এই বাণী শুনিলাম, তুমি লিখ, ধন্য সেই মৃতেরা যাহারা এখন অবধি প্রভুতে মরে, , হাঁ, , আত্মা কহিতেছেন, তাহারা আপন আপন শ্রম হইতে বিশ্রাম পাইবে; কারন তাহাদের কার্য্য সকল তাহাদের সঙ্গে সঙ্গে চলে।”

পদটি এখানে বলে, “ধন্য সেই মৃতেরা যাহারা এখন অবধি প্রভুতে মরে”৷ কেন? কেননা যখন মহাক্লেশের সময় আসবে- অর্থাৎ, যখন খ্রীষ্টারী এই পৃথিবীর উপর শাসন করবে – তখন পৃথিবীতে থাকা সমস্ত পাপীরা ধ্বংস হয়ে যাবে৷ অতএব, সাধুগণের অবশ্যই আসন্ন খ্রীষ্টের রাজ্যের দিকে তাকাতে হবে, বিশ্বাস রক্ষা করতে হবে এবং বিশ্বাসে তাদের সাক্ষ্যমরের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হবে৷ যারা প্রভুকে গৌরব প্রদান করতে সাক্ষ্যমর হয়, তারা আশীর্বাদ যুক্ত, এবং এইরূপে তাদেরকে তাদের বিশ্বাস রক্ষা করতে অবশ্যই সাক্ষ্যমরের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হবে৷

প্রভু তখন এইরূপে সাধুদের তত্ত্ব নেবেন, তাঁর রাজ্যে তুলে নিতে তাদের পুনরুত্থান ও রূপান্তর অনুমোদন করবেন৷ তখন এই পৃথিবীতে সাধুগণের সমস্ত কষ্ট শেষ হয়ে যাবে, এবং পরিবর্তে তারা প্রভু কর্ত্তৃক প্রদত্ত তাদের পুরস্কার ভোগ করতে থাকবে৷ এই সময়ে সমস্ত সাধুগণের প্রভুর সাথে রাজত্ব করার অনন্তজীবনের আনন্দ থাকবে, আর সম্মান ও তাঁর রাজ্যের গৌরব অনন্তকালের নিমিত্ত তাদের হবে৷

একারণেই শেষ সময়ে যারা তাদের বিশ্বাস রক্ষার্থে সাক্ষ্যমর হবে তারা এত আশীর্বাদযুক্ত, যেহেতু তারা সম্মান এবং তাঁর সহস্রাব্দের রাজ্যের গৌরব এবং তাঁর অনন্ত স্বর্গরাজ্যে অনন্তকাল প্রভুর সঙ্গে বাস করবে৷ যারা পশুটির নিকটে আত্মসমর্পণ করবে না এবং প্রভুতে তাদের বিশ্বাস রক্ষা করবে, ঈশ্বর তাদেরকে অনন্তকাল প্রভুর সঙ্গে তাদেরকে রাজত্ব করবার অনুগ্রহ প্রদান করবেন৷

পদ ১৪: “আর আমি দৃষ্টি করিলাম, আর দেখ, শুভ্রবর্ণ একখানি মেঘ, সেই মেঘের উপরে মনুষ্যপুত্রের ন্যায় এক ব্যক্তি বসিয়া আছেন, তাঁহার মস্তকে সুবর্ণ মুকুট ও তাঁহার হস্তে একখানি তীক্ষ্ণ কাস্ত্যা।”

এই পদ আমাদেরকে বলে যে, প্রভু সাধুগণকে রূপান্তর করতে পুনরায় আসবেন৷ কেননা প্রভুই সাধুগণের গুরু, যারা তাদের বিশ্বাস রক্ষা করতে সাক্ষ্যমর হবে, তিনি তাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন এবং রূপান্তরে তাদেরকে স্বর্গরাজ্যে তুলে নেবেন৷ মহাক্লেশের সময়ে অবশ্যম্ভাবীভাবে সাধুগণের রূপান্তর আসবে৷


পদ ১৫: “পরে মন্দির হইতে আর এক দূত বাহির হইয়া, যিনি মেঘের উপরে বসিয়া আছেন, তাঁহাকে উচ্চ রবে চীৎকার করিয়া কহিলেন,’, আপনার কাস্ত্যা লাগাউন, শস্য ছেদন করুন; কারণ শস্যচ্ছেদনের সময় আসিয়াছে; কেননা পৃথিবীর শস্য শুকাইয়া গেল।‘”

এই বাক্য দ্বারা ঈশ্বর কর্ত্তৃক সাধুগণের রূপান্তর সম্পূর্ণকরণকে বোঝায়৷ সময় অনুযায়ী সাধুগণের সাক্ষ্যমরের মৃত্যুর পরেই তাদের রূপান্তর ঘটবে৷ নিদ্রাগত এবং সাক্ষ্যমর উভয় সাধুগণকেই প্রভু তখন রূপান্তর অনুমোদন করবেন৷ পরিত্রাণ সাক্ষ্যমরের মৃত্যু, পুনরুত্থান, রূপান্তর এবং অনন্তজীবনে সাধুগণের বিশ্বাসের পূর্ণতা পাওয়া যায়৷ খ্রীষ্টারীর নির্যাতনের দ্বারা সাধুগণের সাক্ষ্যমরের মৃত্যুর পরেই সাধুগণের রূপান্তরের সময় এবং একই সময়ে তাদের পুনরুত্থান হবে৷ 


পদ ১৬: “তাহাতে, যিনি মেঘের উপরে বসিয়া আছেন, তিনি আপন কাস্ত্যা পৃথিবীতে লাগাইলেন, ও পৃথিবীর শস্যচ্ছেদন করা হইল।”

এই পদও সাধুগণের রূপান্তর নির্দেশ করে৷ রূপান্তর হল সাধুগণের উর্দ্ধে নীত হওয়া৷ এর অর্থ কি তাহলে সাধুগণ উর্দ্ধে নীত হবেন এবং তারপরে পৃথিবীতে প্রভুর সঙ্গে নেমে আসবেন? অবশ্যই! সাধুগণের রূপান্তরের পরে প্রভু এই পৃথিবী, সমুদ্র এবং এতে যা কিছু আছে সমস্ত কিছুই সপ্তবাটির মারী ঢেলে ধ্বংস করে দেবেন, আর এভাবে পৃথিবী ধ্বংস করার পরে তিনি রূপান্তরিত সাধুগণের সাথে একত্রে পৃথিবীতে নেমে আসবেন৷

অতঃপর, প্রভু এবং তাঁর সাধুগণ সহস্র বত্সর এই পৃথিবীর উপরে রাজত্ব করবেন, এবং যখন মেষশাবকের বিবাহ ভোজ শেষ হয়ে যাবে, তখন তারা অনন্ত স্বর্গরাজ্যে আরোহন করবেন৷ যখন সাধুগণ মেষশাবকের বিবাহ ভোজে প্রভুর সাথে সংযুক্ত হবেন, ইতিমধ্যে প্রভু তখন সম্পূর্ণ পৃথিবী এবং পৃথিবীস্থ সমস্ত জিনিস নতুনীকরণ করবেন৷

সাধুগণের রূপান্তরের পরে তারা প্রভুর সঙ্গে কিছু সময়ের জন্য মধ্যাকাশে অবস্থান করবেন, এবং যখন সপ্তবাটির মহামারী শেষ হয়ে যাবে, তখন তারা প্রভুর সঙ্গে সহস্র বত্সর রাজত্ব করতে নতুনীকৃত পৃথিবীতে নেমে আসবেন৷ তারা তখন প্রভুর সাথে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করবেন এবং অনন্তকাল তাঁর সঙ্গে বাস করবেন৷


পদ ১৭: “পরে স্বর্গস্থ মন্দির হইতে আর এক দূত বাহির হইলেন; তাঁহারও হস্তে একখানি তীক্ষ্ণ কাস্ত্যা ছিল।”

যে দূত এখানে আবির্ভূত হয়েছেন, তিনি বিচারের দূত৷ এই পৃথিবীতে যারা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, তিনি তাদের উপরে মহামারী আনয়ন করবেন, এবং তাদেরকে অনন্ত নরকে নিক্ষেপ করবেন৷ তার কর্তব্য হল, খ্রীষ্টারী এবং তার সেবকগণ এবং যে সমস্ত পাপীরা নুতন জন্ম পায়নি, তাদের একত্রে বেঁধে অগাধ লোকের কূপে নিক্ষেপ করা৷


পদ ১৮: “আর যজ্ঞবেদি হইতে অন্য এক দূত বাহির হইলেন, তিনি অগ্নির উপরে কর্ত্তৃত্ববিশিষ্ট, তিনি ঐ তীক্ষ্ণ কাস্ত্যাধারী ব্যক্তিকে উচ্চ রবে এই কথা কহিলেন, তোমার তীক্ষ্ণ কাস্ত্যা লাগাও, পৃথিবীর দ্রাক্ষালতার গুচ্ছ সকল ছেদন কর, কেননা তাহার ফল পাকিয়াছে।”

এই বাক্য আমাদেরকে বলে যে, ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপীদের দাঁড়ানোর জন্য, ঈশ্বর কর্ত্তৃক তাদের বিচারের সময় এখন এসেছে৷ ঈশ্বরের সময় হচ্ছে তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়৷ পাপীদেরকে তাঁর অগ্নির বিচার প্রদান করতে ঈশ্বর সমস্ত পাপীদেরকে এবং যারা ঈশ্বরের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে তাদের সকলকে একত্রিত করবেন এবং পাপানুযায়ী শাস্তি প্রদান করবেন৷


পদ ১৯: “তাহাতে ঐ দূত পৃথিবীতে আপন কাস্ত্যা লাগাইয়া পৃথিবীর দ্রাক্ষা-গুচ্ছ ছেদন করিলেন, আর ঈশ্বরের রোষের মহাকুণ্ডে নিক্ষেপ করিলেন।”

এটা আমাদের দেখায় যে, সাধুগণের রুপান্তরের পরে খ্রীষ্টারী এবং পাপীরা সপ্তবাটির মহামারীর অভ্যন্তরে মহা দুঃখভোগ করবে৷ এই পৃথিবীতেও ঈশ্বর পাপীদের উপরে তাঁর ভয়াবহ মারী ছেড়ে দেওয়ার দ্বারা তাঁর ক্রোধ আনয়ন করবেন এবং এরপরেই নরকের যাতনা শুরু হবে৷ যে মারী ঈশ্বর পাপীদের, খ্রীষ্টারী, এবং তার অনুসারীদের উপরে ঢেলে দেবেন তা হল, তাঁর ধর্মময় ক্রোধ৷ যে সমস্ত পাপীরা ঈশ্বরের বিপক্ষে দাঁড়ায়, এটাই তাদের জন্য ঈশ্বরের দূরদর্শিতা বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা৷


পদ ২০: “পরে নগরের বাহিরে ঐ কুণ্ডে তাহা দলন করা গেল, তাহাতে কুণ্ড হইতে রক্ত বাহির হইল, এবং অশ্বগণের বল্‌গা পর্য্যন্ত উঠিয়া এক সহস্র ছয় শত তীর ব্যাপ্ত হইল।”

পদটি আমাদের এখানে বলছে যে, যারা পৃথিবীতে রয়ে যাবে তাদের নিমিত্ত ঈশ্বরের ক্রোধের শাস্তি এবং ভোগান্তি কতটা কঠোর হবে, নারী/পুরুষ উভয়ের উপরেই সপ্তবাটির মহামারী আনিত হবে৷ এই পদ আমাদেরকে আরো বলে যে, এই মারী সমগ্র পৃথিবীকে ধ্বংস করবে৷ যখন সাধুগণের সাক্ষ্যমরের মৃত্যুবরণ , পুনরুত্থান এবং রূপান্তর হবে, সেই মুহূর্ত থেকে সপ্তবাটির মহামারীর ক্রোধ একত্রে নেমে আসবে, আর এভাবে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে৷

স্বর্গের সাধুগণ এবং ঈশ্বরের সম্মুখে দন্ডায়মান স্বর্গদূত ব্যতিরেকে অন্য কেউই আর এই ভয়াবহ মহামারী থেকে রক্ষা পাবে না৷ অন্যকথায়, যারা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, কেবল তাদের নিমিত্তই নরকের অগ্নি প্রতীক্ষা করবে৷ বিপরীতে, সাধুগণ তখন, মধ্যাকাশে প্রভুর সাথে তখন বিবাহ ভোজে তাঁর পরিত্রাণের জন্য তাঁর ধন্যবাদ এবং প্রশংসা করা অবস্থায় নিজেদেরকে খুঁজে পাবে৷ তখন থেকেই সাধুগণ প্রভুর অনন্ত আশীর্বাদের মধ্যে অনন্তকাল বাস করতে থাকবে৷