Search

Khotbah-Khotbah

বিষয় ৯: রোমীয় পুস্তক (রোমীয় পুস্তকের ভাষ্য)

[14] অন্যের বিচার করোনা

 রোমীয় ১৪:১ পদে আছে, “বিশ্বাসে যে দূর্বল, তাহাকে গ্রহণ কর, কিন্তু তর্ক বিতর্ক সম্বন্ধীয় বিষয়ের বিচারার্থে নয়।”
 পৌল রোমের সাধুদের সতর্ক করে বলেছিলেন, তোমরা একে অন্যের বিশ্বাসের বিচার বা সমালোচনা করো না, ঐ সময়ে রোমের মন্ডলীতে অতীশয় বিশ্বস্ত এবং অল্প বিশ্বস্ত এই উভয়ের মধ্যে বিশ্বাস নিয়ে তর্ক বিতর্ক হয়েছিল। যদি এরূপ আপনার প্রতি ঘটে, আপনি অবশ্যই পরস্পরকে সম্মান করবেন এবং ঈশ্বরের দাসগণের বিরুদ্ধে যে কোন তর্ক বিতর্ক থেকে দূরে থাকবেন। ইহা ঈশ্বরের বিষয়, আমাদের বিষয় নয়, তাঁর দাসগণকে জাগাবেন এবং তৈরী করবেন।
 এমন কি ঈশ্বরের মন্ডলীতে বিশ্বাসীদের মধ্যে অনেক সমস্যা উৎপন্ন হয়। যদি আমরা তাদের বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টি করি, আমরা বিশ্বাসের ধরণ খুঁজে পাব। কেহ কেহ তাদের পাপ মোচনের পূর্বে ব্যবস্থার অধীন ছিল, এবং এরূপে তাদের পুরানো বিধিবদ্ধ বিশ্বাসের চিহ্ন অদ্যপি ধরে রেখেছে। 
 কোন কোন খ্রীষ্টিয়ান মহাগুরুত্ব সহকারে তাদের খাদ্য বেছে গ্রহণ করে থাকে। উদাহরণ সরূপ, লোকেরা এরূপ বিশ্বাস করে যে তারা অবশ্যই শুকর খাবে না। অন্যরা বিশ্বাস করে যে তারা যে কোন অবস্থার প্রেক্ষিতে অবশ্যই বিশ্রাম দিন পালন করবে। কিন্তু আমরা অবশ্যই ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস দ্বারা আমাদের বিভিন্নতার মীমাংসা করতে পারি, এবং এরূপ ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে পরস্পর তর্ক বিতর্ক করতে পারি না। এই হল মূল বিষয় যা পৌল বলেছিলেন।
 পৌল ১৪ অধ্যায়ে শিক্ষা দিয়েছেন যে আমরা আমাদের সহ বিশ্বাসীদের দূর্বলতা দিয়ে কোন তর্ক বিতর্ক করব না, যদি তাদের ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস থাকে। কেন নয়? কারণ যদিও দূর্বল, তথাপি তারা ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে।
 বাইবেল ঐ বিষয়গুলি বিবেচনা করে যারা ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে তাদের পাপ থেকে মুক্তি পেয়ে ঈশ্বরের মহা মূল্যবান লোক হয়েছে। যদিও তরা পরস্পরের চোখে অপর্যাপ্ত মনে হতে পারে, তথাপি ঈশ্বর আমাদিগকে আদেশ করছেন অন্য বিশ্বাসাদের বিশ্বাসকে তুচ্ছ করো না। এই কারণে যদিও তারা মাংসে অপর্যাপ্ত তথাপি তারা বিশ্বাস দ্বারা ঈশ্বরের সন্তানরূপে পরিনত হয়।
 


প্রত্যেকের বিশ্বাস পারস্পর থেকে ভিন্ন

 
 ২-৩ পদে আছে, “এক ব্যক্তির বিশ্বাস আছে যে, সর্ব প্রকার দ্রব্যই খাইতে পারে। কিন্তু যে দূর্বল, সে শাক খায়। যে যাহা ভেজন করে, সে এমন ব্যক্তিকে তুচ্ছা না করুক, যে তাহা ভোজন করে না; এবং যে যাহা ভোজন না করে, সে এমন ব্যক্তির বিচার না করুক, যে তাহা ভোজন করে; কারণ ঈশ্বর তাহাকে গ্রহণ করিয়াছেন।”
 ঈশ্বরের দাসগণের মধ্যে তাঁর ধার্মিকতায় বিশ্বাস এবং তাঁকে অনুসরণ করার বিষয় প্রভেদ থাকতে পারে। পরিত্রাণের বিশ্বাস একই, কিন্তু তাঁর বাক্যে বিশ্বাসের পরিমানের মধ্যে প্রভেদ থাকতে পারে। 
 যদি কোন বিধিসংগত ব্যক্তির ঈশ্বরের ধার্মিকতার সুসমাচারে বিশ্বাস দ্বারা নূতন জন্ম হয়ে থাকে, তবে তার ঈশ্বরের ধার্মিকতায় সম্পূর্ণ বিশ্বাস দ্বারা নিজের ধার্মিকতা পরিত্যাগ করা প্রয়োজন। এরূপ লোকেরা বিশ্রামবারের মহা গুরুত্ব পর্যবেক্ষণ করতে মনোযোগী হয়, তবে আপনি তাদেরকে তুচ্ছ করবেন না কারণ তারাও ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে। 
 ঈশ্বর তাদের বিশ্বাস হেতু সন্তুষ্ট যারা তাঁর ধার্মিকতা জানে এবং বিশ্বাস করে। তিনি তাদেরকে তাঁর জাতি হিসেবে নিয়েছেন। অতএব যারা বাস্তবিক ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে, দূর্বল বিশ্বাসীদের মধ্যে তর্ক বিতর্ক হওয়া সত্ত্বেও তাদের সহ বিশ্বাসীদের প্রত্যেক কার্য্যে উৎসাহিত করবে।
 


আমরা অবশ্যই ঈশ্বরের দাসগণের বিচার করব না

 
 ৪পদ বলছে, “তুমি কে, যে অপরের ভূত্যের বিচার কর? নিজ প্রভুরই নিকটে হয় সে স্থির থাকে, নয় পতিত হয়। বরং তাহাকে স্থির রাখা যাইবে, কেননা প্রভু তাহাকে স্থির রাখিতে পারেন।” 
 আমরা অবশ্যই ঈশ্বরের দাসগণের সত্যতা স্বীকার করব, যাদের বিশ্বাস হেতু ঈশ্বর তাদের অনুমোদন করেছেন। আপনি কী খ্রীষ্টিয় জীবন যাপন করতে গিয়ে ঈশ্বরের দাসগণের নিন্দা ও বিচার করবেন? তাহলে ঈশ্বর আপনার বিশ্বাসকে আরও বেশি ভৎর্সনা করবেন। যদি আপনি ঐ বিশ্বাসের নিন্দা করেন যাকে ঈশ্বর মনোনীত করেছেন বরং আপনি তাদের পছন্দ করেন না, আপনি নিজে ঈশ্বরের বিচারাসনের সামনে দাড়াবেন এবং তাঁর দাসগণের বিচার করবেন। ইহা ঠিক নয়। বরং আপনি কৃতজ্ঞচিত্তে ঈশ্বরের দাসগণকে গ্রহণ। করুন যাকে আপনি অপছন্দ করেন এবং তাদের আদেশ উপদেশ মান্য করুন যাহা ঈশ্বরের ধার্মিকতার গুণে উত্তেলিত হয়েছে।
 ঈশ্বর অবশ্যই আমাদের বিশ্বাস অনুমোদন করবেন। আমাদের প্রকৃত বিশ্বাস থাকবে; যে আমরা ঈশ্বরের প্রশংসা ও পুরষ্কার প্রাপ্তির সদগুণের অধিকারী হব। কারণ ঈশ্বর আমাদের জীবন যীশু খ্রীষ্টের কাছে উৎসর্গ করার অনুমোদন করেছেন, আমরা তাঁর ধার্মিকতার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ দিই। ঈশ্বর যাদের অনুমোদন করেছেন আমরা অবশ্য তাদেরকে অনুমোদন করব, এবং অননুমোদন করব যাদেরকে ঈশ্বর অননুমোদন করেছেন। আমি আশা করি যে আপনাদের নিজের ধার্মিকতার পরিবর্তে আপনি তাঁর ধার্মিকতায় বিশ্বাস দ্বারা ঈশ্বরকে গৌরবান্বিত করবেন। আমি আশা করি যে, ঈশ্বর আপনার বিশ্বাস অনুমোদন করবেন। তাঁর ধার্মিকতায় আপনার বিশ্বাস হেতু আপনি উত্তোলিত হবেন।
 

যদি তারে ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে.....
 
 “একজন এক দিন হইতে অন্যদিন অধিক মান্য করে; আর একজন সকল দিনকেই সমানরূপে মান্য করে; প্রত্যেক ব্যক্তি আপন আপন মনে স্থির নিশ্বিত হউক। দিন যে মানে, সে প্রভুর উদ্দেশেই মানে; আর যে ভোজন করে, সে প্রভুর উদ্দেশেই ভোজন করে, কেননা সে ঈশ্বরের ধন্যবাদ করে; এবং যে ভোজন করে না, সেও প্রভুর উদ্দেশেই ভোজন করে না, এবং ঈশ্বরের ধন্যবাদ করে” (রোমীয় ১৪:৫-৬)।
 যিহূদীদের মধ্যে কেহ কেহ আমাদের প্রভুর জল ও আত্মার সুসমাচার অর্থাৎ খ্রীষ্টেতে বিশ্বাস করে রক্ষা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে যদিও যীশুতে বিশ্বাস করেছিলেন তথাপি ব্যবস্থার বিধিঅনুসারে চলতেন। কিন্তু ইতি পূর্বে তারা ঈশ্বরের ধার্মিকতার দাস হয়েছিলেন, যে কোনভাবে তারা ব্যবস্থা ধরে রেখেছিলেন; তারা ঈশ্বরের ধার্মিকতা প্রচার করেছিলেন। 
 এই কারণ পৌল বলেন,“আপনি ব্যবস্থার অধীন না হইলেও আমি ব্যবস্থার অধীন লোকদিগকে লাভ করিবার জন্য ব্যবস্থাধীনদিগের কাছে ব্যবস্থাধীনের ন্যায় হইলাম। আমি ঈশ্বরের ব্যবস্থাবিহীন নই, বরং খ্রীষ্টের ব্যবস্থার অনুগত রহিয়াছি, তথাপি ব্যবস্থাবিহীন লোকদিগকে লাভ করিবার জন্য ব্যবস্থাবিহীনদের কাছে ব্যবস্থাবিহীনের ন্যায় হইলাম”
(১ করিন্থীয়৯:২০-২১)।
 আমরা অবশ্যই যারা ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে তাদেরকে প্রত্যাখান করব না বাদও দেব না। যদি তারা ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে এবং তার সেবা করে, আমরা অবশ্যই তাদেরকে ঈশ্বরের দাস রূপে মেনে নেব। 
 


ধার্মিক প্রভুর উদ্দেশে বেঁচে থাকব

 
 ৭-৯ পদে আছে, “কারণ আমাদের মধ্যে কেহ আপনার উদ্দেশে জীবিত থাকে না, এবং কেহ আপনার উদ্দেশে মরে না। কেননা যদি আমরা জীবিত থাকি, তবে প্রভুরই উদ্দেশে জীবিত থাকি; এবং যদি মরি, তবে প্রভুর উদ্দেশে মরি। অতএব আমরা জীবিত থাকি বা মরি, আমরা প্রভুরই। কারণ এই উদ্দেশে খ্রীষ্ট মরিলেন ও জীবিত হইলেন, যেন তিনি মৃত ও জীবিত উভয়েরই প্রভু হন।”
 আমরা খ্রীষ্টের সঙ্গে জীবিত থাকি এবং তাঁর সঙ্গে মরি কারণ সুসমাচারে প্রকাশিত ঈশ্ববের ধার্মিকতায় বিশ্বাস দ্বারা আমরা আমাদের পাপ থেকে রক্ষা পেয়েছি এবং নূতন জীবন পেয়েছি। এবং নূতন জীবন পেয়েছি। খ্রীষ্টেতে সমস্ত পুরাতন বিষয় অতীত হয়েছে এবং নূতন সৃষ্টি হলাম। সত্যই ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস হল আপনি খ্রীষ্টেতে আছেন এইনসত্য জ্ঞাত হওয়া ও বিশ্বাস করা।এইরূপে যারা ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করেন এই জগতে তাদের বেশি কিছু করবার নেই বরং ঈশ্বরের দাস রূপে পরিনত হয়েছেন।
 যদি আপনি ঈশ্বরের দাস হল তাহলে আপনি তাঁকে উর্ধে তুলে ধরবেন। তাঁকে প্রেম করবেন, তাঁর গৌরবার্থে বেঁচে থাকবেন, এবং তাঁর পথে আপনার জীবন চালাবার নিমিত্তে আপনি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হবে।
 আপনি কি সত্যই খ্রীষ্টে আছেন? যারা জল ও আত্মার সুসমাচারে বিশ্বাস করে খ্রীষ্টের সহিত ক্রুশারোপিত হয়েছেন এবং তাঁর সহিত পুনরায় জীবনে আনিত হয়েছেন। যদ্যপি আমরা বাঁচি বা মরি, আমরা ঈশ্বরের ধার্মিকতা দ্বারা খ্রীষ্টের অধিকার ভুক্ত হয়েছি প্রভু উদ্ধারকারী প্রভু হয়েছেন। 
 

আমরা আমাদের সহ বিশ্বাসীদের বিচার করব না
 
 ১০-১২ পদে লিখিত আছে, “কিন্তু তুমি কেন তোমার ভ্রাতার বিচার কর? কেনই বা তুমি তোমার ভ্রাতাকে তুচ্ছ কর? আমরা সকলেই তো ঈশ্বরের বিচারাসনের সম্মূখে দাঁড়াইব। কেননা লিখিত আছে, “প্রভু কহিতেছেন, আমার জীবনের দিব্য, আমার কাছে প্রত্যেক জানু পাতিত হইবে, এবং প্রত্যেক জিহ্বা ঈশ্বরের গৌরব স্বীকার করিবে।” সুতরাং আমাদের প্রত্যেক জনকে ঈশ্বরের কাছে আপন আপন নিকাশ দিতে হইবে।”
 কেননা খ্রীষ্ট আমাদের পিতাতে থাকেন, আমরা একদিন তাঁর সাক্ষাতে জানু পাতব এবং সব কিছু স্বীকার করব। আমরা অবশ্যই বিচার আসনে বসবো না এবং আমাদের ভাই বোনদের বিচার করব না, কিন্তু বিনয়ের সাথে ঈশ্বরের সাক্ষাতে দাঁড়াব। আমরা মন্ডলীতে পরস্পর দোষারোপ করা এবং বিচার করা অপেক্ষা ঈশ্বরের ইচ্ছানুযায়ী জীবন যাপন করা অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি আমাদের ভাই বোনদের দূর্বলতার বিচার করি এবং দোষারোপ করি, আমরা অবশ্যই ঈশ্বরের সাক্ষাতে আমাদের নিজেদের দূর্বলতার কারণে বিচারিত হব। এই কারণ আমরা অবশ্যই উপলব্ধি করব 
তাঁর মন্ডলীতে পরস্পর মিলিত হয়ে ঈশ্বরের ইচ্ছানুযায়ী জীবন যাপন করা কত উত্তম।
 প্রকৃত বিশ্বাস সমকক্ষ বিশ্বাসীদের নৈতিক উন্নতি সাধন করে এবং ঈশ্বরের ধার্মিকতায় চালিত করে। স্মরণ করুন ভ্রান্ত বিশ্বাস ঈশ্বরের ধার্মিকতা পরিত্যাগ করে এবং নিজের ধার্মিকতা প্রতিষ্ঠা করে। আপনি কি করবেন? আপনি কি বিশ্বাসে ঈশ্বরের ধার্মিকতা দ্বারা চালিত হচ্ছেন? কিম্বা আপনি কি আপনার মাংসের ধার্মিকতায় চালিত হচ্ছেন?
 

আমরা অবশ্যই অন্যের বিশ্বাসের নৈতিক উন্নতি সাধন করব
 
 ১৩-১৪ পদে আছে, “অতএব আইস, আমরা পরস্পর কেহ কাহারও বিচার আর না করি, বরং তোমরা এই বিচার কর যে, ভ্রাতার ব্যাঘাতজনক কি বিঘ্নজনক কিছু রাখা অকর্ত্তব্য। আমি জানি, এবং প্রভু যীশুতে নিশ্চয় বুঝিয়াছি, কোন বস্তুই স্বভাবতঃ অপবিত্র নয়; কিন্তু যে যাহা অপবিত্র জ্ঞান করে, তাহারই পক্ষে তাহা অপবিত্র।”
 কেননা যারা ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে তাদের মধ্যে। বিশ্বাসের বিন্নতা রয়েছে। আমরা একে অপরের নৈতিক উন্নতি সাধনের দ্বারা বিশ্বাসের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে পারি। ইহা ঈশ্বরের ধার্মিকতার বিশ্বাসের বৃদ্ধি সাধন করে। যদি আমরা সত্য সত্য তাঁর ধার্মিকতা এবং ঈশ্বরের জন্য জীবিত থাকি, আমরা সকলে তাঁর জাতি।
 যদি আপনি একজন খ্রীষ্টিয়ান হন যিনি ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করেন, আপনি বিশ্বাসে ঈশ্বরের বাক্য দ্বারা যে কোন কিছু করতে পারেন। যদি আপনি না পারেন, তহলে আপনি ঈশ্বরের ধার্মিকতার পরিবর্তে নিজের ধার্মিকতা দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেন। ঈশ্বরের ধার্মিকতার মধ্যে থেকে আপনার নিজের ধার্মিকতায় পরিচালিত হচ্ছেন যেমন ভ্রান্ত বিশ্বাস দ্বারা সমস্ত জগৎ চালিত হচ্ছে।
 যারা নিজেদের ধার্মিকতা অন্বেষন করে, যদিও তারা ঈশ্বরের ধার্মিকতা দ্বারা পরিত্রাণ পেয়েছে, তারা ঈশ্বরের পতিপক্ষ রূপে ধার্মিকতার বিশ্বাস দ্বারা পরিত্রাণ পেয়েছে, তাদের সারা জীবন তাঁর ধার্মিকতায় রক্ষা করবে।
 

প্রেমে গমন
 
 ১৫-১৮ পদে আছে, “বস্তুত তোমার ভ্রাতা যদি খাদ্য সামগ্রী প্রযুক্ত দুঃ খিত হয়, তবে তুমি আর প্রেমের নিয়মে চলিতেছ না। যাহার নিমিত্ত খ্রীষ্ট মরিলেন, তোমার খাদ্য সামগ্রী দ্বারা তাহাকে নষ্ট করিও না। অতএব তোমাদের যাহা ভাল, তাহা নিন্দার বিষয় না হউক। কারণ ঈশ্বরের রাজ্য ভোজন পান নয়, কিন্তু ধার্ম্মিকতা, শান্তি এবং পবিত্র আত্মাতে আনন্দ। কেননা যে এ বিষয়ে খ্রীষ্টের দাসত্ব করে, সে ঈশ্বরের প্রীতিপাত্র, এবং মনুষ্যদের কাছেও পরীক্ষাসিদ্ধ”
 যারা ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস দ্বারা রক্ষা পেয়েছে এবং খাদ্যের নিমিত্ত তাঁর জাতিকে অবজ্ঞা না করে প্রকাশিত জীবন যাপন করে। আমরা মাঝে মাঝে খাবারে অংশ নেই এবং প্রেমের সহভাগী হই। কিন্তু পৌল আমাদিগকে দরিদ্র ভ্রাতা ভগ্নীদের মধ্যে সম্পদের অংশ থেকে বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে সাবধান করছেন, এই হেতু সঙ্গী খ্রীষ্টিয়ানগণ উছোট খেতে পারে।
 ঈশ্বর সেই আশির্বাদ দান করেছেন যারা তাঁর ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে আমাদিগকে ঈশ্বরের ধার্মিকতা অনুসরন করতে অনুপ্রানিত করে, জল ও আত্মার সুসমাচার দ্বারা আমাদের মনের শান্তি প্রদান করে, এবং ঈশ্বরের সেবা করতে সমর্থ হবে, পরস্পরের আনন্দ ভাগ করে নিতে যা তিনি দিয়েছেন। অতএব, যারা সম্পদশালী তাদের সমস্ত সম্পদ ঈশ্বর থেকে এই বিবেচনা করবে, এবং এক সঙ্গে ঈশ্বরের ধার্মিকতা অনুসরণ করবে এবং অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে সুসমাচার পরিবেশন করবে। যারা এইরূপ জীবন যাপন করে ঈশ্বর তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং প্রেম করেন। 
 

অন্যকে গাঁথিয়া তুলতে যত্ন কর
 
 ১৯-২১ পদে আছে, “অতএব, যে যে বিষয় শান্তিজনক, ও যে যে বিষয়ের দ্বারা পরস্পরকে গাঁথিয়া তুলিতে পারি, আমরা সেই সকলের অনুধাবন করি। খাদ্যের নিমিত্ত ঈশ্বরের কর্ম্ম ভাঙ্গিয়া ফেলিও না। সকল বস্তুই শুচি বটে, কিন্তু যে ব্যক্তির যাহা ভোজন করিলে ব্যাঘাত জন্মে, তাহার পক্ষে তাহা মন্দ। মাংস ভক্ষন বা দ্রাক্ষারস পান, অথবা যে কিছুতে তোমার ভ্রাতা ব্যাঘাত কি বিঘ্ন পায়, কি দূর্বল হয়, এমন কিছুই না করা ভাল।”
 অনেক বছর আগে, রোম ও করিন্থ ছিল এরূপ প্রাচীন নগরী, লোকেরা খাদ্য বিক্রি করে মূর্তির কাছে বলি উৎসর্গ করত। কয়েক জন ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাসী তাদের এরূপ খাদ্য ও মাংশ ক্রয় করতে ব্যবহার করত। তখন কিছু সঙ্গী বিশ্বাসী যারা ঈশ্বরের মন্ডলীতে বিশ্বাসে দূর্বল ছিল, তারা ভাবত যে এরূপ মাংশ খাওয়া পাপ। এই কারণে পৌল বলেন, “খাদ্যের নিমিত্ত ঈশ্বরের কর্ম ভাঙ্গিয়া ফেলিও না” ( ২০ পদ )।
 মদের ব্যাপারে ও একই কথা বলা হয়েছে। কিছু বিশ্বাসী ছিল যারা মদ্য পানের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন ছিল না। কিন্তু পৌল তাদের ভৎর্সনা করে বললেন, যদি এরূপ আচরণ সঙ্গী বিশ্বাসীদের বিশ্বাস দূর্বল করেছিল, সঙ্গী বিশ্বাসীদের সঙ্গে মদ্যপান করা থেকে বিরত থাকা তাদের পক্ষে উত্তম। ইহা আমাদের মধ্যেও ঘটেছে। অতএব আমরা আমাদের খ্রীষ্টিয় জীবনে এমনভাবে চলব যেন অন্যকে গাঁথিয়া তুলতে পারি এবং ঈশ্বরের ধার্মিকতার অন্বেষণ করি। পূর্ব পুরুষদের উপহার হিসাবে খাদ্যের ব্যবহার আজ প্রকাশ করা উদ্বেগের বিষয় হতে পারে, এবং যারা বিশ্বাসে দূর্বল তাদের নিমিত্তে এরূপ খাদ্য গ্রহণ না করাই শ্রেয়।
 

ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস আছে
 
 ২২-২৩ পদে আছে, “তোমার যে বিশ্বাস আছে, তাহা আপনার কাছেই ঈশ্বরের সম্মুখে রাখ। ধন্য সেই ব্যক্তি, যে, যাহা গ্রাহ্য করে, তাহাতে আপনার বিচার না করে। কিন্তু যাহার সন্দেহ আছে, সে যদি ভোজন করে, তবে সে দোষী সাব্যস্ত হইল, কারণ তাহার ভোজন বিশ্বাসমূলক নয়; আর যাহা কিছু বিশ্বাস মূলক নয় তাহাই পাপ।”
 যারা ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে তাদের একনিষ্ঠ বিশ্বাস আছে, ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস ঈশ্বর দত্ত বিশ্বাস যা আমাদের সমস্ত পাপ হতে নিৰ্ম্মল করে। অতএব, খ্রীষ্টিয়ান অবশ্যই ঈশ্বরের ধার্ম্মিকতায় বিশ্বাস করবে এবং তাঁর ধার্মিকতায় তাদের দৃঢ় বিশ্বাস থাকবে। 
 বাইবেল আমাদের বলে যে, তাঁর ধার্মিকতায় বিশ্বাস ব্যাতিত ঈশ্বরের অনুসারী হওয়া পাপ। বিশ্বাস ব্যতিত কোন কিছু করাই হল পাপ। ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস ব্যতিত কোন কিছু জ্ঞাত হওয়া পাপ, আমরা অবশ্যই তাঁর ধার্মিকতায় অধিক বিশ্বাসী হব।
 বাইবেল বলে, “যাহার সন্দেহ আছে, সে যদি ভোজন করে, তবে সে দোষী সাব্যস্ত হইল।” আপনি যদি ঈশ্বরের ধার্মিকতায় বিশ্বাস করে ভোজন করেন তবে সব কিছু পবিত্র, কারণ ঈশ্বর সব উদ্ভিদ এবং পশু সৃষ্টি করেছেন। 
 আমরা অবশ্যই অনুধাবন করব যে ঈশ্বরের ধার্মিকতা বিশ্বাস করা এবং জ্ঞাত হওয়া কেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা অবশ্যই আমাদের প্রাপ্ত সঙ্গী বিশ্বাসীদের গেঁথে তুলব এবং তাদের বিশ্বাসের সমাদর করব।
The New Life Mission

Bagaimana Anda mengetahui tentang kami?

Bagaimana Anda mengetahui tentang kami?