Sermons

[18-2] < প্রকাশিত বাক্য ১৮:১-২৪> “হে আমার প্রজাগণ, উহা হইতে বাহিরে আইস, যেন উহার পাপ সকলের সহভাগী না হও, এ



< প্রকাশিত বাক্য ১৮:১-২৪>


১৮ অধ্যায়ে ঈশ্বর আমাদেরকে বলেন যে, তিনি তাঁর মারী দ্বারা মহতি বাবিলকে ধ্বংস করবেন৷ কারণ ঈশ্বরের দৃষ্টিতে শেষ সময়ের পৃথিবী অতিমাত্রায় মালিন্যতা এবং পাপের পৃথিবীতে পরিণত হবে এবং ঈশ্বরের নিজের সৃষ্টি করার সত্ত্বেও তিনি এই পৃথিবীকে ধ্বংস করবেন, তিনি মহা রহস্যে উদঘাটনমূলক মারী অনুমোদন করবেন যা পৃথিবীকে শেষ করবে৷ এই পৃথিবীরে সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত আঘাত হানা হবে৷

যেহেতু ঈশ্বর তাঁর সাধুগণ ও ভাববাদীগণের রক্ত দেখবেন, মূলত সেই কারণেই তিনি পৃথিবী ধ্বংস করবেন৷ আর যেহেতু এই পৃথিবীতে ঈশ্বরের দেওয়া বিষয়বস্তুর দ্বারা সব রকমের নোংরামিতে এত মারাত্মকভাবে ছেয়ে যাবে যা সহ্য করা ঈশ্বরের পক্ষে খুবই কঠিন হবে৷ ঈশ্বর সবচেয়ে সুন্দর যে গ্রহটি সৃষ্টি করেছেন সেই গ্রহটি হল পৃথিবী৷ যেহেতু ঈশ্বর সুক্ষ বুদ্ধিতে এই পৃথিবীর উপরে কাজ করেছেন এবং এটা ঈশ্বরের সংকল্পের স্থান এবং যীশু খ্রীষ্টেতে পাপীদের রক্ষা করার কার্য সাধনের স্থান৷

তত্সত্ত্বেও, ঈশ্বর কিভাবে এই পৃথিবী ধ্বংস করেন এবং কিভাবে তিনি খ্রীষ্টের রাজ্য আনয়ন করবেন সে সম্পর্কে ইতিমধ্যে তিনি সংকল্প করেছেন৷ এই পৃথিবী যখন সর্বপ্রকার মালিন্যতায় পূর্ণ হবে, ঈশ্বর তখন তাঁর দূতগণ দ্বারা সপ্তবাটির মারীর মধ্য দিয়ে এই পৃথিবী ধ্বংস করবেন৷ তারপরে সমস্ত কিছু নুতনীকরণ করবেন এবং তাঁর নুতন পৃথিবীতে তাঁর সাধুগণকে রাজত্ব দেবেন৷



বাবিল নগরীর পতন


পৃথিবীর রাজগণ জগতের বিষয়বস্তুর সাথে বেশ্যাক্রিয়া করেছিল এবং বিলাসিতায় জীবনযাপন করেছিল, যেখানে বনিকেরাও ঈশ্বরের দেওয়া সবকিছু ক্রয়-বিক্রয় করতে ব্যস্ত ছিল৷ তারা লোভের বশবর্তী হয়ে স্বয়ং ঈশ্বরকে হারিয়ে ফেলেছিল৷ ঈশ্বর সবকিছুই ধ্বংস করবেন এবং সকল অট্টালিকা, ধর্মসকলের মধ্যকার পণ্যদ্রব্য, যে সমস্ত লোকেরা ধর্মের মধ্যে দিয়ে ধনবান, রাজা, রাজনীতিবিদ হয়েছিল, সে সমস্ত লোকেরা বস্তুগত সম্পত্তির দ্বারা আবিষ্ট এবং এইরূপে আরো যারা রয়েছে, তারা সকলেই ঈশ্বর কর্ত্তৃক ধ্বংস হবে৷

ঈশ্বর পৃথিবীর প্রত্যেকটা অট্টালিকা ধ্বংস করবেন এবং একটিও দাঁড়িয়ে থাকবে না, আর লোকবৃন্দ থেকে বনবৃক্ষ দ্বারা তাঁর অগ্নি দ্বারা তিনি ধ্বংস করবেন৷ যখন পৃথিবীর সমস্ত জিনিস এভাবে পতিত হবে, লোকেরা বিলাপ এবং রোদন করবে৷ বিশেষতঃ ধর্মের মধ্যে দিয়ে যারা নিজেদেরকে ধনবান করেছে, ঈশ্বর নিশ্চয় তাদেরকে ধ্বংস করবেন৷ এই ঘটনা আমাদের পূর্ব থেকেই জানা এবং বিশ্বাস করা গুরুত্বপূর্ণ যে, ঈশ্বর নিজে যে সুন্দর পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন তা তিনি এভাবে ধ্বংস করবে৷

এই সময়ে যারা যীশু খ্রীষ্টের প্রথম পুনরুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিল, ঈশ্বর সেই সমস্ত নুতন জন্ম প্রাপ্ত সাধুগণকে সহস্রাব্দের রাজ্যে রাজত্ব করতে দেবেন৷ জল ও আত্মার সুসমাচার প্রচার এবং জগতে থাকাকালীন সময়ে বিশ্বাস রক্ষার্থে সাক্ষ্যমর হওয়ার জন্য ঈশ্বর প্রভুর রাজ্যের দ্বারা সাধুগণকে পুরস্কৃত করবেন৷ ঈশ্বর তাদেরকে পাঁচ, দশ, ও দুই নগরীর উপরে কর্ত্তৃত্ব প্রদান করবেন এবং তাদেরকে সহস্র বছর রাজত্ব করতে দেবেন, আর এর পরে, তাদের বসবাসের জন্য তিনি তাদেরকে নুতন আকাশ ও নুতন পৃথিবী প্রদান করবেন৷ 

তাহলে ঈশ্বর কেন সমগ্র বিশ্বব্রহ্মান্ডের সবচেয়ে সুন্দর গ্রহটিকে ধ্বংস করতে যাচ্ছেন? কেবলমাত্র এই পৃথিবী গ্রহের উপরেই নদীতে মাছ সাঁতার কাটতে , বনে বন্য প্রাণীরা অনায়াসে ঘুরে বেড়াতে এবং মানবজাতি বসবাস করতে পারে৷ কিন্তু যে পৃথিবীতে পাপের এত আধিক্য সেখানে ঈশ্বর আর ধৈর্য্য ধরতে পারবেন না, তিনি তাঁর মারী দ্বারা এই পৃথিবীকে সম্পূর্ণ ধ্বংসে পতিত করবেন৷

যারা রক্ষা পেয়েছে তারা ব্যতীত এই পৃথিবীর প্রত্যেকে সপ্তবাটির মারী দ্বারা ধ্বংস হবে৷ কেননা শেষ সময়ে ধার্মিকেরা পৃথিবী কর্ত্তৃক নির্যাতিত, পীড়িত এবং সাক্ষ্যমর হবে, আর এই মন্দ কাজে ফিরে যাবার জন্য ঈশ্বর পৃথিবীকে ঘৃনা ভরে পদদলিত করবেন৷ যখন এই সময় আসবে, তখন ধর্মীয় নেতাগণ এবং যে ব্যবসায়ীগণ লোকেদের আত্মা নিয়ে ব্যবসা করছিল, তারা সকলেই ধ্বংস হবে৷ যারা নুতন জন্ম পাওয়া ব্যতীত ধর্মীয় নেতাগণের ন্যায় কাজ করছিল,ঈশ্বর কেবল তাদের বধই করবেন না, বরং তিনি তাদেরকে শয়তানের সঙ্গে অগ্নি ও গন্ধকের হ্রদেও নিক্ষিপ্ত করবেন৷৷ 

ঈশ্বর অবশ্যম্ভাবীভাবে এই পৃথিবী ধ্বংস করবেন৷ এইরূপে লেশমাত্র সন্দেহ ব্যতিত আমাদেরকে উপলব্ধি ও বিশ্বাস করতে হবে যে, এই পৃথিবী ধ্বংসের নিমিত্ত৷ যে সমস্ত বনিকগণ বিভিন্ন প্রকারের মহামূল্য দ্রব্য সমূহের দম্ভ করেছিল, এবং তাদের ধর্মের দ্বারা লোকেদের আত্মা সমূহকে কেনাবেচা করেছিল, তাদের সকলকে ঈশ্বর ধ্বংস করবেন৷ ঈশ্বরের মারী আসন্ন প্রায়, তথাপি লোকেরা এখনও তাদের বিশ্বাসে উদ্ধত রয়ে গেছে৷ এই পৃথিবীর ধর্মীয় নেতাদের প্রতি একবার দৃষ্টিপাত করুন৷ যদিও তারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে ঠিক কাজটা করছে, তথাপি তারা কি অহংকারী নয়? এই ধরনের লোকেদের কাজ কি ঈশ্বর অনুমোদন করবেন?

ঈশ্বর যদি বলে থাকেন যে, লোকেদের পাপের নিমিত্ত তিনি এই পৃথিবী ধ্বংস করবেন, তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই এইরূপ বিশ্বাস করতে হবে, যেহেতু ঈশ্বর যেভাবে বলেছেন সেভাবেই সমস্ত বিষয় ঠিক ঠিক ভাবে ঘটে যাবে৷ আর আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের বিশ্বাস রক্ষা করতে হবে৷ ধর্মে বিশ্বাসী যে সমস্ত লোকেরা তাদের নিজস্ব মতবাদ তৈরী করে এবং অদ্ভুত ঘটনার আগমনের কথা বলে, আমি তাদের কারো মত বলছি না, কিন্তু আমি এটা বলছি যেহেতু শাস্ত্রে ঈশ্বর আমাদেরকে যা বলেছেন তা অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে- অর্থাৎ, জীবন্ত ঈশ্বর অবশ্যম্ভাবীভাবে সপ্তবাটির মহামারী দ্বারা এই পৃথিবী ধ্বংস করবেন৷



আমরা অবশ্যই এই জগতে নিজেদের ইচ্ছা চরিতার্থ করব না, যা শীঘ্রই ধ্বংস হবে


এইরূপে আমরা অবশ্যই এই পৃথিবীর বস্তুগত সম্পত্তি সংগ্রহের দ্বারা তাতে আবিষ্ট হব না, যা শীঘ্রই ধ্বংস হয়ে যাবে৷ ঈশ্বর আমাদেরকে যা দিয়েছেন আমরা অবশ্যই তাতে সন্তুষ্ট থাকব এবং ঈশ্বর যেভাবে সন্তুষ্ট হন সেইভাবে সেগুলোকে ব্যবহার ও বন্টন করব৷ ঈশ্বরের সেবা করতে পার্থিব বিষয়বস্তুর প্রয়োজন রয়েছে৷ আমাদেরকে অবশ্যই ঈশ্বরের দেওয়া সুসমাচার প্রচার করবার নিমিত্ত পরিচালিত হতে বিশ্বস্ত দাস হিসাবে জীবনযাপন করতে হবে৷ যেহেতু আমরা বিশ্বাস করি যে, ঈশ্বর এই পৃথিবী ধ্বংস করবেন, তাই আমরা অবশ্যই পার্থিব বিষয়বস্তুর সাথে জড়িত হব না৷

এই পৃথিবীর এবং এর সম্পদের মূল্য চিরস্থায়ী হবে, এইরকম বোকামির চিন্তা আমরা অবশ্যই করব না৷ ঈশ্বর সমস্ত ধর্মীয় নেতা এবং তাদের অনুসারীদেরকে পদতলে দলিত করবেন, এটা জেনে আমাদেরকে অবশ্যই প্রভুর আগমন দিনের নিমিত্ত প্রতীক্ষায় জীবনযাপন করতে হবে৷ যদি তেমনটি না করি, তাহলে শেষপর্যন্ত আমরা এমন একটি পৃথিবীতে গিয়ে পতিত হব যা দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাবে৷ এইরূপে ধ্বংসের সম্মুখীন হওয়া পৃথিবীতে নিজেদেরকে পতিত না হতে দিতে আমাদেরকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, পৃথিবী নামক এই গ্রহটি বাস্তবিকই ধ্বংস হয়ে যাবে৷ 

ঈশ্বর সর্বদায় জীবন্ত এবং যখন সময় আসবে, তিনি যা বলেছিলেন, তা তিনি সাধন করবেন৷ এটা সত্য যে, নুতন জন্ম প্রাপ্তদের মধ্যে অনেকে আছে যাদের বিশ্বাস এখনও পরিপক্ক হয় নি, তত্সত্ত্বেও আমাদের সকলকে অবশ্যই নিঃসন্দেহে বিশ্বাস করতে হবে৷ আর আমাদের সকলকে আর একবার জাগ্রত হতে হবে৷ আমরা অবশ্যই এই পৃথিবীতে আমাদের হৃদয়কে ভ্রষ্ট করব না, যে পৃথিবী শীঘ্র ধ্বংস হবে, বরং বিপরীতে আমাদেরকে অবশ্যই ঈশ্বরের বাক্যে দৃঢ় এবং অবিচলিত বিশ্বাস স্থাপন করে জীবনযাপন করতে হবে৷ কোনো কোনো সময় আমাদের হৃদয় দুর্বল হতে পারে, কিন্তু তখনও আমাদেরকে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে জীবনযাপন করতে হবে৷

এই পৃথিবীতে ঈশ্বর আমাদের নিমিত্ত যে সমস্ত কার্য করবেন সে সকল চমত্কার৷ ধার্মিকেরা দারুণভাবে নিরাশ হবে, তথাপি ঈশ্বর কি এই পৃথিবীকে ধ্বংস করবেন না এবং এর স্থলে খ্রীষ্টের নুতন রাজ্য নির্মাণ করবেন না? এ কারণেই ঈশ্বরের পরিকল্পনা অতি চমত্কার এবং তা ধার্মিক সাধুগণদের প্রত্যাশা প্রদান করে৷

যদি অবিশ্বাসীদের মধ্যে দর্প থাকে এবং এই পৃথিবীতে থাকা অবস্থায় তারা যদি সুখে জীবনযাপন করে এবং পরবর্তিতে তারা যদি আমাদের সাথে স্বর্গে প্রবেশ করে, তাহলে এটা আমাদের প্রতি খুবই অন্যায় বিচার হবে, যা ঘটতে ঈশ্বর কখনই অনুমোদন করবেন না৷ যারা ধার্মিকদেরকে নির্যাতন করবে, তাদের মিথ্যা দ্বারা ধার্মিকদেরকে নিপীড়িত করবে এবং যারা সাধুগণের রক্তপাত ঘটাবে, ঈশ্বর তাদের সকলের বিচার করবেন এবং ধ্বংস করবেন, কারণ ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা ন্যায্য ও সঠিক৷

পাপীদের নিমিত্ত যদি ঈশ্বরের বিচার না থাকত, তবে যে সমস্ত ধার্মিকেরা সকল প্রকার সমস্যা এবং কঠিনতা সত্ত্বেও ধৈর্য্যসহকারে প্রভুর পক্ষে তাদের সমস্ত জীবনযাপন করেছে, তাহলে কি এটা তাদের প্রতি অন্যায় বিচার হবে না? অতএব এটা ঠিক যে, ঈশ্বর এই পৃথিবীর ন্যায্য বিচার করবেন৷ যখন এই পৃথিবী নোহের সময়ের পৃথিবীর ন্যায় হবে, তখন ঈশ্বর অবশ্যম্ভাবীভাবে সম্পূর্ণ পৃথিবীকে ওলটপালট ও ধ্বংস করবেন৷

যেহেতু আমরা প্রভুতে বিশ্বাস করি, তাই আমরা পৃথিবীর লোকেদের মোটেই ঈর্ষা করি না৷ কেননা প্রভু বলেছেন যে, তিনি এই পৃথিবীর বিচার করবেন, এবং শয়তান, খ্রীষ্টারী ও তার অনুসারীদেরকে নরকের অগ্নিতে নিক্ষেপ করবেন, তাই আমরা সকলে এর জন্য দৃঢ়ভাবে প্রতীক্ষা করতে পারি৷

ঈশ্বরের বাক্যের সমস্ত ভাববাণী অনুসারে এই পৃথিবী ধ্বংস হওয়া থেকে ক্ষণকাল দুরে রয়েছে৷ সমগ্র পৃথিবীব্যাপী ইতিমধ্যে আমরা শেষ সময়ের এবং মারীর অত্যাসন্ন আবির্ভাবের চিহ্ন দেখেছি৷

বিস্ময়কর বাহ্যিক ব্যাপারের ন্যায় অস্বভাবিক আবহাওয়া এবং ম্যাড কাউ রোগের ন্যায় নতুন রোগ যা এই পৃথিবীকে আন্দোলিত করছে৷ অপ্রতিরোধ্য রোগ যা মানবজাতি প্রতিরোধ করতে পারছে না, সে সমস্ত রোগ পৃথিবীকে গ্রাস করছে, বৃহদাকারের অকল্পনীয় প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেমন- মহা দুর্ভিক্ষ এবং ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প সমগ্র পৃথিবীকে আঘাত করছে৷

যখন এই সমস্ত ঘটনা ঘটছে, তখন আমাদেরকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, ঈশ্বরের সত্ত্বা রয়েছে, এবং এটা জেনে জীবনযাপন করতে হবে যে, যারা এই পৃথিবীতে থাকা অবস্থায় সম্পদ জমানোর লালসায় জীবন ধারণ করে, ঈশ্বর তাদের বিচার করবেন এবং তাদেরকে ধুলিসাৎ করবেন৷ আজকের পৃথিবীতে পাপের দৌরাত্ম অত্যাধিক বেড়ে গেছে৷ এই পৃথিবী বিলাসিতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে৷ লোকেরা বিবাহ করতে, ভোজন-পান করতে অতিশয় ব্যস্ত, এবং তাদের ঘরবাড়ি তৈরী করতে এত ব্যস্ত যে, আত্মিক বিষয়ে কোনো মনোযোগ নেই৷ আজকের পৃথিবী এমন একটা পৃথিবী যেখানে পুরুষে পুরুষে কুত্সিত ক্রিয়া সম্পন্ন করছে এবং অসংখ্য স্ত্রীলোকেরা পরস্পর কামানলে প্রজ্বলিত হচ্ছে (রোমীয় ১:২৭)৷

বর্তমান পৃথিবী কি নোহের সময়ের ন্যায় নয়? আপনি হয়ত “পায়ুকাম” শব্দের শব্দপ্রকরণ জানেন৷ সদোম ঘমোরা যখন ধ্বংস হয়েছিল, তখন তাদের সভ্যতাও আমাদের বর্তমান পৃথিবীর সভ্যতার মত ছিল৷ এই পৃথিবী খুবই নোংরা এবং পাপে পূর্ণ হয়ে গেছে, এবং এগুলো প্রসারিত হয়ে সম্পূর্ণ দেবতাদের অধিকৃত পৃথিবীতে পরিণত হয়েছে৷



ভাক্ত ভাববাদীগণ মৃত্যুতে সমর্পিত হবে


ভাক্ত ভাববাদীগণ সর্বদা বস্তুগত সম্পত্তি এবং অবৈধ সম্পদ রাশি করার প্রচেষ্টায় রত এবং সেগুলো তাদের সায়ত্বশাসিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পেছনে গোপন করছে৷ “আপনি যদি যীশুতে বিশ্বাস করেন, আপনি ধনী হবেন, ভালো থাকতে পারবেন এবং আপনার রোগ হতে আরোগ্য হতে পারবেন” – আপনাকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, এরূপ প্রতিটি মিথ্যার পেছনে বস্তুগত সম্পত্তির গোপন উদ্দেশ্য বর্তমান থাকে৷

কোরিয়াতেও বহু কাল যাবৎ খ্রীষ্টিয়ান সম্প্রদায় তাদের মৌলিক বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিল এবং কলুষিত হয়েছিল, যীশু নামের মধ্যে দিয়ে অনেক দেবতার দৌরাত্ম বৃদ্ধি পেয়েছিল৷ এটাই আজকের খ্রীষ্টিয়ান সম্প্রদায়ের বাস্তবতা৷ কিন্তু যে সমস্ত ভাক্ত ভাববাদীরা পৃথিবীর বস্তুগত সম্পত্তির সাথে বিশ্বাসের পরিমাপ করে, এবং যারা ঈশ্বরের বাক্য দ্বারা জাদু বিদ্যার ক্রিয়া করে, তাদের নিমিত্ত তাঁর নরকের ভয়ঙ্কর বিচার এবং সপ্তবাটির মহামারী অপেক্ষা করছে৷ 

ঈশ্বর আমাদেরকে বলেন যে, যারা লোকদেরকে ঠকায় এবং যারা ভাক্ত ভাববাদী কর্ত্তৃক প্রতারিত হয় তারা উভয় এক, এবং তারা বিচারিত হবে৷ আমরা অবশ্যই পৃথিবীর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করব না এবং অনুসরণ করব না৷ বরং আমরা অবশ্যই বিশ্বাস করব যে, ঈশ্বর জীবন্ত, যারা যীশুতে বিশ্বাস করে না, তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়ায় এবং ধার্মিকদেরকে অত্যাচার করে, তারা সকলে বিচারিত হবে এবং অনন্ত মৃত্যুতে দন্ডিত হবে৷ আর আমাদেরকে অবশ্যই আরো বিশ্বাস করতে হবে যে, এভাবে পৃথিবীর বিচার করার পরে ঈশ্বর ধার্মিকগণকে যীশু খ্রীষ্টের নামের নিমিত্ত তাদের সকল দুঃখ এবং যাতনাভোগ করার জন্য পুরস্কৃত করবেন৷