Sermons

[16-1] < প্রকাশিত বাক্য ১৬:১-২১ > সপ্তবাটির মারীর আরম্ভ



< প্রকাশিত বাক্য ১৬:১-২১ >

“ পরে আমি মন্দির হইতে এক উচ্চ বাণী শুনিলাম, তাহা ঐ সপ্ত দূতকে কহিল, তোমরা যাও, ঈশ্বরের রোষের ঐ সপ্ত বাটি পৃথিবীতে ঢালিয়া দেও। পরে প্রথম দূত গিয়া পৃথিবীর উপরে আপন বাটি ঢালিলেন, তাহাতে সেই পশুর ছাববিশিষ্ট ও তাহার প্রতিমার ভজনাকারী মনুষ্যদের গাত্রে ব্যথাজনক দুষ্ট ক্ষত জন্মিল। পরে দ্বিতীয় দূত সমুদ্রের উপরে আপন বাটি ঢালিলেন, তাহাতে তাহা মৃত লোকের রক্তের তুল্য হইল, এবং সমস্ত জীবিত প্রাণী, সমুদ্রচর জীবগণ, মরিল। পরে তৃতীয় দূত নদনদী ও জলের উনুই সকলের উপরে আপন বাটি ঢালিলেন, তাহাতে সে সকল রক্ত হইয়া গেল। তখন আমি জলসমূহের দূতের এই বাণী শুনিলাম, হে সাধু, তুমি আছ ও তুমি ছিলে, তুমি ন্যায়পরায়ণ, কারণ এরূপ বিচারাজ্ঞা করিয়াছ; কেননা উহারা পবিত্রগণের ও ভাববাদীদের রক্তপাত করিয়াছিল; আর তুমি উহাদিগকে পানার্থে রক্ত দিয়াছ; তাহারা ইহার যোগ্য। পরে আমি যজ্ঞবেদির এই বাণী শুনিলাম, হাঁ, হে প্রভু ঈশ্বর, সর্ব্বশক্তিমান্‌, তোমার বিচারাজ্ঞা সকল সত্য ও ন্যায্য। পরে চতুর্থ দূত সূর্য্যের উপরে আপন বাটি ঢালিলেন; তাহাতে অগ্নি দ্বারা মনুষ্যদিগকে তাপিত করিবার ক্ষমতা তাহাকে দত্ত হইল। তখন মনুষ্যেরা মহা উত্তাপে তাপিত হইল, এবং যিনি এই সকল আঘাতের উপরে কর্ত্তৃত্ব করেন, সেই ঈশ্বরের নামের নিন্দা করিল; তাঁহাকে গৌরব প্রদান করিবার জন্য মন ফিরাইল না। পরে পঞ্চম দূত সেই পশুর সিংহাসনের উপরে আপন বাটি ঢালিলেন; তাহাতে তাহার রাজ্য অন্ধকারময় হইল, এবং লোকেরা বেদনা প্রযুক্ত আপন আপন জিহ্বা চর্ব্বণ করিতে লাগিল; এবং আপনাদের বেদনা ও ক্ষত প্রযুক্ত স্বর্গের ঈশ্বরের নিন্দা করিল; আপন আপন ক্রিয়া হইতে মন ফিরাইল না। পরে ষষ্ঠ দূত ইউফ্রেটীস মহানদীতে আপন বাটি ঢালিলেন; তাহাতে নদীর জল শুষ্ক হইয়া গেল, যেন সূর্য্যোদয় স্থান হইতে আগমনকারী রাজাদের জন্য পথ প্রস্তুত করা যাইতে পারে। পরে আমি দেখিলাম, সেই নাগের মুখ ও পশুর মুখ ও ভাক্ত ভাববাদীর মুখ হইতে ভেকের ন্যায় তিনটি অশুচি আত্মা বাহির হইল। তাহারা ভূতদের আত্মা, নানা চিহ্ন-কার্য্য করে; তাহারা জগৎ সমুদয়ের রাজাদের নিকটে গিয়া, সর্ব্বশক্তিমান্‌ ঈশ্বরের সেই মহাদিনের যুদ্ধার্থে তাহাদিগকে একত্র করে। দেখ, আমি চোরের ন্যায় আসিতেছি; ধন্য সেই ব্যক্তি, যে জাগিয়া থাকে, এবং আপন বস্ত্র রক্ষা করে, যেন সে উলঙ্গ হইয়া না বেড়ায়, এবং লোকে তাহার অপমান না দেখে। পরে উহারা, ইব্রীয় ভাষায় যাহাকে হর্‌মাগিদোন বলে, সেই স্থানে তাহাদিগকে একত্র করিল। পরে সপ্তম দূত আকাশের উপরে আপন বাটি ঢালিলেন, তাহাতে মন্দিরের মধ্য হইতে, সিংহাসন হইতে, এই মহাবাণী বাহির হইল, ‘হইয়াছে’। আর বিদ্যুৎ ও শব্দ ও মেঘধ্বনি হইল, এবং এক মহাভূমিকম্প হইল, পৃথিবীতে মনুষ্যের উৎপত্তিকাল অবধি যেমন কখনও হয় নাই, এমন প্রচণ্ড মহাভূমিকম্প হইল। তাহাতে মহানগরী তিন ভাগে বিভক্ত হইল, এবং জাতিগণের নগর সকল পতিত হইল; এবং মহতী বাবিলকে ঈশ্বরের সাক্ষাতে স্মরণ করা গেল, যেন ঈশ্বরের ক্রোধের রোষমদিরাতে পূর্ণ পানপাত্র তাহাকে দেওয়া যায়। আর প্রত্যেক দ্বীপ পলায়ন করিল, ও পর্ব্বতগণকে আর পাওয়া গেল না। আর আকাশ হইতে মনুষ্যদের উপরে বৃহৎ বৃহৎ শিলাবর্ষণ হইল, তাহার এক একটী এক এক তালন্ত পরিমিত; এই শিলা-বৃষ্টিরূপ আঘাত প্রযুক্ত মনুষ্যেরা ঈশ্বরের নিন্দা করিল; কারণ সেই আঘাত অতিশয় ভারী।”



টীকা


পদ ১: “ পরে আমি মন্দির হইতে এক উচ্চ বাণী শুনিলাম, তাহা ঐ সপ্ত দূতকে কহিল, তোমরা যাও, ঈশ্বরের রোষের ঐ সপ্ত বাটি পৃথিবীতে ঢালিয়া দেও।” 

খ্রীষ্টারী এবং তার যে সমস্ত লোক পৃথিবীতে রয়ে যাবে ঈশ্বর তাঁর সপ্তবাটির মহামারীর দ্বারা তাদের উপরে তাঁর ক্রোধ আনয়ন করবেন৷ ঈশ্বরের ক্রোধের প্রচন্ডতায় সমস্ত সৃষ্ট জীব ও মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, অনেক বছর যাবৎ তারা তাঁর সহিষ্ণুতার নিন্দা করবে এবং তারা মহামারীর দ্বারা যাতনাগ্রস্থ হবে, যার দ্বারা মহাক্লেশের বাকি বছরগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে৷ এই সময়ে পৃথিবী খন্ড খন্ড হয়ে ছাইয়ে পরিণত হবে, চূর্ণ-বিচূর্ণ এবং স্মরণাতীত ভাবে ধ্বংস হবে৷

প্রকাশিত বাক্য ১৬ অধ্যায়ে সপ্তবাটির মহামারী ঢালা হয়েছে৷ যারা এই শেষমুহূর্ত পর্যন্ত সুসমাচারকে না জানবে এবং বিশ্বাস না করবে, যা পরিত্রাণের জন্য সমস্ত সাক্ষ্যবহন করে, যা তাদেরকে প্রভুর দ্বারা উর্দ্ধে নীত হতে সাহায্য করে – অর্থাৎ জল ও আত্মার সুসমাচাকে, তারা সকলে এই মারী দ্বারা ধ্বংস হবে৷


পদ ২: “পরে প্রথম দূত গিয়া পৃথিবীর উপরে আপন বাটি ঢালিলেন, তাহাতে সেই পশুর ছাববিশিষ্ট ও তাহার প্রতিমার ভজনাকারী মনুষ্যদের গাত্রে ব্যথাজনক দুষ্ট ক্ষত জন্মিল।”

যারা পশুর ছাব ধারণ করবে, তাদের উপরে ঈশ্বরের দূত কর্ত্তৃক গাত্রে ব্যাথাজনক ও দুষ্ট ক্ষতের মারী ঢেলে দেওয়া হবে৷ এই দুষ্ট ক্ষত প্রতিকারহীন চর্মরোগ যা আক্রান্তের চর্মে দুষিত ক্ষতের সৃষ্টি করে, যার সংক্রমণ সংক্রমিত চর্ম ব্যতীতও ছড়িয়ে পড়বে৷ যখন তাদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ব্যাথাজনক ও দুষ্ট ক্ষতের মারী দ্বারা তারা আক্রান্ত হবে, সেই যাতনাভোগ কত ভয়াবহ হবে? যারা পশুর চর্ম ধারণ করবে তাদের উপরে ঈশ্বরের কেবল দুষ্ট ক্ষতের মারীই ঢালবেন না, বরং তাদের মস্তকে আরো ছয়টি মারী ঢালবেন৷ এইরূপে, সকলকে এই মারী হতে রক্ষা পেতে জল ও আত্মার সুসমাচারের মধ্যে উপায় খুঁজতে হবে এবং এখনই এই মুহুর্তে সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা এই ভয়াবহ মারী এড়াতে হবে৷

আমাদের প্রভু বলেন যে, যারা সেই পশুর এবং প্রতিমার ভজনা করে, তিনি তাদের উপরে আরো ছয়টি মারী ঢেলে দেবেন৷ কোন পশুটিকে ঈশ্বর সর্বাধিক ঘৃণা করেন? সেই পাপ হল ঈশ্বর ভিন্ন কিছু বা কারো প্রতিমা নির্মান করা এবং সেগুলোকে ঈশ্বর বলে স্বীকার করা এবং তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করা৷ অতএব, আমাদেরকে অবশ্যই সঠিকভাবে জানতে হবে যে, আমাদের প্রভু ঈশ্বর এবং যীশু খ্রীষ্টকে বিশ্বাস এবং তাঁর আরাধনা করতে হবে৷ প্রভু ঈশ্বর ব্যতীত এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের অন্য কিছু কখনোই আমাদের ঈশ্বর হতে পারে না৷

যদি আপনি প্রকৃতই দুষ্ট ক্ষতের মারী এবং তত্সঙ্গে ছয়টি মারী এড়াতে চান, তাহলে আপনি প্রভুর দেওয়া জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করুন এবং সুসমাচার সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণ করুন৷ অসংখ্য মানুষ যারা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে এবং জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করতে অস্বীকার করেছে, তারা চূড়ান্তভাবে ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত এই ছয়টি মারী হতে যন্ত্রণাভোগ করবে৷


পদ ৩: “পরে দ্বিতীয় দূত সমুদ্রের উপরে আপন বাটি ঢালিলেন, তাহাতে তাহা মৃত লোকের রক্তের তুল্য হইল, এবং সমস্ত জীবিত প্রাণী, সমুদ্রচর জীবগণ, মরিল।”

দ্বিতীয় মারীতে সমুদ্রের জল মৃত মানুষের রক্তে পরিণত হবে৷ এই মারীর মাধ্যমে ঈশ্বর সমুদ্রের সমস্ত জীবিত প্রাণী সমুদ্রচর জীবগনকে মেরে ফেলবেন৷ প্রভু কর্ত্তৃক এই দ্বিতীয় মারী ঢালার পরে সমুদ্র পঁচে যাবে এবং কোনো প্রাণী আর তাতে বেঁচে থাকতে পারবে না৷ অতএব, যখন ঈশ্বর এই দ্বিতীয় মারী আনয়ন করবেন তখন কোনো মানুষই সমুদ্র থেকে পাওয়া যায় এমন কোনো কিছুই আর খেতে পারবে না৷ দ্বিতীয় মারীর মধ্যে দিয়ে ঈশ্বর এটা প্রতীয়মান করবেন যে, তিনি জীবন্ত এবং তিনি সমস্ত জীবনের প্রভু৷

এই দ্বিতীয় মারী হল পৃথিবীর সেই সমস্ত লোকদেরকে প্রদান করা ঈশ্বরের বিচার, যারা প্রভু ঈশ্বর ব্যতিরেকে তাঁর সৃষ্টির ভজনা করে, যারা ঈশ্বরের শত্রু এবং যারা সাধুগণের রক্ত বইয়েছে৷ এই দ্বিতীয় মারী সর্বাধিক উপযুক্তও বটে৷ ঈশ্বর আমাদেরকে দেখিয়েছেন যে, তিনি তাদের থেকে এইভাবেই প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য্য তুলে নেবেন যারা ঈশ্বর কর্ত্তৃক সৃষ্টির নিমিত্ত প্রভুর ধন্যবাদ করে না৷


পদ ৪-৭ : “পরে তৃতীয় দূত নদনদী ও জলের উনুই সকলের উপরে আপন বাটি ঢালিলেন, তাহাতে সে সকল রক্ত হইয়া গেল। তখন আমি জলসমূহের দূতের এই বাণী শুনিলাম, হে সাধু, তুমি আছ ও তুমি ছিলে, তুমি ন্যায়পরায়ণ, কারণ এরূপ বিচারাজ্ঞা করিয়াছ; কেননা উহারা পবিত্রগণের ও ভাববাদীদের রক্তপাত করিয়াছিল; আর তুমি উহাদিগকে পানার্থে রক্ত দিয়াছ; তাহারা ইহার যোগ্য। পরে আমি যজ্ঞবেদির এই বাণী শুনিলাম, হাঁ, হে প্রভু ঈশ্বর, সর্ব্বশক্তিমান্‌, তোমার বিচারাজ্ঞা সকল সত্য ও ন্যায্য। ”

তৃতীয় মারী সমস্ত নদী এবং জলের উনুই সমূহকে রক্তে পরিণত করবে, প্রকৃতপক্ষে এটা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর একটা মারী যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না, তাদের পাপের শাস্তিস্বরূপ এই মারী জলের উনুই সমূহকে রক্তে পরিণত করবে৷ যা তাদেরকে সমস্ত জীবনের মূল উপাদান জলকে দেওয়া হয়েছিল, ঈশ্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শাস্তি এবং মূল্য হিসাবে প্রতিদান দেওয়া হবে৷

যারা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল তাদের উপরে যে কারণে তিনি মারী আনয়ন করবেন তা হল, যেহেতু তারা পৃথিবীতে থাকাকালীন তাঁর সাধু এবং ভাববাদীগণকে হত্যা করেছিল৷ তারা এমন লোক যারা ঈশ্বরকে বিশ্বাস করতেই কেবল অস্বীকার করে নি, কিন্তু খ্রীষ্টারীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তারা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল৷

খ্রীষ্টারীর ক্ষমতার দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে যারা এই পৃথিবীতে ঈশ্বরের প্রেমের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, তারা ঈশ্বরের অতি প্রিয়পাত্র সাধুগণ এবং দাসগণকে নির্যাতন ও হত্যা করবে৷ এই পৃথিবীর লোকদেরকে পাপ থেকে মুক্ত করতে আমাদেরকে যে জল ও আত্মার সুসমাচার দেওয়া হয়েছে, যারা এখন তা বিশ্বাস করবে না, শেষ সময়ে তারাই অনেক সাধু ও ভাববাদীগণকে হত্যা করবে ও রক্তপাত ঘটাবে৷ অতএব, এই পৃথিবীতে যেখানে ঈশ্বরের শত্রুরা বাস করছে, ঈশ্বর তাদের উপরে তাঁর তৃতীয় মারী ঢেলে দেবেন, জীবনের মূল উপাদান জলকে রক্তে পরিণত করবেন এবং এভাবে তাদেরকে ধ্বংস করবেন৷

এটাই ঈশ্বরের বিচার এবং এইজন্য স্বর্গে সাধুগণ আনন্দ করবে৷ কেন? কেননা যারা সাধুগণকে হত্যা করেছিল, সেই শত্রুদের উপরে তাঁর ধার্মিকতার বিচার আনয়নের দ্বারা ঈশ্বর তাদের উপরে সাধুগণের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেবেন৷ এইরূপে সাধুগণ ও ঈশ্বরের দাসগণ অবশ্যই ভয় করবে না, কিন্তু পরিবর্তে তারা প্রভু ঈশ্বরে তাদের বিশ্বাস রক্ষা করবে এবং যখন তারা সাক্ষ্যমরের মৃত্যুর মুখোমুখি হবে তখন তারা ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা ও প্রতাপের দিকে দৃষ্টিপাত করবে৷


পদ ৮-৯: “পরে চতুর্থ দূত সূর্য্যের উপরে আপন বাটি ঢালিলেন; তাহাতে অগ্নি দ্বারা মনুষ্যদিগকে তাপিত করিবার ক্ষমতা তাহাকে দত্ত হইল। তখন মনুষ্যেরা মহা উত্তাপে তাপিত হইল, এবং যিনি এই সকল আঘাতের উপরে কর্ত্তৃত্ব করেন, সেই ঈশ্বরের নামের নিন্দা করিল; তাঁহাকে গৌরব প্রদান করিবার জন্য মন ফিরাইল না।” 

সূর্যের মধ্যে স্বর্গদূত যেভাবে চতুর্থ মারী ঢেলে দেবে, তাতে লোকেরা এর মহা উত্তাপে তাপিত হয়ে মৃত্যুবরণ করবে৷ যারা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল তিনি তাদের উপরে সূর্যের উত্তাপের মারী আনয়ন করবেন৷ যেহেতু এই পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরছে, পৃথিবী যদি সেই কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয় এবং সূর্যের অতি কাছে চলে আসে , তাহলে এর অধিবাসী সকলে আগুনে পুড়ে মারা যাবে৷ এইরূপে, যখন চতুর্থ মারী ঢালা হবে, তখন এই পৃথিবীর উপরে বেঁচে থাকা সকলেই আগুনে পোড়ার যন্ত্রণা ভোগ করবে৷

তথাপি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য তারা তখনও অনুতপ্ত নয়৷ কেন? কারণ জল ও আত্মার সুসমাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য ধ্বংসেই তাদের গন্তব্য স্থির হয়েছে৷ অতএব, যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যেককেই তাদের বিশ্বাস প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তা তাদেরকে ঈশ্বরের ক্রোধ থেকে রেহাই পেতে সাহায্য করে৷ এই বিশ্বাস হল কারো পরিত্রাণ হিসাবে জল ও আত্মার সুসমাচার বিশ্বাস করা৷ অতএব প্রত্যেককে অবশ্যই জল ও আত্মার সত্যে বিশ্বাস করতে হবে৷



পদ ১০-১১: “পরে পঞ্চম দূত সেই পশুর সিংহাসনের উপরে আপন বাটি ঢালিলেন; তাহাতে তাহার রাজ্য অন্ধকারময় হইল, এবং লোকেরা বেদনা প্রযুক্ত আপন আপন জিহ্বা চর্ব্বণ করিতে লাগিল; এবং আপনাদের বেদনা ও ক্ষত প্রযুক্ত স্বর্গের ঈশ্বরের নিন্দা করিল; আপন আপন ক্রিয়া হইতে মন ফিরাইল না।”

পঞ্চম বাটির মারী এমন একটা মারী যা অন্ধকার এবং বেদনা আনয়ন করবে ঈশ্বর খ্রীষ্টারীর সিংহাসনের উপরে এই পঞ্চম বাটির মারী ঢেলে দেবেন এবং অন্ধকার ও বেদনার মারী আনয়ন করবেন৷ এই মারীর বেদনা এবং যাতনাভোগের কারণে লোকেরা তাদের জিহ্বা চর্ব্বন করবে৷ ঈশ্বর সাধুগণের হত্যার প্রতিশোধ নিতে তাদের উপরে দ্বিগুন যাতনা বাড়িয়ে দেবেন৷

অন্যকথায়, যেভাবে তারা সাধুগণকে যাতনা দিয়েছিল, তেমনি ঈশ্বরও তাদেরকে যাতনাভোগ দেবেন৷ তথাপি নিজেদের বেদনা ও ক্ষত প্রযুক্ত তারা ঈশ্বরের নিন্দা করবে৷ এইরূপে তাদের অগ্নি ও গন্ধকের দ্বারা অনন্ত নরকের শাস্তি ভোগ করতে হবে৷


পদ ১২: “পরে ষষ্ঠ দূত ইউফ্রেটীস মহানদীতে আপন বাটি ঢালিলেন; তাহাতে নদীর জল শুষ্ক হইয়া গেল, যেন সূর্য্যোদয় স্থান হইতে আগমনকারী রাজাদের জন্য পথ প্রস্তুত করা যাইতে পারে।”

ঈশ্বর কর্ত্তৃক ষষ্ঠ মারী হল দুর্ভিক্ষের মারী যা ইউফ্রেটিস নদীকে শুকিয়ে ফেলবে৷ এই মারী হতে মানবজাতি সবচেয়ে মহা যাতনাভোগের সম্মুখীন হবে৷ প্রত্যেকের জীবনে এই দুর্ভিক্ষের মারী হবে মহা-আতঙ্কের মারী৷ যারা প্রভুর দেওয়া জল ও আত্মার সুসমাচার ত্যাগ করেছিল, তাদের উপরে এই মারী ঢেলে দেওয়া হবে, এটা আমাদের দেখায় যে, যারা ঈশ্বরের প্রেম প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, তাদের নিমিত্ত এই শাস্তি কত ভয়াবহ৷ তারপরে স্বর্গের ঈশ্বরের সৈন্য এবং পৃথিবীতে শয়তানের সৈন্য যুদ্ধক্ষেত্রে চূড়ান্ত যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে৷ যাহোক, শয়তান এবং তার অনুসারীরা ঈশ্বর কর্ত্তৃক বন্দি ও ধ্বংস হবে৷ 


পদ ১৩: “পরে আমি দেখিলাম, সেই নাগের মুখ ও পশুর মুখ ও ভাক্ত ভাববাদীর মুখ হইতে ভেকের ন্যায় তিনটি অশুচি আত্মা বাহির হইল।”

এই পদ আমাদেরকে দেখায় যে, সমস্ত অশুচি আত্মার এবং দেবতার কার্যসমূহ শয়তানের তার পশু ও ভাক্ত ভাববাদীর মুখ থেকে উত্পত্তি হয়৷ যখন পৃথিবীর শেষকাল নিকটবর্তী হবে, তখন পৃথিবীব্যাপী দেবতাদের কার্যসমূহ প্রভাব বিস্তার করবে৷ শয়তান ভাক্ত ভাববাদী ও খ্রীষ্টারীর মধ্যে দিয়ে দেবতাগণ চিহ্ন কার্য সাধনের দ্বারা লোকদেরকে প্রতারিত করে তাদেরকে তাদের ধ্বংসের দিকে পরিচালিত করবে৷ শেষ সময়ের পৃথিবী এইভাবেই দেবতাদের পৃথিবীতে পরিণত করবে৷ কিন্তু যীশু খ্রীষ্টের দ্বিতীয় আগমন এবং সপ্ত বাটির মারী ঢেলে দেওয়ার দ্বারা তাদের পৃথিবীর সমস্ত আনয়ন করা হবে৷



পদ ১৪: “তাহারা ভূতদের আত্মা, নানা চিহ্ন-কার্য্য করে; তাহারা জগৎ সমুদয়ের রাজাদের নিকটে গিয়া, সর্ব্বশক্তিমান্‌ ঈশ্বরের সেই মহাদিনের যুদ্ধার্থে তাহাদিগকে একত্র করে।”

দেবতাদের আত্মাগণ পৃথিবীর সকল রাজাগণকে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে একত্রিত করার জন্য তাদের হৃদয়কে উদ্দীপ্ত করবে৷ শেষ সময়ের পৃথিবীতে প্রত্যেকের হৃদয়ে দেবতাগণের আত্মা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে এবং সে (নারী/পুরুষ) শয়তানের কার্য সাধন করে শয়তানের সেবকে পরিণত হবে৷


পদ ১৫: “দেখ, আমি চোরের ন্যায় আসিতেছি; ধন্য সেই ব্যক্তি, যে জাগিয়া থাকে, এবং আপন বস্ত্র রক্ষা করে, যেন সে উলঙ্গ হইয়া না বেড়ায়, এবং লোকে তাহার অপমান না দেখে।”

প্রভু চোরের ন্যায় এই পৃথিবীতে আসবেন; এবং সপ্তবাটির মারী ঢালা পর্যন্ত যারা তাদের বিশ্বাস রক্ষা করেছে এবং জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার করেছে তারা মহাআশীর্বাদ যুক্ত হবে৷ আমাদের প্রভু পৃথিবীর শেষ সময়ে বাস করা সাধুগণকে বলেন যে, তাদেরকে অবশ্যই তাঁর জল ও আত্মার সুসমাচারে তাদের বিশ্বাসের দ্বারা জীবনযাপন করতে হবে এবং তাদের শেষ দিন পর্যন্ত এই বিশ্বাস রক্ষা করতে হবে৷ যারা প্রভুর সপ্ত বাটির মারী ঢালার পূর্বে প্রভুতে তাদের বিশ্বাস রক্ষা করেছে, তারা তাঁর থেকে মহা পুরস্কার লাভ করবে৷ যাদের তিনি তাঁর অনুগ্রহ প্রদান করবেন, তাদেরকে খুঁজতে নিশ্চয় আমাদের প্রভু আবার আসবেন৷


পদ ১৬: “পরে উহারা, ইব্রীয় ভাষায় যাহাকে হর্‌মাগিদোন বলে, সেই স্থানে তাহাদিগকে একত্র করিল।”

বাইবেলের ভাববাণী বলে যে, হর্‌মাগিদোন নামক স্থানে ঈশ্বর এবং শয়তানের মধ্যকার চূড়ান্ত যুদ্ধ সংঘটিত হবে৷ কিন্তু যেহেতু ঈশ্বর সর্বময় ক্ষমতাশালী, তাই তিনি শয়তানের উপরে জয়লাভ করবেন এবং সেই পশুকে অগ্নি ও গন্ধকের হ্রদে নিক্ষেপ করবেন৷ আমাদেরকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, শয়তান সর্বদায় একজন প্রতারণাকারী এবং প্রভুর সাক্ষাতে দাঁড়ানোর দিন পর্যন্ত আমাদেরকে অবশ্যই দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস ধারণ করতে হবে৷


পদ ১৭-২১ : “পরে সপ্তম দূত আকাশের উপরে আপন বাটি ঢালিলেন, তাহাতে মন্দিরের মধ্য হইতে, সিংহাসন হইতে, এই মহাবাণী বাহির হইল, ‘হইয়াছে’। আর বিদ্যুৎ ও শব্দ ও মেঘধ্বনি হইল, এবং এক মহাভূমিকম্প হইল, পৃথিবীতে মনুষ্যের উৎপত্তিকাল অবধি যেমন কখনও হয় নাই, এমন প্রচণ্ড মহাভূমিকম্প হইল। তাহাতে মহানগরী তিন ভাগে বিভক্ত হইল, এবং জাতিগণের নগর সকল পতিত হইল; এবং মহতী বাবিলকে ঈশ্বরের সাক্ষাতে স্মরণ করা গেল, যেন ঈশ্বরের ক্রোধের রোষমদিরাতে পূর্ণ পানপাত্র তাহাকে দেওয়া যায়। আর প্রত্যেক দ্বীপ পলায়ন করিল, ও পর্ব্বতগণকে আর পাওয়া গেল না। আর আকাশ হইতে মনুষ্যদের উপরে বৃহৎ বৃহৎ শিলাবর্ষণ হইল, তাহার এক একটী এক এক তালন্ত পরিমিত; এই শিলা-বৃষ্টিরূপ আঘাত প্রযুক্ত মনুষ্যেরা ঈশ্বরের নিন্দা করিল; কারণ সেই আঘাত অতিশয় ভারী।”

ঈশ্বর যখন আকাশে সপ্তবাটির সপ্তম মারী ঢেলে দেবেন, তাতে বিদ্যুত এবং মেঘগর্জনে আকাশ ধ্বংস হয়ে যাবে৷ এমন ভূমিকম্প হবে যা পূর্বে কখনও দেখা যায় নি তাতে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে৷ এই বিপর্যয়ের দ্বারা প্রথম পৃথিবী লুপ্ত হবে৷ এর পরে সাধুগণ এই নতুন পৃথিবীতে যীশু খ্রীষ্টের সাথে গৌরবযুক্ত হয়ে সহস্র বছর বাস করবে৷

যখন সহস্র বছর পার হয়ে যাবে এবং সাধুগণের জন্য ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাত নুতন আকাশ ও নুতন পৃথিবী আসবে, তখন ঈশ্বর প্রথম পৃথিবীকে লুপ্ত করবেন এবং সাধুগণকে নুতন আকাশ ও নুতন পৃথিবী প্রদান করবেন৷ সাধুগণ তখন অনন্তকালের নিমিত্ত ঈশ্বরের সাথে নুতন আকাশ ও নুতন পৃথিবীতে বাস করবে৷ সাধুগণকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, তারা সহস্র বছর খ্রীষ্টের রাজ্যে বাস করবে সেখানে অনন্তকাল গৌরবে জীবনযাপন করবে৷ তাদেরকে এই আশা এবং প্রভুর পুনরাগমনের প্রত্যাশায় জীবনযাপন করতে হবে৷